বৈশ্বিক খাদ্য সংকট : অদক্ষতাই ভালো

২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১০

শেয়ারঃ
0 0 0

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কট যেমন আলোচিত একটি বিষয়, কিছুদিন আগে খাদ্য সংকট তেমনি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলো। খাদ্য শষ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অনেকটাই কমে এসেছে। তাই সংকট কেটে গিয়েছে এমনটা মনে হতেই পারে।

আসলে অর্থনৈতিক ধ্বস খাদ্য সংকটের একটা আপাত সমাধান দিয়েছে। আর বাংলাদেশের মত খাদ্য ঝুকির দেশগুলোর জন্য একটা সুযোগ করে দিয়েছে এই সংকট থেকে শিখে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার। আশির দশক পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাপার ছিলো। প্রতিটি দেশের সরকার তার সামর্থ্য অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে শষ্য কিনে বা আমদানি করে সরকারি রিজার্ভ গড়ে তুলতো। দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিলে বা প্রাকৃতিক দূর্যোগে তা কাজে লাগানো হতো। এটা ছিল অত্যন্ত ব্যায়বহুল প্রক্রিয়া এবং সরকারকে তার সম্পদের একটা বড় অংশ একাজে ব্যায় করতে হতো। নব্বই এর দশক থেকে আই এম এফ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পরামর্শে খাদ্য ব্যবস্হাপনার এ দায়িত্ব থেকে সরকার সরে আসে। আমাদের দেশেও টিসিবি, সাইলোর মত সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে অকার্যকর করে তোলা হয়।

যুক্তি ছিলো অদক্ষ সরকারি ব্যাবস্হাপনার চেয়ে বেসরকারি খাত অনেক বেশি সফল হবে। কৃষিতে বেসরকারি বিনিয়োগ নতুন গতি সন্চার করবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ১৯৯০-২০০৭ এই সময়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির হার আগের দুই দশকের চেয়ে কম। এর চেয়েও বড় কথা এই ব্যবস্হা দূর্যোগ মোকাবেলায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সিডর পরবর্তী সময়ে আমরা ব্যবসায়ীদের যথেচ্ছাচার এবং টিসিবির অক্ষমতার ফল ভোগ করেছি। ভারত চালের দাম বাড়িয়েই চলেছিল, কারন আমাদের হাতে খুব একটা বিকল্প ছিল না - বিশ্বের আশি ভাগ চাল মাত্র পাচটি দেশ রপ্তানি করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যের দাম কমলেও আমাদের দেশে এর প্রভাব তেমন পড়েনি। কারন সরকারের হাতে বাজারকে প্রভাবিত করার কোন হাতিয়ারই নেই। এখন এবং ভবিষ্যতের খাদ্য সংকট মোকাবেলা করার জন্য পুরোনো সেই অদক্ষ ব্যবস্হাকেই আবার সচল করা প্রয়োজন। টিসিবি একটা লোকসানি প্রতিষ্ঠান হবে এটা বলাই যায়। তারপরেও একে টিকিয়ে রাখতে হবে আপদকালিন সময়ের জন্য - মুনাফালোভীদের চক্র ভাঙ্গার জন্য।

খাদ্য সংকটের এই বাস্তবতায়, একটা মৌলিক বিষয় বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। তা হলো মানুষের অধিকারকে সজ্ঞায়িত করা। যেসব জিনিষ অধিকারের পর্যায়ে পড়ে (যেমন শিক্ষা, স্বাস্হ্য সেবা) তার মূল দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের হাতে থাকতে হবে। বেসরকারি খাত সহায়ক হতে পারে মাত্র। আমাদের দেশের একমাত্র উদ্ধৃত সম্পদ জনশক্তি। এই জনগোষ্ঠীর জন্য অধিকার গুলো নিশ্চিত করতে না পারলে এটা সত্যিকার অর্থেই বোঝা হয়ে উঠবে। দক্ষ বেসরকারি খাতের হাতে অধিকারগুলোই অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। এজন্য অদক্ষ সরকারি ব্যবস্হাপনাই ভালো।

[The New Yorker এর ২৪ নভেম্বর, ২০০৮ সংখ্যায় James Surowiecki এর লেখা থেকে অনেক সাহায্য নেয়া হয়েছে।]

 

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২০
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের তথা সরকারের। এগুলো বাণিজ্যের বিষয় নয়। এগুলো নিয়ে বাণিজ্য করতে দিলে ধনী আরও ধনী হবে। আর গরীব মানুষ চিরকাল গরীব থেকে যাবে।
২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:০৮

লেখক বলেছেন: সহমত।

২. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৩
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: যেসব জিনিষ অধিকারের পর্যায়ে পড়ে (যেমন শিক্ষা, স্বাস্হ্য সেবা) তার মূল দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের হাতে থাকতে হবে

কথা সেডাই।
২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:১৩

লেখক বলেছেন: সরকারকে মৌলিক অধিকারের দায়িত্ব নিতেই হবে লোকসান হলেও। কারন এই টাকা তো জনগনই জোগায়।

৩. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪৬
বন্ধনহীন বলেছেন: যেসব জিনিষ অধিকারের পর্যায়ে পড়ে (যেমন শিক্ষা, স্বাস্হ্য সেবা) তার মূল দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের হাতে থাকতে হবে।

এটা করতে গেলে স্যামকাকা কুমিনিস্ট বলে গালি দিবে।
২৪ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:১৭

লেখক বলেছেন: এইটা কম্যুনিসমের কিছু নাই। আমাদের সৌভাগ্য আমরা এখনো এত পুজিবাদী হই নাই যে সেবা খাত কর্পোরেটদের হাতে চলে গেছে। উন্নত হওয়ার চেষ্টায় যেটুকু এখনো ভালো আছে তাকে ছেড়ে দেব কেন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০২৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাকে নিয়ে বলার খুব বেশি কিছু নাই। বুয়েট থেকে পাস করে আমেরিকা পড়তে আসে অনেকেই। আমি তাদেরই একজন। বাকিটা পাঠক...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ