somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এলোমেলো হতাশার গল্পঃ বর্ষশেষ পোস্ট

এটা ঠিক দিনপন্জি ধরে লেখা সালতামামি নয়। এই মূহুর্তে মনে পড়া কিছু ঘটনার এলোমেলো কথন। অনেকটাই ব্যক্তিগত এই ভাবনা - তাই অনেকের সাথেই মতের মিল হবে না। ভালো না লাগলে সহনশীল উপেক্ষাই কাম্য।

১. ওবামা আর পরিবর্তনের সর্বগ্রাসী শ্লোগানঃ
গত কবছরের চালু শব্দ রোডম্যাপকে পেছনে ফেলে ২০০৮ এর শেষ দিক থেকেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে পরিবর্তনের শ্লোগান। ২০০৯ এর শুরুতেও তাই ছিল। এই শ্লোগান আর জাদুকরী ভাষনে সারা দুনিয়ার মানুষকে মোহাবিষ্ট করে ওবামা "বুশ যুগের পর প্রথম আমেরিকান প্রেসিডেন্ট" হিসেবে শপথ নিলেন। আশার স্বপ্নে বিভোর নোবেল কমিটি ওবামাকে নোবেল প্রাইজ দিয়ে বসলেন। বছর শেষে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলন আর চলমান যুদ্ধ সেই স্বপ্নকে অনেকটাই ফিকে করে দিয়েছে।

এককালে শুনতাম কিছু লোক নাকি মস্কো বা চীনে বৃষ্টি হলে দেশে ছাতা ধরে। এখন সব ছাতা আমেরিকার চ্যানেলে টিউন করা। দিন বদলের শ্লোগান দিয়ে বাংলাদেশেও নতুন সরকার হলো এ বছর। অনেক নাম বদলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। ন্যাম সম্মেলন কেন্দ্র বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্র নামে ফেরত গেছে। চীনকে এতখানি চটানোর সাহস মনে হয় আমেরিকারও এখন নাই। কে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মেরুদন্ডহীন!

২. পিলখানায় রক্তক্ষরণঃ
এই ঘটনা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন এবং আরো বলবেন। আমি একান্তই আমার কিছু কথা বলতে চাই। বাবার চাকরীর সুবাদে আমার বেড়ে ওঠা সামরিক পরিবেশে। কিন্তু সে জগতটাকে কখনই আপন মনে হয়নি আমাদের। রুদ্ধ পরিবেশের সেই জীবনটাকে নিয়ে কত উপহাস করেছি। পিলখানার ঘটনায় যখন আমার হৃদয়ে রক্ত ঝরলো, মনের গভীরে অনুভব করলাম এই যন্ত্রের মত মানুষগুলোকে কতটা ভালোবাসি। শ্রদ্ধা যাদের হারালাম। নিশ্চিতভাবেই জানি এই ক্ষত পূরণ হবে না - কারন আমরা কি হারিয়েছি সেটাই বুঝিনি, কোনদিন বুঝবোও না।

৩. কলঙ্কমোচনঃ (?)
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় নিয়ে প্রথম আলোর ক্যাপশন দিয়েছে তাই। অনেকে এতে আইনের শাসন বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শুরুও দেখতে পেয়েছেন। সমস্যা হয়তো আমারই, আমি এত সহজে ভবিষ্যতের এতকিছু দেখতে পাই না। এই বিচার যদি অন্য কোন সরকার করত অথবা এই সরকার আইনের শাসনে খুব আস্হাশীল হয়ে ওঠায় যদি এই বিচার হত তাহলে এমনটা ভাবার কারন ছিল। মামলা রাজনৈতিক হয়রানিমুলক কিনা সেই সিদ্ধান্ত আদালতেরই নেয়া উচিত, নির্বাহী আদেশে এই মীমাংসা হওয়া উচিত না। ক্রসফায়ারতো আইনের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেই চলেছে। তাই এই বিচার কেবল এই বিশ্বাসকেই প্রবল করে যে, এই দেশে স্বজন হারাবার বিচার পেতে হলে প্রধানমন্ত্রী বা প্রবল ক্ষমতাবান কেউ হতে হবে।

৪. যুদ্ধপরাধীদের বিচারঃ
প্রবল আলোচিত এই দাবী দেশের তরুনদের এক সূত্রে গেথেছিলো। সম্ভবত অপেক্ষার পালা তাড়াতাড়ি শেষ হচ্ছে না।

৫. কেবল হতাশা নয় আক্ষেপওঃ
বছরের শেষ দিকে পড়া এই খবরটা - ২০১৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর শীর্ষ দশ অর্থনৈতিক শক্তিতে নতুন যোগ দিচ্ছে ভারত আর কানাডা, পিছিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। আমার ধারনা চীন, ভারতের বিশাল জনশক্তি আর কানাডার উদার ইমিগ্রেশন নীতিমালাই এসব দেশকে এগিয়ে দিচ্ছে। ঋণ নির্ভর চোখ ধাধানো দেশ আমেরিকা, আমিরাত কেবলই পিছিয়ে পড়ছে। বিশাল জনশক্তির দেশগুলোর এই শক্তিশালি হয়ে ওঠা বাংলাদেশ সম্পর্কে হতাশাকে অনেকটাই আক্ষেপে পরিনত করে তোলে।

বছরের শেষ বা প্রথম দিন তো আর ৩৬৪ টা দিনের মত একই রকম। তবু স্মৃতি কাতরতা বা আশায় বুক বাধা। স্বপ্ন ভাঙ্গবে জেনেও কেবল স্বপ্ন দেখাতেও সুখ।

হ্যাপি নিউ ইয়ার, ২০১০।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29068845 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29068845 2009-12-31 11:27:02
নোবেল প্রাইজ, ঈশপের গল্প

নোবেল প্রাইজ কে পাইলো এইটা নিয়া মাথাব্যথা আমার কোন কালেই ছিলো না। দেশ থেইকা সম্পূর্ণ কাচা চুল-দাড়ি নিয়া আসা আমি যখন প্রথম বছরে কিছু পাকা চুল, আর দ্বিতীয় বছরে আইসা কিছু পাকা দাড়ি আবিষ্কার করলাম, তখন এখনো বিয়া করি নাই এই আত্মোপলদ্ধির চেয়ে বড় কোন নিউজ অন্তত আমার কাছে হইতে পারে না।

ওবামা নোবেল প্রাইজ পাইছে, পাইতেই পারে। তবে নোবেল কমিটির বহুত কষ্ট হইছে তারে প্রাইজ দেওনের যৌক্তিকতা তুইলা ধরতে। ঈশপের গল্প পড়া থাকলে অবশ্য কারন বুঝতে এতো কষ্ট হওয়ার কথা না। গল্পটা সবাই জানেন তাও মনে করায় দেই। বাঘের গলায় হাড় আটকাইছে, বড় বিপদে পইড়া সারসরে কইলো তুমি আমার গলার হাড় বাইর কইরা দেও। তোমারে অনেক পুরষ্কার দিব। সারস লম্বা ঠোট দিয়া বাঘের গলা থেইকা হাড় বাইর করল। সারস কয়, পুরষ্কার দেও। বাঘে কইলো, বাঘের গলায় মাথা ঢুকাইয়া আবার আস্ত বাইর কইরা আনতে পারছো আবার পুরষ্কার চাও। এমন কপাল কয় জনের হয়।

ওবামা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হইয়া কিছু করে নাই, এইটাইতো দুনিয়ার অনেক বড় পাওয়া। সে যুদ্ধ লাগাইলে কোন ব্যাটা তারে থামাইতে পারতো। ভিক্ষা চাইনা কুত্তাটা সামলাও - কইতে সোজা। কিন্তু কুত্তা সামলান মোটেও সোজা কাজ না। ওবামার মেডেল এই কুত্তা সামলানির পুরষ্কার।

(কার্টুন - ন্যাট বিলার, ওয়াশিংটন এক্সামিনার)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29025989 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29025989 2009-10-15 02:46:19
সম অধিকার - ইকুয়্যাল রাইটস নাকি ইকুয়্যাল অপরচুনিটি

কজন মহিলা খুব কষ্ট করে দাড়িয়ে যাচ্ছেন। ভিড়ের মধ্য থেকে কেউ বলে উঠলো - "সমান অধিকার চায় না? আমরা দাড়াইয়া যাইতে পারলে হেরা পারবো না কেন?" প্রচ্ছন্ন সমর্থন জানালেন বাসভর্তি মানুষ। বাসে যাতায়তের অভ্যেস থাকলে এমন ঘটনা দেখাটা খুবই স্বাভাবিক। আসলেই কি এটা সমানাধিকার? একটু ভেবে দেখা যাক।

প্রথমে অধিকারের একটা সংজ্ঞায়ন দরকার। সহজ কথায়, অধিকার হচ্ছে মানুষের এমন কতগুলো প্রয়োজন যা তার অবশ্যই পাওয়া উচিত। গড়গড় করে একগাদা অধিকারের কথা বলতে পারি - খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্হান, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি। এখন দেখি এসব অধিকারের সমতা বলতে কি বোঝায়। খাদ্যের সমতা কি মিনা কার্টুনের মত - "মিনা আর রাজু দুইজনেই সংসারের অনেক কাজ করে। দুইজনেরই সমান সমান খাওন দরকার"? অথবা শিক্ষার সমতা মানে কি সবাই ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার বা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে? সহজেই বোঝা যায়, সব মানুষের খাবারের চাহিদা যেমন সমান হয় না, সব মানুষের শেখার যোগ্যতা বা মেধাও সমান হয় না। তাই সবাইকেই সমান খাবার দিলেই যেমন সবার অধিকার পূরন হয় না, সবাইকে সমানভাবে শিক্ষিত করে তোলাও তেমনি অসম্ভব। তাহলে সমতা আসবে কি করে? সমতার প্রয়োজন সুযোগে। সবাইকে খাদ্য বা শিক্ষার সমান সুযোগ দিতে হবে। এরপর যার যার প্রয়োজন বা যোগ্যতা অনুসারে সবাই সুযোগকে কাজে লাগাবে। তাই সম অধিকার আসলে সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার।

একটা উদাহরন দেখুন। একজন প্রতিবন্ধিরও অধিকার রয়েছে শিক্ষা গ্রহনের। এখন স্কুল বা ইউনিভার্সিটির ভবনে যদি হুইল চেয়ার নিয়ে ঢোকার ব্যবস্হা না থাকে, তাহলে তিনি তার অধিকার প্রাপ্তির সুযোগ থেকে বন্চিত হবেন। তাই হুইল চেয়ার নিয়ে ঢোকার ব্যবস্হা থাকা সমানাধিকারেরই দাবি। একজন নারীর অধিকার রয়েছে পাবলিক বাসে যাতায়তের। কিন্তু আমাদের সমাজের বাস্তবতা হচ্ছে একজন মহিলার জন্য পুরুষদের মত ভিড় ঠেলে বাসে ওঠা অসম্ভব। এখন তার বাসে যাতায়তের অধিকার অর্জনের সুযোগ দিতে বাসে সংরক্ষিত মহিলা আসন বা মহিলাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস থাকতেই পারে। এটা সমানাধিকারের পরিপন্হী কিছু নয়। একই কথা খাটে মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যপারেও।

সমানাধিকার সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝিটাকি কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়েই? না, নীতি নির্ধারনি পর্যায়ে ভুলগুলো আরো বড় এবং সুদুরপ্রসারী। আমাদের নীতি নির্ধারনি পর্যায়ে সমানাধিকারকে বড় বেশি সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে বিচার করা হয়। কিন্তু এটা অনেকখানিই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যপার। আমাদের চেয়ে ভালো এটা কেউ বুঝতে পারার কথা নয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধি দলীয় নেত্রী মহিলা হওয়ার পরেও নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা বদলেছে? কিন্তু তাও আমরা ভুল করি, ভুল পথে সমতার চেষ্টা করি।

একটা প্রতিষ্ঠানে সমানাধিকার নিশ্চিত করার মানে এই নয় যে সে অফিসে সমান সংখ্যক নারী এবং পুরুষ থাকবেন। বরং সমানাধিকার মানে এই যে, অফিসে নিয়োগ বা পদোন্নতি সহ সকল বিষয়ে ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গ নয়, যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হবে। সবাই সমান সুযোগ পাবেন নিজেকে প্রমাণ করার। সরকার ক'বছর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩০ শতাংশ মহিলা শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করেছেন। এই ৩০ শতাংশ পূর্ণ হওয়ার আগে পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাবে না। মহিলা এবং পুরুষদের চাকরির যোগ্যতাতেও রয়েছে ব্যবধান। এটাকে কোন ভাবেই সমানাধিকারে ফেলা যায় না। এর প্রভাবটাও ভাবার মত - এই কোটা নিশ্চিত করার অর্থ হচ্ছে আমরা সর্বোত্তম প্রার্থীকে নিয়োগ দিচ্ছি না। আমাদের পরবর্তি প্রজন্মকে আমাদের সাধ্যের মধ্যে সবচেয়ে সেরা শিক্ষালাভের সুযোগ থেকে বন্চিত করছি।

সমানাধিকার কি শুধু নারী-পুরুষের মধ্যেই? আমাদের দেশে প্রায় সবকিছুতেই কোটা। কোটা মাত্রই সমানাধিকার পরিপন্হী। স্বাধীনতার পরপর সরকারি চাকরিতে জেলা কোটা করা হল। কারন ছিল, অনেক জেলায় শিক্ষিতের হার কম, চাকরিতে তাদের অংশগ্রহন কম। তাই সমতা আনতে করা হলো কোটা ব্যবস্হা। এতে কি সত্যিকার অর্থে লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে? করণীয় আসলে কি ছিল? উচিত ছিল যেসব জায়গা পশ্চাদপদ সেখানে শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া যেন যোগ্য লোক গড়ে উঠতে পারে। কোটার প্রয়োজন নেই, সুযোগ পেলে তারা সুস্হ প্রতিযোগিতা দিয়েই চাকরিতে তাদের স্হান করে নিতে পারত। আমাদের মেধাহীন প্রশাসন গড়ে ওঠার পেছনে কিছুটা দায় অন্তত কোটা ব্যবস্হাকেই নিতে হবে।

এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিটি অবস্হানেই সেরা মানুষটিরই থাকা প্রয়োজন। তাই সবচেয়ে যোগ্য মানুষটিকেই বেছে নিতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিক যেন যোগ্য হয়ে গড়ে ওঠার এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সমান সুযোগ পায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29017982 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29017982 2009-09-30 12:02:16
পিচ্চি সংক্রান্ত এক হালি

এখনকার পিচ্চিদের বুদ্ধি সম্ভবত অনেক বেশি। মুনীর চৌধুরী যে বলেছিলেন, এই পৃথিবীর বয়স, সাথে আমার, তোমার বয়স আর তার নিজের বয়স যোগ দিয়ে হয় পিচ্চিদের বয়স। আমার চেনাজানা পিচ্চিগুলোকে দেখে বুঝি কথাটা একদম ভুল না।

১.
আমার ভাতিজির বয়স এক বছর। ও আবার একটু খুতখুতে। কাপড় নোংরা করলে না বদলে দেওয়া পর্যন্ত ওর শান্তি নেই। এখন বড় (!) হয়েছে, তাই আর অন্যদের জন্য বসে থাকতে হয় না। হিসু করে মেঝে ভেজালে নিজে নিজেই ধারে কাছে যা কাপড় পাবে তাই দিয়ে মুছে ফেলবে ঝটপট। এরপর সুন্দরমত কাপড়টা তুলে মেলে দেবে বিছানার উপর শুকাতে!

২.
আমার মামার ছেলের এখনো চার বছর হয়নি। ওর আদর্শ হলো বাবা আর চাচা। সবকিছু ওদের মত চাই ওর। ও খেয়াল করল, বাবা-চাচা প্যান্ট পরার আগে একটা ছোট প্যান্ট পরে। ব্যাস, এখন ও নিজে প্যান্ট পরার আগেও নীচে একটা ছোট্ট প্যান্ট পরে নেয়!

৩.
এবারের পিচ্চি আমার খালার মেয়ে। ওর অবজার্ভেশন মারাত্মক। আমার ঐ খালু ডিফেন্সে চাকরি করেন, পোস্টিং চিটাগং। ফ্যামিলি ঢাকাতেই আছে, বাচ্চাদের পড়াশুনার জন্য। বাবার সাথে ওর ফোনে কথা হয়
- বাবা, তুমি ঢাকা আসো না কেন?
- ছুটি পাইনা, মা।
- কে ছুটি দেয় না?
- আমাদের অফিসে স্যার আছেনা, উনি ছুটি দেয় না।
- তোমার স্যারকে ফোনটা দাও, আমি বলে দিচ্ছি।

যাই হোক ওর রোজ রোজ কথায় শেষ পর্যন্ত খালু ওনার এক সিনিয়র কলিগকে ফোনটা দিলেন। ওনার সাথে ওর কথা হল। শেষে খালুর সাথে ওর আবার কথা হচ্ছে।
- তুমি ফোনটা কাকে দিসিলা? তোমার ছোট স্যার না বড় স্যার?
- কেন?
- মনে হয় ছোট স্যারকে দিসিলা, বড় স্যারকে দেও নাই।

৪.
এবারের ঘটনাও আমার খালার সেই পিচ্চিকে নিয়েই। ওদের বাসায় বেড়াতে গেছি আমি। ও আমাকে জিজ্ঞেস করছে
- তুমি কি স্কুলে যাও?
- না।
- তোমার পড়া নাই। তাহলে তুমি কি কর?
- আমি চাকরি করি, অফিসে যাই।
- বা'রে, তুমি তো বিয়েই কর নাই। তুমি অফিসে যাও কেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29016756 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29016756 2009-09-28 00:02:39
এইম ইন লাইফ ১। বার্ডস/ফ্লাওয়ার/ফ্রুটস/সিজনস অব বাংলাদেশ
২। এ জার্নি বাই বাস/ট্রেন/বোট
... ...
এই সিরিয়াল যখন বিশে গিয়া ঠেকতো তখন এই সেট থেইকা একটাও না নিয়া বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্ন করা মিশন ইমপসিবলে গিয়া ঠেকতো <img src=" style="border:0;" />।

ভয়াবহ ফাকিবাজ আমি এমন সাজেশন পাওয়ার পরেও গুরুত্ব না দিয়া রচনা পড়লাম মাত্র তিনটা। যা হওয়ার তাই হইল। রচনা কমন পড়লো না। আপন মনের মাধুরী মিশাইয়া লেখলাম এইম ইন লাইফ। এইম যে কি লেখসিলাম ঠিক মনে নাই। শুধু মনে আছে পরীক্ষার পরে স্যার বলছিলেন, রচনা নিয়া একটু চিন্তায় ছিলাম :-*। প্রশ্ন দেখার পরে নিশ্চিন্ত হইলাম সাজেশন থেইকা কমন পড়ছেই<img src=(" style="border:0;" />।

স্কুলে যখন পড়ি তখন শাইখ সিরাজ আর মাটি ও মানুষ মারাত্মক হিট। মনে হইতো পড়া লেখা কইরা চাকরী নিয়া চিন্তার কিছু নাই, চাষবাসই খুব ভালো কাজ। তখন এইম ইন লাইফ ছিল এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটিতে পড়ুম।

আরেকটু বড় হইতেই মাথায় ঢুকলো এগ্রিকালচার না কম্পুটার ইন্জিনিয়ারিং পড়ুম। বুয়েটের কম্পুটার ইন্জিনিয়ার কইতেই কত সুখ। স্রোতে ভাসা শ্যাওলার মত জোয়ারে ভাইসা বুয়েটে ভর্তি হইলাম, একসময় পাসও করলাম। ইন্জিনিয়ার হইয়া দেখি করার কিছু নাই। সবাই পালে পালে বিদেশ যাইতাছে। দাও জিআরই, কর এপ্লিকেশন। এইবার এইম ইন লাইফ হইল নামের আগে অক্ষর বসানি।

অক্ষর বসাইয়া কি হইব? চাকরী, পয়সা। যখন এক ডলারে সিঙারা কিনা খাই, মনে হয় এর চাইতে সিঙারা বেচলে পয়সা বেশি/<img src=" style="border:0;" />। আজকে পেপারে লেখসে, মেট্রোর কিছু বাস ড্রাইভারও বছরে বেতন পায় এক লাখ ডলারের বেশি। ধুর পিএইচডি না কইরা বাসের ড্রাইভার হওনও ভালো<img src=(" style="border:0;" />!

ভাগ্যিস, এখন আর কেউ এইম ইন লাইফ রচনা লেখতে কয় না<img src=" style="border:0;" />।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29008507 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/29008507 2009-09-11 11:40:51
দেশে যাচ্ছি " style="border:0;" /> : <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=)" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" /> ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28952056 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28952056 2009-05-17 23:01:31 সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষ আজ কি করছেন?
সামহোয়্যার ইনের একটা লম্বা নীতিমালা আছে। এইসব নীতিমালা সবাই এমনি না পড়লেও অনেক সময় এক বা একাধিক ধারা মেইলে পান। ব্লগ কতৃপক্ষ ব্যানের সাজা প্রয়োজনে যে কারো উপরে চালান।

ব্লগের অফিসিয়াল নোটিশ পোষ্ট সাধারনত দেয়া হয় নোটিশবোর্ড নিক থেকে। ব্লগ অফিসিয়ালদের পিকনিকে যাওয়া, অটো মডারেশন প্রবর্তন, আরো হাজার রকম পরিবর্তনের ঘোষনা নোটিশবোর্ড দেয়।

ব্লগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্লগাররা প্রাইভেসী ভঙ্গের যে সূনির্দিষ্ট অভিযোগ আনলেন তার জবাব নোটিশবোর্ড এখনো দেয়নি। আমার ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোন সাইটকে দেয়ার অধিকার সামহোয়্যার ইনকে আমি দেইনি। কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের জবাব দিতে দেরী করছেন কেন?

নাকি, নীতিমালা ভাঙ্গার দায়ে কর্তৃপক্ষ বা নোটিশবোর্ডই শূলে চড়েছেন (ব্যান হয়েছেন)?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28950574 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28950574 2009-05-14 11:15:16
অনলাইনে ইনকামঃ খাইটা খান একটা ক্লাইশে পোষ্ট দেই। ব্লগে অনলাইনে টাকা কামানোর এতো এতো পোষ্ট, মনে হয় যেন অনলাইনে শুধু টাকাই উড়ে, খালি ধরার লোকের অভাব। মেইল পড়লে টাকা, রেফারেলে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করলে টাকা, টাকাই টাকা। কিন্তু সোজা সাপ্টা কথা হইলো এগুলার বেশির ভাগই ভুয়া। ভুয়া ধরার একটা সহজ বুদ্ধি আছে। মনে রাখবেন, অর্থ অনর্থের মুল হইলেই এখন পর্যন্ত টাকা নিয়া কেউ এমন সমস্যায় পইড়া যায় নাই যে ছুতায়-নাতায় টাকা বিলাইতে হবে। টাকা ইনকামের কোন উপায় পইড়া যদি মনে হয়, আপনে নিতান্তই পাবনা ফেরত না হইলে এই কাজের জন্য এতো টাকা দিতেন না, তাহইলে নিশ্চিতভাবেই এইটা ভুয়া। এই টাকা অনলাইনেই পইড়া থাকবো, হাতে পাইবেন না জীবনেও।

২.
তাহইলে এখন কথা হইলো অনলাইনে কি মানুষে টাকা কামাইতেছে না? বেশুমার লোকে কামাইতেছে। কিন্তু গোড়ার কথা হইলো কেউ ফাও টাকা কামাইতেছে না। অনলাইনে হোক আর অফলাইনেই হোক ইনকাম করতে হইলে কষ্ট করতে হইবই। অনলাইনে কামানোর একটা রাস্তা হইলো এডসেন্স বা ক্লিক থেইকা ইনকাম। এইটা নিয়া বিস্তর পোষ্ট হইছে দেইখা নিতে পারেন। আর আমি এই ব্যাপারে তেমন কিছু জানিও না, তাই অন্য একটা রাস্তা ফ্রি ল্যান্স সাইট নিয়া কিছু কথা বলি।

৩.
ফ্রি ল্যান্স সাইটে কাজ করার কিছু সুবিধা আছে। যেমন - এইসব কাজের টাকা কখনই মাইর যাইবো না। যারা সি এস নিয়া পড়তেছে, তাদের জন্য টিউশনির চেয়ে অনেক বেশি টাকা আয় করার সুযোগ আছে এখানে। আর একটা বড় সুবিধা হইল, প্র্যাকটিক্যাল কাজ শিখা হয়। যাদের ভবিষ্যতে নিজের সফটও্য়্যার ফার্ম দেওয়ার ইচ্ছা আছে, তাদের জন্য এইসব সাইট খুব ভালো জায়গা। কয়েকজন বন্ধু মিলা শুরু করলে, কয়েকটা প্রজেক্ট ঠিকমতো করতে পারলেই পরে আর সমস্যা হইব না। কাজ নিয়া কুলাইতে পারবেন না।

৪.
বুঝলাম ফ্রি ল্যান্স সাইটে প্রচুর কাজ, প্রচুর টাকা। কিন্তু এই কাজ করতে কি জানা লাগবে? ফ্রি ল্যান্স সাইটে শুধু প্রচুর কাজ তাই না, প্রচুর ধরনেরও কাজ। যারা সি এস ব্যাকগ্রাউন্ড তাদের জন্য যে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ জানলেই শুরু করতে পারবেন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডাটাবেজ, বা যে কোন টেকনোলজির কাজ জানলেও কাজ পাওয়া সম্ভব এইসব সাইটে। প্রফেশনাল কাজ না জানলে কি কিছু করা সম্ভব না? খুব সম্ভব। অনেক বিগিনার লেভেল কাজ, অ্যাকাডেমিক অ্যাসাইনমেন্ট লেভেল কাজও আছে। আগে থেইকা জানলে তো ভালোই, নাহয় এইসব বিগিনার লেভেল কাজ হাতে পাওয়ার পরেও শিখা নিয়া করা যায়। আমি প্রথম ম্যাটল্যাব আর পাইথন কোড করছি, প্রজেক্ট পাওয়ার পরে <img src=" style="border:0;" />

৫.
ধুর মিয়া, সব দেখি আই টি ওয়ালাদের জন্য। আমরা সি এস পড়ি নাই দেইখা কি কিছু করতে পারুম না? নাহ, ঘটনা আসলে সেইরকম না। যারা অন্যলাইনে পড়ছেন তাদের জন্যও কাজ আছে। যদি ভালো লেখতে পারেন ইংরেজীতে, কোনরকমে একটা পোর্টফোলিও দাড় করাইতে পারলে কাজের অভাব হবে না।

৬.
বুঝলাম, রেপুটেশন হইলে কাজের সমস্যা হইব না। কিন্তু রেপুটেশন কি আকাশ থেইকা আসবো? রেপুটেশন বিল্ড আপের জন্যও তো কাজ পাইতে হইবো। ঠিক কথা। প্রথম কয়েকটা কাজ পাওয়াই বেশি কষ্ট। সোজা কাজে বিড পড়বো ডজন, ডজন। এতো তারাওয়ালা, রেটিংওয়ালাদের মাঝখানে আপনে নতুন হইয়া কেমনে কাজ পাইবেন। টাকা কম চাইবেন? টাকা কম চাইলেই যে কাজ পাইবেন এমন কোন কথা নাই। প্রথম কথা হইলো বায়ারের কনফিডেন্স গেইন করা। কয়েকটা বুদ্ধি দেই। বিডের সাথে কি মেসেজ দিবেন এইটা ইম্পর্টেন্ট। শুধু নিজের কোয়ালিটির কথা বললেই হইবো না, বায়াররে বুঝাইতে হবে যে তার রিকোয়ারমেন্ট আপনে ভালো মত বুঝছেন। বিডের মধ্যে নিজের ভাষায় সংক্ষেপে তার রিকোয়ারমেন্টটাই আবার লেখেন। কোন কিছু অস্পষ্ট থাকলে জানতে চান। আপনে কাজটা করতে পারার ব্যপারে কতটা কনফিডেন্ট সেইটা লেখেন। যদি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ হ্য়, নিজের করা যদি ভালো একটা ওয়েবসাইট থাকে তার লিঙ্ক দিয়া দেন। লেখালেখির কাজ হইলে একটা স্যাম্পল দিয়া দেন, অথবা আপনে কিভাবে লেখবেন চিন্তা করছেন তার একটা হালকা আউটলাইন দেন। অনেক কাজ থাকে প্রোগ্রামিং ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট। এইধরনের অ্যাসাইনমেন্ট ধরার সবচেয়ে কার্যকর রাস্তা হইলো, কোডটা আগেই কইরা ফেলেন। বিডের সাথে প্রোগ্রামের একটা ইএক্সই ফাইল দিয়া দেন। আর কেউ যদি এইটা না করে ৭৫% নিশ্চিত, আপনে কাজটা পাবেন। প্রথম দিকে কাজ ধরার এইটা পরিক্ষীত একটা রাস্তা।

৭.
অল সেট। লিঙ্ক দেন, কোন সাইটে যামু? অনেক সাইট আছে, সার্চ দিলেই পাইবেন। আমি এককালে কাজ করতাম রেন্ট এ কোডার আর গেট এ কোডার সাইটে। এই দুইটার মধ্যে রেন্ট এ কোডার আমার বেশি পছন্দ। রেন্ট এ কোডারে ১৫% চার্জ কাটলেও, ঐখানে কাজ করলে টাকা পাইবেনই। গেট এ কোডারে ধরা খাওয়ার চান্স আছে। একবার আমি নিজেও খাইছিলাম। দেশে টাকা আনানো খুবই সহজ। তবে আনতে যেহেতু কিছুটা খরচ পড়ে, কিছু জমাইয়া একবারে আনাই ভালো। আনার নিয়ম সাইট টু সাইট ভ্যারি করে, সেইজন্য ডিটেইলস দেইখা নিতে পারেন।

৮.
আমি কাজ ছাইড়া দিছি যখন ভার্সিটি এডমিশনের জন্য প্রিপারেশন শুরু করলাম। আমি করতাম মেইনলি সি/সি++, কিছু ম্যাটল্যাব, জাভা আর টেকনিক্যাল রাইটিং এর কাজ। দিনে কয়েক ঘন্টা কইরা সময় দিলেই মাসে তিন/চারশ ডলার স্টেডি ইনকাম সম্ভব। আর বড় গ্রুপে কাজ করলে বা প্রফেশনাল লেভেলে কাজ করলে খাটনির সাথে সাথে টাকাও বাড়বে। আসল কথা, ফাও টাকা পাইবেন না, খাইটা খাইতে হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28948310 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28948310 2009-05-09 09:46:06
বুয়েট ভর্তি কোচিং: পারষ্পরিক ধরা খাওয়ার কাহিনী প্রথম পর্ব: আমার ধরা খাওয়া

এইচ এস সির পর সব শেয়ালেরই লেজ কাটা যায়, আমারও গেল। সারা জীবন চট্টগ্রামে কাটাইয়া, বুয়েট ভর্তি কোচিং করতে চট্টগ্রাম ছাড়তে ইচ্ছা করলো না। আমি সারাজীবনই শান্তশিষ্ট, প্যাচ ঘোচ বুঝি না B:-) । লিফলেটে লেখা স্ট্যান্ড করাদের ৫০% ছাড় <img src=" style="border:0;" /> , আমি কোন দামাদামি না কইরাই ২০০০ টাকা দিয়া সানরাইজে ভর্তি হইয়া গেলাম। পরে জানলাম, কোচিং এর ফি হলো যার কাছ থেকে যা নেওয়া যায় এমনি জিনিষ :-*। অনেকে ১৫০০ টাকা বা তার কমেও ভর্তি হইছে <img src=(" style="border:0;" />।

কোচিং ভালো লাগে নাই। আমরা নতুন সিলেবাসের পয়লা ব্যাচ, কিন্তু সব পুরান জিনিষ পড়ায় <img src=" style="border:0;" />। একমাস পরে কোচিং ছাইড়া দিলাম। কোচিং ফি পুরাটাই মাইর গেল <img src=(" style="border:0;" />। ওদের খালি রুটিনটা ফলো করতাম, পড়তাম বাসাতে নিজে নিজেই। সারা জীবন বুয়েটের এডমিশন টেস্ট হইতো অনেক পরে, আমাদের সময় নিয়া আসলো এক লাফে অক্টোবরে। যাই হোক বাসায় পড়া কাজে লাগলো, বুয়েটের সি এস ইতে চান্স পাইলাম <img src=" style="border:0;" />।

চান্স পাওয়াদের সানরাইজ একটা কইরা ঘড়ি দেয়। লেখা থাকে সফলতার x বছর, x এর ভ্যালু বছর বছর এক কইরা বাড়ে। আমারেও যাইতে বললো সানরাইজের সংবর্ধনা (ছবি তোলা!) অনুষ্ঠানে। আমার ঐখানে যাইতেও ইচ্ছা হইলো না। কয় মাস পরে চট্টগ্রাম সানরাইজের পার্টি ছিল। আমারে ডাঃ ইয়াসিন ভাই (চট্টগ্রাম সানরাইজের পরিচালক) কইলো, তোমার তো ছবি নাই গিফট নেওয়ার। আসো আমার সাথে। আমি তো খুশী, যাক কিছু একটা দিব মনে হয়। দেখি, একটা চারকোনা মোটা ডায়েরি আনছে। আমি ভাবলাম ডায়েরি দিব, ঘটনা কি। আমি মনে মনে কইলাম, ফ্রিতে আলকাতরাই সই। কিন্তু ছবি তুইলা দেখি আবার নিয়া যাইতাছে <img src=" style="border:0;" />, ডায়েরিটা ইউজ করা <img src=(" style="border:0;" />।


দ্বিতীয় পর্বঃ তাহাদের ধরা খাওয়া

পরের বারের লেজ কাটাদের পড়ানোর জন্য ডাকলো। আমার বারবার ধরা খাইয়া জ্ঞান হইছে, দুনিয়াতে না কইলে কেউ কিছু দিব না <img src=" style="border:0;" />। তাদের যদি গায়ে কাপড়ই না থাকে, আমার ঘোমটা দিয়া লাভ কি <img src=" style="border:0;" />। প্রথম দিন ক্লাস নিয়াই বললাম, ভাইয়া এই টাকায় কেমনে ক্লাস নেই। না বাড়াইলে বলেন, ওমেকায় যাইগা। ঢাকায় তখন সানরাইজ ওমেকার হাতে ভালো ধরা খাইছে। চট্টগ্রামে ওমেকা খালি দাড়ানোর চেষ্টা করতাছে। হুমকিতে কাজ হইলো, পার লেকচার টাকা বাড়াইলো <img src=" style="border:0;" />।

ইয়াসিন ভাইরে ধরলাম, ভাইয়া গিফটের কথা তো কাউরে বলতে পারি না। আমারে নিয়া তো হাসবো, কিন্তু আপনাদের তো ইজ্জত নিয়া টানাটানি। কয়েকদিনের খোচানোয় কাজ হইলো। চিটাগাং মেডিকেলের উল্টাদিকে কিছু পশ দোকান আছে। ঐখান থেইকা একটা দামি টি-শার্ট কিনা দিলেন <img src=" style="border:0;" />। টি-শার্টটা অনেক ভালো ছিল, ৪/৫ বছর পড়ার পরেও প্রায় নতুনের মতই ছিল। ছাপ্পড় মারা ঘড়ির বদলে টি-শার্ট!! <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28943509 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28943509 2009-04-28 10:47:35
ষোল কোটি প্রহার-বালক মার্ক টোয়েনের দ্য প্রিন্স এন্ড দ্য পপার পড়েছেন - সেখান থেকেই একটা গল্প বলি। রাজপুত্রদের পড়াশোনার জন্য গৃহশিক্ষক রাখার চল অনেক আগে থেকেই। পড়া না পারলে সাধারন ছাত্রদের তো সাজা দেয়া যায়, কিন্তু রাজপুত্র বলে কথা। শিক্ষক তো আর রাজপুত্রের গায়ে হাত তুলতে পারেন না। তাই প্রহার-বালক পদের সৃষ্টি। প্রহার-বালকের দায়িত্ব রাজপুত্রের হয়ে সাজা ভোগ করা। তার কষ্ট দেখে যদি রাজপুত্রের মায়া হয়। আর সেই মায়া থেকে যদি পড়ায় মনোযোগ আসে।

২.
রাজা-বাদশাদের অস্তিত্ব এখন কেবল গল্প আর ইতিহাসের পাতায়। কিন্তু গত দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশে এক রকম রাজতন্ত্রই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমরা একটা রাজবংশ বেছে নেই। রাজা বদলালে আমির-ওমরাহও বদলায়। কিন্তু হাকিম নড়লেও হুকুম নড়ে না। রাজা তার আমির-ওমরাহ নিয়ে ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখেন সবসময়।

৩.
প্রায় দুবছর বাংলাদেশ একটি অনির্বাচিত সরকারের অধীনে ছিল। অনির্বাচিত সরকার তার অস্তিত্বের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্যই কার্পেটের নিচে চাপা পড়া ধুলোয় একটু নাড়া দেয়। ভয়াবহ সব দূর্ণীতির চিত্র আমাদের আতঙ্কিত করে। কিন্তু ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ওঠা অনির্বাচিত সরকারের গ্রাস থেকে বেরিয়ে আমরা আবার গনতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন করি। দিন বদলের ধ্বজা উড়িয়ে সেই আমির-ওমরাহরাই ফিরে আসেন আবার।

৪.
আমাদের দুই নেত্রীর কথা বন্ধ থাকে বছরের পর বছর। দাত ভাঙ্গা জবাব, আগুন জ্বালাবার কথা তাদের মুখেই শুনি আমরা। জাতিয় বিপর্যয়েও তাদের এক হয়ে কাজ করতে পারেন না। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে সব শেয়ালেরই এক রা। ক্ষমতার বিস্তৃতি বাড়াতে তারা এক হয়েই উপজেলা চেয়ারম্যানদের কাঠের পুতুলে পরিনত করেন। দুদকের সমালোচনায় দলমত ভুলে ঐকমত্যে পৌছান সবাই। ম খা আলমগীর কিংবা মির্জা আব্বাসের মত লোকেরা যখন দুদকের জবাবদিহীতা দাবি করেন আমরা আশঙ্কিত হই। দূর্ণীতি দমন কমিশনের নপুংশক হয়ে ওঠা সাদা চোখেই ধরা পড়ে।

৫.
আজকের রাজপুত্র আর পারিষদরাও জবাবদিহীতা আর বিচারের উর্ধে থাকতে চান। সংসদ নাকি জবাবদিহীতার কেন্দ্র। সংসদের মধ্য দিয়েই ষোল কোটি মানুষের মতামত প্রকাশিত হয়। কিন্তু দূর্ণীতির বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের কন্ঠস্বর কিংবা শক্তিশালি স্হানীয় সরকারের দাবি সংসদে উচ্চারিত হয় না। তারা নিজেদের কেবলি আরো আরো উপরে নিয়ে যান, যেখানে জনতার কন্ঠস্বর পৌছে না।

৬.
গনতন্ত্র না পারলেও রাজনৈতিক নেতাদের বিচার না হওয়া একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে বলা যায়। সরকারি দলের লাগামহীন সন্ত্রাস, স্বেচ্চাচারিতা আর বিরোধি দলের জনবিচ্ছিন্ন আন্দোলনে আমরা ক্রমশ ষোল কোটি প্রহার-বালক হয়ে উঠি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28938758 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28938758 2009-04-16 10:05:49
ছবি ব্লগ: চেরি ফুলের উৎসব
উৎসবের শুরুতেই ছিল প্যারেড। প্যারেডের অন্যতম আকর্ষন চেরি ব্লসম কুইন।


এইটা দেখে তো হাহাপগে...


এত বড় যন্ত্র নিয়া হাটাই মুশকিল। কিন্তু ওরা বাজালোও বেশ চমৎকার।


ছিল টেরাকোটা আর্মি। চেরি ফুলের সাথে ওদের কি সম্পর্ক কে জানে?


মাদাম তুসো মানেই মোমের মূর্তি। বলুন তো এখানে মোমের মূর্তি কয়টা এবং কোনটা, কোনটা?


এই ঘোড়াটায় চড়তে খুব ইচ্ছে করছিল। <img src=" style="border:0;" />


সাথে বোনাস ছিল স্মিথসোনিয়ান বার্ষিক ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব।


এইটা স্ট্রিট কার্নিভালের ছবি। খালি মানুষ আর মানুষ। জাপানিদের পোয়াবারো।


জাপানি কার্নিভাল আর বনসাই থাকবে না তাও কী হয়। এটা ১৯৪৬ সালের বনসাই। খুব একটা পুরোনো মনে হয় বলা যায় না।


যাকে ঘিরে এতো কিছু। সেই চেরি ফুল।


বেসিনের তীর ঘেষে চেরি গাছের সারি। তাই এখানে চেরি ফুল দেখতে আসে সবাই। চেরি উৎসবের মূল আয়োজন থাকে এখানটাকে ঘিরেই।


চেরির ছাদ।


জলে ভাসা চেরি আমি...


চেরির বন থেকে তোলা ওয়াশিংটন মনুমেন্টের ছবি


[এপ্রিলের ৪ তারিখ ছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে চেরি ফুলের উৎসব। সেখান থেকেই তোলা ছবি সবগুলো।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28933850 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28933850 2009-04-05 10:01:13
হবুচন্দ্রের রামরাজত্ব ক্ষমতার একটা বড় ভালো গুন আছে - ক্ষমতা জাত-গায়ের রঙের ভেদ ভুলায়। তাই বলে ভাববেন না যেন, সবাইকে আপন মনে হয়, বরং দুনিয়ার তাবত ক্ষমতাধর এক ছাঁচে ভাবেন। সে রবীন্দ্রনাথের হবুচন্দ্র রাজাই হোক, ফ্রান্সের রানী আতোয়ানাত কিংবা হালের বুশ।

রাজার অস্তিত্ব তো প্রজা আছে বলেই। তাই রাজার ভাবনা সব তাদের ঘিরেই। তাদের দুঃখী মুখ রাজার বুকে বড় বাজে। কর্তার ইচ্ছাই যখন কর্ম, হাসি ফোটানো এমন কী কঠিন কাজ। রাজার সেপাইরা তো আর পালক নিয়ে ঘোরে না যে কাতুকুতু দিয়ে হাসাবে। তাই, তাদের রাস্তা ঘাড়ে তলোয়ার ধরে হাসানো। সবেধন নীলমনি মাথা বাচাতে প্রজার দল তাই হেসে গড়াগড়ি যায়। প্রজার খুশী দেখে রাজাও হাসেন তৃপ্তির হাসি।

২.
মন্দার ধাক্কায় কাপছে সারা দুনিয়া। তাবত পুজিপতি, যারা এতোদিন পুষ্ট হয়েছে সাধারন মানুষকে ঠকিয়ে, লোভের পিছে ছুটতে গিয়ে নিজের পাতা জালেই আজ হাসফাস করছে। রোজ কেয়ামতের আতঙ্ক ছড়িয়ে তারা সাধারন মানুষের কাধে লোকসানের বোঝা চাপাতে চাইছে। বেইল আউট, প্যাকেজ সহায়তার আবরনে চলছে তাদের ভিক্ষাবৃত্তি।

বাংলাদেশেও লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। আমাদের শিল্পপতিরাও মন্দার ভয় দেখান, ছয়-সাত হাজার কোটি টাকার তহবিল চান। তবে তারা এত খারাপ অবস্হায় পড়েননি যে রাস্তায় নামতে হয়। পাচতারা হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ভিক্ষা চাইবার সামর্থ্য তাদের আছে।

৩.
শেরাটনের মোড়ে ভিক্ষা করে কদম আলি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। ভিক্ষার টাকায় তার সংসার চলে। কদম আলির অপরাধ সে ভিক্ষা করতে অফিস খুলতে পারে না। শেরাটনের সামনের রাস্তায় দাড়াতে পারলেও বল রুমে সংবাদ সম্মেলন ডেকে চাইতে পারে না খাবার কেনার টাকা, মেয়েটার বিয়ে কিংবা স্ত্রীর পথ্য কেনার খরচ।

সুবেশী সাহেবদের জন্য ভাবনায় সরকারের কপালে ভাজ পরে। অসহায় এই সাহেবদের জন্য কিছু করার উপায় খোজে। কদম আলির জামা নোংরা, সুন্দর করে কথা বলতে পারে না। তাই কদম আলি দেশের জন্য কেবলি জন্জাল। দিন বদলের সরকার জন্জাল সাফসুতরো করে। এবার দেশটাকে বেশ ধনী ধনী ঠেকে। দেশের চেহারা সত্যি পাল্টায়।



[ভিক্ষাবৃত্তির জন্য এক মাসের কারাদণ্ডের দুটি বিল পাস]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28932534 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28932534 2009-04-02 09:57:42
বাংলাদেশের কোন পরিচয় তুলে ধরবো
আমি নিজেকে যেমন ভাবি, আমি আসলে তা নই। অন্যরা আমাকে যেমন ভাবে, আমি তাও নই।। আমি তাই, অন্যরা আমার সম্পর্কে যা ভাবছে বলে আমি মনে করি।।।

একটা দেশ আসলে তো অনেকগুলো মানুষ। দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকি, আমিই তো একটুকরো বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেয়া তো আমার কর্তব্যই। এখন বাংলাদেশকে আমি কেমন পরিচয়ে পরিচিত করাবো। সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাকেই।

ইতিহাস, সংস্কৃতি একটা জাতির ঐশ্বর্য বহন করে। সমৃদ্ধ ইতিহাস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বর্তমানকে বাদ দিয়ে কেবলি ইতিহাস জাদুঘরে পুরোনো সভ্যতা দেখে দীর্ঘশ্বাস মাখা মুগ্ধতা। বাংলাদেশের অর্জন কি কেবলি ইতিহাসের পাতায়, বর্তমান কি কেবলি আশঙ্কার?

জীবন যাত্রার মানে বাংলাদেশ কোনভাবেই আমেরিকার সাথে তুলনীয় নয়। কিন্তু এই জীবন মান নিয়েই গর্ব করার মত বেশ কিছু সামাজিক কাঠামো আমাদের রয়েছে। আমি দুটো ক্ষেত্রের কথা খুব বলি - অবৈতনিক শিক্ষা আর বিনামূল্যে চিকিৎসা। আমেরিকায় বারো বছর পাবলিক স্কুলে ফ্রি পড়া গেলেও, চার বছরের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোথাও ফ্রি পড়া যায় না। এই মন্দায় যখন অনেক ছাত্রের পড়া চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন বাংলাদেশের ছাত্রদের ফ্রি পড়ার সুযোগ অনেককেই অবাক করে। আমেরিকায় চিকিৎসা সুবিধা অনেকটাই ইনস্যুরেন্স নির্ভর। ইনস্যুরেন্স না থাকলে নিতান্তই মরতে না বসলে ডাক্তার ছুয়েও দেখবে না। ওবামা সরকার চেষ্টা করেছিলেন ফ্রি চিকিৎসার অবকাঠামো গড়ে তোলা যায় কিনা, কিন্তু ব্যপারটা প্রায় অসম্ভব ঠেকছে। আমাদের সম্পদের স্বল্পতা আছে, আমরা ভালো সেবা দিতে পারি না। তাও ফ্রি চিকিৎসা, ফ্রি পড়ার একটা বিশাল অবকাঠামো আমাদের আছে। আমাদের বিপুল জনসংখ্যা, সম্পদের সীমাবদ্ধতার জন্য আমরা তাদের কাজ দিতে পারি না, কিন্তু আমাদের যতখানি আছে তাই দিয়েই আমরা চেষ্টা করি।

বাংলাদেশের পজিটিভ ভাবমূর্তি তুলে ধরা খুব কঠিন। এখানে পত্রিকায় বাংলাদেশের সম্পর্কে ভালো কিছু আসে না। আসে সিডরের কথা, কোকোর দূর্ণীতির খবর, বসুন্ধরায় আগুন কিংবা বিডিআরের ঘটনা। আমি বলি প্রাকৃতিক দূর্যোগ আমাদের আছে, কিন্তু আমরা দূর্যোগ ব্যবস্হাপনায় খুব দক্ষ। বিডিআরের ঘটনাকে আমি বলি একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। গনহত্যা, সন্ত্রাস, কিংবা কিছু রাজনীতিবীদের দূর্ণীতি বাংলাদেশের সত্যিকার চেহারা নয়, এদেশের সত্যিকার প্রতিনিধি পরিশ্রমী কিন্তু অল্পে তুষ্ট অনেক মানুষ।

বিডিআরের ঘটনা বা জঙ্গীবাদ আমাকে ভাবায় না তা নয়। এটাকে আমি দেশের জন্য হুমকি মনে করি না, তাও নয়। জঙ্গীবাদের বিস্তার হতে পারে না, বা এর মোকাবেলায় সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করা প্রয়োজন নেই তাও মনে করি না আমি। কিন্তু এ ব্যপারে কথার চেয়ে কাজই বেশি করা প্রয়োজন মনে করি। কঠোর আইন হতে পারে, পুলিশকে শক্তিশালি করা, গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো খুব জরুরী। কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রমান ছাড়া কোথাও জঙ্গী হামলা হতে পারে ঘোষনা দেয়া, বা ব্যক্তিগত উৎসের ভিত্তিতে বিডিআরের ঘটনায় জঙ্গীরা জড়িত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে জঙ্গীরা ঢুকে পড়েছে বলা ক্ষতিকর বলাই মনে করি।

বাংলাদেশে ইসলামের প্রসার ঘটেছে দরবেশ, সূফীদের হাত ধরে, শাসকদের হাত ধরে নয়। এদেশের সাধারন মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং জঙ্গীবাদ তাদের মূল্যবোধের সাথে খাপ খায় না। এদেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র বলা এইসব মানুষদের বিশ্বাসকে উপেক্ষা করাই বলা যায়।

আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে বাচতে পারবো না। জঙ্গী আমাদের একটা বড় সমস্যা অস্বীকার করার উপায় নেই। এর সমাধানে সম্ভব সবকিছু করতে হবে। কিন্তু, বাংলাদেশের কোন পরিচয় আমরা তুলে ধরতে চাই সেটাও ভাবতে হবে। আমরা কি পাকিস্তানের মত নিজেদের পঙ্গু প্রমান করে ভিক্ষে করতে হুইলচেয়ার চাইবো, নাকি নিজেদের শক্তি সামর্থ্যের প্রমান দিয়ে কাজের সুযোগ খুজে নিতে চাইবো, সেটা বেছে নিতে হবে আমাদেরই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28930084 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28930084 2009-03-27 11:51:03
পন্ডিত মশাই, কুকুরের ঠ্যাং এবং অন্যান্য গল্পের সেই পন্ডিতমশায়ের কথা মনে আছে। আকালে টোল হারিয়ে তার আশ্রয় হয় স্কুলে। বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, পিসি মিলিয়ে নয় সদস্যের পরিবারের ভরনপোষনে তার সম্বল মাসে পচিশ টাকা। আর সাহেবের তিন ঠ্যাঙা কুকুর, তার পেছনে মাসে খরচ হয় পচাত্তর টাকা। তাই, পন্ডিতমশাই উত্তর খোজেন, তার নয়জনের পরিবার কুকুরের কয় ঠ্যাঙের সমান। অঙ্কের সহজ সমাধান জানা ছাত্রের মুখেও ভাষা ফোটে না। বোবা ঘৃণায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

২.
এরপর নদীর জল অনেক গড়িয়েছে। এখন আর সেই ভিনদেশী সাহেব নেই। কিন্তু কুকুরের ঠ্যাং হয়ে বেচে থাকা মানুষ কি কমেছে আমাদের সমাজে। কর্পোরেট সংস্কৃতিতে আমরা নতুন নতুন সাহেব গড়ে তুলি, শুধু চামড়ার রঙেই যা পরিবর্তন।

৩.
আজকের পন্ডিতমশাইদের কথা বলি। যারা জাতে বামুন, সেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কথাই বলি। একজন প্রফেসর কায়কোবাদ মাসে বেতন পান বিশ থেকে পচিশ হাজার টাকা। বিদেশের কনফারেন্সে গবেষনাপত্র প্রকাশে যাওয়ার সুযোগ পান তিন বছরে একবার, তাও সর্বোচ্চ ১৫০০ ডলার দেবে সরকার।

৪.
আমাদের বেশ কিছু ক্রিকেটার আই সি এলে চলে গেছেন টাকার জন্য। এতে আমাদের ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে। ক্রিকেটার ধরে রাখতে তাদের বেতন ভাতা বাড়ছে ত্রিশ শতাংশ। একজন 'এ প্লাস' গ্রেডের ক্রিকেটার মাসে বেতন পাবেন এক লক্ষ সাত হাজার টাকা। প্রতি টেস্টে ম্যাচ ফি পাবেন এক লক্ষ টাকা, আর যদি খেলা পন্চমদিনের লান্চ অবদি গড়ায় তাহলে পন্চাশ হাজার টাকা বোনাস। একদিনের খেলার ম্যাচ ফি ষাট হাজার টাকা।

এবার কিছু সহজ অঙ্ক করি। আশরাফুলের গত বারো মাসের যা পারফর্মেন্স, তাই যদি আগামি বারো মাসেও একই থাকে, তাহলে এই সময়ে আশরাফুল ৮৬৭ রানের বিপরীতে কেবল বেতন আর ম্যাচ ফিই পাবেন পয়ত্রিশ লক্ষ টাকার বেশি। রান পিছু আয় চার হাজার টাকার ওপরে।

৫.
আই সি এলে ক্রিকেটার চলে যাওয়াতে আমাদের ক্রিকেটের ক্ষতি খুব সহজেই বুঝতে পারি। হেরে যাওয়া ম্যাচ দেখে আমরা ভাবি, ইশ কাপালি বা আফতাব থাকলে রেজাল্টটা হয়তো বদলে যেতো। কিন্তু আমাদের দেশের যেসব মেধাবী ছাত্ররা বিদেশে থেকে যাচ্ছে, তারা ফিরে না আসায় দেশের কতটা ক্ষতি হচ্ছে, তা আমাদের ভাবায় না। তাদের ফিরিয়ে আনার ভার আমরা দেশপ্রেম আর পারিবারিক বন্ধনের ওপর ছেড়ে দিয়েই নির্লিপ্ত থাকি।

৬.
একজন প্রফেসর কায়কোবাদ আশরাফুলের কয় রানের সমান? দেশের জন্য তার অবদান কি আশরাফুলের একটা দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোকের চেয়েও কম?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28927111 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28927111 2009-03-20 20:47:38
ব্লগ এবং পত্রিকায় পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনাগুলোর সঙ্কলন
১। হমপ্রগের ব্লগ - এই আনন্দের কোন শেষ নেই বিডিআর বিদ্রোহ

২। ছন্নছাড়ার পেন্সিলের ব্লগ - দুঃসহ বন্দীত্বের কথা...

৩। আমড়া কাঠের ঢেকির ব্লগ - বন্দীদশা থেকে আসা কর্নেলের বক্তব্যের সারকথা

৪। বিপ্লব কান্তির ব্লগ - সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া লে: কর্নেলের সাক্ষাৎকার প্রচার করলো এটিএন বাংলা

৫। প্রথম আলো - ঘটনা সম্পর্কে মেজর জায়েদি ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে ডিজিকে কৈফিয়ত তলব, বাইরে থেকে গুলি শুরু

৬। ইত্তেফাক - প্রাণে বেচেঁ গেলেন যারা

৭। ইত্তেফাক - মৃত্যুর মুখ থেকে বেচেঁ আসা কর্মকর্তাদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা

৮। যুগান্তর - জিম্মিদশা থেকে মুক্ত কয়েকজনের অভিজ্ঞতা

৯। আমার দেশ - লোমহর্ষক সেই কাহিনী শোনালেন কর্নেল কামরুজ্জামান : বিদ্রোহীদের প্রথম দফা গুলিতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন বিডিআর ডিজি শাকিল

১০। মানবজমিন - প্রত্যক্ষদর্শীর জবানি অপারেশন ডাল ভাতের কথার মধ্যেই ব্রাশফায়ার

১১। মানবজমিন - বের হয়েই দেখি লাশ আর লাশ

১২। সমকাল - ৩৪ ঘন্টার অবরুদ্ধ জীবন : বাচ্চাকেও কাঁদতে দেইনি

১৩। সমকাল - আহত জওয়ানের জবানে বিদ্রোহের কথা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28917287 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28917287 2009-02-27 03:38:04
সামরিক বাহিনীকে দোষী করা কতটা সঙ্গত
৪৭ এ ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হল। এরপর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ। ভারতে আমরা সামরিক শাসন দেখিনি, কিন্তু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে কেন এমন হলো। এর কারন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শীতা এবং যোগ্যতার অভাব। পাকিস্তান হওয়ার পরপরই দেশের একাংশের সাথে বিমাতাসুলভ আচরন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সেই পথ ধরেই আসে সামরিক শাসন। বাংলাদেশ আমলে আমরা অনেকটা একই চিত্র দেখেছি। স্বাধীনতার পরপরই কিন্তু দেশে সামরিক শাসন আসেনি। একটা দেশে যে কোন অরাজনৈতিক সরকারকেই ক্ষমতায় আসতে হলে জনসমর্থন নিয়েই আসতে হয়। এটা যেমন ১/১১ এর জন্য তেমন ৭৫ বা ৮১ এর জন্যও সত্যি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অযোগ্যতাই সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে।

সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কিন্তু এদেশেরই মানুষ। লোভ, দূর্নীতি এসব তাদের মধ্যেও থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য সামরিক বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে রাখার দায়িত্ব রাজনৈতিক সরকারের। বিডিআরের ঘটনায় একটা ইস্যু হয়ে এসেছে ডাল ভাত কর্মসূচিতে টাকার ভাগ এবং ইউ এন মিশন। এ দুটোর কোনটাই কিন্তু সামরিক বাহিনীর কাজের আওতায় পড়ে না। সামরিক বাহিনীকে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করে সরকারই একে লাগামহীন ফ্রান্কেনস্টাইন করে তুলেছে।

এসব তো গেল সমস্যার কথা - সমাধানের পথ কি? প্রথমেই দরকার রাজনীতিবীদদের দায়িত্ববোধ সৃষ্টি, যেন ১/১১ এর মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বিডিআরের ঘটনা এখন পর্যন্ত সরকার খুব ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে। তবে আর্মি যে সংযত আচরন দেখিয়েছে তার জন্য ধন্যবাদ অবশ্যই পাওয়া উচিত। আর্মির সদস্যদের ট্রেনিংটাই কিন্তু অন্যরকম হয় - যার অনেকটা বড় অংশ জুড়ে থাকে সহযোদ্ধা বা সহকর্মীর প্রতি দায়িত্ববোধ। সেখানে অনেক আর্মি অফিসার এবং তাদের পরিবার অবরুদ্ধ থাকার পরেও আর্মি কোন একশনে যায়নি। এজন্য সরকারের যেমন ক্রেডিট প্রাপ্য তেমনি আর্মিকেও প্রাপ্য ধন্যবাদটুকু দেওয়া উচিত।

বিডিআরের সদস্যরা যেসব অভিযোগ করেছেন তার অবশ্যই তদন্ত হওয়া দরকার। তাদের দাবীদাওয়া মানারও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তবে এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং বিচার হতেই হবে। সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান চেইন অব কমান্ড এবং শৃঙ্খলা। তার স্বার্থেই কঠিন হলেও বিচারের বিকল্প নেই। নাহয় এটা একটা খারাপ নজির হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে পুলিশ বা অস্ত্রধারী যে কোন বাহিনীই দাবী আদায়ের এই সহজ পথই বেছে নিতে চাইবে।

সামরিক বাহিনীকে তার গন্ডির মধ্যে রাখা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায়নিষ্ঠ আচরনই এখন কাম্য।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28916633 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28916633 2009-02-26 09:09:43
প্রোগ্রামিং শেখা

রাগিব ভাই প্রোগ্রামিং শেখার একটা বই লেখার কাজে হাত দিয়েছেন। ব্লগের কল্যানে আমরা বইটা প্রকাশিত হওয়ার আগেই পড়ার সুযোগ পাচ্ছি। ওনার লেখাটা পড়তে গিয়ে আমার মনে পড়ল আমার প্রোগ্রামিং শেখার সময়ের কথা। আমি খুব ভালো প্রোগ্রামিং জানি তা নয়, কিন্তু আমার শেখার শুরুটা বেশ ভালো হয়েছিল। এরপর অনেকটা আলস্যের কারনেই সেটাতে খুব একটা জোর দেয়া হয়নি। তাই আমার প্রোগ্রামিং স্কিল অ্যাকাডেমিক পর্যায়েই রয়ে গেছে। সেই সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করে নিয়েই প্রোগ্রামিং শেখা সম্পর্কে আমার কিছু ধারনা শেয়ার করতে চাই।

আমার প্রোগ্রামিং শেখার শুরু ১৯৯৭ সালে। আমি তখন ক্লাস টেনে পড়ি। আমাদের স্কুলের ল্যাবে পাঁচটা কম্পিউটার ছিল। সেখানেই প্রোগ্রামিং এর হাতেখড়ি। আমি ছবি আকতে পারতাম না, তাই বায়োলজি নেয়ার সাহস করিনি, কম্পিউটার সায়েন্স নিলাম। আমাদের কম্পিউটার সায়েন্স ক্লাসে আমরা ছিলাম ২০ জন মতো। আমাদের কারোরই বাসায় কম্পিউটার ছিল না। ২০ জনের জন্য পাঁচটা কম্পিউটার তখনকার জন্য যথেষ্ট ভালোই ছিল। তারপরেও আমরা কম্পিউটারে সরাসরি কাজ করার সুযোগ খুব একটা পেতাম না। তাই আমাদের প্রোগ্রামিং শেখার শুরু হয়েছিল সুডোকোড আর ফ্লোচার্ট একে। আর আমাদের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল কিউ বেসিক। কিউ বেসিকের সুবিধে ছিল, এটা খুব সহজ। সি এর মত ভ্যারিয়েবল ডিক্লেয়ার করতে হয় না, লাইব্রেরী ইনক্লুড করতে হয়না। ফ্লোচার্ট থেকে কিছুটা সিনট্যাক্স মেনে ইংরেজীতে লিখে ফেললেই কোড হয়ে গেল।

এই শেখাটা আমার কাজে দিয়েছে সবসময়। প্রোগ্রামিং শেখার শুরুর কথা হচ্ছে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ইনডিপেন্ডেন্ট চিন্তা করতে শেখা। আমি কিভাবে প্রোগ্রামে এটা লিখবো সেটা নয়, কম্পিউটার কাজটা কিভাবে করতে পারবে সেটা শেখাটাই আসল। এটা শেখা হয়ে গেলে যে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা কোন সমস্যাই না। কিন্তু এটা না শিখে শুরুতেই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে গেলে দূর্বোধ্য সিনট্যাক্সের জালে জড়িয়ে প্রোগ্রামিং সম্পর্কেই ভীতি তৈরী হয়।

আমি সি শিখি বুয়েটে ক্লাস শুরুর আগে। আমি নিজে নিজে বই দেখেই শিখতে পেরেছিলাম কারন আমার জন্য ব্যাপারটা ছিল কেবল সিনট্যাক্স শেখা, প্রোগ্রামিং এর মৌলিক জ্ঞান আগেই হয়ে গিয়েছিল। তাই সি বা এরপর সি++, জাভা শিখতে বেগ পেতে হয় নি।

এখন একটা ব্যাপার ভাবার মত। প্রোগ্রামিং শেখার এই পথটা তো অনেকেরই জানা। কিন্তু আমাদের বুয়েটের কোর্স বা কম্পিউটার প্রশিক্ষনের দোকানগুলো (সাইজে বড় হলেও আমি এদের দোকানই মনে করি) এভাবে শেখায় না কেন? বুয়েটের এখনকার কথা জানিনা, কিন্তু আমাদের সময় পর্যন্ত একটা প্রেজুডিস কাজ করতো, ক্লাসে রিচি ছাড়া অন্য বই ধরা যাবে না। রিচির বইটা খুব ভালো সন্দেহ নাই, কিন্তু প্রোগ্রামিং শেখার শুরুর বই হিসেবে এটা ধরিয়ে দেয়া, অনেকটা সাতার শেখাতে সাগরে ফেলে দিয়ে আসার মত। আর দোকানগুলো স্রেফ বানিজ্যিক পথে চলে। প্রথম দিনই কিছু কোড লিখিয়ে কম্পিউটার স্ক্রিনে This is my first C program অথবা Hello world জ্বলজ্বল করতে দেখিয়ে যে সহজ চমক দেখানো যায়, সুডোকোড বা ফ্লোচার্ট নিয়ে আলোচনাকে উপভোগ্য করতে তার চেয়ে অনেক বেশি মুন্সিয়ানার দরকার হয়।

প্রোগ্রামিং শেখার ভালো বইয়ের সঙ্কট খুব। বিশেষ করে শেখা শুরু করার জন্য কার্যকরী বই নেই বললেও খুব একটা ভুল বলা হয় না। এর কারনটা হচ্ছে প্রোগ্রামিং শেখার জন্য ভালো বই লেখাটা বেশ কঠিন। প্রোগ্রামিং এর বইয়ের সব লেখকই একসময় প্রোগ্রামিং শিখেছেন, কিন্তু লিখতে বসে তাদের শেখার প্রক্রিয়াটাকেই ভুলে যান। তারা ব্যস্ত হয়ে যান প্রোগ্রামিং সম্পর্কে তাদের সবটুকু জ্ঞান ঝেরে দিতে। তাই বইয়ে তথ্য থাকে প্রচুর কিন্তু আসল যে উদ্দেশ্য সেটাই অর্জিত হয় না।

রাগিব ভাই অসাধারন লেখেন। কঠিন ব্যাপার খুব সহজ করে লিখতে পারেন। কম্পিউটার সিকিউরিটি নিয়ে তার লেখাগুলো খুব সহজপাঠ্য এবং বোধগম্য ছিল। হয়তো সময় স্বল্পতার জন্য সেটা বই হয়ে ওঠেনি এখনো। এবার তিনি প্রোগ্রামিং শেখার যে সিরিজ শুরু করেছেন, আশা করি সেটা বই আকারে পাব আমরা। তাহলে বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং শেখার ক্ষেত্রে দারুন একটা কাজ হবে। শুভকামনা রইলো রাগিব ভাই আর বাংলাদেশের সবার জন্য যারা প্রোগ্রামিং শিখতে চায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28911803 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28911803 2009-02-16 00:03:08
আস্তিকতার পথ এবং বিজ্ঞান
মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে প্রশ্ন করা এবং তার উত্তর খোজা। নিজের দিকে তাকিয়ে প্রথম যে প্রশ্নটা আসে তা হলো আমি কে? আমি কোথা থেকে এলাম? এরপর চারপাশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা আরেকটু বিস্তৃত হয়, তা হলো আমার চারপাশের এই সবকিছু, এই মহাবিশ্ব কোথা থেকে এলো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোজার জন্য আমরা একটা অ্যাসাম্পশন ধরি - তা হলো স্রষ্টার অস্তিত্ব। এখন স্রষ্টাকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য আমরা তার দুটো অ্যাট্রিবিউট ধরে নিলাম।
১। স্রষ্টার শুরু এবং শেষ নেই।
২। স্রষ্টার জ্ঞান এবং ক্ষমতা অসীম।
এখন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুব সহজেই পাওয়া গেল। কিন্তু আবার কিছু নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে। যেমন - আমরা যে অ্যাসাম্পশন ধরলাম, তার প্রমান কি? সরাসরি উত্তর, কোন প্রমান নেই। প্রমান থাকলে সেটা অ্যাসাম্পশন হতো না, তা হতো অবজার্ভেশন। এখন এই অ্যাসাম্পশনটা ভ্যালিড বা ইনভ্যালিড হতে পারে। একটা অ্যাসাম্পশনকে আমরা ভ্যালিড বলব তখনই যখন এটা সকল অবজার্ভেশন বা প্রাসঙ্গিক সমস্যাকে ব্যাক্ষা করতে পারে এবং এমন কোন অবজার্ভেশন না থাকে যা এর সাথে কনট্রাডিক্ট করে। আমাদের এই অ্যাসাম্পশন সব অবজার্ভেবল ফ্যাক্টকে ব্যাক্ষা করতে পারছে এবং কোন অবজার্ভেবল ফ্যাক্ট তার সাথে কনট্রাডিক্ট করছে না। তাই এই অ্যাসাম্পশনকে ভ্যালিড বলে মেনে না নেওয়ার কোন কারন নেই।

এবার আসে বিজ্ঞানের সাথে আস্তিকতার সম্পর্ক বা সঙ্ঘাত। এজন্য প্রথমে বিজ্ঞান কি এবং তার ডোমেইন সম্পর্কে ধারনা প্রয়োজন। বিজ্ঞান হচ্ছে একটা প্রক্রিয়া এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান। প্রকৃতির দিকে তাকালে আমরা বুঝতে পারে প্রকৃতিতে কিছু ফান্ডামেন্টাল রুলস রয়েছে। বিজ্ঞান এই রুলস গুলো কোথা থেকে আসলো তার উত্তর দেয় না, বিজ্ঞান এই রুলস গুলোকে খুজে বের করে ন্যাচারাল ফেনোমেনা গুলোর ব্যাক্ষা দেয়। একজন আস্তিক মনে করেন, এই রুলস গুলোর উৎস স্রষ্টা। স্রষ্টা এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময়েই এসব রুলস বেধে দিয়েছেন। কিন্তু স্রষ্টা তাকে এই রুলস গুলো বলে দেননি। রুলস গুলো জানার উপায় হচ্ছে বিজ্ঞান। এখানে বিজ্ঞান এবং আস্তিকতা সঙ্ঘাত সৃষ্টি করছে না কারন দুজনে দুটো ভিন্ন ডোমেইনে কাজ করছে। এখন এই রুলস গুলোর উৎসের ব্যাপারে নাস্তিকতার ব্যাক্ষা কি হতে পারে। একটা হতে পারে যে হাজার-লক্ষ বছর ধরে প্রকৃতিতে ট্রায়াল এন্ড এররের মাধ্যমে রিফাইন্ড হয়ে আমরা ফান্ডামেন্টাল রুলসগুলো পেয়েছি।

এই ধারনাটা ধোপে টেকে না, কারন এই ফান্ডামেন্টাল রুলস গুলো পরিবর্তন হয় না। যেমন - একটা উদাহরন চিন্তা করি। আমরা জানি একটা বস্তুকে উপর থেকে ছেড়ে দিলে তা নিচে পড়ে। আমরা এও জানি, এটা ফান্ডামেন্টাল রুল নয়। আপাত জ্ঞানে আমাদের মনে হয়, ফান্ডামেন্টাল রুলটা হচ্ছে দুটো বস্তু পরষ্পরকে আকর্ষন করে। এ ব্যাপারে নিউটনের একটা সূত্রও আছে, যা বলছে এই আকর্ষনের ধরনটা কেমন। বস্তু দুটো যদি ভারি হয় বা কাছাকাছি থাকে তাদের আকর্ষনটা বেশি হয়। হয়তো ভবিষ্যতে আমরা জানবো এটাও ফান্ডামেন্টাল রুল নয়, রুলটা আসলে অন্যকিছু। আপাতত যদি এটাকেই রুল ধরি, তাহলে বলতে হবে এই রুলটা সবসময় একই ছিল। কখনও এমন ছিল না যে, বস্তুগুলোকে উপর থেকে ছেড়ে দিলে তারা ভেসে বেড়াতো বা এদিক-ওদিক চলে যেত। একটা সময় বস্তুরা বুঝতে পারলো যে, এভাবে ভেসে বেড়ালে বা এদিক-ওদিক চলে গেলে তারা হারিয়ে যেতে পারে। তাই তারা একে অন্যকে আকর্ষন করতে লাগলো। এ ধরনের ব্যাক্ষা গ্রহনযোগ্য মনে হচ্ছে কি?

এখন একটু বিজ্ঞানের প্রায়োগিক দিকটা দেখি। একটা স্বীকৃত সত্য হচ্ছে প্রকৃতিতে আমরা একটা ঘটনাকে যেভাবে ঘটতে দেখি, সেটাই হচ্ছে সে কাজের জন্য সর্বোত্তম উপায়। যেমন- একটা সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে তার সমাধান করে। আকাশে ওড়ার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে পাখি যেভাবে আকাশে ওড়ে। এটা আস্তিক-নাস্তিক সবাই মানেন। পার্থক্যটা এখানে যে একজন আস্তিক মনে করেন, এটা শ্রেষ্ঠ উপায় কারন এটা এসেছে স্রষ্টার কাছ থেকে। আরেকজন নাস্তিক মনে করেন হাজার-লক্ষ বছর ধরে উড়ে উড়ে পাখিরা উড়ার এই কৌশল রপ্ত করেছে, তাই এটা শ্রেষ্ঠ। তাই যখন একটা উড়ার যন্ত্র তৈরী করা হবে একজন আস্তিক বা নাস্তিক উভয়েই পাখির উড়াকে বোঝার চেষ্টা করবেন। বিজ্ঞান আস্তিক বা নাস্তিক কারোরই পেটেন্ট করা সম্পত্তি নয়।

এবার দেখি, প্রচলিত বিজ্ঞানের থিওরীগুলো মেনে নিতে একজন আস্তিকের কোন সমস্যা আছে কিনা। একটা উদাহরন নিয়ে কাজ করি, তা হলো মহাবিশ্বের সৃষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা।

একজন আস্তিক বিশ্বাস করেন যে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন একজন স্রষ্টা। তিনি কিভাবে তা করেছেন, সেটার ব্যাক্ষা দিতে গেলে বিজ্ঞানের সহায়তাই নিতে হবে। ধরে নেয়া যাক, বিগ ব্যাং থিওরীই মহাবিশ্বের সৃষ্টি সংক্রান্ত বিজ্ঞানের স্বীকৃত তত্ব। একজন আস্তিকের এটা মেনে নিতে কোন সমস্যাই নাই যে যতদুর জানি তাতে আমার মনে হয়, স্রষ্টা শুন্য আয়তন এবং অসীম ভরের একটা বস্তুর বিস্ফোরনের মাধ্যমে বিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন। এখানে বিজ্ঞান এবং আস্তিকতা কিন্তু সহায়ক ভুমিকা পালন করেছে। বিজ্ঞান যে অংশটুকুকে তার ডোমেইনের বাইরে মনে করে, যেমন এই শুন্য আয়তনের অসীম ভরের বস্তুটা কোথা থেকে এলো, আস্তিকতা তার একটা উত্তর দিচ্ছে। তবে এই ব্যাক্ষাই যে সঠিক তা যেহেতু জানা নেই, তাই নতুন উত্তরের সন্ধান চলতেই থাকবে। ধরুন, কিছু দিন পর নতুন একটা তত্ব এলো সৃষ্টি রহস্য ব্যাক্ষার। আস্তিকতা কি এতে সঙ্কটে পড়বে? অবশ্যই না, কারন তখন একজন আস্তিক ভাববেন, আমি আগে মনে করতাম স্রষ্টা মহাবিশ্ব এভাবে সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এভাবে না, তিনি সম্ভবত সৃষ্টি করেছেন ওভাবে।

এবার আরেকটা দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। বিজ্ঞানের সব থিওরীই কি একজন আস্তিক মেনে নিতে বাধ্য? উত্তর হচ্ছে না। কারন স্রষ্টায় বিশ্বাসের কারনে একজন আস্তিকের ব্যাক্ষা খোজার ফ্লেক্সিবিলিটি অনেক বেশি থাকে। একটা উদাহরন নিয়ে আলোচনা করি, তা হলো বিবর্তনবাদ।

বিবর্তনবাদের কথা হলো পৃথিবীতে প্রথমে এলো এককোষী প্রানী। এরপর সেখান থেকে বহুকোষী এবং নিজেকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টায় বিবর্তিত হয়ে অনেক স্পেসিস তৈরী হল। এরপর সারভাইভ্যাল অব দ্যা ফিটেস্ট এই নীতিতে যারা দূর্বল তারা বিলুপ্ত হলো আর যারা সবল তারা টিকে রইলো। বিবর্তনবাদ সম্ভবত বিজ্ঞানের সবচেয়ে ঘোলাটে তত্বগুলোর মধ্যে একটা। তারপরেও এটা গ্রহনযোগ্য বলে স্বীকৃত। তার কারন বিবর্তনবাদের পক্ষে যুক্তির জোর নয়, বরং এর পরিবর্তে অন্য কোন তত্বের অনুপস্হিতি।

একজন আস্তিকের কাছে এটার অন্য ব্যাক্ষা থাকতে পারে। একটা ব্যাক্ষা হতে পারে এরকম। স্রষ্টা মানুষকে মানুষ, বানরকে বানর, এককোষী প্রানীগুলোকে এক কোষী প্রানী হিসেবেই তৈরী করেছেন। তবে সবগুলো স্পেসিসকে তিনি একই সময়ে পৃথিবীতে পাঠাননি, কারন আমরা যতখানি জানি তা অনুসারে পৃথিবীর অবস্হার পরিবর্তন হয়েছে এবং হচ্ছে। স্রষ্টা তখনই একটা স্পেসিসকে পাঠিয়েছেন, যখন পৃথিবীতে তার টিকে থাকার অবস্হা তৈরী হয়েছে। সারভাইভ্যাল অব দ্যা ফিটেস্ট খুব যৌক্তিক একটা কথা, তাই এইসব স্পেসিসের মধ্যে তারাই টিকে রইলো যারা বেশি ফিট।

এখন দেখা যাক বিবর্তনবাদের পক্ষের যুক্তিগুলো এই তত্বকে সমর্থন বা বিরোধিতা করে কিনা। বিবর্তনবাদের প্রমান মুলত ফসিল। আমরা যেসব প্রজাতির প্রানী দেখি তার কাছাকাছি বা মধ্যবর্তী প্রজাতির প্রানীর ফসিল আমরা খুজে পাই। সেখান থেকেই ব্যাক্ষা দাড় করানো হয় যে এভাবে একটা প্রজাতি থেকে কাছাকাছি রকম বেশ কটা প্রজাতি হয়েছে এবং এর মধ্যে যেটা সবচেয়ে ফিট তারাই টিকে রয়েছে। এখন এই কাছাকাছি প্রজাতি বা মধ্যবর্তী প্রজাতির প্রানীগুলো বিবর্তনের ফসল না হয়ে কিন্তু স্বতন্ত্রও হতে পারে। তাদের মধ্যে খুব মিল থাকা বেশ স্বাভাবিক কারন তাদের উৎস একই। এক্ষেত্রে ফসিলগুলো কিন্তু প্রানের বিকাশের স্রষ্টাকে মেনে নিয়ে দেয়া তত্বের বিরোধিতা করছে না। কারন সারভাইভ্যাল অব দ্যা ফিটেস্ট এর ব্যাপারে কারোরই দ্বিমত নেই।

একটা উদাহরন দেয়া যাক। ডারউইনের কাছ থেকেই উদাহরনটা ধার করি। লম্বা গলা এবং খাটো গলার জিরাফের উদাহরন। ডারউইনের তত্ব বলছে লম্বা গলার জিরাফগুলো তাদের গলার কারনে বেশি উচু থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারতো। খাটো গলার জিরাফগুলো তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় না পেরে বিলুপ্ত হয়ে গেল। এখন অন্য কোন প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়ে খাটো এবং লম্বা দুধরনের জিরাফ তৈরী হয়েছে তা কিন্তু নাই হতে পারে। এমন তো হতেই পারে যে স্রষ্টা লম্বা, খাটো দু'ধরনের জিরাফই তৈরী করেছেন এবং এদের যখন পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাদের শারিরীক গঠনের উপযোগিতা ছিল। পৃথিবী বদলে যাওয়ার সাথে সাথে তাদের কেউ কেউ উপযোগিতা হারিয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

প্রানের বিকাশের ব্যাপারে এটাই সঠিক তত্ব আর বিবর্তনবাদ ভুল তা বলছি না। কিন্তু এই তত্বটা এখানে বলার কারন একটা নতুন ডাইমেনশনের কথা বলা। এই ধরনের কোন তত্ব কি প্রচলিত বিজ্ঞানের ধারকরা গ্রহন করবেন? নির্দ্বিধায় বলা যায় করবেন না। কিন্তু তাতেই এটা ভুল প্রমান হয়ে যায় না। সেজন্য দেখতে হবে ইতিহাসের দিকে।

মধ্যযুগের ইউরোপে আমরা একটা চরমপন্হা দেখেছি। স্রষ্টার সাথে সম্পর্কহীন যেকোন তত্বই তখন অগ্রহনযোগ্য বলে ধরে নেয়া হতো। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আমরা কিছু সত্যের সন্ধান পেয়েছি। কিন্তু আমরা এখন আরেকটা চরমপন্হা বেছে নিয়েছি। তা হলো, স্রষ্টার সাথে সম্পর্কিত যে কোন কিছুই অগ্রহনযোগ্য। আসলে মধ্যপন্হাই হচ্ছে সর্বোত্তম। আমরা আশা করতে পারি হয়তো একটা সময় আসবে যখন স্রষ্টার কথা আছে বলেই বাতিলের খাতায় চলে যাবে না কোন তত্ব, কারন স্রষ্টায় বিশ্বাস অযৌক্তিক নয়। কিছু সত্যের সন্ধান পেতে অপেক্ষা করতে হবে সে সময় পর্যন্ত।

পাদটিকা: পোষ্টটা এমনিই অনেক বড় হয়ে গেছে। তাই ডিটেইলস অনেক ক্ষেত্রেই বাদ দিতে হয়েছে। মন্তব্য নিয়ে আলোচনায় তা উঠে আসবে আশা করছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28907808 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28907808 2009-02-07 07:47:56
দুইটা রিয়েল লাইফ জোকস : খানিকটা টেকি <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif" width="23" height="22" alt=":)" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" />
ক্যালিফোর্ণিয়ার ই্উনিভার্সিটি অব রিভারসাইডের একজন চাইনিজ ছাত্র গুগল থেকে সামার ইন্টার্ণশীপের ইন্টারভিউ এর ডাক পেয়েছে। তার ব্যাকগ্রাউন্ড ইলেকট্রিক্যাল এর কিন্তু এখন পি এইচ ডি করছে কম্পিউটার সায়েন্সে। বেচারার প্রোগ্রামিং সম্পর্কে জ্ঞান খুবই ভয়ঙ্কর।

ইন্টারভিউ এর এক পর্যায়ে ইন্টারভিউয়ার তাকে জিজ্ঞেস করলেন তার ফেভারিট ল্যাঙ্গুয়েজ কি? সে একটু অবাক হয়ে উত্তর দিল, চাইনিজ।

এরপর ইন্টারভিউয়ার আর তাকে ঘাটানোর সাহস করে নাই। ইন্টারভিউ শেষে সেই ছাত্রের মতামত, এমন সিলি কোশ্চেন করার মানে কি <img src=" style="border:0;" />? জানে আমি চাইনিজ, আবার জিগায় ফেভারিট ল্যাঙ্গুয়েজ কি।
<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />



দ্বিতীয়টা আমাদের দেশী জোকস। পড়ে অবশ্য ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত হতে পারেন।

বছর দুই/তিনেক আগের কথা। সরকার আনবিক শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রোগ্রামিং শেখানো হবে। ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে বাছাই করা হয়েছে সি।

প্রশিক্ষনের জন্য নির্বাচিত একজন কর্মকর্তার অভিমত, আমাদের যে A, B কিছু না শিখাইয়া সরাসরি C শিখাবে বলতেছে, আমরা কি পারবো? :-*<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28907419 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28907419 2009-02-06 09:22:50
নাস্তিকতার ইতিকথা এই পোস্টের ধারাবাহিকতায় ব্লগের নাস্তিকরা তাদের নাস্তিক হবার পেছনের কথা লিখে বেশ কিছু পোস্ট দিয়েছেন। আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে এগুলো পড়েছি, কারন নাস্তিকদের যুক্তিমনষ্কতার যে মিথ রয়েছে, তার বাস্তবতায় নাস্তিক হয়ে ওঠার পথটাকে আমি দেখতে চাইছিলাম। সত্যি কথা বলতে গেলে আমার ইচ্ছে পূরন হয়নি। সেই অপূর্ণতার কথা জানাতেই এই পোস্ট।

একজন মানুষ হঠাৎ করেই নাস্তিক হয়ে ওঠেন না। এটা বেশ দীর্ঘ একটা প্রক্রিয়া। অনেকে অবশ্য এই দীর্ঘ পথে না হেটে শর্টকাটে বেহেশত পাবার আস্তিকিয় পথের মতো জাতে ওঠার সরল পথ হিসেবে নাস্তিকতার বেশ ধরেন। তাদের কথা ভিন্ন এবং তারা আমার আগ্রহের বিষয়ও নন। আমি যতটা বুঝেছি, নাস্তিক হয়ে ওঠার ধাপ মূলত দুটো।

প্রথম ধাপ, ধর্মের অসারতার ধারনা। অনেক নাস্তিকই প্রাথমিক জীবনে বেশ ধার্মিক আবহে বেড়ে উঠেছেন। নামাজ-রোজা বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে একনিষ্ঠ ছিলেন অনেকেই। কিন্তু তারা যখন ধর্ম সম্পর্কে জানতে শুরু করলেন ধর্মে অনেক অসঙ্গতি তাদের চোখে ধরা পড়লো। এই অসঙ্গতিগুলো স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্নের জন্ম দিলো। এই প্রশ্নের উত্তর খোজার অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হয়নি। হয় তারা প্রশ্নগুলোর উত্তর খুজে পাননি অথবা আস্তিকেরা তাদের এই উত্তর খোজার প্রক্রিয়াটাকেই বারবার থামিয়ে দিতে চেয়েছে। ফলাফল যা হয়েছে তা হলো ধর্মের অসারতার ধারনা এবং ধর্ম বিদ্বেষ।

দ্বিতীয় ধাপ, স্রস্টার অস্তিত্বে সংশয়। এটা নাস্তিকতার খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সাথে কনফিউজিং একটা ধাপ। ব্লগের নাস্তিকেরা একটা কথায় বেশ জোর দিয়েছেন যে বিশ্বাসের প্রয়োজন কেবল আস্তিকের নাস্তিকের নয়। কিন্তু একজন নাস্তিকেরও একটা মুলনীতিত আস্হা থাকে। তা হলো যৌক্তিক প্রমাণ ছাড়া কোন কিছুকেই গ্রহন না করার ধারনা। এই মুলনীতির উপর দাড়িয়েই স্রস্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে সংশয়ের শুরু। স্রস্টার অস্তিত্ব যেহেতু প্রমানিত নয় এটাকে স্বাভাবিকভাবেই একজন নাস্তিক মেনে নেন না। এরপর নিজেকে করা কিছুর প্রশ্নের মাধ্যমে তার এই সংশয়ের ভিত আরো দৃঢ় হয়। স্রষ্টা যদি থেকেই থাকে তাহলে পৃথিবীতে এত অসমতা কি থাকতে পারতো? স্রষ্টা যদি থাকবেনই আর তার সৃষ্টিকে ভালোবাসবেনই, তাহলে মানুষের এতো কষ্ট কেন? নিজেকে স্রষ্টার জায়গায় বসিয়ে একজন নাস্তিক এইসব প্রশ্নের একটাই যৌক্তিক উত্তর খুজে পান - তা হলো না।

এ পর্যন্ত পথটা বেশ মসৃন। একজন নাস্তিক যদি এখানে এসে থেমে যান তাহলে তিনি কোন সঙ্কটে পড়েন না। কিন্তু তিনি যদি আরো একটু এগুতে চান তাহলে কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর তাকে খুজতে হয়। যেমন - মহাবিশ্বের সৃষ্টি বা প্রাণের উদ্ভব। এ পর্যায়ে যৌক্তিক উত্তর খুজতে তাকে বিজ্ঞানের শরনাপন্ন হতে হয়। কিন্তু একেবারে গোড়ায় গেলে বিজ্ঞান কেবল কিভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দেয়, কেন তার উত্তর দেয়না। মহাবিশ্বের সৃষ্টি বা প্রাণের বিকাশ নিয়ে বিজ্ঞানের বেশ কিছু থিওরী আছে। কিন্তু এই সব উত্তরই কতগুলো অপ্রমানিত ধারনার উপর দাড়ানো। প্রশ্ন উঠতে পারে বিজ্ঞানের ভিত্তিই যেখানে যুক্তি-প্রমাণ সেখানে বিজ্ঞান কি করে এইসব অপ্রমানিত ধারনার আশ্রয় নেয়? উত্তরটা খুবই সহজ, এইসব ধারনাগুলো মেনে নিলে সমাধানগুলোর একটা যৌক্তিক ব্যাক্ষা দাড় করানো যায়। এবং ব্যাক্ষা দেয়ার এই পদ্ধতি মোটেও অবৈজ্ঞানিক নয়।

এখন একজন নাস্তিকের দুটো পথ খোলা থাকে। এক, এইসব অপ্রমানিত ধারনা নির্ভর বৈজ্ঞানিক উত্তরকে অস্বীকার করা। সেক্ষেত্রে প্রশ্নগুলোর কোন সঠিক উত্তর তার জানা থাকে না এবং তিনি একজন আস্তিককে ভুল বা বিভ্রান্ত বলার অধিকার হারান। কারন ভুল একজনকে তখনি বলা যায় যখন সঠিক উত্তরটা জানা থাকে অথবা অন্যের উত্তরটা যে ভুল তার কোন প্রমান হাতে থাকে।

নাস্তিকের দ্বিতীয় পথটা হলো, এইসব বৈজ্ঞানিক উত্তরকে গ্রহন করে নেয়া। সেক্ষেত্রে একজন নাস্তিক তার মুলনীতি - প্রমান ছাড়া কোন কিছু গ্রহন না করা, তারই বিরোধিতা করেন। কনট্রাডিকশনের মধ্যে আর যাই হোক সত্য থাকতে পারে না।

পাদটিকা: আমার এই লেখায় অবশ্যই ভুল থাকতে পারে। এ ব্যাপারে ব্লগের নাস্তিকদের মন্তব্য আশা করছি আমি। আসলে তাদের মতামত জানার জন্যই এই লেখা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28906918 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28906918 2009-02-05 03:28:08
প্রবাসী ব্যাচেলরদের জন্য দর্শনধারী রেসিপি

আগের পর্ব - প্রবাসী ব্যাচেলরদের জন্য অতি সরল রেসিপি

এইবার মাছের একটা দর্শনধারী রেসিপি <img src=" style="border:0;" /> প্রবাসী এবং ব্যাচেলর হওয়ার পরেও কাউরে দাওয়াত খাওয়ানোর সখ মাথায় চাপলে এই রান্না করতে পারেন। এরপরে যদি দাওয়াত খাওয়াইতে খাওয়াইতে আপনার জান যায়, আমি দায়ী না <img src=" style="border:0;" />

প্রথমেই শর্টকাট দেই। দোকানে ব্রেডেড ফিস ফিলে পাওয়া যায় ঐটা কিনা আনবেন। বিদেশে পাইবেন শিওর, দেশে আগোরা-নন্দনে পাইতে পারেন। এই শর্টকাটের জন্যই এই রান্না বিদেশে করতে সুবিধা <img src=" style="border:0;" /> তবে এইটা না পাইলেও রেসিপি পড়া থামায়েন না, ঘুরা রাস্তা আছে। যারা ব্রেডেড ফিস ফিলে পাইছেন, তারা একটা প্যারা বাদ দিয়া চইলা যান <img src=" style="border:0;" />

মাছের টুকরা একটা বাটিতে নেন। এবার আদা, হলুদ, লবন দিয়া মাইখা রাইখা দেন কিছুক্ষন। এরপর কর্ণ ফ্লাওয়ার একটু ঘন কইরা গুলাইয়া তার মধ্য মাছের টুকরা ডুবায় নেন। এইবার টোস্ট বিস্কুটের গুড়া বা ব্রেড ক্রাম্বে গড়ায় নেন। ব্যাস হইয়া গেল আপনার ব্রেডেড ফিলে।

এখন মাছ ভাজতে হইব। ফ্রাই প্যানে তেল ঢালেন। তেল গরম হইলে মাছ তেলে ছাইড়া দেন। কয়েকমিনিট পড়ে উল্টায় দেন। দুই পিঠ উল্টায় পাল্টায় ভাজেন, খুব কড়া কইরা ভাইজেন না কিন্তু আবার। মাছের রং হাল্কা বাদামি হইলে উঠায় ফেলেন। বাটিতে পেপার ন্যাপকিন বিছাইয়া তার উপর রাখেন ভাজা মাছ। বাড়তি তেল একটু কমব। বিয়ার আগেই হার্টের অসুখ বাধায় বসা ভালো কাজ হইবো না <img src=" style="border:0;" />

এইবার ক্যাপসিক্যাম নেন কয়েক রঙের। লাল, সবুজ, হলুদ, কমলা যত রকম পারেন। ক্যাপসিক্যাম গুলারে টুকরা করেন ছবির মত কইরা। মোটামুটি দুইটা ক্যাপসিক্যাম পরিমান হইলেই হবে। এরপরে কড়াইতে তেল ঢালেন আবার। পেয়াজ কুচি দেন দেশী হইলে ৪-৫ টা, বিদেশী বড় হইলে একটাতেই চলব। পেয়াজ ভাজা হইলে (সাদাই থাকবে, বাদামি যেন না হয়) মসলা দেন। ব্যাচেলরের রেসিপির মসলা হইল ইচ্ছামত দেওয়ার জিনিস। হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা যা আছে সব একটু একটু কইরা দেন। না থাকলে একটুও চিন্তার কিছু নাই, যা নাই বাদ। এরপর কাটা ক্যাপসিক্যাম দেন। দুই টেবিল চামচ টমেটো পেস্ট পানির সাথে মিশাইয়া ঢাইলা দেন। লবন দেন আন্দাজমত, আন্দাজের উপর ভরসা না থাকলে একটু কম কইরাই দেন। এইবার এর মধ্যে দিয়া দেন ভাজা মাছ। ঢাকনা দিয়া রাইখা দেন দশ মিনিট। মাঝখানে ঢাকনা তুইলা লবন টেস্ট করেন। খুব অল্প ঝোল মত থাকবো। দশ মিনিট পরে চুলা বন্ধ, রান্না শেষ।

গেস্ট থাকলে পাতিল থেইকা বাটিতে ঢাইলা সার্ভ করতে পারেন। যদি রান্না ভালো না হয়, তাহইলে রইয়া যাইতে পারে। সেইটা বাটিতে ভইরা রাইখা দেন, কি আর করবেন পরে কষ্ট কইরা নিজেই খাইবেন <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28905105 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28905105 2009-02-01 09:29:01
শুভ্র দিনের গল্প

আজ ভোরে উঠে দেখি এক অপরূপ মূর্তি। খোদার প্যালেটে মনে হয় সাদা রঙ জমে গেছে অনেক। তাই তিনি ছড়িয়ে দিলেন স্প্রে করে। তুষার হয়ে তাই ঝরছে। জানালা দিয়ে দেখলাম ম্যাগনোলিয়ার পাতায় পুরু হয়ে বরফ জমা। বাড়ির পেছনে একচিলতে উঠোনটা সাদা হয়ে উঠেছে।

ভার্জিনিয়ার শীত রণরঙ্গিনী নয়, বরং কিছুটা লাজুকই। তাই সে তুষার ঝরায় খুব সঙ্কোচে। আগে দু'একদিন যাও ঝরেছে, পাছে কেউ দেখে ফেলে তাই কিছু সাদা হয়ে ওঠার আগেই মিলিয়ে গেছে। আজ তার লজ্জা ভাঙ্গলো, ঝরলো সারা দিন ধরে। কিন্তু ঝড়ো হাওয়া বইলো না একরত্তি।

ক্লাস ছিলো। তাই ঘরে বসে আয়েশ করে বরফ ঝরা দেখা সইলো না। বঙ্গ থেকে কেনা আইস জ্যাকেট গায়ে চড়িয়ে বেরুলাম। কয়েক ইঞ্চি তুষার ভেঙ্গে চললাম বাস ধরতে। রাস্তার বরফ পরিষ্কার করলেও গলির ফুটপাথের বরফ সরাতে কেউ গা করেনি। পুরু জ্যাকেটের ওমে এক নিমিষে অনেকবার পড়া একটা কবিতার নতুন রূপ স্পষ্ট হলো - হে বঙ্গ, ভান্ডারে তব বিবিধ রতন। ভাগ্যিস, সুবোধ আমি অবহেলা করিনি।

পথ চলতে চলতে দেখলাম শুভ্র দিনের এক অনন্য সৌন্দর্য। গাছগুলো পাতা হারিয়েছে অনেক আগেই। তুষার সাদা চাদর জড়িয়ে শীর্ণ ডালপালা ছড়িয়ে যেন গেছোভুত হয়ে দাড়িয়ে আছে। কিছু চিরসবুজ গাছে পাতা আছে, কিন্তু বরফের ভারে তাও নুয়ে পড়েছে। বাড়িগুলোকে লাগছে কেকের মত। দু ইঞ্চি পুরু আইসিং নিয়ে সেজে বসে আছে। সবুজ ঘাস চোখে পড়েনা, সব ঢেকে গেছে সাদার আড়ালে। মাঝে রাস্তাগুলোতে বরফ নেই। সব সাদার মাঝখানে রাস্তাগুলোর দখল নিয়ে কালো সাদার লড়াই চলছে। আর ফুটপাথ দিয়ে আমি হেটে চলেছি চরন চিহ্ন একে দিয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28903345 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28903345 2009-01-28 09:44:48
আমার ভাতিজি
আমার ভাতিজি আরিয়ানা। আমি ওর একমাত্র চাচা, আর আমার একটাই ভাতিজি। ওর জন্ম আমি আমেরিকায় আসার একমাস পর। তাই এখনো ওর মুখ দেখা হয়নি। ওকে দেখি কেবল ওয়েবক্যামে আর ছবিতে। আর আধো আধো বোল শুনি ফোনে আর মেসেন্জারে।

প্রথম দিকে যখন মেসেন্জারে কথা শুনতে পেতো, কিন্তু মানুষটাকে দেখতে পেতো না, কেদে ফেলতো। এখন অনেকটা বুঝতে শিখেছে। কথা বলতে শেখেনি, তাই তার নিজের ভাষায় আ--উ করে কথা বলে। ওর এই আধো আধো কথা শুনতে কী যে ভালো লাগে।

ভাতিজিটাকে খুব মিস করি। দেশে থাকলে ওকে ঘিরে কত আনন্দই না করতে পারতাম। আবার দেশে যেতে যেতে সে কথা বলতে শিখবে, হাটতে-দৌড়াতেও পারবে। ইস, আরো কত দেরি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28902940 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28902940 2009-01-27 11:18:16
বারাক ওবামার ইনঅগারেশন
ওবামা তার নির্বাচনী প্রচারনার সময় টেকনোলজির খুব ভালো ব্যবহার করেছিলেন। তার নির্বাচনী তহবিলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ সংগৃহীত হয়েছিল অনলাইনে সাধারন মানুষের দানে। নির্বাচিত হওয়ার পরেও ওবামা তার সরকারের নীতি নির্ধারনে সাধারন মানুষের মতামত নিচ্ছেন অনলাইনে। ওবামার প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট সাইটে অর্থনীতি, শিক্ষা, পররাষ্ট্র, জ্বালানি সব বিষয়ে খোলাখুলি মতামত নিচ্ছেন সাধারন মানুষের। এই ওয়েবসাইটের একটি অন্যতম আলোচিত ইস্যু আমেরিকা-ইসরায়েল সম্পর্ক। অনেক মন্তব্যকারীই ইসরায়েলকে করা আমেরিকার সাহায্য পূনঃবিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সবমিলিয়ে দায়িত্ব নেয়ার জন্য ওবামা বেশ ভালোই হোমওয়ার্ক সেরেছেন বলে মনে হচ্ছে। ওবামা আদর্শ হিসেবে তুলে ধরছেন লিংকন আর মার্টিন লুথার কিংকে। ওবামা ডেমোক্রেটদের কনভেনশনে ভাষন দিয়েছিলেন ২৮শে অক্টোবর, যেদিন মার্টিন লুথার কিং তার বিখ্যাত আই হ্যাভ এ ড্রিম ভাষন দিয়েছিলেন। আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে ডিসিতে এসেছেন লিংকনের মত ফিলাডেলফিয়া থেকে রেলে চড়ে। আরো কিছু পরিবর্তন বা কৃচ্ছতার কথা বলেছেন ওবামা। যেমন, ডিসিতে সরকারি উচ্চপদস্হদের আর বিলাসবহুল লিমুজিন ব্যবহার করতে দেখা যাবে না, তারা ব্যবহার করবেন লিংকন টাউন কার।

মার্টিন লুথার কিং এবং লিংকন দুজনেই নিহত হয়েছিলেন আততায়ীর হাতে। ওবামার ঝুকি আরেকটু বেশি। একেতো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মানেই সন্ত্রাসের আশঙ্কা। আবার আফ্রিকান-আমেরিকান হওয়াতে বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গদের হামলার ঝুকিও আছে। তাই, নিরাপত্তা প্রশ্নে বেশ কড়াকড়ি চলছে। ন্যাশনাল মলে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমাতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভার্জিনিয়া থেকে ডিসি অভিমুখী সব সেতু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাই যাতায়তের জন্য কেবল মেট্রো রেল আর বাসই ভরসা। এই নিয়ে কিছুটা অসুন্তষ্ট ভার্জিনিয়ার মানুষ। কিন্তু তাই বলে সুযোগ সন্ধানি ব্যবসা থেমে নেই। ইনঅগারেশনের জন্য হোটেল সব বুক হয়ে গেছে আগেই। এখন সুযোগ বুঝে অনেকেই বাসার একটা-দুটো রুম ভাড়া দিয়ে টাকা কামানোর ধান্দা করছেন। ভাড়াও হাঁকা হচ্ছে অনেক।

ডিসির আশেপাশের অনেক অফিস, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে এই উপলক্ষে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ডিসি অপেক্ষা করছে নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে পরিবর্তনের পথে যাত্রা শুরু করা ওবামা প্রতিশ্রুতির কতটা পূরন করতে পারেন তাই এখন দেখার বিষয়। কিন্তু প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্টের শাসনামল যে ঘটনাবহুল হবে তা বলাই যায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28899723 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28899723 2009-01-20 01:25:17
গাযায় আগ্রাসন : অন্য রকম কিছু কথা
আমেরিকায় মুসলিম কমিউনিটির মধ্যেও ক্ষোভের ঢেউ লেগেছে। বিক্ষোভ, মানবিক সাহায্য সংগ্রহ চলছে। আমি থাকি আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির খুব কাছে। স্বাভাবিক ভাবেই ডিসিতে বিক্ষোভ একটু বেশিই হয়। ইসরায়েলি দূতাবাস, ক্যাপিটাল, ন্যাশনাল মল বা হোয়াইট হাউসের সামনে প্রায়দিনই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। আমিও টেক্সট পাই এ ব্যাপারে। কিন্তু যাওয়া হয়নি কখনই।

আজ ছিল শুক্রবার। মসজিদ আমার বাসা থেকে খানিকটা দুরে। বাসে যেতে প্রায় ঘন্টাখানেক লেগে যায়। তাই যাওয়া হয় সপ্তাহে একদিনই। এখানে খুতবা হয় ইংরেজীতে। খুতবার বিষয়বস্তুও আমাদের দেশের মত হয়না। এখানে সবচেয়ে বেশি বলা হয় মুসলমানের চারিত্রিক বিষয় নিয়ে। আমার ধারনা কারনটা হচ্ছে আচরন বা চরিত্র দেখেই তো একজন অমুসলিম ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা পান।

গাযায় হামলার প্রেক্ষিতে আজকে আলোচনার বিষয় ছিল এ ব্যাপারে মুসলমানদের করনীয়। খতীব বললেন সমাধানের জন্য নিজেদের মধ্যে দেখতে। আর বললেন সবচেয়ে ভালো আমরা যা করতে পারি তা হলো দোয়া করা। বললেন আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মুসলমানদের অবনতির কারন, আর এইসব আগ্রাসনের ইতিহাস জানাতে। যেন তারা বর্তমান প্রজন্মের চেয়ে ভালো মুসলমান হতে পারে। সেই সাথে চরমপন্হা থেকে দূরে থাকার কথা বললেন। সবচেয়ে বেশি জোর দিলেন মুসলমানদের ঐক্যের ওপর। নামাজের পর বলা হল, আগামীকাল হোয়াইট হাউসের সামনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হবে।

ঐ মসজিদে জুমার জামাত হয় দুটো। আমি নামাজ পড়েছিলাম প্রথম জামাতে। কিছুটা হেটে এসে বাসে চড়তে হয়। ফিরতি পথে একজন গাড়ি থামিয়ে আমাকে ডাকলেন। জানতে চাইলেন, আচ্ছা এদিকে একটা মসজিদ আছে না? আমি বললাম এই রাস্তা ধরে একটু সামনে গেলেই পড়বে। চেহারা আর একসেন্টে মনে হলো উপমহাদেশের মুসলমানই হবেন। থ্যাংক ইউ এর জবাবে ওয়েলকাম জানিয়ে বিদায় নেয়ার মূহুর্তে আমাকে আবার থামালেন। বললেন, আচ্ছা এটা কাদের মসজিদ - সুন্নী না শিয়া মুসলমানদের?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28895389 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28895389 2009-01-10 09:14:35
ঢাকায় পাতাল রেল
ডিসিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আশপাশ থেকে কাজ করতে আসেন। আমেরিকায় প্রায় সবার গাড়ি থাকলেও ডিসিতে কাজের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক হচ্ছে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট। এর কারন ট্রাফিক জ্যাম এবং পার্কিং সমস্যা। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অনেকাংশেই মেট্রো রেল নির্ভর। এবং ডিসির অধিকাংশ জায়গায়ই মেট্রো স্টেশন থেকে হাটা দূরত্বে।

ঢাকায় ট্রাফিক জ্যাম অবশ্যই একটা বড় সমস্যা। এর সমাধানের জন্য বিচ্ছিন্নভাবে অনেক কিছু করা হয়েছে। রিকশা তুলে দেয়া, কিছু ফ্লাইওভার(!), ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে বিস্তর এক্সপেরিমেন্ট ইত্যাদি। ট্রাফিক আইন কঠোর প্রয়োগ করে এই সমস্যার কিছুটা উন্নতি সম্ভব, কিন্তু পুরোপুরি সমাধান অসম্ভব। আমি মনে করি পাতাল রেল অন্তত একশ বছরের জন্য এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান করতে পারে।

প্রথমে পাতাল রেল করার সুবিধাগুলো বলি। প্রথমত, যানজট কমে আসবে। একজন যাত্রী তার যাতায়তের সময়ের একটা নিশ্চিত প্রাক্কলন (এসটিমেট) করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, পাতাল রেল উন্নয়নকে ছড়িয়ে দেয়ার খুব কার্যকর একটা মাধ্যম। ধরুন, পূর্বাচল বা ঢাকার বাইরে একটা আবাসিক প্রকল্প বা বানিজ্যিক কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা হলো। এখন একটা রেল ব্যাবস্হা যা নিশ্চিত ভাবেই ৩০ মিনিট বা ১ ঘন্টায় সেখানে যাতায়তের ব্যাবস্হা করে দেবে, তখন সেখানে ব্যাক্তি উদ্যোক্তারাই বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। তৃতীয়ত, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যাবহারের প্রবনতা বাড়লে পরিবেশ দূষনও কমে আসবে অনেকখানি।

পাতাল রেল অবশ্যই একটা বিলিয়ন ডলার প্রজেক্ট হবে। এইটা বাংলাদেশের মত গরীব দেশে কতটা সম্ভব সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। আর ওয়াশিংটন ডিসিতে রাশ আওয়ারে ভাড়া হয় প্রায় ৪.৩৫ ডলার মানে প্রায় ৩০০ টাকা। যা বাংলাদেশের বাস্তবতায় ৫০ টাকার বেশি হতে পারবে না। এইসব বাস্তবতা মেনে নিয়েই বলতে হয়, যানজট নিরসনের জন্য পাতাল রেলের বিকল্প আসলে নাই। তাই এই সমস্যাগুলো কিভাবে কাটানো যায় তা নিয়েই ভাবা দরকার।

বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য উপায় হতে পারে বিল্ড এন্ড অপারেট। পাতাল রেল যেহেতু নিশ্চিতভাবেই আকর্ষণীয় এবং লাভজনক একটা প্রজেক্ট হবে এটা করতে বিদেশি বিনিয়োগকারী অথবা দেশীয় কোন কনসোর্টিয়াম আগ্রহী হতে পারে। আর পাতাল রেলকে জনপ্রিয় করার জন্য মতিঝিলের মত ব্যাস্ত জায়গাগুলোতে পার্কিং এক্সপেনসিভ (যেমন - ঘন্টায় ১০০ টাকা) করা যায়। এটা থেকে যেমন আয় বাড়বে, তেমনি ব্যাক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবনতাও কমবে।

আমি মনে করি এধরনের কাজে সরকারের আগ্রহ এবং উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সততা এবং দেশকে বদলে দেওয়ার জন্য সত্যিকার নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করলে ঢাকায় পাতাল রেল অসম্ভব কিছু নয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28895005 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28895005 2009-01-09 11:50:04
জুতো কাহিনী
২০০৮ এ এসে জুতোর দুঃখ ঘুচলো। গ্রীক রূপকথার পার্সিয়ূসের ডানাওয়ালা জুতো নয়, কিংবা গুপী-বাঘার জাদুর জুতোও নয়, স্রেফ একপাটি দশ নম্বরি জুতো বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মানুষটির বিদায় উপহার হয়ে উঠলো। এ ঘটনায় বিশ্বের সাধারন মানুষেরা খুবই উল্লসিত হয়েছে। তাদের চোখে সেই ইরাকি সাংবাদিক একজন বীর হয়ে উঠেছেন। হয়তো বুশের গায়ে আজীবন এই জুতো খাওয়া প্রেসিডেন্ট তকমাটা লেগে থাকবে। কখনো উদাস হলেই মনে হবে এই বুঝি আরেকটা দশ নম্বর উড়ে এলো তার দিকে। কিন্তু এই ঘটনায় আসলে লাভ হলো কার?

আমার মনে হয় এই ঘটনার সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি হচ্ছে আমেরিকা। রাইস তো এরই মধ্যে এই জুতো ছোড়াকে ইরাকি মিডিয়ার স্বাধীনতার নিদর্শন হিসেবে বয়ান করেছেন। হয়তো ইরাকি সাংবাদিকের বিচারের পর আমেরিকান হস্তক্ষেপে তাকে মুক্তি দিয়ে বিশ্বে স্বাধীন চিন্তা, মতামতের প্রধান প্রবক্তার ভাবমূর্তি পুনরোদ্ধারের প্রচেষ্টাও হতে পারে। আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট, এরপর জুতো ছোড়া সাংবাদিকের মুক্তি, আমেরিকার নিষ্পাপ হয়ে ওঠার রাস্তা অনেকটাই প্রশস্ত বলা চলে। তাহলে কি জুতো ছোড়া ঠিক হয়নি?

সত্যিকার অর্থে কোন লাভ হয়নি। বুশকে ভার্চুয়াল জুতো ছোড়ার কম্পিউটার গেম আগে থেকেই ছিল। সে অর্থে অনেক মানুষের ফ্যান্টাসী সত্য হওয়াকেই বলতে হয় লাভের অঙ্কে অর্জন। ইরাকের স্বাধীনতা বা সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন কোনটাই কমবে না এতে। আবার এই ঘটনায়, মুসলমানদের খুব ক্ষতি হয়ে যাবে, সন্ত্রাসীর তকমাটা গায়ে আরো সেটে বসবে, এমনটাও মনে হয়না। যেখানে ইরাকে রোজ আত্মঘাতি হামলায় মানুষ মারা যায় সেখানে জুতো ছোড়াকে সন্ত্রাসের আওতায় ফেলা যায়না। এটা স্রেফ ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে, যাতে সাধারন মানুষ কেবলি দর্শক।

সাংবাদিকরা এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। সাংবাদিকদের যে নিস্পৃহ, অনুভুতিহীন থাকার কথা এর মাধ্যমে অবশ্যই তা লঙ্ঘিত হয়েছে। কিন্তু এ থেকে সাংবাদিকরা প্রতিবাদের নতুন ভাষা খুজে নিতে পারেন। আমার মনে পড়ে ৯০ এর গনআন্দোলনের সময় সরকার যখন সংবাদপত্রে নিয়ন্ত্রন আরোপ করলো, তখন পত্রিকাগুলো প্রথম পাতায় কালো বর্ডারে একটা খালি জায়গা রেখে দিত। এটা নির্দেশ করতো এখানে যে খবর থাকার কথা ছিল সরকার তা ছাপতে দেয়নি। এখন সাংবাদিকরা ঘৃণা প্রকাশ করতে জুতো খুলে সংবাদ সম্মেলনে যেতে পারেন। এটা বুঝিয়ে দেয়া যে জুতো পায়ে থাকলে ছুড়ে মারতাম। যুদ্ধাপরাধীদের সাথে এইটুকু সাহস সাংবাদিকরা দেখাতেই পারেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28884195 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28884195 2008-12-18 09:36:01
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গনহত্যার একটি ভিডিও


এইসব খুনী এবং তার দোসরদের বিচার হতেই হবে।

ভিডিওটি করেছিলেন ডঃ নুরুল উলা। উনি মারা গেছেন, তবে উনার সেই ভিডিও ক্যাসেটটি উনার ভাগ্নের কাছে আছে। সেসময় উনি মাত্র বিদেশ থেকে ফিরেছিলেন, আর সদ্য বাজারে আসা ক্যামকর্ডার ও ভিডিও রেকর্ডার কিনে এনেছিলেন। সম্ভবত পিটিভির বাইরে দেশে একটাই ভিডিও সিস্টেম ছিলো তখন। [তথ্যসূত্র: রাগিব ভাই]

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28882141 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28882141 2008-12-14 10:45:24
প্রবাসী ব্যাচেলরদের জন্য অতি সরল রেসিপি
প্রথমে এক কেজি গরুর মাংস (হাড় ছাড়া) নেন। ব্যাচেলর আর প্রবাসী হইলে কুরবানির গোশত কপালে নাই, তাই দোকানের মাংসেই চলব। ফ্রিজে থাকলে কতক্ষন ফালায় রাইখা বরফ দুর করেন। এরপর মনের সব রাগ গোশতের উপর ঢাইলা ইচ্ছা মত টুকরা টুকরা করেন <img src=(" style="border:0;" /> যত বেশি রাগ, তত ছোট টুকরা।

এরপর মাংসের টুকরা একটা বড় বাটিতে (কড়াই, পাতিল যা আছে একটা হইলেই হবে) নেন। এইবার ঘরে যা মসলা আছে সব নিয়া আসেন। যা নাই তা নিয়া চিন্তার কিছু নাই। ব্যাচেলারের ঘরে বেশি কিছু থাকবো না, এইটাই নিয়ম। আদা, রসুন, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা, গরম মসলা যা আছে একটু একটু কইরা দিয়া দেন। যা নাই বাদ, কিছু কম বেশি দিলে আসে যায় না। এই বার লবন দেন - লবন একটু সাবধানে দিয়েন, এইটা কমবেশি হইলে খাইতে ঝামেলা হইয়া যাইতে পারে। এইবার ভিনেগার দেন ২-৩ টেবিল চামচ। এরপরে সয়াসস থাকলে সয়াসস দেন ১-২ টেবিল চামচ। এরপরে একটু টক দই দেন। এইবার মাইখা রাইখা দেন দুই ঘন্টা। এর মধ্যে স্টুডেন্টরা পরীক্ষার পড়া পড়েন, অন্যরা ব্লগে ঘুরাঘুরি করেন।

এরপরে এইটারে চুলার উপরে বসান। চুলা অন করতে ভুইলেন না। পানি দেওয়া লাগবো না, গরুর মাংস থেইকা বহুত পানি বাইর হইবো। গরু খুব অভিজ্ঞ না হইলে ৪৫ মিনিটেই সিদ্ধ হইয়া যাইবো। না হইলে আরো কতক্ষণ রাখেন। এরপর ফ্রাই প্যানে তেল ঢালেন। তেল একটু গরম হইলে পেয়াজ কুচি দেন। পেয়াজ কিছুক্ষন নাড়াচাড়া কইরা, মাংস ঝোল সহ ঢাইলা দেন। মাংস একটু নাড়াচাড়া করেন। একটু চিনি দিতে পারেন। সুইট এন্ড সোর একটা টেস্ট আসবো। এরপরে ঢাইকা রাখেন পাচ মিনিট। রান্না শেষ, চুলা বন্ধ।

ব্যাচেলর মানুষ, পরিবেশনের কোন চিন্তা নাই। যতদুর পারেন খান। বাকিটা প্লাস্টিকের বাটিতে ভইরা রাইখা দেন, পরে খাইতে পারবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28880403 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28880403 2008-12-09 07:01:51
গরু সমাচার
একবার আমরা গরু কিনলাম একমাস আগে। বাবার এক কলিগ ছিলেন, উনি আগে আগে গরু কেনার পাগল। ওনার উৎসাহেই এই ব্যাবস্হা। কাছের এক দুধওয়ালাকে দেয়া হলো গরু পালতে। প্রথম রাতেই গরুওয়ালা এসে খবর দিল দড়ি ছিড়ে গরু পালিয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেই বাবা বের হলেন খুজতে। দুধ ওয়ালার লোকজন তো খুজছেই। সারা রাত গরুটাকে গরু খোজা খুজেও পাওয়া গেল না <img src=" style="border:0;" /> একটা জঙ্গল মতো ছিল। ওখানে নাকি একটা গরু দেখা গেছে। অনেক দৌড়াদৌড়ি। তাও কপাল ভালো পাওয়া তো গেল।

নেড়া বেলতলায় যায় একবারই। কিন্তু ঐ একবারেই কয়টা বেল পড়ে মাথায় প্রবাদে তা বলা নাই। আমাদের মাথায় পড়ল দ্বিতীয় বেল। কদিন পরে গরুটার হলো খুরারোগ। আবার নতুন যন্ত্রণা। কলাপাতায় বেধে ওষুধ খাওয়াতে হতো। সেবার ভুগে ডিসিশন হলো এতো আগে গরু কেনা আর না।

সেই শিক্ষা মনে রেখে অনেক বছর ভালো ছিলাম। গরু কিনি, কদিন পুষি (সপ্তাহ খানেক), কুরবানি দেই। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা মনে রাখলে পৃথিবীর ইতিহাসটাই অন্যরকম হতো। আমরাও শিক্ষা ভুললাম ২০০৩ এ এসে। তখন আমরা ঢাকায়। বাবা-মা হজ্জ্বে গেছেন। কুরবানীতে আমাদের পার্টনার বাবার সেই কলিগ। বাবা নাই, ওনাকে আর ঠেকায় কে। ব্যাস গরু কেনা হলো ২০-২৫ দিন আগে। যথারীতি গরু খুরারোগে পড়লো। গরু কষ্ট করে হাটে, মুখে ঘা হলো খেতে পারে না ঠিকমতো। মহাখালি পশু হাসপাতালের ডাক্তার এনে দেখানো হলো। ইনজেকশন, ওষুধ আর মলম। প্রতিদিন গরুর দাতের মাড়িতে মলম লাগাতে হতো। আমার ভাগে পড়লো গরুর মাথা ধরে রাখা। শক্ত করে ধরে রাখতাম আর কাজের ছেলেটা মলম লাগাতো। সেবা যত্নে সুস্হ হয়ে উঠেছিল খুব তাড়াতাড়ি। কিন্তু এ কদিনে মায়া পড়ে গিয়েছিল গরুটার উপর। দুইবার ভুগে খুরা রোগের চিকিৎসা নিয়ে ভালো জ্ঞান হয়েছে, কিন্তু মুশকিল হলো গরুর এই রোগ আছে কিনা দেখে বুঝতে পারি না এখনো।

শেষ কাহিনী ২০০৫ এ। বাবা তখন এল পি আরে। বাবার ব্যাচমেট একজন ধরলেন এবারই তো শেষ তাই কুরবানি একসাথে দিতে হবে। যাই হোক, এবার আর গরু বেশি আগে কেনা হলো না। গরু কিনলাম নিকুন্জ-১ এর হাট থেকে। গরু আনার দায়িত্ব দুইজনকে দিয়ে আমরা ফেরত আসলাম। অনেকক্ষণ পরে খবর পেলাম গরু পালিয়েছে। ক্যান্টনমেন্টের সেন্ট্রিদের জিজ্ঞেস করে গরুকে ট্র্যাক করা হলো। পাওয়া গেল সি এম এইচ এর পাশে একদল গরুর সাথে। ওখানকার গরুর মালিকরা ওটাকে পেয়ে একটা গাছের সাথে বেধে রেখেছে। এবার আবার ফেরত যাওয়ার পালা। হিরোজ লিভ ফরএভার লেখা গেটের কাছে আসতেই, গেটের এম পি (মিলিটারি পুলিশ) বলছে এই গেট দিয়ে গরু নিয়ে যাওয়া যাবে না (ভি আই পি গেট কিনা!)। ঈদে আবার গরুর চেয়ে বড় ভি আই পি আছে নাকি। এম পির হাতের লাল সিগন্যাল লাইট দেখে গরু আবার খেপলো। দুজনে মিলেও ধরে রাখতে পারলো না। গরু ছুটে গেল সিএমএইচের কাছে। শেষ পর্যন্ত গাড়িতে করে গরু বাসায় আনতে হলো।

২০০৬ এর ঈদ থেকে আমার গরু কেনা শুরু। বাসা শিফট হলো। বাসার কাছেই চানখার পুল হাট। ওখান থেকেই গরু কিনতাম। তবে ভুগতে হয়নি আর। এবার আছি বিদেশে। বাসা থেকে বলেছে, গরু কেনা হলে ছবি পাঠাবে। এবার ঈদ করবো গরুর ছবি দেখে <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28879896 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahaque/28879896 2008-12-08 02:02:26