কোন জায়গাটি খারাপ, তা বলা কঠিন। অথবা ধরুন আপনি তা বলতে চান না, তবে এটি ঠিক যে আপনি আপনার চাকরিটি সহ্যই করতে পারছেন না। কিন্তু, আমাদের ভিতর কয়জন আছেন যাঁরা আরেকটি চাকরি না পেয়ে বর্তমানটি ছেড়ে দিতে পারেন?
অপছন্দের চাকরি চালিয়ে যাওয়া কখনই সহজ নয়, কিন্তু যতদিন ভালো আরেকটি না পাচ্ছেন, রুটি-রুজির ধান্ধায় আপনাকে হাসিমুখে একাজটিই চালিয়ে যেতে হবে। এরকম পরিস্থিতিতে দিন-গুজরানের কিছু উপায় এখানে বলে দেওয়া হল:
নিজের জন্য সাপ্তাহিক লক্ষ্য ঠিক করুন।
অফিস সময়ের শেষে আপনার প্রাপ্তি হিসাব করুন। চাকরি যত খারাপই লাগুক, সবসময়ই কিছু না কিছু ভালো দিক থাকেই যা আপনাকে স্বস্তি দেয়। সেই সুবর্ণ সুযোগ খোঁজার সাপ্তাহিক লক্ষ্য ঠিক করুন। কোনো সপ্তাহে পাঁচটি রিজিউমি পাঠাতে পারেন বা সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। এই ধরনের কিছু লক্ষ্য স্থির করলে আপনি করার মত কিছু পাবেন।
প্রতিদিন একটি কাজ করুন যা আপনার লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করে।
তালিকায় থাকা সকল লক্ষ্যে একদিনেই পৌঁছতে হবে এমন নয়, কিন্তু আপনি প্রতিদিন একটু একটু করে এগোতে পারেন। প্রতিদিন সকালে আজকের লক্ষ্য ঠিক করুন আর তা যেন অর্জিত হয় তা নিশ্চিত করুন। এতে আপনি সাফল্যের স্বাদ পাবেন আর অগ্রগতির দিকেও নজর থাকবে।
কাজ শুরুর পূর্বে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন।
অপছন্দের কাজটি ভয়াবহ হয় যখন আপনি তাড়াহুড়ো করে দেহ-মনে ক্লান্তি নিয়ে বিশৃংখল অবস্থায় অফিস পৌঁছান। অফিস সময়ের একটু আগেই অফিসে পৌঁছে নিজেকে একটু সময় দিন। চুল, পোষাক গুছিয়ে নিন। এতে আপনি আজকের সম্ভাব্য কর্তব্যগুলি মনে মনে বা কাগজে গুছিয়ে নিতে পারবেন।
আপনার সকালটি উৎসবে পরিণত করুন।
সকালে একটু আগে উঠুন যাতে পত্রিকা পড়তে পারেন, বা মন চাঙ্গা করে এমন গান শুনে ঘুম থেকে উঠুন। একটা ভালো সূচনা বাকি দিনের জন্য ম্যাজিকের মত কাজ করে।
অফিসে বৈচিত্র্য আনুন।
অফিসে এলে কি আপনার বাইরে যেতে ইচ্ছে করে? অবিরাম ফোন কলে কি আপনি পাগল? মনকে চাঙ্গা করতে কিছু করুন। স্ক্রিন সেভার হিসাবে সুন্দর একটি প্রাকৃতিক ছবি রাখুন। "জোক অফ দি ডে" ডেস্ক ক্যালেন্ডার কিনে অফিসে রাখুন। অবসরে হেড ফোন দিয়ে দু'একটি গান শুনুন। কোনো কোনো দুপুরে লাঞ্চ করতে বাইরে যান।
অবসর সময়ে দক্ষতা বাড়ান।
আপনার বর্তমান কাজ অপছন্দ বলে যে নতুন কিছু শিখতে পারবেন না এমন কোনো কথা তো নেই। চাকরির বাজারে নিজেকে উপযুক্ত করতে অবসরের মুহুর্তগুলি কাজে লাগান। কোম্পানীতে কোনো ট্রেইনিং এর সুযোগ এলে তার সদ্ব্যবহার করুন। কম্পিউটারে নতুন কিছু শিখুন। লাঞ্চ বিরতিতে ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্টের উপর কোনো বই পড়ুন। বর্তমান কাজটিকে আত্ম-উন্নয়নের সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করুন।
কিছু বাষ্প বের করে দিন।
বেশিরভাগ মানুষই টেনসন থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন রকম কর্মকাণ্ড করেন। কাজের শেষে দৌড়ান। সপ্তাহান্তে সাঁতার কাটুন বা গ্রামের রাস্তায় দীর্ঘ পথ হাঁটুন।
নিজের দিকে তাকান।
অফিসের দুর্দশা কাটাতে, নিজের দিকে মনযোগ দিন। পড়ার জন্য একটি ভালো বই কিনুন। একটি আইস ক্রিম খেতে বা কিছু ফুল কিনতে পারেন। নতুন ইন্টারভিউ এর জন্য পোষাক কিনুন। পরবর্তি ছুটিতে কী করবেন তার পরিকল্পনা করুন। বাইরে যা-ই ঘটুক, আপনার ভিতরটি তাজা রাখুন।
আপনার পার্ফরমেন্স ধরে রাখুন।
আপনার বর্তমান অবস্থান যা-ই হোক, কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং এতে ভালো করা জরুরি। ব্যক্তিগত পার্ফরমেন্স লক্ষ্য সেট করুন। পরবর্তি ইন্টারভিউ-এ এ কাজের সাফল্যগুলি তুলে ধরুন।
আপনার সম্পর্কগুলি ঠিক রাখুন।
পৃথিবীটা খুবই ছোট আর আপনি জানেন না বর্তমানের কোন সহকর্মীর সঙ্গে আপনাকে ভবিষ্যতে কাজ করতে হবে। কাজ নিয়ে অসন্তুষ্ট বলে কোনো সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করবেন না। সকলের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রক্ষা করে চলুন। ভবিষ্যতে কোনো সহকর্মীর কাছ থেকে আপনার একটি সুপারিশের বা ভালো মন্তব্যের প্রয়োজন হতে পারে।
এ বিপদও কেটে যাবে।
ঠিক এ মুহুর্তে, আপনার মনে হতে পারে যে আপনি বুঝি এই কাজে চিরকালের জন্য আটকে গেছেন। মাথা উঁচু রাখুন আর মনে রাখুন যে আপনি নিজেই আপনার ভাগ্য নির্মাতা। অভ্যন্তরীন নতুন পদে পদায়ন পাওয়া যায় কিনা দেখুন। বাইরেও নতুন কাজের সন্ধান এখনই শুরু করুন।
(এম এস এন অবলম্বনে)
অপছন্দের চাকরি – মানিয়ে চলবেন কীভাবে ("Career Building: Your Total Handbook for Finding a Job and Making It Work" থেকে উদ্ধৃতির অনুবাদ)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এমন কেন?
একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।
শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।