আমার প্রিয় পোস্ট

ভস্ম হই। মৃত্যুর চুমু আমার কপোল ছুঁয়ে যায়। বেঁচে উঠি আবার। নতুন দিনের আশায়। বেঁচে উঠি বারবার।

ওয়ালমার্ট - চরম পুজিঁবাদের অনন্য উদাহরন

১৫ ই জুন, ২০০৬ ভোর ৫:৪৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

ওয়ালমার্ট হচ্ছে আমেরিকার খুচরা জিনিস পত্রের একটি দোকান বা দোকান সমষ্টি মিলে একটি কোম্পানী। স্যাম ওয়ালটন কতর্ৃক 1962 তে স্থাপিত এই কোম্পানী এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে খুচরো জিনিসপত্রের সবচে বড় ব্যাপারী। সহজ কথায় বলতে গেলে ক্যাশ বা তরল টাকার মাপে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতী তেল কোম্পানী গুলোর দাপট বাড়ার আগে 2004 পর্যন্ত রেভিনিউয়ের হিসাবে এটি ছিল সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। আরো বিস্তারিত পাবেন এখানে: http://en.wikipedia.org/wiki/Wal-Mart

এই উত্থানের পিছনে কি আছে? এত টাকা আসে কোথা থেকে? তার আগে আসুন সাধারন ব্যবহারকারী হিসেবে একটা খুচরো জিনিসপত্রের দোকান থেকে আপনার প্রত্যাশা কি কি সেটা নথিবদ্ধ করা যাক:

1। জিনিসপত্রের দাম সস্তা হতে হবে। নিশ্চিন্তে নির্ভর করা যাবে যে দাম যেটা পাব সেটা বাজারের সবচেয়ে কম দাম। এ দোকান ও দোকান ঘুরে যাচাই করবার প্রয়োজন পড়বে না।

2। সব জিনিস এক জায়গায় পাওয়া যাবে। একেকটা জিনিসের জন্য একেক জায়গায় যাওয়া লাগবে না।

3। হাতের কাছে থাকতে হবে। একটা জিনিস কিনতে শত শত মাইল পাড়ি দেবার মানে হয় না।

4। চবি্বশ ঘন্টা দোকান খোলা থাকতে হবে। যখন সুবিধা তখন গিয়ে শপিং করতে চাই।

5। কাস্টোমার সার্ভিস ভাল থাকতে হবে। জিনিস পত্র নষ্ট হলে ফিরত দিতে হবে।

6। জিনিস পত্র ভাল দিতে হবে। সস্তা জিনিসের পাশাপাশি দামী অপশনও রাখতে হবে।

ওয়ালমার্ট এই সবগুলো অপশন কাঁটায় কাঁটায় মিলিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। চীন, ইন্ডিয়া, তাইওয়ান এসব জায়গা থেকে সস্তায় প্রোডাক্ট বানিয়ে নিয়ে এসে নিশ্চিত করছে সবচেয়ে সস্তা দামের ব্যাপারটা। দুনিয়ার হেন প্রোডক্ট নেই যেটা ওয়ালমার্টে পাওয়া যায়না। আমেরিকার প্রায় প্রতি 50-100 মাইলে একটা করে ওয়ালমার্ট পাওয়া যাবে। সুতরাং চাইলেও চলে যাওয়া যায় ওয়ালমার্টে। চবি্বশ ঘন্টা খোলা থাকে তাই যাওয়া যায় যখন তখন। সার্ভিস তাদের মোটামুটি ভাল বলা যায়। আর জিনিস পত্রের ক্ষেত্রে ভাল জিনিস কেনার অপশনটা আপনার থাকে।

তাহলে ওয়ালমার্টের প্রতি সবাই এত ক্ষ্যাপা কেন? কেন নিউইর্য়কে ওয়ালমার্টের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে?

আয়তনে মাইল খানেক লম্বা একেকটা ওয়ালমার্ট যখন প্রতিষ্ঠা করা হয় কোন একটা এলাকায় তখন সে এলাকার ব্যবসায়ীদের কান্নাকাটি লেগে যায়। কেননা আর কেও তো তখন ওয়ালমার্ট ছেড়ে তাদের দোকানে আসবে না। ওয়ালমার্টের সাথে পাল্লা দেয়াও তো চাট্টিখানি কথা নয়। বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সবচেয়ে কম দামে জিনিস দিতে পারে তারা। ছোট্ট দোকান টিকবে কি করে?

বাইরে থেকে জিনিস পত্র তৈরী করিয়ে নিয়ে এসে ওয়ালমার্ট আমেরিকা থেকে সব কাজ বাইরে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। কমছে কাজ, কমছে শ্রমের দাম।

দাম কমাতে গিয়ে তাদের ছাঁটতে হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন মাত্রা। শুনেছি এখানকার শ্রমিকরা ওয়েল পেইড নয়।

অতি সস্তায় জিনিস দিতে গিয়ে কিন্তু জিনিস পত্রের গুনগত মান একেবারে যাচ্ছেতাই হয়ে যাচ্ছে। দশটা জিনিস কিনলে দুটা খারাপ জিনিস বদলাতে আবার যেতে হয় ওয়ালমার্ট। আর একারনে একটু সচ্ছল যারা তারা বেশ অপচ্ছন্দই করেন ওয়ালমার্টকে।

এভাবে ওয়ালমার্ট গরীবদের নিম্নমানের জিনিস গছিয়ে দিয়ে হচ্ছে টাকার পাহাড় আর আমেরিকাকে করছে কৃত্রিম ভাবে অপরের উপর নির্ভরশীল।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরিআমেরিকা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

 

  • ৪ টি মন্তব্য
  • ৬০৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৫ ই জুন, ২০০৬ দুপুর ২:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: ব্রিটেনে ওয়াল মার্ট নেই। ওত বড় সুপারমার্কেটও নেই। তবে এখানে ওয়ালমার্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আছে ।নাম ASDA। তবে আজডার চেয়ে টেসকো চলে বেশি। এছাড়া সেইনসবারি, মরিসন, সমারফিলডও চলে ভালো।

আপনি যেরকম করে বিরোধ ও দ্্বন্দ্বের কথা বললেন তা এখানে স্পষ্ট নয়। তবে ছোট কর্ণার শপের মালিকরা প্রায়ই আপত্তি জানায়। তবে চেইনিং স্ট্রাটেজি নিয়ে এরকম ছোট দোকানের মালিকরাও এখন নিজেদেরকে একটা ব্র্যান্ডের আওতায় আনছে।
২. ১৫ ই জুন, ২০০৬ রাত ১১:০৬
comment by: অরূপ বলেছেন: কি মিয়া খবর কি?
৩. ১৬ ই জুন, ২০০৬ রাত ১২:০৬
comment by: হযবরল বলেছেন: ওয়াল মর্াট অতি জঘন্য জায়গা। একটা জিনিস আমি ভাল দেখি নাই।
৪. ১৬ ই জুন, ২০০৬ রাত ১২:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: অরূপ ঘোরাঘুরি শেষ? পরবতর্ী লেখা কবে পাব?

 

 


আমার কোন লেখা কোথাও পুন: প্রকাশ করার আগে দয়াকরে যোগাযোগ করবেন। (মুর্শেদ@জিমেইল)
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ