ভস্ম হই। মৃত্যুর চুমু আমার কপোল ছুঁয়ে যায়। বেঁচে উঠি আবার। নতুন দিনের আশায়। বেঁচে উঠি বারবার।

হ্যাঁ আমিই রেসিস্ট
২৭ শে জুন, ২০০৬ রাত ৩:২৮
[এই লেখার কোন ঘটনা এবং চরিত্র মোটেও কাল্পনিক নয়। ঘটনাচক্রে কারো সাথে মিলে গেলে সেটা মোটেই কাকতালীয় হবে না।]
সেনারিও 1:
ইন্ডিয়ান ছেলে রাকেশ অনেক রাত করে বাড়ি ফিরছে। হঠাৎ করে একদল মাতাল মেয়ে তাকে ঘিরে ধরল। তাদের কথা হল চল আমাদের সাথে। রাকেশ বলল না না আমি দুঃখিত, আমার কাজ আছে। তখন আরেকটা বলল শোন আমার বুকে হাত দাও। রাকেশ আবার বলল দুঃখিত। একজন বলে উঠল, 'ফ... ইউ'।
সেনারিও 2:
গাগান একজন শিখ ছেলে। কিন্তু দাঁড়ি টাড়ি মিলিয়ে তাকে এক মুসলিমের চেয়ে কম মনে হয় না। প্রায়ই রাস্তা দিয়ে আসার সময় হুশ করে গাড়ী চালিয়ে চলে যায় কিছু পোলাপান, যেতে যেত শুনিয়ে যায় অমৃত বানী - 'ফ... ইউ'।
সেনারিও 3:
সুমন একটা গাড়ী কিনবে। ক্রেইগলিস্ট নামের একটা ওয়েবসাইট থেকে একটা গাড়ীর অফার দেখে ফোন করল। আমেরিকানটার সাথে একটা দুটা কথার পর গাড়ীর মাইলেজ কত জিজ্ঞেস করতেই 'হাই মাইলেজ' বলে ঠাস করে ফোন রেখে দিল। রাস্তায় কয়েকবার তাকেও 'ফ.. ইউ' জাতীয় কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার আকস্মিকতায় সুমন হা হয়ে গেল।
সেনারিও 4:
সুমন আর মৌটুসী শুক্রবার রাতে দাওয়াতে গিয়েছিল। বাই-সাইকেলে করে রাত বারোটা নাগাদ ফিরার পথে তাদের নিজেদের এপার্টমেন্টে ঢোকার পর একদল ছেলের সাথে দেখা। 'হোয়াসসাপ' এর বদলে সুমনও উত্তর দিল 'হেই হোয়াসসাপ'। এক ছেলে বলে উঠল 'ইউ আর গনা গেট বিটেন নাও'। সুমন ঠিক রিয়েলাইজ করতে করতে বাইসাইকেলে বেশ কিছুদুর এগিয়ে গেছে। সুমন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই সেই ছেলেটা হাত তুলল - এমন একটা ভঙ্গিতে যেন কিছুই হয়নি।
ভেঙ্গে পড়ে সবকিছু - শিক্ষা, মানবতা বোধ, জীবন নিংড়ে নেয়া মূল্যবোধ - সব সব কিছু। অসীম শুন্যতা থেকে ধেয়ে আসতে দেখি একটি বিরক্তিকর মাছি। বার বার কাছে চলে আসে। প্রবল মাথা ঝাকাঁই, ঝেড়ে ফেলতে চাই - পারিনা। আঘাত করি, সরাতে চাই - যায়না। প্রবল বেগে মাথা ঝাঁকাই, আর পাগলের মত বলতে থাকি - হ্যাঁ হ্যাঁ আমি - আমিই রেসিস্ট।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি, আমেরিকা বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
অতিথি বলেছেন:
উফ অশিক্ষা আর কুশিক্ষা...
অতিথি বলেছেন:
বড় কস্টে আছি আইজউদ্দিন!
অতিথি বলেছেন:
আমি একবার মোটামোটি নির্জন রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। বাস স্টপের ওখানে দূর থেকে দেখছিলাম শ্বেতাংগ, রোদে পোড়া একটা 30 বছর বয়সী শক্ত গড়নের লোক বোতাম খোলা হাওয়াই শার্ট আর হাফ প্যান্ট পড়ে আছে। হাতে বিয়ারের বোতল। চাপা ফুটপাথ দিতে পাশ দিয়ে যেতে হবে ভেবেই অস্বস্তি লাগছিল, কিন্তু নিজের দুর্বলতা প্রকাশ হবে বলে রাস্তা পার হই নি। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যা ভেবেছিলাম তাই, হিস হিস করে বলল: F... you, F... off to your own f...ing land.
আমার রক্তে আগুন ধরে গেছে, সেই প্রথম আমাকে কেউ গালিটা দিল। নির্জন রাস্তা, একেবারেই সেইফ ছিল না, তবু আমি একদম দাঁড়িয়ে গেলাম। লোকটার চোখে চোখ রেখে বললাম, এক্সকিউজ মি!
শুধু এই ঘুরে দাড়ানোটাই লোকটাকে অনেকটুকু দমিয়ে দিয়েছে। আমি ততক্ষণে পুরো তর্কের মুডে। তোমরা এবোরিজিনদের থেকে দেশকে ছিনিয়ে নিয়েছ, এন্ড য়ু গাইজ ওয়ের নট অফ আ ডিসেন্ট ব্রিডিং ইদার। য়ুর গফট ইজ ইনভাইটিং আস হিয়ার বাট য়ু টুক দ্যা কান্ট্রি ফোর্সফুলি ফ্রম দ্যা এবোরিজিনস। ইফ এনিওয়ান হ্যাজ আ রাইট টু বি হিয়ার, ইটস আস, নট য়ু!
লোকটা ধারণাও করে নি হিজাব পড়া কেউ এতোটা তড়বড়িয়ে এত কথা বলে দিলাম। আমি নিজেও ভেবেছিলাম সে দু একটা গাট্টা লাগায় দিবে। সারপ্রাইজিংলি ম্যান ম্যানা গলায় কি কি বলতে বলতে চলে গেল!
আরও গালি খেয়েছি। এবং কনফ্রন্টিং সব সময় কাজ করেছে। যারা মনের অজান্তে জানে তাদের নিজেদের অবস্থান নিচু, তারা অন্যদের গায়ে থুতু মেরে তাদের নিজের চাইতেও নোংরা করে উপরে উঠতে চায়। এই থুতুগুলো তাই গায়ে মাখালে চলে না, ঝরে পড়ে যেতে দিতে হয়!
স্যরি একটু লেকচার মেরে ফেললাম, আসলে এই ধরণের ঘটনা ঘটলে মনের উপর এত চাপ পড়ে, জানি বলেই একটু নিস্ফল চেষ্টা করলাম চাপটা কমানোর।
অতিথি বলেছেন:
মানুষের উপরে বিশ্বাস হারাইস না দোস্ত। মানুষ কিন্তু আদতে খুব খারাপ না। তবে যে দেশে বাবা আর মেয়ের মধ্যে ঝগড়ায় মেয়ে বাবাকে অথবা বাবা মেয়েকে এফ দিয়ে গালি দ্যায়, সেই দেশে অপছন্দের মানুষদের যে এফ দিয়ে গালি দিচ্ছে এতে বেশি দু:খিত হওয়ার কিছু নাই।
ঝরা পাতা বলেছেন:
সুইডিশদের অন্যান্য ইউরোপিয়ান কান্ট্রির লোকদের থেকে অনেক সভ্য ও বিনয়ী বলে মনে করা হয়। কিন্তু তারপর ও যখন আমরা ট্যাগ বাসে স্টুডেন্ট আই ডি কর্াড আর ফটো আই ডি শো করে ক্যাম্পাসে যাই তখন কোন সাদা চামড়াদের কোন চেক হয় না কিন্তু আমাদেরটা মনযোগ সহকারে চেক করা হয়। যদি ও এই একই পথে যেতে যেতে ওদের চেনা হয়ে গেছি। সত্যিই সেলুকাস!!!
অতিথি বলেছেন:
আস্তমেয়ে সবসময় প্রতিবাদ করা যায় না। আমার অবস্থান থেকে দেখুন। সেনারিও 4 এ আমার সাথে আমার স্ত্রী ছিল। আর এখানে 6/7 জন ছিল। খোলা রাস্তাও নয় - অ্যাপার্টমেন্টের ভিতরে - পিটিয়ে ফেলে রাখলে কেউ দেখতে আসবে না।অল্প বয়সে ওই রকম প্রতিবাদ করা যায়। আর 5 বছর পর আপনার চিন্তা ভাবনাও বদলে যাবে।
অতিথি বলেছেন:
সাদিক তুই সুফিবাদে বিশ্বাস করিস। মানুষ গালি দিলে ভালোবেসে বুকে জড়াতে পারিস। কিন্তু আর দশটা মানুষ তোর মত না। তাদের গালি দিলে মন খারাপ হয়। উলটে গালি দিতে ইচ্ছে করে।
অতিথি বলেছেন:
নারে দোস্ত, গালি দিলে গালিবাজকে বুকে জড়ানো বিপজ্জনক। গালিদাতা মাইন্ড খাইতে পারে। মহিলা হইলে মাইরও দিতে পারে। সেইটা বড় কথা না, বড় কথা হইলো রেসিস্ট হইস না। রেসিস্ট হওয়ার মধ্যে কোন সমাধান নাই, বরং গন্ডগোলই বেশি।
মানুষ যেটা চিন্তা করে সে কিন্তু সেই ধরনের পরিস্থিতিকে ডেকে নিয়ে আসে। চিন্তা খুব পাওয়ারফুল একটা জিনিস। চিন্তা চুম্বকের মতো পরিস্থিতি আকর্ষণ করে।
এইটা পৃথিবীর প্রাচীন নিয়ম। থিওসোফিতে কামর্া নামের একটা কনসেপ্ট আছে। সেই কনসেপ্ট বলে, আমি যদি কালোদের খুব ঘৃণা কর, তবে সেই ঘৃণা করার মতো ঘটনাকেই আমি আকৃষ্ট করবো এবং একটা না একটা সময়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়বো যেখানে কালোদের প্রতি আসল ঘৃণার জায়গাটা বেরিয়ে আসবে।
তাই বলছিলাম আর কি, রেসিস্ট না হওয়াই ভালো। নইলে দেখা যাবে ওই ধরনের কুৎসিত বিষয়গুলো তোর দিকেই আকৃষ্ট হবে।
অতিথি বলেছেন:
আমি একটু ভিন্ন লাইনে কথা কইলে কেউ মাইন্ড খাইয়েন না। আসুন আগরা দেখি বাংলাদেশের বর্তমান প্রক্ষিতে সিনারিওগুলোকে:সিনারিও 1 এ গার্মেন্টস থেকে ফেরা কোনো মেয়ে হলে তাকে শুধু গালি দিয়েই ছেড়ে দেয়া হতো না। রেপ করা হতো, বেশি ঝামেলা মনে করলে খুন।
সিনারিও 2 এর শিকার অনেক নিম্নবর্ণের হিন্দু কিংবা উপজাতীয় সংখ্যালঘুরা। চাড়াল, মালাউনটাইপ শব্দতো ডালভাত; আমার এক রাখাইন বন্ধুকে আমার সামনেই একবার একজন এখটা বাজে কমেন্ট করেছিলো। ডিটেলসে গেলাম না।
সিনারিও 3 এর চাইতে জঘন্য ব্যবহার আপনি পাবেন দেশে অহরহ। এমনকি খুব নরমাল কোনো দোকানে গিয়ে দামাদামি করলেই আপনার রূচি নিয়ে খোঁটা শুনে শুধু হা করে তাকিয়ে থাকবেন।
সিনারিও 4 এর ছেলেগুলোও গালি দিয়ে থেমে থাকতো না। মাতাল অবস্থায় স্বামীর সামনে হয়তো ধর্ষণও করতো।
রেসিজম খুব খারাপ কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ওটায় বিরক্ত হয়ে নিজেও রেসিস্ট হতে হবে এমন আইডিয়া আমার পছন্দ না। এই বিষেেয় সাদা চামড়ার লোকগুলোর চাইতে নিজেদেরকে কোনো অংশে বেটার মনে মনে হয় না আমার কাছে।
অতিথি বলেছেন:
আমি একটু ভিন্ন লাইনে কথা কইলে কেউ মাইন্ড খাইয়েন না। আসুন আমরা দেখি বাংলাদেশের বর্তমান প্রক্ষিতে সিনারিওগুলোকে:সিনারিও 1 এ গার্মেন্টস থেকে ফেরা কোনো মেয়ে হলে তাকে শুধু গালি দিয়েই ছেড়ে দেয়া হতো না। রেপ করা হতো, বেশি ঝামেলা মনে করলে খুন।
সিনারিও 2 এর শিকার অনেক নিম্নবর্ণের হিন্দু কিংবা উপজাতীয় সংখ্যালঘুরা। চাড়াল, মালাউনটাইপ শব্দতো ডালভাত; আমার এক রাখাইন বন্ধুকে আমার সামনেই একবার একজন এখটা বাজে কমেন্ট করেছিলো। ডিটেলসে গেলাম না।
সিনারিও 3 এর চাইতে জঘন্য ব্যবহার আপনি পাবেন দেশে অহরহ। এমনকি খুব নরমাল কোনো দোকানে গিয়ে দামাদামি করলেই আপনার রূচি নিয়ে খোঁটা শুনে শুধু হা করে তাকিয়ে থাকবেন।
সিনারিও 4 এর ছেলেগুলোও গালি দিয়ে থেমে থাকতো না। মাতাল অবস্থায় স্বামীর সামনে হয়তো ধর্ষণও করতো।
রেসিজম খুব খারাপ কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ওটায় বিরক্ত হয়ে নিজেও রেসিস্ট হতে হবে এমন আইডিয়া আমার পছন্দ না। এই বিষেেয় সাদা চামড়ার লোকগুলোর চাইতে নিজেদেরকে কোনো অংশে বেটার মনে মনে হয় না আমার কাছে।
অতিথি বলেছেন:
চোর আপনার সাথে আমি অনেকাংশে একমত।
কাপালিক বলেছেন:
আমাদের দেশের সিনারিওগুলোর সাথে আমি একমত..@অতিথি

















