আমার প্রিয় পোস্ট

ভস্ম হই। মৃত্যুর চুমু আমার কপোল ছুঁয়ে যায়। বেঁচে উঠি আবার। নতুন দিনের আশায়। বেঁচে উঠি বারবার।

সাগরকন্যা ক্যালিফোর্নিয়া - 1 (স্যান দিয়েগো)

০৯ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

গত সপ্তাহের উইকএন্ডে ছিল সামারের দ্্বিতীয় লম্বা ছুটি, পাক্কা চার দিনের। আমরা কয়েকজন বাংলাদেশী মিলে ঠিক করলাম লম্বা একটা টু্যর দিয়ে পুরো ক্যালিফোর্নিয়াটা চষে বেড়াব। স্যান দিয়েগো থেকে লস এঞ্জেলস হয়ে স্যান ফ্র্যানসিসকো, তারপর স্যান্টা ক্ল্যারা হয়ে ফিরব ঘরে। সঙ্গী পাঁচ জন - আমি, আমার স্ত্রী মৌটুসী, ইলেক্ট্রিক্যালে পিএইচডির ছাত্র গাইজার ভাই, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট করছে এমন দুজন ওয়ালী ও খালেদ।

প্যাসিফিক মহাসাগরের পাড়ে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া হচ্ছে আমেরিকার সবচে জনবহুল স্টেট। আর সেখানের রাস্তায় চলে আমেরিকার সবচে বেশী গাড়ি। কথিত আছে, পৃথিবীর অর্ধেক গাড়ি চলে আমেরিকায় আর আমেরিকার অর্ধেক গাড়ি চলে ক্যালিফোর্নিয়ায়। আবহাওয়াও ভীষন সুন্দর সেখানকার। সাগরের পাড়ে বলে সবসময় একটা হাল্কা ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করে সেখানে। জীবন যাত্রার মান অনেক উন্নত এবং ব্যায়বহুল।

শুক্রবার ভোর 4 টায় রওনা দিলাম প্রথম গন্তব্য স্যান দিয়েগোর উদ্দেশ্যে। সকাল দশটা নাগাদ পৌছলাম আমরা সেখানে। স্যান দিয়েগোর সি-ওয়র্ালড নামের একটা সামুদ্রিক থিম পার্ক আছে। সেখানটায় যাবার উদ্দেশ্য আমাদের। লম্বা ছুটির প্রথম দিন বলে ভীষন ভীষন ভিড় ছিল সেখাটায়।

ওখানটায় বিভিন্ন রকম লাইভ শোয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। শ্যামু (Shamu) স্টেডিয়াম বলে একটা জায়গায় কিলার হোয়েলের খেলা দেখানো হয়। আমরা যখন পৌছেছি তখন সবেমাত্র তার আগের শোটা শেষ হয়েছে। পরের শো দেখার জন্য আশেপাশে ঘুরঘুর করতে লাগলাম আমরা।

বেশ কয়েকটা একোরিয়াম দেখলাম আমরা। বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ আছে সেখানে। পিরানহা, শার্ক, ঈল এসব বিভিন্ন ধরনের মাছ দেখলাম। এগুলোর বেশীরভাগই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখায় অন্ধকারে ছবি ভাল আসছিল না।

বাইরে একজায়গায় দেখলাম লাল স্টার মাছের ছোট একটা পুকুরের মতো। বাচ্চারা স্টার মাছ ঘাটাঘাটি করছে আর এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে বর্ননা শুনছে। শেখার ব্যাপারটা কত মজার হতে পারে সেটা দেখে মুগ্ধ হলাম।

এর মধ্যে শ্যামু শো এর সময় হয়ে এলো। কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শককে মুগ্ধ করে শুরু হল কিলার হোয়েলদের নিয়ে শ্যামু শো। আমরা খালি হতবাক হয়ে চেয়ে রইলাম - মানুষ হোয়েল কেও প্রশিক্ষন দিয়ে কি করাতে পারে। হোয়েল গুলো আসলো লম্ফ-ঝম্ফ করল। মানুষকে মুখে ঠেলে নিয়ে এদিক সেদিক গেল। শেষে পানি ছুঁড়ে ভিজিয়ে দিল দর্শকদের। সবকিছু মিলিয়ে ভীষন ফ্যাবুলাস ছিল শোটি।

এরপর আমরা দেখতে গেলাম সীল মাছ নিয়ে একটা শো। ততটা ভাল লাগেনি শোটি। এরপর আমাদের মধ্যে তিনজন কেবল কার ভ্রমনে গেলাম আর বাকি দুজন অন্যান্য জায়গা দেখতে বেরুল।

কেবল কার ভ্রমন শেষে আমরা জার্নি টু দ্যা আটলান্টিস এ গেলাম। এটা মূলত একটা রোলার কোস্টার কিন্তু পুরোটা পানিতে। সুতরাং ভ্রমন শেষে আমরা ভিজে একাকার।

ততক্ষনে প্রায় সাড়ে সাতটা বাজে। আমরা বেরিয়ে একটা সী-বিচ দেখব বলে রওনা দিলাম। প্যাসিফিক মহাসাগরের অসাধারন দৃশ্য দেখতে দেখতে আর ভীষন ঠান্ডা পানিতে কিছুক্ষন ভিজে আমরা রওনা দিলাম লস অ্যাঞ্জেলসের উদ্দেশ্যে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে আমাদের কোন হোটেল বুকিং দেয়া ছিল না। আর সেই চরম বোকামীর শাস্তি হিসেবে ঘন্টা খানেকের উপর শহর চষে বেড়িয়ে একটা 20 ডলার মানের হোটেল 110 ডলারে ভাড়া করতে হল। সেখানে সেদিনের মত ঘুমের অতলে তলিয়ে গেলাম আমরা।

(চলবে)


ছবি পরিচিতি
1। ওয়ালী, গাইজার ও কিলার হোয়েল
2। মৌটুসী ও স্টার মাছ
3। কিছু মৎস
4। আরও মৎস
5। শ্যামু শো 1
6। শ্যামু শো 2
7। সিল মাছের শো
8। খালিদ ও পেঙ্গুইন
9। মৌটুসী ও আমি সাগড়ের পাড়ে

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরিআমেরিকাভ্রমন  বিভাগে ।

 

  • ৭ টি মন্তব্য
  • ৩৭১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১০ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ২:০৭
comment by: অতিথি বলেছেন: এরকম ভ্রমনের বর্ণনাগুলো পড়তে ভালো লাগে, জানতে ভালো লাগে অজানাকে।

পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
২. ১০ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:০৭
comment by: হযবরল বলেছেন: ভাল লাগল লিখাটা। কিলার হোয়েল এর ছবি আসবে না?
৩. ১০ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:০৭
comment by: অতিথি বলেছেন: হযবরল ভাইজান,
ছবি 1, 5, 6 এ কিলার হোয়েল দেখা যাচ্ছে। কিলার হোয়েল নামটা হয়েছে, যতদুর মনে পড়ে তারা জীবনের কোন এক পর্যায়ে সঙ্গী সাথীদের মেরে ফেলে, সেখান থেকে। এরা পেঙ্গুইনের সাথে কোন একভাবে সমর্্পকিত তাই শরীরের রঙে মিল আছে।

৪. ১০ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:০৭
comment by: অতিথি বলেছেন: ধন্যবাদ গোধুলি। শীঘ্রি লেখব পরবতর্ী অংশ গুলো।
৫. ১০ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:০৭
comment by: অতিথি বলেছেন: সাদিক,
সবচেয়ে ভাল হয় ইন্টারনেটে বুকিং দিয়া রাখতে পারলে। বিরাট বাঁশ খাইছি সেই দিন। আমরা 110 টাকা দাম দেখে বুকিং না করে আরো হোটেল দেখতে গেছি। কোথাও কিছু পাইনা। ফিরে এসে দেখি এক লোক সেটাও বুকিং করে নিচ্ছে। আমরা তাও অপেক্ষা করছিলাম। সেই লোক এত দাম দেখে বুকিং না করে চলে যাওয়ায় আমরা রুমটা পাই।

ক্যালিফোর্নিয়া ভীষন এক্সপেনসিভ। পূর্ব বা পশ্চিম যেদিকেই যাস না কেন ভীষন ব্যায়বহুল সবকিছু। মধ্যে স্টেট যেমন ক্যানসাসে তুলনামূলক খরচা কম। আসলে যেসব জায়গায় লোক বসতি বেশী সেখানে খরচাপাতি বেশী।

ফোন দিব তোকে একদিন। মেইলে জানাস কি করতেছিস।
৬. ১০ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:০৭
comment by: অতিথি বলেছেন: থ্যাংকু দোস্ত।

হোটেল বুকিং না দিয়ে ভ্রমন কতখানি রিস্কি আমি টের পাইছি ইউরোপে। একলা ছিলাম বলে বেঁেচ গেছি, একবার ইয়ুথ হোস্টেলে টিভি রুমে টেবিলের উপরে গুটি মেরে ঘুমাতেও হইছে।

ক্যালিফোর্নিয়া এরিজোনার চাইতে কি খুব এক্সপেনসিভরে। ওইদিকে যাওয়ার একটু হালকা ইচ্ছা ছিলো, এখন খোদা যদি মর্জি করে তো ...
৭. ১০ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৮:০৭
comment by: সাদিক বলেছেন: থ্যাংকস। আমার বুদ্ধি দরকার কিছু। আমিও ফোন করতে পারি তোকে যেকোন দিন।

 



 


আমার কোন লেখা কোথাও পুন: প্রকাশ করার আগে দয়াকরে যোগাযোগ করবেন। (মুর্শেদ@জিমেইল)
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৮৩১২৩