আমার প্রিয় পোস্ট

ভস্ম হই। মৃত্যুর চুমু আমার কপোল ছুঁয়ে যায়। বেঁচে উঠি আবার। নতুন দিনের আশায়। বেঁচে উঠি বারবার।

বিসবি আর টুম্বস্টোন শহরে একদিন

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৪:০৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

কথায় আছে মক্কার লোক হজ্জ্ব পায় না। আমাদের হয়েছে সেই অবস্থা। এতোদিন অ্যারিজোনায় থাকলাম অথচ এখানকার সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলোই দেখা হয়নি। তবু সেমিস্টারের প্রেশারের মধ্যে যখন আমার স্ত্রীর আমেরিকান প্রফেসর দক্ষিনের একটা শহরে ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইল তখন চট করে রাজি হতে পারিনি। এশিয়ান প্রফেসররা এতো ভাল হয়না। সেই প্রফেসর আমার স্ত্রীকে এত সুন্দর করে অনুরোধ করেছে যে সে না করতে পারেনি। তাই শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে গেলাম।

সেই প্রফেসর, ড: বয়ার মূলত Bisbee শহরে যাবে। সেখানে একটা নতুন আর্ট গ্যালারী শুরু হতে যাচ্ছে। সেই গ্যালারীতে ড: বয়ার কিছু ছবি বিক্রী করতে যাবে। ছবিগুলো তার এক বন্ধুর আঁকা।

ড: বয়ারের বয়স সত্তরের কাছাকাছি। ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারেনা, খালি ঝিমায়। সে কিভাবে তিন ঘন্টার রাস্তায় কিভাবে গাড়ি চালাবে সেটা নিয়ে আমি একটু চিন্তিতই ছিলাম। সেও দেখি আমাকে দেখে খুশী হয়ে উঠল, আমাকে তো বলেই বসল, তুমিই গাড়ি চালাও বাবা।

বিসবি শহরটা খুব ছোট একটা শহর। পুরো শহরটার মূল অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হচ্ছে শিল্পকলা। বিভিন্ন ধরনের আর্ট গ্যালারী ছড়িয়ে আছে শহরটার একমাত্র রাস্তা মেইন স্ট্রিটে। আন্দাজ করলাম শহরটায় লোকসংখ্যা পাঁচশতের বেশী হবে না। ড: বয়ার বানিজ্যিক কথা বার্তায় ব্যাস্ত তাই আমি, মৌটুসী আর ড: বয়ারের আরেক ছাত্র, 'বিশাল', ছোট্ট শহরটা ঘুরে দেখে ফেল্লাম।

বিভিন্ন আর্ট গ্যালারী আর বিভিন্ন জিনিসের সমারোহে দোকানগুলো সাজানো। এক দোকানে দেখলাম মোহাভে (Mojave) কাউন্টির রেড ইন্ডিয়ানদের করা স্কাল্পচারে সাজানো। কিছু কিছু স্কাল্পচার আছে যার গায়ে দাম লেখা 27,000।

একটা দোকানে দেখলাম হ্যালোইনের দুর্লভ কিছু মুখোশ সাজিয়ে রেখেছে। আরেক দোকানে লোহার তৈরী রেড ইন্ডিয়ান দ্রব্য সাজানো রয়েছে। অনেক পুরোনো আমেরিকান দ্রব্য সাজিয়ে বসেছে এক দোকান। তাছাড়া অনেক দোকানেই রেড ইন্ডিয়ান দ্রব্যাদি সাজানো রয়েছে। আমার খুব ইচ্ছে ছিল দুচারটা কিনি, কিন্তু দাম দেখে সাহসে কুলোল না।

আসার পথে পড়ল টুম্বস্টোন শহর। টুম্বস্টোন কথাটার শাব্দিক অর্থ হল পাথরের কবরফলক। এক সময় হয়ত খুব আউট-লদের আনাগোনা ছিল এখানে। উনবিংশ শতকের শুরুতে এখানে একটা খনিতে রৌপ্য পাওয়া যায়। আর তখন খুব বিখ্যাত হয়ে যায় এই শহর। এখন সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই। তবে আছে ঐতিহ্য। এখনও তারা সেই ওয়েস্টার্ন ধাঁচটা ধরে রেখেছে। সেটা দিয়েই টুরিজ্যম ব্যবসা করে যাচ্ছে।

শহরটাতে আমরা নেমেই মনে হলো 1800 শতকের কোন ওয়েস্টার্ন শহরে ঢুকে পড়েছি। সেই রকম বার, রাস্তায় কাউবয় জিনস পরা লোকজন, পুরোনো ডিজাইনের কাপড় চোপড় পরা মহিলার, ঘোড়ার গাড়ি চলছে। সময় যেন হঠাৎ পথ হারিয়ে ফেলেছে এখানে এসে।

আমরা সেখানটায় লাঞ্চ সেরে নিলাম, স্পনসর ড: বয়ার। তারপর ফিরে চললাম টেম্পির উদ্দেশ্যে, মাথায় এক গাদা হোমওর্য়াকের টেনশন নিয়ে।

ছবি পরিচিতি
----------
1। টুম্বস্টোন শহরে আমি ও বিশাল (ক্রম ভেঙ্গে আগে দিতে হল ছবিটা)
2। মৌটুসী বিসবি শহরে লোহার তৈরী কিছু শিল্প কর্ম দেখছে
3। কিছু দামী পাথরের অলংকার বিসবি শহরের একটি দোকানে
4। বিসবি শহরে আমি
5। বিসবি শহরের একটি দোকানে রেড ইন্ডিয়ান তীর ধনুক হাতে
6। বিসবি শহরের দোকানে রেড ইন্ডিয়ান দ্রব্যাদি
7। টুম্বস্টোন শহরে মৌটুসী
8। টুম্বস্টোন শহরে একটি স্যালুনের সামনে কয়েকজন কাউবয়

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমেরিকাভ্রমন  বিভাগে ।

 

  • ১৮ টি মন্তব্য
  • ৩৩৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:১২
comment by: সাদিক বলেছেন: সৌন্দর্য্য।

ড. বয়ার কি টুসির সুপারভাইজার?
২. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:১৪
comment by: অতিথি বলেছেন: শহর দুইটা খুবই পিচ্চি। তারপরও আলাদা রকম বলে মজাই লাগছে। ড: বয়ার টুসীর সুপারভাইজার, ঠিকই ধরছিস।
৩. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:১৯
comment by: মাশা বলেছেন: আফনার বউয়ের কথা কইলেন না। হের ছবি কই। নাকি সামনের ডা।
৪. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৩০
comment by: সাদিক বলেছেন: ড. বয়ারের একটা ছবি উঠাইস পরে...
৫. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:০১
comment by: অতিথি বলেছেন: ঘটনা কি সাদিক, ড. বয়ারের মেয়ে রেখে তাঁর নিজের ফটুকের খোঁজে যে? দোস্ত কী শুনাইলা

মুর্শেদ মিয়া, চিনি খাওয়া কমাও মিয়া। যে অবস্থা হইতেছে হিমু, অরূপ, তুমি...

প্রথম ছবি দেখেতো একটু খটকাই লেগেছিল, ঈমানে কই!
৬. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:৪৯
comment by: অতিথি বলেছেন: শিক্ষার উপায়ই দুইটা: বইপড়া আর দেশভ্রমণ।
আরো একটু বর্ণনা হলে আশা মিটতো। রেডইন্ডিয়ানদের সম্পর্কে দু-একটি অজানা তথ্য। ওদের আবাস ও সংস্কৃতির টুকরো কথা।

মেলবোর্নের কাছের শহর বালারাতে এরকম একটি সাজানো শহর আছে। পুরনো একটা সোনার খনিকে ঘিরে সেই 1830-40 এর স্টাইলে সাজানো একটি শহর। ঘোড়ার গাড়ি। তেমন সাজ-পোষাক। তবে একেবারে খোলা না জায়গাটা। টিকেট কেটেই ঢুকতে হয়। টুম্বস্টোন নিশ্চয়ই একদম খোলা ছিল।
৭. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৫
comment by: অতিথি বলেছেন: শোমচৌদা কি কখনো "ওলড সিডনী টাউন"-এ গেছেন?
৮. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১:০০
comment by: নাহিদ বলেছেন: আজকেই প্রতথম নাম শুনলাম...
৯. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ২:৩৬
comment by: হযবরল বলেছেন: সবই ভাল। কিন্তু যে ভাবে রৌপ্য কইলা মনে হইল তুমিই 1900 শতক থেইকা উইঠা আইছ।
১০. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:৩৮
comment by: অতিথি বলেছেন: শোমচৌদা,
রেড ইন্ডিয়ানদের সমর্্পকে আমিই খুব কম জানি। বেশী কিছু জানলে জানাব। আর টুম্বস্টোনে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়নি। খোলাই ছিল। এরা আয় করে পুরোনো কাউবয় দ্রব্য বিক্রি করে।
১১. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:৩৯
comment by: অতিথি বলেছেন: মাশা আমার বউ দ্্বিতীয় ছবিতে আছে। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
১২. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:৪৬
comment by: অতিথি বলেছেন: ড: বয়ারকে নিয়া একটা মজা হইছিল। আসার পথে গ্যাস নেবার জন্য এক জায়গায় থামছি। গ্যাস নেয়া শেষে পাশের দোকান থেকে আমি একটা কফি নিলাম আর ড. বয়ার একটা পানির বোতল নিল। তো আমি ড. বয়ারের পানির দাম শোধ করে দিলাম ভদ্রতা বশত। ড. বয়ার পানিটা নিয়ে চলে যেতেই, 18/19 বছরের দোকানদার মেয়েটা জিজ্ঞেস করল, ইজ হি ইউর ড্যাড? আমি তো পুরা আকাশ থেকে পড়লাম, হাসতে হাসতে বল্লাম যে সে আমার প্রফেসর। আর মনে মনে ভাবলাম ছেমরী এত্তো সাদা একটা লোককে আমার ড্যাড কেমনে মনে হইলো তোর?

ধুসর গোধুলী, ঈমানে কইতাছি চরম ডায়েট করতাছি। 1/2 পাউন্ড কমছেও। কিন্তু আরো কমা দরকার সে আমিও বুঝি।
১৩. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১০:৪৭
comment by: অতিথি বলেছেন: হযুদা, রূপা নামে একটা ব্লগার আছে তো। তাই রূপা লেখতে গিয়াও লেখলাম না।
১৪. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ৯:৩০
comment by: 57 বলেছেন: ভাইয়া আমার আগের পোস্টে(সফটওয়ার প্রসংগে) আপনার মন্তব্যে ছোট ভাইটি খুব আশাহত হয়েছে।
১৫. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:৩৭
comment by: অতিথি বলেছেন: মোর্শেদ ভাই, আপনার ভ্রমণের বিবরন গুলো বেশ ভালো লাগে। সুখপাঠ্য...
১৬. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১:১৪
comment by: অতিথি বলেছেন: আউটল,ওয়েস্টার্ন,জিনস পরা কাউবয়....লোভ হচ্ছে খুব.
১৭. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৪
comment by: আজকাল বলেছেন: বস্,
ছবিরুদ্দিনের দিনলিপি সিরিজ লিখতেআছি। চোরা চিনে নাই কারে নিয়া লিখি। আপনে চিনবেন। পারলে একবার নজর বুলায়েন।
১৮. ০২ রা অক্টোবর, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭
comment by: মাশীদ বলেছেন: বাহ! তোদের আরেকটা ভ্রমণের আরেকটা সুন্দর লেখা। ছবিগুলোও জোশ। টুসী আর তোকে কিউট লাগছে। 2,3 আর 6 নং ছবি দেখে হাত নিশপিশ করছে।

 



 


আমার কোন লেখা কোথাও পুন: প্রকাশ করার আগে দয়াকরে যোগাযোগ করবেন। (মুর্শেদ@জিমেইল)
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৮৪৬৩১