ভস্ম হই। মৃত্যুর চুমু আমার কপোল ছুঁয়ে যায়। বেঁচে উঠি আবার। নতুন দিনের আশায়। বেঁচে উঠি বারবার।

সৃষ্টিশীল মানুষের চিন্তা ভাবনা - ১
২২ শে এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ১:৫১
ভূমিকা
মানুষ জন্মগত ভাবেই সৃষ্টিশীল।
একটা জেনারেল পারপাস কম্পিউটার যখন আমরা কিনি তখন এর ভিতর তেমন কোন সফটওয়্যার থাকে না। একে আমরা সফটওয়্যার ইনস্টল করি আর কম্পিটার তখন একেক বিশেষ কাজে পারদর্শী হয়ে উঠে। অথচ বিভিন্ন ক্যামেরা, ডিজিটাল পণ্যের সাথে যেমস্ত ক্ষুদে মাইক্রোকম্পিউটার আসে সেগুলোর সফটওয়্যার নিতান্তই একঘেয়ে আর অন্যান্য কাজে পারদর্শী হয়ে উঠতে অক্ষম।
একটা মানুষের বাচ্চা যখন জন্ম গ্রহন করে তখন একটি খালি কম্পিউটারের মতোই তার মধ্যে বিশেষ কিছু থাকেনা। সময়ে সে বিভিন্ন বিষয়ে বু্ৎপত্তি লাভ করে এবং সৃষ্টি করতে থাকে অমর সব র্কীতি। অথচ ডিফল্ট কিছু জ্ঞান নিয়ে জন্ম নেয়া বিভিন্ন প্রানীর বাচ্চারা জন্মের পর পরই দৌড়াতে পারলেও সৃষ্টিশীল না।
মানুষ স্বভাবগত ভাবে সৃষ্টিশীল হলেও সবাই কিন্তু সমান মাপের স্রষ্টা নন। মোনালিসা একজন মানুষেরই সৃষ্টি আবার অনেক কুৎসিত গণহত্যাও একজন মানুষেরই হাতে সংঘটিত হয়। তাহলে কোন বিষয়টি একজন সাধারন মাপের মানুষকে অসাধারন মাপের স্রষ্টা বানায়?
আমরা ধরেই নেই যে কিছু কিছু মানুষ ওই জিনিসটা সঙ্গে নিয়ে জন্মায়। কিন্তু তাহলে বাকিদের কি হবে? কেন আমরা সৃষ্টিশীলতা অর্জন করতে পারব না? ব্যাপারটা কি তাহলে গায়ের রঙয়ের মতো হয়ে গেল না, যেখানে মনে করা হয় কিছু নির্দিষ্ট গায়ের রংয়ের মানুষ সেরা অথচ সৃষ্টিশীল মানুষের মতো গায়ের রংও অর্জন করা যায় না?
এই ব্যাপার নিয়ে প্রচুর গবেষনা হয়েছে। মনস্তত্ত্ব, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনের মতো বিষয়গুলোতে এব্যপারে প্রচুর আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে দুটো পর্বে যে বিষয়গুলো তুলে ধরব ঠিক করেছি সেগুলো হল: ১। কেমন হয় সৃষ্টিশীল মানুষ, ২। কিভাবে সৃষ্টিশীলতা চর্চা করা যায়। যদি আপনি সৃষ্টিশীল মানুষ হন তাহলে আপনি হয়ত নিজের সাথে প্রথম পর্বের বিষয়গুলো মেলাতে পারবেন। তবে সৃষ্টিশীল হন বা না হন সৃষ্টিশীলতার চর্চা আপনাকে নতুন কিছু তৈরীর ক্ষেত্রে সাহায্য করবে নির্ঘাৎ।
“তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী?”
এটা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে থাকবেন গড়পড়তা সৃষ্টিশীল মানুষ পোষাক আশাকের দিকদিয়ে বেশীরভাগক্ষেত্র আমার আপনার মতো স্বাভাবিক সাধারন মানুষ। সত্যিকার একজন সৃষ্টিশীল আমার আপনার থেকে আলাদা হয় তার মানসিক বোধ, ব্যবহার আর অভ্যেসের প্রয়োগে, জন্মগত কোন বিশেষত্বের কারনে না। নিয়ম করে অভ্যেস করলে এইধরনের গুণের অধিকারী হতে পারেন আপনিও।
একটা সৃষ্টিশীল মানুষ জানে মন হচ্ছে অফুরন্ত সম্ভাবনার কারখানা। তাতে অনবরত আইডিয়া, চিন্তা এবং জ্ঞানের যোগান দেয়া চাই যাতে করে মন নতুনতর আইডিয়া তৈরী এবং বিভিন্ন বিষয়ের ভিতর যোগসুত্র গড়ে তুলতে পারে। এই ধরনের একজন মানুষ সযত্নে পরিষ্কার কিছু লক্ষ্য গড়ে রেখেছেন। যেহেতু তিনি জানেন মাথা নিংড়ালেই রস বের হয়, প্রতিদিন তিনি তিনটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করতেই থাকেন: নিজেকে নিয়ে, তার নিজের মূল্য নিয়ে এবং তার আশেপাশের মানুষ নিয়ে। এভাবে এই তিন বিষয়ে চিন্তা করাতে করতে তিনি ক্রমশ অফুরন্ত সম্ভাবনার রত্নভান্ডারের কাছাকাছি চলে আসতে থাকেন।
এধরনের লোক আইডিয়ার জন্য যেকারো কাছে হাত পাততে পারেন, অন্যের বুদ্ধিমত্তাকে তাই সম্মান করতে জানেন এবং অন্যকে তার প্রাপ্য কৃতিত্বটুক দিতে দ্বিধা করেন না। আসলে অনেক মানুষের কাছেই টুকটাক আইডিয়া আছে যেগুলো সৃষ্টিশীল মানুষ মুফতে যোগাড় করতে পারেন, তার অনেকগুলোই কিন্তু আইডিয়া হিসেবে অসাধারন। সৃষ্টিশীল মানুষ অনেক সময়েই এই আইডিয়াগুলো জোগাড় করেন, পরিবর্তীত, পরিমার্জিত করেন এবং মূল আইডিয়াকারীকে যথাযোগ্য সম্মান প্রর্দশন পূর্বক কাজে লাগান।
আবার আইডিয়াগুলো কিন্তু বান মাছের মতো পিচ্ছিল। তারা বিশেষ দক্ষতায় পিছলে যায় যদি ঘ্যাঁৎ করে পেন্সিলের আগা দিয়ে তাদের গেঁথে না ফেলতে পারেন। সৃষ্টিশীল মানুষদের দেখবেন আইডিয়া পেলে তাকে বেঁধে রাখতে ভুল করেন না। একবার এক বই লেখককে দেখা গেছে বিষয় ভিত্তিক বাক্স সামনে রাখতে। তার যখন কোন আইডিয়া আসতো তখনই তিনি একটা কাগজে লিখে সঠিক বাক্সের মধ্যে ফেলতেন। এভাবে খুব অল্প সময়ে তার হাতে একটা অসাধারন বই লেখার প্রয়োজনীয় মসলা জুটে যায়।
সৃষ্টিশীল মানুষের আরেকটা ভালো গুণ হচ্ছে আশেপাশের জিনিস সে খুব ভালো করে লক্ষ্য করে। কে কি বলল, করল ভাল করে লক্ষ্য করা বা নিজের চিন্তার মধ্যে ডুবে থাকা সে খুব ভালো পারে। সে সব সময় নিজের কাজটা আরো ভাল করে কি করে করা যায় কিংবা নিজের জীবনটা কিভাবে আরো ভাল করে উপভোগ করা যায় তা খুঁজতে থাকে।
সৃষ্টিশীল মানুষ আন্দাজ করতে পারে সে কি অর্জন করতে যাচ্ছে। সে অনেক সময় ধরে ফেলতে পারে যে জয় তার হবেই। আশেপাশের মানুষ অনেক সময় তার এই ক্ষমতায় অনুপ্রানিত হয়। যারা তাকে চেনে তাদের কাছে সে একটা অনুপ্রেরনার প্রতীক।
সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে একেকটা সমস্যা হচ্ছে একেকটা চ্যালেঞ্জের মতো। যেহেতু সৃষ্টিশীল মানুষ সারাক্ষন চিন্তা করতে থাকে, ভাবনার খোরাকের জন্য তাই তাদের চ্যালেঞ্জ চাই। সমস্যাকে জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য এবং অপ্রতিরোধ্য অংশ হিসেব তারা ধরে নেয়। তাই সমস্যায় পড়লে তার জন্য দুশ্চিন্তা করে কান্না কাটি করার চেয়ে তার সমাধানে বেশী মনোযোগী হয় তারা।
সৃষ্টিশীল মানুষ খুব গুছিয়ে সমস্যার সমাধানে আগায়। অনেক সময় আগেভাগে সমস্যা সর্ম্পকে আন্দাজ করে সমাধান করেই রাখে।
যেহেতু সৃষ্টিশীল মানুষ জানে কিভাবে নিজের আইডিয়াগুলো অন্যের সাথে শেয়ার করতে হয়। সে যেমন অন্যের আইডিয়া নেয় তেমনিই অন্যদেরকে দেয়ও। কেননা দিন শেষে ওই হাত গুলোই আইডিয়া খুঁজে পাবে যারা আইডিয়া দেবে।
সৃষ্টিশীল মানুষ কোন নতুন আইডিয়া পেলে সুনিদির্ষ্ট ধাপে ধাপে সেটাকে আরো ভালো করার চেষ্টা করে। সে ছোটছোট আইডিয়া জুড়ে তৈরী করে নতুন আইডিয়া, পুরোনো আইডিয়া ভেঙ্গে তৈরী করে নতুন কিছু। সে আইডিয়াকে ক্রমাগত প্রশ্নের মুখোমুকি দাঁড় করায়। কেননা প্রশ্ন হচ্ছে বুদ্ধিমান মনের সৃষ্টিশীল কাজ।
নিজের অতিরিক্ত সময়টাকে সৃষ্টিশীল মানুষ খুব ভালভাবে ব্যবহার করে। কেননা সে জানে পৃথিবীর অনেক কল্যাণকর কাজই তৈরী হয়েছে অবসরের সময়টাতে। বেন ফ্রান্কলিন বলেছেন, ‘সৃষ্টিশীল ভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা রহিত হয়ে গেলে, বেঁচে থেকে কোন লাভই নেই।’
তাই নিজের কল্পনাকে ব্যবহার করে জীবনের বাঁধা অতিক্রম করা আমাদের পক্ষে অবশ্যই সম্ভব। লর্ড ম্যাককলে বলেছেন, ‘কল্পনা অস্ট্রীচ পাখির ডানার মতো, সেগুলো আমাদের উড়তে হয়ত সাহায্য করতে পারে না কিন্তু দৌড়াতে সাহায্য অবশ্যই করে; অথচ আমাদের অনেকে হাটতেও পারে না।’
গুস্তাফ ফ্লাউবার্টের একটি উক্তি দিয়ে শেষ করি। ‘সৃজনশীলতা হচ্ছে পরকীয়া প্রেমের মতো। অব্যবহারে আমরা একে দমিয়ে ফেলতে পারি, আবার সৃষ্টিশীলতা, সমস্যা সমাধানের অভ্যেস, অবসর সময়ের ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এর উৎকর্ষ সাধন করতে পারি; যতক্ষণ না আমরা সুখী, গুরুত্বপূর্ণ এবং বুদ্ধিমান মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারছি।’
(পরের পর্বে থাকছে সৃষ্টিশীল মানুষের এই যোগ্যতাগুলো অনুসরন করে আইডিয়া তৈরীর পদ্ধতি)
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সৃষ্টিশীল মানুষ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
১) মানুষ ট্যাবুলা রাসা না । কিছূ কোড জন্মগত ভাবে পাঞ্চ করে দেয়া আছে তার মাথার মধ্যে
২) ক্রিয়েটিভ প্রসেস, কখনো কখনো বিশৃঙ্খলভাবে এগোয় ।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
উপন্যাস নির্ঘাৎ আগাবো। সামহোয়্যারইনের বদলে যাওয়া এর জন্য দায়ী। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
প্রিজম,১) মানি
২) ব্যতিক্রম থাকবেই। ব্যতিক্রম নিয়মকে বরং প্রমান করে করে।
এখন আপনি আওয়াজটা রেকর্ড করে একট ১৯/২০ বয়সের ইনকিউবেটের ডিমের পাশে বাজান ।
দেখবেন ডিমট আগড়াতে শুরু করেছে ।
না ফোটা মুর্গির বাচ্চা 'আত্বরক্ষার' চেষ্টা করছে ।
কেন? ইনকিউবেটরের ভিতরে রে তো তারা মা-মুরগির হুঁশিয়ারি ডাক শোনেনি ।
এটা অনেক প্রাণীরই (ইনক্লুডিং মানুষ আছে) । এর নাম ইনসটিংক্ট ।
আলভী বলেছেন:
৫ দেয়ার জন্য লগ ইন করলাম। চিন্তাশীল ও গোছানো লেখা। ভাল লাগল খুব।
বোঝাই যাচ্ছে, এ বিষয়ে আপনি অনেক চিন্তা করেছেন। তাই আপনার কাছে একটা প্রশ্ন:
সৃষ্টিশীল মানুষ কি সামান্য পেসিমিষ্ট হয়?
খুব কমন একটা এক্মামপল দেই। একটা গ্লাসের অর্ধেক পানি, অর্ধেক খালি।
অপটিমিস্ট বলবে গ্লাসে অর্ধেক পানি।
প্যাসিমিস্ট বলবে অর্ধেক খালি।
সৃষ্টিশীল মানুষও বলবে, অর্ধেক খালি। কারণ, পূর্ণ গ্লাস পানি কল্পনা করার ক্ষমতা তার আছে। এই কল্পনা করার ক্ষমতাটুকু তাকে সৃষ্টিশীল করেছে। অর্ধেক গ্লাস পানি সে কখনো বলবে না। সে চাইবে পূর্ণতা। আর পূর্ণতা না পেয়ে সে হতাশ হবে।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
ঐ প্রানীর ব্যাপারটা প্রথম দিকেই বলেছি। প্রানীরা ডিফল্ট ইনস্টিংট নিয়ে জন্মায়। মানুষ ইনস্টিংট অর্জন/বর্জন করতে পারে। আপনার চোখের সামনে হাত আসলে আপনি চোখ বন্ধ করে ফেলবেন ঠিকই, কিন্তু যদি ক্রমাগত ব্যাপারটা অভ্যেস করা হয় তাহলে আপনার চোখ আর বন্ধ হবে না। এখানটাতেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব। আর এর অভ্যেসই মানুষ আরও সৃষ্টিশীল হয়ে উঠতে পারে।
জানলে কিছু লোক কেন জন্মগত ভাবে বেশি বুদ্ধিমান ও সৃষ্টিশীল সেটা পরিষ্কার হবে ।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
আলভী সৃষ্টিশীল মানুষ পেসিমিস্ট না। কেননা সে খালি গ্লাস নিয়ে চিন্তা করবে না। এটাকে যদি শুধু মেটাফোর হিসেবে চিন্তা করেন তাহলে বলা যায়, সৃষ্টিশীল মানুষ এটাকে আধা-খালি, আধা-ভরা হিসেবেই দেখবে। এটা যদি তার জন্য সমস্যা হয় তাহলে সমাধান করবে, নাহলে আরো গুরুত্বপ
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
প্রিজম,মানুষের ক্রিয়েটিভ কগনিশানের ওপর কিছু পড়াশোনা আছে আমার। কিন্তু সাধারনের মাথার অনেক ওপর দিয়ে যাবে। আপনি চাইলে স্ক্যান করে পাঠাতে পারি।
সহজ সামারী চাইলে বলতে পারি, দেখা গেছে সৃষ্টিশীল মানুষ চট করে সমস্যার ঠিক আসল জায়গায় পৌছাতে পারে। হিসেব টা করা হয় সমস্যার কোন অংশ নিয়ে কে কিরকম ভাবছে সেটার স্টাডি থেকে। কত সেকেন্ডে কে সমস্যার কোন জায়গাটায় পৌছল সেটা রেকর্ড করা হয়। তারপর তুলনা করে দেখা হয়। দেখা গেছে অভিজ্ঞতা এই সৃষ্টিশীলতাকে অনেকখানি প্রভাবিত করে।
বিষয়টা আসলে আরো জটিল।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
সাইটের কি হল? এই আছে, এই নাই!!!
কনফুসিয়াস বলেছেন:
ভাল লাগলো লেখাটা, অনেক ভাবনা চিন্তা করে লেখা। তবে এখানে সম্ভবত এক প্রজাতির সৃষ্টিশীল মানুষের কথা বলেছেন, তাই না? :-))
ঠুকেমারি বলেছেন:
মুক্ত চিন্তা নিয়া কথা বলেন নাকি।
রেজওয়ান বলেছেন:
চমৎকার প্রসঙ। সৃস্টিশীলতা কিন্তু অনুকুল অবস্থায় প্রসার লাভ করে। আমার এক টিচার বলতেন যে বাংলাদেশ থেকে ট্যালেন্টেড বিজ্ঞানীদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থে যাওয়া ব্রেন ড্রেন নয়, ব্রেন সেভ।কারন নিউক্লিয়ার ওয়েস ম্যানেজমেন্টের উপর পি এইচ ডি করে এসে এটমিক এনার্জি কমিশনে চাকরি নিলেন। ওখানে তার মাস্টার্স পাশ বস এর ফাইল চালাচালির ব্যুরোক্রেসিতে পড়ে উনি শেষ পর্যন্ত টিকলেন না। তিনি বলেন ল্যাবে বসে কাজ যেখানে করার কথা তার সেখানে এই নোট চালাচালির কালচারে পড়ে থাকলে উনার সৃস্টিশীলতা মরে যাবে। তাই তিনি অস্ট্রেলিয়া গিয়ে নিজের ফিল্ডে কাজ শুরু করলেন।
ত্রিভুজ বলেছেন:
অসাধারন পোষ্ট.... মন্তব্যগুলো আরো চমতকার... কিপ ইট আপ মুর্শেদ ভাই... (আরো বেশি পর্ব হলো আরো ভাল)...প্রিজম, আপনি এক লাইন দুই লাই পোষ্ট বাদ দিয়ে সুন্দর কিছু দিচ্ছেন না কেন? আমার ধারনা আপনি সিরিয়াসলি লিখলে আমরা অনেক ভাল কিছু লেখা পেতাম.....
তবে, সৃষ্টিশীল মানুষের যে সব এট্রিবিউট উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন সৃষ্টিশীল মানুষ মাত্রই গোছানো, ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করে, নিজের সময় কে হিসেব করে সঠিক কাজে লাগায়-- সব মিলিয়ে একজন সফল এক্সিকিউটিভের বৈশিষ্ট মনে করিয়ে দিচ্ছে । সৃষ্টিশীল মানুষ কি আসলেই এতোটা গোছানো, এতো একাউন্টেবল হয়? অবশ্য এই পোষ্টে সৃষ্টিশীলতা বলতে কি বোঝানো হয়েছে কিংবা সৃষ্টিশীল মানুষের কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরন দিয়ে সীমা নির্ধারন করা হয়নি ।
আলভীর মন্তব্যের প্রসংগেঃ
সৃষ্টিশীল মানুষ মাত্রই পেসিমিষ্ট হয়তো নয় তবে সৃষ্টিশীলতার সাথে অতৃপ্তির একটা যোগসুত্র আছে বোধ করি । ব্যখ্যাতীত অতৃপ্তি কিংবা অপার বেদনাবোধ সৃষ্টিশীলতাকে উস্কে দেয় ।
তিমুর বলেছেন:
সৃষ্টিশীল মানুষ কখনো কখনো আলেক্সান্ডারের মতো! তরবারির এক কোপে গর্ডিয়ন গিট্টু কেটে ফেলে তারা ।
দ্রোহী বলেছেন:
চমৎকার একটা বিষয় নিয়ে চমৎকার একটা লেখা। পরের পর্বের অপেক্ষায়.....
তিমুর বলেছেন:
ওটা তো প্রেমিকাকে পটানোর জন্য!
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
একটা ব্যাপার হচ্ছে আমাদের মতো সাধারন মানুষের টার্গেট হচ্ছে অসাধারন কিছু হওয়া, অসম্ভব কিছু নয়। সৃষ্টিশীলতার কথায় যদি আপনার ধরেই বসেন এক্সেপশনাল কিছু হবার আলোচনা করা হচ্ছে তাহলে একটু হোঁচট খেতে হবে। ভ্যান গগ কিংবা সাঁত্রে হচ্ছে আসলে মানব জাতির মধ্যে এনোমালি। এখানে কথা হচ্ছ ১০০ বছরের মধ্যে একজন হওয়া নিয়ে নয় বরং হাজার মানুষের মধ্যে একজন হওয়া নিয়ে।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
মোরশেদ ভাই চিন্তায় গোছানো হওয়া মানে পোশাকে আশাকে গোছানো নয়। দেখবেন একজন আর্টিস্ট খুব আগোছালো থাকেন কিন্তু খুব অবর্জাভ করে সবকিছু। একজন লেখক খুব গুছিয়ে নিজের ভাবনা গুলো তুলে ধরেন।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ আরশাদ এবং সাদিক।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
১০০০ জনের মধ্যে একজন হবার জন্য নয় বরং নিজ নিজ মহাবিশ্বকে এক্সপ্লোর করার খোঁচাটার জন্য ধন্যবাদ। ভালমতো খুঁজতে পারলে তারটাই ১০০০ বছর বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে। তবে জন্মগত মালের বিষয়টা সবসময়ই নিয়ম, ব্যাতিক্রম নয়। কারো থাকে কারো থাকেনা এই আর কি।সাদিকের পোস্টে একটা মন্তব্যের জন্য বেশি করে ধন্যবাদ, (ঐ যে প্রাজ্ঞ বলে যাদের ডাকলেন, তবে কথা না হলে এই দারুন জিনিস না পাওয়া যেত না)।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ শরৎদা। তবে মুখের মধ্যে কিন্তু মাছি ঢুকে যাবে।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
আমার তো পৃথিবী খাওনের শখ।
মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান বলেছেন:
লেখাটা ভাল লেগেছে..... অপেক্ষায় থাকলাম।
Click This Link
মৃত৬৬৬ বলেছেন:
আমিও সৃষ্টিশীল..হা হা হা..
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














(উপন্যাসটা আগাবেন না?)