ভস্ম হই। মৃত্যুর চুমু আমার কপোল ছুঁয়ে যায়। বেঁচে উঠি আবার। নতুন দিনের আশায়। বেঁচে উঠি বারবার।

অরূপের লেখা কেমন লাগে? (৭)
২২ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:০৯
বিভিন্ন লেখকের লেখার ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা এক্সপ্লোর করার জন্য এই সিরিজটির যাত্রা। একেকজন হয়ত একই লেখকের লেখায় ভিন্ন ভিন্ন বিষয় খুঁজে পান। অন্যান্য পাঠকরা সেটা জানলে তারাও ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করতে পারবেন। অন্যদিকে, লেখকও সচেতন হবেন তার লেখার কোন দিক পাঠক দেখতে পাচ্ছে কোন দিক পাচ্ছে না। লেখনীকে করতে পারবে আরো ক্ষুরধার।
অরূপ সামহোয়্যারইনের জন্ম থেকে ডেডিকেটেড একজন ব্লগার। ছোট্ট ছোট্ট কিন্তু ভয়াবহ ঝাল, শক্ত পোলারিটি তৈরী করা একেকটা লেখা লেখেন তিনি। আরো আছে দারুন ছবি সম্বলিত পোষ্ট। কিছু কিছু লেখা যেমন হৃদয় ছুঁয়ে যায় কিছু কিছু লেখা তেমনি তৈরী করে সমালোচনা।
কেমন লাগে অরূপের লেখা? খুব বেশী আঘাত করে পাঠকের একটা শ্রেণীকে? আপনি কখনও আহত হয়েছেন? তার আবেগগুলোকে খাঁটি নাকি ফাঁকা মনে হয়? তার লেখা দেখে পড়েননি এমন হয়েছে? বড় কিছু লিখে ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করেন? মানুষ হিসেবে কেমন মনে হয় তাকে? তার লেখায় মন্তব্য করতে কি ভয় পান? কিভাবে দেখতে চান ভবিষ্যত অরূপকে?
তো জানিয়ে ফেলুন পটাপট।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:২৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
অরূপের কিছু লেখা ছাড়া বেশীরভাগই চানাচুর টাইপের মনে হয়েছে, আড্ডা দেবার জন্য লেখা। ছেলেটার মাঝে আগুন আছে কিন্তু স্ফুলিঙ্গ দেখলেও কখনও দাবানল দেখিনি। আমি মনে করি ভাল কিছু লেখবে হয়ত ভবিষ্যতে। তবে অনেক সময় তার দুরদর্ষী কিছু মন্তব্য আমাকে চমৎকৃত করেছে। ১০০ তে ৮০ দিব।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
কেউ পড়েন না অরূপের লেখা?
কালপুরুষ বলেছেন:
অরূপ নিঃসন্দেহে আধুনিক, ভার্সাটাইল, প্রতিবাদি, দৃঢ়চেতা ও জ্ঞানসমৃদ্ধ একজন ব্লগার। নানা মাত্রায় তার লেখা নানাভাবে ব্লগারদের আলোড়িত করে। তার আপোষহীন ও মেজাজী ভূমিকা মাঝে মধ্যে অনেকের কাছেই সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। লেখার মাধ্যমেই আমি তাকে চিনি বা জানি এর বাইরে বেশী কিছু নয়। তবে জুটি হিসেবে মাশীদ-অরূপ সবার কাছেই দারুন সমাদৃত ও অসম্ভব প্রিয়।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
আগপাশতলা দেশপ্রেমিক মনে হয়।তিনি লিখে প্রমান করেন না যে তিনি দেশপ্রেমিক,কিন্তু তার লেখার আলোয় সেটি প্রতিফলিত হয়।আপাতত:এতোটুকু,বাদবাকি বলব রাতে।
সুমন চৌধুরী বলেছেন:
রাসেলের সঙ্গে অরূপের একটা মিল হচ্ছে সরাসরি কথা বলা। কথা না প্যাচানো। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারা। এক্ষেত্রে অরূপের নিজস্বতা হচ্ছে যতটা সম্ভব কম শব্দ খরচ করে নিজের কথাটা বলে ফেলা। খুব মজবুত গদ্য ছাড়া এটা সম্ভব নয়। শব্দের ব্যবহার এক কথায় দারুণ। টার্গেটেড পাঠককে পড়িয়ে ছাড়ে। যে জিনিসটা ছোকরার লেখায় একেবারেই নেই তা হলো যান্ত্রিকতা। প্রচন্ডরকমের মায়া থাকে ওর লেখায়। সেই জিম ক্রোসের গান নিয়ে লেখাটা থেকে আজ পর্যন্ত কোনটাই বোধহয় বাদ দেই নি। বহু বিষয়েই একমত নই। তাতে কি?
কাপালিক বলেছেন:
আমি ব্লগে নতুন। কিন্তু এই পোষ্টটা দেখে কিছুক্ষণ ওর লেখাগুলো ঘাটলাম। এত কম সময়ে লেখার ব্যাপারে মন্তব্য করছি না, কিন্তু ওর পোষ্টের ছবিগুলো এক কথায় অসাধারন।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
ভাস্কর ভাই আগের ছবিটা কই?
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
চুলা খাড়া একটা লাগাইছিলেন না? ছবির পিছনে মশা মারনের ওষুধ দেখা যাইত।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
নিজের ছবি লাগান মিয়া। এইটা দেখলে মনে হয় দাড়ি থিকা বাঘ হালুম কইরা লাফাইয়া পড়ব।
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
অরূপ ভাইয়ের পোস্টের চেয়ে কমেন্ট পড়েছি বেশী। 'দেখার মতো চোখ' আছে তাঁর। বিশ্লেষণ ভালো। নানা কারণে তিনি আমার ফেভারিট ব্লগারদের একজন!
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
নিয়ম মেনে চলা একটা সজ্ঞা হইতে পারে।
অরূপ স্বার্থক এই জায়গাতে ।
ওর ভেতর ক্ষোভ আছে, স্যাটায়ার আছে, হিউমার আছে । যা বলার তা সরাসরি বলার সাহস আছে ।
লেখক অরূপ এবং ব্যক্তি অরূপ দুজনই আমার ভালো লাগার ।
দু জনের জন্যই শুভ কামনা ।
: খুব বেশী আঘাত করে পাঠকের একটা শ্রেণীকে? --- সে নিজেই আঘাত খেয়ে বসে থাকে!
: আপনি কখনও আহত হয়েছেন? --- আমাকে কখনো সরাসরি আঘাত করেনি, তবে সুড়সুড়ি দিছিলো, আমিও তারে ছাড়ি নাই।
: তার আবেগগুলোকে খাঁটি নাকি ফাঁকা মনে হয়? --- আবেগ আবার কিসের? অরূপ নামক মেশিনটাই আবেগের রসে টস টস। বাচ্চাদের মত অভিমান করে বসে থাকে।
: তার লেখা দেখে পড়েননি এমন হয়েছে? --- হয়েছে।
: বড় কিছু লিখে ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করেন? --- নাহ, লেখালেখির দিক থেকে মনে হয়েছে খুব বেশি রেস্টলেস, ওর ধৈর্য্য এদিক থেকে কম।
: মানুষ হিসেবে কেমন মনে হয় তাকে? --- মানুষ হিসাবে ভালো। নিজের বেঁচে থাকার ফর্মুলার প্রতিই অধিক যত্নবান।
: তার লেখায় মন্তব্য করতে কি ভয় পান? --- ভয়!!! বলে কি? বাচ্চার সাথে ওর তফাৎ কম

: কিভাবে দেখতে চান ভবিষ্যত অরূপকে? --- যেমন লিখে যাচ্ছে তেমন লিখুক। ওর ভাবনাগুলো সত্যিকার অর্থে ভালো লাগে। কখনো কমেন্ট করিনা ঠিক, কিন্তু কিছু কিছু পোষ্টে ঢু মেরে দেখে নেই, পাবলিক কি আবল তাবল বিষয়বস্তু লিখে রেখেছে।
--- অরূপের একটা ব্যাপার ভালো। কৌশিকের মত সে আলা ভোলা টাইপ পোষ্ট পোষ্টাইয়্যা পরে শরমের ঠেলায় তাহা ডিলিট করেনা। আগেতো কারো কথা পছন্দ না হইলে হুট করে কমেন্ট ডিলিট করতো/ পরে ব্যান করা শুরু করলো/ তারপর এখন মনে হয় সে বুঝেছে ব্লগিং এর ফ্যাকরা। তাকে মিস করেছিলাম বেশ কয়েকটা দিন, মিস মানে কি, তাকে ক্ষেপাইয়্যা মজা পাওয়া যাইতো, কিন্তু যেভাবে প্রত্যাবর্তন করলো, ক্ষেপানোর সব মালমশলা সেখানেই শেষ আমার।
--- লেখালেখির জন্য ১০০ তে ৩৩ দিলাম। কোনমতে টেনেটুনে পাশ
, তবে আবেগ নিয়ে লেখার জন্য ১০০ তে ৫৩ দিলাম। সেকেন্ড ডিভিশন, না?
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
বিরাট ইভালুয়েশনের জন্য ধন্যবাদ তেলাচুরা।
তবে লেখার টোনে বোঝা যায় যে তিনি একটা এ্যাসেট ...
১০০ তে ৮৫
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
অরুপ এর তুলনা অরুপ নিজেই ।গতানুগতিক নন ।
নিজস্ব স্বাতন্ত্যে উজ্জ্বল - অন্তত আমি তাই মনে করি ।
অবলীলায় ৮০+ নম্বর দিয়ে দেয়া যায় ।
চিন্তা-চেতনায় খুবই আধুনিক অরূপ। প্রচন্ড মুক্তমনস্ক। যদিও পড়ালেখা তার প্রকৌশল বিষয়ক কিন্তু সমাজবিজ্ঞান বা অর্থনীতির বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট। পারিবারিক পরিমন্ডলই তার এমন মনন তৈরির নেপথ্যে বলে অনুমান করি।
নিজের কাজের বিষয়ে খুবই নিষ্ঠ বলেই বোধহয় ব্লগিংয়ে তার অনেক তাড়াহুড়া দেখা যায়। কিন্তু এটা নিশ্চিত, সময় নিয়ে লেখা তৈরি করলে তিনিও অনেক ভালো লেখা উপহার দিতে সক্ষম। তার চিন্তা ও যুক্তির মধ্যে উল্লম্ফন নাই, এটা তার মন্তব্যগুলো পড়লেও বুঝা যায়।
ব্যক্তি অরূপের চেহারাটা একটু ভারিক্কি ঠেকে, কিন্তু রসবোধ প্রচন্ড। খুবই বন্ধুবত্সল এবং আড্ডাও তার প্রিয়। তার লেখার সহজিয়া আর রম্য ভাবের কারণও নিশ্চয় তার এই ব্যক্তিমানস।
নিজের কর্পোরেট জীবন নিয়ে ব্লগিং করতে অরূপকে অনুরোধ করেছিলাম। ওর ধারণা সেরকম লেখা পড়লে লোকে ভাববে ফুটানি হচ্ছে। তবুও নিমরাজি হয়েছিলেন। কিন্তু আর লেখেননি।
সাহিত্য করাই লেখালেখির একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। বাংলা ভাষায় কত বিষয়ে আজো কিছুই লেখা হয়নি। ইংরেজি বইয়ের লাইব্রেরিতে ঢুকলে আমাদের এই দৈন্যতা বড় প্রকট হয়ে দেখা দেয়। ব্লগ এক বড় সুযোগ ছিল অনানুষ্ঠানিকভাবে নিজের জীবন ও অভিজ্ঞতাকে বাংলায় ধরে রাখার। আমাদের উপাচার্যরা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চালালেন তা নিয়ে বই লেখেন না, রাষ্ট্রপতিরা লেখেন না তাদের অভিজ্ঞতার কথা, প্রকৌশলী লেখেন না কিভাবে যমুনা সেতু হলো, সাংবাদিক লেখেন না কিভাবে চালু হলো পেশাদার ফুটবল, এমনি...আরও কত কি...। না লেখা থাকলে পরবর্তী প্রজন্ম কিভাবে জানবে পেছনের কথা, তাই হয়তো নতুন গদি পেলে আমরা আবার ভেঙে গোড়া থেকে শুরু করি।
আমাদের যার যা লেখার কথা, যা লেখলে আমরা আমাদের ভাষায় নতুন কিছু যোগ করতে পারতাম, তা আমরা লেখি না। অরূপও লেখে না।
প্রজাপতি বলেছেন:
অরূপ'দার লেখা পেলেই পড়ি।তার "লেবানন মাই এস" নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল, ওই লেখাটা ভালো লেগেছিলো খুব। এর পর থেকে তার ভক্ত হয়ে গেছি আমি।
তার সিরিয়াস লেখা মনে হয় কম, কিন্তু তাতেই তার তুমুল দেশপ্রেম কেমন করে যেন উঠে আসে।
মজা লাগে ক্রিকেট নিয়ে তার লাফালাফি।
এবং অসাধারণ সব ছবি দেখার অভিজ্ঞতাটা তার ব্লগে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
অরূপদা'র জন্য অনেক শুভকামণা।
সুমন চৌধুরী বলেছেন:
লেখা শুরু কইরা দিলেই হয়! লন শুরু করি @শোমচৌ
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
অরূপের যে জিনিষটা আমার ভালো লাগে ,সেটি হলো তার নিজস্ব মতামতের তীব্রতা। তার লেখায় সেটা ফুটে ওঠে।"বেজন্মার জাত "বলে তিনি শিরোনামেই তার কথা সেরে নেন,তাই একটা ছোট্ট পোস্টই আলোড়ন তুলে অনেক বেশি।আরেকটা ভালো দিক হচ্ছে তার ব্লগীয় রাজনীতিতে অনুতসাহ।এটা যখন বিরক্তিকর হয়ে যাচ্ছে,তখন তিনি তার ২০০ তম পোস্টে সবাইকে বিদায় জানাচ্ছেন।আবার ব্লগের টাইটেলে বলে দিচ্ছেন,''ক্যাচাল করলে অন্যকোথাও,এখানে না"।
ব্লগের সাথে তার সম্পর্কটা অনেকটাই সহজাত।সেটার মাঝে আরোপিত কিছু নেই।তাই অরূপ মাশীদ জুটিটাকে সহজেই আপনা লোক মনে হয়।তার সাড়ে ৫০০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট থেকে গোপালভাড়ের খুজে দেয়া ফ্ল্যাট,মধ্যরাতে টিভি কিনে আনা..সবকিছুই পারফেক্ট ব্লগিং।একেবারে ওয়েবলগ।
হুটহাট পোস্টগুলোতো আছেই।এই ছবি তুললাম,এই গানটা দরকার,আচ্ছা কি রাধলে দেশের পরিচয় দিতে পারি,রবি বাবুর জন্মদিন খেয়াল আছে,মাশীদেরও কিন্তু আরেক বছর বয়েস বাড়লো।
একটা ভালো জিনিষ তার মাঝে দেখেছি,সেটা হচ্ছে শেয়ারিংয়ের একটা চেষ্টা।খুজে পেতে বিবিসির অনুষ্ঠান,ইউটিউবের পোস্ট,বিদেশেও ওভারব্রীজ ভেঙ্গে পড়ার ঘটনা,বাবাকে দেখতে যাওয়ার জন্য এক তরুনের আকুতি..সব কিছুই ছোট ছোট ঘটনা কিন্তু আমাদেরকে তার সাথেই ঘুরিয়ে আনে সেই জায়গাগুলো।
লেখায় স্ট্রং পার্সোনালিটির কিছুটা ছাপ পাওয়া যায় যখন মুখের ওপর সত্য কথা বলতে গিয়ে পিছপা হন না।ড.ইউনূসের নোবেল প্রাইজ পাওয়ার ঘটনায় তীব্র আনন্দিত হন,ব্যক্তির সাফল্য ভেবে কুকড়ে যান না।
অরূপ পাত্তা দেন না এখানে অনেককেই,তাই অনেকের মন্তব্যের ঘরেই তাকে পাওয়া যায় না।
তার লেখার ভেতরের তীব্র দেশপ্রেম তাই না বললেও প্রকাশিত হয়ে পড়ে।
নিজের সম্মন্ধে সব কিছু বলেও মাঝে মাঝেই নিজের অসহায়ত্বটুকুও উজাড় করে বলে দিচ্ছেন :
"আমি পিয়াল ভাই না। আমি অর্থ-সংসার-বিনোদনের চক্রে আটকে পড়া আরেকটা হিপোক্রেট। পেট আর পকেট। বোধগুলো সব ফ্লাশ করে দিয়েছি সেই কবেই.."
ওয়েল সবমিলিয়ে উপসংহারে বলি,অরূপের ব্লগিং আমি বেশ উপভোগ করি।
তবু তার অবস্থান স্পষ্ট।তীব্র দেশপ্রেমে মগ্ন হয়ে তিনি দেশের জন্য ভাবেন বলেই আমাদের জানান যে
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
(এই কমেন্টের ঠিক আগের কমেন্টটি মুছে ফেলেন@মুর্শেদ)অরূপের যে জিনিষটা আমার ভালো লাগে ,সেটি হলো তার নিজস্ব মতামতের তীব্রতা। তার লেখায় সেটা ফুটে ওঠে।"বেজন্মার জাত "বলে তিনি শিরোনামেই তার কথা সেরে নেন,তাই একটা ছোট্ট পোস্টই আলোড়ন তুলে অনেক বেশি।
আরেকটা ভালো দিক হচ্ছে তার ব্লগীয় রাজনীতিতে অনুতসাহ।এটা যখন বিরক্তিকর হয়ে যাচ্ছে,তখন তিনি তার ২০০ তম পোস্টে সবাইকে বিদায় জানাচ্ছেন।আবার ব্লগের টাইটেলে বলে দিচ্ছেন,''ক্যাচাল করলে অন্যকোথাও,এখানে না"।
ব্লগের সাথে তার সম্পর্কটা অনেকটাই সহজাত।সেটার মাঝে আরোপিত কিছু নেই।তাই অরূপ মাশীদ জুটিটাকে সহজেই আপনা লোক মনে হয়।তার সাড়ে ৫০০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট থেকে গোপালভাড়ের খুজে দেয়া ফ্ল্যাট,মধ্যরাতে টিভি কিনে আনা..সবকিছুই পারফেক্ট ব্লগিং।একেবারে ওয়েবলগ।
হুটহাট পোস্টগুলোতো আছেই।এই ছবি তুললাম,এই গানটা দরকার,আচ্ছা কি রাধলে দেশের পরিচয় দিতে পারি,রবি বাবুর জন্মদিন খেয়াল আছে,মাশীদেরও কিন্তু আরেক বছর বয়েস বাড়লো।
একটা ভালো জিনিষ তার মাঝে দেখেছি,সেটা হচ্ছে শেয়ারিংয়ের একটা চেষ্টা।খুজে পেতে বিবিসির অনুষ্ঠান,ইউটিউবের পোস্ট,বিদেশেও ওভারব্রীজ ভেঙ্গে পড়ার ঘটনা,বাবাকে দেখতে যাওয়ার জন্য এক তরুনের আকুতি..সব কিছুই ছোট ছোট ঘটনা কিন্তু আমাদেরকে তার সাথেই ঘুরিয়ে আনে সেই জায়গাগুলো।
লেখায় স্ট্রং পার্সোনালিটির কিছুটা ছাপ পাওয়া যায় যখন মুখের ওপর সত্য কথা বলতে গিয়ে পিছপা হন না।ড.ইউনূসের নোবেল প্রাইজ পাওয়ার ঘটনায় তীব্র আনন্দিত হন,ব্যক্তির সাফল্য ভেবে কুকড়ে যান না।
অরূপ পাত্তা দেন না এখানে অনেককেই,তাই অনেকের মন্তব্যের ঘরেই তাকে পাওয়া যায় না।
তার লেখার ভেতরের তীব্র দেশপ্রেম তাই না বললেও প্রকাশিত হয়ে পড়ে।
নিজের সম্মন্ধে সব কিছু বলেও মাঝে মাঝেই নিজের অসহায়ত্বটুকুও উজাড় করে বলে দিচ্ছেন :
"আমি পিয়াল ভাই না। আমি অর্থ-সংসার-বিনোদনের চক্রে আটকে পড়া আরেকটা হিপোক্রেট। পেট আর পকেট। বোধগুলো সব ফ্লাশ করে দিয়েছি সেই কবেই.."
ওয়েল সবমিলিয়ে উপসংহারে বলি,অরূপের ব্লগিং আমি বেশ উপভোগ করি।
চোর বলেছেন:
শোহেইল ভাই আমার কথাগুলো বলে দিয়েছেন।
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
মাঝে মাঝে একটু বাড়াবাড়ি করে বেশী ......তবেআড্ডা টাইপ ....লেখার মধ্যে বেশী ...যেটা এই ব্লগের জন্য অন্তত বেশী উপযোগী
মধুমতি বলেছেন:
মাহবুব মোর্শেদ, আমার মনে হয়, অরূপ এমন কোনো লেখক না, যারে নিয়া এইরম আলোচনা হইতে পারে।তার একটাই যোগ্যতা, সে অনেক পুরনো ব্লগার। ব্লগে তার কিছু বন্ধুবান্ধব আছে। তার চানাচুর মার্কা পোস্টে তারা নিয়মিত কমেন্ট ফমেন্ট দিয়া যায়।
লেখক হিসাবে সে জিরো।
তার দেশপ্রেমরে স্যালুট দেই। কিন্তু, লেখক সত্ত্বারে বেইল দেয়ার কিছু নাই।
শাওন বলেছেন:
ব্লগে প্রথম খেপছি আরূপের বিরুদ্ধে । সেই যে . . . হাহা ।লেখা পড়া হয়ে ওঠেনি তেমন । মন্তব্য করা ঠিক হবেনা যার লেখা পড়া হয়ে ওঠেনি ।
গোপাল ভাঁড় বলেছেন:
খুবি ভাল একজন লেখক..
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
তেলাচুরা হাসে কেন?
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
মধুমতি তাহলে এতোগুলোক কি ভুল বলেছেন?
রেজওয়ান বলেছেন:
কে লেখে কেমন সেটা বেশ আপেক্ষিক। আমাদের বিচারটি কোন প্রেক্ষাপটে হচ্ছে সেটিই গুরুত্বপুর্ন। একটি ছোটকাগজে বা পত্রিকার সাহিত্যপাতার জন্য লেখার মানদন্ড হবে একরকম আবার ব্লগে বা ফোরামে লেখার জন্যে মানদন্ড হবে আরেকরকম। ঐ যে বলে যে সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি। এই ব্লগে কিছু প্রফেশনাল লেখক আছেন যারা লেখালেখি আগেও করেছেন এবং তারা যে কোন বিষয়ই সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পারেন। আবার কেউ কেউ লিখতে গিয়ে আবেগকে প্রধান্য দেয় বা ভুল শব্দচয়ন করে। কিন্তু তাই বলে তাদেরকে একই মানদন্ডে বিচার করলে হবে না।
ব্লগে লেখার ক্ষেত্রে আমার কাছে পেছনের মানুষটিও গুরুত্বপুর্ন। কোন লেখা সুখপাঠ্য হলে এবং বিরক্তির উদ্রেক না হলেই আমি পড়ি।
অরুপ সম্বন্ধে তার এবং মাশিদের লেখা থেকে অনেক জেনেছি। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বাংলাদেশ ডট নেটের ওয়েবসাইটটি http://www.bangladesh.net/muktijuddha/main.htm (এখন কাজ করছে না) তার করা জেনে তার প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে গেছে।
তিনি তার ব্যক্তিত্বকই উপস্থাপন করেন তার লেখায়।
মধুমতি বলেছেন:
কে ভুল বলছেন আর কে ঠিক বলছেন, আমি ক্যামনে বলব। আমি আমার নিজের কথা কইছি।
মধুমতি বলেছেন:
অরূপ অনেক পুরনো ব্লগার। সেই যুগের ব্লগার যে যুগে সুলেখক ছিল হাতে গোণা। যুথচারী, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, আরিফ জেবতিক, আলবাব সাহেব, হোসেইন এরা তখন্ও দৃশ্যপটে আসেননি। তখন অনেক বাজে লেখাও হাইলাইটেড হইছে। সেই গুড উইল ভাঙায়ে অনেক পুরনো ব্লগার এখনও খেয়ে যাচ্ছেন।আপনারে উল্টো একটা দুটো প্রশ্ন করি।
১) অরূপের তো প্রায় শ আড়াই পোস্ট হয়ে গেল। কয়টা পোস্টে সারবস্তু বলে কিছু আছে যে তারে লেখক কইবেন?
২) ধরেন, অরূপ পুরানা ব্লগার না। নতুন আইছে ব্লগে। এবং আইসা গত দুইমাসে যেসব পোস্ট দিছে সেগুলো দিছে। তার মধ্যে কয়টা আপনারে টাচ করত বা আপনার মনে হইত, পোলাডাতো ভালই লেখে।
মধুমতি বলেছেন:
আম একটু ঠোঁটকাটা। কিছু মনে কইরেন না।
নজমুল আলবাব বলেছেন:
মাশীদের 'অপু ও আমি' বিষয়ক লেখা পড়ে খুঁজতে শুরু করি অপুরে। পাইলাম অরূপ। আমার ভাল লাগে তার লেখা। সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে, খেলার দিনে গান বাজানোর ব্যাপারটায়। আর ভাল লাগে তার স্পস্টবাদিতায়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার স্পস্ট অবস্থানকে আমি প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি।ওকে পছন্দ করার আরেকটা কারন মনে হয় মাশীদ! রাগ করবেননা অরূপ। ভার্চুয়াল জগতে আমি এত স্নেহ আর কোন মানুষকেই করিনি এখনও! কোন এক আজব কারনে এই মেয়েটাকে আমার খুব ভাল লাগে। আমার বউ, সন্তান তারাও মাশীদের ভক্ত! দেশে এসে মোবাইলে আমার ছেলের সাথে ও কথা বলার পর, ছেলে তার ফুপ্পিকে খোজ করে! সেই মাশীদের প্রিয় অপুতো আমার পছন্দের মানুষ না হয়ে পারেনা...
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
মধুমতি ঠিকাছে। তীব্র সমালোচনাও চাই।
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
আমি কিছু না কইলেই ভালো, কারণ ইদানিং একটা সম্পর্ক মনেহয় স্থাপিত হইতে যাইতেছে। সেই সম্পর্কে আবার তিনি আমার মামা শশুড় হইতে পারেন। মামা শশুড়ের লেখা নিয়া কথা কওয়ার রেওয়াজ আমাদের পরিবারে নাই। তওবা তওবা!

ঐটা ক্লাস হইছিল
আর এই চামে বলি, অরূপ আর মুর্শেদ মিলে কনভার্টারের যে ওয়েবসাইট বানিয়েছেন ওটার জন্য আলাদা সাবজেক্টে দুইজনকেই ১০০ .. অনেক কাজে লাগছে
তীরন্দাজ বলেছেন:
অরুপ বেশ একজন ত্যাড়া কিন্তু সত মননের মানুষ। তার লেখায় তা পরিষ্কার ফুটে ওঠে।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
কেমন লাগে অরূপের লেখা? * তেমন ভালো না, কিছু লেখা মোটামুটি।
খুব বেশী আঘাত করে পাঠকের একটা শ্রেণীকে?
* সত্য( পাক মন পেয়ারগো)
আপনি কখনও আহত হয়েছেন?
* না০
তার আবেগগুলোকে খাঁটি নাকি ফাঁকা মনে হয়?
* অবশ্যই না
তার লেখা দেখে পড়েননি এমন হয়েছে?
* রেগুলার
বড় কিছু লিখে ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করেন?
* বিশ্বাষ করি
মানুষ হিসেবে কেমন মনে হয় তাকে?
* মাথা গরম, হামবড়া ভাব আছে, তবে মানুষ ভালো।
তার লেখায় মন্তব্য করতে কি ভয় পান?
* তার লেখায় জীবনে ১ বার কমেন্ট করেছি। ভয় পাই না
কিভাবে দেখতে চান ভবিষ্যত অরূপকে?
* আরো মোটা ও ভূড়ি ওলা ৭ বাচ্চার বাপ হিসেবে।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
এক শব্দে বললে দুর্দান্ত ব্লগার! পারফেক্ট ব্লগিং বললেও চলে। তোলা ছবিগুলোর খুব ভক্ত। খুঁজে দেয়া ছবি বা ভিডিওর-ও। না পড়লে মনে হয় কিছু মিস করে গেলাম।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















