বন আছে,বিশাল সবুজ সবুজ গাছের ঘন বন।ঘনত্বকে আরো গভীর করে দেয়া করে দেয়া ঝোপঝাঁড় আছে।হয়ত ঝোপঝাঁড় নেই কিন্তু পতঙ্গের দলের গানের আসর বসে।আবার হতে পারে সেখানে কোন পতঙ্গের আনাগোনা নেই।কিংবা পতঙ্গ আছে অথচ ঝোপের বালাই নেই।আবার এমনও হতে পারে সেখানে কোন বন নেই।ধরনীর সবকিছু অনিশ্চিত-শুধুমাত্র এই বিষয়টি নিশ্চিত।
আপাতত তাই,আমার বন নিয়ে ভাবনা নেই।বনের ভাবনার সাথে পরিপূরকভাবে অনেককিছু চলে আসবে।চলে আসলে তারা থাকার জায়গা চাইবে।আমার ছোট্ট ঘরে আলোর স্থান নেই,পা ফেলার মাটি নেই-ভাবনা এলে কোথায় থাকবে?
ভাবনা নামের কোন মেয়ের আসার কথা থাকলে চিন্তা করে দেখতাম।একটু সাহসী হয়ে আমার পচা কাঠের নড়বড়ে খাটে একসাথে থাকার প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে দিতাম।যেহেতু ভাবনা মানে মেয়ে না হয়ে এক্ষেত্রে চিন্তা আর চিন্তা মানে দুঃশ্চিন্তা- আমি ভাবনা থেকে দূরে থাকি।
আমি কেমন,আমি জানি।হয়ত অনেকে জানে আবার কেউ জানে না।কে কে জানে,জানতে চেয়ে দেখি আমি কেমন সেটা নিজেই জানি না।নির্মলেন্দু গুণের মতো করে মানুষকে সাপ ভেবে জাপটে ধরি না।মানুষকে আসলে কখনো জাপটে ধরি না।আমি ভয় পাই,মানুষকে।অথবা মানুষ ভয় পায় আমাকে।ভাবার ক্ষমতা থাকলে বের করা যেত।আমি ভাবি না,তাই অনেক কিছু জানি না।
আমার বাবাকে আমি চিনি না,মা’কে একসময় চিনতাম।একটা ভাই ছিল।সে কি করে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।মনে হয় বেঁচে নেই।বেঁচে থাকলেও আমাকে মৃত ভেবে আমার থেকে দূরে আছে।এমন হওয়া অসম্ভব কিছু না।আবার সাধারণ দৃষ্টিতে চিন্তা করলে সম্ভব না।সম্ভব-অসম্ভবের মাঝে যে দেয়াল আছে,আমার ক্ষেত্রে এসে ইট ভেঙে ভেঙে কেবল দেয়ালের চিহ্ন রয়ে গেছে।আমি ইট খুঁজি না।সম্ভব-অসম্ভবের ব্যবচ্ছেদ করতে যাই না।এসব করতে গেলে ভাবতে হয়।ভাবনা আমার পছন্দ না।
ভেবে আমি সারাজীবনে একটি কাজ-ই কেবল করেছিলাম।একজনকে বলেছিলাম,ভালোবাসি।কোনো কবিতার পঙক্তির আশ্রয় নেই নি।শুধু বলেছিলাম,ভালোবাসি।তার অবাক দৃষ্টি দেখে মনে হয়েছিল,এমন অদ্ভূত কথা জীবনে শুনে নি।আমিও চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।মনে হয়েছিল,ভালবাসার কথা বলতে নেই।তখন আমি ভেবেই বলেছিলাম।ভাবনায় ভুল ছিল।তাই এখন এমন হয়ে গেছি।
আমি একটা মেয়ে।আরো স্পষ্ট করে বললে মেয়েমানুষ।খুব অবলীলায় তবু এশাকে বলেছিলাম ভালোবাসি।এখন আর অবলীলায় কিংবা স্পষ্ট করে কিছু বলি না,বলার সুযোগ পাই না।
এশা খুব শান্ত কন্ঠে বলেছিল,তোমার হরমোনে প্রবলেম আছে!
জানি আছে কিংবা জানতাম।এই সমস্যা আমি তৈরী করি নি।আমি শুধু ভালোবাসার কথা বলতে চেয়েছিলাম।
আমাকে পাগল প্রমানিত করে এখন যে ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে,সেখানে কোনো জানলা নেই।স্টোর রুম পরিষ্কার করে থাকতে দেয়া হয়েছে।পরিবারের মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে আমি থাকছি।আসলে হয়ত এখন আর মুগ্ধতা নেই,মুগ্ধ হতে হলে ভাবতে হয়।আমার ভালোবাসার ভাবনা চলে যাওয়ার পর আমি আর ভাবতে পারি না।
মাঝে মাঝে আমার সৎ বাবা আসেন।নানা-উছিলায় শরীরের এদিক-সেদিক হাত বুলিয়ে বিয়েতে রাজি হবার কথা বলেন।আমি শুধু শুনে যাই।ভাবনাবিহীন মানুষ বিয়েতে মত দিতে পারে কি’না আমার জানা নেই।
এখন আমি ডায়েরী লিখি।ছেড়া সুতোগুলো সাজাতে চেষ্টা করি।আমি সুই বাঁধতে পারি না।সবকিছু তাই এলোমেলো হয়ে যায়।
আমি তাই বন দেখি না,পাখি দেখি না,আকাশ দেখি না,সাগর দেখি না।
ভাবনা জায়গা দেওয়ার মতো জায়গা আমার নেই।বলতে চেয়েছিলাম শুধু,ভালোবাসি!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



