আমার প্রিয় পোস্ট
- সামহয়ারে আসার আগে আমি যে লেখকদের চিনতাম পরে সামহয়ারেও যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি ব্লগীয় রাউন্ড টেবিল আলোচনার প্রস্তাব - মাহবুব মোর্শেদ
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কুড়ি বছর - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহয়ার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ # বিষয় : মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি - মাহবুব মোর্শেদ
- ওয়ান্স আপন এ কান্ট্রি, সামহয়ার ইন দ্য ওয়েব - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীন : সফল নাট্যকার ও শিক্ষকের বিদায় - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীনের সাক্ষাৎকারের বাকী অংশ - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার নব্যরাজাকারিতার সন্ধানে - মাহবুব মোর্শেদ
- আমেরিকার নির্বাচনে ভোটার হওয়ার আবেদন - মাহবুব মোর্শেদ
- এক চিত্রনায়কের জন্য আমার শোকগাথা - মাহবুব মোর্শেদ
- জয় বাবা আলুনাথ! - মাহবুব মোর্শেদ
- পাকিস্তান, পারভেজ মোশাররফ, গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল আর্মি - মাহবুব মোর্শেদ
- ছোটদের অর্থনীতি অথবা কয়দিন ধরে যা কিছু কথা ভাবতেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি চিঠি... ভাস্করদা ও সুমন ভাইকে - মাহবুব মোর্শেদ
- এখানেও আমরা ব্যর্থ হবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি বাসি বিজ্ঞাপন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি গল্পের পরীক্ষামূলক উতক্ষেপন : জিসম # মাহবুব মোর্শেদ - মাহবুব মোর্শেদ
- বুনুয়েলের বুর্জোয়া - মাহবুব মোর্শেদ
- এই ছবি আমি তুলেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- প্রেমেক্কার শ্বশুর বাড়ি - মাহবুব মোর্শেদ
- তুই ...রে ব...সন্ত সমী...রণ - মাহবুব মোর্শেদ
- ফাদার গাস্তঁ রোবের্জের সাক্ষাৎকার - মাহবুব মোর্শেদ
- তারেক মাসুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- টেগোর ইন দ্য টাইম অব এমার্জেন্সি - মাহবুব মোর্শেদ
- বহুদিন পর আবার হরিদাস পাল - মাহবুব মোর্শেদ
- কবি আল মাহমুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- ব্লগে পোস্টিংয়ের স্লথগতি - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহোয়ার, ইলেকট্রনিক মোল্লা, ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ ও লেখক যশোপ্রার্থীদের তড়পানি - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার সচলায়তন অভিজ্ঞতা : সে এক কাহিনি বটে! - মাহবুব মোর্শেদ
প্রেমেক্কার শ্বশুর বাড়ি
১২ ই মার্চ, ২০০৭ দুপুর ১২:৩২
তখন আমি থার্ড ইয়ারে। পকেটে টাকা পয়সা নাই। কিন্তু নিত্যানন্দের মতো মদ আনো মদ আনো অবস্থা। শীতকালে বিরহী উত্তুরে বাতাস খালি মন কাঁপিয়ে যায়। হঠাৎ রাস্তায় সঞ্জীবের সঙ্গে দেখা। সঞ্জীব বলে চলো বন্ধু মদ খাই। আমি বলি কেমনে খাবা? পকেটে টাকা পয়সা আছে আছে কিছু? সঞ্জীব দিলদরিয়া বলে চলো। অসুবিধা নাই। কই যাবা সাভার না নবীনগর? না চলো আজকে প্রেমাক্কার শ্বশুর বাড়ি যাই। শ্যাপেল মানে শাপলু নাকি এই নতুুন ঠেক আবিষ্কার করছে। তবে তাই হোক, তুমি এসো হৃদয়ে। চলো। বাসে করে সাভার যেতে যেতে সঞ্জীব প্রেমাক্কার কথা বলে। প্রেমাক্কা সাভার তেকে রাজাসন পর্যন্ত রাস্তায় রিকশা চালাইতো। পরে কী কারণে জানি মারা গেছে। প্রেমাক্কার মৃতু্যর আগে তার শ্বশুর মারা গেছে। শ্বশুর কী করতো তা অবশ্য জানা যায় না। ওদের পরিবারে বেঁচে আছে শুধু প্রেমাক্কার বউ আর শ্বাশুড়ী। শ্যাপল নাকি বলছে, সাভার স্ট্যান্ডে যে কাউরে প্রেমাক্কার শ্বশুর বাড়ি বললে চিনবে। সে মোতাবেক আমরা জিজ্ঞাস করি। কিন্তু কেউ বলতে পারে না। ফলে অনির্দিষ্ট ভাড়া ও গন্তব্য সূত্রে একটা রিকশা ভাড়া হয়। সে আমাদের রাজাসন পার হয়ে কমলাপুর নামক এক স্থানে নিয়ে ফেলে দেয়। দুইদিকে সরিষার হলুদ আর মূলার শাদা আবাদ। হাঁটত হাঁটতে বিকাল হয় হয়। এমন সময় একটা দোকান দেখা যায়। সঞ্জীব বলে চলো, চা সিগারেট কিছু খাই। চা খাইতে খাইতে দোকানদারকে জিগাই। ভাই, মদ্যাহার কিছু জুটিবে এ স্থানে? তিনি বলে নিকটের ভদ্রমহোদয়ের জন্য একখানা শুড়িখানা আছে বঠে। তার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা দূরে তালগাছের নিচে একখানা বাড়িকে লক্ষ্য করিয়া পথ চলিতে শুরু করি। হাটতে হাটতে বাড়ির কাছে গেলে একটি স্ত্রী লোক আমার লম্বা চুল দেখে হাসে। বলে, কারে খুঁজেন। আমরা অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মতো করে বলি এটাই কি প্রেমাক্কার শ্বশুর বাড়ি। তিনি বলেন আপনারা যথাস্থানেই আসিয়াছেন। গলা ভিজাইবার মতো কিছু মিলিবে কি? তিনি বললেন এইখানে খাবেন না নিয়া যাবেন? আমরা বাড়ির ছাগদিগের গন্ধে ব্যাকুল হইয়া মদ্য সঙ্গে লইয়া অন্যত্র প্রস্থান করিবার সিদ্ধান্তে আসি লাম। পকেটে একটি বোতল কেনার সামর্থ নাই বলিয়া দুই বন্ধু দুটি পলিথিনে পর্যাপ্ত মদ্য নিয়া মুদ্রা পরিশোধ করিলাম। ফিরিব কি? পথিমধ্যে একটি সরিষা ক্ষেত পড়িলে সেই নির্জন জনমানবহীন ক্ষেত্রে মদ্যাহার সারিবার মনস্থ করিলাম। কিন্তু কি দিয়া খাইব? বসিয়া ভাবিতেছি। সঞ্জীব বলিল, বন্ধু দেখ। তার অঙ্গুলি অনুসরণ করিয়া দেখিলাম, দূরে বংশাই নদীর শুকনা প্রবাহের অপর তীরে একটি দোকান। সেখানে গিয়া মুড়ি চানাচুর মিলিল। সঙ্গে কিছু পেয়াজ ও কাঁচা লঙ্কা, সরিষার তেল। আরেকটি পলিথিনে সেগুলি মাখাইয়া আবারও নির্জন ক্ষেতে আসিলাম। পলিথিনে ছিদ্র করিয়া মদ্যাহার শুরু করিলাম। এইভাবে সন্ধ্যা ঘনাইলো। সঞ্জীব বলিল, বন্ধু চলো। আমি বলিলাম চলো। ফিরিবার পথে দেখিলাম। ওই স্থানে খুব কাছেই সাধু জোসেফের গির্জা অবস্থিত। গির্জাটি হয়তো তথাস্থানেই আছে। কিন্তু প্রেমক্কার স্ত্রী ও শ্বাশুড়ি কেমন আছে কে জানে!
প্রকাশ করা হয়েছে: ডায়েরি বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
এতো কষ্ট ....!!
অমিত আহমেদ বলেছেন:
সাধু সাধু! গুরুজন বলেন কষ্টসাধ্য ফল মিঠা বটে!
অতিথি বলেছেন:
বটে।
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
আপনাদের শ্যাপেল বা শাপলু কি আবু মুস্তাফিজ ? তিনি তো বিশিষ্ট কবি। খালি খাচ্চর খাচ্চর কবিতা লেখে। ভদ্রলোক যে মদ্যাহার পছন্দ করে সেটা তার লেখা পড়েই বোঝা যায়।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
হ ঠিকই কইছেন। না ঠিক কন নাই।


















