আমার প্রিয় পোস্ট

mahbubmorshed@ymail.com

টেগোর ইন দ্য টাইম অব এমার্জেন্সি

০৯ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:১১

                       

কুষ্টিয়া থাকতে আততীয় বন্ধু যেই ঘুরতে যাইতো তাকেই নিয়া যাইতে হইতো শিলাইদহ। বহুবার গেছি। একা একাও গেছি মেলা। শহরের টেগার লজে গিয়ে অবাক হইতাম যে, এইখানে এসেও জমিদার পুত্র থাকতেন। এই ছোট বাড়িতে। কুঠিবাড়িও ছোট। কেমন যেন কম কম লাগে। রবীন্দ্রনাথ নৌকা-পাল্কি সহযোগে কুষ্টিয়া শহরে যাইতেন টেনিস খেলার জন্য। সেই শহরের কিছু সময় কাটাবার অর্থ আমার কাছে রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যে কাটাবার মতোই আনন্দময় মনে হয়েছিল। কলেজ জীবনের আগুনের পরশমণি মার্কা রাবিন্দ্রিক আবহে একটু উষ্ণতা জাগতো। জেগে থাকতো। রবীন্দ্রনাথ পড়া হতো। গান শোনা হতো এক সঙ্গীতসেবী বান্ধবীর সৌজন্য ও বদান্যতায়। ঘরে বাইরে নিয়ে একটা ধারাবাহিক লেখাও লিখেছিলাম স্থানীয় পত্রিকায়। এখন ভাবতে গেলেও ভয় ও লজ্জা লাগে। সুমন চট্টোপাধ্যায় তখন বেশ জনিপ্রিয়। প্রাণে গান নাই বলে বুঝি তাই রবি ঠাকুর মূর্তি গড়া। ফলে, আমরা চেয়েছিলাম মূর্তি না গড়ে প্রাণে একটু গান বহাবার। বুঝি, রবীন্দ্রনাথ বক্তৃতা, মূর্তি গড়া আর বিশদ বিশেষণে কণ্ঠকিত করার জন্য মোক্ষম একটা নাম। তিনি আকাশ ও মাটিকে এক সূত্রে মিলিয়েছেন বললে কিছু বুঝা যায় না। তিনি অমুক তিনি তমুক। তিনি কত কিছু। কিন্তু প্রাণ ভরে না। কারণ প্রাণে সত্যিই কোনো গান নাই আজ।
এ সব উপলদ্ধি অনেক পরের। রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করার কিছু নাই।তাকে আয়ত্ত করার আছে। সম্পূর্ণ রবীন্দ্রনাথ পড়ে ওঠাও এক কঠিন ব্যাপার। বিরোধিতা করবো কী? আগে তো পড়ে শুনে বুঝে উঠতে হবে। কিন্তু রবীন্দ্রবাদী রক্ষণশীল বৃদ্ধদের যে বিরোধিতা করতে হবে সেটা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রবীন্দ্র ব্যবসায়ীদের কথা সেই কবে ত্রিশের কবিরা বলে গিয়েছিলেন। ব্যবসার অন্ত ঘটে নাই। ব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিকতা পেয়েছে আরও।
এবার বাংলাদেশে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালনের বেশ একটা প্রাদুর্ভাব দেখা গেল। পালনের আতিশয্য দেখা গেল। দেশে একদা শ্রী ঠাকুর অস্পৃশ্য ছিলেন। সরকারি প্রচারযতন্ত্রে নিষিদ্ধ আছিলেন। নিষিদ্ধ থাকার কারণে তার গান গাওয়াটাই ছিল একটা প্রতিবাদ। ফলে বাংলাদেশে আমারও পরাণও যাহা চায়.. গাওয়া হতো প্রতিবাদ হিসেবে। প্রতিবাদের রেশ এখনও বহাল। মানে চলিতেছে। কত এমার্জেন্সি গেল, কত সামরিক সরকার এলো, কত গণতন্ত্র চর্চা হলো রবীন্দ্রনাথের নাম সগর্বে তর্পণ করার রীতি তো দেখি নাই। কিন্তু এবার সরকার বেসরকার সবাই রবীন্দ্রাবহে ভাসমান। একেক জনের বক্তিমায় সফেন হয়ে উঠলো ঢাকার আকাশ। সাটেলাইটের মাধ্যমে আকাশও কাঁপলো।
এমন তো পশ্চিমবঙ্গেও ঘটেছে বলে মনে পড়ে না।
সহসা মনে পড়লো, পার্থক্য তো আছেই। সেবার ক্ষমতা দখল হয়েছিল বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম বলে। আর এবার সিভিল সোসাইটি হলেন চালকের নাম ভূমিকায়। এবারের এমার্জেন্সি হলো, সিভিল শ্রেণীর সুসময়ের এর্মাজেন্সি। তাদের রবীন্দ্রনাথ, তাদের পোশাকী সংস্কৃতি, ভাল-মন্দ নিয়ে একটু বাতাস কাঁপবে। আকাশ কাঁপবে। ক্ষতি কী?

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রবীন্দ্রনাথ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: পঞ্চতন্ত্র  বিভাগে ।

 

  • ৯ টি মন্তব্য
  • ৩৮৬বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৯ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৯
comment by: হাসিব বলেছেন: - রবীন্দ্র ব্যবসায়ীদের কথা সেই কবে ত্রিশের কবিরা বলে গিয়েছিলেন।
- ফলে বাংলাদেশে আমারও পরাণও যাহা চায়.. গাওয়া হতো প্রতিবাদ হিসেবে।

একটু বিস্তারিত বলেন । জানার ইচ্ছা আছে ।
২. ১০ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৫১
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: হাসিব,
রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে ত্রিশের কবিদের অভিব্যক্তি ছিল জটিল। রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে নতুন কবিতা লিখতে গিয়ে তারা অনুভব করেছিলেন এই কবি সব দিকেই তাদের পথ রূদ্ধ করে আছেন। তাকে অতিক্রম করা সত্যিই খুব কষ্টকর। একদিকে তার প্রতি ছিল তাদের শৈল্পিক ঈর্ষা। অন্যদিকে সমীহ। ত্রিশের এক কবি অমিয় চক্রবর্তী তো সরসরি রবীন্দ্রনাথের সরাসরি সেক্রেটারি ছিলেন। জীবনানন্দ দাশ রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রচণ্ড অনুরক্ত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে উদ্দেশ্য করে তিনি ছয়টি কবিতা লিখেছিলেন। বুদ্ধদেব বসুও নানা প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথের কাছে যাওয়া আসা করতেন। সুধীন্দ্রনাথ ও বিষ্ণুদের কথা আমি তেমন জানি না। তবে এই অনুরাগের বাইরে তারা রবীন্দ্রনাথকে পুরাতনপন্থীদের প্রতীক বলে বাখোয়াজী করতেন। তার কবিতা অনাধুনিক এ অভিযোগও উঠেছিল। এই ডামাডোলের বাইরে তারা যে ব্যাপারটি ধরেছিলেন তা হলো বাংলা জুড়ে রবীন্দ্রব্যবসা শুরু হয়েছে। যার সঙ্গে শিল্প সাহিত্যের কোনো সম্পর্ক নাই। এ রবীন্দ্র ব্যবসায়ীরা শুধু যে রবীন্দ্রনাথকে খণ্ডিত করেছেন তা নয়, তারা তরুণ লেখকদের পথ অশৈল্পিক পথে রুদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব।
খুব সম্ভবত ভাষা আন্দোলনের পর বাংলাদেশে টিভি ও সরকারি বেতারে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধি হয়। পাকিস্তানপন্থীদের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রসাহিত্যকে হিন্দুয়ানি আখ্যা দেয়া হয়। তখন বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রদের মধ্য থেকে তীব্র প্রতিবাদ ওঠে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিরোধের মধ্যে নানা দিকে রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গান হোক কি প্রকৃতির গান রবীন্দ্রনাথের গাওয়াই ছিল প্রতিবাদ। আদতে সে গানে প্রতিবাদের লেশ থাকুক আর না থাকুক।
জিয়া এরশাদ আমলে সরকারি অপরিণামদর্শিতা রবীন্দ্রনাথের গানের সেই প্রতিবাদী মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছিল। একজন সাহিত্যিকের কাজকে সাহিত্য হিসেবে পাঠ ও মূল্যায়ন করার জন্য সেই সাহিত্যিক সম্পর্কে যে সহনশীলতা অর্জন করা দরকার তা আমরা কখনো পাইনি। কখনও আতিশয্য কখনো অবমূল্যায়ন এই নিয়ে আমাদের কাছে তিনি অর্থহীন শব্দের আলঙ্কারিক কবিগুরু বা বিশ্বকবি থেকে গেছেন।
৩. ১০ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২২
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: প্প্বগ্গপ্প্বজ্জপ্প্বগুপ্প্ব্ত্রপ্প্ব্ল,
....
৪. ১০ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৭
comment by: হাসিব বলেছেন: দ্বিতীয় প্রশ্নে আমি পার্টিকুলার ঐ গানটার কথা জানতে চেয়েছিলাম । ধন্যবাদ ।
৫. ১০ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩০
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: ওই গানটা আমি স্রেফ উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করছি।
৬. ১০ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৩
comment by: সুমেরু বলেছেন: বেশ লাগসে।
ঠিকসে, আরেক পড়তে চাইসিলাম।
যাক, সিনেমা নিয়া লেখেন নাই তায় পাঁচ দিলাম।
৭. ০৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৬
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: আজকের দিনে পুরানা পোস্টটা আবার ভাসাইলাম।
৮. ০৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:০৩
comment by: মৃদুল মাহবুব বলেছেন: রবী ঠাকুরকে নিয়ে আমিও একটা পোষ্ট দেবো ভাবছিলাম আজ। অর্ধেক লেখার পর আর কারেন্ট নাই। দেখি কখন দিতে পারি।

লেখাটি আগেই পড়েছি। আবার পড়লাম। ভালো লাগলো।
০৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:১৭

লেখক বলেছেন: thanx a lot.

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৬৭৪২৬