আমার প্রিয় পোস্ট
- সামহয়ারে আসার আগে আমি যে লেখকদের চিনতাম পরে সামহয়ারেও যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি ব্লগীয় রাউন্ড টেবিল আলোচনার প্রস্তাব - মাহবুব মোর্শেদ
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কুড়ি বছর - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহয়ার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ # বিষয় : মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি - মাহবুব মোর্শেদ
- ওয়ান্স আপন এ কান্ট্রি, সামহয়ার ইন দ্য ওয়েব - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীন : সফল নাট্যকার ও শিক্ষকের বিদায় - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীনের সাক্ষাৎকারের বাকী অংশ - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার নব্যরাজাকারিতার সন্ধানে - মাহবুব মোর্শেদ
- আমেরিকার নির্বাচনে ভোটার হওয়ার আবেদন - মাহবুব মোর্শেদ
- এক চিত্রনায়কের জন্য আমার শোকগাথা - মাহবুব মোর্শেদ
- জয় বাবা আলুনাথ! - মাহবুব মোর্শেদ
- পাকিস্তান, পারভেজ মোশাররফ, গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল আর্মি - মাহবুব মোর্শেদ
- ছোটদের অর্থনীতি অথবা কয়দিন ধরে যা কিছু কথা ভাবতেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি চিঠি... ভাস্করদা ও সুমন ভাইকে - মাহবুব মোর্শেদ
- এখানেও আমরা ব্যর্থ হবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি বাসি বিজ্ঞাপন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি গল্পের পরীক্ষামূলক উতক্ষেপন : জিসম # মাহবুব মোর্শেদ - মাহবুব মোর্শেদ
- বুনুয়েলের বুর্জোয়া - মাহবুব মোর্শেদ
- এই ছবি আমি তুলেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- প্রেমেক্কার শ্বশুর বাড়ি - মাহবুব মোর্শেদ
- তুই ...রে ব...সন্ত সমী...রণ - মাহবুব মোর্শেদ
- ফাদার গাস্তঁ রোবের্জের সাক্ষাৎকার - মাহবুব মোর্শেদ
- তারেক মাসুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- টেগোর ইন দ্য টাইম অব এমার্জেন্সি - মাহবুব মোর্শেদ
- বহুদিন পর আবার হরিদাস পাল - মাহবুব মোর্শেদ
- কবি আল মাহমুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- ব্লগে পোস্টিংয়ের স্লথগতি - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহোয়ার, ইলেকট্রনিক মোল্লা, ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ ও লেখক যশোপ্রার্থীদের তড়পানি - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার সচলায়তন অভিজ্ঞতা : সে এক কাহিনি বটে! - মাহবুব মোর্শেদ
টেগোর ইন দ্য টাইম অব এমার্জেন্সি
০৯ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:১১
কুষ্টিয়া থাকতে আততীয় বন্ধু যেই ঘুরতে যাইতো তাকেই নিয়া যাইতে হইতো শিলাইদহ। বহুবার গেছি। একা একাও গেছি মেলা। শহরের টেগার লজে গিয়ে অবাক হইতাম যে, এইখানে এসেও জমিদার পুত্র থাকতেন। এই ছোট বাড়িতে। কুঠিবাড়িও ছোট। কেমন যেন কম কম লাগে। রবীন্দ্রনাথ নৌকা-পাল্কি সহযোগে কুষ্টিয়া শহরে যাইতেন টেনিস খেলার জন্য। সেই শহরের কিছু সময় কাটাবার অর্থ আমার কাছে রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যে কাটাবার মতোই আনন্দময় মনে হয়েছিল। কলেজ জীবনের আগুনের পরশমণি মার্কা রাবিন্দ্রিক আবহে একটু উষ্ণতা জাগতো। জেগে থাকতো। রবীন্দ্রনাথ পড়া হতো। গান শোনা হতো এক সঙ্গীতসেবী বান্ধবীর সৌজন্য ও বদান্যতায়। ঘরে বাইরে নিয়ে একটা ধারাবাহিক লেখাও লিখেছিলাম স্থানীয় পত্রিকায়। এখন ভাবতে গেলেও ভয় ও লজ্জা লাগে। সুমন চট্টোপাধ্যায় তখন বেশ জনিপ্রিয়। প্রাণে গান নাই বলে বুঝি তাই রবি ঠাকুর মূর্তি গড়া। ফলে, আমরা চেয়েছিলাম মূর্তি না গড়ে প্রাণে একটু গান বহাবার। বুঝি, রবীন্দ্রনাথ বক্তৃতা, মূর্তি গড়া আর বিশদ বিশেষণে কণ্ঠকিত করার জন্য মোক্ষম একটা নাম। তিনি আকাশ ও মাটিকে এক সূত্রে মিলিয়েছেন বললে কিছু বুঝা যায় না। তিনি অমুক তিনি তমুক। তিনি কত কিছু। কিন্তু প্রাণ ভরে না। কারণ প্রাণে সত্যিই কোনো গান নাই আজ।
এ সব উপলদ্ধি অনেক পরের। রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করার কিছু নাই।তাকে আয়ত্ত করার আছে। সম্পূর্ণ রবীন্দ্রনাথ পড়ে ওঠাও এক কঠিন ব্যাপার। বিরোধিতা করবো কী? আগে তো পড়ে শুনে বুঝে উঠতে হবে। কিন্তু রবীন্দ্রবাদী রক্ষণশীল বৃদ্ধদের যে বিরোধিতা করতে হবে সেটা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রবীন্দ্র ব্যবসায়ীদের কথা সেই কবে ত্রিশের কবিরা বলে গিয়েছিলেন। ব্যবসার অন্ত ঘটে নাই। ব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিকতা পেয়েছে আরও।
এবার বাংলাদেশে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালনের বেশ একটা প্রাদুর্ভাব দেখা গেল। পালনের আতিশয্য দেখা গেল। দেশে একদা শ্রী ঠাকুর অস্পৃশ্য ছিলেন। সরকারি প্রচারযতন্ত্রে নিষিদ্ধ আছিলেন। নিষিদ্ধ থাকার কারণে তার গান গাওয়াটাই ছিল একটা প্রতিবাদ। ফলে বাংলাদেশে আমারও পরাণও যাহা চায়.. গাওয়া হতো প্রতিবাদ হিসেবে। প্রতিবাদের রেশ এখনও বহাল। মানে চলিতেছে। কত এমার্জেন্সি গেল, কত সামরিক সরকার এলো, কত গণতন্ত্র চর্চা হলো রবীন্দ্রনাথের নাম সগর্বে তর্পণ করার রীতি তো দেখি নাই। কিন্তু এবার সরকার বেসরকার সবাই রবীন্দ্রাবহে ভাসমান। একেক জনের বক্তিমায় সফেন হয়ে উঠলো ঢাকার আকাশ। সাটেলাইটের মাধ্যমে আকাশও কাঁপলো।
এমন তো পশ্চিমবঙ্গেও ঘটেছে বলে মনে পড়ে না।
সহসা মনে পড়লো, পার্থক্য তো আছেই। সেবার ক্ষমতা দখল হয়েছিল বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম বলে। আর এবার সিভিল সোসাইটি হলেন চালকের নাম ভূমিকায়। এবারের এমার্জেন্সি হলো, সিভিল শ্রেণীর সুসময়ের এর্মাজেন্সি। তাদের রবীন্দ্রনাথ, তাদের পোশাকী সংস্কৃতি, ভাল-মন্দ নিয়ে একটু বাতাস কাঁপবে। আকাশ কাঁপবে। ক্ষতি কী?
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রবীন্দ্রনাথ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: পঞ্চতন্ত্র বিভাগে ।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
হাসিব, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে ত্রিশের কবিদের অভিব্যক্তি ছিল জটিল। রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে নতুন কবিতা লিখতে গিয়ে তারা অনুভব করেছিলেন এই কবি সব দিকেই তাদের পথ রূদ্ধ করে আছেন। তাকে অতিক্রম করা সত্যিই খুব কষ্টকর। একদিকে তার প্রতি ছিল তাদের শৈল্পিক ঈর্ষা। অন্যদিকে সমীহ। ত্রিশের এক কবি অমিয় চক্রবর্তী তো সরসরি রবীন্দ্রনাথের সরাসরি সেক্রেটারি ছিলেন। জীবনানন্দ দাশ রবীন্দ্রনাথের প্রতি প্রচণ্ড অনুরক্ত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে উদ্দেশ্য করে তিনি ছয়টি কবিতা লিখেছিলেন। বুদ্ধদেব বসুও নানা প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথের কাছে যাওয়া আসা করতেন। সুধীন্দ্রনাথ ও বিষ্ণুদের কথা আমি তেমন জানি না। তবে এই অনুরাগের বাইরে তারা রবীন্দ্রনাথকে পুরাতনপন্থীদের প্রতীক বলে বাখোয়াজী করতেন। তার কবিতা অনাধুনিক এ অভিযোগও উঠেছিল। এই ডামাডোলের বাইরে তারা যে ব্যাপারটি ধরেছিলেন তা হলো বাংলা জুড়ে রবীন্দ্রব্যবসা শুরু হয়েছে। যার সঙ্গে শিল্প সাহিত্যের কোনো সম্পর্ক নাই। এ রবীন্দ্র ব্যবসায়ীরা শুধু যে রবীন্দ্রনাথকে খণ্ডিত করেছেন তা নয়, তারা তরুণ লেখকদের পথ অশৈল্পিক পথে রুদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব।
খুব সম্ভবত ভাষা আন্দোলনের পর বাংলাদেশে টিভি ও সরকারি বেতারে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধি হয়। পাকিস্তানপন্থীদের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রসাহিত্যকে হিন্দুয়ানি আখ্যা দেয়া হয়। তখন বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রদের মধ্য থেকে তীব্র প্রতিবাদ ওঠে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিরোধের মধ্যে নানা দিকে রবীন্দ্রনাথের প্রেমের গান হোক কি প্রকৃতির গান রবীন্দ্রনাথের গাওয়াই ছিল প্রতিবাদ। আদতে সে গানে প্রতিবাদের লেশ থাকুক আর না থাকুক।
জিয়া এরশাদ আমলে সরকারি অপরিণামদর্শিতা রবীন্দ্রনাথের গানের সেই প্রতিবাদী মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছিল। একজন সাহিত্যিকের কাজকে সাহিত্য হিসেবে পাঠ ও মূল্যায়ন করার জন্য সেই সাহিত্যিক সম্পর্কে যে সহনশীলতা অর্জন করা দরকার তা আমরা কখনো পাইনি। কখনও আতিশয্য কখনো অবমূল্যায়ন এই নিয়ে আমাদের কাছে তিনি অর্থহীন শব্দের আলঙ্কারিক কবিগুরু বা বিশ্বকবি থেকে গেছেন।
হাসিব বলেছেন:
দ্বিতীয় প্রশ্নে আমি পার্টিকুলার ঐ গানটার কথা জানতে চেয়েছিলাম । ধন্যবাদ ।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
ওই গানটা আমি স্রেফ উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করছি।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
আজকের দিনে পুরানা পোস্টটা আবার ভাসাইলাম।
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
রবী ঠাকুরকে নিয়ে আমিও একটা পোষ্ট দেবো ভাবছিলাম আজ। অর্ধেক লেখার পর আর কারেন্ট নাই। দেখি কখন দিতে পারি।লেখাটি আগেই পড়েছি। আবার পড়লাম। ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: thanx a lot.



















- ফলে বাংলাদেশে আমারও পরাণও যাহা চায়.. গাওয়া হতো প্রতিবাদ হিসেবে।
একটু বিস্তারিত বলেন । জানার ইচ্ছা আছে ।