আর্কিওলজি / ইতিহাস বিষয়ে পড়াশুনা করায় ইতিহাসের প্রতি আমার এক প্রকার বিরাগ তৈরি হয়েছে। কেউ ইতিহাস বিষয়ে কথা বললে একটু স্কুল পালানো ভাব জাগে। তাই সুকৌশলে আমার জীবনকে ইতিহাস থেকে রক্ষা করে চলেছি।
কিন্তু কিছুদিন ধরে একটি ইতিহাস বিষয়ক চিন্তা আমাকে ভাবাচ্ছে। বাংলার ইতিহাসে কি তত্ববধায়ক সরকারের উদাহরণ পাওয়া যায়?
রমেশচন্দ্র মজুমদারের ইতিহাস ঘেঁটে মনে হলো, যায়। সে হিসাবে গোপালই বাংলার প্রথম তত্ববধায়ক সরকার প্রধান। গোপাল ক্ষমতায় আসেন ৭৫৬ খৃস্টাব্দে। এর আগে বাংলায় খুব অনাচার চলছিল। যাকে সাধারণভাবে মাতস্যান্যায় বলা হয়। বলাবাহুল্য, এই ঘটনাটি না ঘটলে বাঙালি কখনোই মাতস্যান্যায়ের মতো কঠিন কথা শিখতে পারতো না।
গোপাল কে, কি ঘটনা কিছু ইতিহাসে জানা যায় না। মানে ক্ষমতা নেয়ার আগে তিনি কি ছিলেন সে বিষয়ে ইতিহাস নিশ্চুপ। কিন্তু ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে ইতিহাসের কলরব শুরু হয়। তিনি মাতস্যান্যায় দূর করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। রুই কাতলাদের দমন করে ছোট মাছের আহার বিহার নিশ্চিত করেন। মোট পঁচিশ বছর রাজত্ব করেন। শুধু তাই নয়, একটি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাও ঘটে তার মাধ্যমে। পাল বংশ।
গোপাল কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিলেন তা বিস্তারিত না জানা গেলেও এটুকু জানা যায় যে তিনি, প্রকৃতিদের দ্বারা সিলেক্টেড হয়েছিলেন। সেই আমলে গণভোটের কথা ভাবা যায় না। কারণ সুষ্টু ভোটার লিস্ট ছিল না। তাই প্রকৃতিরা তাকে রাজা বলে সাব্যস্ত করে ক্ষমতায় বসায়।
প্রশ্ন হলো প্রকৃতি কারা? এখনকার সিভিল সোসাইটির মতো কোনো কিছু কি তখন ছিল? তখনকার অভিজাত ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্ষমতাধরদের কোনো মনোমালিন্য কি হয়েছিল? তা না হলে প্রকৃতি নামে ক্ষমতাধর ফোরামটি কেন গোপালকে বসাবেন? আবার গোপালই কেন ক্ষমতাধর দুর্নীতিবাজদের টুটি চেপে ধরে তাদের শায়েস্তা করবেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


