আমার প্রিয় পোস্ট

http://prothom-aloblog.com/

কবি আল মাহমুদের সাক্ষাতকার

২৪ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

কবি আল মাহমুদ, এ সামান্য পরিচয়েই তার অসামান্য পরিচয়। বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের বছরের পর বছর তিনি আলোড়িত, তাড়িত ও প্রভাবিত করেছেন। শুধু কবিতা নয়, তিনি রচনা করেছেন কালজয়ী বেশ কিছু গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধও। সাহিত্যের পাশাপাশি সাংবাদিকতা করেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এখনো পত্রপত্রিকায় সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজ বিষয়ে বিরামহীন লিখে চলেছেন। কয়েক বছর হলো তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে এসেছে, কিন্তু এই অসুবিধা তাকে রুদ্ধ করতে পারেনি। তিনি সচল রয়েছেন। বাংলা ভাষার অগ্রগণ্য সাহিত্যিকদের মধ্যে তার স্থান প্রথম সারিতে। ১৯৩৬ সালে জন্ম নেয়া কবির উত্থান গত শতকের পঞ্চাশের দশকে। জন্মগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। এই কবি যায়যায়দিনের সঙ্গে কথা বলেছেন তার দীর্ঘ জীবন, জীবন দর্শন, কবিতা ও বাংলা সাহিত্যের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে। সাক্ষাতকার নিয়েছেন মাহবুব মোর্শেদ।

আপনি কবি হিসেবে ৭০ বছরের বেশি বয়স অতিবাহিত করেছেন। দীর্ঘ কবি জীবন আসলে কেমন?

আমার ধারণা, আমার নিজের কথা বলতে পারি। দীর্ঘ জীবন তো এমনি অতিবাহিত হয়নি। অনেক কষ্ট, অনেক দারিদ্র্য, অনেক দুঃখ, আবার সুখও। জেল-জুলুম। কিছু লোক আছে, যে কবিদের প্রতারণা করে সুখ পায়। এসব প্রতারণার শিকার হয়েছি। মোটামুটি একটা জীবন কাটিয়েছি।

কবি জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বলতা কোথায়?

আমার মনে হয় যে, লিখতে পারায়।

লিখতে পারার মধ্যেই কবি জীবনের সবচেয়ে বড় উজ্জ্বলতা। আবার যদি সবচেয়ে বড় গ্লানির কথা বলি, সে গ্লানিটা কোথায়?

গ্লানিটা হলো লিখতে না পারায়। একজন কবি লিখতে পারছেন না, এটাই তার জন্য চরম অসুবিধার। অনেকে জীবিত আছেন কিন্তু আর লিখতে পারছেন না। এটা গ্লানিকর। দুই নাম্বার কথা হলো, আমার মতো যারা দীর্ঘ জীবন পার হয়ে এসেছেন তাদের শারীরিক নানা অসুবিধার সৃষ্টি হয়। যেমন আমার চোখ নেই, অস্পষ্ট দেখি। দেখতে না পারা হলো বিরাট একটা অভিশাপ। আগে প্রতিটি জিনিস খুটিয়ে দেখেছি। খুটিয়ে দেখেছি, খুটিয়ে পড়েছি। এখন তো সেটা আর পারছি না। এক সময় ছিল যে, সারাটা বাংলাদেশ আমি ঘুরে বেড়িয়েছি। একটা ঝোলা কাধে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেছি, নৌকায় নদীতে। মানুষের সঙ্গে। কতো জেলে, কতো ধীবর, কতো যাযাবর, কতো বেদেনি। এ জীবনের যতো বৈচিত্র্য এটা তো আমি ঠিকমতো গ্রহণ করেছি এবং সেটা ব্যক্তও করেছি। আমার লেখায় তা আছে। হয় গল্পে আছে, কবিতায় আছে, নয় তো উপন্যাসে আছে। আছে।

জীবনের পরিণত পর্বে এসে মানুষের মধ্যে এমন কিছু উপলদ্ধি হয় যা অসাধারণ, অতুলনীয়। রবীন্দ্রনাথের মধ্যে যে উপলব্ধিটা হয়েছিল জীবনের শেষ প্রান্তে এসে। সভ্যতা সম্পর্কে, মানুষ সম্পর্কে। মানুষের উত্থান-পতন সম্পর্কে। একজন কবি হিসেবে আপনি যখন জীবনের পূর্ব প্রান্তের দিকে তাকান তখন কি উপলব্ধি হয়?

আমি রবীন্দ্রনাথ খুব উত্তম রূপে পড়েছি। ভাসা ভাসা না। থরোলি পাঠ করেছি। রবীন্দ্রনাথের সব ঠিক আছে, সব অসাধারণ। কিন্তু শেষ বয়সে এসে তিনি জবাব খুজতে গিয়ে বলেছেন, প্রথম দিনের সূর্য প্রশ্ন করেছিল, কে তুমি? তারপর শেষ দিনের অস্তাচলগামী সূর্য প্রশ্ন করেছে, কে তুমি? কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। রবীন্দ্রনাথ এ বেদনাটা উপলব্ধি করেছিলেন। এ বেদনাটা আমার মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম। কারণ প্রথম দিনের সূর্যকে আমি যখন প্রশ্ন করছি তখন এটা জেনেই করেছি যে, উত্তর আমাকে খুজতে হবে। উত্তর আমাকেই বের করতে হবে। সূর্যটা কোনো উত্তর দেবে না।

সে উত্তর কি পেয়েছেন?

আমি তো সব জায়গা দেখতে পাই। একটা কবিতা আছে না, কবির নাম আমার ঠিক মনে নেই, আছো অনলে অনীলে/ চির নভোনীলে/ভূদরে সলীলে গহনে/ আছো বিটপীলতায় জলদের গায়/ শশী তারকায় তপনে। আমি নয়নে বসনও বাধিয়া/ আধারে মরিব কাদিয়া/ দেখি নাই কিছু, শুনি নাই কিছু/ দাও হে দেখায়ে..। আমার বিশ্বাসটা খুব দৃঢ়। আমি সব জায়গা দেখি, বুঝতে পারি। সর্বত্র একটা অস্তিত্ব আমি দেখতে পাই। একজন যদি চায়, আবিষ্কার করবে তাহলে সে সেটা পেয়ে যায়। আমি পাই, স্পর্শটা বুঝি, অনুভব করি।

জীবন পর্বের কোন সময়টাকে আপনার সবচেয়ে আনন্দময় মনে হয়েছে?

সেটা তো মনে করতে পারছি না। তবে কিছু সুখ হয়। যেটা খুব দুর্লভ। যখন কোনো লেখা শেষ করি। সেটা যখন ছাপা হয়। নানা টেলিফোন আসতে থাকে। অজ্ঞাত, অপরিচিত লোকেরা এসে বাসায় দেখা করতে চায়। তখন ভালো লাগে বেশ। বুঝি এখনো টানার, মানুষকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা আমার মধ্যে রয়ে গেছে।

সেটা তো আপনার লেখায় সব সময়ই আছে। সোনালি কাবিনের আমি অনুরক্ত। সোনালি কাবিনের কবিতাগুলোর অনেক বছর পর সে কবিতার অনুরণন পেলাম দ্বিতীয় ভাঙনে এসে। সনেট পঞ্চকে। বহুদিন পর এটা ফিরে এলো কিভাবে?

এটার তো কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবো না। যতোদিন চোখ সচল ছিল, দেখতে পেয়েছি, ততোদিন নানা ছন্দ চিন্তা হয়েছে। নানা বিষয়ে নানা ইমেজারি কাজ করেছে। কবিতার ব্যাপারে কখন যে কি ঘটে যায়, সেটা অনেক সময় কবিও জানে না। সোনালি কাবিন যখন আমি লিখি তখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। অভাব-দারিদ্র্যের মধ্যেই ছিলাম। গোর্খা ডাক্তার লেন বলে জেলেপাড়ার দিকে একটা জায়গা আছে, সেখানে থাকতাম। ইকবাল ম্যানসন বলে একটা বিল্ডিংয়ের চারতলায় থাকতাম। আমার পাশে থাকতেন শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব। চট্টগ্রামের লোকগায়ক। হঠাৎ সোনালি কাবিন লিখি সে সময়। হয়তো একটা মেয়েকে দেখেই লিখেছি বা তাকে উদ্দেশ্য করেই লিখেছি। কিন্তু সেটা তো বড় কথা নয়। কোনো বিশেষ নারী এটার জন্য বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, এই ছন্দভঙ্গিটা। একটানে ১৪টা সনেটে এসে আমি শেষ করে দিলাম। এগুলো আকস্মিক ঘটনা। অনেক সময় বলে না যে, কবিরা বিশেষ কোনো ভরের থেকে এই কাজটা করে। এ রকমই মনে হয় আমার কাছে। কিন্তু, ভর তো না, নিশ্চয় আমার ভেতর প্রস্তুতিটা ছিল। গবেষণাটা ছিল। লেখাপড়া না জানলে, ইতিহাস না জানলে এটা সম্ভব হতো না। বাংলাদেশের আদি ইতিহাস সম্পর্কে আমার বেশ উৎসাহ ছিল, পড়াশোনা ছিল। বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ নিয়ে আমার দারুণ আগ্রহ ছিল। যখন ছোট ছিলাম তখন আমি একজন আর্কিওলজিস্ট হতে চেয়েছিলাম। প্রত্নতাত্ত্বিক হতে চেয়েছিলাম, হয়েছি কবি। এ জন্য এ বিষয়টা আমার কাব্যে খুব এসেছে।

সনেট পঞ্চকের সময় কি ঘটেছিল?

সনেট পঞ্চক তো অ্যাকচুয়ালি ঐতিহ্যবাহী কবিতা। খনা একজন প্রাচীন কবি। আমাদের দেশে জন্মেছিলেন। বলা হয় যে, তিনি বাঙালি ছিলেন। আবহাওয়া দেখে বা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে কৃষিকাজের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী করতেন তিনি। প্রকৃতির কবি। যদি ঝড়ে ফাগুনে, রাজা যায় মাগনে, এসব বিষয় এসেছে খনার কবিতা থেকে। এব প্রতি আমার মুগ্ধতা তৈরি হয়েছিল। সে মুগ্ধতা থেকে আমি খনার সনেটগুলো লিখেছিলাম। এগুলো যে এতো ভালো হবে আমি তখন বুঝতে পারিনি।

আপনার সাম্প্রতিক একটা লেখা পড়লাম। সেখানে আপনি বলছেন, একজন কবিকে গদ্যে পারদর্শী হতে হবে। কেন একজন কবিকে গদ্য লিখতে হবে?

এ জন্য যে, কবি তো সব কথা কাব্যে বা ছন্দে না-ও বলতে পারেন। গদ্যটা কবির জন্য একান্ত দরকার। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সব লেখকই খুব ভালো গদ্য লেখক ছিলেন।

কখনো কি মনে হয় যে, কবিতা মানুষের পূর্ণ অভিব্যক্তিকে প্রকাশ করতে পারে না?

এটাও ঠিক না। অনেকে আছেন, যারা শুধু কবিতাতেই কাজ করেছেন। কিন্তু তারা যদি গদ্যে লিখে কিছু বলতেন তা হলে কতোই না ভালো হতো। এটা আমরা মনে করি। যেমন জসীমউদ্দীন। আমরা তো জসীমউদ্দীনকে সোজন বাদিয়ার ঘাট, নকশি কাথার মাঠের জন্য বিখ্যাত মনে করি। কিন্তু জসীমউদ্দীনের গদ্য যে এতো সুন্দর তা বোঝা যায় যখন ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় বইটা পড়া হয়। চলে মোসাফির আরেকটি বই। এসব গদ্য লিখে তিনি প্রমাণ করেছেন, অসাধারণ এক গদ্যশক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি। ভালো কবি যারা তারা প্রায় সবাই ভালো গদ্য লিখেছেন।

আপনার ক্ষেত্রে কি ঘটেছিল? আপনি তো কবিতার তুমুল সাফল্যের মধ্যে গদ্য লিখতে শুরু করেছেন।

আমি কিন্তু কবিতার পাশাপাশি প্রথম থেকেই গদ্য চর্চা করতাম। সেটা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। আমার মধ্যে প্রথম থেকে এটা ছিল। দুইটা তরবারি ছিল আমার। একটা খাপে আটকে রেখেছিলাম, আরেকটা খুলে রেখেছিলাম। পরে যখন আমার গদ্য লেখার প্রয়োজন বোধ হলো তখন আমি লিখেছি। এছাড়া সংবাদপত্রে চাকরি করতাম বলে গদ্যে আমার একটা দক্ষতা এমনিতেই ছিল।

আমাদের সমাজে এক ধরনের ক্যাটেগরাইজেশন কাজ করে। একজন কবিকে কবি হিসেবেই দেখার চেষ্টা চলে অথবা একজন গদ্যকারকে স্রেফ গদ্যকারই ভাবা হয়। সহজ একটা ক্যাটেগরির মধ্যে তাকে ফেলে দেয়া হয়।

এটা আধুনিক বিচার নয়। ইওরোপে যারা ভালো কবি তারা সবাই ভালো গদ্য লেখক। কবিতা তো লিখেছেন কিন্তু পাশাপাশি কোনো একটা উপন্যাস লিখেছেন যেটা বেস্টসেলার। সেটা বিক্রি করেই খান। কবিতা তো আর আর্থিক সাফল্য এনে দিতে পারে না। কবিরা গদ্য লিখলে খুবই ভালো হয়। তাছাড়া সমকালীন বিষয় নিয়ে গদ্য লিখতে পারা হলো কবিত্বেরই লক্ষণ। একজন কবি যখন গদ্য, উপন্যাস, গল্প লেখেন তখন তাকে কিন্তু বিচার করতে হবে সব বিষয় নিয়ে, কবি হিসেবে। অনেক জাতির ভাষায় কবি শব্দটা প্রয়োগ করা হয় গদ্য লেখক পদ্য লেখক সব মিলিয়ে। আমাদের দেশেও আমি যদি গ্রামে যাই লোকে বলে যে, কবি আসছেন। আমি যদি গদ্য লেখকও হই তবুও কিন্তু তারা আমাকে কবিই বলে। এটা কেন বলে? যারা ভাষায় সৃজনশীল উদ্ভাবনাময় কিছু রচনা করেন তারাই তো কবি। বিভক্তি করে তো কোনো লাভ নেই।

গদ্য ও পদ্য লেখার প্রক্রিয়ায় আপনি কোনো পার্থক্য অনুভব করেন?

পার্থক্যটা তো আমার মধ্যেই। আমার মধ্যে যখন লেখা আসে তখন মানসিক প্রস্তুতির মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়, এটা কাব্যে বলবো না গদ্যে বলবো। আমি যেটায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি সেটায় লিখি। আমি সে লেখাটা নিয়ে আগে ছন্দের চিন্তা করি। যেমন কোনো লেখা লিখতে গিয়ে অক্ষরবৃত্তের চাল এসে যায়। তখন এটা কবিতার জন্য তৈরি হয়। আর গদ্য হলো চিন্তা, আমার জ্ঞান, পারম্পর্য বিশ্লেষণ করে গদ্য লিখতে হয়। গদ্য পরিশ্রমের কাজ। গদ্য লিখতে হলেই যুক্তি-তর্ক স্থাপন করতে হয়। একটা লাইন লিখলাম, তারপর এলোমেলো লাইন লিখলেই তো হবে না। আমার ধারণা, এ পার্থক্যটা আমি বুঝি ভালো করে।

কবিতা তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াটা কি?

অনেক সময় একটা চিত্রকল্প থেকে কবিতা তৈরি হয়। অনেক সময় একটা শব্দ থেকে হয়। হাটছি, একটা শব্দ মনে পড়লো। এ শব্দটাই আলো ছড়াতে ছড়াতে আমাকে টেবিলে নিয়ে আসে। লিখতে বাধ্য করে। যখন অল্প বয়স ছিল, তখন রাস্তায় চলার সময় হয়তো দুইটা লাইন এসে যেতো। সিগারেটের প্যাকেট খুলে, ছিড়ে এটার ভেতরে লিখে রাখলাম। না হলে আবার ভুলে যাবো।

পুরো কবিতাটা একবারে মাথায় তৈরি হয়ে যায় কখনো ?

এটা খুব কমই হয়েছে। প্রথমে একট স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়, কয়টা লাইন আসে। কয়টা লাইন কমপ্লিট। লিখতে বসি যখন তখন এটা আবার চেঞ্জ হয়। চেঞ্জ হয়ে পুরো কবিতাটাই বেরিয়ে আসে।

গল্প-উপন্যাসের ক্ষেত্রে?

এটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার যে, অনেক সময় উপন্যাস লিখতে বসেছি কোনো চিন্তা না করে। কোনো বন্ধু বলেছে বা পত্রিকা বলেছে, তো প্রস্তুতি ছাড়াই লিখতে বসেছি। পুরো গল্পের স্ট্রাকচার তৈরি হচ্ছে। চরিত্র তৈরি করছি যেমন আমি দেখেছি। চরিত্রের ডিটেইল করতে গিয়েই গল্পটা বেরিয়ে আসে। প্রেম, কাম, যৌনতা, হিংস্রতা সব থরে থরে আসতে থাকে।
উপন্যাসের ক্ষেত্রে পুরনো টেকনিক নেইনি কখনো, যেহেতু আমি ছোটগল্প লেখক এবং আমি শর্ট উপন্যাস লিখি। মাইক্রো উপন্যাস আমিই প্রথম তৈরি করেছি। আমি এর প্রবর্তক না হলেও প্রসারণকারী।
গল্পটা পূর্ণাঙ্গ হয়েই যে আসে, তা নয়। লিখতে বসে আমিই সাজাই। তাছাড়া আমার একটা নতুন বিষয় হয়েছে, আমি চোখে দেখতে পাই না। আমাকে কারো না কারো ওপর নির্ভর করতে হয়। এ নির্ভরতাটা আমাকে কল্পনার দিক দিয়ে কিছু সুবিধা দিয়েছে।

অনেক লেখকের অন্ধত্ব তাদের নতুন সৃজনশীলতা এনে দিয়েছিল।

আমি এক সময় তো দেখতাম। সব দেখার অভিজ্ঞতা আমার আছে। চোখের সবচেয়ে ভালো ও খারাপ ব্যবহার আমি করেছি। এ স্মৃতি তো আমার মধ্যে কাজ করে। এখন চোখ অপরিচ্ছন্ন হয়েছে বয়সের ভারে। এটাকে খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা বলেই মেনে নিয়েছি। দৃষ্টিশক্তির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আমার আছে। সেটা কাজে লাগাই।
২.
এবার অন্য প্রসঙ্গ। নারী-পুরুষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রেম ও ভালোবাসার পার্থক্য কোথায়?

আমার ধারণা, দেহগত মিলনের আগে যে সম্পর্ক তৈরি হয় সেটা আসলে আকর্ষণ। যৌন আকর্ষণ থেকে সেটা হয়। কোনো নারী যখন কোনো পুরুষকে দেহ দিয়ে খুশি করে তখন এরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নাম হলো প্রেম। সামগ্রিক অর্থে ভালোবাসা হলো মানুষের প্রতি মানুষের একটা আকর্ষণ। একজন মানুষকে পছন্দ করি সেটা তো এমনিতেই করি না। আর দশজনের চেয়ে আলাদা বলেই তো পছন্দ করি। তার কিছু গুণ থাকে, কিছু প্রতিভা থাকে।

নারীর মনোযোগ পাওয়া বা প্রেম ব্যাপারটা আপনাকে কতো গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে?

নারীর মনোযোগ পেতে হলে আগে জানতে হয়, প্রেম ব্যাপারটা কি এবং গভীর অভিনিবেশ সহকারে এটার চর্চা করতে হয়। দেখতে হয়। এটা পেতে হলে এর ভেতরে ঢুকতে হয়। এর মধ্যে একটা অনাবিল আনন্দও আছে। এ আনন্দের জন্যই একজন আরেকজনের কাছে আসে। এটা আমার জীবনে অনেকবার ঘটেছে। অনেক মানুষের কাছে যেতে পেরেছি।
প্রেম ব্যাপারটাকে জানতে হলে, মানুষ সম্পর্কে জানতে হয়। পুরুষকে নারী সম্পর্কে, নারীকে পুরুষ সম্পর্কে খুব ভালো করে অবহিত হতে হয়। জানতে হয়। এটা ঘটলেই সম্পর্ক তৈরি হয়।

আপনি কি এখনো নারীর প্রতি লিপ্ত ভালোবাসা অনুভব করেন?

সত্যি কথা বলতে কি, এটা করি আমি। আমি কবি বলেই যে করি, তা না। আমি কল্পনাপ্রবণ মানুষ বলেই করি। আমরা যা দেখি তার সবটা দেখা নয়। আমাদের বিপরীত লিঙ্গে যারা তাদের আমরা সবটা দেখি না। কিছু দেখি, কিছু কল্পনা করি। এ জন্যই এতো রহস্য তৈরি হয়। কখনো আমরা সবটা দেখি না। আমরা কোন সময় ত্রিমাত্রিক চোখ পাবো যে, তিনটা দিকই দেখতে পাবো। তাই আমরা কল্পনা করি। সবটা দেখতে না পাওয়াই রহস্যের মূল কারণ।
নারীর কাছে আমার নানা ঋণ আছে। নারীর কথা বলতে গেলে কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করতে হয়। নানা নারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়েছে। নানাভাবে তারা আমাকে সাহায্য করেছে। আমার তো মনে হয়, মেয়েরা কবি-সাহিত্যিকদের প্রতি একটু বেশি অনুভূতিপ্রবণ।

কখনো কি এমন হয়েছে যে, আপনি জীবনের কোনো একটি পর্বে নারীর সঙ্গ পাননি?

আমার জীবনে এটা কখনো ঘটেনি। কারণ আমি অল্প বয়সে বিয়ে করেছি। আর খুব পরনির্ভর জীবন। আমার সব একজন করে দিয়েছে। এ জন্য আমি এটা ঠিক বুঝতে পারি না, নারীসঙ্গ বিবর্জিত জীবন কেমন তা আমি জানি না।
৩.
আধুনিক কবিতার সঙ্গে গানের এক ধরনের বিচ্ছেদ ঘটেছে। রবীন্দ্রনাথ গানকে কবিতার সঙ্গে কবিতাকে গানের সঙ্গে মিলিয়েছেন। কিন্তু তারপর সে ধারাটি আর থাকেনি।

আগে তো গান গাওয়া হতো। কাজী নজরুল ইসলাম পর্যন্ত প্রায় সব কবিই গান লিখেছেন এবং তাদের একটা গীতসম্ভার আছে। কিন্তু ত্রিশের কবিরা এসে গানের সঙ্গে কবিতার একটা বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন। তার গান আর রাখলেন না। বললেন, আমার কবিতাতেই গান আছে, মিউজিক আছে। আমি সে মিউজিক সৃষ্টি করি ছন্দে। এটি গাইতে হবে কেন? গাইতে হলে তবলা, হারমোনিয়াম দরকার। একটা যন্ত্র দরকার। সঙ্গীত সৃষ্টি করতে হলে নানা রকম অনুষঙ্গ দরকার। কিন্তু আধুনিক কবিরা বললেন, ত্রিশের কবিরা বললেন, না আমি কারো ওপর নির্ভরশীল হবো না। শুরু হলো অন্যরকম খেলা। এটাই ত্রিশের অবদান। জীবনানন্দ দাশ এলেন।

অনেকে বলেন ত্রিশের দশকের এ চর্চা অর্থাৎ গান বা সাঙ্গীতিক চর্চা থেকে কবিতার বিচ্ছেদ বাংলা কবিতার ক্ষতি করেছে।

ক্ষতি কেন? ক্ষতি নয়। এতে আধুনিকতার একটা প্রকারভেদ ঘটলো। যেটা পৃথিবীতে সর্বত্রই একটা সময় ঘটেছিল। আগে তো গানই সবকিছু ছিল। কিন্তু গানের জন্য যন্ত্র দরকার, গলা দরকার, গায়িকা দরকার। আধুনিক কবি এসব করতে যাবেন কেন? তার আয়ো

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আল মাহমুদআল মাহমুদ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ৪৯ টি মন্তব্য
  • ৭৬২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৪ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৪:০৩
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: এটুকু বাদ পড়েছিল :

আপনাদের তারুণ্যে ও যৌবনে তো আপনারা ত্রিশের দ্বারা আপ্লুত ছিলেন। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের ঘ্রাণ আপনার কবিতায় আছে। কিন্তু যদি চৈতন্য বা বোধের কথা বলি তবে আপনি যে আধুনিক কবি তার সূত্রও কিন্তু ত্রিশের চেতনাতেই গ্রথিত।

কিন্তু আমার ও শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে একটা জিনিসে পরিবর্তন এলো। ত্রিশের কবিরা কেউ বাঙালি ছিলেন না। তারা সবাই ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। জীবনাচরণে ইংরেজ ছিলেন। বলা যায়, কালো ইংরেজ। তারা জীবনে ইওরোপকে গ্রহণ করেছেন এবং কাব্যেও সেটা সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু আমরা পঞ্চাশের কবিরা আমি, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শামসুর রাহমান আমরাই হলাম প্রথম বাঙালি কবি। কারণ কবিদের যে একটা দেশ থাকতে হয় এটা আমরা উপলব্ধি করেছিলাম। যদিও এটা ত্রিশের কবিরাও উপলব্ধি করেছিলেন কিন্তু তখন তাদের সবার বয়স ষাটের ঊর্ধ্বে। বুদ্ধদেব বসু দেশে ফিরতে চাইলেন যেহেতু তার দেশ দরকার। কিন্তু ফিরলেন মহাভারতে। তার শেষ সময়ের সব কাজ হলো মহাভারত নিয়ে। বিষ্ণু দেও ফিরলেন। তিনি এক জায়গায় লিখেছেন, আমরা খুজেছি হরেক বইয়েতে আপন দেশ/দেশের মানুষ ঘুরিয়েছে শুধু ডাইনে বায়ে... এখন আমি হয়রান হয়ে খুজছি শেষ এ আক্ষেপটা ছিল। বিষ্ণু দে ফিরলেন উপনিষদে। ত্রিশের কবিদের এ পরিণাম হলো। কিন্তু আমাদের দেশ আছে। সে দেশটা দুইভাগ হোক বা যা-ই হোক। আমরা ১৩৫০-এর দুর্ভিক্ষ দেখেছি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ দেখেছি। দেশ ত্যাগ করে সব হিন্দু চলে যাচ্ছে উদ্বাস্তু হয়ে। দাঙ্গা, ভাতৃহত্যা দেখেছি। এগুলো আমাদের ওপর দিয়ে চলে গেছে। পঞ্চাশের কবিদের ওপর দিয়ে। এ জন্য পঞ্চাশের কবিদের স্বপ্ন কম, ডৃম নেই। কারণ বাস্তবতার চাকা তাদের বুকের ওপর দিয়ে চলে গেছে। প্রথম বাঙালি কবে হলো পঞ্চাশের কবিরা। কোথাও না কোথাও তাদের একটা দেশ আছে। যতো দুর্ভাগ্যজনক অবস্থাতেই থাকুক, আছে সেটা।

কিন্তু জীবনানন্দের মধ্যে তো আমরা একটা দেশ খুজে পাচ্ছি।

জীবনানন্দের দেশ তো ইংরেজি কবিতা থেকে পাওয়া। ইয়েটসের কবিতা থেকে পাওয়া। তার বৈশিষ্ট্য হলো তিনি হেলেনকে বনলতা সেন করেছেন কিন্তু তার স্থানিক রূপ এমনভাবে দিয়েছেন যে এটি একটি স্বতন্ত্র, সার্থক কবিতায় পরিণত হয়েছে। এখানে জীবনানন্দ দাশের জয়। তিনি দেশের ওপর যে একেবারে কবিতা লেখেননি, তা নয়। তিনি রূপসী বাংলা লিখেছিলেন। কিন্তু তার কালে এটা তিনি ছাপেননি। চাটাইয়ের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যদি কেউ তাকে জসিমউদদীন বলে এই ভয়ে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এগুলোই তার শ্রেষ্ঠ কবিতা।

যতোদূর বুঝলাম, আপনি আপনার কবিতায় ত্রিশের অবদানকে অস্বীকার করতে চাচ্ছেন না।

না। করবো কেন? ত্রিশের কবিরা ইওরোপের জানালা আমাদের জন্য খুলে দিলেন। কিন্তু তারা কি পরিশ্রম করে আমাদের জন্য কোনো একটা উপন্যাস অনুবাদ করেছেন? করেননি। অর্থাৎ দরজা খুলতে চাননি বা পারেননি। শুধু জানালা খুলেছেন। এটা ত্রিশের একটা সীমাবদ্ধতা। কিন্তু ত্রিশের কবিতা বাদ দিলে কি করে আমরা দাড়াবো?
২. ২৪ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৪
comment by: লুনা রুশদী বলেছেন: পড়লাম। অনেক কথা ভালো লাগলো না। অনেকের মধ্যেই একটা জিনিষ দেখি, দশক দিয়ে কবিদের বিচার করা, ৩০শের কবি, ৪০শের কবি। এইরকম ভাবে একসাথে এক একটা গ্রুপ। কবিরা তো সবাই আলাদা আলাদা, ৩০, ৪০ দিয়ে কি হবে?
৩. ২৪ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৪
comment by: কাপালিক বলেছেন: কবির ছবি কই?
৪. ২৪ শে মে, ২০০৭ রাত ৮:১৫
comment by: রেজওয়ান বলেছেন: আল মাহমুদ আমারও প্রিয় কবি।

কষ্ট লাগে যখন কেউ কেউ তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙীর জন্যে তার সৃষ্টিকে তাচ্ছিল্য করে।
৫. ২৪ শে মে, ২০০৭ রাত ৯:৪১
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: ছবি আপলোডে সমস্যা হচ্ছে।
৬. ২৪ শে মে, ২০০৭ রাত ৯:৫০
comment by: অলৌকিক হাসান বলেছেন: কবির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কি? শুনেছি জামাত সমর্থক। ইজ ইট ?
৭. ২৪ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৩৯
comment by: সোনার বাংলা বলেছেন: সহমত@রেজওয়ান ভাই
৮. ২৪ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৫৬
comment by: শমশেরআলম বলেছেন: উনার কোমল পর্ন কয়েক্টা উপন্যস পড়ছিলাম। ভাল্লাগছে
৯. ২৫ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৪:২৫
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: লেখাটা এখানে তুলে ভালো করেছেন।
১০. ২৬ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪১
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: লুনা রুশদী,
বাংলাদেশে যেভাবে প্রসঙ্গহীন ভাবে দশক টানা হয় নানা আলোচনায় ঠিক সেভাবেই দশকের বিরোধিতাও করা হয়। খেয়াল করবেন, যখন একটি জেনারেশনকে বোঝার চেষ্টা হচ্ছে। তার সময়কে এঁকে নেয়ার চেষ্টা চলেছ তখন দশক গুরুত্বপূর্ণ। এইখানে আপনার সমালোচনাটা অপ্রাসিঙ্গক।
১১. ২৬ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪৪
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: অলৌকিক হাসান,
যার সাক্ষাতকার নিয়েছি তাকে ডিফেন্ড করা সবসময় দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তারপরও বলি, আমিও শুনেছি উনি জামাত সমর্থক ছিলেন। আবার এও শুনেছি সরাসির মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তিনি।
১২. ২৬ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪৬
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: শমশের আলম,
কবিতা পড়তে ইচ্ছা করে না?
১৩. ৩০ শে মে, ২০০৭ রাত ৯:১১
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: ছবি দিলাম। ছবি তুলেছেন হাসান বিপুল।
১৪. ১১ ই জুলাই, ২০০৭ দুপুর ২:৪৯
comment by: ফজলে এলাহি বলেছেন: ধন্যবাদ মোর্শেদ। টিভিতে সামান্য দেখতে পেয়েছিলাম। তখন ইচ্ছে হয়েছিল যদি কেউ লিখে রাখতো। সংগ্রহে রাখার মত।
১৫. ১১ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৩:০২
comment by: মদন বলেছেন: আলমাহমুদের লেখা ভাল লেগেছিল তার আত্নজীবনীমুলক লেখা "যে ভাবে বেড়ে উঠি" পড়ে। এর পরে পড়ি তার জীবন থেকে নেয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস "উপমহাদেশ"।
জ্বীন-মানুষের প্রেম কাহিনী নিয়ে চমতকার উপন্যাস "আগুনের মেয়ে"।

কবি সাহিত্যিকের মধ্যে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগদানকারী হিসাবে তিনি প্রসিদ্ধ।
১৬. ১১ ই জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১০
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: ফজলে এলাহি,
কোন টিভিতে প্রচারিত হয়েছিল?
আমি দেখিনি তো।
ধন্যবাদ। মন্তব্যের জন্য।
মদন,
জলবেশ্যা। সোনালী কাবিন। সনেট পঞ্চক : খনার বর্ণনা আমার সবচেয়ে পছন্দের।
১৭. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:০৬
comment by: আহমেদুর রশীদ বলেছেন: পড়ে ভাল লাগলো।
মোহাম্মদ রফিকের সাক্ষাতকারটা পোস্ট করা যায় না?
১৮. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৫৬
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: রশীদ ভাই,
ওইটা ওই অবস্থাতেই আছে। যন্ত্রপাতি সমেত।
আপনার সাথে শান্তিচুক্তি করবো শীঘ্রই। তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে। ধন্যবাদ।
১৯. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৫৮
comment by: আহমেদুর রশীদ বলেছেন: আমি ভাই শান্তি প্রিয় মানুষ।ধন্যবাদ।
২০. ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:০৬
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: আমি যুদ্ধপ্রিয়। যুদ্ধের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
২১. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৭
comment by: আহমেদুর রশীদ বলেছেন: নিহতকে বধ করে বীরত্ব কোথায়?
২২. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৩৫
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: আপনে নিহত হলে তো আমার লাশে গন্ধ উঠছে।
২৩. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:২৭
comment by: আহমেদুর রশীদ বলেছেন: মারফতি কথা।
২৪. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৪
comment by: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন: আহেমদুর রশীদ কিংবা মাহবুব মোর্শেদ, দু'জনের কেউই নিহত নন! নিহত মেন্ডোলিনের মতো হলেও হতে পারেন!

স্পেশাল থ্যাংস ফর দি ইন্টারভিয়ু টু মা.মো। (জামাল ভাস্করের এভ্রিভিয়েশনটা নিলাম!)
২৫. ০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৪:২৪
comment by: অভিক শাওন বলেছেন: ছারোয়ার চধুরী একানে ও দেকচি নাক গলিয়েচে----ভাল ভাবে ভাবে তিন ভাব।
২৬. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৬
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: অভিক শাওন,
আমার ব্লগে মাস্তানি করতে আসবেন না।
২৭. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:১৪
comment by: অভিক শাওন বলেছেন: হুমকি দেয়ারেই মস্তানি কয়।
অন্নের পক্ষ হইয়া হুমকি দেওনের মতলবটা কি?
২৮. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:২৪
comment by: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন: মাহবুব মোর্শেদ
মুজিব মেহেদীর খুব বিনয়ী জবাব সত্বেও অভিক শাওন তাঁকে ক্ষেপানোয় অবশেষে মুজিব মেহেদীর মন্তব্য দেখুন প্লিজ মুজিব মেহেদীর ব্লগে।
২৯. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৯
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: অভিক শাওন,
আপনাকে আমার ব্লগে এক সপ্তাহের জন্য ব্লক করলাম।
৩০. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৩
comment by: চতুরভূজ বলেছেন: ৫
এবং প্রীয় পোষ্ট
৩১. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৪
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: একজন কবিকে তা রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য কি ভাবে অনেকেই তাচ্ছিল করে সেটা দেখে খারাপ লাগে, তার কবিতা ভালো লাগে, রাজনৈতিক চেতনা ভালো লাগে না, তার ধর্মীয় চেতনা ভালো লাগে তার জামাত প্রীতি ভালো লাগে না। অনেকেই ধর্মীয়নিরপক্ষতার কথা বলেন , এদের অনেকেই জীবনানন্দের কথা বলে আত্মতৃপ্তি পান, কিন্তু জীবনান্দের শেষ জীবনে সাম্প্রদায়ীক হয়ে যাবার কথা বলেন না। কেনো অনেক কবিদের এরকম হয় সেটা গবেষনা করা যায় না ?
৩২. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৬
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: মাহবুব সুমন,
প্রস্তাবটা মজার। কিন্তু জীবনানন্দ সম্পর্কে এরকমটা শুনি নাই আগে। কোনো রেফারেন্স দিতে পারেন বস?
৩৩. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩০
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: বস, সাহিত্যে আমি বড়ই দূর্বল। রেফারেন্স দিতে পারছি না কারন হাতের কাছে কিছুই নাই ।তবে জীবানন্দের শেষ দিকের কবিতা ও কিছু লেখায় যা পাওয়া যায় সেটা তাঁর আগের লেখায় পাওয়া যায় না। তবে বিষয়গুলো লক্ষনীয়। কেন এরমটি হয়?আমি বস খুঁজে খুঁজে নিগেটিভ জিনিস বাহির করি।
৩৪. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৯
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: মাহবুব সুমন,
খুঁজে খুঁজে নেগেটিভ জিনিশ বের করা কোনো খারাপ ব্যাপার না। যদি সেইখান থেকে পজিটিভ কোনো আলোচনার সূত্রপাত হয়। আমি ভেবেছিলাম, ওনার জীবনীর মধ্যে ওই রকম কোনো ব্যাপার আছে। শেষ দিকের কবিতায় যদি কোনো ব্যাপার থাকে তবে সেটা দোষণীয় কিছু বলে মনে হয় না।
আমার প্রিয় লেখক কমলকুমার মজুমদার অনেক গল্প জয় মাধবায়ঃ নমঃ বলে শুরু করেছেন। তাতে রস আস্বাদনে আমার কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু মুসলমান কেউ যখন ইসলামের প্রতি পজিটিভ কোনো অ্যাপ্রোচ নিয়ে লেখেন তখন আমরা খুব প্রতিক্রিয় করি। এইটা কেন করি বুঝি না। এইটা কি এক ধরনের কাউন্টার সাম্প্রদায়িকতা নয়?
৩৫. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৬
comment by: ম. ন. আলম ফরিদ বলেছেন: কবি যিনি তার একমাত্র পরিচয় তিনি কবি। যারা এনিয়ে তর্ক করেন তাদের হয়তো কিছু যুক্তি থাকে কিন্তু সময় তাদের সেই যুক্তিকে উপযুক্ত জবাবও দেয়। আল মাহমুদ আমাদের একজন সময়োত্র্তীর্ণ কবি। আজ আমি তাকে ভালবাসী কাল আমার ছেলে ভালবাসবে পরশু আমার নাতি তাকে ভালবাসবে। কারন তার মধ্যে সময়কে জয় করার সেই সব হিম্মত রয়েছে।

শামসুর রাহমানের জন্মদিনে আমি আল মাহমুদকেও স্মরণ করি।

মাহবুব মুর্শেদ ভাইকে শুভ কামনায় আর নতুন কিছুর প্রত্যাশায়।
৩৬. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:০৯
comment by: রাহা বলেছেন: কবি না কবিতা ? আলোচনার বিষয় যদি কবিতা হয় আ মাহমুদের কবিতা নিঃসন্দেহে অসাধারণ । আর কবি আল মাহমুদ ? আমার মতে, বিভ্রান্ত একজন মানুষ। যিনি নিজে বিভ্রান্ত হয়েছেন, পাঠকদের বিভ্রান্ত করেছেন ; তার বোধের এই বিভ্রান্তি কাটেনি শেষ বয়েসে এসে বরং বেড়েছে । একজন মুক্তিযোদ্ধার রাজাকার প্রেম অবশ্যই কলংকের । এবং কলংকের । সেখানে ২য় কোন যুক্তি থাকতে পারেনা ।
অহম ভালো , তবে রবীন্দ্রনাথের জীবনবোধ আর আল মাহমুদের জীবনবোধ ?? সাক্ষাঃকারই তো ফুটে উঠেছে ? তবে আমার প্রশ্ন কবিকে, কে তিনি ?? উত্তর কি তবে বিভ্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা নাকি বিভ্রান্ত জামাতী ?
৩৭. ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:২১
comment by: একা পথচারী বলেছেন: "আল মাহমুদ" - এটা শুধু একটা নাম। ওনাকে বাঁচিয়ে রাখবে ওনার কবিতা এবং লেখনী। ব্যক্তি "আল মাহমুদ" কে নিয়ে আসলে চিন্তা না করলেও চলে। ওনার লেখা নিয়ে আমরা গবেষণা করবো... চর্চা করবো। ব্যক্তি "আল মাহমুদ" তাঁর মতো থাকুন না!
৩৮. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:৪০
comment by: উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: চতুরভূজের প্রিয় পোস্টে এটি পেলাম।

সত্যি বলতে কি, আধুনিক কবিতা আমার বেশী পড়া হয় না। কারন ছন্দ, যা আধুনিক কবিদের কাছে অবহেলিত, তা আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ন।

ভাল লেগেছে আপনার লেখা।
৩৯. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:১২
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: থ্যাংকস।
৪০. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০৪
comment by: সবুজ আরেফিন বলেছেন: মাহবুব ভাই, আমরা আসলে সভ্যতা নামধারী একটা ট্রেনে উঠে পড়েছি। যার দুইটা সমান্তরাল লাইনের একটা 'টাইম' আরেকটি 'স্পেস'। কিন্তু সমস্যাটা হলো ঐ ট্রেনের কন্ট্রোলিং পাওয়ার কার হাতে?
০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৮

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৪১. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৪
comment by: মুনিয়া বলেছেন:
ভালো লাগল। ধন্যবাদ।
০৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৯

লেখক বলেছেন: থ্যাংকস।

৪২. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:২৯
comment by: প্রণব আচার্য বলেছেন: শুনেছি তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন
এবঙ একই সাথে তিনি হুমায়ুন আজাদের একটি কথাকেও সত্য
প্রমান করেছেন--- একজন রাজাকার সবসময়ই রাজাকার। কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা সবসময় মুক্তিযোদ্ধা নয়।

দুঃখ লাগে এখন তিনি জামাত করেন। অথচ কত বড় কবি তিন!
১৩ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: সেটাই।

৪৩. ০৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:১০
comment by: জাহিদ সোহাগ বলেছেন: ক'দিন আগে ইটিভিতে মাহমুদের সাক্ষাতকার শুনলাম। স্ববিরোধিতায় ভরা। তিনি সংগ্রামী লোক--যা কবির দায়িত্ব বলে মনে করেন-- কিন্তু এও বললেন জিয়ার আনুকুল্য লাভ এবং এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি নিশ্চুপ ছিলেন। কেন'র প্রশ্নে এ্যা এ্যা করলেন। নারীকে তিনি পর্দার আড়ালেই রাখতে চান কিন্তু কবিতায় নারীর দেহজ প্রেমের প্রশ্নে যা বললেন তার অর্থ কবিতা আর জীবন দর্শন এক নয়। তাহলে প্রশ্ন কবিতায় নারীকে দৈহিক ভোগের মধ্যে এনে তিনি তার আল্লার কাছে গুনাহ্ করলেন না?

০৯ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫

লেখক বলেছেন: এমন একজন কবির নাম বলুন যিনি এরশাদ ও জিয়ার আনুকুল্য পেয়েও ফেরত দিয়েছেন।

৪৪. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: কমেন্টগুলো পড়লাম । ইন্টারেষ্টিং...
০৯ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৫

লেখক বলেছেন: thanx a lot.