বাঙালি এখন সংস্কার জ্বর আক্রান্ত। কীসরে সংস্কার, কার সংস্কার, কীভাবে সংস্কার তা নিয়ে বিস্তর মতপার্থক্য। কিন্তু সংস্কার যে দরকার সে বিষয়ে কেউ দ্বিমত করছেন না। পুরো জাতি এখন সংস্কারবাদী। যে যতো সংস্কারবাদী সে ততো সেফ। সে ততো ভালো। তাই সংস্কারবাদী হওয়াটা আপাতত একটা যোগ্যতার ব্যাপার।
কিন্তু কীসের জন্য এতকিছু?
সংস্কার মানে কী? যে শব্দটার জন্য এত চিন্তাপাত সে শব্দটার মানে কী?
সংস্কার শব্দের প্রায় পিরীতার্থক শব্দ কুসংস্কার। শব্দটার অর্থের দিকে খেয়াল করলে সঙস্কার শব্দটার কিছুটা হিল্লা করা যায়।
সংস্কারের কাছাকাছি শব্দ সংস্করণ, সংস্কৃত, সংস্কৃতি।
তাহলে সংস্কার মানে কী?
হিন্দি সিনেমা বা সিরিয়াল যারা দেখেন তাদের কাছে সংস্কার শব্দের একটা অর্থ আছে। সেখানে সংস্কার মানে ঐতিহ্যগত বিশ্বাস। ইজ্জত ও শরাফতের সাথে জড়িত একটা ব্যাপার। বাংলা অভিধানেও সংস্কার মানে আদি বিশ্বাস, আজন্ম ধারণা বা ঝোঁক। শব্দটি দিয়ে ধর্মীয় অর্থে সংশোধন করে আগের অবস্থায় প্রত্যাবর্তন বোঝায়। সংস্কার মানে এই অর্থে মেরামত বা সংশোধন। কেউ যদি কোনো কারণে ধর্ম থেকে বিচ্যুত হন তবে কিছু ক্রিয়া কর্ম পালন করে তাকে পূর্বের বিশ্বাসে ফিরিয়ে নেয়া হয়। পুরাতন চিন্তায় তথাকথিত শুদ্ধ পন্থায় ফিরে যাওয়ার এই পদ্ধতিটা হলো সংস্কার।
পুরাতন ব্যবস্থা, বিশ্বাস ও কাঠামোকে শক্তিশালী করতেই দরকার সংস্কার। বাংলাদেশে যারা সংস্কার শব্দটা বেছে নিয়েছেন তারা ভেবেচিন্তেই তা করেছেন বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ কোনো পরিবর্তন তারা চান না। পূর্বের অবস্থাকে শক্তিশালী করতে তারা ওই অবস্থার জন্য যা বিচ্যুতি বলে বিবেচিত তারই সংস্কার চান। সে অর্থে সংস্কার মানে পূর্বঅবস্থায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
সংস্কার হলে আগের অবস্থাটা শক্তিশালী হবে বলে আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ আছে।
পরিবর্তন বা বিবর্তন বা প্রতিকার এখনকার লক্ষ্য নয়। সে লক্ষ্য পূরণ করতে বিপ্লবী উদ্যোগ দরকার। ফলে সংস্কার নিয়ে মাতামাতিকে বিশাল একটা কিছু বলার তো কারণ দেখি না। এ দিয়ে পরিবর্তন হবে তা কিন্তু শব্দটা বলছে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



