somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গৌতম ঘোষের আবার অরণ্যে (২০০৩)

২৮ শে আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পার দেখে কী রকম যে অনুভূতি তা বোঝানো কঠিন। অসাধারণ, ভয়াবহ, ভয়ংকর। দেখা দেখি নাই। অন্তর্জলী যাত্রা আমার প্রিয় একটি উপন্যাস। ফলে সুযোগ পেয়েও দেখি নাই। কমলকুমারের লেখার চিত্রায়ণ সম্ভব? পদ্মানদীর মাঝি ভাল লেগেছে। উপন্যাসের একটা এন্টারপ্রেটেশন হিসেবে। ক্যামেরা ব্যবহার করে উপন্যাসের সমালোচনা আলোচনা হিসেবে একে দেখেছি আমি। গৌতম ঘোষের ক্রিটিক্যাল অ্যাপ্রোচটা ভাল লাগে আমার।
এবার কারফিউয়ের মধ্যে বন্দি হয়ে দেখলাম আবার অরণ্যে ও যাত্রা/ইয়াত্রা।
আবার অরণ্যে কি অরণ্যের দিনরাত্রির সিকোয়েল নাকি? সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার সিকোয়েল গৌতম ঘোষ কেন করবেন? যুক্তিটা কী? অরণ্যের দিনরাত্রির কলাকুশলীরা বেঁচে আছেন বলে? তারা এই সিনেমায় কাজ করতে রাজি হয়েছেন বলে? সিনেমা বানানোটা এই ধরনের রোমান্সের মধ্যে পড়ে না। আর গৌতম ঘোষের মতো পরিচালক এই ধরনের রোমান্স করতে যাবেন সেটাও মেনে নিতে কষ্ট হয়।
ফলে নানা পূর্বধারণা নিয়ে সিনেমাটা দেখতে বসেছিলাম। না এইটা অরণ্যের দিনরাত্রির সিকোয়েল নয়। আবারও একটা ক্রিটিক। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার সিনেমাটিক ক্রিটিক। আয়োজনটা ভাল। সিকোয়েলের ভঙ্গিটা তিনি চারিয়ে দিয়েছেন বটে। কিন্তু সেটা সিকোয়েল টাইপের রোমান্সের মধ্যে যায়নি। সমালোচনার জন্য যতটুকু রেফারেন্স ব্যবহার করার দরকার করেছেন। যেটুকু উল্লেখ করার দরকার করেছেন। শেষ পর্যন্ত সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিয়েছেন।
১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায় যে অরণ্য দেখিয়েছেন আর ২০০৩ সালে গৌতম ঘোষ যে অরণ্য দেখালেন তার মধ্যে পার্থক্য অনেক। ষাট-সত্তররের একটা আউলা জেনারেশন এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যে ঢুকে গেছে। তাদের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে আরেকটা জেনারেশন। তাদেরই সন্তান তারা। পুতুপতু আউটিং তাদের সঙ্গে তাদের বাবা-মার। বলাবাহুল্য ৭০এর সেই তরুণরা আর বিদ্রোহী নন। সেই সময় আর এই সময়ের কনট্রাস্টগুলো তুলে ধরেছেন গৌতম ঘোষ।
কিন্তু এস্টাবলিশমেন্টের ভেতর দাখিল হয়ে যাওয়া লোকদের ছেলেমেয়েরা কি এখনকার প্রজন্মের প্রতিনিধি? অরণ্যের দিনরাত্রির মধ্যে চার তরুণ ৭০এর যে দাহকে ধারণ করেছে এই প্রজন্মের প্রতিনিধিরা কি সেই দাহকে ধারণ করে? যারা দাহকে ধারণ করে তাদের খোঁজ এই সিনেমায় নাই।
আর যতটুকু দাহ আছে তা আম্মুর মধ্যে। আম্মু চরিত্রে অভিনয় করেছেন টাবু। নাইন ইলেভেনে তার প্রেমিক মারা গেছে টুইন টাওয়ার বিস্ফোরণে। ঘটনার চাপে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তার আচার-আচরণ মোটামোটি মেলোড্রামাটিক। ভাবতে কষ্ট হয়, ভারতের মতো দেশে বসে গৌতম ঘোষের মতো পরিচালক এরকম মেলোড্রামাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন।
টাবু যদি সেন্টার হয় এই সিনেমার তবে পুরো সিনেমাটাই মেলোড্রামা। একটা ক্ষীণস্রোতা ঝরায় পূর্ণিমা রাতে ভেসে টাবু গেল আদিবাসীদের গ্রামে। আর সেখানে দেখা হলো এনজিও মার্কা এক বিপ্লবীর সঙ্গে। তিনি টাবুর বাবা-মার কাছে দাবি করলেন টাকা। টাবুর অস্থির মনের মহা দাওয়াই হলেন।
প্রশ্ন হলো সাঁওতাল গ্রামে টাবুকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওই ক্ষীণ ঝরার কাহিনি কতটা বিশ্বাসযোগ্য। বাকীটার কথা আর নাই বা বললাম।
আর ওই বিপ্লবী মাস্টার মশাইয়ের মুখ দিয়ে গৌতম ঘোষ সত্যজিৎ রায়ের সমালোচনাও করিয়ে নিলেন। অরণ্য মানে মহুয়া, মেয়ে মানুষ আর ফুর্তি নয়, অরণ্য মানে হলো আক্রমণ, প্রয়োজনের সময় কেড়ে খাওয়া, আদিমতা।
২০০৩ সালের একটা সিনেমায় গৌতম ঘোষের একটা চরিত্র বলছে বাংলাদেশ, নেপাল থেকে তাদের দেশে সন্ত্রাসীরা ঢুকছে। কী অসম্ভব কল্পনা যে, ডুয়ার্স-পালামৌ-জলপাইগুড়ির সন্ত্রাসীরাও বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে। তা নিয়ে অ্যাকিউজ করা হচ্ছে। আবার সার্ক নিয়ে বড় বড় কথা ওই সিনেমাতেই হচ্ছে।
পলিটিক্যালি ইম্যাচিউর এরকম সিনেমা গৌতম ঘোষের কাছে আশা করা একটু কঠিনই বটে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৪০
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×