সরকার যখন জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে অসঙ্গতভাবে ক্ষমতা বাড়াতে চায় তখন জনগণকে শাসকদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সতর্ক হতেই হয়। কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ এর হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট পাস হয়। এ ঘটনায় নাগরিক অধিকার কর্মীরা উদ্বিগ্ন। কেননা এই আইনের বিস্তৃত এখতিয়ারের কারণে এটি সরকারের নিস্পাপ সমালোচনার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার অজুহাতে ভুলভাবে প্রযুক্ত হতে পারে। এই আইনের অনেক ধারার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বিদেশীরা, অন্যপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার সেখানে সংবিধান ও অধিকার বিষয়ক বিলের মাধ্যমে সংরক্ষিত। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে এমন সব অধিকার দেয়া হয়েছে যাতে তারা ফোন ট্যাপিং, ব্যক্তিগত ইমেইল পড়া এমনকি গ্রন্থাগারে একজন কী কী বই সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন তা জেনে নিয়ে নাগরিকদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে পারে। অধিকাংশ মার্কিনিই নাগরিক অধিকারের এই ব্যত্যয়কে তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাশুল হিসাবে মেনে নিয়েছেন। যদিও আইনপ্রণেতারা সানসেট কজেজ-এ প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টের সকল ধারা অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাতে প্রতি চারবছর অন্তর এই আইনটি তামাদি হয়ে যায় এবং কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে আবার একে কার্যকর করতে হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে খুশি করার ধারায় ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ¹গ্লোরিয়া ম্যাকাপাগাল আরোইয়ো সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করতে উদগ্রীব। তিনি এটা কংগ্রেসের মাধ্যমেই করতে চান। এ আইনে থাকবেÑ বিচারকের মাধ্যমে ইস্যুকৃত ওয়ারেন্ট ছাড়া সন্ত্রাসের অনুমানে যে কাউকে গ্রেফতার করা এবং বিচারকের সামনে উপস্থিত করার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই অভিযুক্তকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ডিটেনশনে দেয়ার ক্ষমতা। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অধিকার থাকবে না। প্রকৃত ঘটনা হলো, এই আইনে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি বলতে কী বোঝায় তার ব্যাখ্যা অনেক প্রসারিত এবং সাধারণ অর্থে এগুলো লেখা থাকে। অস্পষ্ট সংজ্ঞার কারণে অনেকেই ভয় পান, আইনটি সরকারের বৈধ সমালোচনার ক্ষেত্রেও নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে এবং এটি নাগরিকদের পৌঁছে দিতে পারে সামরিক আইনের এক নতুন যুগে।
সামরিক আইন ফিলিপিনোদের কাছে নতুন নয়। মার্কোসের শাসনেকালে তারা ভীতি ও বিচারহীনতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। বিপরীতক্রমে জঙ্গি ও কংগ্রেসের মুসলিম সদস্যরা বেঁকে বসেছেন, তারা কংগ্রেসে উত্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে রুখে দিতে চান। প্রকৃত অর্থেই ইলোইলো রেপ, রোলেক্স স্যুপলিকো সাবধান করে দিয়েছেন যে, ‘এ আইন দেশের বৈধ বিরোধীদলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।’ তিনি যোগ করেছেন, দেশে এমনিতেই সরকারের অনুমোদন ছাড়া সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। প্রধান কোম্পানিগুলোকে সরকার কর্তৃক অধিগৃহীত, ৪৬৪ ধারা কার্যকর (যাতে সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের প্রেসিডেন্ট আরোইয়োর লিখিত অনুমতি ছাড়া কংগ্রেসে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না), বাকস্বাধীনতা হরণ ইত্যাদি কারণে এখন এক অঘোষিত সামরিক শাসনের অধীন।
ফিলিপিন হার্ট সেন্টারের বেডে শুয়ে অবরুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নরবার্তো গনজালেস বলেছেন, তিনি জানেন না কে বা কারা তার নামে রটিয়েছে তিনি আমেরিকান কোম্পানি ভেনাবেল এলএলপির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। বাম ও ডান সাংবাদিকদের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি মেট্রো ম্যানিলায় আত্মঘাতী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এও বলেছেন, শপিংমলগুলোতে সন্ত্রাসীরা অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে। নিরপরাধ মানুষের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বাস্তবতা মাথায় রেখেও বলতে হয়, গনজালেস জেগে জেগে হলিউডের থ্রিলার মুভি দেখছেন যেখানে সন্ত্রাসীরা শপিংমল উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে।
আইন প্রণয়নের জন্য নাগরিক অধিকার বিঘ্নিত হওয়ার ভয় না পাইয়ে আরোইয়া যদি চান রাজনীতিক ও জনগণকে রাজী করাতে তাহলেই ভাল হবে। তিনি ও তার জোট যদি বিরোধীদলের সঙ্গে বসে নিরপরাধ লাখো ফিলিপিনোর অধিকার হরণ না করেই পুলিশকে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার ক্ষমতা দিয়ে উপযুক্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইন উপহার দিতে পারেন তবে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে।
৭ সেপ্টেম্বর ২০০৫ এর আরব নিউজ থেকে।
অনুবাদ : মাহবুব মোর্শেদ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

