somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সন্ত্রাস বিরোধী আইনের লাগাম টানতে হবে # রাশিদ আবু আলসাম

৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকার যখন জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে অসঙ্গতভাবে ক্ষমতা বাড়াতে চায় তখন জনগণকে শাসকদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সতর্ক হতেই হয়। কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ এর হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট পাস হয়। এ ঘটনায় নাগরিক অধিকার কর্মীরা উদ্বিগ্ন। কেননা এই আইনের বিস্তৃত এখতিয়ারের কারণে এটি সরকারের নিস্পাপ সমালোচনার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার অজুহাতে ভুলভাবে প্রযুক্ত হতে পারে। এই আইনের অনেক ধারার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বিদেশীরা, অন্যপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার সেখানে সংবিধান ও অধিকার বিষয়ক বিলের মাধ্যমে সংরক্ষিত। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে এমন সব অধিকার দেয়া হয়েছে যাতে তারা ফোন ট্যাপিং, ব্যক্তিগত ইমেইল পড়া এমনকি গ্রন্থাগারে একজন কী কী বই সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন তা জেনে নিয়ে নাগরিকদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে পারে। অধিকাংশ মার্কিনিই নাগরিক অধিকারের এই ব্যত্যয়কে তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাশুল হিসাবে মেনে নিয়েছেন। যদিও আইনপ্রণেতারা সানসেট কজেজ-এ প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টের সকল ধারা অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাতে প্রতি চারবছর অন্তর এই আইনটি তামাদি হয়ে যায় এবং কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে আবার একে কার্যকর করতে হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে খুশি করার ধারায় ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ¹গ্লোরিয়া ম্যাকাপাগাল আরোইয়ো সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করতে উদগ্রীব। তিনি এটা কংগ্রেসের মাধ্যমেই করতে চান। এ আইনে থাকবেÑ বিচারকের মাধ্যমে ইস্যুকৃত ওয়ারেন্ট ছাড়া সন্ত্রাসের অনুমানে যে কাউকে গ্রেফতার করা এবং বিচারকের সামনে উপস্থিত করার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই অভিযুক্তকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ডিটেনশনে দেয়ার ক্ষমতা। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অধিকার থাকবে না। প্রকৃত ঘটনা হলো, এই আইনে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি বলতে কী বোঝায় তার ব্যাখ্যা অনেক প্রসারিত এবং সাধারণ অর্থে এগুলো লেখা থাকে। অস্পষ্ট সংজ্ঞার কারণে অনেকেই ভয় পান, আইনটি সরকারের বৈধ সমালোচনার ক্ষেত্রেও নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে এবং এটি নাগরিকদের পৌঁছে দিতে পারে সামরিক আইনের এক নতুন যুগে।
সামরিক আইন ফিলিপিনোদের কাছে নতুন নয়। মার্কোসের শাসনেকালে তারা ভীতি ও বিচারহীনতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। বিপরীতক্রমে জঙ্গি ও কংগ্রেসের মুসলিম সদস্যরা বেঁকে বসেছেন, তারা কংগ্রেসে উত্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে রুখে দিতে চান। প্রকৃত অর্থেই ইলোইলো রেপ, রোলেক্স স্যুপলিকো সাবধান করে দিয়েছেন যে, ‘এ আইন দেশের বৈধ বিরোধীদলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।’ তিনি যোগ করেছেন, দেশে এমনিতেই সরকারের অনুমোদন ছাড়া সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। প্রধান কোম্পানিগুলোকে সরকার কর্তৃক অধিগৃহীত, ৪৬৪ ধারা কার্যকর (যাতে সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের প্রেসিডেন্ট আরোইয়োর লিখিত অনুমতি ছাড়া কংগ্রেসে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না), বাকস্বাধীনতা হরণ ইত্যাদি কারণে এখন এক অঘোষিত সামরিক শাসনের অধীন।
ফিলিপিন হার্ট সেন্টারের বেডে শুয়ে অবরুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নরবার্তো গনজালেস বলেছেন, তিনি জানেন না কে বা কারা তার নামে রটিয়েছে তিনি আমেরিকান কোম্পানি ভেনাবেল এলএলপির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। বাম ও ডান সাংবাদিকদের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি মেট্রো ম্যানিলায় আত্মঘাতী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এও বলেছেন, শপিংমলগুলোতে সন্ত্রাসীরা অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে হত্যাকাণ্ড চালাতে পারে। নিরপরাধ মানুষের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বাস্তবতা মাথায় রেখেও বলতে হয়, গনজালেস জেগে জেগে হলিউডের থ্রিলার মুভি দেখছেন যেখানে সন্ত্রাসীরা শপিংমল উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে।
আইন প্রণয়নের জন্য নাগরিক অধিকার বিঘ্নিত হওয়ার ভয় না পাইয়ে আরোইয়া যদি চান রাজনীতিক ও জনগণকে রাজী করাতে তাহলেই ভাল হবে। তিনি ও তার জোট যদি বিরোধীদলের সঙ্গে বসে নিরপরাধ লাখো ফিলিপিনোর অধিকার হরণ না করেই পুলিশকে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করার ক্ষমতা দিয়ে উপযুক্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইন উপহার দিতে পারেন তবে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে।
৭ সেপ্টেম্বর ২০০৫ এর আরব নিউজ থেকে।
অনুবাদ : মাহবুব মোর্শেদ
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×