আমার প্রিয় পোস্ট
- সামহয়ারে আসার আগে আমি যে লেখকদের চিনতাম পরে সামহয়ারেও যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি ব্লগীয় রাউন্ড টেবিল আলোচনার প্রস্তাব - মাহবুব মোর্শেদ
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কুড়ি বছর - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহয়ার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ # বিষয় : মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি - মাহবুব মোর্শেদ
- ওয়ান্স আপন এ কান্ট্রি, সামহয়ার ইন দ্য ওয়েব - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীন : সফল নাট্যকার ও শিক্ষকের বিদায় - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীনের সাক্ষাৎকারের বাকী অংশ - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার নব্যরাজাকারিতার সন্ধানে - মাহবুব মোর্শেদ
- আমেরিকার নির্বাচনে ভোটার হওয়ার আবেদন - মাহবুব মোর্শেদ
- এক চিত্রনায়কের জন্য আমার শোকগাথা - মাহবুব মোর্শেদ
- জয় বাবা আলুনাথ! - মাহবুব মোর্শেদ
- পাকিস্তান, পারভেজ মোশাররফ, গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল আর্মি - মাহবুব মোর্শেদ
- ছোটদের অর্থনীতি অথবা কয়দিন ধরে যা কিছু কথা ভাবতেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি চিঠি... ভাস্করদা ও সুমন ভাইকে - মাহবুব মোর্শেদ
- এখানেও আমরা ব্যর্থ হবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি বাসি বিজ্ঞাপন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি গল্পের পরীক্ষামূলক উতক্ষেপন : জিসম # মাহবুব মোর্শেদ - মাহবুব মোর্শেদ
- বুনুয়েলের বুর্জোয়া - মাহবুব মোর্শেদ
- এই ছবি আমি তুলেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- প্রেমেক্কার শ্বশুর বাড়ি - মাহবুব মোর্শেদ
- তুই ...রে ব...সন্ত সমী...রণ - মাহবুব মোর্শেদ
- ফাদার গাস্তঁ রোবের্জের সাক্ষাৎকার - মাহবুব মোর্শেদ
- তারেক মাসুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- টেগোর ইন দ্য টাইম অব এমার্জেন্সি - মাহবুব মোর্শেদ
- বহুদিন পর আবার হরিদাস পাল - মাহবুব মোর্শেদ
- কবি আল মাহমুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- ব্লগে পোস্টিংয়ের স্লথগতি - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহোয়ার, ইলেকট্রনিক মোল্লা, ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ ও লেখক যশোপ্রার্থীদের তড়পানি - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার সচলায়তন অভিজ্ঞতা : সে এক কাহিনি বটে! - মাহবুব মোর্শেদ
একটি ব্লগীয় রাউন্ড টেবিল আলোচনার প্রস্তাব
২৬ শে নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৬
সামহোয়ার চালুর প্রায় দুই বছর হতে চললো। ২০০৫ এর ডিসেম্বরে সাইটটি চালু হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে এখানে নানা ধরনের ব্লগার নানান রকম ব্লগিং করেছেন। সাহিত্য চর্চার জন্যও অনেকে নতুন এই মাধ্যমটিকে বেছে নিয়েছেন। প্রিন্ট মিডিয়ায় পরিচিত লেখকদের পাশাপাশি এমন অনেককে দেখা গেছে যারা শুধু ব্লগেই সাহিত্য চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। ব্লগারদের মধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছেন। সামহোয়ারে অন্য ব্লগারদের পাশাপাশি সাহিত্যিক ব্লগাররা সমভাবে অংশ নিয়েছেন। আবার এরই মধ্যে অনলাইন রাইটার্স ফোরাম হিসেবে সাহিত্যিকদের জন্য আলাদা সাইট হিসেবে সচলায়তন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আছে সাহিত্যিক-শিল্পীদের যোগাযোগ ও ভাব বিনিময়ের জন্য নানা অনলাইন ভিত্তিক গ্রুপ। ইয়াহু বা গুগল গ্রুপ এর উদাহরণ। আবার অনেকেই আছেন যারা এই ব্লগগুলো আসার আগে থেকেই ইউনিকোড ব্যবহার করে বাংলায় ব্লগিং করছেন। কেউ কেউ ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য চর্চার জন্য ব্লগকে বেছে নিয়েছেন। সাহিত্যে সর্বশেষ অনলাইন সংযোজন বিডিনিউজের আর্টস পাতা। সব মিলিয়ে আমাদের আলোচনার প্রস্তাবিত বিষয় :
সাহিত্য চর্চার নতুন মাধ্যম হিসেবে ব্লগ ও অন্যান্য অনলাইন টুল।
এখানকার সাহিত্যের ধারা, বৈশিষ্ট্য, সাহিত্যিকদের প্রবণতা, সফলতা, দুর্বলতা নিয়ে খোলামনে আলোচনা করুন। কাউকে আক্রমণ করবেন না। এই আলোচনাটি আমি যায়যায়দিনের আর্ট অ্যান্ড কালচার পাতায় ছাপতে চাই।
সবাই আমন্ত্রিত। আলোচনাটি সফল করার জন্য বিশেষ কয়েকজনকে নাম ধরে ডেকে আলোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রস্তাবতি নাম উঠিয়ে নিলাম। সবাই খোলা মনে আলোচনা করুন। আজকের মধ্যে হলে ভাল হয়।
প্রকাশ করা হয়েছে: ডায়েরি বিভাগে ।
ফ্লোরা ফেরদৌসী বলেছেন:
ফাটাফাটি আইডিয়া।
আরশান খান বলেছেন:
কি ধরনের মতামত দিলে আপনি খুশি হবেন মোর্শেদ ভাই ???
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
আরশান খান,ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও তথ্য-উপাত্ত মূলক। দুই এক লাইনে না হলেই ভাল হয়।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
ভাস্কর ভাই,আপনার কাছ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য আশা করছি। সময় করে লিখবেন আশা করি।
ফ্লোরা ফেরদৌসী বলেছেন:
আমি সাহিত্য বুঝি না, তবে "সাহিত্য চর্চার নতুন মাধ্যম হিসেবে ব্লগ ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যম" শিরোনাম ব্যবহার করে এভাবে অন্যের মতামত নেয়ার আইডিয়াটা ফাটাফাটি লাগলো। অনেকে অনেক সহজ কাজে অনেক সময় এবং এফোর্ড দেয়,আবার অনেকে সহজেই সে কাজটা তুলে আনে।এই যে কাজের জন্য আধুনিক ও সমসাময়িক অবস্থাকে ঠিক সময়ে নিবার্চন করলা তাই এভাবে বলা
মুকুল বলেছেন:
ধন্যবাদ। সত্যি বলতে কি, লেখার এত যে বৈচিত্র্য এটা এই ব্লগে না আসলে বুঝতাম না। পত্রিকায় সম্পাদকের পছন্দ অপছন্দের ওপর নির্ভর করে লেখাটা প্রকাশ পাবে কি না। কিন্তু এটা উন্মু্ক্ত মাধ্যম হওয়াতে আমাদের মত সাধারণ মানুষও যাই লিখি না কেন, (ভালো কিম্বা দূর্বল) প্রকাশ করতে পারছি। পাঠকরা তাদের মতামত দিতে পারছে। এটা অন্যরকমের একটা ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে। যারা আগ থেকেই লেখালেখি করে বিখ্যাত, যাদের সাথে হয়তো জীবনে কখনো আলাপচারিতার সম্ভাবনাও ছিলো না, এই ব্লগের সুবাদে তাদের সাথে সরাসির যোগাযোগ স্থাপিত হচ্ছে। এটা একটা বড় পাওয়া। আমাদের মত প্রান্তিক মানুষের জন্য এটা অবশ্যই একটা বড় পাওনা।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
কেউ তো দেখি আলোচনা করে না, মন্তব্য করে সবাই। তাই ভাবলাম কয়জনরে নাম ধরে ডাকি। এখন তো দেখি নাম ধরে ডাকাটাই আলোচনার বিষয়বস্তু হতে চললো। নাম ধরে ডাকা স্রেফ নাম ধরে ডাকাই ইচ্ছা মতো যে কেউ আলোচনা করতে পারেন।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
মুকুল,কো-ব্লগারদের সাহিত্য চর্চাকে আপনি কিভাবে দেখছেন? এখানে কি যথেষ্ট ও এক্সপেক্টেড রিডারশিপ আছে?
মুকুল বলেছেন:
ব্লগার বেড়ে যাওয়াতে পোস্টের পরিমান বেড়ে গেছে। এতে প্রতি পোস্টে পাঠক কম সময় দিতে পারছে। যে কারনে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টও হয়তো পাঠক পাচ্ছে না।এখানে অনেক বিখ্যাত লেখক আছেন। তারা মনে হয় সাধারণ লেখকদের লেখা খুব একটা পড়েন না। কিম্বা পড়লেও খুব একটা মন্তব্য করেন না। তাঁরা যদি নতুন লেখকদের লেখাগুলোর উপর আলোচনা করতো তাহলে হয়তো নতুনরা তাদেল ভুলগুলো শুধরে নিতে পারতো।
আরেকটা উপদ্রব তৈরি হয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালন। তাদের কারনে সৃষ্টিশীল অনেক ব্লগারকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে ঘায়েল করার জন্য অনেক মূল্যবান মেধা শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে করে তাদের সৃষ্টিশীল পোস্ট থেকেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। অনেক সময়েই অনাকাংখিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
থ্যাংকস মুকুল।
সুবিনয় মুস্তফি বলেছেন:
এ ব্লগে আমি নুতন। তবে বেশ কিছুদিন ধরে ব্লগারদের লেখা পড়ছি। লেখা পড়ার অনুপ্রেরণা থেকেই মুখ্যত এখানে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ জন্মেছে। ব্লগার হিসেবে এখানে অংশগ্রহণ করার শুরু থেকে আমার ভাবনায় সাহিত্যচর্চার মাধ্যম হিসেবে ব্লগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার একটা তাগিদ তৈরি হয়েছিল। অনুধাবন করার চেষ্টা করছিলাম, এখানকার সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্যিকদের চিন্তার ধারা কেমন ও কোন গতিপথে আবর্তিত হচ্ছে। সন্দেহ করার কোনো অবকাশই নেই যে, ব্লগে যারা অংশগ্রহণ করেন তাদের অধিকাংশই মিডিওকার বা বিলোমিডিওকার। এ মানের ব্লগাররা সবসময় এক ধরনের গিমিক বা আত্মপ্রচারের আবহ তৈরি করে রাখেন। নানা ইস্যু তৈরি করে দল, উপদল গড়ে নিজেদের জন্য যেন তেন একটা প্রচার গড়ে তোলার জন্য ঘাম ঝরান। ব্লগে সবচেয়ে বেশি যা চোখে পড়ে তা হলো মিডিওকারদের গিমিক। মিডিওকারদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা দিনানুদিনের অন্য পাঠ অভ্যাসের মতো ব্লগে এসেও তেমন কিছু পড়েন না। নিজেকে জানান দিয়ে চলে যান। মিডিওকারদের চিৎকারে কালেভদ্রে ভাল কোনো সাহিত্যিকের দেখা মিললেও তার পাতে তেমন কিছু পড়বে না এ নিশ্চয় করে বলা যায়।তারপরও কিছু পুরনো ও ভাল লেখক এবং কিছু নতুন ও সম্ভবনাময় কবি-লেখকের সাক্ষাত মিলছে। সংখ্যায় তারা হয়তো শতে একজন। কিন্তু তাদের উপস্থিতি আমার বিবেচনায় ব্লগকে মহিমান্বিত করছে। ব্লগ মাধ্যম হিসেবে নতুন বৈকি। এর মাধ্যমে একপাক্ষিক যোগাযোগের বদলে দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক যোগাযোগও সম্ভব বটে। কিন্তু সেলিব্রেটি লেখকের জন্য এ খুব সুখের পরিস্থিতি নয়। খ্যাতিমান একজন কবি কিংবা লেখক কেন সময় ও শ্রম ব্যয় করে সাধারণের কাতারে নেমে আসবেন যেখানে পাশ্ববর্তী ব্লগাররা তাকে যা ইচ্ছা বলতে পারেন। চাই কি গালিও দিতে পারেন। তবে এটা নিশ্চয় সত্য যে, ব্লগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক পাঠক গোষ্ঠী প্রস্তুত হচ্ছে। যে তরুণ ও অনতিতরুণরা স্রেফ আড্ডাঘরে বৃথা বাক্য ব্যয় করে সময় কাটাতেন। তাদের কেউ কেউ এখানে এসে বাংলা লেখার কোশেশ করছেন। নতুন ও প্রতিভাবান কারও মনে হয়তো লেখক হওয়ার প্রতীতীও এভাবে জন্মাতে পারে। বাংলা লেখার অভ্যাসটা তো বজায় থাকছে নতুন প্রজন্মের মধ্যে। এ বা কম কিসে?
ব্লগে সাহিত্য চর্চা হচ্ছে, জঙ্গলে বানর কি হরিণ ছানার যদৃচ্ছা বেড়ে ওঠার মতো। সাহিত্য পদবাচ্য হতে হলে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, যে অধ্যবসায় ও চর্চা প্রয়োজন তার কোনোটাই এই ছানাপোনাদের মধ্যে নেই। সম্ভাবনাময় ব্লগারদের উৎসাহ দেয়ার জন্য সাহিত্যিক ব্লগারদের এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা অন্তত এটুকু বলুন কী পড়তে হবে, লেখালেখি শেখার উপায় কী, ব্যকরণ, বাক্যগঠন, বানান কোথায় শেখা সম্ভব। ভাল কিছু লেখকের নাম বলুন, ভাল কিছু বইয়ের নাম বলুন। নইলে পুরোটাই গিমিকের স্রোতে ভেসে যেতে চললো।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
সুবিনয় মুস্তফি,থ্যাংকস এ লট। লেখকদের লেখার পাশাপাশি এখন কি গরুগিরিও শুরু করার প্রস্তাব দিচ্ছেন নাকি আপনি?
কেএসআমীন বলেছেন:
ব্লগে সাহিত্য চর্চা হচ্ছে, জঙ্গলে বানর কি হরিণ ছানার যদৃচ্ছা বেড়ে ওঠার মতো। সাহিত্য পদবাচ্য হতে হলে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, যে অধ্যবসায় ও চর্চা প্রয়োজন তার কোনোটাই এই ছানাপোনাদের মধ্যে নেই। ----- যথার্থই মুস্তফি ভাই বলেছেন।ব্লগ কেবল সাহিত্যিকদের পদচারণার স্থান নয়। যেকোন সৃষ্টিশীল ও কম্পিউটার লিটারেট মানুষ এখানে আসতে পারেন.....
তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন, সমাজের নানা অসংগতি, অসামঞ্জস্য, সমস্যা, সম্ভাবনা অতি সহজে আঙুলের কিছু ক্লিকের মাধ্যমে তাত্তখনিক ভাবে সেন্সর ছাড়াই ব্লগে প্রকাশ করতে পারেন...
কেএসআমীন বলেছেন:
ব্লগকে এক্সিলারেটেড লিটারেচার বলা যেতে পারে। বিশুদ্ধ সাহিত্য এখানে ১০% থেকে ১৫% জায়গা দখল করে রাখতে পারে...
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ কে এস আমীন।
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
"ব্লগার বেড়ে যাওয়াতে পোস্টের পরিমান বেড়ে গেছে। এতে প্রতি পোস্টে পাঠক কম সময় দিতে পারছে। যে কারনে গুরুত্বপূর্ণ পোস্টও হয়তো পাঠক পাচ্ছে না"- কিছুটা একমত। অনেকের ক্ষেত্রেই ব্যাপারটি ঘটছে। তবে সময়ের অভাবে অনেকেই নিজেদের প্রিয় ব্লগারদের পোস্ট পড়ছে শুধু।
সাহিত্য চর্চার মাধ্যম হিসেবে ব্লগ এখন অনেক জনপ্রিয়। ব্লগের প্রকাশিত লেখাগুলো যতই ভাল হোক না কেন, এখানে স্বীকৃতি'র একটি সমস্যা রয়েছে।যেমন: বিহংগ বা নির্বাসিত, দু'জনের লেখা গল্প বা স্মৃতিকথাগুলো যেকোন ভাল জায়গায় ছাপা হওয়ার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু তারা তা না ছাপিয়ে ব্লগে দিচ্ছেন। এটি কিন্তু তারা তাদের বায়োগ্রাফিতে লিখতে পারবেন না,কিন্তু বিডিনিউজ২৪ এর মত কোথাও প্রকাশিত হলে কিন্তু লেখা যেত। এটি একটি ব্যাপার।
অন্যভাবে দেখলে আবার বলতে হয় যে, অনেক লেখাই হয়ত ছাপানো হত না, কিন্তু ব্লগের বদৌলতে আমরা সেগুলো পড়তে পারছি।
তবে ব্লগে সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে নিজের একটি স্বাধীনতা রয়েছে। ব্লগেই জন্ম দিচ্ছে অনেক ভাল লেখকের। কিন্তু যেভাবে লেখকের জন্ম হচ্ছে সেভাবে ভাল পাঠক দেখা যাচ্ছে না। ব্লগে যেকোন লেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দল একটি বড় ব্যাপার। ভার্চুয়াল দলাদলি,লিংগ বিশেষে বৈষম্যতা'র কারনে অনেক ভাল লেখাই জনপ্রিয় হচ্ছে না।ব্লগের লেখক সমাজ যতটা পরিপক্ক, পাঠক সমাজ ততটা নন। আর যেকোন লেখার গঠনমূলক মন্তব্য/আলোচনা/সমালোচনা-খুব কম হচ্ছে।
আর ইন্টারনেট আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঢুকে গেছে। সাহিত্য এর থেকে বাদ যাবে কেন? বরং অনলাইন মাধ্যমের যে কোন কিছু আপনি নিজের কাছে খুব সহজেই রাখতে পারছেন, এটিও একটি পজেটিভ দিক।
প্রথমেই দৃষ্টি দেই- "ব্লগ" ধারনাটি যখন প্রথম ইন্টারনেট জগতে আসে তখন এটির রুপ কেমন ছিল সেদিকে।
আমার যতদুর মনে পড়ে এটি ছিল অনলাইনে অতিব নিজস্ব একটি জায়গা বা একাউন্ট যেখানে, যেকোন ব্যাক্তি নিজের ইচ্ছা
মত করে যেকোন কিছু, লিখিত আকারে সংরক্ষন করতে পারতেন এবং কে কে তার লেখাগুলো পড়বে বা পড়বে না কিংবা সবার জন্যই
উন্মুক্ত থাকবে কিনা সেটা নির্ধারন করে দিতেন। সেখানে সাহিত্য বিষয়ক লেখা-লেখিই যে থাকতে হবে বা তার লেখা যে খুব মান সম্পন্ন
হতে হবে এমন কোন প্রচেষ্টা বোধহয় তারা করে ফিরত না। কোন ব্যাপারে নিজের মত, ভাবনা এমনকি নিজের ডায়রিও ব্লগের উপাত্ত
হতে পারত।
সামহোয়ার ইনের ব্যাপারে যেটা ঘটছে সেটা এই ধারনা থেকে বোধহয় একটু ভিন্ন-ই বলতে হবে। এখানে যা কিছু
প্রকাশিত হচ্ছে বা ব্লগার রা করছেন তার সবটাই প্রথম থেকেই উন্মুক্ত- সবার জন্য। এখানে কে পড়বে কে পড়বে না এটা নির্ধারন
করার একটা সিস্টেম যদিও আছে তবে সেটা মনেহয় নেগেটিভলি ইউজ করার জন্যই রাখা। এখানে সবার জন্য উন্মুক্ত করাতেই আনন্দ।
যাই হোক এখানে যে ভাবে লেখা গুলো প্রকাশিত হচ্ছে বা ব্লগার রা ব্লগিং করছেন এই স্টাইলটাও খারাপ না,
বরং ভালই বলতে হবে। তবে এই ভিন্ন স্টাইলটার অন্য একটি ভিন্ন নামকরন হলে বোধহয় ভালো হত। তাতে লেখকের কাছে পাঠকদের
প্রত্যাশাটুকু নিয়ন্ত্রিত হত বলে আমার ধারনা। আর একটু সহজ করে বললে বলতে হয় যে, অনেকেই এখানে এসে বোধহয় ব্লগিং এবং
সাহিত্যচর্চা তদসংগে সাংবাদিকতা, কলাম, এবং কোন কোন ক্ষেত্রে দৈনিকপত্রিকাসুলভ ব্যাপারগুলো গুলিয়ে ফেলছেন।
উদাহরন স্বরুপ যিনি ব্লগিং করতে এসেছেন তিনি কিন্তু তার লেখার সাহিত্যগুন বিচার না করেই যা মনে এসেছে পটাপট লিখে
পোস্ট করে দেন। তিনি তার লেখার সাহিত্যগুন বা মান নিয়ে কদাচিৎই চিন্তিত থাকেন। অপরদিকে যিনি সাহিত্যের জন্যই আসেন
তিনি হয়তবা সেই লেখা পড়ে খানিকটা বরক্তও হতে পারেন, তার মান ভাল নয় ভেবে। ঠিক এভাবে সাংবাদিক, কলামিস্ট তাদের
যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা পোস্ট করেন এবং আশাকরেন যে সকলেই তার লেখাটা পড়ুক, তার মত করে ভাবুক এবং যথাসম্ভব
মন্তব্য করুক। তাই বলছিলাম, যে এখানে সনাতন ব্লগিং এর ধারাটা বোধহয় নেই বরং এটি 'আধুনিক ব্লগিং'
বলে পরিচিতি পেতে পারে যেখানে নিজের কথাগুলো তো নিজের একাউন্টে জমা থাকলই উপরন্তু জানা/অজানা, জ্ঞানী-গুনী কতজনের
কত অমুল্য মন্তব্যও পাওয়া গেল।
সনাতন ব্লগিং-এ আছে কেবল চেনা গন্ডির ভিতর জানানোর বা ভাগাভাগির আনন্দ আর সাঃইনের ব্লগিং এ আছে
সারা বিশ্বের সমভাষীদের কাছে 'কেমন হয়েছে বা কেমন লাগল' জানার আকাঙ্ক্ষা। আশাকরি সনাতন ব্লগিং এবং সাঃইনের আধুনিক ব্লগিং
(একান্ত আমার দেয়া নাম)এর পার্থক্যটা পরিষ্কার।
যদি পরিষ্কার হয়েই থাকে তাহলে বোধহয় সাঃইনে লেখার মান নিয়ে কাউকেই মূলতঃ দোষারোপ করা যায় না। অন্ততঃপক্ষে
যতদিন না এটা সনাতন ব্লগিং থেকে আলাদ কোন নাম বা প্লাটফরম নিয়ে আত্নপ্রকাশ না করে।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
ব্লগের সবচেয়ে বড়ো দিক হলো এর ইন্টারএকটিভ বা মিথস্ক্রিয়ামূলক প্রকৃতি। আগ্রহী ব্লগারদের সম্মিলিত আলোচনায় একটি ইস্যু পূর্ণাঙ্গ চেহারা পেতে পারে। এযেন নিরন্তর গোলটেবিল বৈঠক হয়ে চলেছে, কোনো ইভেন্ট-ম্যানেজার ছাড়াই। পরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যেকউ এখানে লেখক হতে পারেন। প্রথাগত মুদ্রণ-মাধ্যমে একাধিক গেট-কিপার বসে থাকেন, হয় আপনাকে ঢুকতে দেয়া হবে না, নয়তো কাঁচিয়ে চালিয়ে লেখার মেদ-মজ্জা স্লিম করা হবে। মতপ্রকাশের এই যে আলটিমেট স্বাধীনতা, এটার জন্যই মানুষ বেঁচে থাকতে চায়। পদে পদে শৃঙ্খলিত মানুষ যদি এক জায়গাতেও স্বাধীনতা পায়, কম কী? ব্লগের মাধ্যমে নতুন অনেক লেখককে পাচ্ছি, যারা সনাতন মাধ্যমে লেখা প্রকাশের ব্যাপারে মোটেও ভাবিত না।
আবার সনাতন মাধ্যমের অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখক ব্লগের বিশাল ভূবনের পাঠকের সঙ্গে তার লেখাকে শেয়ার করার জন্য নিজেই ব্লগাররূপে আবির্ভূত হচ্ছেন।
জরুরি অবস্থায় যখন অনেক জরুরি কথা বলা যায়না, তখন ব্লগ সেই ব্যবস্থা করে দেয়। এখানে সেন্সর হবার, গ্রেফতার হবার, আইনী মারপ্যাঁচে পড়বার ভয় নেই। ছদ্মনাম বা নিক ব্লগারকে এসব থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
তবে এই আলটিমেট স্বাধীনতা অনেক অনাচারের জন্ম দেবে সেটা অনুমেয়। নিকের আড়ালে দলাদলি, গালাগালি, টপ-রেটেড হবার ইঁদুর-দৌড় এসব আছে, বিরক্তিকর মাত্রায় আছে। এই মাত্রা মাঝে মাঝে ব্লগের মূল উদ্দেশ্যকে ছাপিয়ে ওঠে, হতাশ হয়ে অনেক 'ভদ্রলোক' এই অভয়ারণ্য ছাড়তে বাধ্য হন।
এসব কুলক্ষণ এড়াতে পারলে ভবিষ্যতের বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, জ্ঞানের গতি, এক্টিভিজম ব্লগকে ঘিরে বেড়ে উঠবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
মামু বলেছেন:
মুকুল @ ( আরেকটা উপদ্রব তৈরি হয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালন। তাদের কারনে সৃষ্টিশীল অনেক ব্লগারকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে ঘায়েল করার জন্য অনেক মূল্যবান মেধা শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে করে তাদের সৃষ্টিশীল পোস্ট থেকেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। অনেক সময়েই অনাকাংখিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। )যাক বুঝলেন, কিন্তু পালন করেন না।
ফারহান দাউদ বলেছেন:
২-১টা কথা বলার অনুমতি পাবো কিনা বুঝতে পারছি না,সবার জন্য কি উন্মুক্ত ?
মাহবুব সুমন বলেছেন:
মাত্র দেখলাম, শুরু করবো।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
ফারহান দাউদ,সবার জন্য উন্মুক্ত। আপনার নাম তুলতে ভুলে গেছিলাম। প্লিজ আলোচনা শুরু করুন।
মাহবুব সুমন,
তাড়াতাড়ি করেন। এই সংখ্যায় ধরাই।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
মোস্তফা মনির সৌরভ, কালবেলা ও ফাহমিদ ভাই,আপনাদের দরকারি ও বিস্তারিত আলোচনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
আলোচনার সঙ্গে আলোচকের ছবি দেয়ার প্রস্তাব করছি। এ বিষয়ে আপনাদের মত চাই। অনেকের ছবি দিতে আপত্তি থাকতে পারে।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
সাহিত্যের ধারা হিসেবে ব্লগ বা অনলাইন বাংলাদেশে তুলনামুলকভাবে নতুন হলেও অন্যান্য দেশে বিশেষ করে ইউরোপে ব্লগ একটি প্রতিষ্ঠিত ধারা। অনেক প্রতিস্ঠিত লেখকের নিজস্ব ওয়েব সাইট এবং ব্লগ আছে যার মাধ্যমে তারা পাঠকের সাথে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন, লেখার মুল্যায়ন গ্রহন করেন, ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ প্রতিস্ঠা করেন। এটা আমাদের দেশে অনুপস্থিত। তবে নতুন প্রজন্মের লেখকরা অবশ্য বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে লিখছেন, যার মাঝে রয়েছে ওয়ব ম্যাগাজিন, অনলাইন ফোরাম, ওয়েব সাইট ও ব্লগ।ব্লগের কথা বল্লে বলা যায় এখানে যারা লেখেন তাদের বেশীর ভাগই অপেশাদার ও শখের লেখক। তথাকথিত প্রতিস্ঠিত লেখকদের অবশ্য ব্লগে বা অনলাইনে খুব একটা পাওয়া যায় না।
এসব শখের ও অপেশাদার লেখকরা সাহিত্যের সব ধারাতেই দাগ কাটার চেষ্টা করেন।ভতে পারে সেটা কবিতা বা উপন্যাস ! মাঝে মাঝেই সেটাই প্রতিস্ঠিত লেখকদের চাইতেও ভালো হয়ে যায়!
শখের এসব লেখকরা সনাতন পন্থা যেমন পত্রিকার সাহিত্যের পাতায় লেখার সুযোগ না পাওয়া অথবা পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত হতে বিনা বাধায় তাদের লেখা প্রকাশের সুযোগ পাওয়ায় ব্লগ বা অন্য অনলাইন মাধ্যমকে লুফে নেন।
সামহোয়্যার ইনের মতো ব্লগের বড় সুবিধে হলো লেখক ও পাঠকের মাঝে মিথস্ক্রিয়া। লেখক ব্লগে পোস্ট করার সাথে সাথে পাঠক পড়তে পারছে ও তার মতামত জানাতে পারছে যা সনাতন পন্থায় একেবারেই অসম্ভব। এতে শখের লেখকরা তাদের ভুলত্রুটি ধরতে পারছে ও লেখার মানের পরিবর্তন বা উন্নতি করতে পারছে। ব্লগ সংস্কৃতির প্রসারে বর্তমানে এক লেখক ও পাঠকের এক নতুন ধারা তৈরি হচ্ছে ও এর প্রসার প্রতিনিয়তই বাড়ছে।
শখের লেখকদের ব্লগ থেকে বইও বের হচ্ছে। গত বইমেলায় আলি মাহমেদের "শুভর ব্লগিং " এবং সামহোয়্যারইন ব্লগারদের লেখা " অপরবাস্তব " এর উদাহরন। আশা করা যায় এবারের বইমেলায় আরো বই আসবে। এ ছাড়া শুরু হয়েছে ই-বুক নামের নতুন কিন্তু প্রতিস্ঠিত ধারা। সচলায়তন নামের ব্লগ সাইট থেকে বের হওয়া " আমার ছেলে বেলা " ই-বুক এর একটি সুন্দর উদাহরন। এভাবেই ব্লগ বা অনলাইন থেকে অন্য একধারার লেখক বের হতে যাচ্ছে। মুক্তমনার কথা বলা যায়; পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যা বলা সম্ভব হয় না সেটাই তার আলোচনা করতে পারছে তাদের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে।
বিডিনিউজ২৪ এর আর্টস এ অনেক লেখক আছেন যারা মুল ধারায় সক্রিয়। তবে অনলাইনের তারা লিখছেন ও এর মাধ্যমে তারা হাজারো পাঠকের মাঝে তাদের লেখা ছড়িয়ে দিতে পারছেন খুব সহজেই যা সনাতন পন্থায় সহজ নয় অনেকের পক্ষেই।
অনলাইন বা ব্লগের কিছু দূর্বলতা আছে। এতে যার যা ইচ্ছে লিখতে পারে কোনরকম বাধা ছাড়াই। তবে নির্মল বাতাস যেমন দূর্গন্ধময় বাটাস কে উড়িয়ে দেয় তেমনি ভালো লেখাও বাজে লেখাকে তাড়িয়ে দেয়।
সামহোয়্যারইন বা অন্য সব ব্লগসাইটে লেখক-পাঠকের মিথস্ক্রিয়ায় অনেক সময় গালাগালী বা ব্যক্তিগত আক্রমন আসতে পারে তবে মন্তব্য নিয়ন্ত্রনে লেখকের ক্ষমতা থাকায় সেটা এড়ানো সম্ভব। অনলাইনের প্রতিটি ধারাই তৈরি করা যায় মানুষের জীবনের সাথে মিল রেখে। ব্লগেও সেই ছাপ পরে। মানুষের হাসি কান্নায় মেশানো জীবনের ছাপ পড়ে ব্লগে।
পেশাদার ও প্রতিস্ঠিত লেখকরা এ ধারার প্রতি অনেকটুকুই উন্নাসিক। তবে এ উন্নাসিকতা একসময় ভালোবাসায় রুপ নিবে বলে আশা করছি যখন তারাও বাধ্য হবে অনলাইনে লিখতে, কারন একসময় এ ধারাই হবে মুল ধারা।
মনিটর বলেছেন:
ব্লগ সাহিত্য ব্যাপারটি সাহিত্যের কোন পর্যায়ে থাকবে তা বলার সময় এখনো আসেনি। দৈনন্দিন জীবনের বাইরে সমকালীন ইস্যু আলোচনায় এসে পারস্পরিক আলোচনার-বিতর্কের সুযোগটাই এখনো পর্যন্ত বলার মতো একটি ব্যাপার। ব্লগে যারা গল্প কবিতা নিবন্ধ লিখেন, তারা প্রায়ই বলেন পাঠকের সাথে ইন্টারঅ্যাকশন হয়। এ জায়গাটি আমার কাছে খুব ধোঁয়াশা মনে হয়। এখানে আসল মন্তব্যের চেয়ে 'ভালো লেগেছে ৫ দিলাম' টাইপ কমেন্টই বেশি। গ্রুপ-সাব গ্রুপের প্রভাবও মারাত্মক। সম্পাদকের কাঁচির শংকা না থাকায় নূতন লিখিয়েরা সানন্দে লিখে যাচ্ছে, তবে মান নির্ধারনে খুব বেশী উত্তীর্ন বোধ হয় হতে পারছে না। মূলধারার লেখক যারা ব্লগে আছেন তারা সেভাবে নূতনদের মার্জিনে মন্তব্য দিতে চান না, আগ্রহ পান না কিংবা পারেন না। বরং এসব প্রতিষ্ঠিতরাই বইমেলা উপলক্ষে নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপনটা ব্লগে সেরে ফেলেন কৌশলে।সর্বোপরি, ব্লগে সাহিত্যচর্চা খুব বেশি হলে হাত মকশো করার একটা মাধ্যম হতে পারে, এর বেশী কিছু হওয়ার সম্ভবনা আমি দেখছি না। ব্লগ থেকে নূতন লেখক বেরিয়ে আসার সম্ভবনা আপাতত: নেই।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
মাহবুব সুমন,অনেক ধন্যবাদ। ছবির ব্যাপারে কী বলেন। যারা ছবি দিতে চান না তাদের জন্য ছবির জায়গায় একটা লোগো দেয়ার অপশন দেয়া যায়। কী বলেন?
নাজিরুল হক,
থ্যাংকস।
মনিটর,
অনেক ধন্যবাদ। মূলধারার লেখকদের প্রতি মনিটরের সমালোচনার জবাব কেউ দেবেন?
রিজভী বলেছেন:
সাহিত্য মূল্যমান হিসেবে হিসেবে ব্লগের অনেক লেখাই এক্ষেত্রে বিবেচনার দাবী রাখে।ধন্যবাদ। ভালো একটা প্রস্তাব।৫
মাহবুব সুমন বলেছেন:
প্রতিস্ঠিত লেখকদের ব্যপারে মনিটরের সাথে অনেকটুকুই একমত।সামহোয়্যারইন ব্লগ বা অন্য যেসব ব্লগ সাইট আছে সেখানে প্রতিস্ঠিত লেখক বলতে যাদের বোঝায় তাদের তেমন একটি পদচারনা নেই। যারা আছেন তারাও নতুন বা অপেশদার বা তাদের ভাষায় অপ্রতিস্ঠিত ব্লগারদের লেখায় কমেন্ট করেননা বল্লেই চলে, উতসাহিত করাও দূরের কথা। এক্ষেত্রে তাদের উন্নাসিকতা/নাক উঁচো মনোভাব চোখে লাগে।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
মাহবুব সুমন,ব্লগের ভাল সাহিত্যকে চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করার জন্য ব্লগারদের মধ্যে কোন সক্রিয়তা দরকার বলে আপনি মনে করেন? আমি লক্ষ্য করছি অনেক সময় এই উৎসাহ প্রদান ধান্দাবাজিতে পর্যবসিত হয়।
একটা সময় ধারণা ছিল ভার্চুয়াল জগতটা অবাস্তব গ্রহের ছবির মত , মনিটরের পর্দায় পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ দৃশ্যেও নির্বিকার থাকা যায় , ব্লগ সে ধারণাও বদলে দিল । সামান্য উতসাহে আংগুল গুলো যেমন নতুন কিছু লিখবার জন্য সচল হয়ে যায় , অহেতুক ব্যক্তি আক্রমণের মুখে সেই হাতটাই অসার হয়ে পড়ে । নিজের নামে না এসে অন্য কোন নিক নিয়ে আসলে হয়তো মানসিক ক্ষমতাটা থাকতো বেশি , কিন্তু সেটা খারাপ পথে চলে যাবার সম্ভবনা থেকেই যেত ।
ব্লগ থেকে ভালো লেখক উঠে আসাটা আমার কাছে অনেক কঠিন মনে হয় , এখানে শখের লেখকের সংখ্যাই বেশি , লেখালেখির ভবিষ্যত নিয়ে যারা নিজেরাও কখনো ভেবে দেখেনা । পরমত সহিষ্ঞুতার পরিচয় দিয়ে আলোচনা গুলো গঠনমূলক হলে , অহেতুক আক্রমণ পরিহার করলে ব্লগটা আরও অনেক জনপ্রিয়তা একটা আড্ডাস্থল হয়ে উঠতো ।
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
ছবি দিতে সমস্যা নেই।"জরুরি অবস্থায় যখন অনেক জরুরি কথা বলা যায়না, তখন ব্লগ সেই ব্যবস্থা করে দেয়। এখানে সেন্সর হবার, গ্রেফতার হবার, আইনী মারপ্যাঁচে পড়বার ভয় নেই। ছদ্মনাম বা নিক ব্লগারকে এসব থেকে বাঁচিয়ে দেয়।"
- অনেক ক্ষেত্রে এর বিপরীত চিত্রও লক্ষ্য করা যায়। যেমন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১শে আগস্ট ঘটনার সময় অনেক পোস্টই মুছে ফেলা হয়েছে।
ব্লগ লেখক তৈরী করছে না - এই কথাটি আমি মানতে পারছি না। ব্যাপক অর্থে না হলেও সীমিত আকারে হলেও অনেক লেখক বেরিয়ে আসছে।অনেকেই সাহিত্য চর্চার জন্য কোন সহজ মাধ্যম পান না, সেই অর্থে ব্লগ একটি বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কারন একটি লেখা জন্ম দিচ্ছে বিভিন্ন মতের এবং মন্তব্যের-এর আকর্ষনেও অনেকে লিখছেন।
আরেকটি ব্যাপার হল, অনেক ক্ষেত্রেই গালিগালাজ করা হলেও ব্লগের মাধ্যমে কোন একটি ধারনা'র বিপরীত মত জানা যাচ্ছে।
কারন , হাতে লেখা অথবা কম্পিউটারে টাইপ করা সময় সাপেক্ষ্য ও শ্রমসাধ্য মনে হতো ।
চিন্তাকে সংগোঠিত করে তা প্রকাশের ক্ষেত্র আমার মনে হয় দুইটা ধরনের সামর্থ্য বিদ্যমান ।
১. লেখালেখির ও সৃজনশীল কাজ করার স্বাভাবিক
(জন্মগত অথবা পারিবারিকসূত্রে )ক্ষমতা ।
২.সাধারন মানের ক্ষমতা অথচ লেখালেখির ও সৃজনশীল কাজ করার আগ্রহ।
দুই ক্ষেত্রেই সুযোগ,পরির্চচা আর উৎসাহের প্রয়োজন হয় । এক্ষেত্রে প্রচলিত প্রিন্টিং ধারার থেকে নতুন ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্লগিং এর সুযোগ ,পরিসর আর সম্ভাবনা অনেক বেশি ।
অনেকটা
বাজাতে বাজাতে বায়েন
আর লিখতে লিখতে লেখক ।
এই অসীম সুযোগ আর সুবিধা এক মাত্র এখানেই সম্ভব ।
আমি এই যে এতোটুকু লিখতে পাড়লাম তা শুধুমাত্র এই কয়দিনের ব্লগের লেখালেখির অভ্যাসের কারনে ।
আর মাধ্যম হিসাবে ইন্টারনেট ভিত্তিক লেখালেখি একদিন মূল ধারা হয়ে উঠবে এটি এখন সময় এর ব্যাপার ।
৫

















