somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুশীল সমাজের সাজানো বাগানের ভেতর দিয়ে চলা লাইনচ্যুত ট্রেন

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'বিএনপির সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেল।' কথাটা আমার নয়, এক প্রতিথযশা সাংবাদিকের। ১১ জানুয়ারির পর যখন গুদামে তালা পড়তে থাকলো। কেউকেটারা গ্রেফতার হলো, কেউ পালিয়ে বাঁচলো। বাগানবাড়ি, মিনি চিড়িয়াখানায় চোরাগোপ্তা হামলা চলতে থাকলো। রাস্তায় বাঘ, বানর, ময়ূর সাপ পাওয়া যেতে থাকলো। সিটি কর্পোরেশনের ভাংচুর অভিযানে ব্যবসায়ীরা ভয়ে অস্থির হতে থাকলো। দুর্নীতি বিরোধী, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাপন্থী, সুশীল সমাজ মুর্হূমুহু সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে জানিয়ে দিতে থাকলেন আমরা আছি। আমরা আছি।
গল্পটা অনেক মজার। শাসকদের একটা ট্রেন যাচ্ছিল বাংলাদেশের হৃদয়ের মধ্য দিয়ে। ট্রেন চলছে। কিন্তু হঠাৎ সুশীল সমাজ খেয়াল করলো, ট্রেনটা লাইন দিয়ে চলছে না। অন্যায়, অবিচারের মধ্য দিয়ে ট্রেনটা চললে দেশ শেষ হয়ে যাবে। সুশীল সমাজের সেমিনারে ব্যাপারটা নিয়ে অনেক কথা বার্তা হলো। ট্রেন শূন্য দিয়ে চলছে নাকি, থেমে গেছে, নাকি পুকুরে পড়ে গেছে? কেউ বললো না ট্রেনটা কোথায়। কিন্তু ট্রেনটাকে তুলতে হবে, এটা তখন সবার দাবি। কিন্তু সুশীল সমাজ আর তাদের পলিসি সংগঠনগুলো তো আর নিজেরা ট্রেন তোলার ক্রেন আনতে পারবে না। তাই তারা যাদের সাহায্যে চলে তাদের কাছে গেল। আন্ডার সেক্রেটারিরাও বললো ট্রেন তো লাইনে নাই। অতএব ট্রেনকে লাইনে তুলতে হবে। পত্রিকাগুলো বললো, হ্যা ট্রেনকে এবার লাইনে তুলতে হবে। ব্যবসায়ী নেতারা বললো, ট্রেন টেনে না তুললে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। সমগ্র শাসক শ্রেণী যখন একমত হলো তখনই ক্যান্টনমেন্ট থেকে ক্রেন এসে সেই অবাক, আশ্চর্য, ভার্চুয়াল ট্রেনটাকে লাইনে তুললো। অন্তত দাবি করা হলো, পিসি সরকারের সেই জাদুর ট্রেনটা লাইনে উঠেছে। সবাই প্রশ্ন করলো, তাইলে ভেঁপু বাজে না কেন? ধাড়াক ধড়াক আওয়াজ পাওয়া যায় না কেন? সিঁটি বাজে না কেন? বলা হলো, ড্রাইভার নেই। দুর্নীতিবাজ ড্রাইভাররা সব জেলে তাই শাসনের ট্রেন আর স্টার্ট করা যাচ্ছে না। একে একে অনেকেই ড্রাইভার সাজতে চাইলো। কিন্তু কেউ শেষ পর্যন্ত লাইসেন্স পেল না। নোবেল লরিয়েট থেকে ভাঁড় পর্যন্ত সবাই চেষ্টা করলো। কেউ পারলো না। আজ পর্যন্ত ড্রাইভার পাওয়া গেল না। তাই সামনে অনিশ্চিয়তা। ড্রাইভার না পাওয়া গেলে ক্রেন দিয়ে গুন টেনে ট্রেন চালানো হবে কি না?
ট্রেনের গল্পটা ভালই চলছিল। কিন্তু লাইনের গল্প শুরু হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র থাপ্পড় খাওয়ার পর। সেই এক থাপ্পড়, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। দুই দিনের মাথায় সরকারের যাই যাই পরিস্থিতি। পুরো ব্যাপারটার কথা মনে হলে, একটা ফিকশন মনে হয়। পাঁচ মাস চলে গেল। গ্রেফতার হওয়া ছাত্র-শিক্ষকরা এইটা প্রমাণ করে বের হলেন যে, সরকারের একমাত্র অর্জন অর্থাৎ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও এখন স্রেফ লোক দেখানো ব্যাপার। লাইনের কথা আবার আলোচনা হলো, প্রত্নসম্পদ পাচারের ঘটনা থেকে। বেহেশতী সুশীলদের প্রতিনিধিরাও যে পাপ করতে পারেন। তাও দেখা গেল। তারপর এলো, দ্রব্যমূল্য। চাইলের চাইলে চারজন উপদেষ্টা কুপোকাত। লাইনে যে ট্রেন নাই সেইটা বোঝা যাচ্ছে। লাইন থাকলে না দেখা যাবে ট্রেন কোথায় থাকার কথা।
যে রাতে উপদেষ্টারা পদত্যাগ করলেন সে রাতে এক বন্ধুকে ফোন করেছে সুশীল সমাজের এক প্রতিনিধি। বন্ধু বললো, স্যার আপনে এখনও ফোন বন্ধ করেন নাই? স্যার বললেন ক্যান? বন্ধু বললো, উপদেষ্টা হতে না চাইলে এখনি ফোন বন্ধ করে ঘরের লাইট নিবিয়ে শুয়ে থাকেন। একদা কত কত সুশীল সমাজে চারদিক মুখরিত ছিল। টিভিতে চেহারা মোবারক দেখে কতজনাই পলিসি দিতেন। অথচ সরকার এখন নাকি উপদেষ্টাই পায় না। একদা আমরা ভাবতাম, নুতন ধরনের এই শাসনে সুশীল সমাজের সাজানো গোছানো পলিসির বাগানের ভেতর দিয়ে যাবে সেই ভার্চুয়াল, আশ্চর্য ট্রেন। নাগরিকরা যে ট্রেন কোনোদিন দেখেনি। শুধু একটা ট্রেন আছে বলে শুনছে। সেই ট্রেন লাইন থেকে পড়ে যাচ্ছে। উঠছে। আহ, এখন গাড়ি চলে না, চলে না চলে না রে।
থাইল্যান্ডেও নাকি এইরকম হইছিল। সুশীল সমাজ এইরকম সক্রিয় হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কী হয়েছে সবাই জানেন।
এখন বাংলাদেশে টিভি চ্যানেলে আর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি তেমন দেখা যায় না। মাঝে মাঝে এলেও গলায় তেমন জোর নাই। তারা এখন কী বলেন সেইটা তারাও বোঝেন কি না বোঝা যায় না। টকশোগুলোকে এখন অ্যাবসার্ড নাটকের মহড়া মনে হয়। মাঝে মাঝে কিছু রাগী মানুষ এসে বাতাস গরম করে যান। ব্যস। এর বাইরে যারা আছেন সেই পলিটিকাল টাউটদের কথা শুনলে ট্রেনের নিচে মাথা দিতে ইচ্ছা করে। আমাদের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এক আশ্চর্য ট্রেন। আসুন লাইনে মাথা পেতে দেই। যদি কখনো চালু হয় তবে অন্তত মাথাটা তো কাটা পড়বে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৩৫
৩৪টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×