somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয় বাবা আলুনাথ!

১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্কুলে পড়ার সময়, সম্ভবত এরশাদ সরকার তখন ক্ষমতায়। দিনাজপুরের যে থানা শহরে আমরা থাকতাম সেইখানে একটা আলু মেলা হয়েছিল। আলুর দোষ কী জিনিশ সেইটা সবাই জানেন। কিন্তু আলুর গুন সেইদিন আমি চর্মচক্ষে দেখেছিলাম। আলু নিয়ে রীতিমতো এক মেলা হয়েছিল। মেলার স্লোগান ছিল, বেশি করে আলু খান, ভাতের ওপর চাপ কমান। মেলায় গিয়া আমার চোখ আলুপুরি হয়ে গেল। আলু ভর্তা, আলু ভাজি,আলুর কোপ্তা, আলুর কালিয়া এগুলো সবই আছে। সঙ্গে আছে আলুর ভাত, আলুর রুটি। আলুর মিষ্টি, আলুর দম। থানা শহরের সরকারি কর্মকর্তাদের স্ত্রীরা দোকান সাজিয়ে রীতিমতো আলুর মিনাবাজার তৈরি করেছিলেন। আলু দিয়ে কী না সম্ভব? সম্ভব অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। তখন খিয়াল করি নাই দেশে খাদ্য সংকট চলতেছিল কি না। স্কুলে পড়তাম তো। কিন্তু আলুর নানা পদ ও প্রকারভেদ সেইদিন আমার মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। আলু নিয়ে কত ভেবেছি। কিন্তু মধ্যবিত্ত জীবনে আলু অভ্যাসে বৈচিত্র আসে নাই। ভর্তা, ভাজি বা তরকারির থোড়া ছাড়া আলুর আর কোন ভূমিকা পরবর্তী কালে লক্ষ্য করি নাই। জীবন চলে যাচ্ছিল। দুর্নীতি, সহিংসতা, বিএনপি আওয়ামী লীগ জীবন আকীর্ণ করে রেখেছিল।
আবার জীবনে আলু নিয়ে ভাবার সময় এলো। সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়ায় আলুর দিকে তাকাবার অবসর মিললো। হে আলু দেখাও তবে তোমার রূপ। কী ভাবে কত ভাবে তোমাকে খাই বলো। আবার এসেছে আলু। কারণ, চালের দাম বেড়ে গিয়েছিল। মরিচ, পেঁয়াজ, আলু নয় চালবাজ বাঙালির চালে এবার প্রকৃতই ঢিল পড়িয়াছে। চালের দাম বাইড়া গেছে গা। বাঙালি ভাত না খাইলে বাঁচিবে না। অতএব চাল না থাকিলে তাহার মৃত্যু অবধারিত।
চালের ঘটনায় আমার চোখ একেবারে খুলে গেছে। আগে ভাবতাম বিএনপি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য বিশাল এক ষড়যন্ত্র পেঁচাইয়া সিভিল ও মিলিটারি সোসাইটি বইসা আছে। সুযোগ পাইলে নাইমা পড়বো। এখন বুঝতেছি। মনের ভিতরে ক্ষমতার যাতনা ছাড়া আর কিছুই তাহাদের মনে আছিল না। তা না হইলে যাদের শাসন করা হবে তারা কত টন চাল খায় তার হিসাব অন্তত তারা করতো। প্রথমে তো মনে হইতেছিল ক্ষমতা একপ্রকার হানিমুন। মধুচন্দ্রিমা যাপন করে চলে যাও। খোশ মে রহো। সংবিধানে তিন মাসের মধুচন্দ্রিমা বৈধ ছিল। কিন্তু আঠারো মাসে মধুচন্দ্রিমা মধুযাতনায় পরিণত হইলো। কী ছিল বিধাতার মনে। তিনি বাঙালিকে দিয়েছেন ভাতের ক্ষুধা, সঙ্গে বন্যা সিডর আর কর্মঅসংস্থান, মন্দা।
ফলে, আলুর কথা আইসা পড়লো। এসো হে আলু এসো এসো।
বৈশাখও আইসা পড়লো। চারদিকে ফ্যাশন শো। পান্তা-ইলিশ উৎসবও হইবে অনুমান করা যায়। দেশের মানুষ খেতে পাবে না আর আলু খোররা ফ্যাশন শোর টেবিল থেকে নেমে গিয়ে বটমূলে পান্তা চিবাবে। ভাবতে ভালোই লাগে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
হিডেন হাঙ্গার, নিরব দুর্ভিক্ষ আর সরব আলুর দেশে একটু সামনে তাকানো যাক। কাইলকা বিডিআর বলছে, বোরো উঠলেও চালের দাম কমবে না। পরশু সেনাপ্রধান বলছেন, সেনাবাহিনী এমন কিছু করবে না যাতে প্রশাসনের সামরিকায়ন হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হলো, বিডিআর চাল বেচে ঠিক আছে। কিন্তু তারা কী কৃষি খাদ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও চালায়। তাদের সেই অবকাঠামো আছে? তারা কেমনে বলে চাউলের দাম কমবো না।
অবশ্য চাউলের দাম কমবো না সেইটা বিশেষজ্ঞ জ্ঞানে না হইলেও সাধারণ জ্ঞানে বোঝা যাইতেছে। কারণ কী? কারণ বোরোতে আশানুরূপ ফল মিলিবে না। বাংলাদেশে হাইব্রিডের ক্যানভাসাররা এইবার এমন বীজ আনছে যে, ধানক্ষেতে এখন ত্রাহি ত্রাহি রব। পাতামরা রোগে ধান শীঘ্রই পাতানে পরিণত হইতেছে। কৃষকের হাতে এইসব পাতামরা জাতের ধান দিয়া ফলাইতে বইলা আরও বড় বিপদ ডাইকা আনা হইছে। এখন বোরো উঠলেও চালের দাম কমবো না। ফলে, আলু খাওয়ার অভ্যাসটা কয়মাসে একটু বাড়ানো ভাল। আর প্রার্থনা এই হে স্বর্গীয় আলু, আমাদের ছেড়ে যেও না।
আলুর দিকে সৃষ্টিশীলভাবে তাকান। হে আলু জীবন, এসো।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৫৫
৪০টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×