somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রিয় কবি ১৭ তারিখে মারা গেছেন

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এমে সেজায়ার, কেউ কেউ উচ্চারণ করেন এইমে সেজায়ার। বাংলাভাষার কবিতা পাঠকদের কাছে তার নাম অচেনা থাকারই কথা। আমাদের কাছেও। কারণটা খুব স্বাভাবিক। কাউকে যদি বলি মার্তিনিক নামে কোনো দেশের কথা তাহলে আমার মতো তিনিও মনের ভেতরে থাকা পৃথিবীর মানচিত্র খুঁজে এমন কোনো জায়গা সহসা বের করতে পারবেন না যেখানে মার্তিনিক নামে একটা দেশ থাকতে পারে। যেখানে মার্তিনিক ক্যারিবিয়ান সাগরের সেই জায়গাটা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সেই বন্ধনীটার দিকে তাকালেও খুঁজে পাওয়া ভার। কোথায় মার্তিনিক। সেই দেশের কবি এমে সেজায়ার। সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার, সেই ছোট মার্তিনিকের বড় কবির কবিতা বাংলায় অনুবাদ হয়েছে। এবং আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো সেটা বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিতও হয়েছে। দেশে ফেরার খাতা নামে সেই কবিতার বইটা পড়ার সৌভাগ্য যদি কোনো ভাগ্যবানের হয়ে থাকে তবে অন্যদের উচিত তাকে ঈর্ষা করা। বইটি প্রকাশ করেছিলেন সাহিত্য প্রকাশের মফিদুল হক। জানি না, এখনও তাদের পুরানা পল্টনের স্টলে দুএক কপি আছে কি না। বাংলাদেশ সংস্করণের জন্য ভূমিকা লিখেছিলেন কবি মোহাম্মদ রফিক। মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লাতিন সাহিত্যের পাঠকরা ঋণী। যেমন ঋণী প্রগতি ও রাদুগা প্রকাশনীর কাছে রাশান সাহিত্যের অনুবাদের কারণে। এই মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় একাই পুরো একটা সাহিত্যিক মহাবিশ্বকে অপরিসীম নিষ্ঠায় বাঙালি পাঠকের কাছে এনে দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, অনেক কাল আগে তিনি তার কাজ শুরু করেছিলেন। ফলে, আমাদের কৈশোরেই আমরা লাতিন সাহিত্যের সেরা সম্ভার পড়ে ফেলতে পেরেছিলাম। এমে সেজায়ারও অনুবাদ করেছিলেন মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে দেবলীনা ঘোষ (?) ছিলেন সহ-অনুবাদক। মানব বাবুর সেরা কবিতা অনুবাদ এটি। আমার ভাগ্য হয়েছিল মানবেন্দ্র বাবুর সঙ্গে সাক্ষাতের। আর সে সাক্ষাতে কিছু বিষয়ে জানার। এবং এই দেশে ফেরার খাতা বইটিতে তার সাক্ষর নেবার।
এমে সেজায়ার এক অসামান্য কবি। যখন শেষ হয়ে আসে ভোর.... বলে যখন তার কবিতা শুরু হয়, যখন দেশে ফেরার খাতা বা নোটবুক অফ এ রিটার্ন টু দি নেটিভ ল্যান্ড তখন শিউরে উঠতে হয়। গা কাঁটা দিয়ে ওঠে লাইনে লাইনে। দেশে ফেরার খাতা হলো আমার শেষ পড়া কবিতার বই যেটা পড়ে আমি চমকে উঠেছিলাম।
এমে সেজায়ার ও তার বন্ধু সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেওপল্ড সাদর সেঙ্ঘর মিলে ১৯৩৪ সালে নেগ্রিচুড নামে একটি ধারণার উত্থান ঘটান। এ ধারণা বা মতবাদে নিগ্রো বা কালো মানুষকে আবার তার কালোত্বের জন্য গর্বিত হতে উৎসাহিত করা হয়। নেগ্রিচুড মতবাদ প্রচারের পর তা কালো মানুষদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়। দেশে ফেরার খাতা সেই কালো মানুষের সাধারণ, বর্ণহীন জীবনের জয়গান।
এমে সেজায়ারের জন্ম ২৬ জুন ১৯১৩ সালে। মৃত্যু হলো ৯৪ বছর বয়সে ১৭ এপ্রিল ২০০৮-এ। তিনি মৃত্যুবরণ করেন মার্তিনিকের রাজধানী ফোর্ট ডি ফ্রান্সে। মার্তিনিক ছিল ফ্রেঞ্চ উপনিবেশ। সেজায়ারের লেখার ভাষা ফ্রেঞ্চ। কিন্তু ফ্রান্সের উপবেশগুলির সাহিত্যিকরা তাদের সাহিত্যকে মূল ফ্রেঞ্চ সাহিত্যের সঙ্গে মেলাতে অস্বীকার করেন। ফলে এগুলো আলাদা করে ক্যারিবিয়ান সাহিত্য বলে গন্য হয়।
এমে সেজায়ার তার বন্ধু সাদর সেঙ্ঘরের মতো রাজনীতিতে উৎসাহী ছিলেন। তিনি মার্তিনিকের পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন। ফোর্ট ডি ফ্রান্সের মেয়র ছিলেন। দেশে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। কিছুদিন আগে মার্তিনিক সরকার সে দেশের প্রধান বিমানবন্দরটির নাম রাখে এমে সেজায়ারের নাম অনুসারে।
২০০৬ সালে ফ্রান্সের ইন্টিরিয়র মিনিস্টার ছিলেন নিকোলা সারকোজি। তখন উপনিবেশগুলোতে ফ্রান্সের ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে তিনি কিছু প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এতে এমে সেজায়ার তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গররাজি হয়েছিলেন। মৃত্যুর পর সারকোজি বলেন, এমে সেজায়ার ছিলেন মহান মানবতাবদী লেখক। স্বাধীন ও মুক্ত একটি সত্তা হিসেবে তিনি জীবনভর তার আত্মপরিচয়ের লড়াই চালিয়ে গেছেন। নিজের আফ্রিকান শেকড়ের বর্ণাঢ্যতাকে প্রকাশ করেছেন।

Click This Link
১৭টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×