আমার প্রিয় পোস্ট
- সামহয়ারে এসে যে লেখকদের সঙ্গে পরিচয় হলো - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহয়ারে আসার আগে আমি যে লেখকদের চিনতাম পরে সামহয়ারেও যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি ব্লগীয় রাউন্ড টেবিল আলোচনার প্রস্তাব - মাহবুব মোর্শেদ
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কুড়ি বছর - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহয়ার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ # বিষয় : মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি - মাহবুব মোর্শেদ
- ওয়ান্স আপন এ কান্ট্রি, সামহয়ার ইন দ্য ওয়েব - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীন : সফল নাট্যকার ও শিক্ষকের বিদায় - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীনের সাক্ষাৎকারের বাকী অংশ - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার নব্যরাজাকারিতার সন্ধানে - মাহবুব মোর্শেদ
- আমেরিকার নির্বাচনে ভোটার হওয়ার আবেদন - মাহবুব মোর্শেদ
- এক চিত্রনায়কের জন্য আমার শোকগাথা - মাহবুব মোর্শেদ
- জয় বাবা আলুনাথ! - মাহবুব মোর্শেদ
- পাকিস্তান, পারভেজ মোশাররফ, গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল আর্মি - মাহবুব মোর্শেদ
- ছোটদের অর্থনীতি অথবা কয়দিন ধরে যা কিছু কথা ভাবতেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি চিঠি... ভাস্করদা ও সুমন ভাইকে - মাহবুব মোর্শেদ
- এখানেও আমরা ব্যর্থ হবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি বাসি বিজ্ঞাপন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি গল্পের পরীক্ষামূলক উতক্ষেপন : জিসম # মাহবুব মোর্শেদ - মাহবুব মোর্শেদ
- বুনুয়েলের বুর্জোয়া - মাহবুব মোর্শেদ
- এই ছবি আমি তুলেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- প্রেমেক্কার শ্বশুর বাড়ি - মাহবুব মোর্শেদ
- তুই ...রে ব...সন্ত সমী...রণ - মাহবুব মোর্শেদ
- ফাদার গাস্তঁ রোবের্জের সাক্ষাৎকার - মাহবুব মোর্শেদ
- তারেক মাসুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- টেগোর ইন দ্য টাইম অব এমার্জেন্সি - মাহবুব মোর্শেদ
- বহুদিন পর আবার হরিদাস পাল - মাহবুব মোর্শেদ
- কবি আল মাহমুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- ব্লগে পোস্টিংয়ের স্লথগতি - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহোয়ার, ইলেকট্রনিক মোল্লা, ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ ও লেখক যশোপ্রার্থীদের তড়পানি - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার সচলায়তন অভিজ্ঞতা : সে এক কাহিনি বটে! - মাহবুব মোর্শেদ
ব্যক্তি লেখকের স্টাইল বনাম কথ্য ভাষার অকথ্য মর্মযাতনা
২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৪
শিল্পীমাত্রই ভাষায় নিজের প্রকাশরীতিটাকে আলাদা কইরা চিনাইতে চান। আমরা যখন কমলকুমার মজুমদারের ভাষা নিয়া কথা কই তখন সেইটা কলকাতার ভাষা না ইংরেজি সিনট্যাক্সে লেখা ভাষা না ফেঞ্চ সিনট্যাক্সে লেখা ভাষা না কথ্য রীতির ভাষা না লেখ্য রীতির ভাষা সেই তর্কের চাইতে বড় হয়ে কমলকুমারের ভাষা হয়েই থাকে। অমিয়ভূষণ মজুমদার নানাভাবে বাংলা লেখছেন, মহিষকুড়ার উপকথার ভাষা, রাজনগরের ভাষা ও ফ্রাইডে আইল্যান্ডের ভাষার মধ্যে মেলা ফারাক। তবু সব মিলায়ে অমিয়ভূষণের ভাষা বইলা একটা জিনিশ সাহিত্যের পাঠকে চিনে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলেন বর্ষায় পদ্মায় ইলিশ ধরার মরশুম চলিতেছে। তখন বুঝা যায়, আঞ্চভাষার শব্দসম্ভার তিনি তার লেখায় যথেষ্ট পরিমাণে ব্যবহার করার পরও এইটা ওনার নিজস্ব স্টাইলের ভাষা।
ভাষার স্টাইলটা এক লেখকের ব্যক্তিত্বের মতো। এইটা তাকে প্রকাশে, প্রকাশভঙ্গিতে আলাদা হওয়ার জন্য তৈয়ার করতে হয়। নিজেকে চিনানোর জন্য সবার ভাষা থেকে পৃথক একটা ভাষায় নিজেকে জাহির করতে হয়। আর দুইটা লেখার পর, লেখকের ক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠাক্রমে সেই ভাষাকে সেই লেখক নিজস্ব বইলা চিনাইতে পারেন। লেখার মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব পাঠকের কাছে আলাদা কইরা হাজির হয়। এইটা করতে গিয়া তিনি ভাষার মধ্যে কিছু পরিহাস আনেন, হয়তো কিছু নতুন শব্দ পুরানা শব্দ ব্যবহার করেন। নিজের দখলে থাকা আঞ্চলিক ভাষা থেকে শব্দ নেন। যার যেমন রুচি। স্টাইলের প্রয়োজনে লেখক যা করেন তাকে জেনারেল কোনো ব্যাপার বইলা মাইনা নেওয়া কঠিন বা লেখকও নিজের স্টাইলের সাধারণীকরণ দাবি করতে পারেন না। কথা ঠিক যে, রবীন্দ্রনাথের মতো লেখক যখন লিখতেছিলেন তখন বাংলা চলতি ভাষা গঠনের সেই সময়টায় রবীন্দ্রনাথের স্টাইল, ভাষারীতি বাঙালি শিক্ষিত সমাজের মধ্যে সাঙ্গ হইছিল। রবীন্দ্রনাথের লেখার ভাষারে আদর্শ ধইরা শিক্ষিত বাঙালি নিজের লেখার ভাষা ও মুখের ভাষারে ঠিক কইরা নিছিল। রবীন্দ্রনাথের পর আর কোনো লেখকের ভাগ্যে এমন শিকা ছেঁড়ে নাই, এইভাবে। কিছু শব্দ হয়তো কেউ নিছে, কোনো বাক্য এর বেশি না। ভাষার ব্যাপারে আজ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের চেয়ে বিপ্লবী কোনো ভাষা চিন্তক শিক্ষিত বাঙালির মধ্যে আসে নাই। উনি বাংলাভাষায় যত পরিমাণ মুখের ভাষাকে ঢুকাইছিলেন সেই উদারতা নিয়া আর কেউ আসে নাই। উনি মুখের ভাষার কাছাকাছি থাকার জন্য আজীবন ব্যাকুল আছিলেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের পর তিরিশের দশক পর্যন্ত একটা বিকাশ ঘটার পর মুখের ভাষার কাছাকাছি থাকার রাবীন্দ্রিক খায়েস কলকাতার শিক্ষিত সমাজ মনে রাখে নাই। ফলে, গত কয়েক দশকে কলকাতায় সাংবাদিক গদ্য, সাহিত্যিক গদ্য আর সভ্য গদ্যে কোনো উন্নতি হয় নাই। শিক্ষিত লোকেরা মান ভাষার একটা মান তৈরি করছেন। সেইভাষাটা সুন্দর বটে, কিন্তু সেটা স্থবির। সেইভাষার আর কোনো বিকাশ হয় নাই। হবে বলেও আশা করা দুরাশা। কলকাতা সেই যে নদীয়া কৃষ্ণনগরের ভাষাকে নিজের মান ভাষা বইলা মানলো তো আর কোনো দিকে ভাষার ভূগোলকে আগায়া নিতে পারলো না। কলকাতার গল্প উপন্যাস প্রবন্ধে হুগলি, মুরশিদাবাদ, বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূমের ভাষা কই? কোনো শব্দ কই?
কিন্তু বাংলাদেশে ভাষা নিয়া কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়। এখানকার রক্ষণশীল বুদ্ধিজীবী সমাজ কলকাতার মতো একটা মান মান ভাষায় স্থির হওয়ার খায়েস মনে রাখেন বটে কিন্তু সেইটা এইখানে ঘটে নাই। ফলে, এইখানে গদ্যের নানা ভঙ্গি। সাহিত্যিক গদ্যের নানা প্রকাশ।
কলকাতার উপন্যাস (আনন্দ) পড়তে গিয়া বিষয় আলাদা হওয়া সত্ত্বেও আমার কেবলই মনে হয় যেন একটা লেখাই পড়তেছি। ভাষা যেন কথা কয় না। কিন্তু বাংলাদেশে শওকত ওসমান, শওকত আলী, সৈয়দ শামসুল হক, হাসান আজিজুল হক, মাহমুদুল হক যার লেখাই পড়ি ভাষার ভেতর দিয়া আরেকটা ভাষা কথা কয়। একটা গন্ধ টের পাই। সৈয়দ হকের মতো স্টাইলিস্ট লেখকের ভাষার সঙ্গে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ভাষার মিল নাই। বগুড়ার গন্ধ মাখা ভাষার পাশে সৈয়দ হকের রংপুরের গন্ধ মাখা ভাষাকে আমার ভাল লাগে। বুঝি সকল শুদ্ধতার বোধ ও আকাঙ্ক্ষা থাকার পরও সৈয়দ হক সেইভাষার ঘ্রাণ ছাড়াইতে পারেন নাই। বিচিত্র স্বাদ-গন্ধের এই ভাষার বৈচিত্রের মধ্যেই আমি লোকের মুখের ভাষার কাছাকাছি থাকার স্বাদটা পাই। একটা উপন্যাস থেকে আরেকটা উপন্যাসকে সহজে আলাদা করতে পারি। ব্যক্তি লেখকের স্টাইল ছাপিয়ে, স্যুট টাইয়ের বন্ধন ছাপিয়ে লুঙ্গি উঁকি দেয়। ঠিক মতো নাগরিক হইতে না পারার মধ্যেই আমি মুখের ভাষার গায়ে গায়ে সাহিত্যের ভাষার লেগে থাকার সম্ভাবনাটা টের পাই।
ক্লাশ নিয়া, সেমিনারে বক্তৃতা দিয়া, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বইলা আমাদের লেখক অধ্যাপক যখন গাড়িতে উইঠাই ড্রাইভারের সঙ্গে একটা শুদ্ধ-অশুদ্ধের মাঝামাঝি ভাষায় কথা বইলা উঠেন তখন সত্যিই আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।
(আরও লেখতে হবে। মেলা কথা জইমা আছে।)
প্রকাশ করা হয়েছে: শব্দচর্চা বিভাগে ।
(অ)গাণিতিক বলেছেন:
লিখে ফেলেন! +
লেখক বলেছেন: তাই করি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
পড়লাম । পরে কথা হবে। ''মেলা কথা জইমা আছে।''
লেখক বলেছেন: হ।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
ভালো লাগছে
লেখক বলেছেন: thanx a lot.
এই লাইনটাই সব বলে দিলো
লেখক বলেছেন: আসলেই।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: বক্তব্য স্পষ্ট করতে আরও সময় লাগবে। বিষয়টা তো আমিও ভাবতে ভাবতে বুঝার চেষ্টা করতেছি।
এইটা গতির একটা অংশ তো বটেই। তবে এর সঙ্গে অন্য একটা বিষয়ও জড়িত। ওয়াল্টার বেনজামিন এই নিয়া একটা কথা কইছিলেন। হাতের কাছে নাই। কিন্তু কথাটা আপনারে জানাবার বাসনা থাকলো। এখন বললে, ভুল বলবো এইটা নিশ্চিত তাই দেইখা বলতে চাই।
লেখক বলেছেন: নতুন সব জিনিশের প্রতি নতুন জেনারেশনের আগ্রহ সবসময় বেশি। এই নিয়া শঙ্কা প্রকাশ কইরা লাভ নাই। নতুন জেনারেশন সবসময় নতুন থাকে না, আবার নতুন বিষয়ও সবসময় নতুন থাকে না।
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
পশ্চমিবঙ্গের জীবনমুখী গানের ধারার দিকে দৃষ্টি দিলে কি একই দৃশ্য চোখে পড়ে? ('ওলো সুজন আমার ঘরে কেন আইলো না')।
লেখক বলেছেন: গানে অনেক বৈচিত্র্য টের পাই।
দূরন্ত বলেছেন:
হুমম..
লেখক বলেছেন: হাাাাাাাাাাাম।
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
লেখা শেষ না হওয়ার আগে আর কোন কথা না। শেষ না হলে আলোচনা করা উচিত হবে না।
লেখক বলেছেন: সেই।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
রিফাত হাসান বলেছেন:
শওকত ওসমান, শওকত আলী, শাহেদ আলীতে পূর্ববাংলার ভাষার মিষ্টি ঘ্রাণ আছে (আপনি শাহেদ আলীর কথা বলেন নি, আমার কাছে এখনো ছোটগল্প বলতে তার অনেকগুলো অসাধারণ গল্প ভাসে), আর মাহমুদুল হকের মধ্যে ভাষার উত্তেজনা। এরা চারজনই আমার প্রিয়।
লেখক বলেছেন: জিব্রাইলের ডানা ছাড়া আর কিছু পড়িনি শাহেদ আলীর।
ভাষাটা মনে পড়ে।
মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: সেটাই।
েফরদৌস মাহমুদ বলেছেন:
আপনার সাথে এই বিষয়ে অবশ্যই আমি একমত, যে কলকাতার আনন্দ বাজারীয় কথাসাহিত্য ভাষায় অনেকটাই একঘেয়ে। সেই তুলনায় আমাদের কথাসাহিত্যের ভাষায় বৈচিত্র্য অনেক বেশি।লেখাটা শেষ করেন, পুরোটা পড়তে চাই। পারলে আমার ব্লগে একটু ঢু মারেন।
আপনি কি আপনার মোবাইল নাম্বারটা পরিবর্তন করেছেন?
লেখক বলেছেন: সিটিসেলটা বন্ধ। গ্রামীনটা চলে।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।


















