সামহয়ারে বিজ্ঞাপন দেওয়া নিয়া ঢের কথা হইলো। কিছু শুনলাম, কিছু দেখলাম, কিছু এড়ায়া গেলাম। কিন্তু অনুধাবনের চেষ্টা করলাম ফাহমিদ ভাইয়ের পোষ্টটা (Click This Link)। অনুধাবন করার চেষ্টা করতে বাধ্য হইলাম বলা যায়। মিডিয়া, মিডিয়া অ্যাক্টিভিজম বিষয়ে ফাহমিদুল হক সমঝদার ব্যক্তি। এই নিয়া বহুদিন কাজ করতেছেন। ফলে, নোটিশবোর্ডের পোস্টে কিছু সমর্থন দিয়া এই বিষয়ে একটা শীতঘুম দিবার উদ্যোগ করতে আছিলাম। ফাহমিদ ভাই একেবারে মুখে পানি দিয়া জাগাইলেন। বটে? তবে ফাহমদি ভাই আপনের খবর আছে। আমরা বিজ্ঞাপন চাই। আপনে চান না। আপনের লগে তর্ক আছে। আপনে বিজ্ঞাপন চান না মানে আপনে বিপ্লবী আর আমরা অবিপ্লবী এইখানেও আমরা আপোষ করতে রাজি না। আমরা বিপ্লবীও বটে, বিজ্ঞাপনেও বটে। ধর্মেও আছি, জিরাফেও আছি। পারলে ঠেকান।
কর্পোরেটের বিরুদ্ধে আমাদের নাড়াই চলছে। নাড়াইকে ভালো কথায় বলে লড়াই। কেমন লড়াই? আবহমান বাঙালি সংস্কৃতিকে বাঁচানোর লড়াই। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি নিজেই একটা আধিপত্যবাদী ধারণা। এই আধিপত্যবাদ সময়ে অসময়ে ক্ষুদ্র, দুর্বলদের ওপর হামলে পড়ে। তাকে কাইত কইরা নিজেরে জাহির করে। এই দেশে আবহমান বাঙালি সংস্কৃতিই মেইনস্ট্রিম। ফলে, আপনে বলেন বাঙাল সংস্কৃতি আবহমান না। দেখবেন আপনের লাশ এই ব্লগে পইড়া রইছে। শুধু জাতীয়বাদ না, উগ্র জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট রূপও মাঝে মধ্যে আমাদের আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি ধারণ করেন। তো মেইনস্ট্রিমের এই আধিপত্যবাদী আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি নিজের জোরেই বাঁইচা আছে। তারে বাঁচানোর কিছু নাই। ক্ষমতাধর, ব্যবসায়ী, আধিপত্যের ঝাণ্ডাধারীরা এই আবহমান সংস্কৃতিরে অবলম্বন কইরা বাণিজ্য, শাসন সবই করতেছেন। আবার কর্পোরেটও করতেছেন। বাঙালি সংস্কৃতি আর কর্পোরেট সংস্কৃতি মিলেমিশে ভালোই চলতেছে। হা-হুতাশ শুধু কিছু বেদিশা লোকের মধ্যেই দেখি। কী ব্যাপার? বাঙালি সংস্কৃতি গেল। ইজ্জত হারাইলো। ঘরে ঘরে গ্রামীণ ফোন যদি লোকের প্রতি ঘণ্টার দরকারি জিনিশ হইতে পারে তাইলে গ্রামীণ ফোনের স্পন্সরে পয়লা বৈশাখ করতে অসুবিধা কোথায়? মোড়ে মোড়ে ব্র্র্যাক ব্যাংকের বুথ ব্যবহার করতে যদি আমরা অভ্যস্ত হয়া থাকি তাইলে বই মেলায় ব্র্যাক ব্যাংকের স্পন্সর নিতে অসুবিধা কোথায়?
মোবাইল কোম্পানিগুলা দেশে ধুমছে ব্যবসা করতেছে, লাভের গুড় বিনিয়োগকারী তার দেশে নিয়া যাইতেছে। আর আমরা টকটাইম নিয়া সন্তুষ্ট আছি। না আমরা না আমাদের সরকার কেউ বলতেছে না, যে কর্পোরেট ভাইরা তোমরা লাভের গুড় পুরাটা নিওনা অর্ধেক আমাদের এইখানে ইনভেস্ট করো। কেউ কিছুই কইতেছে না। হেরা বৈধ ব্যবসা অবৈধ ব্যবসা সব কইরা লাল হয়া গেল। কিন্তু আমরা খালি বাঙালি সংস্কৃতির ইজ্জত নি
য়া তড়পাইতেছি। আমার কথা পরিষ্কার, হেরা যদি ব্যবসা করতে পারে তাইলে এইখানে বিজ্ঞাপন দিতে হবে, এইখানের লোকদের চাকরি দিতে হবে, এইখানে ৫০% লাভ রিইনভেস্ট করতে হবে। আর আমাদের সব মেলা-মূলারে স্পন্সর করতে হবে।
উপায় আরেকটা আছে, কর্পোরেটের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন। সাফ কথা কর্পোরেট আসতে পারবে না। বিজনেস করতে পারবে না। আমরা ধীরে-সুস্থে নিজের শিল্প, সেবাখাত গইড়া তুলুম। এই উপায় আজকের দুনিয়ার আর কার্যকর নাই। মাওবাদী নেপাল, মাওয়ের চীন, সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ থিকা নিয়া সবাই এখন বিদেশী ইনভেস্টমেন্টের জন্য অধীর। দ্বার সবাই খুইলা দিছে। অতএব কর্পোরেট ঠেকানোর উপায় তাদের বর্জন এই মুহূর্তে না। ওদের ঠেকাইতে রাস্তায় নামবেন? কেন নামবেন? আপনে ফোন ব্যবহার করেত চান না? আপনি তো পশ্চাৎপদ। আপনে মুক্তমিডিয়া চান না? আপনে গেছেন। আর রাস্তায় নাইমাই দেখেন। যে আপনেরে ঠেকাইবে তারে পর্যন্ত কর্পোরেট স্পন্সর কইরা ফেলছে।
রাস্তায় নাইমা মিছিল কইরা কর্পোরেটরে জিতাইয়া আপনে ঘরে ফিরা ব্লগে লিখবেন কর্পোরেট আগ্রাসন। আর রাস্তায় না নাইমা, না বুইঝা কর্পোরেটের কাজ কর্মকে নীরব সমর্থন দিবেন এইটারে হেরা বলবে করপোরেট রেসপনসিবিলিটি। শাদা মনের মানুষ থিকা দুর্নীতি বিরোধী অভিযান, ক্লোজআপ ওয়ান থিকা উকিল মুন্সীর গান, পয়লা বৈশাখ থিকা বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল সবটাই এনাদের স্পন্সরে ফুটতেছে। ফলে, মেইনস্ট্রিম বাংলা সংস্কৃতি, শাসন ও প্রতিষ্ঠান থেকে কর্পোরেট স্পন্সর তুইলা নিলে এইটা ধীরে ধীরে কাইত হয়া যাবে। সো কিপ ইট আপ।
মেইনস্ট্রিমকে বাঁচাইতে কর্পোরেট বিরোধিতা করতে আমি রাজি না। যদি সর্বাত্বক আন্দোলনের ডাক কেউ দেয়। কেউ বিকল্প হাজির কইরা কয় আসো, তাইলে ভাইবা দেখতে পারি।
কথা হইতেছি সামহয়ারে বিজ্ঞাপন নেওয়া নিয়া। কেউ কেউ বিরোধিতা করতেছেন। যারা সামহয়াররে গরু ভাবতেছেন তাদের দলে আমি নাই। আমি মনে করি সামহয়ার ষাঁড়। ইহা হইতে দুগ্ধ দোহন করা সম্ভব নহে। কেউ যদি বলে, সামহয়ার বাংলা ভাষা চর্চায় বিশাল দিগন্ত উন্মোচন করছে। আমি তালি দিব। সামহয়ার বিকল্প মিডিয়া হিসাবে নাম করছে। আমি তালি দিব। সামহয়ার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সহজ করছে আমি তালি দিব। কিন্তু কেউ যদি কয়, সামহয়ার কর্পোরেট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, কর্পোরেট বিজ্ঞাপন এর লগে যায় না, তাইলে আমি ফিক কইরা হাইসা ফেলবো। ষাঁড়ের নিকট হইতে আমি দুগ্ধ আশা করি না। কেউ ব্লগস্পট ব্যবহার কইরা লড়াই করতে পারেন, ওয়ার্ড প্রেস ব্যবহার কইরা মক্তমতের বন্যা ছুটাইতে পারেন। ইভেন কর্পোরেটের বিরুদ্ধে সামান্য সমালোচনাও করতে পারেন। কিন্তু কর্পোরেটের বিরুদ্ধে সর্বাত্বক লড়াই সম্ভব হইবে বইলা আমার বিশ্বাস নাই। তার মিডিয়া ব্যবহার কইরা তার বিরুদ্ধে আপনে সীমিত আকারে সংগঠিত হইতে পারেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে হুমকি হইয়া দাঁড়াইতে পারবেন না। সো, গাভী পালন করেন। দুগ্ধ দিবে।
জেডনেট যতদূর জানি বিপ্লবীদের গাভী। বিপ্লবীদের খড়-কুড়া খেয়ে বেঁচে থাকে। বিপ্লবীরা ইহারে ইচ্ছামতো দোহন করিতে পারে। সেইরকম একটি গাভী পুষিতে পারিলে আর আমাকে তাহাতে নিলে আমিও লালন-পালন ও দোহন করায় রাজি। কিন্তু সামহয়ারে আপাতত বিজ্ঞাপন নেওয়া হইবে না এই বিষয়ে কোনো উপযুক্ত যুক্তি আমি সরবরাহ করতে পারলাম না। এইজন্য ফাহমিদ ভাই ও অন্য সকলের নিকট ক্ষমা চাইয়া ক্ষান্ত দিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

