প্রথমে একটা কুইজ।
মনে করার চেষ্টা করেন, ব্লগে স্বাধীনতা-বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শেষ পোস্ট কবে দেখছিলেন?
পেপার পড়েন? টিভি দেখেন?
মনে করুন, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের শেষ কর্মসূচি কী ছিল?
আন্দোলন কি একটু মিইয়ে গেছে বইলা আপনের ধারণা?
স্বাধীনতা-বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এই সরকারের কর্তাব্যক্তিদের অনুপ্রেরণায় উঠলেও সেইটা ব্যাপক গণভিত্তি পাইছিল। সেইটার সঙ্গে বহু মানুষ একাত্ম হইছিলেন। সরকার যখন ক্ষমতা নেয় তখন আমাদের আবেগ অনুভূতির সঙ্গে জড়িত এই বিষয়টাকে মূলা বানায়া সামনে ঝুলায় দেয়া হইছিল। অনেকেই ভাবছে, সরকার এইবার কিছু না কিছু করবে। কিন্তু কিছু করে নাই। দুই বছর চইলা যাইতেছে। মূলার প্রয়োজন ফুরাইতেছে, তাই ইস্যুটাও পিছনের সারিতে চইলা যাইতেছে।
যখন দাবিটা তুঙ্গে উঠছিল, তখন আমি কইছিলাম এইটা হইলো জ্বলজ্ব্যান্ত ইস্যুগুলা থিকা জনগণের চোখ অন্যদিকে সরানোর ম্যাকানিজম। দ্রব্যমূল্য, চাইল-ডাইল-তেলের দাম বাইড়া যখন জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে তখন আমাদের মতো প্রগতিশীল তথা সমাজের ভোকাল লোকজনের মাথা অন্যদিকে ব্যস্ত রাখার একটা ম্যাকানিজম।
যাই হউক। সরকার সফল হইছে। এখন আর ভোকাল হওনের কাম নাই। ভোট হবে। যে জিতবে সে সরকারের অনুমতি নিয়া সরকার করবে। এই সরকারের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখবে। কিন্তু ফাঁকতালে চাইলের দাম প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই এমন জায়গায় পৌঁছাইলো যে এরে আর টাইনা নামানো সম্ভব না।
তেল গ্যাসের দাম তিনদফা বাড়লো। এরেও আর টাইনা নামানো সম্ভব না। সব কিছুর দাম বাড়ছে। বহু কোম্পানি প্রাইভেট খাতে চইলা গেছে। নতুন বহু কোম্পানি আইছে। চুক্তিমুক্তিও মেলা হইছে। দেশের প্রগতিশীল মানুষ সবই ইগনোর কইরা গেছেন এই আশায় যে, এরা বুঝি যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার করবে। দুর্নীতি দমন করবে।
ঘটনা কী? যে লাউ আগে আছিল এখনও সেই কদুই রাজত্ব করতেছে।
কিন্তু যে ইস্যুর কারণে সরকার এত ছাড় পাইল সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি আমরা ছাইড়া দিলাম কেন?
কী হইছে?
নির্বাচন তো আগায়া আসতেছে। নির্বাচনে রাজাকার আলবদররা জিতে আসলে। তাদের সঙ্গে অন্যদল চুক্তি করলে আমরা কী করবো? সেইটা ঠিক হইছে?
স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়োনপত্র জমা দেওয়ার আইজকাই শেষ দিন। আমরা কি শিওর যে কোনো রাজাকার আলবদর এইটাতে জিতে আসবে না?
অবাক কাণ্ড! যখন যে ইস্যু জোরদার হওনের কথা তখন দেখি সেই ইস্যু হারায়া যায়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

