somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এনজয় ডুয়িং নাথিং

০৬ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা আমার ফেসবুকের বন্ধু তাদের উদ্দেশে আমার সাম্প্রতিক স্টেটাস হিসাবে আমি উপরের লাইনটা ঝুলায়ে দিছি।
ফেসবুক প্রশ্ন করে : হোয়াট আর ইউ ডুয়িং রাইট নাউ?
আমি এই লাইনটা লেখার পর আমার স্টেটাস দাঁড়ালো : মাহবুব ইজ এনজয়িং ডুয়িং নাথিং।
কথাটা লিখার পর একটু মজা লাগলো। শান্তি পাইলাম। তৎক্ষণাত মনে পড়লো না কথাটা আমি কই পাইছি। কিন্তু মনে হইলো কথাটা আমার নিজের না। কোথাও পাইছি। হঠাৎ কাল টিভি দেখতে গিয়া দেখি একটা বিজ্ঞাপনে কইতেছে, এনজয় ডুয়িং নাথিং। কীসের বিজ্ঞাপন তৎক্ষণাত বুঝতে পারলাম না। হবে কোনো ব্যাংক বা ইন্সু্রেন্স কোম্পানির বিজ্ঞাপন। কিছু না করাটাকে এনজয় করতে বলতেছে। যা কিছু করবে ওরা।
আপনি বসে থাকুন।
যাই হোক, কথাটা খুব মনে ধরে। কিছু না করার মধ্যেও তাইলে এনজয় করার কিছু আছে? হয়তো যে কাউকে কথাটা মুহূর্তে টেনে নেবে। আকৃষ্ট করবে। আমাকেও করছে।
এই আকর্ষণ করার একটা ইতিহাস আছে।
আমার প্রিয় কবি এমে সেজায়ারের দেশে ফেরার খাতার কথা বলছিলাম তার মৃত্যু প্রসঙ্গে। আমার খুব প্রিয় কবিতা। বহু মানুষের প্রিয় কবিতা। সেখানে উনি বলেছিলেন (হুবহু মনে নাই, বানায়া কইতেছি),
যারা জলকে বশ মানিয়ে তৈরি করেনি বিদ্যুত,
যারা আবিষ্কার করেনি কোনো গ্রহ
দিগন্তকে উন্মোচিত করেনি
নতুন মহাদেশের খোঁজে পরিচালনা করেনি কোনো অভিযান
পর্বতের সুউচ্চ শিখরে যারা বিজয়পতাকা ওড়ায়নি
আমি তাদের জয়গান গাইছি।

কথাগুলা খুব মনে ধরেছিল। যা কিছু নায়কোচিত, যা কিছু গর্বের বলে বিবেচিত তার বাইরের বিষয়গুলারও যে জয়গান গাওয়া সম্ভব তা আমার আইডিয়াতেই আছিল না। এমে সেজায়ারই প্রথম আইডিয়াটা মাথায় ঢোকান। বুঝতে পারি, জগতে কিছু আবিষ্কার না করা, কোনো নতুন অভিযান পরিচালনা না করা, কোনো জাতিকে পদানত না করার মধ্যেও মাহাত্ম্য আছে।
২০০৬ সালের পয়লা অক্টোবর নিউ ইয়র্ক টাইমস পড়তে আছিলাম। হঠাৎ একটা শিরোনামে চোখ আটকে গেল। টেন ডেজ উইথ অবলোমভ : এ জার্নি ইন মাই বেড। (Click This Link)অবলোমভ মানে জানি না, কিন্তু জার্নি ইন বেড কথাটা মনে ধরলো।
আসলে ইভান গনসারভের একটা উপন্যাসের নাম অবলোমবভ। সেই উপন্যাসের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই লেখক এই দশ দিনের বিছানা-সংগ্রামের কথা তুইলা ধরছেন। গ্রেইট আইডিয়া। পুরা টাসকি খায় গেলাম।
এখন আলস্যে কাটাবার মতো সময় খুব কম মেলে। কিন্তু মাঝে মাঝে কিচ্ছু করতে ইচ্ছা করে না। চোখ মেলে তাকানোর ইচ্ছা পর্যন্ত না। কিংবা চোখ মেললেও বিছানা থেকে নামতে ইচ্ছা করে না। খাবার গরম করে খেয়ে নেওয়ার ইচ্ছাও করে না। একটা সময়ের কথা খুব মনে পড়ে, যখন বাড়িতে বসে খেতাম আর শুয়ে অলস চিন্তা করতাম। কী চিন্তা সেটাও চিন্তা করতাম না। অর্ধ ঘুম অর্ধ জাগরণের একটা চমৎকার সময়ের কথা মনে হইলো নিউ ইয়র্ক টাইমসের লেখাটা পইড়া।
উইকিপিডিয়ায় সার্চ দিলাম। অবলোমভ সম্পর্কে ডিটেইল সংগ্রহের উদ্দেশে।
ইভান গনসারভের অবলোমভ উপন্যাসটি প্রথম প্র্রকাশিত হয়েছিল ১৮৫৯ সালে। উপন্যাসটি রাশিয়ায় ভীষণ জনপ্রিয় হইছিল। এর নায়কসহ বিভিন্ন চরিত্র রাশিয়ান সমাজে অহরহ উদ্ধৃত হইতো।
অবলোমভ উনিশ শতকের রাশিয়ার উচ্চমধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি আলস্যভরা। দিনের সামান্য যে কাজ তাও সে বিছানায় শুয়া, সোফায় বইসা করে। জীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সে নিতে পারে না। জীবনের কোনো উদ্দেশ্য সম্পর্কে সে নিশ্চিত হতে পারে না। এমনকি আগের মুহূর্তে কী ভেবেছিল তাও মনে করতে পারে না।
আলস্যের এই বিপুল জয়গান সম্পর্কে আমি যে অনবহিত আছিলাম সেইটাই একটা দুঃখের কথা। যাই হউক উইকিপিডিয়ার এন্ট্রিতে (http://en.wikipedia.org/wiki/Oblomov) লেনিনের একটা উদ্ধৃতি পাইয়া যারপর নাই খুশ হইলাম।
১৯২২ সালে ভ. ই. লেনিন কইতেছেন, রাশিয়া তিনটা বিপ্লব করছে, লেকিন এখনও অবলোমভরা রয়া গেছে। নতুন কোনো চেতনা জাগার আগে এইগুলারে ঝাড়েবংশে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।

আমরা যারা বিপ্লবে বিশ্বাসী না, কোনো অভিযান, আবিষ্কার যাদের আকৃষ্ট করে না তাদের জন্য আদর্শ চরিত্র অবলোমভ। আশার কথা অবলোমভ শব্দ থিকা অবলোমোভিজম ও অবলোমোভিস্ট শব্দ তৈরি হইছে।
তাই কেউ যখন আমারে জিগায়, আমি কী করতেছি?
আমি কই এনজয়িং ডুয়িং নাথিং।

পুনশ্চ : গুগলে এনজয় ডুয়িং নাথিং সার্চ দিয়া দেখলাম জেনদর্শনেও নাকি জিনিশটা আছে। কেমনে আছে কী আছে কে জানে? অত জানার দরকার কী?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৪৬
১৯টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×