আমার প্রিয় পোস্ট
- সামহয়ারে এসে যে লেখকদের সঙ্গে পরিচয় হলো - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহয়ারে আসার আগে আমি যে লেখকদের চিনতাম পরে সামহয়ারেও যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি ব্লগীয় রাউন্ড টেবিল আলোচনার প্রস্তাব - মাহবুব মোর্শেদ
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কুড়ি বছর - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহয়ার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ # বিষয় : মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি - মাহবুব মোর্শেদ
- ওয়ান্স আপন এ কান্ট্রি, সামহয়ার ইন দ্য ওয়েব - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীন : সফল নাট্যকার ও শিক্ষকের বিদায় - মাহবুব মোর্শেদ
- সেলিম আল দীনের সাক্ষাৎকারের বাকী অংশ - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার নব্যরাজাকারিতার সন্ধানে - মাহবুব মোর্শেদ
- আমেরিকার নির্বাচনে ভোটার হওয়ার আবেদন - মাহবুব মোর্শেদ
- এক চিত্রনায়কের জন্য আমার শোকগাথা - মাহবুব মোর্শেদ
- জয় বাবা আলুনাথ! - মাহবুব মোর্শেদ
- পাকিস্তান, পারভেজ মোশাররফ, গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল আর্মি - মাহবুব মোর্শেদ
- ছোটদের অর্থনীতি অথবা কয়দিন ধরে যা কিছু কথা ভাবতেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি চিঠি... ভাস্করদা ও সুমন ভাইকে - মাহবুব মোর্শেদ
- এখানেও আমরা ব্যর্থ হবো? - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি বাসি বিজ্ঞাপন - মাহবুব মোর্শেদ
- একটি গল্পের পরীক্ষামূলক উতক্ষেপন : জিসম # মাহবুব মোর্শেদ - মাহবুব মোর্শেদ
- বুনুয়েলের বুর্জোয়া - মাহবুব মোর্শেদ
- এই ছবি আমি তুলেছি - মাহবুব মোর্শেদ
- প্রেমেক্কার শ্বশুর বাড়ি - মাহবুব মোর্শেদ
- তুই ...রে ব...সন্ত সমী...রণ - মাহবুব মোর্শেদ
- ফাদার গাস্তঁ রোবের্জের সাক্ষাৎকার - মাহবুব মোর্শেদ
- তারেক মাসুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- টেগোর ইন দ্য টাইম অব এমার্জেন্সি - মাহবুব মোর্শেদ
- বহুদিন পর আবার হরিদাস পাল - মাহবুব মোর্শেদ
- কবি আল মাহমুদের সাক্ষাতকার - মাহবুব মোর্শেদ
- ব্লগে পোস্টিংয়ের স্লথগতি - মাহবুব মোর্শেদ
- সামহোয়ার, ইলেকট্রনিক মোল্লা, ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ ও লেখক যশোপ্রার্থীদের তড়পানি - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার সচলায়তন অভিজ্ঞতা : সে এক কাহিনি বটে! - মাহবুব মোর্শেদ
মেঘনাদের দেয়া লিঙ্ক থেকে কেউ কি ইউটিউবে গেছিলেন?
১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:৪৫
মেঘনাদ আজফার হোসেন ও আবুল হাসান রুবেলকে নিয়া একটা পোস্ট তিনবার দিছেন। (Click This Link)। এর আগে জুনায়েদ সাকীকে নিয়ে একটা পোস্ট দুইবার দিছিলেন। (Click This Link)। আমার ধারণা তিনি আরও বেশিবার দিছেন বা দিতে চেয়েছেন। রাজনৈতিক দলের কর্মী/নেতা হিসাবে তিনি ব্লগের মধ্যে তার প্রিয় নেতাদের ভাবমূর্তি নির্মাণের চেষ্টা করতেছেন দেইখা ভাল লাগলো। তার সফলতা কামনা করি।
আমার ইউটিউব দেখার মতো এন্তেজাম নাই। নইলে আমিও তার পোস্ট থেকে ভিডিও দেখতাম। কিন্তু কেউ কি জানাইতে পারেন, এই আলোচনা কেমন হইছে?
মেঘনাদ একবার কইছেন আবুল হাসান রুবেলের জমজমাট আলোচনা, আরেকবার কইছেন বিধ্বংসী আলোচনা। এই শব্দ বদলের বিষয়টা আমি বিশেষভাবে খেয়াল করলাম।
আমার প্রশ্ন হইলো গণসংহতি নেতা আবুল হাসান রুবেল তাত্ত্বিক ও পণ্ডিত আজফার হোসেনের সামনে এনটিভির একটা অনুষ্ঠানে বিধ্বংসী আলোচনা কি করতে পারেন?
আলোচনা কেমনে বিধ্বংসী হয়? আলোচনা কোন কোন বিষয়কে ধ্বংস করার তাকদ রাখে?
আরেকটা প্রশ্ন, এনটিভিতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আলোচনা চলতেছে কেমনে? ফালু ভাইয়ের অবর্তমানে এনটিভি কি তাইলে বামপন্থীরা দখল কইরা নিলো?
প্রকাশ করা হয়েছে: চটজলদি বিভাগে ।
কৌশিক বলেছেন:
আমিও দেখি নাই। তবে রুবেল নাকি বলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট হওয়া গরুছাগলদের...... যা কেউ কেউ বলতেছে বিধ্বংষী....
লেখক বলেছেন: ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হইতে না পারার বেদনা থিকা বামপন্থী নেতা যদি আমাদের মেধাবীদের (অন্তত একাডেমিক দৃষ্টিতে) গাইল পাড়েন তাইলে কি সেইটারে বিধ্বংসী হিসাবে দেখা যায়?
লেখক বলেছেন: এইটুকুই বিধ্বংসী ছিল?
আজফার হোসেন কি ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট হন নাই জীবনে?
উনি এই আলোচনা সহ্য করলেন কেমনে?
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
প্রশ্ন - কিন্তু কেউ কি জানাইতে পারেন, এই আলোচনা কেমন হইছে?
উত্তর - আলোচনা ভালো হৈছে । টিভির টক শোতে যেই মানের টক হয় তার থিকা অবশ্যই ভালো হৈছে ।
প্রশ্ন - আমার প্রশ্ন হইলো গণসংহতি নেতা আবুল হাসান রুবেল তাত্ত্বিক ও পণ্ডিত আজফার হোসেনের সামনে এনটিভির একটা অনুষ্ঠানে বিধ্বংসী আলোচনা কি করতে পারেন? আলোচনা কেমনে বিধ্বংসী হয়? আলোচনা কোন কোন বিষয়কে ধ্বংস করার তাকদ রাখে?
উত্তর - আলোচনা বিধ্বংসী হবার তাকদ রাখে যদি সেইটা একটা বিতর্ক হয় ও সেইটাতে একটা পক্ষ আরেক পক্ষের যুক্তিরে পুরা ধরাশায়ী কৈরা ফালায় । এখন প্রশ্ন তুলতে পারেন কোনটারে আমরা যুক্তি বলবো কোনটারে বলবো না । বা ধরেন কখন বোঝা যাবে একটা যুক্তি আরেকটা যুক্তিরে সুপারসিড করে । এইটার উত্তর জানি না । কারন আমি যুক্তি বা দর্শন বিদ্যার ছাত্র না ।
আর ধরেন আমরা অনেক সময় কোন চিন্তা ভাবনা না কৈরাই বিভিন্ন শব্দ বলি । যেমন, সেদিন আমার এক বন্ধু তার বৌয়ের সাথে ঝগড়া মিটাইতে পারতেছে না খবরটা জানাইতে কৈলো 'বৌরে সিস্টেম করাতারতেছি না' । এইখানে সে কি কৈতে চাইছে সেইটা আমি সিস্টেম করা মানে কি এইটা না জিগাইয়াই বুইজ্জা লৈছি । সেই একই পদ্ধতিতে মেঘনাদ কি কৈতে চাইছেন সেইটাও বুঝে নিছি ।
প্রশ্ন - এনটিভিতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আলোচনা চলতেছে কেমনে?
উত্তর - বাসায় টিভি নাই । কৈতে পারুম না ।
প্রশ্ন - ফালু ভাইয়ের অবর্তমানে এনটিভি কি তাইলে বামপন্থীরা দখল কইরা নিলো?
উত্তর - নিলে নেউক । অসুবিধা নাই । ডানপন্থীরাই শুধু টিভিতে খোমা দেখাবে এইটা কোন কামের কথা না ।
লেখক বলেছেন: 'একটা পক্ষ আরেক পক্ষের যুক্তিরে পুরা ধরাশায়ী কৈরা ফালায়'
থেকে একটা প্রশ্ন :
পক্ষগুলা কারা?
আপনের আলোচনা থিকা বুঝতে পারলাম না ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট ছাড়া ওইখানে আর কোনো প্রতিপক্ষ ছিল কি না।
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া গরু ছাগলদের প্রসঙ্গটা যদ্দুর মনে পড়ে আজফার হোসেনই তুলছিলো । কথাটায় সত্যতা আছে । আজফার হোসেনের এ্যাকাডেমিক রেজাল্ট বেশ ভালো আমি যদ্দুর জানি ।
লেখক বলেছেন: আজফার হোসেন কি আলোচনা এইভাবে শুরু করছিলেন যে, যদি আমি একজন ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট তথাপি এই গরুছাগলদের....?
কৌশিক বলেছেন:
একাডেমিক দৃষ্টিতে এখন গ্রেডিং - ভবিষ্যতে গাইল পারনোর সুযোগ নাই।
লেখক বলেছেন: পুরানা সিস্টেমে গাইল কেমনে পাড়বেন?
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
কৌশিক ভাই,একটা প্রশ্ন। যারা দেখছে তাদের জিগাইতে পারেন?
ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট ছাড়া আর কারো বিরুদ্ধে আলোচনা কি বিধ্বংসী হওনের সুযোগ পাইছিল?
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
উদ্ধৃতি- আপনের আলোচনা থিকা বুঝতে পারলাম না ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট ছাড়া ওইখানে আর কোনো প্রতিপক্ষ ছিল কি না।
আলোচনায় কি ছিলো সেইটা নিয়া আমি কিছু কৈ নাই । আপনে সেইটা জিগানও নাই মনে হয় ।
আজফার হোসেন যদ্দুর মনে পড়ে বলতে চাইছিলেন ভালো ছাত্র হৈতে গেলে কিছু স্কিল রপ্ত করলেই হয় যেইটার সাথে কোন মানবিক শিক্ষার সম্পর্ক নাই । আপনে চাইলে পুরা স্কৃপ্ট দিতে পারি । তবে তার জন্য সময় লাগবে । শুইনা শুইনা টাইপ করতে হবে ।
লেখক বলেছেন: পুরা স্ক্রিপ্ট দিতে হইলে তো মেলা সময় লাগবে।
বরং একটা লিস্ট দেন। কারা কারা প্রতিপক্ষ আছিল আলোচনায়।
আরেকটা প্রশ্ন, ভালো ছাত্র প্রসঙ্গে উঠলো কোন সূত্রে?
প্লিজ।
মেঘনাদ বলেছেন:
আমার মনে হয় মাহবুব ভাই, আপনি যদি পুরা আলোচনা শুনতেন তাহলে আমার কিছু শব্দের ব্যবহার বা কিছুটা কম গুরত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আপনি মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পেতেন না।আমি এখানে বিধ্বংসী কথাটা ঠিক শাব্দিক অর্থে ব্যবহার করি নাই। আমার মনে হয় বাংলাদেশের মিডিয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এরকম চাঁছাছোলা বিশ্লেষণ আসেনি। আলোচনাটা হয়েছে খুবই পিনপয়েন্টেড, একদম স্পষ্ট, বর্তমান শাসকশ্রেণীর প্রতি প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক(আমি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সামরিক সব আমলকেই বোঝাচ্ছি)।
যেহেতু আপনার বা আরো অনেকের ইউটিউব দেখার সুযোগ নাই, আমি পুরো আলোচনার বিষয়বস্তু পোস্ট করতে পারি, যদি আপনি রাজী থাকেন।
খুব সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে উঠে আসা আর পশ্চিমে অ্যাকাডেমিক সাফল্য অর্জন করার ক্ষেত্রে আজফার ভাইয়ের মতো খুব বেশি লোক আসেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে আজফার ভাই একজন প্রথম শ্রেণীর মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক হিসেবেই স্বীকৃত। আমাদের দেশে বামপন্থী বিতর্কের ক্ষেত্রে একটা প্রচণ্ড শূন্যতা বিরাজ করায় আজফার ভাই এখনও এখানে ঠিক সেভাবে পরিচিত হন। আমরা চেষ্টা করছি জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে সেই শূন্যতা থেকে বেরিয়ে আসার।
আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
লেখক বলেছেন: মেঘনাদ ভাই,
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ পোস্টে এসে আলোচনার অবতারণা করার জন্য। ইউটিউবের লিঙ্কের চেয়ে আলোচনার স্ক্রিপ্ট বেশি কার্যকর হইতো বইলা আমার ধারণা। কষ্ট করে আলোচনা তুলে দিলে আমরা অবশ্যই ব্যাপারটা জানতে ও বুঝতে পারতাম।
বাংলাদেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার একজন গ্রাহক হিসাবে আমি নিশ্চিত জানি, শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে এইখানকার মিডিয়ার ক্যামেরা, এডিটিং টেবিল, কাগজ প্রেস ব্যবহার করে কোনো বিধ্বংসী বা ওই টাইপ আলোচনা করা সম্ভব না। ফলে, আমার প্রশ্নটা পদ্ধতিগত। বাংলাদেশের মিডিয়াবলয়ে এনটিভির যে অবস্থান তাতে সেখানে বসে যে আলোচনা করা হচ্ছে সেটা হয় প্রকৃতঅর্থে শাসকশ্রেণীকে আক্রমণ করছে না, অথবা যাকে আক্রমণ করা হচ্ছে সে প্রকৃত শাসক শ্রেণীর মর্যাদা লাভ করে নাই। আমার বিপ্লবী ইলিউশন থিকা আমরা আমাদের বিপ্লবী ব্যক্তিদের মুখনিঃসৃত বাণীর বিপ্লবী ছদ্মতাকে বিধ্বংসী বইলা ভুল করতে পারি। আমার প্রশ্নের উৎস এইখানেই।
আজফার হোসেন আমার কাছে পণ্ডিত ব্যক্তি। জনপ্রিয় টিভিব্যক্তিত্ব হিসাবে তাকে আমি চিনি। কিন্তু আমার সাধারণ ভাবনায় বলে, বাংলাদেশের বামপন্থী চিন্তাধারার ক্ষেত্রে যে প্রচণ্ড শূন্যতা বিরাজ করতেছে সেইখানে তার কোনো অবদান নাই। নয়তো এইখানে আদৌ কোনো শূন্যতা নাই। আমি আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণের জায়মান তর্ক-বিতর্কে তিনি কোনো তাত্ত্বিক কন্ট্রিবিউশন রাখছেন বইলা আমি জ্ঞানে নাই। আপনি জানাইতে পারেন।
পশ্চিমের পুঁজিবাদী জ্ঞানের সঙ্গে আমার কিছু পরিচয় আছে। মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিকরা ওইখানে কী করতেছেন সেইটা তেমন জানি না। আপনের কাছে কোনো রেফারেন্স আছে? কোনো লিঙ্ক? যেখানে আজফার হোসেনকে প্রথম শ্রেণীর মার্ক্সসিস্ট বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে?
আরেকটা প্রশ্ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শ্রেণীর মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক নির্বাচন করা হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
মেঘনাদ বলেছেন:
আর আলোচনায় মোটেই একে অপরের বিরোধী হননি, একজন আরেকজনের সম্পূরক হিসেবে কাজ করেছেন মাত্র।
লেখক বলেছেন: বিরোধী পক্ষের কারো অনুপস্থিতিতে আলোচক ও আলোচনাকারী উভয়ে মিলেঝিলে ফাঁকা মাঠে গোল দিছিলেন?
লেখক বলেছেন: আলোচনাকারীর জায়গায় প্রশ্নকর্তা পড়ুন।
সড়ি, ভুল হয়া গেছে।
কৌশিক বলেছেন:
পুরানা সিস্টেমে তো একজন ফাস্টক্লাস ফাস্ট হয়, আরেকজন সেকেন্ড হয়। এদের ধরলেই হইলো। সালা ঔ যে একটা ফাস্টক্লাস যায়! এবং তাদের কাজও দেখা যায়। গাইল পাড়নের জায়গাগুলাও দেখা যায়। ভাগ্যিস ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট হই নাই।
লেখক বলেছেন: কৌশিক ভাই,
আমি বামপন্থী রাজনীতির সংস্পর্শে আছিলাম। জীবনেও ক্লাশ, টিউটোরিয়ালের ধার ধারি নাই। আমার অনেক বামপন্থী বন্ধুও সেটা করছেন। আমি ফার্স্টক্লাশ পাই নাই। কিন্তু আমার কাছে আমি নিজে তো মহা জিনিয়াস, তাই না? এখন আমার এই প্রতিভা নিয়া আমি কী করবো? আমার সহপাঠীদের মধ্যে যে আমার থিকা কম জিনিয়াস ছেলেটি নিয়মিত ক্লাশ-পরীক্ষা দিয়া ফার্স্ট ক্লাশ পাইছে তার দোষটা কোথায়? এমন যদি হইতো যে, আমি নিয়মিত ক্লাশ-পরীক্ষা দিছি। লাইব্রেরিতে গেছি। সময় কইরা পড়ছি, নোট করছি। কিন্তু আমি বাম বইলা আমারে ফার্স্টক্লাশ দেওয়া হয় নাই, তাইলে ব্যাপার অন্যরকম হইতো।
এখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কী দাবি করবো। ভাই, আমরা মহাপ্রতিভাবানরা মধুর ক্যান্টিন বা প্রান্তিকে বইসা রইছি আপনেরা এইখানে আইসা আমাদের কথা শুইনা আমাদের ফার্স্ট ক্লাশ বরাদ্দ দিয়া যান। ক্লাশ-পরীক্ষা দেওয়া 'গরুছাগলদের' থেকে বাঁচার
তাইলে এইটা একটা উপায় হইতে পারে। তাই না?
কৌশিক বলেছেন:
আসলে তর্কটা তো ঐ সিস্টেমের বিরুদ্ধে। এখন চেঞ্জ হয়েছে। ঢাবিতে হইছে কিনা জানি না। ঐ সিস্টেমে কম জিনিয়াসরা ফাস্টক্লাস ফাস্ট হইছে নিয়মিত পঠনে, এইটা মেধাবী শনাক্তকরণের পন্থা নয় বইলাই মেরিট লিস্ট অনুযায়ী চাকুরী মেলে না। এর বিরুদ্ধে সমালোচনার যৌক্তিকতা তো এখানেই রয়েছে। সেজন্য অধ্যবসয়ী ছেলেটিকে গরু-ছাগল বলে সিস্টেমের সমালোচনা হয় না, বিষেদগারই হয়। আমি জানি না রুবেল কি বলেছে কিন্তু তার শিক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা অনেক বেশী প্রগতিশীল ও বাস্তববাদী দেখেছি, সেজন্য না শুনেই বুঝতে পারি - এটা প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির ধরনের বিরুদ্ধে সমালোচনাই ছিল, যা হয়তো বেশ জোড়ালো যুক্তিতে বলীয়ানও ছিল।
লেখক বলেছেন: গরুছাগল কথাটা উচ্চারিত হইলে আলোচনার একটা পরিণতি নির্দিষ্ট হয়া যায়। তারপরও আপনের আশাবাদের সঙ্গে আমিও আশাবাদী থাকতে চাই।
মেঘনাদ বলেছেন:
আপনার কথার আমি উত্তর দিতে চেষ্টা করি। প্রথমে একটা জিনিষ বলা দরকার, এনটিভিতে আলোচনাগুলো যে খুব সহজে হচ্ছে বিষয়টা এরকম নয়। প্রচুর কথা সেন্সর করা হচ্ছে। এমনকি এমনও হয়েছে অনেক আলোচনা আলোর মুখ দেখেনি। জোনায়েদ সাকি তার আলোচনায় বর্তমান সরকার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেছিলেন।
একটা কথা নিশ্চয় আপনি স্বীকার করবেন মিডিয়ায় বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন তারা সবাই শাসকশ্রেণীর কথামত উঠে বসেন বিষয়টা এতো সহজ নয়। বা উল্টো করে বলতে পারেন এখানকার শাসকশ্রেণীর সেই চরিত্র বা ক্ষমতা নেই। ফলে প্রচুর অন্তর্দ্বন্দ্ব কাজ করে। বামপন্থীদের উচিত হলো তাকে নিজেদের কাজে লাগানো। পুরো জনগোষ্ঠীকে আপনি যদি শুধু শোষক আর শোষিত এই দুই মোটা ভাগে ভাগ করে ফেলেন তাহলে সেটা মনে হয় ঠিক হবে না।
এনটিভি সাময়িকীর প্রযোজক আলফ্রেড খোকন, অন্যতম একজন গুরুত্বপূর্ণ লোক ফিরোজ ভাই, আজফার ভাই আরো অনেকে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করায় এমনকি শাসকশ্রেণীর একটা অংশ থেকে জোর করে কিছু আদায় করে ফেলা সম্ভব হয়েছে।
আলোচনাগুলো যদি শাসকশ্রেণীর প্রতি ছদ্মআক্রমণ হতো, তবে এরকম আলোচনা অহরহই এনটিভিতে পাওয়া যেতো। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। আমার মনে হয় আমি নিজেকে কিছুটা প্রকাশ করতে পেরেছি।
আজফার ভাইয়ের এটা এখনো একটা বিরাট সীমাবদ্ধতা হলো, উনার কাজগুলো এখনো মূলত অ্যাকাডেমিক ঘরানার। পোস্টমর্ডান আর সাবঅলটার্নদের নিয়ে কিছু খুব ভাল কাজ উনার আছে, যদিও সেগুলো এখনো আমজনতার নাগালের বাইরে।
তবে এই গণ্ডী থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উনার নিজের ও আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আছে, যার ফলে খুব শীঘ্রই সংহতি প্রকাশন থেকে উনার বেশ কিছু বই বের হবে। আজিজ মার্কেটে পাবেন।
আপনাকে আবারো ধন্যবাদ। আপনাকে আবারো বলবো আলোচনাটা একটু উদ্যোগ নিয়ে হলেও ইউটিউব থেকে দেখে নেয়া। কারণ আমার ধারণা পুরো ঘটনাটাই আপনার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। অথচ মনে হয় আলোচনাটা না শুনে এটাকে শাসকশ্রেণীর প্রতি ছদ্মআক্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করায় আপনার একটু ফাঁক থেকে যাচ্ছে।
লেখক বলেছেন: ইউটিউব থিকা দেখার কোনো উপায় আপাতত নাই।
আপনে যদি ট্রান্সক্রিপ্ট না করেন তাইলে আপনাদের শোনা কথায় আস্থা রাইখা আগাইতে হবে। আপনার পোস্ট ও পজিশন আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগছে বইলাই আলোচনায় প্রবৃত্ত হইছি।
বাকী বিষয়ে পরে সামান্য বলবো।
লেখক বলেছেন: এই কমেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে বাকী কথা :
দুনিয়াটা শোষক ও শোষিত এই দুই ভাগে বিভক্ত বটে। আর কথাটা সত্যও বটে। কিন্তু পুরানা বইলা কথাটার দাম আর তেমন নাই। ফলে, কথাটা আমি কই নাই। ক্ষমতাকাঠামো, শাসকশ্রেণীর বৃহত্তর বলয় ও সেই বলয়ে চর্চিত বুদ্ধিজীবীতা ও কাউন্টার বুদ্ধিজীবীতার পারস্পারিক সম্পর্ক কেমনে রচিত হয় সেইটার খোঁজ জিগাইছি।
শাসকশ্রেণীর মিডিয়ায় গিয়া সবাই নিজেদের হিস্যা দাবি করতে পারে না। নিজের কথা কওনের জন্য স্পেস তৈরি করতে হইলে হয়তো বাংলাদেশের থিকা আমেরিকা গিয়া প্রথম শ্রেণীর মার্ক্সবাদীর তকমা নিয়া আসতে হয়। নয়তো, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ডাকসাইটে শিক্ষক হইতে হয়। সমাজে শাসক ও শাসিত, শোষক শোষিতের মোটাদাগের বিভাগের মধ্যে ছোট স্পেসগুলাতে মূলামূলি করার মতো শ্রেণী, বর্গ ও ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভূক্ত হইতে হয়। আর এই অবস্থানে একজন ব্যক্তি কেমনে তার রাডিকাল মার্ক্সসিস্ট অবস্থান ধইরা রাইখা শাসক মতাদর্শরে খারিজ করেন সেইটা আমার পর্যবেক্ষণের বিষয়।
ফালু ভাই, এনটিভি, কর্পোরেট বিজ্ঞাপনের বাহারের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আলোচনা কিংবা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়া অনাস্থা জ্ঞাপনের অর্থ ও উদ্দেশ্য উভয়টাই পর্যবেক্ষণের বিষয় বটে।
ধরেন, আপনে আমারে পিটাইতেছেন বইলা ধারণা করতেছেন, কিন্তু আমার লাগতেছে না। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইতেছি না। আপনার বিরুদ্ধে দাঁড়াইতেছি না। অথচ আমার ক্ষমতা আছে, প্রভাব আছে। তাইলে আপনার কী কর্তব্য? নিজের পিটানোর শক্তি ও পদ্ধতি নিয়া আপনের মনে প্রশ্ন উঠবে না?
আজফার হোসেনের লেখাগুলা পড়তে পারলে খুবই উপকৃত হইতাম। উনি কি প্রথম শ্রেণীর মার্ক্সসিস্ট? নাকি সাবঅল্টার্ন স্কুলে ভর্তি হইছেন? নাকি পোস্টমর্ডানিস্ট বিশ্লেষণের পথ ধরেছেন?
বই বাইরাইলে অবশ্যই পড়বো বইলা আশা রাখি।
মেঘনাদ বলেছেন:
ফাস্ট ক্লাস ফার্সট ব্যাপারটা কেন এভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বুঝলাম না। আমার মনে হয় আজফার ভাই বিষয়টা এভাবে বোঝাতে চেয়েছেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাটা এমন যে একজন দেখা যাচ্ছে ফাস্ট ক্লাস ফার্সট হচ্ছেন, কিন্তু তার মধ্যে মৌলিক জ্ঞানের কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাত তার রেজাল্টটা পুরোপুরি তার কিছু স্কিলের কারণে ভাল হচ্ছে। তার মানে কি এই বামপন্থীরা এই স্কিল রপ্ত করতে পারে না। অবশ্যই পারে, করেও, এবং অনেকে খুব ভাল রেজাল্টও করে। কোন জ্ঞান অর্জন করা ছাড়াই। আজফার হোসেন আকাঙ্ক্ষা করেছেন সেই শিক্ষাব্যবস্থার, যেখানে রেজাল্ট আর জ্ঞান সমান্তরালে আগাবে।
লেখক বলেছেন: ফার্স্ট ক্লাশের কাছ থেকে অ্যাকাডেমি কখনোই মৌলিক জ্ঞান চায় না। ফার্স্ট ক্লাশের কাছ থিকা এইটাই আশা করা হয় যে, বিদ্যমান জ্ঞানের উপর ওনার একটা দখল থাকবে। এমনি ডক্টরাল বা পোস্টডক্টরালদের কাছ থিকাও তেমন কিছু আশা করা হয় বইলা আমার জানা নাই। তেমন কোনো অ্যাকাডেমির কথা আপনের জানা থাকলে আওয়াজ দিয়েন। মৌলিক জ্ঞান মানুষ আজফার হোসেনের মতো পণ্ডিতদের কাছ থিকা আশা করে। কিন্তু তিনি কোনো মৌলিক জ্ঞান আমাদের দিতে পারতেছেন না। উল্টা যাদের মৌলিক জ্ঞান দেওয়ার কথা না তাদের ওপর দোষ চাপায়ে নিজের দোষ ঢাকার চেষ্টা করতেছেন।
মৌলিক জ্ঞান মৌলিক প্রতিভার ব্যাপার। হইতে পারে যিনি মৌলিক জ্ঞান দিবেন তিনি ফার্স্ট ক্লাশ কেন জীবনে কোনো স্কুলেই যান নাই। পৃথিবীর ফার্স্ট ক্লাশরা মৌলিক জ্ঞান কেমন দিছে এইটার একটা পরিসংখ্যান নেওয়া যাইতে পারে এই প্রসঙ্গে।
মেঘনাদ বলেছেন:
আচ্ছা ঠিক আছে আপনি কালকের মধ্যেই ট্রান্সক্রিপ্ট পেয়ে যাবেন।
লেখক বলেছেন: থ্যাংকস এ লট।
মেঘনাদ বলেছেন:
ফিরোজ আহমেদ ভাই আছেন এনটিভি সাময়িকীর গ্রন্থনার দায়িত্বে।
লেখক বলেছেন: উনি আমার খুব পছন্দের ব্যক্তি।
মেঘনাদ বলেছেন:
আজফার ভাই মোটা দাগে বলা যায় পোস্টালদের বিরুদ্ধে। সাবঅল্টার্নদের তল থেকে দেখা বা এরকম অনেক দৃষ্টিভঙ্গীকে তিনি প্রশংসা করেন, কিন্তু তাদের রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার তিনি ঘোর সমালোচক।
লেখক বলেছেন: তথ্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মেঘনাদ বলেছেন:
তবে আপনার এই কথা বুঝলাম না যে অ্যাকাডেমি ফাস্ট ক্লাস ফাস্টদের থেকে মৌলিক জ্ঞান চায় না। এর মানে কি?বিশ্ববিদ্যালয় ধারণা সৃষ্টি হয়েছে শুধু উচ্চশিক্ষার বিষয় মাথায় রেখে নয়, মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির দিকেও গুরুত্ব দিয়ে। যে কারণে বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বরাদ্দের সিংহভাগই ব্যয় হয় গবেষণায়। অনার্স বা মাস্টার্সে যে থিসিসের কাজ করতে হয় অবশ্যই সেগুলো এই উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে মৌলিক কিছু সৃষ্টি করা জন্য। দুই চার জনের থিসিস থেকে মেরে দেয়ার জন্য না। কিন্তু এখন সেটাই হয়ে গেছে গবেষণা। যে বিশ্বগুলোতে মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টি হয় না সেখানে শিক্ষকের মান নামছে, ফলে শিক্ষার্থীরও মানের অবক্ষয় হচ্ছে। আমাদের দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন এই অবস্থা। কারণ এখানে গবেষণায় বরাদ্দ মোট বরাদ্দের ৫ ভাগেরও কম। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ব্যাপারটা ছিল একদম উল্টা। যেকারণে একসময় এখানে সত্যেন বোস, জিসিদেব-এর মতো শিক্ষক-গবেষক সৃষ্টি হয়েছিল।
লেখক বলেছেন: অ্যাকাডেমি ফার্স্ট ক্লাশদের কাছ থেকে মৌলিক জ্ঞান চায় না কেন তার কিছু পরিপ্রেক্ষিত আগের আলোচনায় উল্লেখ করছি আমি। এখন দেখা যাইতেছে মৌলিক জ্ঞান বিষয়ে আপনার লগে আলোচনা হওয়া দরকার। গবেষণা, থিসিস আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠে মৌলিক জ্ঞানের আবশ্যিক উপস্থিতি নিয়া আপনের পুলক দেইখা নতুনভাবে বুঝার চেষ্টা করতেছি মৌলিক জ্ঞান আসলে কী?
'উন্নত' বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি মৌলিক জ্ঞানের ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে কাজ করে তাইলে তো আমরা এতদিনে মৌলিক জ্ঞানের স্রোতে ভাইসা যাওয়ার কথা।
এখন তাইলে আলোচনা হোক, মৌলিক জ্ঞান আসলে কী?
বিগব্যাং বলেছেন:
সর্বজনাব মামো, দয়া করে (রুবেল ও অন্যান্য প্রসঙ্গে) সীমা লঙ্ঘন করবেন না...
এন্টেনায় টিনের পাতিল বাইন্ধা বিদেশী চ্যানেল দ্যাখার চেষ্টা করা হতো প্রায় ২ দশক আগে...
এসব মেথড বাদ দ্যান...
লেখক বলেছেন: বড় ব্যাঙ,
আপনে বড় মাস্তান হইয়েন না। আপনের থেকে আমি বড় মাস্তান।
রুবেল বিষয়ে সীমা আমি লঙ্ঘন করবো কি না সেইটা আপনের থেকে শিখতে হবে না আমার। হুমকি দিয়েন না। কথা থাকলে কথা কন।
আর কথা না থাকলে অফ যান।
রাঙা ঠোঁট বলেছেন:
মৌলিক জ্ঞান নিলে মৌলবাদী বলবে বলে নেয়না।
লেখক বলেছেন: হা হা হা।
মৌলিক জ্ঞান নেয়া না, তৈরি করার কথা উঠছে এইখানে।
বিগব্যাং বলেছেন:
“দয়া করে” শব্দ ব্যবহার করেছি...হুমকি দেইনি...
আপনি কি বুঝতে পারছেন এই পোষ্ট দিয়ে নিজেই নিজেকে হাস্যাস্পদ করছেন...
লেখক বলেছেন: আপনি বুঝছেন আপনের মতো বড় কবি নিজের নামে এই কমেন্ট করলে কী হইতো?
সীমা লঙ্ঘন বলতে কবি কী বুঝাইতে চাইছিলেন?
আমি কীভাবে হাস্যাস্পদ হইলাম তা একটু যুক্তি সহকারে বুঝতে চাই। অন্যদেরকেও জানাইতে চাই। একটু সাহায্য করেন।
মেঘনাদ বলেছেন:
শেষ একটা কথা, মৌলিক জ্ঞান যদি শুধু মৌলিক প্রতিভার ব্যাপার হয়, তবে জার্মানি-অ্যামেরিকায় শয়ে-শয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কারক পদার্থবিদ, রসায়নবিদের জন্ম হয়, আমাদের এখানে তাদের সংখ্যা হাতেগোনা। কারণটা কি? জনসংখ্যা তো এখানে মোটেই কম না। কোয়ান্টাম ফিজিক্স, মেকানিক্স নিয়ে যারা করেছিলেন, যেমন ধরেন বোর, হাইজেনবার্গ, তাদের বেশির ভাগেরই বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব ভাল রেজাল্টই ছিল। আইনস্টাইনকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্তিতে থেকে কাজ করতে হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানেই গবেষণা করতে হয়েছিল। শুধু পেটেন্ট অফিসে পড়ে থাকলে তার পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব হতো না। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধান ছাড়া মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টি প্রায় অসম্ভব ব্যাপার, আর বিশ্ববিদ্যালয় একজনকে কেনই বা সাপোর্ট করবে তার যদি রেজাল্ট ভাল না হয়, তার যতই মৌলিক প্রতিভা থাক না কেন?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। এইটা বুঝলাম। কিন্তু মৌলিক জ্ঞান ব্যাপারটা কী?
বিগব্যাং বলেছেন:
সীমা লঙ্ঘন বলতে বুঝাতে চেয়েছিলাম যে, এই টাইপের পোষ্ট ত্রিভুজ টাইপের ব্লগারদের এরিয়া...ওদের যায়গা আপনি যদি দখল করেন তাহলে একটু কেমন দ্যাখায় না?.
লেখক বলেছেন: কবি বড় ব্যাঙ,
সীমা লঙ্ঘন বলতে তাইলে আপনে এই বুঝাতেই চাইছেন?
গুড।
আমি কীভাবে হাস্যকর হইলাম তার অন্তত একটা নমুনা কিন্তু আপনি দিতে পারতেন। এইসব ফালতু কথা বইলা কী লাভ বলেন?
মেঘনাদ বলেছেন:
ভাই, আলোচনা এভাবে ভাল হচ্ছে না। আমরা অনেকটা স্কুল বিতর্কের মতো একজন আরেকজন কে পরাস্ত করতে চেষ্টা করছি। তার চেয়ে আমরা একজন আরেকজনকে বোঝার চেষ্টা করি। তাছাড়া মৌলিক জ্ঞান, মৌলিক প্রতিভা-এসব বিষয়কে তাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করার মতো ক্ষমতা আমার আসলেই নেই। আমি তার চেয়ে কিছু বিষয় সহজভাবে বলার চেষ্টা করি।একটা মেয়ের কথা ধরুন। ক্লাস এইটে পড়ে। তার পরীক্ষায় একটা প্রশ্ন থাকবে: রচনা লেখ। আমাদের স্কুলগুলোতে যা হয় তা হলো কি কি বিষয় নিয়ে রচনা আসতে পারে তার একটা ধারণা আগেই দেয়া থাকে। ফলে ভাল নম্বর পেতে মেয়েটিকে যা করতে হবে তা হলো দেশের ও কোলকাতার কিছু বাংলা রচনা বই জোগাড় করে সবগুলো মিলিয়ে কিছু রচনা নোট করা।
ধরেন তার একটা নোট করা রচনা হলো 'বাংলাদেশের বন্যা'। সে যদি একটু বুদ্ধিমান হয় তাহলে রচনাটা একটু ভাল করার জন্য সে কিছু বিশ্লেষণ-উপাত্ত পত্রিকা থেকে জোগাড় করতে পারে। কিন্তু এগুলোতে তার নিজের কোন বিশ্লেষণ থাকবে না।
এটা ঠিক যে সব বিশ্লেষণ নিশ্চয় নিজের হওয়া সম্ভব নয়। অন্যের বিশ্লেষণের সিড়ির উপর দাঁড়িয়েই তার বিশ্লেষণ তৈরি হতে পারে। সমস্যা হয় তাতে তা থাকে না। বরং যেহেতু অনেক জায়গা থেকে জিনিসপত্র নিয়ে রচনা তৈরি হয়, তা জগাখিচুড়ির রূপ নেয়। স্বাভাবিকভাবে তাতে বিপুল পরিমাণ স্ববিরোধী চিন্তার সমাবেশ ঘটে। কিন্তু মেয়েটি জানে তাতে খুব বেশি সমস্যা নেই। সে যদি বেশি বেশি পয়েন্টস দিতে পারে, সে বেশি নম্বর পাবেই।
তার নিজের চিন্তার দরকার নেই।
ধরেন সে জানে তার বাসায় যে ছোট মেয়েটি কাজ করে, সে একজন বন্যাদুর্গত। কিন্তু রচনালেখক মেয়েটির সামনে এরকম একটা উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও তা তার রচনায় স্থান পাবে না।
এটা বলা কি খুব অযৌক্তিক হবে, সে যদি অন্য সব কিছ বাদ দিয়ে শুধু সেই বন্যাদুর্গত মেয়েটির কথা তার রচনায় স্থান দিতো তাহলে তা উন্নততর হতো। কারণ সে লেখায় তার পারিপার্শ্বিকতা, পর্যবেক্ষণের ছাপ পরিচয় থাকতো। কিন্তু মেয়েটি ভালই জানে তা করলে তার কপালে খবর আছে।
সমস্যা এখানেই। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আমাদের দেশে এমন শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে, যার ফলে বেশির ভাগ ছাত্রই পর্যবেক্ষণক্ষমতাহীন, পারিপার্শ্বিকতা-সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, বিশ্লেষণী ক্ষমতাহীন, মুখস্থবিদ্যানির্ভর হতে বাধ্য হয়, আর তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান, টেকনিক্যাল-সেই ভাল ছাত্রের শিরোপা অর্জন করে।
কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, একাডেমির কি উচিত এরকম ছাত্রকে প্রমোট করা, বা ছাত্রদের কাছ থেকে এইসব জগাখিচুড়িপূর্ণ কাজ আশা করা। আমি আপাতত বিষয়টা এখানেই শেষ করতে চাই।
লেখক বলেছেন: জ্ঞান অর্জন প্রক্রিয়ায় টেক্সট বইয়ের বাইরের বিষয় থিকা তথা নিজের সমাজ-পরিবেশ থিকা জ্ঞান আহরণের প্রসঙ্গ এবং পরীক্ষার খাতায় সৃষ্টিশীলতা সহকারে সে জ্ঞান উপস্থাপন করা আর মৌলিক জ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য যে বিস্তর সেইটা নিশ্চয়ই আপনার মতো বিজ্ঞ মার্কসিস্টের কাছে ব্যাখ্যা করে দিতে হবে না। জ্ঞান অর্জনের উন্মুক্ত ও সৃষ্টিশীল পন্থাকে মৌলিক জ্ঞানের সঙ্গে আপনি গুলিয়ে ফেলবেন এটা আমি ভাবিনি।
আমি স্কুলের ছাত্র, আমার সঙ্গে কি আপনি কলেজ বিতর্ক চালাইতে পারবেন? আপনারে স্কুল বিতর্কই চালাইতে হবে। যদি চালাইতে চান।
আলোচনা শেষ করতে চান করেন। সে ইচ্ছা ভাল, ইতিবাচক। কিন্তু আপনের কর্মকাণ্ড দেইখা তো মনে হইতেছে আলোচনা শেষ করতে চান না। আপনে এই কমেন্ট তুইলা নিয়া নিজের ব্লগে পোস্ট হিসাবে দিলেন। সেইখানে আলাদা আলোচনা শুরু করলেন। ভাবেসাবে তো মনে হইতেছে আলোচনা শেষ করা কোনো ইচ্ছা আপনের নাই। নিজের গণ্ডীর মধ্যে আপনি আলোচনা করতে প্রস্তুত আছেন। তাই না?
রবিউলকরিম বলেছেন:
ভালই তো চলছিল। দারুন উপভোগ্য লড়াই- জ্ঞানের, বা অজ্ঞানের?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রবিউল ভাই। কিন্তু কী করবো বলেন। মেঘনাদ তো ইস্তফা দিছেন। আর আলোচনা করতে চান না শুনলাম।
নাজিম উদদীন বলেছেন:
আলোচনা চলুক। অবসরপ্রাপ্ত বিপ্লবীদের ...."ডক্টরাল বা পোস্টডক্টরালদের কাছ থিকাও তেমন কিছু আশা করা হয় বইলা আমার জানা নাই। "
মাহাবুব ভাই, আসলেই আপনার জানা নাই। কোন বিষয়ে ডক্টরাল ক্যান্ডিডেসী পেতে হলে অবশ্যই আপানকে ঐ বিষয়ে নতুন কিছু যোগ করতে হবে।
লেখক বলেছেন: নাজিম ভাই,
সম্প্রতি দেশের বাইরে পিএইচডি করতে যাওয়া এক বন্ধুর লগে কথা হইতেছি। উনি বাইরের গবেষণা পদ্ধতি নিয়া কথা কইতেছিলেন। কইলেন, পেপারের লাইনে লাইনে, শব্দে শব্দে যেভাবে রেফারেন্স দিতে হয় তাতে ওনার মনে হইতেছে সুপারভাইজার উনি কী কইতে চান তার থেকে উনি কী অনুধাবন করছেন তার দিকেই বেশি আগ্রহী। গবেষণা যখন আপনে করেন তখন একটা তাত্ত্বিক কাঠামো, মাঠকাজের পদ্ধতি, লিটারেচার বিশ্লেষণের পদ্ধতি আপনে ঠিক কইরা নেন। ফলে, শেষ পর্যন্ত যা হয় তা হইলো, আগের জ্ঞান, তথ্য ও বিদ্যার নতুন কইরা উপস্থাপন। নতুন কিছু যোগ করা বলতে সামাজবিজ্ঞান বা আর্টের গবেষণায় এইরকমই দেখি। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রিতে কী হয় আমি কইতে পারুম না।
আরেকটা কথা, খুব খিয়াল কইরেন।
'নতুন কিছু যোগ করা' আর মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টি করার পার্থক্যটা একটু ধরার চেষ্টা কইরেন।
আমার না জানা বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য আপনেরে ধন্যবাদ।
বিব বলেছেন:
সাক্ষাতকারটি খুব গভীর মনযোগ দিয়ে শুনলে আজফার হোসেন এবং রুবেলের চিন্তাগত অবস্থান পরিষ্কার হয়ে উঠে । দুজনের পক্ষপাত কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষে। আবার শুনুন। আমি জানি মেঘনাদ শুনে ধরতে পারলে সাক্ষাতকারটি ইউ টিউব থেকে সরিয়ে ফেলবেন । রুবেল বলেছেন , গরীব মানুষের শিক্ষা দুই প্রকার ১. মাদ্রাসা শিক্ষা ২. এনজিও শিক্ষা । তারপর এনজিও শিক্ষার বাজে দিক তুলে ধরলেন কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে কিছুই বললেননা । তার মানে কি ? মাদ্রাসা শিক্ষা ঠিক আছে বলে রুবেল মনে করেন? আজফার বলেছেন গত ৩৭ বছর ধরে কোন ভালো শিক্ষানীতি আসেন। তার মানে ৩৭ বছরের আগে (পাকিস্তানী সময়ে ) ভালো শিক্ষানীতি ছিলো । তাদের আলোচনার বিষয় ছিলো উপনিবেশিক শিক্ষা । এনজিও মানে হচ্ছে নন গর্ভনমেন্ট ওরগানইজেশন । আমাদের পাঠশালা কি ? রুবেল নিজেকে নির্বাহী পরিচালক দাবী করেন কেন ? এই শব্দটি কোন মস্তিষ্কজাত? একবার ভাবুন তো? আজফার বলেছেন নারী বৈষম্ নিয়ে। আজফারকে যদি বলি আপনার অনুষ্ঠানে কয়জন নারী বিশেষজ্ঞ ডেকেছেন ? এই আলোচনার বিশেষজ্ঞ নারী নয় কেন? এটা কি পুরুষতান্ত্রিকতা নয় ? পুরো আলোচনা সহজ হাততালী পাবার,ধুলি উড়ানোর আলোচনা হয়েছে । আলোচনা হয়েছে পান্ডিত্য ফোটানোর অথবা বলা যেতে পারে পান্ডিত্য দেখানোর প্রতিযোগিতা । সবটাই মনে হয়েছে অসার । তবে আজকের আলোচনা শুনে আজফার হোসেনের রাজনৈতিক দর্শনের দূরভীসন্ধি কিছুটা হলেও পর্সষ্কার হয়েছে । প্রিয় ব্লগারবৃন্দ, আবার মন দিয়ে সাক্ষাতকারটি শুনুন ।
লেখক বলেছেন: অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন আপনি। কিন্তু হায় কেহই উত্তর দিল না। মেঘনাদ এইখানকার একটা কমেন্ট তুইলা নিয়া গিয়া পোস্ট দিছে সেইখানে সবাই আমার পিণ্ডি চটকাইতেছে।
আমি মনে করি এইভাবে কমেন্ট দিয়ে তিনি অন্যায় করছেন। একে আলোচনারে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।
পরন্তু একটা আলোচনার খণ্ডিত একটা অংশ নিয়া পোস্ট কইরা খণ্ডিত আলোচনার জন্ম দিছেন।
রিফাত হাসান বলেছেন:
একটা মন্তব্য করেছিলাম, সেটি গেল কই!!!
লেখক বলেছেন: রিফাত ভাই,
মন্তব্য হারানোর জন্য আমি দায়ী না। আমি কাইলকা সাড়ে পাঁচটার পর আর লগইন করি নাই।
এ বিষয়ে আপনার মত শুনার জন্য খুব আগ্রহ হচ্ছে। দয়া করে কথাগুলো আবার বলবেন? কপি রাইখেন, বড় মন্তব্য লিখলে। হেরিয়ে গেলে মন খুব খারাপ হয়া যায়। আমি তো একটু বড় মন্তব্য করলে কন্ট্রোল+কপি বাটন চাইপা তারপর পোস্ট দেই।
বিব বলেছেন:
সংশোধনী : পূর্বের পোস্টে ---- আজফার বলেছেন গত ৩৭ বছর ধরে কোন ভালো শিক্ষানীতি আসেন। পড়তে হবে : আসেনি । দুখিতঃ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্যে ।
কৌশিক বলেছেন:
হাহাহা - অবসরপ্রাপ্ত বিপ্লবীদের লড়াই- ধইরা একেকটারে....
লেখক বলেছেন: আমারে মাইরেন না। আমি কোনো কালে বিপ্লবী আছিলাম না। তাই অবসর নেয়ারও প্রশ্ন ওঠে না।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
প্রথমত মূল অনুষ্ঠানটা না দেখে সেসম্পর্কে পোস্ট না দিলেই ভালো হতো। তবে উপরিকাঠামোর পর্যবেক্ষণ মন্দ লাগেনি (রিপোস্ট, বিধ্বংসী ইত্যাদি)। আমি প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ দেখেছি, পুরোটা দেখারই ইচ্ছা ছিল, পিসির গ্রাফিক ড্রাইভারে ঝামেলা থাকায়, হঠাৎ করে পুরো বন্ধ হয়ে য
















