somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্বালা ও যন্ত্রণা : ধর্মেও আছি জিরাফেও আছি

২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলা ব্লগ প্রায় দুইভাগ হইতে চললো। একভাগ মনে করে অমি রহমান পিয়াল ঠিক করছে, একভাগ মনে করে উনি ঠিক করে নাই। কেস খুব গরম। আমি কিন্তু একেবারে পিয়ালের ভক্ত হয়া গেলাম। ব্লগের মতো আউলা জায়গায় এরকম সুচারু পদ্ধতিতে আউলা লাগায়ে দিতে পারলেন অমি রহমান পিয়াল ভেবে একটু অবাক লাগতেছিল। কিন্তু পিয়াল আমার শত্রু বিধায় তার প্রশংসা করতে একটু শরম লাগতেছিল। যাই হউক, লাজ শরমের মাথা খেয়ে তার প্রশংসা করতে বসলাম। জানি না, কদ্দুর করতে পারবো। এরাম টাসকি আমারে এর আগে খাওয়াইছিলেন সুবিমল মিশ্র। গল্পের মধ্যে পর্নোগ্রাফির কাটপিস দিয়া। বা পুরা গল্পরেই পর্নোগ্রাফিক বানায়া। সোসাইটির ট্যাবু ভাঙানি আর প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার দোহাই মিশ্র মশাইয়ের হাতে ছিল। আশ্রম মশাইয়ের হাতে আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মাইরি বলছি, এতে কিন্তু মুক্তিযদ্ধের চেতনার উপকার হইছে। আজ যদি রসময় গুপ্ত মহাশয় বেঁচে থাকতেন তাহলে খুব খুশী হইতেন। বাংলা সাহিত্যে রসময় গুপ্ত এতকাল রাজত্ব করেছেন। এবার তার উত্তরসুরি হিসাবে আশ্রম প্রকাশিত মহাশয় আইলেন। এতদিন পর বাংলা পর্নো সাহিত্যের একটা গতি হইলো। গতি হইলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনারও।
পর্নোগ্রাফি নিয়া একদা কিছু লেখা পড়ছিলাম। সেইগুলার কথা মনে হইতেছে ক্ষণে ক্ষণে। ফুকো মনীষীর কথাও মনে হইতেছে।
পর্নোগ্রাফি আসলে কী?
ফ্রয়েড মনীষী কী বলেন এই বিষয়ে?
পবঙ্গ থিকা একটা লিম্যা বাইর হইছিল। সেইখানে বলা হইছিল, সো ফার আই ক্যান রিকল। পর্নোগ্রাফি হইলো মনের গহীনে লুকায়িত মন। অত্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে যাকে মানুষ লালন করে, চর্চা করে। মানুষের ভেতরের পশুরে তো মানুষ আর হত্যা করতে পারে নাই। উনি মাঝে মাঝে সভ্যতার ভিতরে পর্নোগ্রাফি আকারে দেখা দেন। ভিক্টোরীয় নৈতিকতার মধ্যে ওনার সর্বশক্তি দিয়া নাড়া দেন।
মানুষরে ভেতরের স্খলন, অনৈতিকতা এইগুলা পর্নোগ্রাফি আকারে হাজির হয়। কোনোভাবে কেউ যদি সেই অনৈতিকতারে খোলাসা কইরা দেয় তো বিদ্যমান সমাজের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। এই কারণেই মার্কুইস দ্য সাদকে মানসিক অসুস্থ ঘোষণা কইরা সমাজ তাকে বন্দী কইরা রাখে।
হিস্ট্রি অব সেক্সুয়ালিটি আমি ছাইড়া ছাইড়া পড়ছি। পর্নোগ্রাফি নিয়া তাই ফুকো মনীষী কী বলছেন এইটা দেইখা বলতে হবে।
তবে এইটুকু বলা যায়, মানুষের স্খলন, অনৈতিকতা, অপরাধকে উন্মুক্ত সমাজে বৈধতা দেওনের উদ্যোগ যথেষ্ট প্রগতিশীল ঘটনা। যুগের যাতনা যারে তাড়িত করে। যিনি নতুন যুগ আনয়নের জন্য সংগ্রামে লিপ্ত তিনিই পারেন এরাম কাজে যুক্ত হইতে।
মনীষী অমি রহমান পিয়াল সেই রকমই যুগান্তর আনতে যাইতেছেন।
পর্নোগ্রাফির আরেক দিক হইলো। সেইটা নারীর প্রতি আক্রমণাত্বক। নারীর অবমাননা করে। নারীর নির্যাতনে প্রভোক করে। পুরুষে লেখে বইলা এইটা হয়। পুরুষে পরিবারের সবাইরে নিয়া টিভি নাটক বানাইলেও যেইখানে নারীর প্রতি চূড়ান্ত যৌনআক্রমণ ঘটে সেইখানে পুরুষের গোপন কার্যক্রমে কী ঘটতে পারে?
ফলে, পিয়াল যখন মুক্ত প্লাটফর্মে এই আলোচনা করতে পারছেন তখন তাকে আমি বিপ্লবী ভাইবা নিলাম। বিদ্যমান মতাদর্শের নিরিখে। সমাজ তার দৃষ্টি থেকে তারে পাগল বা মাতাল ভাবতে পারে। সেটাও স্বাভাবিক।
কিন্তু সমাজ দুইভাগ হয়া গেছে।
সমাজ তারে একমত হয়া পাগল বা মাতাল ভাবতে পারতেছে না।
কারণ উনি সমাজে জনপ্রিয় ও ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য একটা ইস্যুরে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছেন।
সেইটা হইলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে নৈতিকতা, দেশপ্রেমের মতো বিষয়গুলা এমনভাবে জড়াইছে এবং এইটা নিয়া আবেগ অনুভূতি এতই প্রবল যে তার সঙ্গে অপবিত্র যৌবনজ্বালারে মিশানো কঠিন ব্যাপার আছিল।
আমার মতে, মিশানো যখন গেছে তখন মিশে থাকুক। সমাজের অর্ধেক মানুষ যখন মনে করতেছে যৌবন জ্বালার সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংঘর্ষ নাই তখন আমি ফাঁকে বিরোধিতা করে বিপদে পড়বো ক্যান।
আমি অবশ্য যৌবন জ্বালায় যাই না। ভাইরাসের ভয়ে। ভাইরাস বিহীন পর্নসাইটে মাঝে মধ্যে ঢু মারি।
সবার কথা শুইনা বুঝতেছি যৌবনজ্বালায় ভাইরাস নাই। তাই একদিন যাবো ভাবতেছি।
আশ্রমের লেখা পড়তেই যাবো। তার জন্য সবার আগে আমারে একটা ফেক ইমেইল আইডি খুলতে হবে।
যাই হউক,
যারা আমার কথা মানতে পারলেন না তাদের জন্য অমিয়ভূষণ মজুমদারের একটা গল্পের মোরাল বলি। ক্যাসিয়া সাইমিয়া গল্পে মজুমদার মশাই বলছেন, একটা খারাপ লোকের মুখ দিয়া একটা খারাপ পদ্ধতিতে যদি ভাল কথা শোনায় তাইলে ভাল কথাটা আর ভাল কথা থাকে?
মজুমদার মশাই কইছেন, থাকে।
মজুমদার মশাই কইছেন যখন তখন থাকতে পারে। অনেকে মানবেন। অনেকে মানবেন না।
আমি মাঝামাঝি একটা কথা কই। ভাল কথাটা ভাল থাকে হয়তো। কিন্তু তাতে অনৈতিকতার কালিমা লাগে। অর্থ একটু বদল হয়া যায়।
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×