প্রশ্ন ছিল এইগুলা
বাংলা ব্লগের শুরুটা কিভাবে?
বাংলা ব্লগ শুরু করার উদ্দেশ্য কি?
বর্তমানে বাংলা ব্লগের কি অবস্থা?
বাংলা ব্লগের প্রতি ব্লগারদের আগ্রহ কেমন?
আমাদের বর্তমানে বেশ কয়েকটি বাংলা ব্লগ আছে? আপনি এ ব্যাপরটি কিভাবে দেখছেন?
বাংলা ব্লগ বাংলাভাষীদের ইন্টারনেটে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে কি ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?
বাংলা ব্লগের ভবিষ্যৎ কেমন বলে মনে হয়?
সব মিলিয়ে বাংলা ব্লগ নিয়ে আপনার মতামত?
আমি এমনে উত্তর দিছিলাম
মাহবুব মোর্শেদ
সাবেক বিভাগীয় সম্পাদক, প্রথম আলো ব্লগ।
বাংলা ব্লগের শুরু
ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা লেখা ও প্রদর্শনের টুলগুলোর বিকাশের সঙ্গে বাংলা ব্লগের বিকাশের সূত্র নিবিড়ভাবে জড়িত। দুঃখের বিষয়, ইউনিকোডের বিকাশে এখানকার ফন্ট ও লিখনরীতির ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ীরা তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেন নাই। সবকিছু হয়েছে, ওপেন সোর্সের তরুণ তুর্কীদের মাধ্যমে। তারা নিজেদের গাঁটের পয়সা ও সময় খরচ করে ইউনিকোড ভিত্তিক লেখার টুলগুলো তৈরি করেছেন। এই টুলগুলো তৈরির প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ব্লগস্পট বা ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি করা ব্লগগুলোতে বাংলা অর দেখা যেতে শুরু করেছে। সেদিক থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্লগগুলোই বাংলা লেখায় পথিকৃতের ভহৃমিকা পালন করেছে। এরপর এলো সামহয়ারইনব্লগ ডট নেট। প্রথম থেকে সামহয়ার ইউনিকোড ভিত্তিক না হলেও বাংলা টাইপিংয়ের একটা সুবন্দোবস্ত তারা করতে পেরেছিলেন। গোষ্ঠীবদ্ধ সামাজিক বল্গগিংয়ের প্লাটফর্ম হিসেবে সামহয়ারইনবল্গগ বাংলাভাষায় বল্গগচর্চায় ইতিহাসের সূত্রপাত করেছে।
বল্গগের উদ্দেশ্য
ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়া হিসেবে বল্গগের প্রথম উদ্দেশ্যই হলো, মতপ্রকাশ ও সৃষ্টিশীল কাজ প্রদর্শনের জন্য একটি স্পেস তৈরি করা। এটা না থাকলে বল্গগ গড়ে ওঠে না। মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যই ব্লগের প্রাণশক্তি। নাগরিকদের কথা বলার জায়গা তৈরি তাই ব্লগের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। এর বাইরে কোনো বিশেষ মতাদর্শ বা রাজনীতি প্রচারের উদ্দেশেও ব্লগ তৈরি হতে পারে। এটি নির্ভর করে যারা বল্গগ তৈরি করছেন তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর।
বাংলা ব্লগের বর্তমান অবস্থা
সামহয়ার থেকে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল তা এখন পত্রপল্লবে বিকশিত। একে একে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীবদ্ধ সামাজিক ব্লগ হয়েছে। সচলায়তন, আমার ব্লগ, প্যাচালি। এরপর প্রথম আলোবল্গগ। মেইনস্ট্রিম মিডিয়া অ্যাপ্রোচ থেকে তৈরি প্রথম আলো ব্লগ বাংলা ব্লগিংয়ের চর্চায় আরেক অগ্রগতি। অলটারনেটিভ মিডিয়া হিসেবে ব্লগিংয়ের সাফল্যে স্বীকৃতি। বল্গগটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সামহয়ার ও প্রথমআলোবল্গগকেই বাংলা ব্লগের মূলধারা হিসেবে গণ্য করা যায়। সব মিলিয়ে বাংলা বল্গগগুলোতে প্রায় ২৫হাজার বল্গগার লিখছেন। এ শুধু কমিউনিটি বল্গগের হিসাব। এর বাইরে বল্গগস্পট ও ওয়ার্ডপ্রেসের বল্গগটুল ব্যবহার করেও প্রচুর মানুষ লিখছেন। মতপ্রকাশের মুক্ত পরিসর তৈরি ও চর্চার ক্ষেত্রে ব্লগগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। সমাজের বহুমত ও বহুস্বরের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে বাংলা ব্লগ।
বাংলা ব্লগের প্রতি ব্লগারদের আগ্রহ
বাংলা ব্লগের প্রতি ব্লগারদের আগ্রহ বেশ। ইতিমধ্যে ব্লগাররা একটি কমিউনিটি হিসেবে নিজেদের মধ্যে একটি শক্তিশালী আন্তঃযোগাযোগ গড়ে তুলেছেন। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ লেখা তৈরি করছেন ব্লগগুলোতে। নতুন প্রজন্মেরর তরুণ লেখকরা সৃষ্টিশীল আত্মপ্রকাশের প্রথম মাধ্যম হিসেবে ব্লগকে বেছে নিয়েছেন। অ্যাক্টিভিস্টরা অলটারনেটিভ মিডিয়ার গুরুত্ব অনুভব করতে শুরু করেছেন। পাঠকরাও ব্লগের কন্টেন্ট-এর প্রতি আগ্রহী হয়েছেন আগের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু বাংলাদেশের ব্লগাররা একটি মেসেজ প্রায়ই ভুলে থাকছেন, যা ব্লগের কন্টেন্টের জন্য বিপজ্জনক। তা হলো, প্রতিদিন ব্লগগুলোতে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ বা অভিমত রিপ্রোডিউসড হচ্ছে। আমি মনে করি, ব্লগের জন্য এটি খুব খারাপ উদাহরণ। সংবাদপত্র যা নিয়ে কথা বলছে, তা ব্লগে রিপ্রোডিউসড হলে ব্লগের গুরুত্ব আর থাকে না। বরং তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিকভাবে সংবাদপত্রের কন্টেন্ট ও উপস্থাপনাকে এনকাউন্টার করাই ব্লগের কাজ। যদি এটা না হয় তাহলে ব্লগের মধ্যদিয়ে নাগরিক কণ্ঠস্বরের বিকাশ খুব দ্রুতলয়ে হবে না।
অনেক ব্লগ বিষয়ে
বহুমত ও বহুস্বরের একটি দেশে নানা মত, পথ ও আদর্শের ব্লগ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। নতুন ফিচার নিয়ে নতুন ব্লগ আসবে এটা খুবই প্রত্যাশিত। ব্লগগুলো নীতি ও পরিচালনা পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকবে। গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য একটি ভাল সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এর খুব দরকার। সহস্র কণ্ঠের কলতান খারাপ বিষয় নয়। আমি মনে করি, বেশ কয়েকটি ব্লগ থাকাটা খারাপ কিছু নয়। বৈচিত্রের প্রতি আস্থা থাকা দরকার।
ইন্টারনেটে বাংলা লেখা
গত তিন বছরে ইন্টারনেটে বাংলা লেখার যে দ্রুত বিকাশ হয়েছে তার পেছনে প্রেরণা হিসেবে ব্লগ প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। এই বিকাশের ফলে, ব্লগের বাইরের সাইট বা অ্যাপ্লিকেশনে বাংলার প্রবেশ দ্রুততর হয়েছে। আগে যিনি চ্যাটরুমগুলোতে রোমান হরফে ব্যক্তিগত বা অব্যক্তিগত আলাপচারিতার অভ্যস্ত ছিলেন তিনি বাংলা ব্লগে লিখছেন। বাংলা অর নতুন ইউজারদের আকৃষ্ট করছে। শখের লেখকরা লিখতে লিখতে সিরিয়াস লেখক হয়ে উঠছেন।
ভবিষ্যত
বাংলা ব্লগের ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল। ভবিষ্যতে প্রচুর ইউজার বাংলা লেখার মুক্ত এ প্লাটফর্মটি ব্যবহার করতে আসবেন। ভবিষ্যতে ইউজারদের আগ্রহে উৎসাহিত হয়ে বিজ্ঞাপনদাতারাও ব্লগে আগ্রহী হবেন বলে আশা করা যায়। নইলে, ব্লগের উদ্যোগগুলো সমাজকর্ম বা কর্পোরেট কোম্পানির সোশাল রেসপন্সিবিলিটির অংশ হয়ে থাকবে। গুগুল অ্যাডসেন্স বা এরকম কোনো আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলা ব্লগের একটি কার্যকর গাঁটছড়া হওয়া দরকার।
আমার মতামত
ব্লগকে জনপ্রিয় হতে হলে, বিদ্যমান মেইনস্ট্রিম প্রচারব্যবস্থা ও মতাদর্শের প্রতিপক্ষ হিসেবে বেড়ে উঠতে হবে। প্রতিদিন মেইনস্ট্রিমের উৎপন্ন খবর ও মতের মোকাবিলা করতে হবে। নইলে, ব্লগও মেইনস্ট্রিমের মধ্যে ইনকরপোরেটেড হয়ে যাবে। ফলে, ইন্টারঅ্যাকটিভ পিপলস মিডিয়া হিসেবে ব্লগ গুরুত্ব হারাবে। সাধারণ মানুষের সহজগম্যতা ও জোটবদ্ধ হবার সহজ উপায় হিসেবে ব্লগকে বাঁচিয়ে রাখা ইন্টারনেট অ্যাক্টিভিস্টদের বড় দায়িত্ব।
link : Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

