অধিকার নামে একটা এনজিওর প্রজেক্ট বন্ধ হয়া গেল। একটা পত্রিকা ভাল করে নিউজটা দিছে। বাকী একটা দুইটা পত্রিকা অল্প কইরা দিছে। বাদবাকী সবাই নিউজ গিলে খাইছে। এনজিওরা সামান্য ফোঁস কইরা উঠলেও বড় নিউজ হয়। সিপিডি যখন বিদেশী রিপোর্ট আইনা পাঠ করে তখন হেডলাইন নিউজ হয়া যায়। নীতিনির্ধারকরা নড়ে বসে। বুঝি যে সব এনজিও এক না। এনজিওর মধ্যে বিএনপি আওয়ামী লীগ ভাগ আছে। দাতাদের নানা রকম আছে। তবু একটা আলোচিত এনজিওর প্রজেক্ট বন্ধ হয়া যাবে আর আমাদের পত্রপত্রিকা কোনো কথা বলবে না। মানবাধিকারের পয়গম্বরেরা মুখে কুলুপ আঁইটা দরজা বন্ধ কইরা বইসা থাকবে এইটা ভাবা যায় না।
আমরা কথা কথায় কই, অমুকে ফ্যাসিস্ট, তমুকে রেসিস্ট। ফ্যাসিস্ট কথাটার সংজ্ঞা কী হইতে পারে এই নিয়া আমি কিছু খোঁজ খবর করছিলাম। দেখা গেল এর ব্যাপ্তি বিরাট। সহজে বুঝানো কঠিন। বিপক্ষ মত দলন, মত দলনের জন্য শারিরিক ও মানসিক আক্রমণ হইলো ফ্যাসিজমের একটা রূপ। রাষ্ট্রই এইখানে কর্তা। ফ্যাসিজম রাষ্ট্রের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু রাষ্ট্র যখন তার অপছন্দের, বিপরীত ও বিপজ্জক মতগুলারে দলন করতে থাকে তখন যদি বুদ্ধিজীবী, পত্রিকা, নাগরিক সমাজ কিছু না বইলা চুপ কইরা থাকে তখন বুঝতে হয় ফ্যাসিজমের চূড়ান্ত চর্চা হইতেছে। সমাজ এমন একটা জায়গায় পৌঁছাইছে যেইখানে সুবিধাবাদিতার বাইরে আর কোনো অবস্থান নাই। হয় ভয়ে নয়তো, সুবিধার জন্য সবাই মুখে কুলুপ আঁইটা রইছে।
অধিকার সংগঠনটির প্রজেক্ট বন্ধ হওনের পর আমার অনুভূতি সেই রকমই।
অধিকার বন্ধের খবর পাওয়ার পর নানাজনের সঙ্গে আলাপ কইরা জানতে চাইতেছি ঘটনা কী? এই সংগঠন কী কী নিয়া কাম করে? এটা কি বিএনপি না সিভিল সোসাইটি?
অধিকার নিয়া কোনো কেলেঙ্কারির গল্প পাইলাম না। রাজনৈতিক তেমন কোনো সংশ্লিষ্টতার গন্ধও পাওয়া গেল না। তাইলে সমস্যাটা কোথায়? কেন বিনা নোটিশে, কোনো জবাবদিহিতার বালাই না রাইখা হুট কইরা একটা এনজিও বন্ধ কইরা দেওয়া হইলো?
শুনলাম সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অধিকারের ওপর দিয়া মেলা হ্যাপা গেছে। ধরপাকড়ের ঘটনাও ঘটছে। বিএনপি আমলে অধিকার মেলা রিপোর্ট দিছে। এই আমলেও দিতেছিল। ওনাদের ওয়েবসাইট থিকা জানলাম ৯০ সাল থিকা কাজ করতেছে। তাইলে হঠাৎ কী বিগড়াইলো যে সরকার হুইমজিকালি অধিকারের প্রজেক্ট বন্ধ কইরা দিলো?
যতদূর জানা যাইতেছে, অধিকার মূলত মানবাধিকার নিয়া কাজ করে। বাংলাদেশের সীমান্তে সংঘঠিত হত্যাকাণ্ড বিষয়ে রেগুলার রিপোর্ট দিয়া তারা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল। তাদের রিপোর্ট থিকা রেগুলার জানতে পারা যায় বিএসএফ-এর হাতে প্রতিদিন, প্রতি সপ্তায়, প্রতি মাসে কত বাংলাদেশী হত্যা হইতেছে।
জানা যায়, কত মানুষ দেশের ভিতরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হইতেছে। কত মানুষ পুলিশ বা আইন-শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মরতেছে বা কষ্ট পাইতেছে বা পাইছে।
রাস্তায় পুলিশের হামলায় কত মানুষ আহত হইতেছে।
এই রিপোর্টগুলা দিলে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। নাকি সমস্যা হওয়ার কথা?
তিন দিন হইলো অধিকারের প্রজেক্ট বন্ধ হইছে, এখন পর্যন্ত সরকার বা তার তরফে কেউ কইলো না অধিকারের অপরাধ কী? তাইলে কি একটা কন্সপিরেসি অফ সাইলেন্স ( নীরবতার ষড়যন্ত্র) দিয়া অধিকারের অধিকার হরণ করা হবে? সেনাসমর্থিত সরকার অধিকাররে ভয় পাইতো কারণ তারা যা করে শাসন অব্যাহত রাখছে অধিকারের রিপোর্টে তা বাইরাইয়া যাইতে পারে। কিন্তু এখনকার সরকার? তারা কি সেই পথে যাইতে চায়?
শেষ পর্যন্ত তারা কি পুলিশি রাষ্ট্রের ভিশন নিয়াই আগাইতেছে?
জানতে চাই। আরও জানা দরকার, অধিকারের অপরাধের ধরনটা কীরাম? আমরা কি তাদের ঘৃণা করবো কি না এইটা সরকারের কেউ বইলা দিক।
অধিকারের ওয়েবসাইট পাইলাম। দেখেন :
http://www.odhikar.org/
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



