somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এসএমএস-এর ভাষা নিয়ে gr8 db8

০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(লেখাটা সমকালে লিখছি বাট ফন্ট সমস্যায় গ্যাঞ্জাম লাগছে।
http://samakal.com.bd/ তাই এইখানে দিলাম।)
সেলফোনে আসা টেক্সট মেসেজ পড়া ও সেগুলোর উত্তর দেওয়া আমাদের নিত্যদিনের কাজ। কোনো পর্ব বা উৎসব এলে তো কথাই নেই। সমানে মেসেজ আসতে আসতে ইনবক্স ভরে যায়। আমরাও একটা মোক্ষম মেসেজ পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানাই বন্ধু-পরিজনদের। অল্প খরচে, অল্প কথায় খোঁজখবর নেওয়ার জন্য টেক্সট মেসেজের তুলনা নেই। কিন্তু এই সুবিধার মধ্যে বিপত্তিরও শেষ নেই। টেক্সট মেসেজ যেহেতু সংক্ষিপ্ত এবং অনেকটাই সাংকেতিক তাই মোবাইল ফোনের ছোট পর্দায় এসে টেক্সট মেসেজের ভাষা পরিবর্তিত, সংক্ষিপ্ত এবং আরও বেশি সাংকেতিক হয়ে উঠেছে। অনেক সময় বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ কেউ তাদের কাছে আসা টেক্সট মেসেজ পড়ে দিতে অনুরোধ করেন। কেননা সংক্ষিপ্ত এ ভাষা সহজে বুঝতে পারেন না তারা। কিন্তু নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এ ভাষা শিখতে শিখতে বড় হয়ে উঠছে। ফলে এ ভাষা তারা মুখের সহজাত ভাষার মতো শিখে উঠেছে। ব্যবহারও করছে নিদ্বর্িধায়। আমাদের দেশে এ নিয়ে গুরুতর কোনো তর্ক উঠেছে বলে শুনিনি। এর ফলে ভাষা ব্যবহার ও ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো সু বা কুপ্রভাব পড়ছে কি-না এ নিয়ে আমাদের গবেষকরা তেমন কাজ করেছেন বলেও জানা নেই।
গত বছরের ৫ জুলাই গার্ডিয়ান পত্রিকায় ডেভিড ক্রিস্টালের একটি লেখার শিরোনাম ছিল '2b or not 2b?' শিরোনামেই থমকে গিয়েছিলাম। শেকসপিয়রের নাটকের উক্তি to be or not to be টেক্সট মেসেজে এমনই আকার পাবে। কিন্তু গার্ডিয়ান পত্রিকায় এমন লেখা কেন। পড়তে পড়তে জানা গেল ডেভিড ক্রিস্টাল ভাষাতাত্তি্বক, লেখক ও শিক্ষক। শিক্ষা ও ভাষার ওপর টেক্সট মেসেজের প্রভাব নিয়ে তিনি একটি বই লিখেছেন। ক্যাম্ব্রিজ এনসাইক্লোপেডিয়া অব ল্যাঙ্গুয়েজ ও ক্যাম্ব্রিজ এনসাইক্লোপেডিয়া অব ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজসহ ভাষা বিষয়ে শত পুস্তক লেখা ও সম্পাদনা করার সঙ্গে জড়িত তিনি। তিনি টেক্সট মেসেজ বা এসএমএসের ভাষা নিয়ে বই লিখলে বিষয়টি নিয়ে একটু নড়েচড়ে বসতে হয় বটে। তার বইয়ের নাম Txtng : the Gr8 Db8 (টেক্সটিং : দি গ্রেইট ডিবেট)। গার্ডিয়ানের প্রবন্ধে ডেভিড ক্রিস্টাল বিতর্ক দিয়েই শুরু করেছিলেন। তিনি জন হামফ্রির একটি লেখার বরাত দিয়ে তাকে উদ্ধৃত করেছিলেন। হামফ্রি লিখেছিলেন, 'আটশ' বছর আগে চেঙ্গিস খান তার প্রতিবেশীদের প্রতি যা করেছিলেন এখন এই বর্বররা ভাষার ওপর তা-ই করছে। তারা একে ধ্বংস করছে : যতিচিহ্নের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। বাক্যগঠনের ওপর ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। কণ্ঠধ্বনির ওপর জবরদস্তি চালাচ্ছে। অতিদ্রুত এই অনাচার বন্ধ হওয়া উচিত।' শুধু তাই নয়, টেক্সট মেসেজকে বলা হয়েছে টেক্সটিজ, স্ল্যাঙ্গুয়েজ, ডিজিটাল ভাইরাসসহ নানা অপমানকর উপাধি। বলা হয়েছে, বাচ্চারা এগুলো লিখে আর পড়ে ভুলভাবে ভাষা শিখছে।
ডেভিড ক্রিস্টাল জানাচ্ছেন, টেক্সট মেসেজের প্রযুক্তিগত ইতিহাস। আশির দশকে গ্গ্নোবাল টেলিকমিউনিকেশন মিডিয়ার বিস্তারের সঙ্গে এর সম্পর্কের কথা। প্রথমে কুড়িটি বর্ণ পাঠানো যেত, পরে ৩৫টি। এখন যে খুব বেশি পাঠানো যায় তা নয়। ছোট স্ক্রিনে বড় মেসেজ পড়ার সমস্যাও আছে। ফলে প্রযুক্তির প্রয়োজনেই মেসেজের আকার-আকৃতি ছোট হয়ে গেছে। ভাষাকে আক্রমণ করার কোনো চিন্তা আসলে মেসেজ ব্যবহারকারীদের মাথায় থাকে না। সময়, পয়সা আর শব্দ বাঁচিয়ে তারা যোগাযোগ করেন। আর রক্ষণশীলরা যেভাবে বলছেন তাতে ভাষা বা শিক্ষার জন্য এটি মোটেও হুমকি নয়। তিনি গবেষণা করে জানিয়েছিলেন, ১০%-এর চেয়ে অনেক কম শব্দ টেক্সট মেসেজে সংক্ষিপ্ত আকারে পাঠানো হয়। শব্দের সংক্ষিপ্তকরণের রীতি যে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে শুরু হয়েছে তা নয়, এটি কয়েক দশক ধরে হয়ে আসছে, আর তাতে ভাষার ক্ষতি হয়নি। শুধু শিশুরা নয় বড়রাও টেক্সট মেসেজ ব্যবহার করেন, দু'দলই এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার খাতা বা হোমওয়ার্কে টেক্সট মেসেজের রীতি অনুসরণ করে না। খারাপ উচ্চারণের প্রবণতা সৃষ্টি হচ্ছে না, কারণ লোকে শব্দের প্রকৃত উচ্চারণ জেনেশুনে টেক্সট পাঠায়। এটি শিক্ষার হার বাড়ায়, অনেক মানুষের কাছে ভাষাকে পেঁৗছে দিতে পারে।
তর্কটি অনেক বড়। পশ্চিমের গবেষণা থেকে আমাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু আঁচ হয়তো পাওয়া যাবে কিন্তু পুরোটা জানতে নিজেদের মতো করে ভাবতে হবে।
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×