আমার প্রিয় পোস্ট

সাহিত্যের সাইটhttp://www.samowiki.net। বইয়ের সাইট http://www.boierdokan.com

প্রথম আলো জাতিকে কী দিয়াছে?

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫২

শেয়ারঃ
0 1 0

কিছুদিন আগে ব্লগে এবং ফেসবুকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের একটি লেখার লিঙ্ক শেয়ার করছিলাম। তখন লিঙ্কের সঙ্গে এ বাসনাও রাখছিলাম যে, কখনো সুযোগ পাইলে মতি ভাইয়ের প্রবন্ধ নিয়া আলোচনা ফাঁদবো। কাজে কর্মে সে সুযোগ মিলে নাই। ফলে আলোচনা হয় নাই। কিন্তু এর মধ্যে প্রথম আলোর কিছু সমালোচনা করছি নানা ইস্যুতে। এইসব সমালোচনার সূত্রে বন্ধুদের অনেকের ধারণা হইছে, আমি প্রথম আলোর ঘোরতর বিরোধী একজন লোক। চান্স পাইলে কড়া ভাষায় এর সমালোচনা ফেঁদে একে এক হাত দেইখা নেওয়াই আমার উদ্দেশ্য। সেদিন ফেসবুকে এক বন্ধুর বক্তব্য পড়ে তো আঁতকে উঠলাম রীতিমতো। উনি আমার বিরোধিতার সঙ্গে খ্যাতিলাভের বাসনাকে সম্পর্কিত করে ব্যাখ্যা করলেন।
গত ছয়-সাত বছরের সংক্ষিপ্ত সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে মেইনস্ট্রিম সাংবাদিকতা সম্পর্কে অল্প কিছু অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বিষয়ে আমার বিশেষ আগ্রহ আছে। এর ভেতরের কর্মী হিসাবে যেমন এর বাইরের নাগরিক হিসাবেও তেমন। ফেসবুক, ব্লগ ইত্যাদিকে অল্টারনেটিভ মিডিয়া টুল হিসাবে গণ্য করে সেইগুলাতে কোনো নিউজ, কোনো প্রেজেন্টেশন, কোনো ইস্যুতে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার অবস্থান নিয়ে আমার বা আমাদের অনেকের সমালোচনা থাকতে পারে। সে আলোচনা আমরা করি, অনেকে করি না। অনেকে ঢালাও বিরোধিতার মধ্য দিয়া ব্ক্তব্য জানাইতে চাই, অনেকে বিষয় ধরে আলোচনা করতে পছন্দ করি। সব আলোচনাই আমার তীব্র কৌতুহলের বিষয়। আমি বিষয় ধরে আলোচনা করতে ভালোবাসি। কিন্তু মোটাদাগে প্রথম আলো মানে বাংলাদেশে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার বিকাশকে আমি কোন চোখে দেখি সেইটা কোথাও বলে রাখার প্রয়োজন আছে। এইখানে আমার অবস্থা অনেকটা রাধার মতো। মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আমার কাছে শ্যাম। আর তার বিরোধিতা অর্থাৎ অলটারনেটিভ মিডিয়া হলো কূল।
.........................
বাংলাদেশে যারা আপোষহীন বিপ্লবী, সংস্কারক, অলটারনেটিভ দার্শনিক, অ্যাকটিভিজমের কাণ্ডারি তাদের প্রতি মোটাদাগে আমার কিছু অনাস্থা আছে। আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, আমাদের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী দলগুলোর মধ্যে যে দলটিকে আমি সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করি সে দলে কি আমি কখনো যোগ দিব? উত্তর না। সবচেয়ে সঠিক হইলেও এই দলটি বিকশিত হয় নাই। পার্টি হিসবে গড়ে ওঠে নাই। সবেচেয়ে বিপ্লবী নেতৃত্ব দলটিকে গড়ে তুলতে পারে নাই। যার দর্শন ও কর্ম পদ্ধতি আমার সবেচেয়ে পছন্দ তার প্রতিষ্ঠানটি ভাল নয় মোটে। সেখানে আমি কখনো কাজ করবো না বা করার বাসনা পোষণ করবো না।
আমাদের সমাজের যারা প্রতিষ্ঠান বিরোধী, বিপ্লবী, পরিবর্তনের নায়ক তাদের মোটাদাগের বৈশিষ্ট্য হলো--
*প্রতিষ্ঠান বিরোধী/বিপ্লবীরা কোনো ধরনের পত্রিকা দাঁড় করাইতে পারেন নাই।
* বিপ্লবীরা কোনো পার্টি দাঁড় করাইতে পারেন নাই।
*সংস্কারকরা কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন দাঁড় করাইতে পারেন নাই।
বিরোধিতার দর্শনের শেষ পরিণতি ব্যর্থতাই কি না মাঝে মাঝে ভাবি আমি।
উল্টোদিকে, বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকায়ে দেখি যারা কম-বেশি আপোষ করেন, কিছুটা বিপ্লবী এবং অনেকটা কর্মোদ্যগী, মধ্যপন্থী মানসিকতার ব্যক্তি তাদের সাফল্যটা চোখে দেখার মতো।
বাংলাদেশীরা নিজেদের উদ্যোগে বিশাল প্রতিষ্ঠান গড়তে পারে। সে প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবশালী করে তুলতে পারে এবং ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে এমন উদাহরণ আমাদের সামনে আছে।
ড. মুহম্মদ ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংক. ফজলে হাসান আবেদের ব্রাক, মতিউর রহমানের প্রথম আলো এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কথা বলছি উদাহরণ হিসাবে। এরকম বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দেওয়া যাবে। অকর্মণ্য বিপ্লবীরা যে প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করেননি। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তুলনীয় কোনো সংগঠনও তারা তৈরি করতে পারেননি।
.................
প্রথম আলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মিডিয়া। স্বাধীনতার আগে পরে কোনো মিডিয়াই প্রথম আলোর অর্জনকে ছুঁতে পারে নাই। আমাদের সমাজে এর সর্বব্যাপ্ত প্রভাব-প্রতিপত্তির কথা মনে হলে শিউরে উঠতে হয়। হয়তো আনন্দবাজারের অর্জনের কাছে এটি সামান্য। কিন্তু বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া পরিপ্রেক্ষিতের কথা মনে রাখলে মিডিয়ায় প্রথম আলোই স্বাধীনতার পর আমাদের বড় অর্জন।
অত্যন্ত অল্প সময়ে এটি একটি টীম হিসেবে গড়ে উঠেছে। দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। যারা গত এক দুই দশকে সংবাদপত্রের হোঁচট খেয়ে চলার ইতিহাস খেয়াল করেছেন তারা স্পষ্ট জানবেন, প্রথম আলো যে অন্য দশটা পত্রিকার মতো পরিণতি বরণ করে নাই তার মূল কারণ মতিউর রহমানের ম্যাজিক।
১. প্রথম আলো বোধহয় স্বাধীনতার পর প্রথম একটি সফল পত্রিকা যা কোনো রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয়, ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে প্রকাশিত হয় নাই। পত্রিকা দিয়েই পত্রিকার ব্যবসা করার উদ্দেশ্য থেকে এটি প্রকাশিত হয়েছিল। এবং এটি সে কাজে সফল হয়েছে। ফলে, এটি একটি ভাল ইনভেস্টমেন্ট এবং ফল হিসেবে লাভ জনক ব্যবসা।
২. প্রথম আলো বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর মধ্যে টীম স্পিরিটের দিক থেকে সবচেয়ে সংহত পত্রিকা। এক দশকে নানা সমস্যা সত্ত্বেও এটি মুখ্য টীমটিকে ধরে রেখেছে।
৩. সাংবাদিকদের মূল্যায়ন বেতন-ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম আলো যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। যা সংবাদপত্রের সার্বিক অবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। প্রথম আলোর আগে কোনো পত্রিকার ধান্দাবাজ সাংবাদিক ব্যতিরেকে কেউ গাড়িতে ওঠার কথা চিন্তা করতে পারতো না।
৪. সংবাদ পরিবেশন, ভাষা ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সর্বসাম্প্রতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় সাধান করে বিকশিত সাংবাদিকতার যে ধারা তৈরি হয়েছিল অন্য পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে প্রথম আলো তাকে চূড়ান্তভাবে ধারণ করেছে। সংবাদপত্রের ঘাড়ে চেপে বসা পুরানা বহু ভূতকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
৫. সফল পত্রিকা হওয়ার পরও মালিকের ধান্দাবাজির হাতিয়ারে পরিণত হয়নি।
৬. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর ছাড়া বাকী সময় মোটামুটি ভাবে কোনো রাজনৈতিক শক্তির পকেটে ঢুকে পড়েনি।
৭. কিছু কিছু নীতির ক্ষেত্রে প্রথম আলো মোটামুটি স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পেরেছে।
..........................
একবার শুনেছিলাম, মানুষের কী করা উচিত এইটা জানতে নাকি বাইবেল পড়বে হবে। আর মানুষ কী করে সেইটা জানার জন্য নাকি সংবাদপত্র পড়তে হয়। কিন্তু প্রথম আলো এক পত্রিকা যেখানে মানুষ কী করে আর মানুষের কী করা উচিত দুইই থাকে। একই সঙ্গে এটি বাইবেল ও সংবাদপত্র। প্রথম আলো মূলত কি বিক্রি করে এ প্রশ্ন করলে আমার উত্তর হবে নৈতিকতা। অথচ এর বিক্রি করার কথা ছিল সংবাদ। প্রথম আলো সংবাদ বিক্রি করে বটে কিন্তু নৈতিকতার মোড়কে মুড়িয়ে। শুরু থেকে এর বিকাশের দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, এটি ম্যানুফ্যাকচারার অফ এথিকস হিসেবে বেড়ে উঠেছে।
মানুষের সেবা, দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো, ভালর সঙ্গে থাকা এইসব ধর্মীয় কাজের মধ্য দিয়ে প্রথম আলোর বিকাশ হয়েছে। এবং শেষ পর্যন্ত এটি গান্ধীবাদী নিজেকে বদলানোর ধর্মীয় অবস্থানে গিয়ে ঠেকেছে।
একটি পত্রিকা যদি নৈতিকতার বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, আর যদি সেটি বাংলাদেশের মতো দেশে ঘটে তবে চিন্তার অনেক কারণ আছে। কারণ, আমি লক্ষ্য করি, প্রথম আলো ভেতরে ভেতরে শিক্ষিত প্রগতিশীল মধ্যবিত্তের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখানেই পত্রিকাটির মূল সমালোচনা।
বিক্রয়যোগ্য পণ্য হিসাবে নৈতিকতার বিশাল বাজার আছে। কিন্তু আধুনিক সময় অতিক্রম করার পর একটি পত্রিকা নৈতিকতা বেচবে কি না এটি আরেক নৈতিক প্রশ্ন।
...........................
বাংলাদেশে পত্রিকার পাঠক বাড়ছে। পত্রিকাও প্রকাশিত হচ্ছে অনেক। মানহীন অনেক পত্রিকাও পাঠক পাচ্ছে। তাতে মনে হয়, এদেশে দুই লাখ পত্রিকা চালানো কোনো ব্যাপার না। কিন্তু দুইলাখ সার্কুলেশন নিয়ে প্রথম আলোর মতো সর্ববিস্তারী প্রভাব তৈরি করা ভীষণ কঠিন। মতিউর রহমান একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সংগঠন, একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। সামনের দিনে হয়তো এর আরও বিকশিত রূপ আমরা দেখতে পাবো। সে বিকাশ হয়তো সুখকর কোনো বিষয় হবে না। কারণ প্রথম আলোর কোনো প্রতিযোগী নেই। অদূর ভবিষ্যতে হবেও না।
সো ছোট ছোট সমালোচনা দিয়ে একে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

(কী একটা অগোছালো লেখা লিখলাম!)

 

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:০০
কৌশিক বলেছেন: 'জাফর ইকবাল বাঙালী জাতিকে কি দিয়েছে?' পোস্টটার কথা মনে পড়ায় প্লাস দিলাম।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৬

লেখক বলেছেন: হ।

২. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:০৭
নোঙ্গর ছেঁড়া বলেছেন: প্রথম আলো যাই দিক...জন ডেনভার বিশ্ববাসীকে এরকম কিছু অসাধারণ গান দিয়েছে---

Back Home Again

There's a storm across the valley,
clouds are rollin' in
the afternoon is heavy on your shoulders
There's a truck out on the four lane,
a mile or more away
the whinin' of his wheels just makes it colder.

He's an hour away from ridin'
on your prayers up in the sky.
and ten days on the road are barely gone.
There's a fire softly burning;
supper's on the stove
it's the light in your eyes that makes him warm.

Hey, it's good to be back home again
Sometimes this old farm
feels like a long lost friend
Yes, 'n, hey it's good to be back home again

There's all the news to tell him:
how'd you spend your time?
And what's the latest thing the neighbors say
and your mother called last friday;
"Sunshine" made her cry
and you felt the baby move just yesterday.

Hey, it's good to be back home again
Sometimes this old farm
feels like a long lost friend
Yes, 'n, hey it's good to be back home again

Oh, the time that I can lay this tired old body down
and feel your fingers feather soft upon me
the kisses that I live for, the love that lights my way
the happiness that livin' with you brings me.

It's the sweetest thing I know of,
just spending time with you
it's the little things that make a house a home.
Like a fire softly burning
and supper on the stove.
And the light in your eyes that makes me warm.

Hey, it's good to be back home again
Sometimes this old farm
feels like a long lost friend
Yes, 'n, hey it's good to be back home again
Hey, it's good to be back home again
Sometimes this old farm
feels like a long lost friend
hey it's good to be back home again
Said hey it's good to be back home again
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭

লেখক বলেছেন: হয়।

৩. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৫
সুবিদ্ বলেছেন: অনস্বীকার্য যে প্রথম আলো একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দিয়েছে বাংলাদেশের প্রিন্ট মিডিয়ায়........
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭

লেখক বলেছেন: হা।

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৮

লেখক বলেছেন: কী?

৫. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৬
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: লাস্টে আইসা মনে হইল ঘ্যাচাং কইরা কাইটা শেষ কইরা দিছেন।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৮

লেখক বলেছেন: লিখতে লিখতে দেখলাম অনেক বড় হয়া গেল।

৬. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৭
মহিউদ্দিন আহামেদ সৈকত বলেছেন: যা দিয়েছেন শুনলাম কিন্তু জানতে চাই কি দেয় নাই..?
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৯

লেখক বলেছেন: প্রথম আলো যা দেয় নাই আগামী দিনের কোনো সফল পত্রিকা তা দিবে।

৭. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮
অাল অামীন বলেছেন: @ কারণ প্রথম আলোর কোনো প্রতিযোগী নেই। অদূর ভবিষ্যতে হবেও না।

অদূর ভবিষ্যৎটা কতদূর বলতে পারেন ভাই? আমার তো মনে হয় প্রথম আলোর অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসছে। অন্তত একচেটিয়া মিডিয়া ব্যবসা ও আর বাহাদুরী আর বেশিদিন করতে পারবেনা।
তবে আপনার সঙ্গে একমত, যে দৈনিকটি বাংলদেশকে আনেক কিছু নিয়েছে। বিনিময়ে এর মালিক ও সম্পাদকও বহু কিছু কামিয়ে নিয়েছে।
কিন্তু মিডিয়া তো আর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করা কোন বিষয় না যে, সারা জীবন জমিদারী করা যায়। এ দৈনিকটি যে ধরণের নানা ইস্যুতে ক্রমাগত নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাই কোন একটি ছোট ভুলেও তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় যে, অপরাপর দু'একটি দৈনিক মানের বিচারে প্রথম আলোর ধারে কাছে না থাকলেও পাঠক প্রিয়তার বিবেচনায় এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে প্রথম আলো দীর্ঘদিন ধরেই নির্দিষ্ট সংখ্যক পাঠকের পত্রিকা। এর সার্কুলেশন কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছেনা।
আর বিকল্প মিডিয়া তো আছেই। এগিয়ে চলছে সামহোয়ার ইন ব্লগ, এগিয়ে আসছে বিডিনিউজ২৪.কম, জন্মস নিচ্ছে নতুন নতুন অলটারনেটিভ মিডিয়া। যা শীর্ষ এ দৈনিকটির শীর্ষস্থান অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তাই কোন ভাবেই কেউ ভবিষ্যৎ বানী করবে পারে না, - "প্রথম আলোর কোনো প্রতিযোগী নেই। অদূর ভবিষ্যতে হবেও না"।

প্রথম আলো সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন একেবারে খারাপ হয়নি। তবে এর আর অনেক ভাল দিক আছে যেমন আছে তেমনি রয়েছে অন্ধকার দিকও।

(১. প্রথম আলো বোধহয় স্বাধীনতার পর প্রথম একটি সফল পত্রিকা যা কোনো রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয়, ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে প্রকাশিত হয় নাই। পত্রিকা দিয়েই পত্রিকার ব্যবসা করার উদ্দেশ্য থেকে এটি প্রকাশিত হয়েছিল।)
এ বিষয়ে আমার দ্বিমত আছে। তবে এখন আর বিতর্ক বাড়াচ্ছিনা। হয়ত অন্যকোন বন্ধু এ সম্পর্কে তার মতামত ব্যক্ত করবেন।

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫১

লেখক বলেছেন: আগামীতে প্রথম আলোকে সব দিক থেকে টক্কর দিতে পারে এমন পত্রিকা আসলে কি আসছে?
তবে প্রথম আলোর একচেটিয়া বন্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু বাজার তো ফাঁকা।

০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১০
তুহিন২৭ বলেছেন: প্রথম আলো কি দিছে কইতে পারুম না , তয় আলু ব্লগ বারে বারে ব্যান হওনের সুযোগ দিছে :(( :P
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮

লেখক বলেছেন: হাহাহা।

১০. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১১
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: যদি কোন কনস্পিরেসি থিউরি বিশ্বাস না করি (যেমন- প্রথম আলোর সাথে বিদেশী কোন গোষ্ঠীর গোপন আতাঁত আছে) তাহলে আপনার বক্তব্যের সাথে প্রায় একমত।
তবে সংবাদ প্রকাশে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮

লেখক বলেছেন: কনস্পিরেসি থিওরিটা বলেন না শুনি।

১১. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৩
হাসান শরিফ বলেছেন: ভালো লাগলো। সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভালো বর্ণনা। আমি আপনার সঙ্গে একমত। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় অজর্ন প্রথম আলো। যারা প্রথম আলোর বিরোধিতা করে তাদের বলছি-আমরাও চাই এর চেয়ে ভালো একটি পত্রিকা হোক। কিন্তু সেটি করে দেখানোর মতো যোগ্য লোক কি আছে? আমার মনে হয়, মতিউর রহমানের জীবদ্দশায় কেউ প্রথম আলোর বিকল্প বের করতে পারবে না। পারলে সেটি অনেক ভালো হতো।
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৩

লেখক বলেছেন: সহমত।

১২. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৯
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

কিন্তু ভাই, প্রথম আলো বিষয়ে আপনার কাছ থেকে সিরিজ লেখা আশা করতেছিলাম, যেমন যাযাদি নিয়ে আপনি সিরিজ দিয়েছিলেন । প্রথম আলোকে নিয়ে সিরিজ লেখার মতো সেরকম মেটেরিয়ালস কি নাই ?

অপেক্ষায় আছি :)
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪

লেখক বলেছেন: কত মেটেরিয়ালস। লিখুমনে সময় কইরা নেই।

১৩. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২০
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: Lekhar shathe motamuti ekmot , aar bhoitao thik shekhanei . Prothom alo demigod hoye boshche , er provaab chinno korar khomota hariye felche shobai . Manush ke agami dingulo te jodi regular tara ab-jaab wash korte shuru kore , shetar porinoti bhalo hobe na. Prothom alo kintu bangladesher national kichu issue te sposto vabei nekkarjonok obosthan niyeche . Desher khub kom manush i prothom alo ke topke onnanno khobor rakhe , emonki internet e je alada chintashil sreni gore uthche , shetar shongsporsheo khub kom lok i ashte pare . Tai , shikkhito srenir jonomot gothone prothom alor bhumika ekhon onek . Shei prothom alo jokhon tader brain wash kore onek news hide kore felche , bhoita tokhon i atonke rup ney ......
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৫

লেখক বলেছেন: আপনার মতামতটি খুব দরকারি। থ্যাংকস।

১৪. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪১
আলমগীর কুমকুম বলেছেন: প্রথম আলু একটি খ্যাত টাইপের ডেইলি ম্যাগাজিন, এটি কুণো সংবাদপত্রের সংজ্ঞার ভিত্রে পরে না।
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬

লেখক বলেছেন: হতে পারে। আপনার দৃষ্টি ভাল ডেইলি ম্যাগাজিন কোনগুলো?

১৫. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৯
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ভাল লেখা। আসলে উদাহরন এবং তার পর কম্পিটিশন তৈরি না হলে কখনই কোন সেক্টর ভাল হয় না। উদাহরন থাকলে অনেকেই সেরকম হতে চায়, তারপর অনেকে মাঠে নামলে কম্পিটিশন হয়। এভাবেই ঘোড়া দৌড়ায়।:)
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৭

লেখক বলেছেন: খবরের একচেটিয়া নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ।

১৬. ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৪৩
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: ভাল বিশ্লেষণ মাহবুব ভাই। পছন্দ হইছে। প্রিয়তে রাখলাম।
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৭. ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫০
সবাক বলেছেন:
ক'দিন পর যদি " সমকাল জাতিকে কি দিছে" এরকম লেখা পাই!!!
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৮

লেখক বলেছেন: খারাপ লাগে লেখা?

১৮. ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৪
ডিজিটাল দুষ্ট ছেলে বলেছেন: ১. প্রথম আলো বোধহয় স্বাধীনতার পর প্রথম একটি সফল পত্রিকা যা কোনো রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয়, ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে প্রকাশিত হয় নাই। পত্রিকা দিয়েই পত্রিকার ব্যবসা করার উদ্দেশ্য থেকে এটি প্রকাশিত হয়েছিল। এবং এটি সে কাজে সফল হয়েছে ৭. কিছু কিছু নীতির ক্ষেত্রে প্রথম আলো মোটামুটি স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পেরেছে।

দালালী আর কারে কই :) :) :)
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৯

লেখক বলেছেন: দ্বিমত প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ।

১৯. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: mahbub vai, apnar pura lekhata porlam .apnar kothagulir sathe khub beshi dimot korar gyan nai karon media line er pothghat chena nai. prothom alor rajnoitik dorshon er beparta amar mone hoy tara deshe ekta structured plattform gore tulte chay ebong tader sudurprosari plan hocche desher sob mathawala lokgulike tader majhe dhukano jara aro dos joner matha wash korte pare. orthat desher sob manusher shesh voroshashtol prothom alo. tader biruddhe kono sokti nai. ar dhoroner asonka tei tader sob contribution gulokey juta dan mone hoy , jekhane tara jutar binimoye goru jobay korar jaiga toiri korche.
Ar ha, prothom alo diyeche kichu vondo buddhijibi, jara prothom alor chayay nijederke mohiruho korte chay.
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২১

লেখক বলেছেন: এটা ঠিক। আপনার কথা মুনে মনে হইতেছে প্রথম আলো জাতিকে কী কী দেয় নাই এইটা নিয়া কোনো একটা লেখা লিখি।

০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪

লেখক বলেছেন: হুম।

২১. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬
লীনা দিলরূবা বলেছেন: প্রথম আলোর ভক্ত পাঠকের কাছে এমন লেখা অনেক শক্তির নাম।

(১ম সংখ্যা থেকে আমার কোন একটি দিন প্রথম আলো পড়া ছাড়া কাটেনি)
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৫

লেখক বলেছেন: বলেন কি?

২২. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৩
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: আলু গতচার মাস ধরে আর পড়ি না।প্রয়োজনও পড়ে না:)
আলুর মহা বিপ্লব ঘটলেও আলু পড়মু না!

নিউএজে বাসায় নিতেছি পড়তেছি তাতেই আমি সন্তুষ্ট!আলুর কোনো কিছুই নিয়া মাথা ব্যাথা নাই!
০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৫

লেখক বলেছেন: গুড জব।

২৩. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৮
লীনা দিলরূবা বলেছেন: হ্যাঁ এটা অনেকে বিশ্বাস করবেনা, কিন্তু এটাই সত্যি। কখনো ভুল করে হকার অন্য পত্রিকা দিয়ে গেলে আমি বাইরের দোকান থেকে পত্রিকাটি কিনে নিয়ে আসি, প্রথম আলোর মোটামুটি সব ইতিহাস আমার প্রায় মুখস্ত।
০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬

লেখক বলেছেন: বাহ। বেশ।

২৪. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৬
রোহান বলেছেন: লেখায় সহমত। কিন্তু আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে প্রথম আলোর মতো করে আর কেউ জাতিকে কতটুকু দিতে পেরেছে কিংবা পারছে? আদৌ পারবে কি?
০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬

লেখক বলেছেন: পারবে। অবশ্যই পারবে। কেউ না কেউ আসবে।

২৫. ২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:০১
রাজীব_নন্দী বলেছেন: বেশ উস্কানি সমৃদ্ধ, তথ্যবহুল, জনগুরুত্বপূর্ণ, সময়পোযোগী ও আগ্রহোদ্দীপক পোস্ট। লেখাটি মতামতের জন্য 'সময় দাবি করছে'। তাই অনিবার্য তাগিদে প্রিয়তে তুললাম। আশা করি আপনার এই গতি অবিচল থাকবে।

যাযাদি'র মূল্যায়নটা দেখতে আগ্রহী।

কালের কণ্ঠকে নিয়ে যদি কিছু বলতেন..
২৬. ২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৭
াহো বলেছেন: ধন্যবাদ।
২৭. ০৭ ই মে, ২০১১ বিকাল ৫:০১
ধূসরধ্রুব বলেছেন: আপনি বলেছেন অদূর ভবিষ্যতে সফল কোন পত্রিকা আসার সম্ভাবনা নাই । তাইলে তাইলে কিভাবে ৬ নং মন্তব্যে বললেন আগামী দিনে সফল কোন পত্রিকা তা দিবে ??? আমার মনে হয় প্রথম আলো তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে গেছে । প্রথম আলোই কিন্তু পত্রিকার স্ট্যান্ডার্ড একটা মান দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এটা স্বীকার করতেই হবে

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৮৮৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ