কবিতা লেখাই সবচেয়ে সহজ কাজ এই দুনিয়ার। তাই কবিতাই লিখি অবসরে। যতটুকু নিজের সময় ততোটকু অবসর। এখন তো আর ছন্দও জানা লাগে না। আলাদা চেয়ার টেবিল লাগে না। শুনেছি কাগজ-কলমও লাগে না তেমন করে। যা ভাবি, একটু ঘুরিয়ে সেকথা বলে দিলেই তো হয়ে গেল- কবিতা। তাই, যখনই সময় পাই- সোজা কথাগুলোকে ঘুরিয়ে ভাবি। অর্থাৎ কবিতা লিখি। একটা মানব শরীরের মতো করে কথাগুলো আকার পেতে থাকে চোখের সামনে। মানব শরীরে পোশাকের মতো, অলংকারের মতো পাক খায়, জড়িয়ে যেতে থাকে বাক্য। এখন আরও একটু আগানোর সময়। এই যে দেহ- মাত্র কিছু শব্দ যাকে পোশাক পরালো তাকে ভাবি মানবীর দেহ। কেননা, এভাবে ভাবলেই সুবিধা। সবার আগে নিজের সুবিধার দিকে দেখতে হবে।
তুমি যে বলো, তুমি যে ভাবো, তুমি যে দেখো- কবিরা এমনিতেই কোনো আয়াস ছাড়া লিখে ফেলে, একদিক থেকে কথাটা ঠিক। কেননা তুমি লিখে ফেলাটাই দেখো। তুমি তো বুঝো না সোনা, একেকটা শব্দ কত দেরি করে করে আসে। অতো দেরি করে মনে হয় মাঝে মাঝে তুমিও আসো না। শিশির জমিয়ে এক গ্লাস পানি বানাতে যতো দেরি হতে পারে ততোটা দেরি করে পুরো একটা কবিতার শব্দ আসে। ধরেন, আপনাকে তো আমি আপনিই বলি। লোকের সামনে তো দূরের কথা, একা একাও আপনাকে তুমি বলা অসম্ভব, তাই না? কিন্তু এই কবিতায় আপনিই কিন্তু তুমি হয়ে গেছো। তোমাকে তুমি ভাবতে ভাবতে এই কবিতা লেখার কথা আমি চিন্তা করেছি। এইটুকু ভাবতেও অনেক সময় লাগে। কবিরা শামুকের মতো অলস। দেরি করে ভাবে। আবার সামান্য একটা শব্দকেও কবিতা বলে ভুল হয় কখনো। এই যেমন, এই তুমিমার্কা কবিতা লিখতে লিখতে এরকমই মনে হচ্ছে আমার। মনে হচ্ছে, তুমি শব্দটা আমারই আশ্চর্য আবিষ্কার। মাত্র আমি বানিয়ে তুলছি শব্দটা। এইভাবে আর কেউ লেখে নাই। সেইভাবে দেখলে, কবিতা লেখা আসলেই খুব সহজ। একটু অপেক্ষা করতে হয়। কখনো কখনো অপেক্ষা অনেক দীর্ঘ হয়। এছাড়া আর বড় কোনো সমস্যা নাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



