পত্রিকায় কাজ করার সূত্রে ব্লাফ নামে একটা জিনিশের কথা শুনতাম। পত্রিকার ভেতরের পাতায় কী আছে তা নিয়ে প্রথম পাতায় যে বিজ্ঞাপন মতো বক্স ছাপা হয় এইটাকে ব্লাফ বলা হইতো। ব্লাফ (bluff) শব্দের অর্থ দেখি প্রতারণা। তাহলে বোধ হয় ব্লাফ ভুল উচ্চারণ। হতে পারে কথাটা blurb। পুস্তকের বহিরাবরণে প্রকাশক কর্তৃক যে প্রশস্তিমূলক কথা লেখা হয় তাকে বলা হয় ব্লার্ব। হতে পারে ব্লার্ব কথাটাই বিকৃত হয়ে ব্লাফ হিসেবে পত্রিকাগুলোতে চালু হয়েছে। পুস্তকের ব্লার্ব কার্যক্ষেত্রে পত্রিকাতেও ব্লার্ব হিসেবে অভিহিত হয়েছে। আমাদের দেশে অবশ্য ব্লার্বকে ফ্ল্যাপ বলা হয়। পকেট বা খামে যে আলগা অংশ থাকে তাকে বলা হয় flap। বাইয়ের প্রচ্ছদকে ফ্ল্যাপ বলার অভ্যাস সেখান থেকে আসতে পারে। ব্লাফ/ব্লার্ব/ফ্লাপ যাই হউক, আমার প্রকাশক বললো, আমার উপন্যাসের জন্য এইরকম একটা জিনিশ উনি দিতে চান। শুনে একটু আঁতকে উঠলাম। বললাম, আমার সম্পর্কে কিছু দিতে চাই না। প্রকাশক বলে, কিন্তু বই সম্পর্কে কিছু কথা না বললে পাঠক একটু চোখ বুলিয়ে ধারণা পাবে কেমন করে?
কথাটায় কিছু যুক্তি আছে। প্রচ্ছদ, বইয়ের নাম, লেখকের নাম দেখে লোকে কিনতে পারে। কিন্তু বই সম্পর্কে কিছু জানা থাকলে বোধ হয় সুবিধাই হয়।
বইয়ের কাজ এখনও বাকী। একদফা কারেকশন করে সন্তুষ্ঠ হতে পারি নাই। প্রুফ চলছে। আজকে মনে হয় প্রুফ ও প্রচ্ছদ পাবো। সব্যসাচী হাজরা প্রচ্ছদ শেষ করে এনেছেন বলে খবর পেলাম। প্রকাশক খন্দকার সোহেলের কথা অনুসারে একটা ব্লার্ব লেখার চেষ্টাও করছি। ব্লার্বটা তারই লেখার কথা কিন্তু সে নানা ঝামেলায় আমার ওপর কাজ চাপিয়ে বসে আছে।
কী লেখা যায় বই নিয়ে ভাবছি।
এতদিন যারা বইয়ের বিষয় নিয়ে জিজ্ঞেস করছেন সবাইকে বলেছি, বইটা সম্পর্ক নিয়ে। মানুষে মানুষে সম্পর্ক খুব পুরনো জিনিশ। এ নিয়ে লেখা সহজও বটে। আবার এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়ও বটে। আমার আগ্রহের বিষয় মানুষে মানুষে সম্পর্ক। শহরবাসী মধ্যবিত্ত। তাদের সম্পর্ক, যোগাযোগ, জটিলতা। তো, এ নিয়ে লিখতে লিখতে আমার উপন্যাসে ফেসবুক ঢুকে পড়েছে। লক্ষ করলাম শেষ পর্যন্ত ফেসবুক একটা বড় চরিত্র হয়ে নতুন এক জটাজালে উপন্যাসটাকে বেঁধে ফেললো। আমার কিছু করার থাকলো না। আমরা যারা ফেসবুকের বাসিন্দা তারা খুব ভাল করেই জানি। কত উপন্যাসের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়। কত সম্পর্ক আর কত তার মাত্রা। সে সব থেকে অল্প কিছু ব্যাপার নিয়ে কল্পনাকে গতি দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে এই সামান্য উপন্যাস হলো। প্রথমে ভেবেছিলাম উপন্যাসের নাম দেবো 'লিভিং ফেসবুক'। কী কী ভাবতে ভাবতে বাতিল করে দিলাম। পরে ভাবলাম নাম দেই 'জীবনযাপন ফেসবুক' সেটাও বাদ গেল। শেষ পর্যন্ত ফেস বাই ফেস নামটা দিলাম। আমরা যখন বই পড়ি তখন পেজ বাই পেজ পড়ি। আর যখন ফেসবুক পড়ি তখন ফেস বাই ফেস পড়ি। বাংলায় এর মানে হবে মুখের পর মুখ- পাতার পর পাতা।
ফেসবুক নিয়ে বাংলাদেশে অনেক নাটক হয়েছে টিভিতে শুনেছি। উপন্যাসও নাকি কয়েকটি আছে। কবিতা লেখা হয়েছে। হলিউডেও ফেসবুক নিয়ে সিনেমা বানানোর কাজ চলছে। এর মধ্যে আমিও একটা লিখলাম। কী হইলো কে জানে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

