somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সাবধানে কথা বলেন, Big brother is hearing u.... নাইনটিন এইটি ফোর আমি পড়ি নাই। এইটা নিয়া সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের একটা লেখা পড়ছিলাম। এখন ওয়েবে খুঁজে-পেতে কিছু ফ্ল্যাপ জাতীয় লেখলাম পড়লাম। আমাদের এক প্রতিথযশা লেখক কইছেন, ব্লগে যারা লেখে হেরা নাকি খালি ফ্ল্যাপ পড়া জ্ঞান ঝাড়ে। উনি আমার এই উল্লেখে খুশী হইতে পারেন। জীবনে মেলা আস্ত বই পড়ছি, কিন্তু ব্লগ করার অপরাধে বুদ্ধিজীবীরা আমাদের ফ্ল্যাপ পড়া লেখক কইতে চান। তাদের জন্য একটা রেফারেন্সের ব্যবস্থা করলাম। হ, ১৯৮৪ উপন্যাসের খালি ফ্ল্যাপই পড়ছি আমি। আর এখন এইটা নিয়া জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বলবো? কোনো অসুবিধা আছে?
১৯৮৪ উপন্যাসের ফ্ল্যাপ খুঁজতে গিয়া আজকে একটা তথ্য পাইলাম, জর্জ অরওয়েলের আসল নাম এরিক আর্থার ব্লেয়ার। আর তার জন্ম হইছিল ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার বিহারে মতান্তরে বাংলায়। এনিমেল ফার্ম (Click This Link) পড়ার সময় মেলা কিছু খিয়াল করি নাই। তখন বেশ সমাজতান্ত্রিক আছিলাম। তাই রাগে গরগর কইরা পইড়া গেছি অরওয়েলের সমাজতান্ত্রিক সমালোচনা। মজা পাইছি, হাসছি আবার ব্যথাও পাইছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাইনা নিছি জিনিশটা ভাল। সমাজতন্ত্রের সমালোচনা ভালই হইছে তাতে। যাই হউক কথা হইতেছিল ১৯৮৪ (Click This Link) উপন্যাস নিয়া। এই উপন্যাসও সমালোচকদের মতে, যথারীতি স্টালিনীয় মডেলের সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে। যেইখানে বিগ ব্রাদার নামে এক ব্যক্তি এমন এক ব্যবস্থা কায়েম করছেন যে, তিনি যে কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত চলাফেরা, কথাবার্তা ইত্যাদি দেখতে/শুনতে/পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। ফলে ওশেনিয়ার এয়ারস্ট্রিপ ওয়ান ঘটনাস্থল। এই রাষ্ট্র শাসিত হয় পার্টির দ্বারা। পার্টির নেতা রহস্যময় বিগব্রাদার। উনি সব কিছু দেখেন, শুনেন, জানেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ছাড়া ওনারে আর কেউ দেখতে পায় না। উপন্যাসের একটা লাইন বারবার রিপিট হয়েছে। বিগব্রাইজ ওয়াচিং ইউ। বড় ভাই আপনারে দেখতেছে। মানে সাবধান। বড়ভাইয়ের যন্ত্র আপনের সবকিছু রেকর্ড কইরা রাখতেছে। আপনের চলাফেরার সবকিছু তার নখদর্পনে। বলাবাহুল্য, বিগব্রাদারের অবাস্তব, ফালতু শাসন টিকায়ে রাখার অবলম্বন হইলো এই পর্যবেক্ষণ যন্ত্র। যা দিয়ে রাষ্ট্রের নাগরিকদের ভীতি-শঙ্কা ও অপরাধবোধের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। আর সেই ভীতির ফল হিসাবে বিগব্রাদাররা কোনো সমস্যা ছাড়াই শাসন অব্যাহত রাখতে পারেন। আপনাদের আরও মনে পড়বে, ক্রিস্টভ কিসলোস্কির রেড সিনেমার কথা। সেখানেও স্টালিনীয় শাসনের আভাস এসেছে। অরওয়েল-কিসলোস্কির আমলে সোভিয়েট বলতেই এমন বিগব্রাদারের শাসন বুঝাইতো। কিন্তু ওনারা যদি আরেকটু পরে জন্মগ্রহণ করতে তাইলে দেখতেন, পুঁজিবাদী মুক্তবিশ্ব কেমনে ওয়াচ করে। কেমনে বিগব্র্রাদারের ভূমিকা পালন করে। আর সর্বব্যাপ্ত নজরদারির জন্য তার সর্বশক্তি নিয়োগ করতে পারে।
টনি স্কটের দেজা ভু সিনেমাটা অনেকেই দেখছেন। সেইখানে অতীত কালে চইলা যাওয়ার একটা উপায় তৈরি হয়। নায়ক ঘটনার মধ্যে ঢুকে একটা খুন বন্ধ করার জন্য সেই উপায় ব্যবহার করে। সেইখানে দেখানো হয়, একজন নারীর খাসকামরার ব্যক্তিগত কাজকর্ম পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডারে রেকর্ড হয়া আছে। আপনাদের কি ধারণা? এইটা ফিকশন?
দেজা ভু যারা মিস করছেন তারা হয়তো টুয়েনটিফোর (http://en.wikipedia.org/wiki/24_(TV_series)) দেখছেন। রাষ্ট্রীয় একটি বাহিনী আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কেমনে তার নাগরিকদের ওপর নিশ্ছিদ্র নজরদারি কায়েম করতে পারে তার সবচেয়ে ভাল উদাহরণ ২৪। এই সিরিয়ালটা বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায়। কিনে দেখতে পারেন চাইলে। এটা ফিকশন বটে। কিন্তু এতে ঘটে যাওয়া অনেক কিছুই সম্ভব। স্যাটেলাইট ইমেজ, রাস্তার ট্রাফিক ক্যামেরা, লাইটে পোস্টের ক্যামেরা এটা সেটা দিয়ে যে কাউকে তো লিভিং রুম পর্যন্ত অনুসরণ করা সম্ভব। গুগল ম্যাপ দেইখা প্রথম দিন এই কারণেই টাসকি খায়া গেছিলাম।
যাই হউক, ঘটনা হইলো। স্টালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন নাই। তার পতনের আগে থেকেই আমেরিকা বা পাশ্চাত্যের দেশগুলাতে নাগরিকদের ওপর নজরদারি ছিল। নজরদারির ভিত্তিতে তারা কাজ চালাইতো। কিন্তু সেইখানে বিষয়টা সোভিয়েট ইউনিয়নের মতো নোংরামির পর্যায়ে যায় নাই। নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনে তারা নজর দিয়েছে কিন্তু হাত দেয় নাই। তেমন নজির কম। প্রায় পাওয়াই যায় না।
কিন্তু টুইনটাওয়ার হারানোর পর আমেরিকার মাথা গরম হয়া গেছে। শুধু আমেরিকা-ইউরোপ না সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধের হুংকার দিয়া তারা প্রায় সবার মাথা নষ্ট কইরা দিছে। সন্ত্রাস দমনের জন্য তারা বহু আইন পাশ করছে, নাগরিক অধিকারে হাত দিয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থায় তারা হস্তক্ষেপ করার অধিকার নিয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যক্তি তথ্য ও যোগাযোগের তথ্য আদালতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে বইলাও বিধান তৈরি করছে। ইন দ্য নেম অফ টেরর, আমেরিকা সারা পৃথিবীতেই তথাকথিত স্টালিন রাজ তৈরি করতে উদ্যত। এখন আপনাদের জিগাই, সমাজতন্ত্রের নামে শুধু সোভিয়েটে এইরকম শাসন তৈরি করার দায়ে স্টালিনকে গালি দিলাম কেন এতদিন তাইলে আমরা?
আমেরিকায় যখন এই পরিস্থিতি তখন বাংলাদেশে কী হবে? সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের আমরাও বিশাল অংশীদার, সহমর্মী ও সহভাগী? আমরা না আমাদের শাসকরা? যাই হোক, পাকিস্তান যখন নাকি আফগানিস্তানের সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে জড়ায় তখন কোনো এক কামেল ব্যক্তি কইছিলেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের যুদ্ধরে নিজের দিকে টানতেছে। এখন তো দেখা গেল তাই। আফগানিস্তানের যুদ্ধ পাকিস্তানে ছড়ায়ে পড়ছে।
সো, আমেরিকার সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ মানে অন্যের যুদ্ধ নিজে করা। নিজের যুদ্ধ নিজেকে নিজের পদ্ধতিতেই করতে হবে। অন্যের যুদ্ধ কইরা লাভ নাই।
আমেরিকার যখন এই অবস্থা তখন বাংলাদেশে নাগরিকদের ওপর নজরদারির কী হাল?
পাকিস্তান আমল থিকাই নাকি গোপনে টেলিফোন কল রেকর্ড হয়, সেই রেকর্ডের ভিত্তিতে অপারেশন হয়। কিন্তু মামলা হবে কেমনে? কারণ টেলিফোন কল রেকর্ড করাই তো অবৈধ। অসাংবিধানিক। ফলে, এক কারণে অন্য মামলা।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই কলরেকর্ড নজরদারি কমে নাই। বেড়েছে। শাসকরা নিজেদের দরকারে নজরদারির প্রয়োজনে ব্যাপারটা বাড়াইছে। সামরিক শাসন আমলে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যোগাযোগ ও প্র্রাইভেসি রক্ষার স্বাধীনতার কথা শোনা যাইতো। এখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আইসা ঠেকছে কর্পোরেট মতপ্রকাশের স্বাধীনতায়। যোগাযোগ ও প্রাইভেসি রক্ষার স্বাধীনতার কথা শুনা যায় না। বিদেশীরা এখন এইসবরে চাইতে কপিরাইটের অধিকার নিয়া বেশি চিন্তিত। কারণ, সমাজতন্ত্র-বিরোধীতার বিজনেস শেষ। এখন বিজনেস ঘুইরা গেছে গা।
ঘটনা এইখানে আইসা দাঁড়াইলো যে, ছয়মাসের জন্য নাকি মোবাইল ফোনের কথাবার্তা মেসেজ রেকর্ড কইরা রাখা হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীদের তথ্য সংরক্ষণ করবেন, ভাল কথা। অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করবেন, সেটাও ভাল কথা। কিন্তু তাই বলে, সবাইরে সন্দেহের মধ্যে ফেইলা রেকর্ড করা? আজিব ব্যাপার? বাংলাদেশে কি এই আইন হইছে নিকি যে, এই তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা যাবে? ফোনের কথাবার্তা, ইমেইল চ্যাট বৈধ আলামত হিসাবে ব্যবহার করা যাবে?
না এই সরকারকে দোষ দেয়ার কিছু নাই। এনারা এইসব ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমল থেকেই উদ্যোগগুলা আগাইতেছে। বিএনপি এইগুলারে আরো পাকাপোক্ত করছে। কিছু আইন করছে। এই সরকার কিছু করছে।
ধীরে ধীরে ব্যাপারগুলা রূপ পাইতেছে।
কিন্তু এর মধ্যে সমস্যা অন্যখানে। এই বিষয়গুলা নিয়া না দেখি কোনো কভারেজ। না দেখি কোনো কথাবার্তা। না দেখি কোনো বিচার-বিশ্লেষণ। তাইলে তো ঠিকই আছে, কী বলেন?
যে দেশে নাগরিকদের মধ্যে এইগুলা নিয়া মাথাব্যথা নেই। সে দেশে নজরদারিতে কোনো অসুবিধা তো থাকার কথা না।
কিন্তু এই কথাটা মনে রাইখেন,
সাবধানে, সমঝে কথা কইয়েন। বড়ভাই কিন্তু সব শুনতেছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28835914 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28835914 2008-08-28 13:51:26
একটা লিঙ্ক আর একটা প্রশ্ন http://amarblog.com/sushantaa/6036

আর একটা প্রশ্ন। বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলার ফোনকল ও মেসেজ রেকর্ড নিয়া ব্লগে কারা কারা পোস্ট দিছিলেন মনে আছে? সামহয়ারের বাইরে কোথাও কোনো পোস্ট পড়ছে?
কেউ কি লিঙ্ক দিতে পারেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28834846 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28834846 2008-08-25 17:58:06
কবিতা লেখলে সমস্যা কোথায়? ব্লগে বহু মানুষ বহু রকম কবিতা লেখতেছেন শুরু থেকে। এই নিয়া জোরালো কোনো কথা উঠে নাই। বরং ব্লগে কিছু সার্কাস দেখা গেছে। এইখানে সেরা কবি নির্বাচনও হইছে। যে নির্বাচনে অপাঠ্য, অশ্রাব্য কবিদের কবিতা সেরা বইলা গণ্য হইছে। অথচ বাংলা ভাষার সাম্প্রতিক কালের সেরা কয়েকজন কবি এইখানে তখন ব্লগিং করতেছিলেন। অবস্থা দেইখা মনে হইতেছিল কবিদের মাৎস্যান্যায় কায়েম হইছে। যেইখানে ছোট কবিরা দল বাইন্ধা বড় কবিদের খাইতে উদ্যত। বড় ও ভাল কবিরা এখনও এইখানে ব্লগিং করেন। তারা নীরবে কবিতা দেন। বড় জোর ৫০-৮০ জন পাঠক পড়ে। আমরা নীরবতা দিয়া তাদেরকে এড়ায়ে যাই। অন্যদিকে ছোট কবিদের কবিতায় ঝাঁকে ঝাঁকে কমেন্ট পড়ে। সরবতা দিয়া আমরা ছোটরে বড় কইরা তুলছি।
ব্যাপার এমন দাঁড়াইছে যে, বাংলাভাষার অনলাইন মাধ্যমের প্রতিনিধিত্বশীল একটা জায়গায় কবিতা বলতে যা পোস্ট করা হইতেছে, তার অধিকাংশই কবিতা পদবাচ্য হইতেছে না। ব্লগের কবিতারে কবিতা হইতেই হবে এমন তো কথা আছিল না, কেউ হয়তো কইতে পারেন।
হ কথা সত্য। ব্লগের লেখার স্টাইলই আলাদা। ব্লগে দেখলাম, লোকে ডায়রিও কবিতার মতো কইরা লেখে। প্রেমপত্রও ইনায়ে বিনায়ে কবিতা হয়া যায়। মন খারাপ হইলে কি মন ভাল হইলেও লোকে সেইটা কবিতা আকারে প্রকাশ করে। বাঙালির এলানো স্বভাবের কারণে স্বাভাবিকভাবে তার প্রতিদিনের বাক্যগুলাও এলায়ে যায়। সাধারণ কথা কবিতা হয়া উঠতে চায়। এখন সেই কথা/কবিতাগুলারে কবিতা হিসাবে না পড়লেই হয়। কিছু ব্যক্তিগত অনুভুতি হিসাবে পাঠ করি না কেন আমরা।
এইখানকার
কোনো কবি তো কয় নাই যে,
ভাইটি, দেখেন আমি একজন মহাকবি হইছি
আমারে আপনেরা স্বীকৃতি দেন।
অমুক তমুক।
তাই না?
লোকে মনে আনন্দে কথা লেখতেছে।
কিছু কথা কবিতার মতো কইরা
সাজায়ে পরিবেশন করতেছে।
আমি এইটার মধ্যে কোনো দোষ দেখি না।
আমি চাই কবিতা লেখা চলতে থাকুক।
এখন বিষয় হইলো, ব্লগে যারা ভাল কবিতা পড়তে চান, তারা কবিতা লিখার বিরোধিতা করতে পারেন কি না। আমার মতে পারেন না। আপনেরা ভাল কবিতা নিয়া আলোচনা করেন। ভাল কবিতা কোনটা দেখায়ে দেন। ভাল কবিতা কেমনে হয় সেইটা কন। যারা লেখতে পারলো না, তারা কি লেখবে না আর? লেখবে। অবশ্যই লেখবে। ব্লগের হাজার কবির মধ্য থিকা একজন যদি ভাল কবি হবার বাসনা পোষণ করে ভালো লেখে তাইলেই তো ব্লগ স্বার্থক হয়া গেল। কিন্তু কোনো একটা ফর্মে মতপ্রকাশ করা যাবে অন্য ফর্মে যাবে না। এইটা আমি মানতে পারলাম না।
তবে খারাপ কবিদের জানতে হবে যে কবিতা লিখা শিখতে হয়, পড়তে হয়, জানতে হয়। কবিতার ইতিহাসের মধ্যে থাকতে হয়। স্বতস্ফূর্ত আবেগই কবিতা নয়। খালি দল ভারি কইরা কমেন্ট জোগাড় করলে কবিতা ভাল হয়া যায় না। ছোট কবিদের এই মাৎস্যানায়ের বিরুদ্ধে কথা চালাইতে হবে।
সবই চলুক। লেখতে লেখতে। কথা খারাপ লাগলে ওয়াজ দিয়েন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28834269 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28834269 2008-08-24 12:14:38
বিশেষণে ভারাক্রান্ত সেলিম আল দীনের জন্মোৎসব Click This Link) দিছিলাম সামহয়ারইনে। আমাদের নেয়া তার একটা সাক্ষাৎকার আছিল। সেইটা ব্লগে, পত্রিকায় দিছিলাম। এইসব লেইখা, ছাপায়া ভাবছিলাম আর আমার বলার কী আছে? স্যারের সম্পর্কে নতুন কইরা এখনি কিছু বলার নাই। পরে যখন স্মৃতি তৈরি হবে। যখন অভিজ্ঞতা হবে তখন মিলায়ে মিলায়ে দেখে স্যারকে নিয়া কিছু বলবো। মানুষের মৃত্যু হলে নাকি মানব থেকে যায়। সেলিম আল দীনের মৃত্যু হইলেও মানব রয়ে গেছে। মানবোত্তীর্ণ না হইলে খোলা মনে কিছু বলা যায় না। আমি তার দেহান্তরের পর মানবান্তরের অপেক্ষায় আছি কিছুদিন।
কিন্তু কিছু বিষয় নিয়া কথা না কইলে শান্তি পাইতেছি না।
স্যার খুব প্রশংসা পছন্দ করতেন। প্রশংসা নিয়া তার ভীষণ অবসেশন আছিল। তার কোনো লেখা না পড়া কোনো নাটক না দেখা কোনো ব্যক্তি যদি এমনিতেই এসে তার প্রশংসা করতো তাইলেও তিনি বর্তে যেতেন। উনি জীবনে বহু জিনিশরে চ্যালেঞ্জ কইরা বসছেন। কিন্তু প্রশংসারে কোনোদিন প্রশ্ন করছেন বইলা আমি দেখি নাই। আলতু-ফালতু প্রশংসায়ও তিনি ভীষণ রকম মুগ্ধ হয়া যাইতেন। স্যারের দুর্ভাগ্য জীবিত কালে উনি যত প্রশংসা পাওয়ার কথা ছিল ততোটা পান নাই। এখন যদি দেখতেন তাইলে খুব খুশী হইতেন। প্রশংসার পাশাপাশি আরেকটা জিনিশ তিনি খুব পছন্দ করতেন, সেইটা হইলো উপাধি ও বিশেষণ। রবীন্দ্রপরবর্তী নাটকের উজ্জ্বলতম উত্তরাধিকার, নাটকের কবিগুরু এইরকম কিছু বিশেষণ তার জীবিতকালেই চালু হইছিল। তবে স্যার যে জিনিশটা খুব চাইতেন সেইটা হইলো, কেউ তারে কবি বলুক। বহু বিশেষণ তিনি পাইলেও কারো মন থিকা কবি কথাটা শুনেন নাই বইলা তার একটা আক্ষেপ আছিল।
স্যারের মৃত্যুর পর মরদহের সাথে সাথে তাকে নিয়ে আমাদের মনের সকল গ্লানি, অভেযোগ অমুক-তমুক আমরা কবর দিয়া ফেলছি। তাকে সম্মান সহকারে বিদায় দিছি। সামনে তার লেখা আছে। সেইগুলা নিয়া কোনো একদিন ক্রিটিকাল আলোচনা শুরু হবে সেই অপেক্ষায় আছি। কিন্তু পরিস্থিতি দেইখা মনে হইতেছে সেইটা সুদূর পরাহত। সেলিম আল দীনকে কবর চাপা দেওয়া হইছে মাটি দিয়া। আর তার রচনাবলীরে কবর দেওয়ার কাজ চলতেছে বিশেষণ দিয়া। আশপাশে সেলিম আল দীন কাল্টের উদ্ভব হইতেছে। সেলিম আল দীনের নামে পাঠচক্র শুরু হইছে। ভাল উদ্যোগ। তাকে আচার্য, নাট্যাচার্য এইসব উপাধি দেওয়া হইতেছে। সাহিত্যে পদ-পদবির কোনো স্থান নাই। আচার্য মানে বাংলা নাটকে কোনো পোস্ট ক্রিয়েট হইছে কি না তাও আমি শুনি নাই। আমি এইসব দেইখা একেবারে তব্দা মাইরা গেছি। হুমায়ুন আজাদ কইছিলেন, এই জাতি হইলো মুর্খের জাতি। এদের যদি কন, আপনে কিছু না। তাইলে এরা বিশ্বাস করবে আপনে কিছু না। আবার যদি কন, আপনে মহাজ্ঞানী। তাইলে এরা একদিন আপনের সাথে সাথে আপনারে মহাজ্ঞানী কওয়া শুরু করবে। সেলিম আল দীনকে মুর্খরা যখন বিশেষণের কবরে শায়িত করতেছে তখন আমার হুমায়ুন আজাদের কথা মনে হইলো। সেলিম আল দীনকে নিয়ে যে মন্দির গড়ে তোলার কাজ চলতেছে, সেই মন্দিরে তার মূর্তি স্থাপনের আগেই তাকে আমাদের বইয়ের তাকে নামায়ে আনতে হবে।
পূজারিদের প্রতি অনুরোধ, আপনেরা থামেন। আসেন কিছু কথা, তর্ক, আলোচনা হউক। মানুষরে বিশেষণ দিয়া বুঝা যায় না। বিশেষণ ছাড়া আলাপে আসেন।

ছবি : ফেসবুকের ড্রামা অ্যান্ড ড্রামাটিক্স গ্রুপ থিকা অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলাম। উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজনে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28833960 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28833960 2008-08-23 14:59:38
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট : বোমা কি বাংলাদেশে ইতিহাস হয়ে গেছে? আমি সে রাতে মানুষের মুখ দেখেছি অনেক। সে কী ভাবছে তা বোঝার চেষ্টা করেছি অনেক। দেখেছি, তালগোলপাকানো একেকটা মানুষ, শুধু ফিরতে চাইছে। তাড়াহুড়া করে শুধু ফিরতে চাইছে।
প্রথম আলোর ২১ আগস্ট নিয়ে আয়োজন পড়লাম আজ। ২১ আগস্ট কি ইতিহাস হয়ে গেছে? স্মৃতি হয়ে গেছে? নিশ্চিত হতে পারলাম না। এই তো সেদিনও কোনো ভীড়ের মধ্যে ঢুকলেই প্রচণ্ড ভয় হতো। মনে হতো এই ভীড়ের মধ্যে মৃত্যু ওঁৎ পেতে আছে। গ্রেনেড হাতে। এখন কি সেই গ্রেনেড হাতের মৃত্যুকে আমরা মেরে ফেলেছি। পেরেছি কি? আমাদের জানা নেই। একটাই শুধু কামনা, ওই অসম্ভব ভীতি, উৎকণ্ঠা নিয়ে আর সচকিত হয়ে চলতে চাই না।
একটা জিনিশ বিশেষভাবে মনে আছে, ২১ আগস্ট কেউ প্রতিবাদ করেনি। ভয়ে সবাই কোথাও ফিরতে চাচ্ছিল। যেখানে হয়তো নিরাপত্তা আছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28833189 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28833189 2008-08-21 15:11:42
কলিগ একটা গল্প কইলো, আমি হাসতে হাসতে কইলাম 'অশ্লীল' আমার এক বন্ধু আছিল ভীষণ চাপাবাজ। প্রতিদিন নিত্যনতুন চাপা পিটাইতে ওস্তাদ। তার চাপার বহর এমনই যে, পিটাইতে পিটাইতে ভুইলা যায় কী কইতেছিল। তো সে একবার সুন্দরবন ঘুইরা ফিরা আসছে। আইসাই আমার কাছে চাপা পিটাইতে বসছে। কয়, বস, হেভি মজা হইলো সুন্দরবনে। সিন দেখলে আপনের ঘুম হারাম হয়া যাবে। সিনটা বড় কথা না। বড় কথা হইলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তবে ভাগ্য খারাপ অল্পের জন্য টাইগার দেখতে পারি নাই। টাইগারের পায়ের ছাপ দেখছি। যাই হউক, এই ট্যুরের মোস্ট ইম্পর্টেন্ট পার্ট হইলো আমাদের হরিণ শিকার। যাওয়ার সময় একটা ছোট শটগান নিয়া গেছলাম।
একদিন বনের মধ্যে ঘুরতেছি, ফিরতেছি। হঠাৎ দেখি বাদাবনের আড়ালে এক ঝাঁক হরিণ ঘাস খাইতেছে। হরিণ খুব সজাগ প্রাণী। শিকার করা কঠিন। আস্তে করে শটগান বাইর কইরা শুট করলাম। আপনে বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, এক গুলিতে একটা হরিণ পইড়া গেল। ঝাঁকের অন্য হরিণগুলা দে ছুট। কাছে গিয়া দেখি বিশাল হরিণ। এখন এই বিশাল হরিণ নিয়া কী করি? আস্ত এইটারে টাইনা নেওয়া তো একার পক্ষে সম্ভব না। আবার মাংস খাওনেরও খায়েস মনে। কী করি কী করি চিন্তা করতে করতে সিদ্ধান্ত নিলাম। সবচেয়ে টেস্টি আর মাংসল পা দুইটা কাইটা নেই। ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে পা দুইটা কাইটা দুই কাঁধে নিলাম।
এর মধ্যে কলিগের ফোন বাজতে শুরু করলো। স্যরি কয়া বন্ধু ফোন ধরতে গেল। মনে হয় কোনো গার্লফ্রেন্ডের ফোন। অনেক্ষণ ধইরা ইনুনি-বিনুনি কথা কইতে থাকলো। পাক্কা আধাঘণ্টা পর ফিরে আসলো। আমি জিগাইলাম, তারপর কী হইলো?
বন্ধু কয়, কই জানি আছিলাম?
আমি কই, ওই যে দুই পা দুই কান্ধে নিলেন।
বন্ধু কয়, তারপর আর কী? হট আছিলাম, শুরু কইরা দিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28832739 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28832739 2008-08-20 12:37:20
আরও অনেক মোশাররফ আছে এর মধ্যে কত ঘটনা ঘটলো।
ইফতেফার আহমেদ চৌধুরী বরখাস্তও গৃহবন্দী হলেন।
বেনজির ভুট্টো ফিরলেন। ফেরার পথেই তার গাড়ি বহরে হামলা হলো।
নওয়াজ শরিফ ফিরলেন।
বেনজির গুপ্ত ঘাতকের হাতে নিহত হলেন।
মোশাররফ সেনাবাহিনী প্রধানের পদ ত্যাগ করলেন।
আশফাক কায়ানী সেনাপ্রধান হলেন।
নির্বাচন হলো। বেনজিরের দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি জয় পেল।
ঐতিহাসিক কোয়ালিশন সরকারের ঘোষণা এলো মুসলিম লীগ ও পিপিপির সমন্বয়ে।
মুসলীম লীগ মোশাররফকে সরানো ও বিচারপতিদের পুনর্বহালের ইস্যুতে কোয়ালিশন থেকে সরে এলো।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করে এলেন। অভিশংসনের প্রস্তুতি নেয়া হলো।
এবং মোশাররফ পদত্যাগ করলেন।
ঘটনাপ্রবাহ তো বলে মোশাররফকে সরে যেতেই হতো। পৃথিবীর বহু দেশে দুই টার্মের বেশি কেউ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না সাংবিধানিকভাবে। জেনারেল মোশাররফ ক্ষমতা নেন ১৯৯৯ সালে। ২০০৮ সালে তো তার ক্ষমতার ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। এত দীর্ঘ সময়ে তার সরে যাওয়াকে কোনো ভাবে পরাজয় তো বলা যায় না। কিন্তু মোশাররফের জন্য এটা পরাজয়ই বটে। কারণ পাকিস্তানের মসনদে তার প্রয়োজন ফুরায়নি।
হয়তো আন্তর্জাতিক স্বার্থের কারণে তার আরও কিছুদিন থাকা পড়তো। কিন্তু নওয়াজ শরিফের উত্থান তা কষ্টকর করে তুলেছে। পিপিপি তো শেষ পর্যন্ত সমঝোতাই চেয়েছিল। কিন্তু নওয়াজ খুব কড়া ভূমিকা পালন করেছেন। মোশাররফ পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের লোক। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-ইসরাইলের স্বার্থের প্রতিভূ। তিনি গত নয় বছর ধরে এই স্বার্থ রক্ষা করেছেন। যত ভাবে পেরেছেন, অবদান রেখেছেন। কিন্তু তারপরও চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত হয় নাই।
মোশাররফ এসেছিলেন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রস্তুতির চূড়ান্ত সময়ে। তার সক্রিয় সমর্থনে ও সহযোগিতায় আফগানিস্তানে ন্যাটোর অভিযান পরিচালিত হয়। আফগানিস্তান বেদখল হয় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। সেখানে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ন্যাটো বাহিনীর জয়ে এখন ক্ষয় ধরেছে। নতুন করে তালেবানরা সংঘটিত হচ্ছে। পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশ তো বটেই, মেইন ল্যান্ডে পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের আগাগোনা বেড়েছে। আফগানিস্তানের যুদ্ধ এখন শুধু আফগানিস্তানের ব্যাপার না। পাকিস্তানেরও ব্যাপার। ফলে, পরিস্থিতি বেশ প্যাঁচ খাইছে।
মোশররফ আর বুশ এই যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করা ছাড়া কোনো সমাধান দিতে পারেন নাই।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের পাকিস্তান রাষ্ট্রের কমান্ডার ইন চীফ এখন পরাস্ত। নিশ্চয়ই নতুন কমান্ডার খুঁজবে তারা। কারণ সিভিল সরকারের ভেতর থেকে তেমন আস্থাভাজন কমান্ডার তারা কখনোই পাবে না। চিন্তা নাই। পাকিস্তানে গণতন্ত্র তাদের মাথাব্যথার বিষয় না। তাদের মাথাব্যথা আফগানিস্তান আর ইরাকের গণতন্ত্র নিয়ে। সো, পাকিস্তানে সাধারণ মানুষ, কোর্ট-কাচারির কী হইলো সেটা ইস্যু না। ইস্যু হইলো দে নিড এ নিউ কমান্ডার ইন পাকিস্তান সেক্টর। কে তিনি?
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রচুর রাষ্ট্রপ্রধান তৈয়ার করছে অতীতে। সেখান থেকে কাউকে না কাউকে তো পাওয়াই যাবে।
এক মোশাররফ গেছে তো কী হইছে। আরও অনেক মোশাররফ আছে।



পাকিস্তান নিয়া আমার লেখা ব্লগ :
Click This Link
Click This Link
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28832303 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28832303 2008-08-19 13:40:29
যারা ব্লগস্পটে ব্লগিং করেন তাদের জন্য রাশেদের দুইটা লেখা http://amarblog.com/rashed/5017
http://amarblog.com/rashed/5207

আমার ভাল লাগলো তাই শেয়ার করলাম। ভীষণ কাজের জিনিশ। রাশেদকে আরও কিছু টিউটোরিয়াল দেয়ার অনুরোধ জানাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28831877 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28831877 2008-08-17 17:05:28
মেঘনাদের দেয়া লিঙ্ক থেকে কেউ কি ইউটিউবে গেছিলেন? Click This Link)। এর আগে জুনায়েদ সাকীকে নিয়ে একটা পোস্ট দুইবার দিছিলেন। (Click This Link)। আমার ধারণা তিনি আরও বেশিবার দিছেন বা দিতে চেয়েছেন। রাজনৈতিক দলের কর্মী/নেতা হিসাবে তিনি ব্লগের মধ্যে তার প্রিয় নেতাদের ভাবমূর্তি নির্মাণের চেষ্টা করতেছেন দেইখা ভাল লাগলো। তার সফলতা কামনা করি।
আমার ইউটিউব দেখার মতো এন্তেজাম নাই। নইলে আমিও তার পোস্ট থেকে ভিডিও দেখতাম। কিন্তু কেউ কি জানাইতে পারেন, এই আলোচনা কেমন হইছে?
মেঘনাদ একবার কইছেন আবুল হাসান রুবেলের জমজমাট আলোচনা, আরেকবার কইছেন বিধ্বংসী আলোচনা। এই শব্দ বদলের বিষয়টা আমি বিশেষভাবে খেয়াল করলাম।
আমার প্রশ্ন হইলো গণসংহতি নেতা আবুল হাসান রুবেল তাত্ত্বিক ও পণ্ডিত আজফার হোসেনের সামনে এনটিভির একটা অনুষ্ঠানে বিধ্বংসী আলোচনা কি করতে পারেন?
আলোচনা কেমনে বিধ্বংসী হয়? আলোচনা কোন কোন বিষয়কে ধ্বংস করার তাকদ রাখে?
আরেকটা প্রশ্ন, এনটিভিতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আলোচনা চলতেছে কেমনে? ফালু ভাইয়ের অবর্তমানে এনটিভি কি তাইলে বামপন্থীরা দখল কইরা নিলো?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28830426 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28830426 2008-08-13 13:45:14
আজ : সুমনকুমার দাশের জন্য তাই আজ আজ নিয়েই লিখছি। একটি প্র্রিয় কবিতা হওয়ার জন্য বড় সংক্ষিপ্ত হওয়া দরকার কবিতার তার চেয়ে কিছুটা বড় আজ। ৩২০ লাইনের কবিতাটা কণ্ঠস্থ করার বাসনা থেকে বহুবার আমি এটা পড়েছি। সফল হইনি। কিছুটা কণ্ঠস্থ ও কিছুটা আত্মস্থ করে রেখে দিয়েছিলাম। আজ আবার সামনে মেলে ধরলাম।
আজ কবিতার লক্ষ্য মৃত্যু, মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিত্রান বা নাজাতের যে ধারণা তার সঙ্গে জীবনানন্দের ডিবেট। এবং মৃত্যুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক অনুসন্ধান। জীবনের প্রতি লিপ্ত থেকে মুত্যুকে মোকাবিলা করার প্রতিজ্ঞা। কবি এইখানে নাজাতের রাস্তা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জীবনকে ক্লেদ, কর্দম, প্রেম ও কাম সহকারে যাপন করার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন। ঊনিশ শতকের এনলাইটমেন্টের ফলাফলের মধ্যে বেড়ে ওঠা কবি জীবনাননন্দের মনে কেন এই সংকল্প, প্রশ্ন ও প্রতিজ্ঞা তৈরি হয়েছিল সেটা চিন্তা করে আমি ভীষণ অবাক হয়েছি। পরিপ্রেক্ষিতটা একটু মনে করা যাক। ঊনিশ শতকের আলোছায়ায় পরিপূর্ণতা পাওয়া কলকাতার চিন্তা ও চেতনা মূল সুরের মধ্যে, তার সমস্ত নির্যাস আত্মস্মাৎ করে জীবনানন্দ কবি হয়েছিলেন। ভারতীয়, বঙ্গীয়, বরিশালী চেতনা তার মধ্যে কাজ করেছে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুই চেতনার মিথষ্ক্রিয়ায় তার কবিতা তৈরি হয়েছে। মিথষ্ক্রিয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে দেখি যে সংঘর্ষের চাইতে সংশ্লেষই বেশি। পারিবারিকভাবে তারা ব্রাহ্মসমাজের সদস্য, যে ব্রাহ্মসমাজ তৈরি হয়েছিল হিন্দু সংস্কৃতির একেশ্বরবাদী নির্যাস থেকে, কিছুটা উপনিবেশ ও কিছুটা খিস্টীয় প্রভাব থেকে। এরকম একটা পরিস্থিতিতে খ্রিস্টীয় নাজাত ও যিসাসের জীবনের মূল সুরের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার মতো চেতনা অর্জন করা ওই সময়ের একজন ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব ছিল। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার আছে। আজ কবিতার বহুপাঠে এটা সহজবোধ্য হয় যে, জীবনানন্দ সেই সময় এনলাইটমেন্ট, উপনিবেশ ও ক্রিশ্চিনিয়াটির মধ্যে একটা সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন। আর এর বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য যে ধর্মপদ্ধতির সঙ্গে নিজের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন তার নাম পেগানিজম। ধর্ম সংঘাতের এক ঐতিহাসিক সূত্রের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন। নিজের হিন্দুত্বের সঙ্গে পেগানিজমের সাদৃশ্য থেকে তিনি নিজেকে পেগান বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
মনে পড়বে, তিনি এক জায়গায় বলেছিলেন, 'কাফিরের ছেলে আমি...।' আর আজ কবিতায় তিনি বলছেন, 'বধির নরক, শোনো, আমি এক অধীর পেগান।' শুধু নাজাত বা পরিত্রাণের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি তার ভাষ্য রচনা করছেন না। পেগানদের সঙ্গে খ্রিস্টানদের ঐতিহাসিক সংঘর্ষের রেফারেন্স দিয়ে রীতিমতো একটি ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন। এবং এই ধর্মযুদ্ধে মূর্তিপূজক হিন্দুর ভাই মূর্তিপূজক পেগান। যারা খ্রিস্টানদের দ্বারা পেগান বলে আখ্যায়িত, পেগান শব্দের অর্থ সাধারণ গ্রামীন মানুষ। তুচ্ছার্থে এই মানুষদের ধর্মকে চিহ্নিত করতে পেগান ধারণাটির উদ্ভব। শুধু গ্রিস নয় বিশাল একটি প্রাচীন ধর্মব্যবস্থাকে একত্রে পেগান বলে আখ্যায়িত করা হয়। হিদেন, কাফির, পেগান প্রায় সমার্থবোধক শব্দ। মুখ্যত এই পেগানিজমকে পরাভূত করেই আব্রাহামের উত্তরসুরিদের ধর্মগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু পেগানদের বিরুদ্ধে ক্রিশ্চিয়ানদের যুদ্ধই বেশি আলোচিত হয়। এবং অবাক করার বিষয় হলো, ভারতে ইসলামের উপস্থিতি সত্ত্বেও জীবনানন্দ ইসলামের বিরুদ্ধে না বলে খ্রিস্টীয় পরিত্রান জিসাসের জীবন ও দর্শন বিষয়ে উচ্চকিত হয়েছেন।
জীবনানন্দ বলছেন পেগানদের সঙ্গে খ্রিস্টানদের সংঘর্ষের কথা :
সকল ঘোড়ার খুর গিয়েছে রোমের দিকে ছুটে,-
সকল পেগান রোম তাদের পায়ের তলে পিষে
সকল পেগান গ্রিস তবুও ঘুমের থেকে উঠে
আবার ওঠেনি জেগে পুরনো পেগান সেই গ্রীসে!
কারণ নতুন আলো এনেছে নতুন এক ত্রাণ,-
আর কেহ রহিবে না অ্যাপেলোর মতোন পেগান।
.....
(ভেনাসের উদ্দেশে বলছেন <img src=" style="border:0;" />
.....
সমুদ্রের পাপ থেকে তুমি আর উঠিবে না ফুটে,
ফুটিবে না তুমি আর হৃদয়ের সাগরের বিষে!

তোমার চোখের পানে চেয়ে লোক হবে না মলিন,
(কারণ),
তোমরা পাথর আজ, - তোমরা হয়েছ আজ কাঠ!
রোমের মেসায়া সে যে,- পৃথিবীর সে একা সম্র্রাট!
আগুনের মতো সে যে, - তোমরা তাহার কাছে তৃণ-
তোমরা তৃণের মতো আগুনে আগুনে শেষ হ'লে!

কিন্তু কবির পরিত্রাণ দরকার নাই। উনি পরিত্রাণ অস্বীকার করে ফিরে এসেছেন। তীব্র ক্ষোভ সহকারে তিনি বলছেন,--

'এ হৃদয়ে নাই কোনো ক্রশকাঠ ধরিবার শখ
পাপের হাত থেকে চাই নাকে কোনো পরিত্রাণ!'

বলেন,
আমি তবু মেসায়ার হাত ছেড়ে আসিয়াছি চলে-
ঘুরায়ে নিয়েছি ঘোড়া রোমের পথের থেকে আমি,

......
যাহারা রোমান ছিল মার্চ করে তারা আজি যায়
তোমার রাজ্যের দিকে,- তোমার ক্রুশের 'পরে সবে-
চুমো দিয়ে চলে যায় চুপে চুপে বেলা-অবেলায়,-
আমারো কি সেই ক্রুশে একবার চুমো দিতে হবে?
যে ঠোঁটে আগুন আছে, যেই ঠোঁটে নাই কোনো জল
তাকে তুমি করিবে কি বরফের মতোন শীতল!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28830165 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28830165 2008-08-12 18:05:03
জানতে চাই : প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচন প্রক্রিয়া কতদিন ধরে চলবে? http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28829707 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28829707 2008-08-11 14:36:34 মাহমুদ দারবিশের জন্য শোকগাথা
এক জীবনের অবশিষ্ট
মাহমুদ দারবিশ

যদি আমাকে বলা হয় :
সন্ধ্যা নাগাদ মরে যাবে নিশ্চিত,
তো, এখন কী করবে তুমি?

তাকাবো হাতঘড়ির দিকে,
খাবো এক গ্লাস জুস
আপেলে কামড় দেবো
দূর থেকে
খাবার খুঁজে পাওয়া
একটি পিপড়াকে দেখবো নিবিষ্ট মনে,
তারপর তাকাবো হাতঘড়ির দিকে।

দাড়ি কামাবার সময় পাওয়া যাবে
থাকবে বাথটাবে ঝাঁপিয়ে পড়বার অবকাশও।

শান্তি।

পরবো লেখার পোশাক
ধরা যাক, নীল আলোয়ান।

দুপুর পর্যন্ত বসে থাকবো টেবিলে
কিন্তু দেখবো না শব্দের কোনো রঙ
শুধু শাদা, শাদা, শাদা....
বানাবো নিজের শেষ খাবার,
দুটি গ্লাসে ঢালবো ওয়াইন :
একটা আমার আর একটা তার জন্য
যে আসবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া,
তারপর দুটি স্বপ্নের মাঝখানে দেব ভাতঘুম।
নিজের নাক ডাকার শব্দে ঘুম ভেঙে যাবে...

তাকাবো হাতঘড়ির দিকে :
পড়ার জন্যও কিছু সময় পাওয়া যাবে।
পড়বো দান্তের কোনো পর্ব আর মুয়াল্লাকার অর্ধেকটা
দেখবো কীভাবে আমার কাছ থেকে জীবন
যাচ্ছে অন্যের কাছে। প্রশ্ন করবো না,
কে পূরণ করবে এর ফাঁকগুলো?
তবে, এটাই সেই বস্তু?
এটাই সেই বস্তু। এটাই।
তা
তারপর?

তারপর চুল আঁচড়াবো এবং ছুড়ে দেব কবিতাটা...
কাগজের ঝুড়ির মধ্যে, এই কবিতাটা,
পরবো নতুন ফ্যাশনের ইতালীয় শার্ট,
নিজেকে কুচকাওয়াজ করাবো স্প্যানিশ ভায়োলিনের সাহচর্যে
এবং হেঁটে যাবো কবরের দিকে!
(Click This Link)

উইকিপিডিয়া (http://en.wikipedia.org/wiki/Mahmoud_Darwish)
রয়টর্স(Click This Link)
আগের কবিতাটা একটু এডিট করলাম। আর ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি, ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রামের সক্রিয় কর্মী মাহমুদ দারবিশের আরেকটা কবিতা পোয়েম হান্টার থেকে অনুবাদ করে দিলাম।


ওইখানে আমার জন্ম
মাহমুদ দারবিশ
আমার জন্ম ওইখানে। আর আমার স্মৃতি আছে।
মরণশীল মানুষের মতো জন্ম আমার। মা আছে একজন।
অনেক জানালাঅ'লা একটা ঘর আছে,
ভাই, বন্ধু-পরিজন আছে।
আর আছে ঠাণ্ডা জানালাঅ'লা এক কারাকুঠুরি
সিন্ধুসারসের কাছে ছিনতাই হওয়া এক ঢেউ আছে।
আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি আছে। বাড়তি একটা ঘাসপাতা আছে ।
শব্দের সুদূর সীমানায় আমার একটা চাঁদ আছে।
অকৃপণ পাখিরা আছে।
আছে অমর জলপাই গাছ।

তরবারির আঘাতে ভারাক্রান্ত টেবিলে পরিণত হওয়ার আগে
আমি এই মাটির জীবন্ত শরীরে হেঁটেছি অনেক।

ওইখান থেকে আমি এসেছি। আকাশ মায়ের জন্য কাঁদলে আমি তাকে
ফিরিয়ে দেই তার মায়ের কাছে।
আর আমি কাঁদতে থাকি ফিরতি পথের এক মেঘের কাছে
নিজের পরিচয় জানাবার জন্য।
আমি জেনেছি, রক্তের আদালতে সকল শব্দেরই নির্দিষ্ট মানে আছে।
কেননা, আমি নিয়ম ভাঙতে চাই।
আমি সকল শব্দই শিখেছি, আর ভেঙে ফেলেছি তাদের
একটা শব্দ তৈরির জন্য : 'মাতৃভূমি'।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28829321 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28829321 2008-08-10 12:56:15
আজ রাতে কোথায় ঘুমাবো? রমনা থানার এসআই। কয়েকদিন আগে এলিফ্যান্ট রোডে একটা কাটা লাশ পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের ইচ্ছা ছিল সেই মামলায় ফাঁসিয়ে একটা বড় অঙ্কের মাল খসাবে। এসআইয়ের নামটা ভুলে গেছি। তার প্রথম ইন্টারোগেশনটা আমরা খুব উপভোগ করেছিলাম।
নাম?
আমরা নিরুত্তর।
নাম?
আমরা নিরুত্তর।
ওই চুদানির পুতেরা তগো নাম ক’।
মুখ সামলে কথা বলেন। আপনি জানেন আপনি কাদের অ্যারেস্ট করেছেন?
আপনারা কারা?
উই আর পোয়েটস।
বাসা কই?
এ পৃথিবীর সব বাসাই আমাদের বাসা। সব ঘরই আমাদের ঘর।
থাকস কই? খাস কই?
যখনই ঘুম অথবা ক্ষুধা লাগে সবচেয়ে কাছের বাসার দরজায় কড়া নাড়ি। টেবিলে ঢাকা ভাত খেয়ে শুয়ে পড়ি। আমরা এ পৃথিবীর সব মায়ের সন্তান। গো অ্যান্ড আস্ক ইয়োর মাদার।
সেদিনের মতো অল্প প্যাদানি দিয়ে লকআপ। লকআপে নেয়ার আগে জিজ্ঞাসা করেছিল কাউকে খবর দিতে হবে কিনা, ফোন বা চিঠি। ওরা নিশ্চিত হতে চেয়েছিল কোথাও থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা হবে কি না, অর্থাৎ টাকা-পয়সার সংস্থান আছে কিনা। শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের পর টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম, সিম্পলি উই ওয়ান্ট সিএনএন কভারেজ। লকআপে তিনদিন যাওয়ার পর ওরা নিশ্চিত হয়েছিল, মাল খসানোর সম্ভাবনা নেই। আরেক দফা প্যাদানি দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। যতোসব পাগলের দল। এসআইয়ের মন্তব্য শুনে হাসতে হাসতে আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম। আজ পুলিশ ধরলে সেই একই কথা বেরুবে না। নিশ্চিত। একটা বয়স থাকে। শুনেছি পুলিশ নাকি এখন আইডি কার্ড দেখতে চায়। কী ভাবে তারা? বাংলাদেশের সব মানুষের একেকটা আইডি দেখানোর মতো পরিচয় তৈরি হয়ে আছে। হু উইল গিভ মি দ্যাট আইডি। অবশ্য ওরা ধরলে একটা কাজ হবে, বেশ কয়েকদিনের একটা স্থায়ী ঠিকানা হবে। এমন কি ওই ঠিকানায় বন্ধু-বান্ধবদের চিঠি লিখতেও হয়তো বলা যাবে। কিন্তু আজ আমি কোথাও যাবো না। কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের বাসায় কড়া নেড়ে বলবো না, তোদের এখানে থাকতে এলাম। কারো কাছে গিয়ে মৃদু কণ্ঠে জানাবো না, আজ সারা দিন খাইনি কিছুই। পুলিশ ধরতে এলে বলবো, আমি পাগল। একটি পাগল যে শক্তিতে নগ্ন দেহে, নিঃসঙ্কোচে ভ্রূকুটি করে পৃথিবীকে, আমি তেমনই এক পাগল। পাগল। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। আর একটু পর আমি ছুটে যাবো সেই পাগলের কাছে। হয়তো আমি তার ভাষা বুঝতে পেরেছি। কার সঙ্গে যেন তার মিল। হয়তো আমি তাকে চিনেও ফেলতে পারি খানিকটা চেষ্টা করলে। আমাদের পরিচিতের দলে পুলিশ আছে, ডাক্তার আছে, মাগির দালাল, এনজিওর বড় কর্তা, বস্তাপচা গবেষক, এজমার রোগী, গমচোর, মাথা মোটা আমলা সবই আছে। একজন পাগল থাকবে না এ কি করে হয়। পিজির নিচের বারান্দাগুলোয়, লাইব্রেরির সিঁড়ির গোড়ায়, চারুকলার ভেতরে, আকাশে, বাতাসে, গভীর রাতে আমি খুঁজে বেড়াবো সেই পাগলকে। বলবো, ভাই আমাকে ফিরাস না, তোর সঙ্গে নে। তারপর, তের নাম্বার খুটির নিচে বসে দুজনে রাত-দিন একঠাঁয় কোনো কথা না বলে কাটিয়ে দেবো। আমাদের নগ্নতা দিয়ে তোমাদের ঘরের ঘেরাটোপের বাইরে বসে তোমাদের ঘুমের ভেতর দুঃস্বপ্নের মতো জেগে থাকবো, ক্রুর-বক্র হাসিতে ফেটে পড়বো, নগ্ন চোখ রাখবো তোমাদের চোখে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28827950 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28827950 2008-08-06 12:07:37
কৌশিকের কলিগকে নিয়ে একটি বানোয়াট গল্প এইবার আমি লাজুক হইতে শুরু করলাম। বললাম, আপনার সঙ্গে আলোচনাটা নিয়া একটা পোস্ট দিতে চাই। আপনি অনুমতি দিয়া রাখেন। উনি বললেন, অনুমতি? আপনাদের আবার অনুমতি দরকার হয় নাকি। কৌশিকরে দেখেন। একদিন আইসা কয়, ব্লগানোর বিষয় পাইতেছি না। এখন থেকে আপনেই আমার বিষয়। আমি কইলাম, বিষয় আশয় যাই কও। আমার পার্সোনাল পরিচয় ফাঁস কইরা দিও না। আমি ভাবছিলাম একটা দুইটা লিখে ছেড়ে দেবে। এখন দেখছি প্রচুর লেখে। অফিসে এসে আমার সঙ্গে একটু চোখাচোখি করেই বসে পড়ে।
ওর ব্লগ নিয়ে সায়েন্স ফিকশনটা পড়েন?
কৌশিক আসলে সায়েন্স বুঝে না। পড়ছি কিছু কিছু।
ফিউচারটা আসলেই সে বুঝে না।
কী মনে কইরা কথাটা কইলেন?
কী মনে করে আর। আপনিই তো জিজ্ঞেস করলেন।
একটা পার্সোনাল কথা জিগাই?
কী?
আপনার কি মনে হয় কৌশিক আপনার প্রেমে পড়ছে?
কলিগ খালি লাজুক হাসে। লাজুক হাসে আর এদিক ওদিক তাকায়।
আমি বলি, ব্লগে কিন্তু কৌশিক কাউরে বুঝতে দেয় নাই যে আপনি কোনো নারী হইতে পারেন।
কলিগ হাসে। জিগায়, আপনি কি এই তথ্যটা এবার ফাঁস কইরা দিবেন নাকি?
আমি কই, কী যে বলেন!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28827296 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28827296 2008-08-04 14:29:15
বন্ধুত্বের রাজনীতি : ফেসবুক, ব্লগ ও আরও কিছু প্রসঙ্গ Click This Link)। জাঁক দেরিদা বন্ধুত্ব নিয়া কী লেখছেন আর কী লেখেন নাই এইটা আমি জানি না। বন্ধুত্ব প্রসঙ্গেই গুরু আমারে বইটা পড়তে কইছিল নিকি বিষয় অন্য তাও জানি না। কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক কী এইটা আমি জানি। আর বন্ধুত্বের মধ্যে রাজনীতি বিষয়টা কেমনে কাজ করে এইটা অনুমান করি।
এরিস্টোটল কইছেন, যখন নাগরিকরা বিবদমান বিষয়ের নিষ্পত্তি বন্ধুত্বপূর্ণভাবে করতে পারে না। যখন তাদের সম্পর্ক ব্যর্থ হয় সেই জায়গা থেকে বিচার ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে। ব্যক্তি বনাম ব্যক্তিতে যে ভালের বোধ সেইটারে একটা কমন ভালোর জায়গায় নিয়া গিয়া বিচার ব্যবস্থা কাজ করে। যখন বন্ধুরা কোনো সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করতে পারে না, আপোষ রফায় আসতে পারে না। তখন তারা আইনের আশ্রয় নেয়। দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের উর্ধ্বে উইঠা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ চরিতার্থ করে দেয় আইন। প্রাচীন কাল থেকে বন্ধুত্বের ব্যর্থতার ওপর দাঁড়ায়া ন্যায়বিচার এমন এক জায়গা কইরা নিছে যে গণতন্ত্রের মূল শক্তি হয়া পড়ছে এই ন্যায়বিচার। স্বাভাবিকভাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বন্ধুত্ব বৎসল হবে এইটাই আমরা ভাবি। কিন্তু উৎসে কর্তন হয়া আছে। গণতন্ত্রে তাত্ত্বিকভাবে বন্ধুত্বের জায়গা আসলে নাই। বন্ধুত্ব ও গণতন্ত্র পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত। ফলে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গণতন্ত্র বন্ধুত্বকে সন্দেহের চোখে দেখে। এবং চূড়ান্ত গণতন্ত্র অর্থাৎ ন্যায়বিচার সহ অন্য উপাদানগুলা তাদের শক্তিতে সক্রিয় হয়া উঠলে বন্ধুত্বের জন্য শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা তৈরি হয়। নাগরিকরা কোনো বিষয় আর আপোষে, দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের সূত্রে নিষ্পত্তি করতে চান না। তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ওরফে ন্যায়বিচার আইসা খাড়া হয়া যায়। আর সেইখানে কেউ যদি কাউকে বন্ধু হিসাবে সম্বোধন করে তারমানে সে সেইটারে তাত্ত্বিকভাবে মিন করে না। কারণ আইনের চোখে সবাই সমান। কেউ কারো বন্ধু হইলে অন্য আরেকজনের চাইতে তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া গণতন্ত্রে কঠিন।
এই পর্যন্ত জাইনা এখন আমাদের গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে কি আমি এখন বন্ধুত্বের পক্ষে দাঁড়াইতে গিয়া গণতন্ত্রের বিপক্ষে অবস্থান নিতে যাইতেছি? আসলে তা নয়। রাষ্ট্র তার মতো আগায় বা পিছায়। সমাজ তার মতো কইরা চলে। বন্ধুত্ব সামাজিক এক বিষয়। এই দুইয়ের সংঘর্ষ ও আপোষের মধ্য দিয়া ব্যাপারগুলার একটা চেহারা তৈরি হয়। ফলে, গণতন্ত্র চাই বইলা আমার বন্ধু থাকবে না সেইটা হয় না। আবার বন্ধুত্ব চাই বইলা গণতন্ত্র থাকবে না সেইটাও হয় না। আমি খালি কথাটা কয়া রাখলাম।
গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলা বন্ধুত্বকে সন্দেহের চোখে দেখে। কিন্তু গণতন্ত্র ও প্রযুক্তির বিকাশের একটা পর্যায়ে আমরা দেখতে পাইতেছি বন্ধুত্ব নতুন রূপে ফিরা আসতেছে। আধুনিক প্রযুক্তি মানুষরে যন্ত্র বানাইতেছিল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি মানুষরে আবার মানুষ বানাইতেছে। কেমনে?
ব্যাপারটার অনেকটাই ভার্চুয়াল। তথাপি কিছু বিষয় খুব খিয়াল করতে হয়।
১৩ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন যে সংখ্যাটা করছিল সেইটা বিষয় আছিল ‌'ইউ'। আপনি/তুমি। আমি সংখ্যাটা পড়তে গিয়া এক ফেসবুক সেলিব্রেটির দেখা পাইলাম। তাকে দেখার জন্য ফেসবুকে গিয়া দেখি লগ ইন না করলে হবে না। লগ ইন করে তার প্রোফাইল দেখলাম। আর তৈরি হইলো আমার অ্যাকাউন্ড। ছবি, অন্যান্য ডিটেইল ছাড়া ওই অবস্থায় অ্যাকাউন্ট পইড়া ছিল। হঠাৎ একদিন একটা মেসেজ পাইলাম। সামোয়ান ইজ লুকিং ফর সাম মাহবুব মোর্শেদ। কথাবার্তার মধ্যে বন্ধুত্ব হয়া গেল। বহুদিন পর জানা গেল, তিনি আমার খুব কাছের লোক। নানা কারণে পরিচয় হয়া ওঠে নাই। এক জন দু জন করে অনেক বন্ধু জুটলো। অনেক, এনাফ। ফেসবুকের বন্ধুর সঙ্গে রাস্তায় ধাক্কা খায়া চইলা গেলেও মনে পড়বে না হয়তো অনেকেরই অনেককে। কিন্তু তারপরও আমরা বন্ধু। কারণ, আমরা একটা শব্দের মধ্য দিয়ে নিজেদের সম্পর্কটাকে চিনতে চেয়েছি। শব্দটা বন্ধুত্ব। সেইটার একটা সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অর্থ আছে। আমরা সেইটা নানাভাবে ফিল করি। হয়তো একজনকে ঠিক চিনে উঠতে পারছি না। হয়তো একজনের সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয়ে সহসা তার প্রোফাইলের চেহারারা সঙ্গে তাকে মেলাতে পারলাম না। হয়তো একজনের ওয়ালে কিছুই লিখি নি আমি। হয়তো একজন কোনোদিনই আমাকে কোনো মেসেজ দেননি। কিন্তু তিনি আমাকে আমি তাকে বন্ধু বলে স্বীকার করেছি। অর্থাৎ আমাদের মধ্যে একটা সামাজিক সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হইছে। এই সম্ভাবনাটাই এইখানে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হইলো, যে জেনারেশনটি যান্ত্রিক হবে, অনুভূতি, আবেগ, ভালোবাসা বইলা যাদের কিছু থাকবে না বইলা ভাবা গিয়েছিল তারা দেখি রীতিমতো ফেসবুক অ্যাডিক্ট হিসাবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে। হ্যাঁ, ওখানে এমন অনেক কিছুই আছে যাকে সন্দেহের চোখে দেখলে দেখা যেতে পারে। কিন্তু বন্ধুত্বটাকে সন্দেহ করার উপায় কী? আমি কইতে চাইতেছি, রাষ্ট্র সমাজের জায়গা দখল কইরা নেওয়ার অনেক পর। অথবা দখল কইরা নিতে নিতে আরেকটা সমাজ এই রাষ্ট্রের ভিতরে, এমনকি এই রাষ্ট্রের সীমানার বাইরেও জায়গা কইরা নিতেছে। সেই সমাজটা আইজা ভার্চুয়াল কিন্তু কাইলকা যে বিয়েল হবে না এই গ্যারান্টি কই। সো রাষ্ট্র এইটারে সন্দেহ করে। করতে পারে। করবে।
এখন ব্লগের কথায় আসি। এরিস্টোটলের কথা আবার টাইনা আনি। ব্লগে লোকে লেখে এবং এইটা জাইনাই লেখে যে যাদের সঙ্গে সে লিখতেছে তাদের সঙ্গে মোটামুটি বন্ধুত্বের শর্তেই আবদ্ধ সে। মতের পার্থক্য হউক, কি চিন্তার তাকে কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের মধ্যে সেইটার নিষ্পত্তি করতে হবে। অথবা নিষ্পত্তি না কইরা সেইটারে টাইনা নিতে হবে। ব্লগারদের পারস্পারিক বিষয়ে রাষ্ট্র আইসা পক্ষ হইছে এই রেয়ার ঘটনা। বরং ব্লগ একটা পক্ষ রাষ্ট্র আরেকটা পক্ষ এইটাই দেখা গেছে। আরেকটা বিষয়, শুধু তো রাষ্ট্র না তথ্য, তথ্যসরবরাহের উপায়ের ফাঁকে কত বড় বড় প্রতিষ্ঠান। তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও নামপরিচয়হীন কিছু মানুষ যে, নাম পরিচয়হীন কিছু মানুষের উপর নির্ভর কইরা তথ্য-বিনিময়ের এতবড় একটা উপায় তৈরি করতেছে সেইটা কিসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত?

অতএব, সেই গানটার কথা কই।
সবাই বলে আমার ঘরে নাকি চাঁদ উঠেছে।
না গো না, চাঁদ নয়, আমার বন্ধু এসেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28826902 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/28826902 2008-08-03 13:57:35
জাহাঙ্গীরনগরে কী হইতেছে?