somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বিটিআরসি'র কাজ কী : নিয়ন্ত্রণ নাকি উদ্বুদ্ধকরণ? ২৫ জানুয়ারি বিডিনিউজ খবর দিয়েছে , বিটিআরসি সম্প্রতি বাংলাদেশ কম্পিউটার সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম, সংক্ষেপে_ সিএসআইআরটি নামে একটি দল গঠন করেছে। টিমটি সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণে কাজ করবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগী হতে পারে। সাইবার জগতে ক্রমবর্ধমান পর্নোগ্রাফি, জালিয়াতি, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি লঙ্ঘন ঠেকাতে এ ধরনের টিমের অবদান থাকতে পারে। অগণতান্ত্রিক, স্বার্থান্বেষী শক্তিকে প্রতিহত করার জন্যও এ টিমের অবদান থাকতে পারে। কিন্তু এই টিমের মূল কাজ হিসেবে যা জানা যাচ্ছে তা কতটা সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত আর কতটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেননা বিটিআরসি বলছে, সিএসআইআরটির মূল কাজ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায় এমন ওয়েবসাইটগুলো শনাক্ত করা এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রশ্ন হলো, সাইবার জগতে এত অপরাধ থাকতে কেন রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষের দিকেই বিটিআরসির বিশেষ নজর পড়ল? বাংলাদেশ ধর্মীয় সহাবস্থানের অনন্য এক স্থান, সামাজিকভাবেও শান্তিপূর্ণ একটি দেশ। কিন্তু রাজনৈতিক বিদ্বেষ বলতে কী বোঝায়? বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিকভাবে পরস্পরের প্রতি বিদ্বিষ্ট। এসব দলের নেতারা অনেক সময় শালীনতার তোয়াক্কা না করে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ান। এ বিদ্বেষ কমানোর দায়িত্ব কি বিটিআরসির? আর রাজনীতির মাঠের এই বিদ্বেষ বাদ দিয়ে হঠাৎ অনলাইন জগতেই কেন রাজনৈতিক বিদ্বেষ খোঁজা হবে? আর রাষ্ট্রীয় বিদ্বেষ বলতে কী বোঝায়? রাষ্ট্র মত-বর্ণ-ধর্ম-জাতি-পেশা নির্বিশেষে সকলের জন্য। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ থাকবে কেন? অনলাইন জগতের অনেক নাগরিক মনে করছেন, বিটিআরসির এই উদ্যোগ আসলে ভিন্নমত, সমালোচনা ও গণতান্ত্রিক তর্ক-বিতর্কের পথ রুদ্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়েছে। নইলে, সাইবার জগতের এত অপরাধ বাদ দিয়ে হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানোর যুক্তি তাদের মাথায় আসত না। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই, বিটিআরসি অনলাইন জগতে অগণতান্ত্রিক ও স্বার্থান্বেষী শক্তির তৎপরতা ঠেকাতেই এই টিম গঠন করেছে, তাহলেও রাজনৈতিক ভিন্নমতের বিরুদ্ধে তাদের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না। অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ঠেকাতে হলে গণতন্ত্রকেই মজবুত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মজবুত করতে হলে মানুষকে কথা বলতে দিতে হবে। মানুষের কথা শুনতে হবে। সরকার ও বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। তেমনি ভিন্নমত ছাড়াও গণতন্ত্র হয় না। ভিন্নমতকে বিদ্বেষ বলে আখ্যায়িত করার কোনো অবকাশ গণতান্ত্রিক সমাজে নেই। মানুষের মুক্তমতকে বাধাগ্রস্ত করে গণতন্ত্র রক্ষার উদ্যোগ কোনো গণতান্ত্রিক শক্তি নিতে পারে না। ফলে বিটিআরসির উদ্যোগ যাতে দেশের ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মুক্তমতকে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। ইন্টারনেট মানুষের সামনে গণতন্ত্র, অধিকার ও মতপ্রকাশের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ইন্টারনেটকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন উদ্যোগ কখনোই আসা উচিত নয়। গণতান্ত্রিক সরকারের তরফে এমন উদ্যোগ এলে তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছুই হতে পারে না।

লেখাটি ২৭ জানুয়ারি তারিখের সমকালে প্রকাশিত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29530302 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29530302 2012-01-27 16:04:14
ওয়েবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা : ভারত কি চীন হবে? প্রথম আলোর খবর পড়ুন :
ফেসবুক ও গুগলকে সতর্ক করেছে দিল্লি হাইকোর্ট
সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুক এবং সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে সতর্ক করে দিয়েছেন ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট। সম্প্রতি গুগল ও ফেসবুকের দায়ের করা আপিল মামলায় সাড়া না দিয়ে গত বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট প্রকারান্তরে সতর্ক করে দিয়েছেন আবেদনকারীদের। বলা হয়েছে ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর লেখা, ছবি ইত্যাদি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। ওই আদেশে এ কথাও বলা হয়, এ ব্যাপারে তারা যদি উদ্যোগী না হয়, তবে চীনের মতো ভারতেও ওই সব ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সুরেশ কাইত এই নির্দেশ দেন।
এই নির্দেশ পাওয়ার পর গুগল ইন্ডিয়ার আইনজীবী মুকুল রোহতাগ বলেন, গুগল ইন্ডিয়া মার্কিন সংস্থা গুগলের হয়ে কাজ করে মাত্র। সংস্থার হয়ে নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই গুগল ইন্ডিয়ার। তাই কোনো আপত্তিকর ছবি বা লেখা ইত্যাদির ওপর নজরদারি করা বা বাতিল করার এখতিয়ারও তাদের নেই।
এদিকে এই মামলার নির্দেশের পর দিল্লির মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুরেশ কুমার তাঁর আদালতে দায়ের করা এ সংক্রান্ত একটি মামলায় শুক্রবারই ফেসবুক, গুগল, ইয়াহুসহ ২১টি সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটকে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে ওই ২১টি সাইটকে আদালতে হাজিরা দিয়ে তাদের বক্তব্য পেশ করতে হবে। অভিযুক্ত ২১টি সাইটের মধ্যে ১০টির বেশি বিদেশি। সাংবাদিক বিনোদ রাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। যদিও বিদেশি সাইটের বিরুদ্ধে সমনজারি সংক্রান্ত নোটিশ প্রদানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২৩ ডিসেম্বর ২১টি সাইটকে সরকারের পক্ষ থেকে অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি ও লেখা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল।—অমর সাহা, কলকাতা
.................................
এ নিয়ে ১৪ তারিখে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটা সম্পাদকীয় লিখেছে। সমকাল সম্পাদকীয়টি অনুবাদ করেছে ১৫ তারিখ
................
ভারত চীন নয়

দিল্লির একটি নিম্ন আদালতের রায়ের পর দিল্লি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে আদালত ফেসবুক ও গুগলসহ ২১ কোম্পানির কর্মকর্তাদের এই মর্মে হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, 'আপত্তিকর' উপাদান না সরালে সাইটগুলো একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিচারক সুরেশ কাইতের ভাষায় : 'আপনাদের তদারকি ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আনতে হবে। নয়তো, চীনের মতো আমরাও এ ধরনের সব ওয়েবসাইট বন্ধ করার আদেশ দেব।' সরকারকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা এই ধরনের মামলা (যার অনেক অভিযোগই জামিন অযোগ্য) চালানোর প্রয়োজনীয়তা বোধ করে কি-না। সরকার মামলায় সম্মতি দিয়েছে। আইটি ও এইচআরডিমন্ত্রী কপিল সিবাল সামাজিক মাধ্যমের 'আপত্তিকর' উপাদানের উলেল্গখ করে ভারতের সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ উপাদান সরিয়ে ফেলার ঘোষণা দেওয়ার মাসখানেক পর এমন ঘটনা ঘটল।
ওয়েবের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণার অভাবেই সামাজিক মাধ্যম সম্পর্কে সাম্প্রতিক আলোচনার উদ্ভব ঘটেছে। পেশাদার সংবাদপত্র ও সম্প্রচার মাধ্যমের মতো নয়, বরং গুগল, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি পোস্ট অফিসের মতো মধ্যবর্তী অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। তারা সরল অর্থে কোটি মানুষের জন্য এমন একটি পল্গাটফর্ম তৈরি করে যেখানে লোকেরা পরস্পরের মধ্যে কথা বলতে পারে। সামাজিক মাধ্যম সরলার্থে আমাদের ধ্যান-ধারণার প্রকাশ ঘটায়, এর মাধ্যমে যেমন ঘৃণার বাক্য ও পর্নো এবং ধর্মবিদ্বেষ ছড়ানো সম্ভব তেমনি উদ্দীপনামূলক কথা ও শুভেচ্ছাবাণীও বিনিময় করা যায়। ব্যবহারকারীরা যদি কোনো উপাদানকে সমস্যাজনক মনে করে অভিযোগ দাখিল না করেন তবে নিজে থেকে সাইটগুলো সব কথোপকথন মডারেশন করতে পারে না_ অপরাধীকে শনাক্ত করে শাস্তিও দিতে পারে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, যুগপৎভাবে স্বাধীন মতপ্রকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে আপত্তিকর উপাদানগুলোকে চিহ্নিত করা যায় না_ এ বিষয়ে সল বেলোর সেই উক্তিটি স্মরণীয়, যেখানে তিনি বলেছেন, 'দমননীতির চূড়ান্ত বা যথাযথ অবস্থা বলে কিছু নেই_ কেউ যদি কানকে দমন করতে যায় তবে আবশ্যিকভাবে মাথাটিও দমিত হবে।'
এটা সত্য যে, অনলাইন বা অফলাইন যেখানেই ঘটুক_ সহিংসতার উস্কানি বা অপরাধে মদদের ঘটনা ঘটলে এর আইনি পরিণতি থাকে। কিন্তু গভীর উদ্বেগের বিষয় যে, আমাদের স্বাধীন আদালত এবং গণতান্ত্রিক সরকার এ বিষয়ে চীনের সমকক্ষ হওয়াকে গর্বের বিষয় মনে করে। চীন সরকার আইএসপি ও কনটেন্ট প্রোভাইডারদের অনলাইন উপাদান তদারক করতে বাধ্য করেছে, 'সাইবার ভিন্নমতাবলম্বীদের' কারারুদ্ধ করেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এই বার্তা দিয়েছে যে, তারা তদারকি ও শাস্তির আওতায় আছে। তারপরও তাদের প্রক্সি সার্ভার, বিকল্প পদ্ধতি ও একই ধরনের চীনা ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। ওয়েবে সেন্সর আরোপের যে প্রযুক্তিগত বাধা আছে তার বাইরেও ভারত অপরিহার্যভাবে পরিপকস্ফ গণতন্ত্রের অধিকারী। ভারতের উচিত ওয়েব নিয়ন্ত্রণের জন্য এ ধরনের অভিপ্রায় প্রত্যাখ্যান করা, কেননা ভারত চীন নয়।

সম্পাদকীয়, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ১৪ জানুয়ারি ২০১২, শনিবার
.....................................
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29523920 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29523920 2012-01-17 15:52:39
বাংলা ব্লগের বিভাজন রেখা : কর্পোরেট বনাম ইনডিপেন্ডেন্ট ব্লগ 'যায়যায়দিনে কেমন চলছে?' জিজ্ঞেস করলেন।
তখন যায়যায়দিন ভাল চলছে না। অনেক আগেই ১০৪ জন গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকের চাকরি চলে গেছে। বসুন্ধরা গ্রুপ ইনভেস্টমেন্ট উঠিয়ে নিয়েছে। শফিক রেহমান এইচআরসির কাছে যায়যায়দিন বিক্রি করে দিয়েছেন বা দেবেন। বেতন অনিয়মিত হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। তবু বললাম, 'ভাল চলছে।'
উনি আর তর্কে গেলেন না। বললেন, ব্লগের ব্যাপারে আপনার ভাবনা কী?
তখন আমি ব্লগ নিয়ে অত্যধিক উচ্ছ্বসিত। ব্যাপক উচ্ছ্বাস নিয়ে ব্লগের সম্ভাবনার কথা বললাম। ব্লগ নিয়ে এত কথা বলার পর উনি সরাসরি প্রসঙ্গে এলেন। বললেন, প্রথম আলো একটি ব্লগ খুলতে চায়। আপনি দায়িত্ব নেন।
আমি বললাম, 'নিলাম।'
'এখনই কিছু বলতে হবে না। ভেবে চিন্তে বলেন।'
'ভাবনা-চিন্তার কিছু নাই। কবে জয়েন করতে হবে বলেন।'
কোনো চিন্তা ছাড়া যে বললাম তার কারণ যায়যায়দিনের খারাপ অবস্থা। প্রথম আলো ছাড়া সামনে কোনো অপশন নেই। ব্লগ আমার পেশা না, নিউ মিডিয়া এখনও বাংলাদেশে পেশা হিসেবে গড়ে ওঠেনি। তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ। আমার পেশা ওল্ডমিডিয়া। সাংবাদিকতা। বেশিরভাগ সময় আমি সম্পাদকীয় পাতায় কাজ করেছি। দুই বছর আর্ট অ্যান্ড কালচার ম্যাগাজিনে। এইসব বিষয়ে আমার দক্ষতা আছে। কিন্তু ব্লগ নিয়ে আমার কোনো দৃশ্যমান দক্ষতা নেই। আমি ব্লগার। সামহয়ার চালু হ্ওয়ার বছর দুয়েক আগে থেকে ব্লগস্পটে ব্লগিং করি। সামহয়ার চালু হলে এই ব্লগেই লিখেছি। এছাড়া আর তেমন কিছু জানি না। বুঝলাম, আমার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। প্রথমত ব্লগ বুঝতে হবে, প্রথম আলো কী চায় তা বুঝতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিউ মিডিয়ার পেশায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। হয়তো সামনের সময়গুলো আমাকে নিউ মিডিয়া নিয়েই থাকতে হবে।
প্রথম আলোতে যোগ দেওয়ার পর আমি শুরুতে বুঝতে চাইলাম প্রথম আলো কী চায়। কর্পোরেট মিডিয়া হিসেবে তাদের ব্লগ তাদের মতোই হওয়া উচিত। এটা আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগ না, চাকরি। ফলে, পত্রিকাটির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নানা আলাপ-আলোচনা শুরু করলাম। বিশ্বের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার ব্লগের উদাহরণ দিয়ে আমি বললাম, কিছু পত্রিকা আমপাঠককে লেখার অনুমতি দেয় বটে কিন্তু অধিকাংশ পত্রিকাই সিলেকটেড লেখকদের ব্লগিং করে। পত্রিকার নিয়মিত ও সেলিব্রেটি লেখকরাই তাতে লেখেন। প্রথম আলো যদি ব্লগ খুলতে চায় তবে তাদের উচিত, নিজস্ব লেখকদের নিয়ে শুরু করা। নানা আলাপ-আলোচনার পর এদিকে কর্তাদের মন সরলো না। বাংলা ব্লগের আদর্শ সামহয়ার ইন ব্লগ। অতএব এমন একটা হিউজ জনসমাবেশ চাই। অ্যালেক্সায় একটা উল্লেখযোগ্য জায়গাও চাই। কেউ কেউ নিউজ ব্লগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তখন। আমার কাছে চিন্তাটা অপরিপক্ব মনে হয়েছিল। এখন্ও মনে হয়।
কর্তাদের মনোভাব বুঝে সামহয়ারের মতো একটা ব্লগ তৈরির কাজ শুরু হলো। সামহয়ারের আদি কালের ডেভেলপার হাসিন হায়দারের সঙ্গে চুক্তি হলো। ব্লগে কী থাকবে কী থাকবে না তা নিয়ে আমরা গবেষণা শুরু করলাম। তিন কলামের টেমপ্লেটে মাঝের কলামটা আমরা বরাদ্দ করলাম শুধু সিলেকটেড লেখার জন্য। ডানের কলামটিও বড় হবে। মাঝেরটিও। ব্লগাররা পোস্ট করলে সেটি সরাসরি প্রকাশিত হবে ডানের কলামে। পোস্টের শিরোনাম, কয়েক লাইন দেখা যাবে সেখানে। যদি লেখাটি মডারেটরদের ভাল লাগে তবে সেটি মাঝের কলামে সংকলিত হবে। এই কলামটি হবে স্লো আইটেম। নানা পর্যায়ে কথাবার্তার মধ্য দিয়ে ব্লগ ইঞ্জিন যখন তৈরি তখন প্রথম আলোর জুনিয়র কয়েকজন কর্মকর্তা বেশ তৎপর হয়ে উঠলেন। তারা বললেন, মডারেশন ছাড়া পোস্টগুলো ডানের কলামে আসবে তা কী করে হয়? কার্টুন-কাণ্ডের ভীতি তখনও কার্যকর। তারা বড়কর্তাদের বোঝালেন, কোনো পোস্টই যেন মডারেশন ছাড়া প্রকাশিত না হয়। বড় কর্তারা আমাকে মডারেশনের পরামর্শ দিলেন। আমি বললাম, প্রিপোস্ট মডারেশন হলে সেটিকে আর ব্লগিং বলা যাবে না। আমরা পোস্ট-পোস্ট (পোস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর) মডারেশন রেখেছি। সবচেয়ে বড় কথা, একটা কড়া নীতিমালা হয়েছে। বড় কর্তারা রিস্ক নিতে চাইলেন না। প্রায় প্রস্তুত ইঞ্জিনে আবার হাত দিতে হলো। ডানের কলাম ছোট হলো। অনেক লড়াইয়ের পর সেখানে শুধু পোস্টের শিরোনাম রাখা সম্ভব হলো। এই পরিবর্তনের পর ব্লগ দেখতে একেবারে সামহয়ারের মতো হয়ে গেল। এ ঘটনাটি আমার বিশেষভাবে মনে আছে ছোট কর্তাদের কারণে। ছোট কর্তারা আসলে আমাকে সমস্যায় ফেলতে চেয়েছেন। প্রথম আলো চায়, হিউজ জনসমাগম। প্রিপোস্ট মডারেশন হলে জনসমাগম হবে না। আমি ফেইল করবো। হিসাব ক্লিয়ার।
অবশ্য এই ঘটনায় আমি অল্প সময়ে কর্পোরেট মিডিয়া বিশেষ ক্ষেত্রে প্রথম আলোর সীমাবব্ধতা বুঝতে পারলাম। সেখানে সাকুল্যে আমি কাজ করেছি একবছর। এসব ঘটনা যখন ঘটছে তখন আমার চাকরি তিন চার মাস হয়েছে।
আমি বুঝলাম, বড় মিডিয়া হিসেবে সোসাইটির মধ্যে প্রথম আলোর নানা স্টেক আছে। প্রথম আলোর কর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে কিছু করলে তার দায়ও প্রথম আলোকে নিতে হয়। এমনকি পিজা হাট বা কেএফসি বা আনন্দধারা পত্রিকায় কিছু ঘটলেও তার দায় পড়ে প্রথম আলোর ওপর। পত্রিকাটির এমন একটি নৈতিক ভাবমূর্তি আছে যে, একে প্রায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করা চলে। আমার মতে, প্রথম আলো মূলত খবর বেচে না, বেচে নৈতিকতা। ফলে, ব্লগে কেউ কিছু লিখলে সেটির দায় প্রথম আলোর ওপর পড়বে। সবাই বলবে, প্রথম আলোতে এই হয়েছে, ওই হয়েছে। বায়তুল মোকারম সহ সমাজের অন্য নৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মিছিল বের হবে।
বলাবাহুল্য, ব্লগ খুলবো অথচ লোকে স্বাধীনভাবে লিখতে পারবে না এটি জটিল পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতি যাদের আছে তাদের উচিত ব্লগ না খোলা। অনলাইন দুনিয়ায় বহুকিছু করার আছে সেগুলো করলেই হয়। সবাইকে ব্লগ খুলতে হবে এ দায় কে দিয়েছে? এখনও আমার মনে হয়, জনসমাবেশের মোহে না ভুলে প্রথম আলো যদি সিলেকটেড লেখকদের নিয়ে ব্লগিং করতো তবে সেটি প্রথমআলোচিত হতো।
সেটি হয়নি। তারা বারবার সামহয়ারের মতো ব্লগ করতে চেয়েছেন। আমার মনে হয়েছে, এটি একান্তই কর্পোরেট অভিব্যক্তি। দেশের সবচেয়ে বড় মিডিয়া প্রথম আলো। আর কোথাও কোনোভাবে বড় জনসমাবেশ হলে তাদের চিন্তিত হওয়ার কথা।
সামহয়ার একটি বড় চিন্তা। বিডিনিউজও। সামহয়ারে মত গঠিত হচ্ছে, খবর ছড়াচ্ছে। প্রচুর মানুষ লিখছে। এমন একটি জায়গা কি প্রথম আলোর থাকতে পারে না? কর্পোরেট মিডিয়ার এই অভিব্যক্তি ভাল। আমি কর্তাদের বলেছি, আপনারা যা চান তা মোটামুটিভাবে মেইনস্ট্রিমিং অব অলটারনেটিভ মিডিয়া। এটা করার জন্য যে কর্পোরেট টুল দরকার তা তো নেই। আমার মত হলো, সামহয়ারের মতো পাবলিক স্পেসের অলটারনেটিভ তৈরি করা কঠিন নয়। কিন্তু প্রথম আলো সে স্পেসের দায় বহন করতে পারবে না। প্রথম আলোর উচিত, বিডিনিউজের অডিয়েন্স আকর্ষণ করা। লোকে সারাদিন বিডিনিউজ পড়বে কেন শুধু, দিনের বেলাতেও যাতে প্রথম আলোর অনলাইন পড়ে সে ব্যবস্থা হোক। আমি থাকতে থাকতেই সে ব্যবস্থা শুরু হলো। সীমিত অনলাইন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকলো।
মেইনস্ট্রিম মিডিয়া নিজের শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে অলটারনেটিভ দখল করতে চাইবে এর মধ্যে বিস্ময়ের কিছু নেই। কিন্তু পরিহাস হলো, মেইনস্ট্রিম অলটারনেটিভ দখল করলে সেটি আর অলটারনেটিভ থাকে না।
........................................................
প্রথম আলো ব্লগে চাকরি নেওয়ার পরপরই একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথম আলো একটি নীতিনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে যারা চাকরি করে তাদের কী আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে তা নিয়ে তাদের নিজস্ব প্রকাশনা আছে। নানা বিষয়ে খবর কীভাবে প্রকাশিত হবে তা নিয়ে পুস্তিকা আছে। সেগুলো পড়লাম প্রাথমিকভাবে। তারপর দক্ষ একজন ব্যারিস্টারের সঙ্গে বসার ব্যবস্থা হলো। ব্যারিস্টারের সঙ্গে বসার অভিজ্ঞতা মজার। তিনি সাইবার জগতের সমস্যা নিয়ে নানা মোকদ্দমা পরিচালনায় অভ্যস্ত। আন্তর্জাতিক আইন ও দেশীয় আইন বিষয়ে ওয়াকিবহাল। অফিস থেকে বড় কর্তারা আমাকে বিশেষভাবে বলে দিয়েছিলেন যে একটি ওয়েবসাইট খোলার জন্য কোনো অনুমতি লাগে কি না সেটি বিশেষভাবে জেনে আসতে। পত্রিকা প্রকাশ করতে অনুমতি লাগে। সে অনুমতির প্রক্রিয়া কঠিন। ফলে, পত্রিকার লোকেরা ভাবতেই পারে না অনুমতি ছাড়া পত্রিকার মতো একটা জিনিশ বাজারে আসতে পারে। শুরুতে আমি ব্যারিস্টার সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম, ব্লগ বা কোনো ওয়েবসাইট চালু করতে অনুমতি লাগে কি না। অনুমতি লাগলে কারা সে অনুমতি দেয়।
ব্যারিস্টার বললেন, অনুমতি লাগবে কেন? ওয়েবসাইট খুলতে যদি অনুমতির প্রশ্ন আপনার মাথায় আসে তবে বুঝতে হবে ওয়েবসাইট বিষয়েই স্পষ্ট ধারণা আপনার নেই। আপনি আমাকে বলুন, আমেরিকার নাগরিক কোনো বাঙালি যদি বাংলা ভাষায় একটা ওয়েবসাইট খোলেন তাহলে তিনি কেন বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেবেন? বাংলাদেশ সরকার যদি চায়ও তাহলে সে অনুমতি তারা দেবেই বা কীভাবে? যে কেউ (তৌফিক ইমরোজ খালেদীর ভাষায়) ওয়েবসাইট খুলতে পারেন। তবে, ওয়েবসাইটগুলোতে যদি বেআইনি কিছু ঘটে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার উপায় আছে। সেটি যেমন বাংলাদেশের একটি সাইটের ক্ষেত্রে সম্ভব তেমনি আমেরিকার একটি সাইটের ক্ষেত্রেও সম্ভব।
মাধ্যমটি যেমন আন্তর্জাতিক আইনও সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক। আর এ আইনের কনসার্ন মূখ্যত অর্থনৈতিক। কপিরাইটই মূল বস্তু। অনেকে দেশেই পর্নগ্রাফি বৈধ বস্তু, কিন্তু চাইল্ড পর্ন ও অ্যাবিউজ নিষিদ্ধ। সরকারের সমালোচনা সেখানে নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু ঘৃণার মতাদর্শও নিষিদ্ধ। আর একটা কনসার্ন সিকিউরিটি। ব্যারিস্টার আমাকে কপিরাইট, পর্ন ও সিকিউরিটিকে প্রাধান্য নিয়ে নীতিমালা করতে বললেন। তার পরামর্শ হলো, আইনে অনেক কিছু নাও থাকতে পারে, কিন্তু একটা ব্লগ নিজে একটা নীতিমালা তৈরি করে সেটা অনুসরণ করতে পারে। তবে শর্ত হলো, ব্লগারকে রেজিস্ট্রেশনের সময় সে নীতিমালা পড়াতে হবে। শর্তহীন রেজিস্ট্রেশনের পর নীতিমালা চাপালে সেটি মানতে ব্লগার বাধ্য নাও থাকতে পারেন।
ব্যারিস্টারের সঙ্গে কথা বলার আগে আমি ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস, ফেসবুক সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন ডাউনলোড করেছিলাম। সেগুলো একটা সারসংক্ষেপ আমার হাতে ছিল। সেগুলো দেখালে তিনি বললেন, বাংলাদেশের কনটেক্সটে আমাদের মূল কনসার্ন চারটা। রিলিজিওন, সিকিউরিটি, পর্ন ও ব্যক্তি আক্রমণ/ অবমাননা। সঙ্গে অবশ্যই কপিরাইট।
ব্যারিস্টারের সঙ্গে কথা বলে আসার পর, আমি কর্তাদের সঙ্গে বসলাম। তারা বললেন, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকুক না থাকুক প্রথম আলোর নাম যেহেতু ব্লগের সঙ্গে থাকবে আমরা ব্লগকে প্রথম আলোর সাপ্লিমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করবো। এবং প্রথম আলোর জন্য প্রযুক্তি নীতিমালা ও আইন ব্লগের জন্যও কার্যকর মনে করবো। সে আলোকে নীতিমালা তৈরি হয়। নীতিমালার খসড়া ব্যারিস্টার একগাল হেসে অনুমোদন করেন। যাই হোক, ব্লগের ডেমো রেডি হলে সেটি আপ করা হলো। পাসওয়ার্ড দিয়ে সীমিত লোকদের মধ্যে তা বিতরণ করা হলো। কিন্তু আমার ও প্রথম আলো ব্লগের বিরুদ্ধে ব্লগস্ফিয়ারের একটি কমিউনিটি এতটাই সরব ছিল যে পাসওয়ার্ড সমেত ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেল। রাতারাতি প্রচুর নিক তৈরি হলো। এর অধিকাংশই ভুয়া। এক রাতে হাজার খানেক ব্লগার পেয়ে আমরা অভিভূত হলাম ঠিকই। কিন্তু ব্লগের ডেমো অবস্থায় কিছুটা বিব্রত হলাম সামহয়ারের বিখ্যাত ব্লগারদের নিক নিয়ে সেখানে ভূয়ারা নিক খোলায় একেবারে লজ্জায় পড়লাম। ব্লগের কর্মচারি সাকুল্যে আমি একা। ফলে, হাজার নিক মানেজ করাই সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো। ব্লগার এর পরে আরও বাড়লো। আমি যখন চলে আসি তখন প্রথম আলো ব্লগে ১৪ হাজার রেজিস্টার্ড ব্লগার ছিলেন। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্লগগুলোর মধ্যে সেকেন্ড লারজেস্ট ব্লগ প্রথম আলো। প্রথম আলো ব্লগের সাফল্য নিয়ে আমার সংশয় ছিল আগে। এখন প্রশ্ন দাঁড়ালো, এই কড়া নীতিমালা মেনে নেওয়ার শর্তে কেন হাজার হাজার মানুষ ব্লগে আসছেন? এদের অনেকেই প্রথম আলোর ভক্ত সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেকেই পরিচ্ছন্ন ব্লগ চেয়েছেন। একথা সত্য, বাংলা ব্লগে গুরুতর সাইবার অপরাধ কখনোই সংগঠিত হয়নি। কিন্তু ব্লগগুলোতে, কিছু ব্লগটিজার গ্রুপ ছিল এবং আছে। এরা বিভিন্ন ব্লগারকে টিজ করতো। গালাগালিও করতো। ব্লগের মডারেটররা এদের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে অমনোযোগী ছিলেন। প্রথম আলো ব্লগের পর অন্য ব্লগগুলোতে গালিবাজ ও টিজারদের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি হয়। এটি আগেই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি সেটা দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমি বিভিন্নভাবে সামহয়ার সহ অন্য ব্লগকর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেও লাভ হয়নি। কেন তখন ব্লগের মডারেটররা গালিবাজ ও টিজারদের প্রশ্রয় দিতেন সেটি তারা ভাল জানবেন।
যাই হোক, প্রথম আলো ব্লগ প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছে সত্য, কিন্তু সামহয়ারের মতো প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। সামহয়ারে একজন ব্লগার মোটামুটি স্বাধীনতা নিয়ে ব্লগিং করতে পারেন। সমাজের সমস্যার কথা বলতে পারেন। সমাজ-সংসারে উপস্থিত বিবাদে ভুল হোক কি শুদ্ধ একটি পক্ষ নিতে পারেন। কিন্তু প্রথম আলো ব্লগে এটি করা কঠিন। আমরা সকলেই বুঝি যে, প্রথম আলোর মতো মিডিয়ার পক্ষে আগ বাড়িয়ে ব্লগারদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব না। শুধু স্যাবোটাজের ভয় নয়, একটি বড় কর্পোরেট মিডিয়ার নানা স্টেক থাকে। একজন ব্যবসায়ীর শত কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্ট থাকে। নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়া নিজের অস্তিত্বের স্বার্থে চাইলেই যে কারো বিরুদ্ধে লিখতে পারে না। সরকার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন জায়গায় ছাড় দিতে হয়। এর মধ্যেই তারা নিউজ করে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রথম আলোর যে দায় তা একজন স্বাধীন মানুষের দায় হওয়া উচিত নয়। কিন্তু প্রথম আলো ব্লগ করেছে। সে ব্লগকে এক নম্বর বানানোর জন্য আমি চাকরি করেছি। প্রশ্ন হলো, প্রথম আলো ব্লগকে এক নম্বর বানানো কি সম্ভব ছিল আমার পক্ষে? আমি বলবো, অবশ্যই ছিল। কীভাবে? প্রথম আলো ব্লগের নীতিমালা শিথিল করে? না, অন্য ব্লগগুলোর স্বাধীনতা খর্ব করে।
যদি কোনোভাবে সরকারের মাথায় ব্লগের নীতিমালা ঢুকিয়ে দেওয়া যায় তাহলেই কেল্লাফতে। সামহয়ার সহ বিভিন্ন ব্লগে শক্তনীতিমালা ঝুলবে। সমানে সমানে যুদ্ধ হবে। এভাবে আমি চিন্তা করতে অভ্যস্ত নই। আশার কথা, প্রথম আলোর কেউ এভাবে এখনও চিন্তা করেনি। তবে, অন্য মিডিয়াগুলো এভাবে চিন্তা করতে শুরু করেছে। বিডিনিউজের সম্পাদক ও ব্লগ টিমের কৌশিক ও আইরিন যে সাইবার নীতিমালা নিয়ে এত উৎসাহ দেখাচ্ছে তার পেছনে আছে ব্লগটিকে সফল করার জন্য তাদের আকুতি। প্রথম আলো ব্লগের পর বিডিনিউজই আরেক মেইনস্ট্রিম মিডিয়া যারা ব্লগ তৈরি করেছে। যে দেশে অনেক সাংবাদিকের নিউজ জ্ঞান নেই, সেখানে তারা নিউজ ব্লগ তৈরি করেছে। প্রত্যাশিতভাবে সে ব্লগ সাড়া ফেলেনি। শক্ত মডারেশন, অবাস্তব আইডিয়া তাদের ব্যর্থতার মূল কারণ হলেও তারা কারণ হিসেবে যা শনাক্ত করেছে তা ব্লগস্ফিয়ারের জন্যই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা নীতিমালার মালা সব ব্লগের গলায় পরাতে চায়। প্রশ্ন হলো, সরকারের সঙ্গে বিডিনিউজের স্টেক আছে। সরকারে বন্ধুবান্ধব আছে। আপনাদের নীতিমালা আপনারা মানেন। কিন্তু সরকারের তরফে আইন আহবান করে সবাইকে তা মানানোর উদ্যোগ কেন?
সামহয়ারের তো সরকারের কাছে দায়বদ্ধতা নেই। নাগরিকদের স্বাধীনভাবে লিখতে দিতে সমস্যা নেই। মন্ত্রীদের অপকর্ম ঢাকার দায় বিডিনিউজ ব্লগের থাকতে পারে, সামহয়ারের থাকবে কেন?
অবশ্য সামহয়ারের যদি ব্যবসায়িক বাসনা থাকে, যদি সরকারের সঙ্গে দরকষাকষির আগ্রহ থাকে তাহলে অন্য কথা। আমার মতে, সামহয়ারের যদি তেমন বাসনা থাকেও, তবে সচলায়তনের থাকার কথা নয়, নাগরিক ব্লগের থাকার কথা নয়, আমরা বন্ধুর থাকার কথা নয়, উন্মোচন ব্লগের থাকার কথা নয়।
মজার ব্যাপার হলো, বিডিনিউজ বিরামহীনভাবে ব্লগ ও সাইবার স্পেস নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো আইটেম ছাড়ছে। তাদের মনোভাব হলো, আজই কেন সরকার ফেসবুকের বিরুদ্ধে নামছে না? কাল কেন আইন করছে না। বাতাসে যতটুকু আলামত তাতে কিছু কম্পিউটার ও সফটওয়ার ব্যবসায়ীও শীঘ্রই তাদের সঙ্গে যোগ দেবে। আমার মতে, ব্লগ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো আইন হলে তার দায় বিডিনিউজের ওপর বর্তানো উচিত।
আমরা এমন একটি দেশে বাস করি, যে দেশে যে কোনো নাগরিককে গ্রেফতারের জন্য কোনো মামলা, ওয়ারেন্ট, অভিযোগ দাখিল করতে হয় না। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ হলেই যে কেউ গ্রেফতার হতে পারে। এমন দেশে সাইবার স্পেস নিয়ন্ত্রণের জন্য যারা স্পষ্ট আইন চান তাদের মতো নির্বোধ আর কে হতে পারে? ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা যিনি করেছেন তার বিরুদ্ধে মামলা করতে কি নতুন আইন দরকার হয়েছে? মেইলে যে হুমকি দিয়েছে কর্তাদের তাকে ধরতে কি আইন লেগেছে? প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার অপরাধে ফেসবুক বন্ধ করার সময় কি আইন দরকার হয়েছে? ইউটিউব বন্ধ করার সময় কি আইন দরকার হয়েছে? নির্বোধরা তাহলে কী বন্ধ করার জন্য আইন চাচ্ছেন?
দেশে যে আইন আছে তা মানলে তো লেখালেখি বন্ধ করে খিড়কি আটকিয়ে ঘরে বসে থাকা উচিত। আবার আইন?
বাংলাদেশে তো আমরা বহুদিন ব্লগ লিখছি। বিএনপি ও জামাত যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ব্লগে তাদের কত সমালোচনা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন ক্ষমতায় তখন এক সামহয়ারেই কত লেখা এসেছে। কই সরকারের পক্ষ থেকে কেউ তো কথা বলেনি। ব্লগ নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রীরা উচ্চকণ্ঠ হননি। ব্লগকে পর্ন আখ্যা দেননি। তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারের হঠাৎ এত শিরোপীড়া কেন? তবে কি এ সরকার যথেষ্ট গণতান্ত্রিক নয়?
যাই হোক, বিডি নিউজ প্রতিদিন ব্লগ, সামাজিক ও সাইবার স্পেস নিয়ন্ত্রণের জন্য যে আইটেমগুলো ছাড়ছে তাতে খুব শীঘ্রই ব্লগারদের স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। এজন্য কর্পোরেট বা মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার ব্লগগুলোকে সন্দেহের তালিকায় ফেলতে হবে। প্রথম আলো ব্লগ সরাসরি ক্ষতিকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি, আশা করা যায়, নিপীড়নমূলক কোনো আইন হলে প্রথম আলোর জোরালো ভূমিকা থাকবে তার সমালোচনায়। তারপরও, বিডিনিউজের অভিজ্ঞতায় মনে হচ্ছে প্রথম আলো ব্লগ সহ সব কর্পোরেট ব্লগকে সন্দেহের তালিকায় রাখা উচিত। কর্পোরেট ব্লগগুলোর পাশাপাশি কিছু ধান্দাবাজ ব্লগও তৈরি হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য সরকারের নজরে পড়া, এঁটোকাটা খাওয়া। এদের ব্যাপারেও সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে যেসব ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিউনিটি ব্লগ তৈরি হয়েছে সেগুলোকে উৎসাহিত করা জরুরি। আজকে বিডিনিউজ কর্পোরেট ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্লগের মধ্যে বিভাজন রেখাটা স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিডিনিউজের মতো ক্ষতিকর কর্পোরেট ব্লগ বর্জন করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্লগকে শক্তিশালী করা তাই ব্লগারদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা চাই, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্লগগুলো অটুট থাকুক। মুক্তমতের চর্চা অব্যাহত থাকুক। সঙ্গে এটাও চাই, সামহয়ার সেই অর্থে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্লগ না হলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ব্লগের ধারাটা অব্যাহত রাখুক।

ফেসবুকে চাই বাধাহীন ব্লগ, মুক্ত মিডিয়া- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নামে একটি পেজ খুলেছি। চাইলে কেউ যোগ দিতে পারেন।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29521755 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29521755 2012-01-13 16:54:28
ব্লগের মডারেটররা কেন ব্লগের নিয়ন্ত্রণ চান? সামথিং ইজ রটেন ইন দ্য স্টেট অব ডেনমার্ক... মুক্তমতের টুটি চেপে ধরার আয়োজন কতদূর? শিরোনামে। পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন, জীবনানন্দের ছায়া। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ব্লগ দিবসে বিভিন্ন ব্লগের মডারেটর ও ব্লগ বিশেষজ্ঞরা প্রথম আলোয় যে লেখাটি লিখেছিলেন তাতে 'কিভাবে ব্লগে মুক্তমতের কন্ঠরোধের' বিষয়টি এসেছে। সে প্রশ্নে আসা যাবে, তার আগে কিছু কথা বলে নেই।
সত্যিকার অর্থে ১৯ ডিসেম্বর ব্লগ দিবসের যে প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছিল তা আমার জন্য খুব কনফিউজিং ছিল। খেয়াল করুন, ব্লগ দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছিল, 'গণজাগরণে সোশাল মিডিয়া ও সাইবার আইন'। আমরা সকলেই জানি, গণজাগরণে সোশাল মিডিয়ার ভূমিকা আছে। আরব দেশগুলোর আন্দোলনে সোশাল মিডিয়া কিভাবে কাজ করেছে তা আমাদের সকলের জানা। শুধু আরব দেশগুলোই নয়, অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট মুভমেন্টে সোশাল মিডিয়ার ভূমিকার কথাও আমরা জানি। ভারতে আন্না হাজারের আন্দোলনেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক তিতাস কেন্দ্রিক ঘটনাবলীতে স্পষ্ট সামাজিক মাধ্যম ও ব্লগগুলো কত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। এসব উদাহরণ থেকে গণজাগরণে সোশাল মিডিয়া প্রতিপাদ্য হিসেবে দারুণ হতে পারতো। কিন্তু দেখা গেল এর সঙ্গে সাইবার আইন কথাটা জুড়ে বসেছে। কোথায় গণজাগরণ, কোথায় সাইবার আইন। পরস্পর বিরোধী দুটি জিনিশকে এক করার এমন খেয়াল ব্লগ দিবসের আয়োজকদের মাথায় কীভাবে এলো কে জানে। প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। বোকার মতো প্রশ্ন করি, আরব দেশগুলোতে সাইবার আইন শক্তিশালী বলেই কি সেখানে গণজাগরণ হতে পরেছে? আমাদের দেশে গণজাগরণের পথ খুলতে হলে কি সাইবার আইন জরুরি? নাকি, সাইবার আইন ছাড়া গণজাগরণ সম্ভব নয়? ১৩টি কমিউনিটি ব্লগ ও ব্লগ সদৃশ ওয়েবসাইটের কর্মকর্তারা মিলে এই প্রতিপাদ্য ঠিক করেছেন। ভাবতে অবাক লাগছে, এই দুটি জিনিশকে যে জোড়া দেওয়া সম্ভব সেটি তারা কীভাবে ভাবলেন?
আমার মতে, তারা বোকার মতো ভাবেননি। বরং একটা চালাকিই করেছেন। কৌশলে সরকারের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়েছেন ব্লগ দিবসের প্রতিপাদ্যে। এর সমর্থন মেলে প্রথম আলোতে প্রকাশিত লেখায়। সেখানে শুরুতে ব্লগ দিবসের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। পৃথিবীতে সামাজিক মাধ্যম কী করেছে তাও বলেছেন। সেই বর্ণনার সঙ্গে আমার খুব বেশি দ্বিমত নেই। কিন্তু এর পরেই বেশ মজা করেছেন লেখকরা।
তারা লিখেছেন, 'সাইবার পরিসরের অবাধ স্বাধীনতার সুযোগে ব্লগের অপব্যবহার এবং সাইবার অপরাধের পরিমাণও লক্ষণীয় হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।' বেশ গুরুত্বপূর্ণ লাইন। সাইবার পরিসরের অবাধ স্বাধীনতার সুযোগে ব্লগের অপব্যবহার বেড়েছে? এখানে স্পষ্ট যে লেখকরা 'ব্লগের অপব্যবহারে'র পেছনে ‌'সাইবার পরিসরের অবাধ স্বাধীনতা'কে দায়ী করছেন। তাহলে সমাধান কী? সাইবার পরিসর কমানো? স্বাধীনতা ছেঁটে ফেলা?
আলোচনা হচ্ছে ব্লগ নিয়ে, ব্লগের মডারেটররা কথা বলছেন, কথার বিষয় ব্লগ। ধরে নিতে হয় সাইবার পরিসর বলতে তারা ব্লগগুলোকেই বোঝাচ্ছেন। আরও স্পষ্টভাবে বললে বাংলাব্লগগুলোর কথা বলছেন। বাংলা ব্লগ বলতে মুখ্যত আমি কমিউনিটি ব্লগগুলোকেই চিনি। সামহয়ার, সচলায়তন, আমারব্লগ, নাগরিক ব্লগ থেকে শুরু করে অনেক ব্লগ তৈরি হয়েছে। আমার মতে, বাংলা ব্লগগুলোর পরিবেশ দিনকে দিন উন্নত হচ্ছে। ব্লগের অপব্যবহার নয়, ভাল ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ কমছে। দুএকটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে কমিউনিটি ব্লগগুলোতে অপরাধ ঘটার কোনো উপায় নেই। কমিউনিটির সদস্যরাই অপরাধ ঠেকাবার জন্য যথেষ্ট। তাহলে মডারেটররা অপরাধ বাড়ছে বলছেন কেন? তারা কি বলতে চাচ্ছেন কমিউনিটি ব্লগের বাইরে অপরাধ বাড়ছে? যদি তা-ই বলতে চান তাহলে সরাসরি সেকথা বলছেন না কেন?
অপরাধের ফিরিস্তি শুনুন :
'(১) অর্থনৈতিক: সংস্থা/ব্যক্তির অর্থনৈতিক তথ্য/অর্থ চুরি; (২) প্রযুক্তিগত: কোড, কপিরাইট ছিনতাই, হ্যাকিং ও প্রযুক্তিগত ভৌত ও অভৌত স্থাপনার ক্ষতিসাধন; এবং (৩) সামাজিক: হুমকি, যৌন নির্যাতন ও অবমাননা। সামাজিক অপরাধসমূহ সাধারণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে অহরহ সংঘটিত হচ্ছে। ওয়েবে মৃত্যুর হুমকি; যৌন হয়রানি এবং ছবি ও পরিচয় পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহার, প্রোফাইল ও কপিরাইট হ্যাকিং, ব্লগারদের মানবীয় অনুভূতির সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা, ই-মেইল অ্যাড্রেস স্প্যামারকে প্রদান, পাইরেসি, সংবিধানের অবমাননা, সাম্প্রদায়িক নিগ্রহ ইত্যাদি...' কমিউনিটি ব্লগগুলোতে এমন অপরাধের উদাহরণ আমি দিতে পারবো না। কেউ দিতে পারলে মডারেটরদের এ লেখা যুক্তি পেতে পারে। ব্লগে এমন অপরাধ ঘটছে কমিউনিটিগুলো কিছু বলছে না সেটি বিস্ময়কর ব্যাপার। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এসব অপরাধ না ঠেকিয়ে মডারেটররা প্রথম আলোতে লেখালেখি শুরু করেছেন। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তাজ্জব। ব্লগের বিরুদ্ধে তারা যেসব অভিযোগ তুললেন সেগুলোর অধিকাংশই মিথ্যা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি। এই মিথ্যা অভিযোগ করে তারা এসব অপরাধ দমনের উদ্যোগ কামনা করেছেন। তাদের পরামর্শ হলো, "অপরাধ দমনের জন্য আইন প্রণেতাদের এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একযোগে গবেষণা পরিচালনা করে প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি করতে হবে"। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষজ্ঞ কারা? এই লেখার লেখকদের কেউ কেউ নন তো? ব্লগের বানোয়াট অপরাধের জন্য তাদের সহায়তা নিয়ে আইন করতে হবে? প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে?
আবারও মনে করিয়ে দেই, লিখছেন ব্লগের মডারেটররা, লেখার বিষয় ব্লগ দিবস। অন্যতম প্রতিপাদ্য গণজাগরণ। কোথায় তারা বলবেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী করার জন্য ব্লগগুলো কোনো বাধা দেবেন না; তারা বলছেন ব্লগে অপরাধ হচ্ছে, আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিরোধ করুন। ব্লগ নিয়ন্ত্রণের আহবানই কি প্রকারান্তরে জানানো হলো না?
যারা ইন্টারনেটের অ আ ক খ জানেন তারা জানেন সাইবার অপরাধ কোথায় হয়। পর্ন সাইটগুলো বহাল তবিয়তে আছে। নানা সেমিপর্ন সাইটও চলছে। সেখানে অপরাধ হচ্ছে। ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগস্পটে ব্লগখুলেও নানা পর্ন চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে একথাও সত্য, ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগস্পটে সমৃদ্ধ ব্লগিংও হচ্ছে। কিন্তু মডারেটররা সেসবের কথা তো বললেন না। পর্ন সাইটের অপরাধের দায় কমিউনিটি ব্লগগুলোর ওপর চাপালেন।
এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে?

সামহয়ারের আরিল ভাই একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন । আমার মনে হয়, সেটি দেরিতে হলেও ভাল ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ব্লগ দিবস কার/কাদের প্ররোচনায় কলুষিত হলো তা বের করা জরুরি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29521306 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29521306 2012-01-12 21:58:51
সামথিং ইজ রটেন ইন দ্য স্টেট অব ডেনমার্ক... মুক্তমতের টুটি চেপে ধরার আয়োজন কতদূর? ১. ৩ ডিসেম্বর ২০১১।
“নিজেদের ক্রেডিবিলিটি ধরে রাখতে ব্লগগুলো মনিটর করুন।”
বললেন, এলজিআরডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
ব্লগে পর্ন চর্চার অভিযোগ আনেন তিনি। যে অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন সেখানে উপস্থিত বিডি নিউজের একজন মুখপত্র বলেন, “আমাদের ব্লগ ও মতামত বিভাগের মন্তব্যে মডারেশন ছাড়া একটি শব্দও প্রকাশ করা হয় না।”
পুরো সংবাদের লিংক
২. ৬ ডিসেম্বর ২০১১।
ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রী কপিল সিবাল অনলাইনে আপত্তিকর, সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রচারের দায়ে ফেসবুক ও টুইটার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানালেন।
এ বিষয়ে একটি খবর।

৩. ১৯ ডিসেম্বর ২০১১।
পালিত হলো তৃতীয় বাংলা ব্লগ দিবস। প্রতিপাদ্য ‘গণজাগরণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার আইন’। ব্লগ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ব্লগের মডারেটর ও ব্লগাররা যৌথভাবে একটি লেখা প্রকাশ করেন প্রথম আলোতে। তাতে ব্লগের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ করে ব্লগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রণয়নের আহবান জানানো হয়।
লেখাটির লিংক।

৪. ২০ ডিসেম্বর ২০১১।
মুক্তমত নিয়ন্ত্রণের জন্য আহবান জানান বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদী।
সেই খবরের লিংক।

৫. ২৮ ডিসেম্বর ২০১১।
ব্লগ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পষ্ট আইন করার জন্য দাবি জানালেন বিডি নিউজ ব্লগের মডারেটর আইরিন।
তার ব্লগের লিংক

৬.২৯ ডিসেম্বর ২০১১।
বাংলা নিউজ আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় ব্লগ সহ অনলাইন স্পেস নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পষ্ট আইন করার আহবান জানালেন বিডি নিউজের ব্লগ বিশেষজ্ঞ (ব্লবি) কৌশিক আহমেদ। ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম।

মূলত ২৯ তারিখের আগে আমি ওপরের তথ্যগুলো জেনেছি, কিন্তু এগুলোর গুরুত্ব কী, তাৎপর্য কতদূর যেতে পারে তা নিয়ে সচেতন ছিলাম না। কিন্তু গোলটেবিল আলোচনায় কৌশিকের মত শুনে ঘটনার ভয়াবহতা কিছুটা টের পেলাম। ঘটনার সারসংক্ষেপ আমার কাছে মোটামুটি এই :
সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্লগ নিয়ন্ত্রণের আহবান জানানোর পর বাংলা ব্লগের মডারেটর ও উদ্যোক্তারা তার ইচ্ছা পূরণের জন্য কাছা খুলে মাঠে নেমেছেন। আর এই কাছাখোলা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিডিনিউজ। ব্লগ ও মুক্ত মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের আহবান জানিয়ে বিডিনিউজ তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনকে শুধু কলঙ্কিত করেনি। তাদের দুই কর্মকর্তাকে মাঠে নামিয়েছে সরকারের ইচ্ছা পূরণে জনমত তৈরির জন্য। যদিও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্লগের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা ছিল মিথ্যা। মুক্তমত নিয়ন্ত্রণের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি। এ নিয়ে একরামুল হক শামীম সমকালে একটি লেখা লিখেছেন । সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মত তাতে খণ্ডন করা হয়েছে।

বিডিনিউজ কীভাবে ব্লগ ও মুক্তমত নিয়ন্ত্রণের এই আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এবং নিয়ন্ত্রণের এই মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তারা কী অসার যুক্তি দিচ্ছে তার বিবরণ দিয়েছেন সচলায়তনের হিমু

ফেসবুক টুইটার নিয়ন্ত্রণ করার আগ্রহ প্রকাশ করার পর ভারতের মন্ত্রী কপিল সিবালের কঠোর সমালোচনা হয়েছে সেখানকার অলটারনেটিভ মিডিয়া ও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায়। মিডিয়াগুলো একবাক্যে কপিলের মন্তব্যকে মুক্তমত নিয়ন্ত্রণের ছলনা বলে প্রত্যাখান করেছে। তারা বলেছে, ভারত চীন নয়, এখানে মুক্তমত থাকবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য মতপ্রকাশের গতি রুদ্ধ করা যাবে না। সেখানকার জনপ্রিয় পত্রিকা আউটলুক কপিল সিবালের একটি ক্যারিকেচার করেছে হিটলারের মতো করে। প্রায় প্রতিটি দৈনিক কপিলের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্রে সেটিই স্বাভাবিক। ভারতের মিডিয়া প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশে মন্ত্রীর মন্তব্যের পর ব্লগের মডারেটর ও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার একটি অংশ ন্যাক্কারজনক ভূমিকা নিয়েছে।
প্রথমত, দেশের প্রধান অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজের সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠানটির ব্লগ টিম আইন প্রণয়নের জন্য যুক্তিজাল রচনা করে চলেছেন।
দ্বিতীয়, যেখানে ব্লগ কর্তৃপক্ষগুলোর উচিত ছিল মন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা। সেখানে তারা তা করেনি, উল্টো মন্ত্রীর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা সরকারের চাপে প্রতিবাদ জানাতে না পারুক, অন্তত চুপ থাকতে পারতো। কিন্তু তা না করে, ব্লগ দিবসে সবাই একজোট হয়ে নিপীড়নমূলক আইনের পক্ষে স্লোগান দিয়েছে। প্রথম আলোতে লেখা প্রকাশ করেছে। গণজাগরণে সামাজিক মাধ্যমের উদাহরণ দিয়েছে বটে, কিন্তু তাদের কথার যে সার তা নিপীড়ন মূলক আইন আমদানীর পক্ষেই যায়।
আমার মতে, মতাদর্শিক দেউলিয়াত্ব, মেরুদণ্ডহীনতা, ক্ষমতাসীনদের তোষণের নীতির এর পেছনের মূল কারণ। এদের কেউ হয়তো ভয়ে মন্ত্রীর পক্ষ নিয়েছেন। কেউ ভুল করে নিয়েছেন। কিন্তু এদের একটি অংশ জেনে বুঝে অপকর্ম করছেন। মুক্ত মিডিয়া, বিকল্প মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগের স্বার্থে এদের প্রতিহত করতে হবে। নাগরিকদের কথা বলতে হবে। নইলে অনলাইনে কথা বলার স্বাধীনতা শীঘ্রই আমরা হারাবো। যেসব অপরাধ আমরা করি না, করিনি তার দায়ভার বয়ে নিয়ে মুখ বন্ধ করে বসে যেতে হবে।
আমার মতে, সেটি হ্ওয়া উচিত নয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29515628 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29515628 2012-01-03 21:28:05
ফ্রি ই-বুকে সমস্যা কী?




টুটুল ভাই আমার পছন্দের ব্যক্তি। নানা দ্বিমত ও রেষারেষি সত্ত্বেও তাকে আমি পছন্দ করি। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বাইরে গত কয়েক বছর ধইরা শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর মাধ্যমে বই প্রকাশের যে বৃহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন সেইটা খুব প্রশংসনীয়। তরুণদের বই প্রকাশের ক্ষেত্রে শুদ্ধস্বর বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। বুঝতে পারি, বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনেও তিনি তার উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।

জি-মেইলে পাঠানো টুটুল ভাইয়ের চিঠির উদ্দিষ্ট আমি, পরিষ্কারভাবে বললে আমাদের বইয়ের দোকান। ২০১১ সালের নভেম্বরে আমরা www.boierdokan.com নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছি। এই সাইটের উদ্দেশ্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃহত্তর পাঠকের জন্য বাংলা বই সহজলভ্য করা। একই নামে এ ধরনের একটি উদ্যোগ বছর দুই আগে আমি শুরু করেছিলাম। কিন্তু সাইট ডেভেলপারের অসহযোগিতায় সেটা আর কন্টিনিউ করা হয়নি। এবার নিজে কাজ শিখে শিখে সাইট উন্নয়নের কাজ চালাচ্ছি। ফলে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। খুঁড়িয়ে চলার এই উদ্যোগে বন্ধু এমনকি শত্রু স্থানীয় লেখকরা যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তা আমাকে অভিভূত করেছে। ব্রাত্য রাইসু ছাড়া আর কেউ বই দিতে অস্বীকার করেননি। বই আপলোডের ক্ষেত্রে, সাইটের প্রচারণার ক্ষেত্রে লেখকরা দারুণ সহযোগিতা করেছেন। ফলে অত্যন্ত দ্রুত সাইটে ৮০টি বই আপলোড করা সম্ভব হয়েছে। আমার মতে, এক দেড় মাসের জন্য এই অগ্রগতি বিশাল। আমার জানা মতে, বৈধ প্রক্রিয়ার সংগৃহিত বাংলা ই-বুক প্রচারের আর কোনো সংগঠিত উদ্যোগ নাই। ফলে, টুটুল ভাই সম্ভবত বইয়ের দোকানের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। তার মতো প্রতিষ্ঠিত, বড় অর্থলগ্নিকারী প্রকাশকের অঙ্গুলি নির্দেশে আমি বেজায় খুশী। সবচেয়ে খুশী এই জেনে যে, ই-বুক প্রতিরোধের সঙ্গে তিনি লেখক-প্রকাশক ঐক্যেরও ডাক দিয়েছেন। তার নেতৃত্বের লেখক ও প্রকাশকের অধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনে যোগ দেব। আর যোগ দিয়ে আমি খুশী থাকবো।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ই-বুক কেন লেখক-প্রকাশকের অধিকার রক্ষার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো?

শুধু টুটুল ভাই নয়, আমার আরেক প্রকাশক বন্ধুও দেখলাম সম্প্রতি ই-বুকের উপর বিলা হয়ে আছে। ফোনে প্রলাপের মতো করে বললো, ই-বুক বন্ধ করো। এতে বই বিক্রির বিশাল ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আরও দু'একজন প্রকাশকের মুখেও উষ্মা লক্ষ্য করলাম।

এখন দ্বিতীয় প্রশ্ন, লেখকরা ই-বুক বিষয়ে উৎসাহী হলেও, প্রকাশকরা ই-বুকের উপর বিলা কেন?

এসব প্রশ্নে উত্তর খোঁজার আগে কিছু তথ্য শেয়ার করি। বাংলাদেশে ই-বুক মোটেও নতুন ধারণা নয়। হুমায়ুন আহমদ, ইমদাদুল হক মিলন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় লেখকের বই বইমেলায় প্রকাশিত হওয়ার পরপরই স্ক্যান হয়ে অনলাইনে এভেইলএবল হয়ে যায়। বলতে গেলে, এই লেখকদের অধিকাংশ বই-ই অনলাইনে পাওয়া যায়। এগুলোতে লেখকদের অনুমতি থাকে না। মুফতে পাওয়া যায়। মজার ব্যাপার হলো, জনপ্রিয় যে কয়জন লেখকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কথা হইছে সবাই বলছেন, এই অবৈধ আপলোডের কথা জানেন। তবে কারও মধ্যে এই নিয়া উষ্মা লক্ষ্য করি নাই। এইভাবে বই আপলোড হওয়া বিপুল জনপ্রিয়তার লক্ষণ। এমনকি তারা এও মনে করেন না, এতে বইয়ের বিক্রি কমে। বরং এতে বইয়ের বিক্রি বাড়ে। বই ইন্টারনেট নির্ভর নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাইতে পারে। এইটা যে লেখকরাই শুধু জানেন তা নয়, প্রকাশকরাও জানেন। ফলে, প্রকাশকরা কিছু বইয়ের ই-ভার্সন নিজেদের উদ্যোগে অনলাইনে ছেড়েছেন।

লেখক-প্রকাশকদের এই প্লেফুল মানসিকতাটি আমার খুব পছন্দ হইছে। আইন করে ই-বুক বন্ধ করার পথে না গিয়ে তারা যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। টুটুল ভাই বা সোহেলদের মতো নতুন প্রকাশকরা এই তথ্যগুলো সম্পর্কে জানেন না বলেই ই-বুক বন্ধ করার মতো হাস্যকর ডাক দিতে পারছেন।

এখন কথা হলো, জনপ্রিয় লেখকদের বই তো এমনেও বিক্রি হয়, অমনেও বিক্রি হয়। কিন্তু জনপ্রিয়তাহীন লেখকদের ক্ষেত্রে ই-বুকের প্রভাব কী হইতে পারে। এই নিয়া সেদিন কথা হচ্ছিল একজন লেখকের সঙ্গে। উনি বললেন,

বিনা পয়সায় বই দেওয়া ঠিক না, মাহবুব। বই যেহেতু তুমি ফ্রি দিতেছো সেহেতু তোমার বইয়ের সামাজিক মূল্য তৈয়ার হইতেছে না।

আমি বললাম,

ধরেন, ফ্রি দিলাম না। টাকা চাইলাম বইয়ের বিনিময়ে। এখন আমি টাকা নিবো কেমনে? সে ব্যবস্থা তো এদেশে নাই।

উনি কইলেন,

সেটা তো ঠিকই।

আমার পরিচিত বন্ধু-বড়ভাইদের মধ্যে অনেক শক্তিমান লেখক আছেন। তারা নিয়মিত বই প্রকাশও করেন। কিন্তু বাজারে এই প্রকাশের খুব গুরুত্ব দেখা যায় না। এইটা আমার কাছে বিস্ময়কর। সমাজে একজন লেখক গুরুত্ব ধারণ করেন, লেখক হিসেবে পরিচয় আছে, কিন্তু বই চলে না এইটা বিস্ময়কর তথ্য। অনেককেই দেখি এই নিয়া চিন্তিত নন। কারও বই হয়তো ৬০ কপি চলে কারও ৩০০ কপি। কিন্তু এর বেশি উঠতে পারে না অনেক বইই। কেন?

আমি এ প্রশ্নের একটা উত্তর বের করছি।

আমাদের বন্ধু-বড়ভাই লেখক সার্কেলের সীমাবদ্ধতা হইলো, বৃহত্তর সমাজে তাদের লেখক পরিচয় সেইভাবে প্রচার পায় নাই। একটা ছোট লেখক-বুদ্ধিজীবী সার্কেলে তাদের পরিচয় জানা থাকে। বই বাইর হইলে সে খবরও জানতে পায় অল্প লোক। এই অল্প লোকের মধ্যেই বেচাবিক্রির ঘটনা ঘটে। আর এই সার্কেলটা বই খুব হিসাব কইরা কিনে। ফলে বইয়ের বিক্রি কম। লেখকদের বই বিক্রি না হওয়ার দায় অবশ্যই লেখকের না। প্রকাশকের দায় আছে। বই প্রকাশ কইরা তারা উপযুক্ত প্রচার করেন না। প্রকাশকরা এক্ষেত্রে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা বলেন। তবে সবচেয়ে বড় দায় সংবাদমাধ্যমের।

আমাদের কোনো দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিকই লেখকদের সঙ্গে পাঠকের নিয়মিত যোগাযোগ ঘটানোর দায়িত্ব পালন করে না। দেখা যাবে, মাহবুবের কোনো লেখাই কোনো পত্রিকায় ছাপা হইলো না। অথচ তার বই ছাপা হইলো তিনটা। প্রশ্ন হইলো, তার বই পাঠক কিনবে কি মনে কইরা? পাঠক তো তারে চিনে না। এক হইতে পারে, বইয়ের নাম দেইখা কিনলো। কিন্তু তেমন বোকা পাঠক খুব কম। এইসবের বাইরে মুখে মুখে ছড়ায় কিছু। কিন্তু তাতে খুব সুবিধা হয় না।

আমার মতে, লেখকদের এই অপ্রকাশের ভার কিছুটা ইন্টারনেটের উপর চাপায়ে দেওয়ার সময় আসছে। ইন্টারনেট মাধ্যমে লেখকের সঙ্গে বই কেনা পাঠকের দেখা হইতে পারে। ব্লগ, ওয়েবসাইট ফেসবুক এক্ষেত্রে ভাল মাধ্যম। বইয়ের দোকানের কাজ একটু স্লো। পুরা বই থাকবে এতে। কেউ একজন লেখকের বই ডাউনলোড করে পছন্দ করলে তিনি ওই লেখকের আরও বই খুঁজবেন। পাঠকের সঙ্গে লেখকের দেখা হবে। বইয়ের দোকান ইতিমধ্যে অনেক পাঠকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। ডাউনলোডের যে হার দেখি তাতে আমি আশাবাদী। এখন লেখক-প্রকাশকদের আন্তরিক সহযোগিতা দরকার।

প্রকাশকদের জন্য বলি, আমাদের অনেক প্রকাশক লেখকদের সঙ্গে চুক্তি করেন না। কিন্তু বইয়ের দোকানে প্রকাশের আগে আমি অনেক লেখককে বলছি ভাই, বই মার্কেটে থাকলে দেওয়ার দরকার নাই। অনেক লেখক প্রকাশককে জিজ্ঞেস করে বই দিছেন। অনেকে প্রকাশকের কাছ থেকে সফট কপি নিয়া দিছেন। আগামীতে নিশ্চয়, এক্ষেত্রে আরও সুন্দর ব্যবস্থা আমরা করতে পারবো।

যেসব বই জরুরি ও অবশ্যপাঠ্য হওয়া সত্ত্বেও বাজারে নাই, চলবে না বা স্লো চলবে বইলা যে বইগুলা প্রকাশকরা বাইর করতে চান না। সেই বইগুলা প্রচারের ব্যাপারে আমাদের বেশি আগ্রহ। আশার কথা এই ধরনের কিছু বই আমরা পাইছি। ভবিষ্যতে আরও পাবো বইলা আশা করি। প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের নীতিও ঠিক থাকবে। বইয়ের স্বত্ত্ব যার সেই লেখক সরাসরি না পাঠাইলে বা অনুমতি না দিলে বই উঠাবো না।



এই নোটের মাধ্যমে আবারও লেখকদের বই পাঠানোর অনুরোধ জানায়ে রাখছি।

বই পাঠানোর ঠিকানা



বইয়ের সফট কপি পিডিএফ বা ডকুমেন্ট আকারে পাঠানো যাবে, সঙ্গে প্রচ্ছদের ছবি দিতে ভুলবেন না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29507902 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29507902 2011-12-22 16:02:28
বাংলা বই ডাউনলোড করার ফ্রি সাইট এ পর্যন্ত যেসব বই প্রকাশিত হয়েছে :
গল্প
আয়নাতে নিজের মুখটা ।। মানস চৌধুরী
কাকগৃহ ।। মানস চৌধুরী
ব্যক্তিগত বসন্তদিন ।। মাহবুব মোর্শেদ
পরালালনীল ।। রাশিদা সুলতানা
পরাজিত জীবন যাপন ।। শাহনাজ নাসরীন
রাষ্ট্রের ঘুণপোকা ও বিবিধ ঝিঁঝি ।। তৌহিন হাসান

উপন্যাস
ফেস বাই ফেস ।। মাহবুব মোর্শেদ
তাজতন্দুরি।।কামাল রাহমান
ঘোড়া মাসুদকে নিয়ে রূপনগরের লোকজনের জটপাকানো গল্পগুজবের বিবরণ ।। মশিউল আলম

কবিতা
জলমগ্ন পাঠশালা ।। কাজল শাহনেওয়াজ
রহস্য খোলার রেঞ্চ ।। কাজল শাহনেওয়াজ
তনুমধ্যা ।। সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ
জলপ্রিজমের গান ।। মৃদুল মাহবুব
বিবাহিত প্রেমের কবিতা ।। সরকার আমিন
বাতাস তাড়িত শব্দ ।। আয়শা ঝর্না
ছিঁড়ে যাই বিংশতি বন্ধন ।। ফেরদৌস নাহার
দেহঘর রক্তপাখি ।। ফেরদৌস নাহার
সমুদ্রে যাবো অবিচল এলোমেলো ।। ফেরদৌস নাহার
উলঙ্গ সেনাপাতি অক্টোপাস প্রেম ।। ফেরদৌস নাহার
সার্কাস-তাঁবুর গান ।। বিজয় আহমেদ
আত্মরতির খুন ।। সাঈদ জুবেরী
মায়াবী লিবিডো ।। মিতুল দত্ত
ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা ।। রুদ্র আরিফ
একজন আঙুল শুধু হেঁটে বেড়ায় ।। নভেরা হোসেন
মমি উপত্যকা ।। মুজিব মেহদী
ময়দানের হাওয়া ।। মুজিব মেহদী
৪৪ কবিতা ।। দুপুর মিত্র
অশ্বত্থ বটের কাছে এসে ।। ইমরুল হাসান
নিরর্থ ঝিনুক ।। মেহেদি রাসেল

নাটক
জুজু জুলেখার জুয়াচাক্কি ।। চয়ন খায়রুল হাবিব


সাইটের লিংক



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29481354 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29481354 2011-11-11 18:38:00
পোস্টার ব্লগ : আমেরিকার হস্তক্ষেপ চাই না http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29349808 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29349808 2011-03-23 16:42:36 ইউনুসের সম্মান http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29349707 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29349707 2011-03-23 13:26:44 বাংলা ভাষায় লেখা ১০০টা ভাল উপন্যাসের তালিকা কেমন হতে পারে? স্টেটাসটিতে কমেন্ট দিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন উপন্যাসের নাম সাজেস্ট করেছেন। অনেকে একাধিকবার কমেন্ট দিয়েছেন। মোট ১৪৫টা কমেন্ট থেকে পরে ফেসবুক নোটের মন্তব্য থেকে ১০০ লেখকের প্রায় ১২০টি বইয়ের নাম উদ্ধার করতে পারলাম। ধরা যাক আমরা একজনের একটা বই-ই নিলাম। সেক্ষেত্রে তালিকাটা কেমন হতে পারে? আমার স্টেটাসে ও নোটে বন্ধুদের দেয়া নামগুলো তুলে দিলাম এখানে। এখানে জনপ্রিয় লেখকরা বোধগম্য কারণেই প্রাধান্য পেয়েছেন। অনেক উপন্যাসই হয়তো মানসম্মতও নয়। তবু আলোচনার সূচনা এই তালিকা থেকে শুরু হতে পারে। অনেক ভাল উপন্যাসের কথা এখানে নেই। সাম্প্রতিক লেখকদের কথাও নেই। কেউ সাজেস্ট করলে খুশী হবো।
বাছাই করতে আরও নাম দরকার।


স্টেটাস ও নোটের কমেন্ট থেকে সংগৃহীত লেখক ও বইয়ের তালিকা : তালিকাটা কালানুক্রমিক হবে ফাইনালি।

১. প্যারিচাঁদ মিত্র- আলালের ঘরের দুলাল

২. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়- বিষবৃক্ষ, দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা

৩. মীর মশাররফ হোসেন- বিষাদসিন্ধু

৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- গোরা, চোখের বালি, যোগাযোগ, শেষের কবিতা

৫. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়- চরিত্রহীন, দেবদাস, শ্রীকান্ত, শেষপ্রশ্ন

৬. বেগম রোকেয়া- মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন

৭. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়- আরণ্যক, অপুর সংসার, পথের পাঁচালী, চাঁদের পাহাড়

৮. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়- পদ্মানদীর মাঝি, পুতুল নাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, চিহ্ন, অহিংসা

৯. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, নাগিনী কন্যার কাহিনী, কবি, আরোগ্য নিকেতন

১০. জীবনানন্দ দাশ- কারুবাসনা, মাল্যবান

১১. কাজী নজরুল ইসলাম- মৃত্যুক্ষুধা

১২. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী : বেনের মেয়ে

১৩.কমলকুমার মজুমদার- অন্তর্জলী যাত্রা, সুহাসিনীর পমেটম, নিম অন্নপূর্ণা

১৪. অদ্বৈত মল্লবর্মণ- তিতাস একটি নদীর নাম

১৫. বুদ্ধদেব বসু- রাত ভর বৃষ্টি, তিথিডোর

১৬. সমরেশ বসু- প্রজাপতি, গঙ্গা, মোক্তার দাদুর কেতু বধ

১৭. কাজী ইমদাদুল হক- আবদুল্লাহ

১৮. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ- লালসালু, কাঁদো নদী কাঁদো, চাঁদের অমাবশ্যা

১৯. শওকত ওসমান- ক্রীতদাসের হাসি, জলাঙ্গী

২০. আশাপূর্ণা দেবী- সুবর্ণলতা, প্রথম প্রতিশ্রুতি

২১. মহাশ্বেতা দেবী- হাজার চুরাশির মা

২২. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়- উপনিবেশ

২৩. সতীনাথ ভাদুড়ী- ঢোঁড়াই চরিত মানস

২৪.প্রমথনাথ বিশী- কেরী সাহেবের মুন্সী

২৫. বিমল মিত্র- কড়ি দিয়ে কেনা, সাহেব বিবি গোলাম

২৬. যাযাবার-দৃষ্টিপাত

২৭. ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়- লুলু, কংকাবতী, ডমরু-চরিত

২৮. মৈত্রেয়ী দেবী- ন হন্যতে

২৯. অমিয়ভূষণ মজুমদার- মধু সাধুখাঁ, মহিষকুড়ার উপকথা

৩০. লীলা মজুমদার- মেঘের সাড়ি ধরতে নারি, নোটর দল

৩১. আবু ইসহাক- সূর্যদীঘল বাড়ি

৩২. রশীদ করীম-মায়ের কাছে যাচ্ছি

৩৩. শংকর- বিত্তবাসনা, চৌরঙ্গী, নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি

৩৪. শিবরাম চক্রবর্তী- ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা

৩৫. ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়- শাপ মোচন

৩৬. বনফুল- মৃগয়া

৩৭. সুবোধ ঘোষ- শতকিয়া

৩৮. জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী- মীরার দুপুর

৩৯. শামসুদ্দীন আবুল কালাম- কাশবনের কন্যা

৪০. শহীদুল্লা কায়সার- সংশপ্তক

৪১. জহির রায়হান- শেষ বিকালের মেয়ে, বরফ গলা নদী, আরেক ফাল্গুন, হাজার বছর ধরে

৪২. গজেন্দ্রকুমার মিত্র- পৌষ ফাগুনের পালা, কলকাতার কাছেই

৪৩. সৈয়দ শামসুল হক- খেলারাম খেলে যা, নিষিদ্ধ লোবান

৪৪. আল মাহমুদ- উপমহাদেশ, পুরুষ সুন্দর

৪৫. আনোয়ার পাশা- রাইফেল রোটি আওরাত

৪৬. দেবেশ রায়- তিস্তাপুরাণ, তিস্তাপারের বৃত্তান্ত

৪৭. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব-পশ্চিম

৪৮. শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়- কুবেরের বিষয় আশয়, দারাশিকো

৪৯. সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়- কুকুর সম্পর্কে দু একটি কথা যা আমি জানি

৫০. সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ- অলীক মানুষ

৫১. শওকত আলী- প্রদোষে প্রাকৃতজন

৫২. হাসান আজিজুল হক- আগুনপাখি

৫৩. আলাউদ্দীন আল আজাদ- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র

৫৪. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস- খোয়াবনামা, চিলেকোঠার সেপাই

৫৫. প্রেমাঙ্কুর আতর্থী- মহাস্থবির জাতক

৫৬. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়- দূরবীন, পারাপার, মানবজমিন

৫৭. মাহমুদুল হক- জীবন আমার বোন, কালোবরফ, মাটির জাহাজ, খেলাঘর, অনুর পাঠশালা

৫৮. আহমদ ছফা- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, অলাতচক্র, পুষ্প-বৃক্ষ-বিহঙ্গপুরাণ, ওঙ্কার, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী

৫৯. মিহির সেনগুপ্ত- বিষাদবৃক্ষ

৬০. হুমায়ুন আজাদ- পাক সার জমিন সাদ বাদ, ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, সব কিছু ভেঙে পড়ে, শুভব্রত ও তার সম্পর্কিত সুসমাচার,

রাজনীতিবিদগণ, ১০,০০০, এবং আরো একটি ধর্ষণ

৬১. হুমায়ূন আহমেদ- নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, জোৎস্না ও জননীর গল্প

৬২. আবুল বাশার- ফুলবউ

৬৩. হাসনাত আবদুল হাই- নভেরা

৬৪. রিজিয়া রহমান- রক্তের অক্ষর, বং থেকে বাংলা

৬৫. সমরেশ মজুমদার- অগ্নিরথ, গর্ভধারিণী, সাতকাহন, উত্তরাধিকার

৬৬. সেলিনা হোসেন- কাঠকয়লার ছবি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, লারা, নীল ময়ূরের যৌবন, হাঙর নদী গ্রেনেড

৬৭. অভিজিৎ সেন- রহুচণ্ডালের হাড়

৬৮. সেলিম আল দীন- চাকা

৬৯. ইমদাদুল হক মিলন- নুরজাহান

৭০. শেখ আব্দুল হাকিম- অপরিণত পাপ

৭১. বুদ্ধদেব গুহ- হলুদ বসন্ত

৭২. বিমল কর : অসময়, এক অভিনেতার মৃত্যু

৭৩. মুহম্মদ জাফর ইকবাল- আমি তপু, আমার বন্ধু রাশেদ, মহব্বত আলীর একদিন

৭৪. নবারুণ ভট্টাচার্য- হার্বাট

৭৫. তসলিমা নাসরিন- নিমন্ত্রণ

৭৬. চানক্য সেন- পুত্র পিতাকে

৭৭. মলয় রায়চৌধুরী- নামগন্ধ

৭৮. বাসুদেব- খেলাঘর

৭৯. সুবিমল মিশ্র- ওয়ানপাইস ফাদার মাদার অথবা শতাব্দির শেষ ইউলিসিস

৮০. রবিশংকর বল- দোজখনামা

৮১. আলোক সরকার- জ্বালানী কাঠ জ্বলো

৮২. স্বপ্নময় চক্রবর্তী- চতুষ্পাঠী

৮৩. অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়- নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে, অলৌকিক জলযান

৮৪. তিলোত্তমা মজুমদার- রাজপাঠ, বসুধার জন্য

৮৫. আনিসুল হক- মা

৮৬. শহীদুল জহির- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, সে রাতে পূণিমা ছিল

৮৭. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও ব্রাত্য রাইসু- যোগাযোগের গভীর সমস্যা নিয়ে কয়েকজন একা একা

৮৮. সুচিত্রা ভট্টাচার্য- কাছের মানুষ

৮৯. সেলিম মোরশেদ- সাপ লুডু খেলা

৯০. নাসরীন জাহান- উড়ুক্কু

৯১. জাকির তালুকদার- মুসলমানমঙ্গল

৯২. শাহীন আখতার- তালাশ

৯৩. সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ- কালকেতু ও ফুল্লরা

৯৪. এবাদুর রহমান- দাস ক্যাপিটাল, গুলমোহর রিপাবলিক

৯৫. পাপড়ি রহমান- বয়ন

৯৬. শ্যামল ভট্টাচার্য- প্রজাপতির দুর্গ

৯৭. শরমিনী আব্বাসী- আমার মেয়েকে বলি

*৯৮. শাহরিয়ার কবির- একাত্তরের যীশু

*৯৯. মামুন হুসাইন- নিক্রপলিস

*১০০. দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়- বিবাহবার্ষিকী]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29345566 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29345566 2011-03-16 20:50:03
ড. ইউনুস বিষয়ে আমি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি ড. ইউনুস শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী, প্রফেসর অব মাইক্রোক্রেডিট, ব্যাংকার টু দ্য পুউর। এমন তো না যে, উনি যদি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি না থাকেন তাইলে কেউ তারে পাত্তা দিবো না। ওনার ক্রেডিবিলিটি ও পারসোনালিটি হারায়ে যাবে। তার চাইতে বড় কথা, এত বড় প্রতিষ্ঠান উনি গড়ছেন, এত সমৃদ্ধি পাইছেন, এত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাইছেন- তারপরও কী কারণে ওনার এমডি পদ দখলে রাখা জরুরি হয়া পড়লো? এত উপরে উঠার পর বড় ব্যক্তিদের তো এমনেই ছোট পদ ছাইড়া বিতর্কের উর্ধ্বে উঠা লাগে। কিন্তু সেইটা যথাসময়ে না কইরা তিনি যে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশ পর্যন্ত ওয়েট করলেন, এইটা বিশাল সংকীর্ণতার পরিচায়ক।
তদুপরি, ঘটনা অতো বড়ও না। গুরুত্বের দিক থিকা একটা ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করা হইছে এই খবর সামান্য। এমডি পদে যিনি বইসা রইছেন তিনি ড. ইউনুস বা মো. জব্বার সেইটা বিষয় না। কিন্তু সরকারের, অর্থমন্ত্রণালয়ের এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎপরতা শুরু হওনের পর ড. ইউনুস এবং তার সমর্থক আন্তর্জাতিক মিডিয়া তিলরে তাল বানায়ে ফেলছে। ঘটনা এমন যেন, ড. ইউনুসকে গ্রেফতার করে অন্তরীণ করা হইছে কিংবা দুনিয়া থিকা সরায়ে দেওনের উদ্যোগ নেওয়া হইছে। যেন শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপর এই আঘাত বিশ্বশান্তিতে আঘাত হানছে। ফলে, আন্তর্জাতিক মিডিয়া ত্রাহি ত্রাহি রব শুরু করছে। প্রথম আলো পইড়া একেবারে টাসকি খায়া গেলাম। ইউনুসের এই অপমান সইতে না পাইরা হিলারি নাকি বাংলাদেশ সফর বাতিল করছেন। ওবামার লগে হাসিনা সাক্ষাৎ হুমকির মধ্যে পড়ছে। ফ্রেন্ডস অব ইউনুস/ গ্রামীণ ব্যাংক সরকারকে জেরা করতেছে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হইতেছে, পুরা বাংলাদেশ একদিকে আর ইউনুস একদিকে। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সরকার ও মানুষের চাইতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউনুস বড়। একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের অধিক গুরুত্ব দিয়া রাষ্ট্রের অধিক ক্ষমতায়ন কইরা যুক্তরাষ্ট্র যে নীতিগত ভুল করতেছে সেইটা শোধরানোর জন্য হইলেও মানুষের উচিত ইউনুসের বিপক্ষে দাঁড়ানো।
ড. ইউনুসের অনেক অবদান আছে। ক্ষুদ্রঋণ আইডিয়া হিসাবে অনেকের কাছেই ভাল। শুধু ভাল না, অনেকেই মনে করেন দারিদ্র কমাইতে এইটার ভূমিকা আছে। অনেক দেশ এই মডেল নিছে। এর জন্য ইউনুস সম্মানিত হইছেন। নোবেল সহ বহু পুরস্কার পাইছেন, পৃথিবীর নিয়ন্ত্রকদের সান্নিধ্য পাইছেন। এই সান্নিধ্য সম্মানের অর্থ এই না যে, উনি এ দেশের আইন-কানুনের উর্ধ্বে উইঠা গেছেন। এদেশের এক রকম নিয়ন্ত্রণ বনে গেছেন। উনি অনেক কাজ করছেন, সেই কাজের মধ্যে ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে, না থাকাটাই অস্বাভাবিক। অনিয়ম হইতে পারে। সেই অনিয়মের প্রতিবিধানও দরকার। সেই প্রতিবিধানের জন্য ওনাকে দেশের প্রচলিত আইন ও কানুন মানতে হবে। যদি যদি মনে করেন, ফ্রেন্ডস অব ইউনুসরা তাকে আইনের উপরে স্থাপন করবে। তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা মানে সরকারের বা বাংলাদেশের বিপদে পড়া তাইলে, আমি বলবো, শুধু এমডি পদ থিকা অপসারণ নয়, ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি তদন্ত পরিচালিত হওয়া উচিত।
ড. ইউনুস আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং সেই ধারণা বেশ কল্কে পাইছে যে, শেখ হাসিনা তাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে। কথাটা একদিক দিয়া সত্য। আবার মিথ্যাও। ব্যক্তি হিসাবে ড. ইউনুস শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দূরের কথা জনসমর্থনের রেসে দৌড়ানোর যোগ্যতাও তার নাই। ইউনুস নিজে রাজনৈতিক দল করা চেষ্টা কইরা বুঝছেন, এইটা বড় কঠিন জিনিশ। ফলে তিনি পিছায়ে গেছেন। পিছায়ে গিয়া যে তিনি আবার কইতেছেন, হাসিনা তারে প্রতিপক্ষ মনে করে সেইটার কারণ কী?
আমার মতে, তিনি বাইরে একটা রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেরে হাজির করতে চান। তার রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার জটিল পথে এই দাবি একটা সুড়সুড়ি দিতে পারে। কিন্তু এইটা সত্য ইউনুস না, ইউনুস যে সিস্টেমের অংশ সেই সিস্টেমটা শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষ। শুধু শেখ হাসিনা না- খালেদা জিয়া সহ বাংলাদেশের পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই প্রতিপক্ষ এরা।
এরা কখনো ফ্রেন্ডস অব ইউনুস, কখনো ফ্রেন্ডস অব সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কখনো জাতিসংঘের কর্তা, কখনো দাতাগোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীটাকে যারা চিনেন নাই, তারা ওয়ান ইলেভেনের শিক্ষা মিস করছেন। বস্তুত, এই গোষ্ঠীটাকে সহজ ভাষায় বলা যায়, ফ্রেন্ডস অব ওয়ান ইলেভেন। এদের কারণেই, এদেশের মানুষকে দুই বছরব্যাপী জরুরি অবস্থার কষ্ট সহ্য করে নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হইছে। ফ্রেন্ডস অব ওয়ান ইলেভেনের কারণে হাসিনাকে গ্রেফতার হইতে হইছে, দেশ ত্যাগ করতে হইছে, জেল খাটতে হইছে, এমনকি দলীয় নিয়ন্ত্রণও হারানোর সংকটে পড়তে হইছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি, মার্কিন ক্ষমতাধরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব, জাতিসংঘে অবস্থান ইত্যাদি কারণে ড. ইউনুস ফ্রেন্ডস অব ওয়ান ইলেভেনর নেতা। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্মানের জন্য যেমন তিনি সম্মানিত তেমনি আমাদের আন্তর্জাতিক বিপত্তির জন্য তিনি দায়ী। তিনি আমাদের জন্য সুপ্ত আহমেদ চালাবি বা এলবারাদি। ফলে, তার বিষয়ে সাবধান থাকা জরুরি।
ইউনুস এখন বিপদে পড়ায় কারা বেশি তড়পাইতেছে এইটা একটু খেয়াল করা দরকার। একটু চোখ বোলাইলেই দেখবেন, এই গোষ্ঠীটাকে আমরা সবাই চিনি। এরাই ফ্রেন্ডস অব ওয়ান ইলেভেন।
আমি শেখ হাসিনার রাজনীতিকে সমর্থন করি না। শেখ হাসিনার কর্মসূচির প্রতিও আমার আস্থা নাই। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই হউক আর ওয়ান ইলেভেনের অপমানের জন্যই হউক, শেখ হাসিনা যেমনে ফ্রেন্ডস অব ওয়ান ইলেভেনের মৌচাকে ঢিল মারছেন সেইটারে আমি সমর্থন করি। রাজনীতিক হিসাবে শেখ হাসিনা জানেন, এই মৌচাকের মৌমাছি কত বিষধর। তাদের হুল ফোটানোর ক্ষমতা কত বেশি। তবু যে তিনি একেবারে রাণী মৌমাছির গায়ে হাত দিছেন, সেইটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিশ্চয়ই জানেন কত আন্তর্জাতিক ও জাতীয় হুল তাকে মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু সেইগুলারে কেয়ার না কইরা তিনি ছোট হইলেও ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিছেন তাতে সমর্থন দেওয়াটা নাগরিক হিসাবে আমাদের দায়িত্ব। এই বিষয়ে বিএনপি যে নীতি নিছে সেইটা বুইঝা নিছে বইলা আমার মনে হইতেছে না। তাদের মনে রাখা উচিত আওয়ামী লীগের বিপক্ষে গেলেই সেইটা তাদের পক্ষে না। এমন কিছু দেশে আছে যা বিএনপির যেমন আওয়ামী লীগের জন্যও তেমন বিপদের কারণ।
কারণ ফ্রেন্ডস অব ওয়ান ইলেভেন একদা আমাদের দেশে অগণতান্ত্রিক শাসন ঘটাইছিল। আগামীতেও ঘটানোর ক্ষমতা তাদের হবে না সেটা মনে করা ঠিক হবে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29337490 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29337490 2011-03-03 16:58:21
আমার কবিতার বই : বস্তপৃথিবীর রহস্য
বইয়ের ভূমিকা এই:

দীর্ঘদিন ধরে এই একটি নাম, ‘বস্তুপৃথিবীর রহস্য’ আমার মাথায় ঘুরছে। প্রস্তুত ছিল কবিতাগুলোও। কিন্তু গদ্যের দিকে পূর্ণোদ্যমে দাখিল হওয়ার বাসনায় বাতাস দিতে গিয়ে বই আকারে ‘বস্তুপৃথিবীর রহস্য’ বহুদিন পৃথিবীর আলো দেখে নাই। কিন্তু দ্বিতীয় কাব্যের আইডিয়া মাথায় আসার পর মনে হলো, এই অপ্রকাশিত কবিতাগুলোর একটা হিল্লে করা দরকার। ‘অপ্রকাশিত জীবনানন্দ’ নামে আমার দ্বিতীয় কবিতার বই প্রকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোই এর জন্য কাল হলো। ই-বুক আকারে প্রকাশ করে দিলাম একে। ছাপা কাগজে মুদ্রিত হয়ে এ বই বাজারে এলো না। সে এক অপূর্ব আনন্দের ব্যাপার। ছাপা বইয়ের ব্যাপারে আমার অভিযোগ নাই, ই-বুক নিয়েও অস্বস্তি নাই। নতুন পাঠকের কাছে বইকে সহজলভ্য করার আকাঙ্ক্ষাই ই-বুক সংস্করণের জন্য দায়ী। এ-ই আমার প্রথম কবিতার বই। কবিতাগুলো ১৯৯৬ থেকে ২০১০ পর্যন্ত সময়ে লেখা। চেষ্টা করেছি কালানুক্রমিকভাবে সাজাবার।

বইটা পড়া যাবে এই লিঙ্ক থেকে :
বস্তুপৃথিবীর রহস্য ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29269390 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29269390 2010-11-09 20:58:40
সাহিত্য নিয়া অনলাইন ম্যাগাজিন 'সাময়িকী' পইড়া দেখতে পারেন সাহিত্য নিয়া অনলাইন ম্যাগাজিনের লিঙ্ক ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29231879 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29231879 2010-08-29 18:41:42 বাবুল, শাহ আলম, মান্নান এবং মধ্যবিত্ত হিপোক্রেটদের সুপরিকল্পিত শহর প্রথমবার যখন যমুনা গ্রুপের বাবুল সাহেবরে উনি শায়েস্তা করতে মনস্থ করলেন তখন আপনেদের মনে পড়বে কী হইছিল। রাজউক যমুনা গ্রুপরে চিঠি দিছিল, যে আপনেরা যমুনা ফিউচার পার্কের টাওয়ার অনুমোদনের বাইরেও উচা করছেন। আমরা টাওয়ার ভাঙতে যাবো। যেই কথা সেই কাজ, রাজউকের মিস্ত্রিরা হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট পাশে রেখে যমুনার দামি বিদেশী কাচ ভাঙতে লাগলো।
প্রশ্ন উঠে পারে, যমুনা ফিউচার পার্কের মাথা ভাইঙ্গা কী লাভ হইলো? এতে রাজউকের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারী আর দস্যুরা মিলে যে একটা অসহনীয় সিটি বানাইছে তার কোনো সুরাহা কী হইবে?
কিন্তু একটা জিনিশ বুঝা যায়, এতে শহরের কোনো উপকার না হইলেও মন্ত্রীর ইগো প্রশমিত হইলো। বাবুলের দর্প চূর্ণ হইলো। এর বেশি কোনো লাভ হইলে সেইটা কী, জানার ইচ্ছা করে।
এইবার শাহ আলমের লগে প্রতিমন্ত্রীর বিতণ্ডার পর প্রতিমন্ত্রীর দৌড় কিছু বুঝা গেল আবার। রাজউক আবার বসুন্ধরার দর্প চূর্ণ করার উদ্যোগ নিলো।
শাহ আলমরে নোটিশ দিল। বসুন্ধরার চূড়া ভাঙতে পারলে মন্ত্রীর ইগো শান্ত হইতো বটে। কিন্তু কেন জানি জিনিশটা আগাইলো না।
হইতে পারে শাহ আলম আরও মন্ত্রী মিনিস্টারদের হাত করছেন। হইতে পারে, এমপিদের মাধ্যমে উনি চাপ দিতেছেন। ফলে, মন্ত্রী বলতেছেন, ওনারা আমার ভাই, ওনারা আমার খালা। আবার বলতেছেন, ওনারা রাষ্ট্রের চাইতে নিজেদের শক্তিমান ভাবে। যে কোনো মূল্যে ড্যাপ আমরা বাস্তবায়ন করবো। শুনা যাইতেছে, ড্যাপ বাস্তবায়ন হইলে শাহ আলম আর বাবুল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা রাজধানীর চাইরদিকে জলাশয়ে বড় প্রজেক্ট নামাইছেন। ফলে মন্ত্রীর লগে একটা ঘোর গণ্ডোগল লাগছে।
মন্ত্রী চান, ড্যাপ, ওনারা চান না। ড্যাপ কইরা শান্তি পাওয়া মন্ত্রী যে আমাদের দেশে আছে এইটা ভাবতেও ভাল লাগে। যাই হউক, মন্ত্রী কেন এত সাহসী আর কেন এত দস্যু বিরোধী এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নাই। এ জন্য আরও উচ্চতর গবেষণা প্রয়োজন।
এই গবেষণায় না গিয়া ড্যাপ নিয়া একটু ভাবি। দেশে শহর একটাই। ঢাকা। এই শহরকে কেন্দ্র কইরা আমরা রাজনীতি, প্রশাসন, বাণিজ্য সব গইড়া তুলছি। শহর যে আরও দরকার তা ভাবি নাই। আর শহরও গড়ি নাই। ফলে কোটি মানুষ এই শহরে জড়ো হইছে। আরও আসতেছে। এখন এই শহর উপচায়ে পড়তেছে। এইখানে নিম্নবিত্ত আসছে, বস্তি দরকার। মধ্যবিত্ত আসছে ফ্লাট দরকার। উচ্চবিত্ত আসছে গুলশান বনানী দরকার।
মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্ত মিলে গাড়ি কিনতেছে, আমরা কইলাম সমস্যা গাড়ি না সমস্যা রিকশা। রিকশা তুইলা দেও, সমস্যার সমাধান হবে। রিকশা তোলা হইলো, এখন জ্যামের মধ্যে খালি গাড়ি, জ্যাম কমে না। এখন এই অল্প রাস্তা যারা দখল কইরা নিজেদের গাড়ি রাখতেছে তাদের আমরা কী বলবো? রাস্তা দস্যু? মধ্যবিত্ত কোনোদিনই গাড়ি কেনার সময় চিন্তা করে না, এই গাড়ির জায়গা কই হবে। একজনকে বলেন, ভাই আপনে গাড়ি কিইনেন না। জায়গা দখল হবে। কী উত্তর পাবেন?
আমার প্রশ্ন হইলো গাড়ি দিয়া রাস্তা দখল কইরা যারা দস্যুতা করলো তারা দস্যু না যারা গাড়ি আমদানি করলো তারা দস্যু? নাকি দস্যু সরকার যারা প্রত্যাশিতভাবে রাস্তা বাড়াইতে পারে নাই উপরে নিচে, ডাইনে বামে?
গাড়ি দিয়া মধ্যবিত্ত যেমনে রাস্তা দখল করে ততো সহজে তো জমি দখল করা যায় না। ফলে মধ্যবিত্ত কী করে? তারা দস্যু নিয়োগ করে। যদি বলি মধ্যবিত্ত বাবুল, শাহ আলমদের দিয়া নিজেদের জন্য জমি দখল করায় তাইলে কী ভুল বলবো?
একজন তার জীবনের সমস্ত আয় তুইলা দেয় একজন ডাকাইতের হাতে। যারে প্রথম আলো ডাকাইত কয়, মিডিয়া ডাকাইত কয়, মন্ত্রী কয় তার হাতে সারা জীবনের সঞ্চয় মধ্যবিত্ত তুইলা দেয় কী মনে হইরা, এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে?
আমার মনে, আমাদের মধ্যবিত্ত যদি সচেতন হইতো, আগে নিজে বদলায়ে অপরকে বদলানোর কথা চিন্তা করতো তাইলে বাবুল-শাহ আলমরা এত উন্নতি করতে পারতো না। মধ্যবিত্তরে ফ্লাট দরকার সে নদী, খালবিল নালা দখল কইরা বানানো বাড়ি কিনে। গাড়ি দরকার সে রাস্তা দখল কইরা গাড়ি চালায়। তারপর সে কয়, আমার সুখ দরকার। একটা সুখের শহর দরকার। পরিকল্পিত নগর দরকার। এই জন্য সরকার ড্যাপ বানায়। বুড়িগঙ্গা থিকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এইটা করে সেইটা করে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।
এর মধ্যে একটা পরিহাসের মতো উপস্থিত হয় মন্ত্রীর হম্বিতম্বি। যে শহরে তিল ধারণের জায়গা নাই সেইখানে একটা ফ্লাটের স্বপ্ন বুকে নিয়া যখন মধ্যবিত্ত পত্রিকা পড়ে আর জামিলুর রেজা চৌধুরীর ড্যাপ কপচায় আর শাহ আলম বাবুলদের ডাকাইত কয় তখন হাসি লাগে। চোরের সাক্ষী গাইট কাটা। তার আবার ডিটেইল এরিয়া প্লান!
মান্নানের লগে বাবুল শাহ আলমদের এই তর্কাতর্কির মধ্যে আমি এই মধ্যবিত্তের অনন্ত বাসনার দিকে তাকায়া থাকি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29186426 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29186426 2010-06-27 18:46:54
রবী ঠাকুরের ছবি নিলামে পড়েন এইখানে

বিজ্ঞাপনধর্মী পোস্ট।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29178869 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29178869 2010-06-17 14:53:06
সরকার সঠিক পথে আগাইতেছে, আমাদের ভাল লাগতেছে, বাচ্চালোগ তালিয়া বাজাও 'দেশ সঠিক পথেই'। শিরোনামটা পইড়া মনটা ভাল হয়া গেল। দেশ যদি সঠিক পথে আগায় তাইলে দেশের একজন তরুণ নাগরিক হিসাবে আমাদের খুশী হওয়ার কথা। কিন্তু কেন জানি তেমন একটা খুশী হইতে পারলাম না। মনে হইলো, কোথাও একটা সমস্যা আছে। নিউজটা বলতেছে, আগামী ৫ বছরে মৌলবাদী রাষ্ট্র হওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের নাই। জরিপে তরুণরা এইটা মনে করে। আগামী ৫ বছর কেন কোনো সময়েই বাংলাদেশের 'মৌলবাদী' রাষ্ট্র হওয়ার সম্ভাবনা নাই। এই কথা সত্য যে এইখানে ধর্মভিত্তিক বৈধ ও অবৈধ রাজনৈতিক দলগুলোর সীমিত জনসমর্থন আছে। কিন্তু 'মৌলবাদী' রাষ্ট্র বলতে যেমনে ধর্মভিত্তিক দলগুলার ক্ষমতা আরোহন বুঝায় সেই জিনিশ এইখানে হওয়ার সম্ভাবনা বহুকাল পর্যন্ত নাই। জনকণ্ঠের নিউজেই আছে, তরুণরা মনে করতেছে, আগামী ৫ বছরে দুর্নীতি পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বাহ, তাইলে এই জরিপের ভিত্তিতে কি এই শিরোনাম দেওয়া যায় যে দেশ সঠিক দিকে আগাইতেছে?
নিউজটা পইড়া মনে হইলো, শিরোনামে একটা ধাপ্পা দিয়া একটা জরিপের ফল বিকৃতভাবে উপস্থাপন কইরা সরকাররে তেল দেওয়ার কাজ সারা হইছে। তেল দেওয়া খারাপ কিছু না। তেল প্রাপ্য হইলে সরকার তা বেশি কইরা পায়। বাংলাদেশে প্রচুর মিডিয়া সরকাররে তেল দিতেছে। মিডিয়াগুলার বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের কারণে সরকারকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়ার ঐতিহ্য বিগত সব সরকারের আমলে চইলা আসতেছে। শুধু তাই নয়, বিএনপি আমলে তারেক রহমানের দুর্নীতি নিয়া ইঙ্গিতও দেওয়া যাইতো না। পত্রিকাগুলার কর্পোরেট স্বার্থের কারণে তারা সেলফ সেন্সরশিপের মধ্য দিয়া যায়। নিজেদের এবং সরকারকে তারা এমনে নিরাপত্তা দেয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বাতাবরণে। চাপা দেওয়া খবরগুলা যখন বাইরায়া পড়ে তখন মিডিয়া ও সরকারের এই কারসাজি বুঝা যায়। চাপা দেওয়া খবর ছাড়া পাইলে বল্গাহারা হয়া উঠে।
যাই হউক, সরকারগুলা মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সমর্থন উপভোগ করে সাধারণত এবং ভাবে দেশ ভাল চলতেছে, আমরা ভাল চলতেছি, মানুষ রাস্তায় নামবে না, কোনো সমস্যা হবে না। সাধারণত প্রায় সব মিডিয়াই ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে থাকে। কিছু মিডিয়া স্বাধীন সম্পাদকীয় নীতি অবলম্বন করে। পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়া সাংবাদিকতা এথিকস নিয়া থাকে। তারা জনপ্রিয় হইতে পারে আবার নাও পারে, কিন্তু বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এই ধরনের স্বাধীন মিডিয়াগুলা সরকারের চাইতে বড় কোনো শক্তির সমর্থনপুষ্ট হয়। আর বাকী থাকে কিছু বিরোধী দল সমর্থিত পত্রিকা। এরা যেন তেন প্রকারে সরকারের সমালোচনা করতে থাকে।
এখনকার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পত্রিকার এই বিভাজনের কোনো এদিক-উদিক হয় নাই। অধিকাংশ পত্রিকা সরকারকে সমর্থন দিছে। এমনকি স্বাধীন সম্পাদকীয় নীতির পত্রিকাগুলাও সরকার সমর্থক হিসাবে ছদ্মবেশ ধারণ করছে। দুই একটা পত্রিকা বিএনপি-জামাত সমর্থক হিসাবে টিকে আছে।
গণতান্ত্রিক আমলগুলাকে এই চর্চাই দুই একটা ব্যতিক্রম ছাড়া চইলা আসতেছিল। ভাবা যাইতেছিল, একটা অগণতান্ত্রিক শাসনের পর আওয়ামী শাসনেও এই অবস্থা চলবে। কারণ আওয়ামী লীগ কনফিডেন্টলি দেশ শাসন করবে এই আশা আছিল। কারণ,
১. তারা বিপুল জনসমর্থন নিয়া ক্ষমতায় আসছে। সংসদে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে।
২. বাইরের ও ভেতরের শক্তিগুলা তাদের সমর্থন দিছে।
৩. অধিকাংশ মিডিয়া তাদের পক্ষে আছে।
৪. ধারণা করা যায়, জনগণও এখন পর্যন্ত মনে করে আওয়ামী লীগ বাকী সময় দেশ শাসন করুক।
৫. বিরোধী দলের অবস্থা খারাপ। জামাত বিচারের ভয়ে, আর বিএনপি কোন্দলে, মামলায়, দেশান্তরে অস্থির। বামদের বড় অংশ আওয়ামী লীগের সঙ্গেই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগ করতেছে।
আওয়ামী লীগের কনফিডেন্সের পঞ্চম কারণ হইতে পারে তার শক্তিশালী দলগত অবস্থান। মন্ত্রিসভায় প্রথমে সংস্কারপন্থীদের নেওয়া হয় নাই। ভাবা গেছলো এরা একটা ষড়যন্ত্র পাকাতে পারে। এখন পর্যন্ত তেমন কিছু হয় নাই। কাচা মন্ত্রীরা পারবে না এমন আওয়াজও বেশি দিন টিকে নাই। প্রশাসন আওয়ামী লীগ নিজের মতো কইরা সাজাইছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগের মাস্তানী, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, খুনাখুনি আছে কিন্তু সেইটা সরকারের সমস্যা না, জনগণের সমস্যা।
বলা হয়, এরকম ভাল অবস্থা কোনো সরকারের অতীতে ছিল না। সরকার যেমনে বিডিআর বিদ্রোহ সামাল দিছে আর ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার করছে তাতে বুঝা যায় অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানেই তারা আছে। আশা করা যাইতেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে তাদের এমন শক্তির দেখা পাওয়া যাবে।
কিন্তু সাম্প্রতিক কালে কয়টা ঘটনায় মনে হইতেছে, যতটা ভাবা গেছলো ততোটা না, সরকার আসলে কনফিডেন্ট না। অপেক্ষাকৃত ছোট ও অগোছালো বিরোধী দলকে তারা আক্রমণ করা শুরু করছে। যেইখানে বিএনপিকে স্বাধীনভাবে বাড়তে দিলে তারা ৫ বছরে পুরা গুছাইতে পারবে বইলা মনে করা হয় না সেইখানে সরকারের এই আগাম আক্রমণ একটু বেশি সতর্কতা। যাই হোক, আওয়ামী লীগ বিএনপির রাজনীতির ধারা এই। ফলে তাদের বিবাদ মাইনা নেওয়া যায়।
কিন্তু সরকার যখন বিভিন্ন টিভির লাইভ টক শো, নির্দিষ্ট গেস্ট, টিভি চ্যানেল, পত্রিকা, ফেসবুকের মতো মিডিয়াগুলা বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে যায় তখন একটু নড়ে চড়ে বসতে হয়। এইটা ঠিক যে, এই সব মিডিয়া বা অনুষ্ঠানই ভিন্ন ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ হইছে। কিন্তু এর মধ্যে একটা সূত্র আছে।
বিটিআরসি একটা সূত্র। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একটা সংগঠন তৈরি হইছিল গুরুতর অপরাধ দমন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। এই কমিটি দুর্নীতি দমন কমিশনে অফিস করতো। বিভিন্ন জনের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতো, অভিযানও পরিচালনা করতো। পরে জানা গেল, এই কমিটিটাই অবৈধ। এমনকি এমনও জানা গেল, এই ধরনের কোনো কমিটি কোনো কালে আছিল না। প্রশ্ন তাইলে ওই কমিটির অভিযান পরোয়ান এইগুলার কী হবে? এই প্রশ্ন কেউ তোলে নাই, উত্তরও পাওয়া যাবে না। সেই প্রশ্নে উত্তর আপাতত আমাদের দরকারও নাই।
কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে বিটিআরসির কার্যক্রমে ওই সংস্থাটির সঙ্গে তাদের তুলনা করার ইচ্ছা হয়। ধরো, মারো, কাটো নীতিতে চলতেছে প্রতিষ্ঠানটা। প্রথমে সবগুলা দেশী ফোন কোম্পানি বন্ধ করলো, পরে দুইটা টিভি চ্যানেল বন্ধ করলো, এরপর ফেসবুক তাদের হামলার শিকার হইলো। অপরাধ হইলে আইন আছে, বিহিত আছে কিন্তু ধরো মারো কাটো নীতিতে বিটিআরসি এমন অবস্থা তৈরি করছে যে, মানুষ বিশেষ কইরা তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল বলতে এখন ডিডিজিটালাইজেশন বুঝতেছে। ডিজিটাল মানে এখন ডিজিটাল-বিরুদ্ধ কাজ করা। এই সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বইলা তরুণদের সমর্থন নিছিল, সেইটা এখন এক বিটিআরসির কারণেই কেউ বিশ্বাস করতেছে না। শেষ ফেসবুক বন্ধ করার ঘটনায় সরকার ব্যাপক জনসমর্থন হারাইছে। সরকার যদি তরুণদের সমর্থন ফিরে পাইতে চায় তাইলে বিটিআরসিকে সামলাইতে হবে। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে। বিচার আপাতত মতীন হয়া আছে। মতীন পরিস্থিতিতে কবে সেইটা সঠিক খাতে আসবে কেউ জানে না।
গণতন্ত্রমনা মানুষ মনে করে আওয়ামী লীগ সরকার টিকে থাকুক। ৫ বছর কেন আগামী নির্বাচনেও তারা আসুক। কিন্তু আওয়ামী লীগের চালচলে মনে হইতেছে তারা নিজেরাই সেইটা চায় না।
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নানা কথা শোনা যাইতেছিল। তখন বলা হইতো, ওই সরকার রাজনীতিকদের এমন ছবক দিছে যে, দেশ নাকি কোনোদিন আগের অবস্থায় ফিরবে না। দেশের রাজনীতিকরা দুর্নীতির কথা সহজে ভাববে না। মিডিয়ার স্বাধীনতার উপর কেউ চড়াউ হবে না। আরও যে কতকিছু হবে না তার লিস্ট দীর্ঘ। সবচেয়ে বড় কথা, আওয়ামী লীগ বিএনপি মিলে এমন ভাই ভাই হয়া দেশ চালাইবে যে সেইটা দেখার মতো হইবে।
এইসব সায়েন্স ফিকশন মিথ্যা প্রমাণ কইরা মাত্র ১৮ মাসে আওয়ামী লীগ দেশকে আগের অবস্থায় ফিরায়া নিয়া গেছে। এর একক কৃতিত্ব তাদেরই পড়তে হবে। আমি এখন ফখরুদ্দিন আহমেদের প্রথম দিনের বক্তৃতাটার কপি খুঁজতেছি। পইড়া দেখতে চাই, সায়েন্স ফিকশন হিসাবে।
আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক গতিবিধি, রাজনীতি, কথাবার্তা দেইখা মনে হইতেছে দলটা মনে করে তাদের জনসমর্থন আর নাই। ফলে, তারা ভয় পাইছে। ক্ষমতাসীনদের ভয় মারাত্মক, এইটা হামলার আকারে প্রকাশিত হয়। আওয়ামী লীগের ভয় এখন হামলার আকারে প্রকাশিত হইতেছে। এই অবস্থায় আমাদের কর্তব্য হইলো সরকারকে সমর্থন দেওয়া। তাদের ভয় ভাঙানো। নইলে জাতির কপালে দুঃখ আছে।
এই কথা সত্য, আওয়ামী লীগ আমাদের পানি-বিদ্যুত-গ্যাস কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে নাই। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাইতে পারে নাই। তাদের দলের মাস্তানরা দেশে অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করছে। দেশের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলার মাজা ভাইঙ্গা দেওয়া হইছে। দেশকে কোনো যথার্থ নীতিতে চালাইতে তারা পারতেছে না। তরুণদের জন্য কোনো স্বপ্ন নাই তাদের কর্মসূচিতে। চাকরির ব্যবস্থা নাই।
এই নাইয়ের তালিকা দীর্ঘ। হাভাতে এই দেশে এইটা থাকবেই। কিন্তু আমাদের দরকার গণতন্ত্র। গণতন্ত্র না থাকলে নাইও থাকবে না।
তাই আসেন আমরা সরকারের ভয় ভাঙাই। কারণ ক্ষমতাসীনদের ভয় হামলার আকারে প্রকাশিত হয়। নিজেদের স্বার্থেই আমাদের উচিত সরকারের হাত শক্তিশালী করা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29176093 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29176093 2010-06-13 15:37:50
বিল্ডিং যদি ২১ তলা হয় তবে সেইটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে না, তবে ৫-৭ তলা হইলে অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ ৭ তলা বিল্ডিং হেললো তো বাড়ির মালিক গ্রেফতার হয়া গেল।
২১ তলা বিল্ডিং হেললো তো দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কইরা সেফ সার্টিফিকেট দেওয়া হইলো।
আমরা যা শিখলাম :
যে যত উঁচু সে ততো সেফ।

প্রশ্ন হইলো, ঢাকা শহরের বিল্ডিংগুলা একযোগে হেলতেছে কেন?
১. আওয়ামী লীগ সরকার চালাইতেছে বইলা?
২. রাজউককে বিপদে ফেলবে বইলা?
৩. ভূকম্পনে কোনো ফাটল তৈরি হয়ে বর্ষায় সেটা একটিভ হয়া গেলে বইলা?
৪. বাড়িঅলাদের দোষে?

দেশে এত বিশেষজ্ঞ কিন্তু এই কয়দিনে জানতে পারা গেল না উত্তর।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29170942 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29170942 2010-06-05 20:26:13
মুসা ইব্রাহীম, ফেসবুক, আমার দেশ : নিউজ কভারেজ সম্পর্কে এ কয়দিনে মেলা কিছু শিখলাম মুসা পর্বতে উঠছেন, আমরা খুশী হইছি। তারে অভিনন্দন জানাইছি। কিন্তু এই নিয়া প্রথম আলো যা করছে সেইটা খুব লক্ষ করলাম। বাংলাদেশের সবচাইতে বড় মিডিয়া প্রথম আলো। এই মিডিয়া মুসার এভারেস্ট জয়ের পর উচ্ছাস প্রকাশ করছে। ঠিক আছে। মুসারে বীরের মর্যাদা দিছে সেটাও ঠিক আছে। মুসারে প্রচারের চূড়ায় উঠাইছে। সেটাও ঠিক আছে। কেউ কেউ বলতেছেন, প্রথম আলো একটু বেশি কইরা ফেললো না কি? হয়তো। ব্যক্তিগত আলাপে আমি অনেকরেই কইছি, যদি নিউজ একটা বিক্রির জিনিশ হয়, যদি সেইটার প্যাকেজিং বইলা কিছু থাকে, যদি ব্র্যান্ডিং বইলা কিছু থাকে তাইলে মুসার কভারেজ ঠিকই আছে। মানুষ মুসার নিউজ পড়ছে। স্বপ্ন দেখছে, আনন্দ পাইছে। মুসারে বীর হিসাবে গ্রহণ করছে। এখন ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, মোবাইল কোম্পানিগুলা মুসারে মডেল বানাবে। প্রথম আলোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসাবে মুসা দেশে বিদেশ ঘুইরা বেড়াইবেন। এইগুলা সবই ভাল। আমাদের তো স্টার নাই। ক্রিকেটের ওপর মাল্টিন্যাশনালদের লগ্নি ধরা খাইছে। বীর দূরে থাক স্টারও আমরা পাই নাই। আমাদের নায়ক-নায়িকাদের মধ্যেও তেমন স্টার নাই। ওইখানে চরম গণতন্ত্র চলতেছে মোটামুটি সবাই সমান। রাজনীতিতে তো ভিলেনের ছড়াছড়ি। বীর বলতে এখন মুসা। অতএব চলুক না।
ভাবতেছিলাম, মুসার ক্ষেত্রে প্রথম আলো লিড নিলো। তরুণদের কজ, স্বপ্ন আশা ভরসার ক্ষেত্রে এমন ভূমিকা প্রথম আলোর অবস্থান শক্ত করছে। তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াইছে।
কিন্তু কয়দিন যাইতে না যাইতে একটু থমকাইতে হইলো। প্রশ্ন করার ইচ্ছা হইলো আসলেই কি তরুণ প্রজন্মের ট্রু কজে প্রথম আলো পাশে দাঁড়ায়?
হ্যাঁ। ফেসবুক বন্ধ হওয়ার পর মনে প্রশ্ন জাগলো। ফেসবুক তরুণদের মিডিয়া। তাদের একত্রিত হওয়ার জায়গা। তাদের কথা বলার মাধ্যম। শুধু বাংলাদেশ না সবখানেই এই অবস্থা। ফেসবুক যখন বন্ধ হইলো, তখন প্রথম আলো সেইটারে সিঙ্গেল কলামে গুরুত্বহীনভাবে ছাপলো। আপন মনে আমি দুইটা কজরে মিলাইলাম। মুসার কভারেজ আর ফেসবুকের কভারেজের তুলনা করলাম।
বুঝলাম, প্রথম আলো আসলে মুসার কজের পক্ষে তরুণদের স্বপ্ন আশা ভরসার পক্ষে দাঁড়ায় নাই। দাঁড়াইছে নিজেদের বিজনেস ও ব্রান্ডিংয়ের পক্ষে।
প্রথম আলোর কথা বলতেছি, কারণ প্রথম আলো বড় মিডিয়া। প্রথম আলো বুঝলে অন্যদের চেনা যায়। অন্য মিডিয়াগুলা যে খুব বেশি এসপার ওসপার করছে তা না।
যাই হউক, বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ হইলো। বিদেশে আমাদের সম্মানহানী হইলো। দেশে আমাদের যোগাযোগের, মতপ্রকাশের পথ বন্ধ হইলো কিন্তু এই ঘটনার গুরুত্ব আমাদের মিডিয়া সেই অর্থে যে বুঝতে পারলো না সেইটা বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার।
অবশ্য শুধু ফেসবুক কেন, আমার দেশ বন্ধ হইলে আমাদের মিডিয়াগুলা যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে নাই।
আমি আমার দেশ পত্রিকাটা নিয়মিত রাখতাম। পত্রিকাটা যথেষ্ট বিরক্তিকর। এই পত্রিকাটা শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামাত না, মাহমুদুর রহমানের ব্যক্তিগত প্রচারপত্রে পরিণত হইছিল। নিজের পত্রিকায় প্রতিদিন এমন নির্লজ্জ আত্মপ্রচার করার প্রবণতা যার তার সাংবাদিকতা নিয়া সন্দেহ করার অবকাশ আছে। কিন্তু তারপরও পত্রিকাটা অনেক বিষয়ে সাহসী ভূমিকা নিছে। বিভিন্ন ইস্যুতে ফাইট দিছে। বহু ভুলভাল নিউজ দিছে এটাও ঠিক। পত্রিকাকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মুখপত্র হিসাবে চালাইছে সেইটাও ঠিক।
কিন্তু সরকার যেমনে মাঝরাতে পুলিশ দিয়া পত্রিকা বন্ধ করলো আর মাহমুদুর রহমানকে ধইরা নিয়া গেল সেইটা কোনো বিবেচনায় সমর্থন করা যায় না। আওয়ামী লীগের মিডিয়া দলনের যে দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য আছে সেইটাতে এই ঘটনা নতুন কালিমা যুক্ত করলো।
লক্ষ করলে দেখবেন, বাংলাদেশে এ যাবত যত সামরিক ও অসামরিক সরকার আসছে তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মতো মিডিয়া-অবান্ধব সরকার আর আসে নাই। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ যত মিডিয়া বন্ধ করছে অন্য সব সরকার মিলে তার ৯০ ভাগের একভাগ বন্ধ করছে কি না সন্দেহ। আওয়ামী লীগারদের এই হিসাবটা খেয়াল করা দরকার।
যাই হউক, আমার দেশ বন্ধ হওয়ার পর মুক্তবুদ্ধি, মতপ্রকাশের মুখপত্রগুলো বিশেষ কইরা প্রথম আলো তেমন জোরালো ভূমিকা নিতে পারে নাই। কভারেজের ক্ষেত্রেও কার্পণ্য করছে। হয়তো মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে আগের শত্রুতার কথা তারা মনে রাখছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এইখানে ইস্যু মাহমুদুর রহমান না। আজকে মাহমুদুর রহমানকে যেমনে চুপ করায়ে দেওয়া হইলো কালকে একই পদ্দতিতে অন্যদের চুপ করায়ে দেওয়া হইতে পারে। বিষয় তাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার। এই বিষয়েও আমাদের সবচেয়ে বড় মিডিয়াটা কোনো বিশেষ ভূমিকা নিতে পারলো না।
মুসা ইব্রাহীম, ফেসবুক ও আমার দেশ প্রসঙ্গে প্রথম আলোর কভারেজ দেখেন বুঝবেন কোনটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা গুরুত্বহীন। কোনটা রাজনীতি আর কোনটা রাজনীতি সচেতনতা। কোনটা অবস্থান আর কোনটা অবস্থা। কোনটা করা দরকার আর কোনটা করা হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29169470 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29169470 2010-06-03 19:49:05
না ফেসবুক ওপেন হয় নাই। (এডিট কইরা দিলাম)
স্যরি
কোনো প্রক্সি ছাড়াই আমার এইখানে পেজ ওপেন হইছে। কিন্তু লগ ইন করতে গিয়া আর পারি নাই। টাইম আউট হয়া যায়।
আপনাদের প্রতিক্রিয়া দেইখা মনে হইতেছে, বিটিআরসি ফেসবুক নিয়া নানা টেস্ট চালাইতেছে। তারই এক ফাকে আমি পেজ দেখছি।
যাই হউক, স্যরি। আপনেরা কষ্ট করছেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29169378 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29169378 2010-06-03 17:40:36
চ্যানেল ওয়ান, যমুনা টিভি, ফেসবুক ও আমার দেশ বন্ধ করে দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ যমুনা টিভি বন্ধ করার কারণ আছে। আদালতে গিয়াও সেই কারণ সুরাহা হয় নাই।
ফেসবুক আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর ছবি বিকৃত করে ছাপছে। ফেসবুক বন্ধের কারণ আছে।
আমার দেশ বন্ধেরও অনেক কারণ আছে।
অতএব এইসব বিষয়ে বিতর্ক কইরা লাভ নাই।
আসেন, সরকার যে কারণগুলা দেখাইতেছে সেইগুলা মাইনা নেই আমরা। আপাতত সুখ এইটুকু অন্তত তারা তো কারণ দেখায়ে মিডিয়াগুলা বন্ধ করতেছে। তারা চাইলে তো কারণ নাও দেখাইতে পারতো।
আমাদের সকলের জন্য ভাল যেটা সেটা হলো, একের পর এক মিডিয়া বন্ধের পর হাততালি দেওয়া। সরকারকে ধন্যবাদ জানানো।
আর সাবধানে কথা বলা। আমাদের সাবধানতা হয়তো কিছু কিছু মিডিয়াকে রক্ষা করতে পারে।
আসুন, উপরোক্ত মিডিয়াগুলা বন্ধ করার জন্য সরকারকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29168449 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29168449 2010-06-02 15:07:45
পাকিস্তানে আদালত ফেসবুকের ওপর থেকে ব্যান উঠায়ে নিলো, সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে কী হবে? টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর

ডনের খবর। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29166630 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29166630 2010-05-31 12:47:37
ফেসবুক বন্ধ করার নিউজ দেশের বাইরে কেমনে আসলো : নির্বোধ সরকার আমাদের লজ্জায় ফেলে দিল টাইমস অব ইন্ডিয়া

বিবিসি

এনডিটিভি

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29166015 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29166015 2010-05-30 14:54:22
বিডিনিউজ কনফার্ম করছে ফেসবুক বন্ধ : প্রতিবাদ করতেই হবে এবং এখনই খবর

সরকারের এই ফ্যাসিবাদী সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিবাদ করতেই হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে এমন প্রতারণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সময় এখনই।
আজ সকালেই পাকিস্তানের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাংলাদেশের ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলো সরকারের কাছে ফেসবুক বন্ধের দাবি জানিয়েছে, এমন একটি খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের দেশে কার্টুন রাজনীতির নতুন মাত্রা হিসেবে এটিকে দেখা যেতে পারে। সরকার হয়তো ধারণা করেছে, পাকিস্তানের মতো করে বাংলাদেশেও ফেসবুক বন্ধ করা নিয়ে একটি আন্দোলন করে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলো মাঠ গরম করতে পারে। তাদের সেই আন্দোলনের আগেই সরকার কি ফেসবুক বন্ধ করে দিল? যদি তাই হয় তবে ধর্মান্ধতার কাছে সরকারের এই ন্যক্কারজনক আত্মসমপর্নের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাতেই হবে।
আর যদি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেত্রীর ক্যারিক্যাচার ছাপার অপরাধে ফেসবুক বন্ধ করা হয় তাইলে এর চেয়ে লজ্জার ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। নেত্রীদের অসম্মান করা হলে তার বিহিত আছে। এর মানে এই না যে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের শাস্তি দিতে হবে।
ধর্মীয় কারণে বা নেত্রীদের কারণে যে কারণেই ফেসবুক বন্ধ হউক সেইটা গ্রহণযোগ্য না।
সরকারের উচিত দেরি না করে ফেসবুক খুলে দেওয়া। মতপ্রকাশ, যোগাযোগ ও কথাবলার স্বাধীনতা বন্ধ করার এই ফ্যাসিবাদী পদ্ধতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29165206 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29165206 2010-05-29 21:05:13
কাজী নজরুল ইসলাম মৃদুল দাশগুপ্তের বইটার আর বিশেষ কিছু মনে নাই। কিন্তু তার এই ছেলেখেলার কথা বিশেষভাবে মনে রইছে। কেন মনে রইছে তার একটা ছোট ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাসে যাওনের আগে সাম্প্রতিক একটা ঘটনার কথা বলি। অতিসম্প্রতি কবি গৌতম চৌধুরীর লগে আলাপ হইতেছিল। একথা সেকথার পর আমি তারে কইতেছিলাম, কবি উৎপল কুমার বসুর দেশ নাই। উল্লেখ্য, আমি বিশেষ উৎপল-ভক্ত। আমার উপন্যাসে সেই ভক্তির উদাহরণ আছে বইলা উৎপলের কথা আমাদের ব্যক্তিগত আলোচনায় উঠছিল। তো, গৌতম ভাই একটা চমৎকার কথা কইছিলেন আমার উত্তরে। কইছিলেন, উৎপলের যে দেশ, সেই দেশ আপনেরও। উৎপলের সেই দেশের নাম, আধুনিকতা। আমি কইতেছিলাম, যে আধুনিকতার হাত থিকা নিস্তার পাওনের জন্য কত চেষ্টায় আছি। তবে এইটা ঠিক যে, আমরা যারা ঊনিশ শতকের সন্তান তাদের দেশ শেষ পর্যন্ত সেই আধুনিকতাই। অন্য কোনো দেশ সেইখানে মূর্ত হয়া উঠে নাই।
যে কোনো কারণেই হউক, আমাদের গ্রাজুয়েট স্কুলে আমরা কতিপয় সহপাঠী ঊনিশ শতক নিয়া বিশেষ আগ্রহ পাইছিলাম। বাঙালির তথাকথিত রেনেসাঁ, কলকাতা শহরের মধ্যে তার নবজাগরণ এবং শহরের মধ্যে তার বন্দিত্ব ও নানাবিধ পাপ নিয়া কিছু জ্ঞান অর্জন হইছিল। সেই থিকা আমরা জানছিলাম, উনিশ শতকে বাংলার সাহিত্য তার প্রাচীন ও মধ্যযুগের সঙ্গে বিচ্ছেদ তৈয়ার করছে। শুধু তাই নয়, সাহিত্য অন্তকরণে দেশকে বর্জন কইরা নতুন দিকে গেছে। নবজাগরিত, রেনেসাঁ-শাসিত, আধুনিক বাংলা সাহিত্য যতটা না বাংলার ততোধিক ইউরোপীয়। এই বিষয়ে এন্তার লিটারেচার এখন ছাপা কাগজে পাওয়া যায়।
ফলে, বাংলা সাহিত্যের রথী-মহারথীদের আমরা আদর কইরা বলি, আধুনিকতার সন্তান। বাংলা সাহিত্য তার দেশের দেখা পাইছে অনেক পরে। সেই দেশও ইউরোপীয় সাহিত্যের সমান্তরালে বিকশিত হওনের এক ফাঁকে সাহিত্যে দেখা দিছে। তবু একটা দেশ আছিল, বিশ শতকে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যে দেশ আকার পাইছিল তার নাম ভারতবর্ষ। সঙ্গত কারণেই সেই দেশ এক বিশাল ব্যাপার। কর্নাটক হইতে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত এই দেশ রাজনৈতিক কল্পনায় ধরলেও কবির কল্পনায় ধরা দেয় নাই। কবি-সাহিত্যিকরা বাংলা দেশ বা বাংলাদেশ নামে এক দেশের কথা কইতেন, আমরা এখন গ্রাম বাংলা বইলা যে দেশের কথা কই সেই দেশ ছিল তখন বাংলা দেশ বা বাংলাদেশ। বাঙালি সাহিত্যিকদের ভাষা বাংলা হইলেও, তাদের রাজনৈতিক দেশ আছিল ভারতবর্ষ। বাংলা অঞ্চল আধুনিক সাহিত্যে তাই দেশ হয়া উঠতে পারে নাই।
তবু আমরা দেশ খুঁজি। রবীন্দ্রনাথের মধ্যে পূর্ব বাংলা কতটুক সেইটা নিয়া বিতর্কের শেষ নাই। রবীন্দ্রনাথে মুসলমান কী রকম সেই নিয়াও তদন্ত চলে। রবীন্দ্রনাথ নবজাগরণ ও আধুনিকতার উজ্জ্বলতম সন্তান। তার মধ্যে দেশ থাকার দাবি করা কঠিন। তখনকার রাজনীতিতে তার দেশ ভারতবর্ষ। ঐক্যের মধ্যে সংহতির মর্মবাণী তিনি প্রচার করছেন। তবু বাঙালির জাতীয়তা ও জাতি হিসাবে বাঙালির জাতি রাষ্ট্রের চিন্তা তার মধ্যে সামান্য হইলেও উঁকি দিছিল। ওই পর্যন্তই, মুখটা বাইর করতে পারে নাই। রবীন্দ্রনাথের আধুনিকতা সত্ত্বেও তার একটা দেশের বাড়ির দেখা আমরা পাই। লোকে বলে, রবীন্দ্রনাথ বোটের জানালা দিয়া কি কুঠিবাড়ির বারান্দায় বইসা যতটুকু দেশ দেখছেন ততোটুকই রবীন্দ্র-সাহিত্যের দেশ। একথা নিশ্চিত ছোটগল্পে, গানে, কবিতায় ঠাকুর মশায়ের একটা দেশ আছে। সেই দেশ বাংলা। পশ্চিম বাংলা-পূর্ব বাংলা যাই হউক সেই দেশটা কিছুটা চিনা যায়। মজার ব্যাপার, দূর থিকা দেখলেও পূর্ব বাংলা বেশ চিনা যায়।
আধুনিক সাহিত্য যখন আরও জটিল আবর্তে, নতুন নতুন দিকে ছড়ায়ে দিশাহারা হয়া পড়ছে তখন নবজাগরেণের আরেক সন্তানের দেখা পাইলাম আমরা। তার সমকালীনরা যখন দেশ, রাষ্ট্র, রাজনীতি সব হারায়া বইসা রইছে তখন এই বোকা লোকটা আধুনিকতার মধ্যে একটা দেশের দেখা পাইছিলেন। লোকটার নাম জীবনানন্দ দাশ। আমার মতে, জীবনানন্দের রহস্য এইখানেই। ওই জটিল চিন্তার আবর্তের মধ্যে একটা দেশের এমন স্থাপনা আধুনিক সাহিত্যের ইতিহাসেই বেশি নাইকা।
জীবনানন্দের কবিতা পড়ে তাই নিশ্চিত বইলা দেওয়া যায়, এই কবিতায় দেশ আছে। লোকটা দেশের মধ্য দিয়া হাঁইটা গিয়া কবিতা লেখছেন।
কিন্তু নজরুল? কাজী নজরুল ইসলাম মুসলমান। হিন্দুর নবজাগরণের বাতাস যদি দুইজন বাঙালিকে জাগায়ে থাকে তবে রোকেয়ার পর নজরুলের নাম করতে হয়। নজরুলের উত্থান আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্তগ্রাম থিকা জাইগা উইঠা উনি কেমনে এনলাইটেন্ড হিন্দুর সমান্তরালে দাঁড়াইছিলেন সেইটা নিয়া বিশেষ গবেষণা হইতে পারে। ঘটনাটা আমার কাছে, রহস্যময় মনে হয়। বাঙালি মুসলমানের মধ্যে নজরুল ব্যতিক্রম এবং সবচেয়ে বড় প্রতিভা। এবং অবশ্যই তিনি নবজাগরণেরই সন্তান। নজরুলে উত্থানকালে ভারতবর্ষই ছিল দেশ। কোনো উত্তরাধিকার ছাড়া নজরুলকে যতদ্রুত রেনেসাঁ ও এনলাইটমেন্ট আয়ত্ত করতে হইছে সেইটাতে উনি দেশ হারায়ে ফেলবেন এইটা স্বাভাবিক। আর বাংলার যে অঞ্চল কইলকাতার বাইরে, দূরে বিশেষভাবে দেশ তার সঙ্গে নজরুলের আত্মিক যোগাযোগ কখনো তৈয়ার হয় নাই। এই দেশটারে নজরুল অনুভব করেন নাই, এইখানে তিনি সবসময় অতিথি। তার দেশ ছিল, ভারতবর্ষ, রাষ্ট্রও ছিল ভারতবর্ষ। বাংলাদেশ, বাংলা অঞ্চল বা গ্রামবাংলার কোনো ছবি নজরুলের সাহিত্যে আমি দেখি না।
নজরুলের কবিতা গান উপন্যাস গল্পে যে দেশ সেই দেশ কখনো রুক্ষ্ম চুড়ুলিয়া, কখনো মনে হয় ইরান তুরান উত্তরভারতের কোনো অঞ্চলের কথা সেইখানে। বাংলার যেটুকু ছবি সেইটুকু রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দের চাইতে বহু দূর থিকা দেখা।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মাম পরিহাস হইলো, নজরুল শুধু মুসলমান বইলাই আমাদের জাতীয় কবি। কোন দেশের? বাংলাদেশের। এইদেশ ১৯৭১-এ তৈয়ার হইছে। কিন্তু ১৯৭১ এর আগেও এইখানে একটা দেশ আছিল। মানুষের মনের মধ্যে একটা রাষ্ট্র আছিল। একটা রাষ্ট্র চিন্তা আছিল। একটা ভূপ্রকৃতি আছিল, নদী, ধানক্ষেত, পাটক্ষেত, বন্যা, ক্ষরা সবই আছিল। সেই দেশটা জাতীয় কবির মনে স্থান করতে পারে নাই।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29163285 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29163285 2010-05-26 20:25:16
সরকারের মিডিয়া পলিসি বুঝার চেষ্টা করতেছি শুধু বিনিয়োগকারীরা না, সাংবাদিক-কর্মচারিরাও আশা করতেছিল গণতন্ত্র আসলে মিডিয়ার বিকাশ হবে। নতুন ইনভেস্টমেন্ট আসবে। সবচেয়ে বড় কথা মিডিয়ার বিকাশের জন্য মতপ্রকাশের যোগ্য পরিবেশ তৈয়ার হবে। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর দশ বা ততোধিক টিভি ও পাঁচ বা ততোধিক সংবাদপত্র প্রকাশিত হওয়ার কথা শুনা যাইতেছিল। আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী পন্থীরা টিভি করবে, রেডিও করবে, সংবাদপত্র করবে এইটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ক্ষমতাধর হওয়ার দুই বছরের মধ্যে নতুন অনুমোদন পাওয়া টিভি, পত্রিকা, রেডিওর দেখা মিলতেছে না। যা দুই একটার দেখা মিলছে তার কয়েকটা জরুরি সরকারের সময়কার। আবার আওয়ামী লীগ জরুরি সরকারের সময়কার অনেক অনুমোদন স্থগিত কইরা দিতেছে। যমুনা টিভি এমন একটি টেলিভিশন। যমুনার আগে সরকার বন্ধ করছে চ্যানেল ওয়ান।
একথা ঠিক, বিএনপি একুশে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করছিল। আদালত-নিয়ম-কানুন দেখায়া। নিয়ম-কানুন যতই থাক ইটিভি বন্ধ করার ঘটনা সবাই মনে রাখছে। এখন আওয়ামী লীগ যখন চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করছে তখন ইটিভির স্মৃতি সবার মনে ভাইসা উঠছে। নিয়ম-কানুন, আইন আদালত সবই আছে। কিন্তু এইটারে প্রতিশোধ হিসাবে দেখতেছেন অনেকেই।
হিসাব করি এখন, বিএনপি বন্ধ করছে ইটিভি।
জরুরি সরকার বন্ধ করছে, সিএসবি, আজকের কাগজ
আওয়ামী লীগ বন্ধ করছে, চ্যানেল ওয়ান, যমুনা
এর আগে আওয়ামী লীগ বন্ধ করছে, দৈনিক বাংলা, বাংলার বাণী, বিচিত্রা
তার আগে আওয়ামী লীগ বাকশাল কইরা সব পত্রিকা বন্ধ কইরা শুধু দলীয় কয়টা রাখছিল।
দেখা যায়, বাংলাদেশে আর্মি সরকার, আর্মিপন্থী বিএনপির চাইতে আওয়ামী লীগ বেশি মিডিয়া বন্ধ করেছে অতীতে, বর্তমানেও করতেছে।
এখন প্রশ্ন হইলো, আওয়ামী লীগের মধ্যে মিডিয়া-বিরুদ্ধ এই প্রবণতা কেন কাজ করে। ব্যাপক জনসমর্থন থাকার পরও কেন আওয়ামী সরকারগুলা মনে করে মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার? মিডিয়াকে আরও অনুগত করা দরকার? মিডিয়ায় নিজেদের লোক বেশি কইরা বসানো দরকার?
এসব প্রশ্নে উত্তর বাইর করা কঠিন। অনেকে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বইলা ফ্যাসিবাদের গভীরে এর কারণ খুঁজতে চান। আমার কেন জানি মনে হয়, ফ্যাসিবাদ ছাড়াও আরও কোনো গুরুতর গভীর কারণ আছে। সেই কারণগুলা জানা দরকার।
পাশাপাশি এই কথাগুলাও জানা থাকা দরকার, প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী উদ্যোগ ইনভেস্টমেন্ট হিসাবে বাজারে কোনো মিডিয়া নাই। অথচ আওয়ামী লীগই সেই ভাগ্যবান দল যারা এখন এবং আগেও সিভিল সোসাইটি, আর্মি সমর্থিত, বিএনপি সমর্থিত বহু মিডিয়ার ফ্রি সমর্থন পাইছে এবং পাইতেছে।
এককভাবে আওয়ামী সমর্থক সাংবাদিক-কর্মচারিই মিডিয়া জগতে সবচেয়ে বেশি। তারপরও আওয়ামী লীগ সন্দেহ হইলেই মিডিয়া বন্ধ করে, সাংবাদিকদের বিপদে ফেলে, এবং নতুন মিডিয়া আসার পথে বাধা দেয়। এবং আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী সমর্থকরা যথেষ্ট মিডিয়া উদ্যোগ নেয় না।
এর কারণ কী?
এই সরকারের মিডিয়া নীতি যদি এইভাবে চলতে থাকে তাইলে শেষ পর্যন্ত মিডিয়ার অবস্থা কই গিয়া ঠেকবে?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29161881 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29161881 2010-05-24 15:31:14
১৯৭১ সালের নথিপত্র ধ্বংস একটি অপরাধ : ভারতের প্রধান তথ্য কমিশনার সমকাল ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29153467 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29153467 2010-05-12 08:26:38 মুক্তিযুদ্ধের দলিল খোয়া গেছে ভারতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার শিরোনাম : সত্য হারিয়ে গেল?
মুক্তিযুদ্ধের দলিল খোয়া গেছে ভারতে

রোববার সকালেই দুঃসংবাদটি জানালো ভারতের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া। কয়েক ঘণ্টা পত্রিকাটির ওয়েবসাইটে শীর্ষ সংবাদ হিসেবে জ্বলজ্বল করছিল 'সত্য হারিয়ে গেল? বাংলাদেশ যুদ্ধের অধিকাংশ সামরিক দলিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।' পত্রিকাটি জানাচ্ছে, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য খুঁজছিল। সাম্প্রতিক এ অনুসন্ধানের ফলে এ স্পর্শকাতর তথ্যটি জানাজানি হয়ে যায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, 'আমরা মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য খুঁজছিলাম। এই ক্যাম্পগুলো কোথায় ছিল, কারা এগুলোর দায়িত্বে ছিলেন_ এ তথ্যগুলো জানতে চাচ্ছিলাম। ফাইলগুলো খুঁজে না পাওয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড একটি ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। এরপরই জানতে পারি, দলিলপত্রগুলো খোয়া গেছে।' পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সাবেক দুই প্রধানের মতে, সুপরিকল্পিতভাবেই এই দলিলপত্র ধ্বংস করা হতে পারে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. জেনারেল এফ আর জ্যাকব। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা জেনারেল জ্যাকবের বই 'স্যারেন্ডার অ্যাট ঢাকা : বার্থ অব এ নেশন' এবং বিভিন্ন ভারতীয় সূত্র থেকে জানা যায়, তিনিই ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে শুরু হওয়া চূড়ান্ত যুদ্ধে ঢাকা বিজয়কে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। এ বিষয়ে তৎকালীন ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল স্যাম
মানেক শ'র দ্বিধা সত্ত্বেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। জেনারেল জ্যাকব ১৯৭৪ সালের আগস্টে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হন। জেনারেল জ্যাকব টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হওয়ায় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র চেয়ে পাঠান। তখন তাকে জানানো হয়, দলিলপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে কে দলিল ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়ে থাকতে পারেন সে আলোচনা করতে তিনি রাজি হননি বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। তবে পত্রিকাটি বলছে, পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সাবেক প্রধানদের সঙ্গে আলোচনার সূত্রে বোঝা যায়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের অব্যবহিত পরেই দলিলগুলো ধ্বংস করা হতে পারে। তখন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, যদি এটি সত্য হয় তবে তা হবে অরোরার ইমেজের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয় ও পাকিস্তান বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের নায়ক হিসেবে অরোরা বাংলাদেশ ও ভারতে বীর হিসেবে খ্যাত।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পত্রিকাটির অনলাইন পাঠকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ-রকম একটি খবর প্রকাশের জন্য কেউ কেউ পত্রিকাটিকে বাহ্বা দিয়েছেন। কেউ বা প্রশ্ন করেছেন কেন ভারতীয় সেনাবাহিনী এরকম গুরুত্বপূর্ণ দলিল ধ্বংস করে দিল? কোনো স্পর্শকাতর সামরিক তথ্য কি তারা লুকাতে চেয়েছিল? বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলো অনলাইন সংস্করণে টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাতে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 'কেন' এ প্রশ্নটি এখন সবার মুখে মুখে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া সন্দেহ পোষণ করে বলেছে, এসব দলিল হারিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস হয়তো কখনো লেখা সম্ভব হবে না। ভারতের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতের সেনাসদর ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সেনা দফতরেও কিছু দলিল থাকতে পারে। কিন্তু এগুলো থেকে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন, যোদ্ধাদের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত যুদ্ধে নেতৃত্বদান পর্যন্ত অনেক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে ছিল পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ এসব অবদান গুরুত্বের সঙ্গে স্বীকার করা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এ খবরটি জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন। তার মতে, ভারতে আর্কাইভাল ডকুমেন্ট সংগ্রহের শক্ত বিধান আছে। ফলে, হুট করে কোনো ডকুমেন্ট ধ্বংস করে দেওয়া সেখানে সম্ভব নয়। বলতে গেলে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একমাত্র বিজয়ের ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে ঘটেছে। কেন তারা এমন একটি বিজয়ের দলিল ধ্বংস করবে, এ প্রশ্ন তুলেছেন মুনতাসীর মামুন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ও এস ফোর্সের প্রধান, পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ (অব.) বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতা আমাদের সর্বতোভাবে উপকৃত করেছে এবং সেটি আমাদের স্বার্থেই হয়েছিল। আমরা পাকিস্তানিদের কাবু করে ফেললেও আমাদের বিমান শক্তি ছিল না, দূরপাল্লার অস্ত্রও ছিল না। ফলে, ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া এসব ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য অর্জন কঠিন হতো, আরও রক্ত ক্ষয়ের আশঙ্কা ছিল। জেনারেল শফিউল্লাহর মতে, মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প বা প্রশিক্ষণ শিবির সংক্রান্ত তথ্য আমাদের কাছে সংরক্ষিত থাকার কথা। মুক্তিযুদ্ধের পর এ দলিলগুলো সেনা সদরে আনা হয়েছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আরেক সাবেক মেজর জেনারেল জানিয়েছেন, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রয়োজনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সব প্রশিক্ষণ শিবিরের বিস্তারিত তথ্য আনা হয়েছিল। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ও নেতাদের তালিকা তাতে আছে। মুক্তিযুদ্ধের অপারেশনাল ডকুমেন্টেশন মিলিটারি অপারেশন ডিরেক্টরিতে সংরক্ষিত আছে। পরবর্তীকালে এ ডকুমেন্টগুলো ঢাকা সেনানিবাসে স্থাপিত বিজয় কেতন জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়। আশির দশকে পাওয়া প্রশিক্ষণ শিবির-সংক্রান্ত ডকুমেন্টগুলো ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড সূত্রে পাওয়া গেছে কি-না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ডকুমেন্টগুলো দিলেও এগুলো পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড সূত্রে পাওয়া গেছে কি-না তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
একজন সামরিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সামরিক দলিলপত্র নষ্ট করে দেওয়ার ঘটনা রহস্যময় বলেই মনে হচ্ছে। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধ ঘোষণার আগে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড অষোষিত যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছিল। অঘোষিত যুদ্ধের দলিলপত্র হয়তো তারা সংরক্ষণ করতে চাননি। ফলে, যুদ্ধের পর পরই দলিলপত্র নষ্ট করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে, ভারতীয় সেনাবাহিনী যে ৩ ডিসেম্বরের আগেও অংশ নিয়েছিল তা এখন স্বীকৃত বিষয়। জেনারেল জ্যাকব তার বইয়ে এ সম্পর্কে লিখেছেন। তিনি জানিয়েছেন অক্টোবরের শুরু থেকেই পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড প্রস্তুতি নিতে থাকে। মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ এ প্রস্তুতির বড় অংশ হলেও সেনাবাহিনীতেও সমান্তরাল প্রস্তুতি চলছিল। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মঈদুল হাসান তার 'মূলধারা: '৭১' বইয়ে অক্টোবর-নভেম্বরে এমন প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজিও তার 'দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান' বইয়ে লিখেছেন, ভারতীয় বাহিনী নভেম্বরেই মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের ভেতরে অভিযান পরিচালনা করেছে।
ইতিহাসের অনেক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তথ্যগুলো স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের অব্যবহিত পরে এগুলো স্পর্শকাতর বলে বিবেচিত হতে পারে। আর এ কারণেই এগুলো ধ্বংস করা হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তবে, তিনি মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্যাবলী সযত্নে সংরক্ষণ করে এবং নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর সেগুলো প্রকাশ করে তেমন নীতি উপমহাদেশের দেশগুলোতেও অনুসৃত হওয়া উচিত। কারণ, একদিন মানুষকে প্রকৃত ইতিহাসের সামনে দাঁড়াতে হয়। ইতিহাসের পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষ তথ্যগুলো বিচার না করলে প্রকৃত ইতিহাস রচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে বিবিসির শুভজিত বাচ্চি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল অশোক মেহতার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। মেহতা বলেন, '৭১ সালের যুদ্ধে তিনি ভালোভাবে জড়িত ছিলেন। ওই নথিতে সে সময় মুক্তিযোদ্ধাদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, সে তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। ওই তথ্যগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। এই দলিল কেন বিনষ্ট করা হলো, সে ব্যাপারে জেনারেল মেহতা বলেন, পাকিস্তান সম্পর্ক ভবিষ্যতে প্রভাবিত হতে পারে, এ জন্য এসব দলিল বিনষ্ট করে ফেলা হয়। তিনি বলেন, এটা ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে করা হয়েছিল।
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের তথ্য ধ্বংস করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম। তিনি গতকাল বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য ধ্বংস করা হলেও ইতিহাস বিষয়ক কোনো তথ্য ধ্বংস করা হয়নি বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করব।
তিনি বলেন, যদি এগুলো সত্যি ধ্বংস করা হয়ে থাকে তাহলে আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে।
সমকাল
মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র ধ্বংস ঘটনার তদন্ত দাবি ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র ধ্বংস করার খবরে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিআই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। গত রোববার ভারতের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, কলকাতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কাছে রক্ষিত ১৯৭১ সালের যুদ্ধবিষয়ক ফাইলপত্র নষ্ট করা হয়েছে।
ভারতীয় জনতা দল বিজেপির মুখপাত্র রবি শংকর প্রসাদ দলিলপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম সুস্পষ্ট বিজয় অর্জন করেছিল ভারত। বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করার ঘটনা ভারতের
ইতিহাসের গৌরবজনক অধ্যায়। সে সময় ভারতের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল ছিল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিজেপি দলিল নষ্ট হওয়ার ঘটনার সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছে। দলিল কেন ধ্বংস করা হলো_ এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সরকারকে জনসমক্ষে হাজির হতে হবে।' অবশ্য ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি সামরিক বাহিনীর মনোভাবের সঙ্গে একই মত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, কিছু দলিল প্রকাশিত হলে তা 'ক্ষতিকর' হতো।
কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই) এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহকে উল্টে দেওয়ার জন্য এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হতে পারে।
অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) মুখপাত্র শাকিল আহমেদ বলেছেন, 'এটি বিস্ময়কর একটি তথ্য। ভারতের মহান বিজয়ের ইতিহাসে এ দলিলগুলো মহামূল্যবান হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭১ সালে ঢাকায় প্রায় ৯০ হাজার পাকিস্তানি সেনা ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। দলিল হারানোর ঘটনা যদি সত্য হয় তবে সরকারের উচিত ঘটনা খতিয়ে দেখা এবং ইতিহাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেওয়া।'
দলিল খোয়া যাওয়ার এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ ও প্রকাশের ব্যাপারে সুস্পষ্ট আইনের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। তারা মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো ভারতেও ২৫-৩০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রকাশযোগ্য দলিল উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা থাকা উচিত।
উল্লেখ্য, ভারতে বেশ কিছু দিন ধরে তথ্য অধিকার নিয়ে আলোচনা চলছে। সেখানকার গণমাধ্যম ও নাগরিকরা তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করেন, স্পর্শকাতর সামরিক তথ্য ছাড়া ইতিহাসের স্বার্থে ভারত-পাকিস্তান যুুদ্ধের সব তথ্য প্রকাশ করা উচিত। এর ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। ইতিহাসের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়। সামরিক নথিপত্র, যুদ্ধবিষয়ক তথ্যাবলির প্রকাশযোগ্য অংশগুলো অবমুক্ত করার জন্য ভারতে একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। সে কমিটি '৬২, '৬৫ ও '৭১ সালের যুদ্ধের বিভিন্ন দলিল প্রকাশের পক্ষে মত দিলেও তা মানা হয়নি। ৩০ বছর পার হওয়ার পর নথিপত্র অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা না থাকলেও সাম্প্রতিককালে ভারত কোনো দলিলপত্র অবমুক্ত করেনি বলে জানিয়েছে সেখানকার পত্রপত্রিকাগুলো।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান দলিলপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আবারও পুরনো ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন নথিপত্র প্রকাশের ব্যাপারে গণমাধ্যম ও নাগরিকদের দাবি সামনে চলে এসেছে।
সমকাল
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29153006 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29153006 2010-05-11 12:41:51
শুধু ভারতীয় সিনেমা আমদানী বন্ধ কইরা আর লাভ কী?
ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

বাংলাদেশ ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। গতকাল শনিবার সরকারের একজন মন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির। বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘চলচ্চিত্রশিল্প চাঙা করতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।’ স্থানীয় চলচ্চিত্রশিল্প রক্ষা ও বিকাশের স্বার্থে ১৯৭২ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। প্রায় চার দশকের এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশি অভিনেতা ও পরিচালকেরা। তবে এতে খুশি হয়েছেন সিনেমা হলের মালিকেরা। তাঁরা আশা করছেন, শিগগিরই ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু করতে পারবেন।

প্রথম আলো পত্রিকায় ২২ তারিখের আনন্দ পাতায় ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানী নিয়া একটা তর্ক ছাপা হইছিল। সেইটা পড়তেছিলাম। এঁরা বলেন তাঁরা বলেন নামে দুইটা লেখায় সিনেমা করা ও দেখানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের মতামত দিছেন। পইড়া একটু রসবোধ হইলো। লেখতে চাইছিলাম ওইদিনই। কিন্তু লেখতে লেখতে বাণিজ্যমন্ত্রী নিষেধাজ্ঞা তুইলা নিলেন। বলতে গেলে একটু গোপনেই, নিষেধাজ্ঞা উঠলো। এখন আর দেশে বইসা বড় পর্দায় সিনেমা দেখার আর কোনো বাধা থাকলো না।
কথাটা কয়দিন ধইরাই শুনতেছিলাম। ভারতীয় সিনেমা আমদানী নিয়া পত্রপত্রিকা দুইটা পক্ষরে তু্ইলা ধরতেছে। একপক্ষ হইলো, অভিনেতা, নির্মাতা, প্রযোজক ইত্যাদি। অন্যপক্ষে হল মালিক, ছবি আমদানী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত লোকজন। দেশে ছবি তৈরি সঙ্গে জড়িত লোকজনের যুক্তি হইলো, ভারতীয় ছবি আমদানী করে হলে দেখানো শুরু হইলে লোকে আর দেশি সিনেমা দেখবে না। দেশের সিনেমা শিল্প ধ্বংস হয়া যাবে। আর হল মালিক আমদানীকারকরা বলতেছে, দেশে সিনেমা দেখানো বাণিজ্য এখন রুগ্ন। একের পর হল বন্ধ হয়া যাইতেছে। ফলে, আমদানীর বিকল্প নাই।
বলাবাহুল্য, এই দুইপক্ষের লোকই সিনেমা দেখানো ও বানানোর সঙ্গে জড়িত। যারা দেখে তারা এইখানে কোনো পক্ষ না। যারা এইসব নিয়া ভাবে, বলে তারাও কোনো পক্ষ না। অন্তত পত্রিকা পড়লে মনে হয়, এই দুইপক্ষের বাইরে মতামত দেওয়ার আর কোনো পক্ষ নাই। পক্ষ আছে কি নাই, সেই পক্ষের কথায় কিছু যায় আসে কি না সেইটা গবেষণার বিষয়। আপতত দুইপক্ষ ধইরাই আলোচনা করতে চাই। এই দুই পক্ষ পত্রিকার দুই পক্ষ না। ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার। সরকার ও মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে আপোষের ফল হইলো সিনেমা আমদানী। সরকার এইখানে মুম্বাইয়ের স্বার্থ রক্ষা করার ব্যাপারে মরিয়া। কিন্তু বাস্তবে দেখবেন মাঠে সরকারও নাই, মুম্বাইও নাই। আছে বানানো ও দেখানো লোকেরা। বানানো ও দেখানো লোকদের মতামত বিচার করলে আমরা কী পাই?
ভারতীয় সিনেমার প্রদর্শনী পূর্ব পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশে কেন বন্ধ রাখা হইছিল? ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি হইলে এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতীয় সিনেমা আমদানী ও দেখানো বন্ধ হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ওই ধারাবাহিকতাই বহাল থাকলো। ১৯৭২ সালে দেশীয় সিনেমার বিকাশের স্বার্থে ভারতীয় সিনেমার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। দেশীয় সিনেমার বিকাশের স্বার্থে আমরা ভারতীয় সিনেমার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিছি। নিষেধাজ্ঞা শব্দটা খুব খারাপ। প্রশ্ন উঠতেছে, নিষেধাজ্ঞা দিয়া ইন্ডাস্ট্রির বিকাশ হয়তো সম্ভব কিন্তু আর্টের বিকাশ কি সম্ভব? এ প্রশ্নও উঠতেছে যে, ৪০ বছর ধইরা ভারতীয় সিনেমা আমরা ঠেকাইলাম দেশীয় সিনেমার বিকাশের জন্য। তাতে আমাদের দেশীয় সিনেমা কতটা বিকশিত হইলো?
গত ৪০ বছরে আমাদের সিনেমার ইতিহাস বুঝতে হইলে, এফডিসিতে যাইতে হবে। খেয়াল করতে হবে, সিনেমা বানানো, সিনেমায় বিনিয়োগ, ও সিনেমা দেখানোর পুরা ব্যাপারটা এই সময়ের মধ্যে কেমনে অশিক্ষিত, অপ্রশিক্ষিত, গুণ্ডা-পাণ্ডা, অপগণ্ডদের হাতে চইলা গেছে। বাজারের ধারণা মাথায় রাখলে সিনেমা এমন একটা পণ্য যার ভোক্তা মধ্যবিত্ত শ্রেণী। শহর গ্রামের মধ্যবিত্ত সিনেমা দেখে। কিন্তু আমাদের সিনেমা ক্রমে নিম্নবর্গের সংস্কৃতিতে পরিণত হইছে। মধ্যবিত্ত বড় হইছে আর মার্কেট বড় হইছে। আর সিনেমা নিজ থেকে মধ্যবিত্তের কাছ থিকা সইরা গেছে। এফডিসির সিনেমা কালক্রমে কালোটাকা, গুণ্ডাপাণ্ডা আর চর্বিতচর্বন নির্মাতাদের নির্মিত নিম্নবর্গের সংস্কৃতি হিসাবে নৃতাত্ত্বিক গবেষণার বিষয়ে পরিণত হইছে। বাংলা সিনেমা হলগুলাতে এনারাই খাইতেছে। ফাঁকে মধ্যবিত্ত অন্য কিছুর ভোক্তা হয়া গেছে।
এখানকার বিশাল মধ্যবিত্ত খায় এমন সিনেমা এফডিসি ও এফডিসির বাইরে তৈরি হয় বছরে গড়ে ৩ থেকে ৭টা। নতুন নির্মাতারা জনপ্রিয়তায়, বাণিজ্যে, বিপণনে আগায়া আসলেও এফডিসির সিন্ডিকেট ভেঙে তারা এই অচলায়তনের ভেতর ঢুকতে পারে নাই। অদূর ভবিষ্যতেও ঢুকার সম্ভাবনা নাই। ফলে, এফডিসির বানানো, বিপনন ও বিতরণের এই ব্যবস্থা চলতে থাকলে ইন্ডাস্ট্রি ও আর্ট কোনোটা হিসাবেই বাংলা সিনেমার দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নাই।
আমাদের মধ্যবিত্তের বিনোদন ভবিষ্যত দেশে অন্ধকার। ফলে, তারা ভারতীয় টিভি চ্যানেলের ভক্ত। ভারতীয় সিনেমার পাইরেটেড নন পাইরেটেড সিডি-ডিভিডির ক্রেতা। বাসায় বইসা মুম্বাইয়ের সিনেমা দেইখা তারা বিনোদনের ঘোল খান। হলিউডের সিনেমা দেখেন। ভারতীয় শিল্পীরা এইখানে হাজারে হাজরে লাইভ শো করেন। উচ্চ ও উচ্চমধ্যবিত্ত এইগুলা বেশি দামের টিকিট কাইটা দেখে। ভেতরে ভেতরে মুম্বাই সংস্কৃতি সয়লাব হয়ে গেছে। খবর নাই কারো। উপরে দিয়া খালি বাকী আছে। সিনেমা হলে বড় হোর্ডিং বসায়ে মুম্বাই সিনেমা দেখানো বাকী আছে খালি। প্রশ্ন হইলো, সেইটা বাকী থাকবে কেন?
আমাদের দেশে মিডিয়া উত্থান ঘটছে গত একদশকে। ঢাকা থেকে ১০-১২টা টিভি চ্যানেল সম্প্রচার হয়। ভাল-মন্দ মিলায়ে এইগুলাতে ইনভেস্টমেন্টও কম না। কিন্তু টিভিগুলা সবই একরকম। কোনো ক্রিয়েটিভিটির ছাপ এইগুলাতে দেখা যায় না। এইগুলার কোনো বিশেষত্ব নাই। জনপ্রিয়তাও নাই। নাটক দেখতে মানুষ ইন্ডিয়া ছোটে। সিনেমা, গান, কার্টুন, এনিমাল সব কিছু ইন্ডিয়ার দখলে। দেশের চ্যানেলে জ্ঞানী লোকেরা খালি টক শো আর খবর শুনে। এমনকি কলকাতার জি বাংলা-ইটিভি বাংলার মতো পসারও দেশের টিভিগুলার নাই। আপাত দৃষ্টিতে মতে হইতে পারে এইটা আমাদের ক্রিয়েটিভিটির সমস্যা। কিন্তু ভিতরে ঢুকলে বুঝা যায়, ক্রিয়েটিভির চাইতেও বড় সমস্যা এইখানে আছে। এক তো আছে, জাতিগত উদ্যমহীনতা ও কর্মহীনতা। আর আছে কিছু লোকের সবকিছু দখল কইরা রাখার প্রবণতা।
টিভির কথা কইলাম, কারণ এইখানে সংরক্ষণ নাই। টিভি বাঁচাইতে সংরক্ষণ আরোপ করা হয় নাই। তাতে টিভিগুলা বাস্তবে কোনো প্রতিযোগিতা অনুভব করে কি না বুঝা যায় না। অন্তত তাদের কর্মকাণ্ডে সেইটা সামনে আসে না। তবু টিভিগুলা এফডিসির চেয়ে ভাল করতেছে।
এফডিসির সিনেমার চাইতে তাদের পসার ভাল।
এখন নিষেধাজ্ঞা দিয়া খারাপ সিনেমা বাঁচানোর চেষ্টা আমি মনে করি খারাপ। আমাদের সিনেমা-সংস্কৃতিতে বাঁচানোর কিছু নাই। এই সর্বহারারে লাখেরাজ সম্পত্তি ঘোষণা করাই ভাল। তাছাড়া দেশ হিসাবে আমরা কোনো আদর্শে গইড়া উঠবো বইলা চীন ইরানের মতো দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নাই। আমাদের বাণিজ্য নীতিতে আমরা দেশীয় শিল্পের বিকাশে সংরক্ষণশীল থাকবো এমন কোনো নীতি নাই। বাণিজ্যে অপরকে গোয়া মারা দেওয়াই যখন আমাদের সংস্কৃতি, তখন সিনেমা কী দোষ করলো?
আমার মতে, সিনেমার নিষেধাজ্ঞা উঠায়া দেওয়াই ভাল।
ভারতের সিনেমা গত কয়েক দশকে যে বৈচিত্র ও বৈভবে উজ্জ্বল হইছে। যেমনে সে আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এশিয়ার বড় বাজার তৈরি করছে। যেমনে, সে বাজারে সফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পমূল্য তৈরি করছে। তেমনে যদি আমরা সিনেমা নিয়া পরিকল্পনা করি, আগায়া যাইতে চাই, তাইলে প্রথমে সকল নিষেধাজ্ঞা, সেন্সরশিপ উঠায়া দিতে হবে। এফডিসিকে যদি বাজারে ফিরায়া আনতে চাই, তাইলে এইখান থিকা গুণ্ডারাজ দূর করে সেইখানে প্রতিভাবান তরুণদের জায়গা কইরা দিতে হবে। মধ্যবিত্তের জন্য মাল্টিপ্লেক্স গইড়া সেইখানে তাদের প্রবেশাধিকার ফিরায়া দিতে হবে। নিম্নবিত্তের বিনোদনের কী হবে তখন, সেইটা নিয়া বিশেষ গবেষণা করা যাইতে পারে।
তবে আপাতত, ভারতীয় সিনেমা আসা কোনোভাবে ঠেকানো উচিত হবে না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29141880 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29141880 2010-04-25 14:48:33
ঢাকার কবি-ফিল্মমেকারদের নিয়া সেরিন ফেরদৌসের রিপোর্টের সমস্যা নিয়া সংক্ষেপে আলোচনা করলাম আমি একজন দুঃস্থ কবি, সিনেমা বানাইতে চাই; আছেন কোনো দয়ালু নারী একটি মুভি ক্যামেরা পাঠাইবেন? প্রেম দেব, ভালোবাসা দেব। কবিও বানায়ে দেব। দাম্পত্য জীবনে অসুখী, ডিভোর্সি হইলে অগ্রাধিকার। গোপন সম্পর্কের কথা কাউকে বলবো না। রাজি থাকলে ইনবক্সে মেসেজ পাঠান। ওয়ালে কিছু লেখবেন না। কেউ জেনে গেলে অসুবিধা।

কাইলকা সকাল বেলা মানবজমিন পত্রিকায় ফেসবুকে ঢাকাই কবিদের প্রতারণা শিরোনামে রিপোর্ট পইড়া একটা স্টেটাস দিছিলাম।
স্টেটাসটা নিম্নরূপ :
মানবজমিন ও নতুন দেশে প্রকাশিত সেরিন ফেরদৌসের রিপোর্টটা খারাপ সাংবাদিকতার উদাহরণ। পড়ে দেখেন। প্রাইভেসি লংঘন, ঢালাও অভিযোগ সহ বহু অভিযোগ করা যায় রিপোর্টটা নিয়া।
স্টেটাস দেওনের পর লঙ্কা কাণ্ড ঘইটা গেছে। আমার ইনবক্সে অনেক মেইল আসছে। সবার বক্তব্য হরে দরে এক। মাহবুব, কাজটা ভাল হয় নাই। সেরিন ফেরদৌসের রিপোর্ট সঠিক। এইটা সবার জানা উচিত। সবাই যাতে সতর্ক হয় সেইজন্য এই রিপোর্টের দরকার আছে। তুমি স্টেটাস সংশোধন করো।
স্টেটাসে অনেকে কমেন্ট কইরা বলছেন, এইটা খারাপ বা হলুদ সাংবাদিকতার উদাহরণ, ব্যাখ্যা বা প্রমাণ দেও। এইটা কেমনে প্রাইভেসি লংঘন করে? আমি উত্তরে কইছিলাম, রিপোর্ট যেহেতু ধারাবাহিক অতএব পুরা রিপোর্ট পইড়া তথ্যপ্রমাণ সব জাইনা লিখুম, কেন এই রিপোর্টরে খারাপ বলতেছি।
অনেকে আমাকে সমর্থন জানাইছেন। বলছেন, তারাও মনে করেন এইটা হলুদ সাংবাদিকতার উদাহরণ।
পরিস্থিতির সিরিয়াসনেস দেইখা আইজকাই লেখতে বসলাম। বিলম্বে দেরি হয়া যাইতে পারে।
প্রথমত, এইটা বইলা নেওয়া ভাল, যারা আমারে মেইল দিছেন ঘটনা সত্য বইলা তাদের সবার বক্তব্য, যুক্তি, তথ্যপ্রমাণের আভাস দেইখা আমি মোটামুটি বিশ্বাস করছি, ঘটনা সত্য। ঢাকার এক বা একাধিক কবি ও ফিল্মমেকার প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছেন বইলা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়। সেইদিক থিকা সেরিন ফেরদৌসের রিপোর্টে সত্য আছে বইলা ধারণা করা যায়।
কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হইলো, ঘটনার সত্যতা সত্ত্বেও সেরিনের রিপোর্টকে ভাল সাংবাদিকতা বলা যাইতেছে না।

কেন সেরিন ফেরদৌসের রিপোর্টকে ভাল সাংবাদিকতা বলা যাইতেছে না?
১. সেরিন অপরাধীদের পরিচয় দিছেন শুরুতে। লিখছেন, '' ওরা মূলত কবি; সঙ্গে কেউ কেউ গান করেন, কেউ আবার সিনেমাও বানান। ঢাকার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মোটামুটি একটা পরিচিতি আছে এদের।''
ঢাকা শহরে কবি, গান করে আবার সিনেমাও বানায় এমন লোকের সংখ্যা এখন অনেক। এদের অনেকে ভাল কাজ করতেছেন। কবিরা সিনেমা বানাইতেছেন এইটা সিনেমার জন্য ভাল। সিনেমা বানায়া মোটামুটি পরিচয় অর্জন করছেন এমন লোকের সংখ্যা অনেক। সেরিন অপরাধীর পরিচয় এমন সার্বিকভাবে দিছেন যে, প্রথম কয়টা লাইন পইড়াই কবি ও ফিল্মমেকার যত লোক আছে তাদের সবাইরে সন্দেহ করতে হয়। কেউ যদি কয়, লম্বা চুলের কয়জন লোকরে দেখলাম টিএসসিতে মারামারি করতেছিল। তাইলে পরদিন টিএসসি গামী সকল লম্বা চুলের লোকদের দিকে মারামারির অভিযোগ উঠবে। পাবলিক শুধু লম্বাচুল দেখবে। কিন্তু যে সাংবাদিক সে মারামারি করা লোকগুলা ছাত্রদল না ছাত্রলীগ না ছাত্রশিবির এইটা দিবে। যখন রিপোর্টের লক্ষ পাঁচজন লোক তখন সব কবি ও ফিল্ম মেকারকে দোষী সাব্যস্ত করা খারাপ ও দুর্বল সাংবাদিকতা।
২. রিপোর্টে সেরিন কবিতা লিখে নারীদের মন পাওয়াকেও অপরাধ হিসাবে দেখছেন। বলছেন, ‌'ফেসবুকে বন্ধু বানিয়ে রোমান্টিক কবিতায় প্রলুব্ধ করা হয়েছে প্রবাসী নারীদের।' এইটা কোনো অপরাধ না। কবিরা কবিতা লিখে যদি কারো প্রেম অর্জন করে তবে সেইটারে অপরাধ গণ্য করা যায় না। কবিতা যদি নারীদের প্রলুদ্ধ করে তবে বুঝতে হবে কবি শক্তিশালী অথবা নারীরা কবিতা পছন্দ করে। এইটা শৈল্পিক ব্যাপার। রিপোর্টে সেরিন কবিতাকে দোষারোপ না করলেও পারতেন।
৩. সেরিন রিপোর্টে ‌'পরকীয়া', বহুপ্রেম বা পলিগ্যামি ইত্যাদিকে খারাপ হিসাবে দেখছেন। এইটা একটা নৈতিক অবস্থান। এমন নৈতিক বায়াসনেস নিয়া রিপোর্ট লেখা যায় না।
৪. যারা 'ভিকটিম' তাদের ভাষ্যকে তিনি প্রমাণ হিসাবে ধরে নিছেন। এই 'অপরাধে' তাদের ভূমিকা আড়াল হয়া গেছে। 'ভিকটিমের' পরিচয় গোপন করা সাংবাদিকদের একটি নীতি। কিন্তু তার বক্তব্যকে সংবাদের একমাত্র সোর্স করে নয়। সেরিনের কাছে যদি অকাট্য প্রমাণ থেকেই থাকে তবে তিনি 'অপরাধী'কে নির্দিষ্ট করে দিতে পারতেন। পারলে তার নাম পরিচয় দিতে পারতেন। এ নিয়ে ধারাবাহিক গুজব রচনার দরকার আছিল না। নিয়ম হইলো, যে অভিযুক্ত তার বক্তব্যও নিতে হবে। সভ্য সমাজে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াটা সংবাদপত্র, আদালত সবাই স্বীকার করে।
৫. সেরিন লিখছেন, 'নারীরা স্বেচ্ছায় ও অসাবধানতাবশত এই চক্রে পা দিয়েছেন' ফেসবুকের মতো একটি ওয়েল প্রটেক্টেড, প্রাইভেসি সচেতন সাইটে অসাবধানতাবশ পা দেওয়ার সুযোগ নাই বইলাই আমার মনে হয়। টিনেজ বা শিশুদের কথা আলাদা। রিপোর্টে পরকীয়া সম্পর্কে 'ভিকটিম' বইলাই হয়তো এই লাভ-গেমে নারীদের ভূমিকা আড়াল করা হইছে। তাদের সক্রিয়তার পুরা ইতিহাসটা আড়াল কইরা রিপোর্টটাকে একপাক্ষিকভাবে পরিবেশন করা হইছে।
৬. কোনো নারী কোনো কবি ফিল্মমেকারের সঙ্গে সম্পর্ক রচনার পর তার সঙ্গে গিফট বিনিময়ের পর কোনো কারণে সম্পর্কের অন্ত ঘটলে তাকে ভিকটিম করতেছেন কি না এবং স্বেচ্ছাপ্রদত্ত গিফটকে মুক্তিপন আখ্যায়িত করতেছেন কি না, এই স্বাভাবিক প্রশ্নের জবাব রিপোর্টে নাই। গিফট পাঠানো প্রেম বা বন্ধুত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপরাধ নয়। দামী গিফট পাঠাইলে ভাল। দুঃস্থ কবির নানা কাজে সহায়তা করা সমাজ সেবার লক্ষণ। প্রতারকরা এইটা মনে না রাখলেও পরকালে এইজন্য বহুত সওয়াব হাসিল হবে। অবশ্য পরকীয়ার জন্য কঠিন শাস্তিও হবে।
৭. রিপোর্টে অপরাধ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে একটা তথ্যই। সেটা হইলো : ‌'একপর্যায়ে টাকা পাঠাতে কেউ কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের পাঠানো উপহার সামগ্রী, মেইল এবং ফেসবুক তথ্য তাদের স্বামী ও অন্যদের জানিয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে দু-একজন দেশে বেড়াতে গেলে গোপনে ছবি তুলে বস্ন্যাকমেইল করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ঢাকায় গিয়ে থানা-পুলিশও করতে হয়েছে কাউকে। '
এইটুকু সত্য প্রকাশ করতে গিয়া সেরিন ফেসবুক কোম্পানি, মার্ক জুকারবার্গ থেকে শুরু করে ঢাকার কবি, ফিল্মমেকার, লিটলম্যাগাজিনকর্মী, অনলাইন ম্যাগাজিন কর্মীদের দিকে যেমনে অঙ্গুলিনির্দেশ করছেন। যেমনে সবাইরে সন্দেহের তালিকায় যুক্ত করছেন তাতে তার বিরুদ্ধে কয়েকশ মানহানির মামলা হওয়া উচিত।
সব কথার শেষ কথা :
যে আসলেই অপরাধ করছে সেরিনের উচিত নতুন দেশ পত্রিকার সার্কুলেশন বাড়ানোর চিন্তা না কইরা দ্রুত তার নাম তথ্যপ্রমাণ সহকারে, তার বক্তব্য সহকারে প্রকাশ কইরা দেওয়া। নইলে, এই নিউজের লক্ষ্য হবে শুধু কানকথা তৈরির উপাদান হওয়া। নারীরা সাবধান হয়া কবিদের ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে প্রত্যাহার করা শুরু করলে দেশের সাহিত্যে গজব নাইমা আসবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29133435 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29133435 2010-04-12 14:14:02
ফিকশন লেখা নিয়া তিনজন লেখকের দশটা করে পরামর্শ .....................
১. শুরুর বারোটা বছর খুব খারাপ।
২. একটা বই লেখার উপায় হইলো একটা বই লেইখা ফেলা। কলম কাজের জিনিশ, টাইপও করা যাইতে পারে। অতএব, কাগজের ওপর শব্দ সাজানোর কামে লাগে রাহো।
৩. শুধু বাজে লেখকরাই ভাবে যে তাদের লেখা সত্যই খুব ভাল।
৪. বর্ণনা দেওয়া কঠিন কাজ। মনে রাখবা, সব বর্ণনাতেই দুনিয়া নিয়া তোমার মতের প্রতিফলন ঘটে। ফলে, দাঁড়ানোর মতো একটা জায়গা বাইর করো।
৫. যেইটা তোমার পছন্দ সেইভাবে লেখো। পাতার উপর শব্দ দিয়া উপন্যাস হয়; বাস্তবতা কিন্তু অন্য জিনিশ। তোমার গল্প কতটা বাস্তব আর কেমনে তুমি এইটা বানাইছো সেইটা ব্যাপার না। ব্যাপার হইলো, এইটা কতটা দরকারি, সেইটা।
৬. উপাদানগুলা যেন নির্ভুল হয় সেই চেষ্টা করবা।
৭. মনে করো যে, তুমি মইরা যাইতেছো। যদি তোমার কোনো মরণ রোগ হয়, তাইলে কি তুমি এই বই শেষ করতে পারবা? কেন পারবা না? আর মাত্র ১০ সপ্তাহের আয়ু তোমার, এইরকম চিন্তা বইয়ের জন্য খারাপ। তাই, চিন্তাটা চেঞ্জ কইরা ফেলো। নিজের সঙ্গে তর্ক করা বন্ধ করো। লেখা বদলাও। দেখো, কীরাম সহজ হয়া যাইতেছে। এখন আর কাউরে মরতে হবে না।
৮. এই কাজ তুমি হুইস্কি হাতে নিয়াও করতে পারো।
৯. মজা করো।
১০. মনে রাইখো, তুমি যদি ১৫-২০ বছর ধইরা প্রতিদিন টেবিলে বইসা কাটাও, উইকএন্ডের হিসাবও যদি তোমার না থাকে, তাইলে নিশ্চিত থাকো, এইটা তোমারে বদলায়ে দেবে। এইটা হয়তো তোমার মেজাজের উন্নতি ঘটাবে না, কিন্তু অন্য কিছু করবে। এইটা তোমারে আরও স্বাধীন কইরা দিবে।

মার্গারেট অ্যাটউড
........................
১. এরোপ্লেনে বইসা লেখতে চাইলে সঙ্গে একটা পেনসিল নিও। কলম কিন্তু লিক করে। কিন্তু যদি পেনসিল ভাইঙ্গা যায় তাইলে প্লেনে বইসা ধার দেওয়া সম্ভব না। কারণ ওইখানে তুমি চাকু নিয়া যাইতে পারবা না। অতএব, দুইটা পেনসিল নিও।
২. যদি দুইটা পেনসিলই ভাইঙ্গা যায় তাইলে কাটার জন্য তুমি নখকাটারের ভোঁতা চাকু বা কাঁচের সাহায্য নিতে পারো।
৩. লেখার জন্য সাথে কিছু নিও। কাগজ হইলে ভাল। চিমটি কাইটা কাঠের উপর বা বাহুর উপরও লেখতে পারো।
৪. যদি কম্পিউটারে লেখো, তাইলে নতুন লেখা সেভ কইরা নিও।
৫. মেরুদণ্ডের ব্যয়াম কইরো। কারণ ব্যথা থাকলে মনোযোগ অন্যদিকে সইরা যায়।
৬. পাঠকের মনোযোগ ধইরা রাখো। (সবচেয়ে ভাল কাজ হয় যদি নিজের মনোযোগ ধইরা রাখতে পারো।) কিন্তু তুমি জানো না, পাঠক কারা। ফলে ঘটনা এই দাঁড়াইলো যে, তুমি বর্শা দিয়া আন্ধারে মাছ ধরতেছো। যেই জিনিশ অমুকরে মুগ্ধ করবে, সেই একই জিনিশ তমুকরে বিরক্ত কইরা ছাড়বে।
৭. একটা অভিধান, প্রাথমিক ব্যকরণ বই এবং বাস্তবতার ওপর কিছু দখল সঙ্গে রাখবা। মানে হইলো, ফ্রি খাওয়ার উপায় নাই। লেখা হইলো একটা কাজ। আবার এইটা জুয়াও। অবসরভাতা নিয়া পরিকল্পনার উপায় এইখানে নাই। অন্য লোকে তোমারে একটু সাহায্য করতে পারে, কিন্তু তোমার নিজের রাস্তা একান্তই তোমারই। তোমারে তো কেউ লেখতে কয় নাই, তুমি নিজেই এইটা বাইছা নিছো। সো প্যানপ্যান করবা না।
৮. নিজের বই এমনভাবে পড়া শুরু করবা না যে, তুমি নতুন একটা বইয়ের সুমধুর একটা পাতা পড়া শুরু করছো। এইটা সম্ভব না, কারণ জিনিশটা তো লেখছো তুমিই। তুমি তো পর্দার পিছনে আছিলা। তুমিই তো দেখছো কেমনে হ্যাটের ভিতর ইন্দুর ঢুকে গেছলো। অতএব ছাপার জন্য কাউরে দেওয়ার আগে এক বা দুইজন বন্ধুরে দিয়া পড়াইও। মনে রাখবা, এই বন্ধুদের সঙ্গে তোমার রোমান্টিক সম্পর্ক থাকা যাবে না। অবশ্য তুমি যদি সম্পর্ক নষ্ট করতে চাও তাইলে অন্য কথা।
৯. বনের মাঝখানে বইসা থাকবা না। গল্পের মধ্যে খেই হারাইলে বা স্থবির হয়া পড়লে পেছনে ফিরে যাও। যেইখানে রাস্তা হারাইছিলা সেই জায়গাটা খুঁইজা বাইর করো। ওইখান থিকা আলাদা রাস্তা ধরো। এবং/অথবা লোকটারে বদল করো। ক্রিয়ার কাল বদল করো, শুরুর পাতাটা বদলাও।
১০. প্রার্থনা কাজে আসতে পারে। অথবা অন্যকিছু পড়া। অথবা পবিত্র নৈশভোজের ছবি অবিরাম দেখা যাইতে পারে। এইটা তোমার উজ্জ্বল বইয়ের সম্পূর্ণ ও প্রকাশিত রূপ।

রোডি ডয়েল
....................
১. পছন্দের লেখকের ছবি টেবিলে সাজায়া রাখবা না। সেই লেখক যদি বিখ্যাত কেউ হন আর তিনি যদি আত্মহত্যা কইরা থাকেন তাইলে তো কথাই নাই।
২. নিজেরে দয়া করবা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাতা ভরাও, দরকার হইলে ডবল স্পেস দিয়া লাইনে বেশি জায়গা ছাইড়া আগাও। নতুন পাতা মানে ছোট হইলেও একটা বিজয়।
৩. এমনে কইরা ৫০ পাতা যাবার পর থামো। শান্ত হয়া, লেখার মান নিয়া চিন্তা করো। দুশ্চিন্তা শুরু করো- এইটা কাজ।
৪. যত তাড়াতাড়ি পারো লেখার একটা নাম দেও। নামটারে ভালোবাসো, দেখো। ডিকেন্স কিন্তু লেখার আগেই জানতেন যে, বিবর্ণ বাড়ি লেখাটারে লোকে বিবর্ণ বাড়ি বইলাই জানবে। বাকীটা সহজ হয়া যাবে।
৫. অল্প কিছু ওয়েবসাইটে ঘুরবা, বেশি ফালাফালি কইরো না। যদি গবেষণা না করো তাইলে অনলাইনের বইপত্রের ধারে কাছে ভিড়বা না।
৬. অভিধান রাখো। কিন্তু এমন জায়গায় রাখবা যাতে দেখতে গেলে কষ্ট করা লাগে। বাগানের পিছনে, ফ্রিজের পিছনে রাখতে পারো। পারলে ঘোড়া, দৌড়, বললো জাতীয় শব্দ ব্যবহার করো যেইগুলা সহজে মাথায় আসে।
৭. মাঝে মধ্যে প্রলোভনের মধ্যে ঢুইকা যাও। রান্না ঘরে মেঝে পরিষ্কার করো, ধোয়া থালাবাসন শুকাইতে দেও। এইটা গবেষণা।
৮. মনের ভাবগতিক বদলাও। অনেক সময় একটা ভাল আইডিয়া আরেক হের চেয়ে ভাল আইডিয়ার হাতে খুন হয়া যায়। আমি পার্টিশন নামে একটা ব্যান্ডের কাহিনী নিয়া একটা উপন্যাস লেখতে আছিলাম। পরে আমি ব্যান্ডের নাম দিলাম কমিটমেন্ট।
৯. যে বইটা তুমি লেইখা উঠো নাই সেই বইয়ের খোঁজে এমাজনে সার্চ দিবা না।
১০. কয় মিনিট সময় কভারের জীবনীর জন্য ব্যয় করবা। ‘তিনি তার সময়কে কাবুল এবং তিয়েরা দেল ফিয়েগোর মধ্যে ভাগ কইরা নিছেন’। এইরাম হেনা তেনা চর্চা কইরা কাজে ফিরত যাইবা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29131214 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahbubmoreblog/29131214 2010-04-08 15:55:49