..
...
....
.....
শিরোনাম লিখে আমার নিজেরই খুব হাসি পাচ্ছে। এটি একটি ভ্যালেন্টিনীয় পোষ্ট। তাই শিরোনামেই রোমান্টিক ব্যাপার স্যাপার। প্রেম করেছেন আর গোলাপ দেননি বা পাননি এমন টা বোধ হয় হাতে গোনা যাবে। আজ দুপুরে দুটো সাদা আর একটি লাল গোলাপ যখন আমার টেবিলের ছোট নীল ফুলদানীটায়,তখন আমাকেও ভাবতে হয় আহা সে এবং গোলাপ!
বড় আপুর ফ্রেন্ড খুব ছোটবেলা থেকেই আমাকে খেপাতো। যখন আম্মুর আঙ্গুল ধরে বাসায় আমাকে দেখে রাখার কেউ না থাকার সুবাদে কলেজে যেতাম। প্র্যাকটিকাল করাতো আম্মু আর আমি এক কোনায় বসে রান্নাবাটি খেলতাম। মাঝে মাঝে একেকজনের কোলে করে ঘুরে আসতাম দোকান। হাতে তখন চকলেট। আহ কি মজার সে দিন গুলো।
আমাকে সেই ভাইয়া বলতো লাল টুকটুকে একটা শাড়ী কিনে দিব,আমার বউ করে নিয়ে যাব। তখন আমার রাগ ছিল দেখার মত। এমন কি বাসায় আসলে আপু ও এ নিয়ে কম জালায়নি আমাকে। বড় হয়েও এ জালা সহ্য করেছি অনেক দিন। আমি রাগ থামাতে পারতাম না। ইচ্ছে মত গালিগালাজ করতাম। আম্মুকে নালিশ দিতাম। আম্মুর নাকি আবার তাকে জামাই হিসেবে ভালই পছন্দ। কই যায় আমি! আর আম্মু বলতো। বলছে তো কি হয়েছে,তুমি রেগে যাও বলেই তো আরো বলে। রাগ করবানা তাহলে আর বলবেনা। সহ্য হয়!
তখন সন্ধ্যাতে বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকতোনা। আমি আর আপু একটা হ্যারিকেন জ্বালিয়ে মই বেয়ে ছাদে উঠতাম। পড়তে পড়তে ছাদেই ঘুমিয়ে পড়তাম।
আপু তখন ঠেলে ঠুলে ধমক ধামক লাগিয়ে উঠাতো। দাঁত দিয়ে নখ কাটা ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয়। আব্বু যখন নখ কাটতে বসতো শুক্রবারে,আমিও তখন হাত এগিয়ে দিতাম। বেশির ভাগ নখ তখন আমার পেটে। কাটার মত কিছু পেলেতো! তা দেখে একদিন আপু বললো, সেই ভাইয়াও নাকি নখ কাটে দাঁত দিয়ে। আরো বললো ভালোইতো তোদের নেইল কাটার কেনা লাগবেনা। দুজন দাঁত দিয়াই নখ কাটবি। বাপরে দুজনের কি মিল। আমি চিৎকার করে ওয়াদা করলাম আর জীবনেও নখ কাটবোনা দাঁতে।
নাকের উপর ঘামলেও আপু খেপায় ,ভাইয়াটারও নাকি ঘামে। একি যন্ত্রনা! আমি কই যায়। এইটা তো আর আমার হাতে নাই। যত যায় রাগ করি লাল শাড়ীর স্বপ্ন যে আমার ছিলনা তা বললে মিথ্যেই বলা হবে। আর আমিও যেন জেনে গেলাম যে লাল শাড়ী উনিই কিনে দেবেন। শুধু কি তিনি,আপুর সকল বন্ধু বান্ধব এমন কি আপুর যেসব বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার সময় আমাকে সাথে নিয়ে যেত সেই আপুরাও একবার না একবার বলবেনই। তারপর তাদের সে কি হাসাহাসি! আমার সারা শরীর জ্বলে যেত। লাল শাড়ী দিবি তো দিবি তাই বলে এমন জনগনকে জানালি কেন। অসহ্য!
ভাইয়ার সাথে যখনই দেখা হত হিসেব কষতেন কতদিন লাগবে আমার আঠারো হতে আর উনি উঠিয়ে নিয়ে যাবেন আমাকে। ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় আপুর বিয়ে হল। ততদিনে আপুর পড়ালেখা প্রায় শেষ। আমার মাথায় একবারও আসেনি ভাইয়া আসলে পছন্দ করে আপুকে! বিয়ের দিন তার দুঃখ দুঃখ চেহারা দেখেও বুঝিনি। উল্টা তার বন্ধু বান্ধব আমাকে নিয়ে ফাজলামী করছে। তিনিও! একবার তো আমার হাত ধরে বললেন,রাস্তা এখন ফাঁকা। চল এখনই কবুল বলবা নাকি? নিয়ে আসবো একটা লাল শাড়ী? একজন তো চলে যাচ্ছে,তুমিও যদি এভাবেই চলে যাও। আমি লজ্জায় লাল বেগুনী আর যা যা রঙ হবার কথা সব হলাম আর কোনো মতে তার হাত ছুঁড়ে পালিয়ে বাঁচলাম।
লোকজন কদিন অনেক কথা বলাবলি করলো। কেউ ভাবেনায় নাকি যে আপু বিয়ে করতে পারে,সবাই নাকি জানতো আপুর সাথে তাঁর সম্পর্ক। অথচ আপু শয়তান্নী আমাকে খেপাতো ভাইয়াকে নিয়ে। ছিঃ রাগে দুঃখে আমি শেষ! আপু কদিন পর শ্বশুর বাড়ি থেকে আসলো আর আমিও জিজ্ঞেস করলাম। এই দেখো সবাই কি সব বলছে! আপু হেসে বললো দূর পাগলী। ও তো আমার বন্ধু। হিংসায় পড়ে সবাই এসব বলাবলি করছে। কেন তোর মন খারাপ নাকি? বলেই শুরু হল আরেকদফা হাসাহাসি। আর আম্মুর সামনেও বলে দিল । নাহ এদের নিয়ে আর পারা যায় না!
মাস্টার্স শেষ করে ভাইয়া ঢুকলো একটা বেসরকারী কলেজের থার্ড টিচার হয়ে। বেতন হওয়ার আশা নায়। নাইন টেন এলিভেন একটা একটা করে বছর যাচ্ছে। উনি আমার বার্থডে মনে রাখেন। ভ্যালেন্টাইন দিবসে যাযাদিতে তার আমাকে নিয়ে লেখা ছাপা হলে যাযাদি আর ফুল পাঠান। সিরিয়াসলি আমার সাথে কথা বলেন বিয়ে শাদী নিয়া।
অনেক স্বপ্ন দেখান। হাত ধরে বৃষ্টি ভেজা কিংবা জোছনা মাখার স্বপ্ন।
পৃথিবীর ভাল মেয়েটির মত আমি সাফ সাফ বলি আব্বু আম্মুকে বলেন,তারা রাজী থাকলে আমার আপত্তি নাই। কারন আর কিছু না লাল শাড়ীটা তিনি আমার জন্যই কিনবেন ছোট বেলা থেকে জানি,কিন্তু ভালবাসা বা এই টাইপ কিছু তিনি আমার ভেতরে বোধহয় জন্ম দিতে পারেন নি।
আর আমার কাষ্ঠ প্রকৃতির বাপ আর সব বিরহের গল্পের মতই বেঁকে বসলেন। আম্মু কত বুঝালো! বেতন হবে কিনা তার ঠিক নাই এমন ছেলের সাথে তিনি বিবাহ দিবেন না। সোজা কথা!
শিরোনামটায় এমন যে শেষে এসে বিরহ প্রাপ্য । যথারীতি বিরহমূলক গল্প। আমাকে লাল শাড়ী দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি তার। গোলাপ তো আমি আজও পাই তাই বলে তাঁর দেয়া গোলাপের কথা তো ভুলি নি। এই যে তাঁকে নিয়ে লিখে দিলাম। এইটা হইলো শোধ বোধ পর্ব। সেই যে আমাকে নিয়ে তিনি লিখেছিলেন একবার ...!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


