দিন যায়, রাত আসে মাস যায় বছর আসে। এভাবে জীবন থেকে হারিয়ে যায় কতগুলো বছর। তারপর পুরো মানুষটিই হারিয়ে যায় আমাদের চোখের সামনে থেকে। কেউ বেদনাহত হয়ে বেঁচে থাকে সেই স্মৃতি ধরে আবার কেউ বা মুছে সেই স্মৃতি ৪০ দিন পরে। আলোড়নের মধ্যে একটু অনুভূতি হয়ে কেউ বা বেচে থাকে কারও হৃদয়ে। কেউবা অনুভব করে অপূরণীয় ক্ষতি। আবার কেউ বলে মরে গিয়ে ভাল হয়েছে বেঁচে থাকলেই বা দেশের কি কাজে লাগত। যে কাজেই লাগুক না কেন এটা ঠিক প্রত্যেকটি মানুষের নিজের একটা ভুবন আছে। আর সেই ভুবনে আছে কিছু ভাল লাগা, মন্দ লাগা, কিছু কর্ম। সেই কর্মের সাথে পরিচিত থাকতে পারে কিছু লোক। তারা হয়তবা সেই কাজগুলোর জন্য ঐ লোকটাকে আজীবন মনে রাখব। যদি সেই কাজ ভাল হয় তাহলে শ্রদ্ধার সাথে আর যদি খারাপ হয় তাহলে খারাপ ভাবে।
আমার ছোট ভাই যে মারা গিয়েছে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে। এখন সেই শীতকাল। ওর গলায় অপারেশন করার কথা ছিল মঙ্গলবারে আর মারা গেল সোমবারে। খুবই কষ্ট নিয়ে আমরা পথ চলেছি। হাহাকার নিয়ে অনেক দিন হয়ে গেছে। আজ আমার নিজের ২ ছেলে। আমার বড় আপার ১ ছেলে ১ মেয়ে। আমার বড় ভাইয়ের কোন ছেলে মেয়ে হয়নি। আমরা সবাই সবাই নিজের জায়গায় দাঁড়িয়েছি। সেই ভাইয়ের জন্য কষ্ট হয় মাঝে মাঝে হাহাকার উঠে। কিন্তু ২ জন মানুষ আমার আব্বা আর আম্মা যারা কখনই নিজেরা নিজেদের জায়গায় দাঁড়াতে পারিনি। হাহাকার ভুলতে পারিনি তার ছেলের মারা যাওয়ার।
এ রকম প্রতি নিয়ত প্রিয়জন আমাদের থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। বহুদূর_বহুদূর। যেখান থেকে কেউ আর ফিরে আসে না। তাই সেই অজানার পথে যাওয়ার আগে আমাদের কর্মগুলোকে ভাল করে যাওয়াটাই উচিত।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রত্যেককে ভাল হয়ে চলার ও ভাল পথে থাকার তৌফিক দান করুন। আর মৃত্যুর মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকার সুযোগ করে দিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



