না, এ করুণা করুণ বা অনুগ্রহ অর্থে নয়
নয় রোমান্টিক কোনো প্রেম, হৃদয়-টিদয়
বা চির অতিশয়োক্তি দোষে দুষ্ট
‘অতীব সুন্দরী কোনো প্রেয়সীর’ আত্মতুষ্ট
প্রেমিককে করুণা করে দেয়া কোনো ফুল;
করুণা আসলে এক পথ-কিশোরীর নাম।
রাজধানীর রাজপথ তার বাপের বাড়ি
টিএসসি তার মায়ের নাড়ি
সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে
হামাগুড়ি দিতে দিতে
ঘাস-ফুলের গন্ধ নিতে নিতে
জারুল-পারুল-চম্পা বকুলের সাথে সাথে
দিনে এবং রাতে শকুন্তলার মতো
কালো কোকিলের চোখের ক্ষত
হয়ে ফুটে ওঠেছে সে।
গোলাপের মতো না হোক
'একজন সতিক্যারের বিরক্ত কবিকে
মুগ্ধ করার মতো হাসি তার মুখে'
একজন ভয়-কাতুড়ে প্রেমিককে
চমকে দেয়ার মতো
ঝিলিক তার চোখে--
একজন সত্যিকারের নির্লজ্জ কামুককে
কানে-গালে চাবুক মারার মতো
বিশ্বাসদৃপ্ত তপ্ত-হাওয়া তার বুকে।
মুখে তার বাংলা ভাষার
প্রাত্যহিক প্রতিমুহূর্তের
নিতান্ত পরিচিত শব্দরা
সুধার সুরধ্বনি তুলে তুলে
ঝরনার মতো অনন্য উচ্ছলতায়
ঝর ঝর করে ঝরে পড়ে
পথিকের চোখে-মুখে-বুকে
প্রশান্তি ছড়ায় অবিরাম।
করুণা তার নাম।
এটুকুই জানি।
কোথায় তার গ্রাম
আদৌ ছিল কিনা, আছে কিনা
তার বৈধ কোনো জনক
অথবা জননী--
করুণা কেমন করে হলো তার নাম;
আজন্ম কুড়িয়ে পাওয়া খেলনার মতো
এ নামও সে নিয়েছে কিনা কুড়িয়ে;
ভালোবেসে দিয়েছে কিনা হাতে ধরিয়ে
কোনো পথিক-কবি, অধ্যাপক, চারু-কারু
অথবা সাহিত্যের কোনো শিক্ষার্থী অথবা
চায়ের মতো চুমুকে চুমুকে
জীবন-খাওয়া কোনো নাট্যকার!
ডাব-ঝালমুড়ি-চটপটি
পান-সিগারেট-কটকটি
বাঁশি-পুতুল কাগজ অথবা
সত্যিকারের ফুলওয়ালা,
আপাদমস্তক শেকল পেঁচানো
নাগরিক কোনো আধুনিক-ঋষি!
কে কেন দিয়েছে রেখেছে ওই নাম?
করুণা কেন? কার করুণা? কিসের করুণা?
কে কাকে করুণা করবে?
করুণা, না করুণাকে করুণা?
কে তাকে করুণা করেছে, করছে?
কে সে করুণাময়, করুণাময়ী?
সে কী জেনে-শুনেই দিয়েছে ওই নাম?
সে কী জানে অথবা জানতো
করুণার জীবন-বৃত্তান্তের আদি এবং অন্ত।
সে কী জানতো?
সব চেনা-জানা শেষে ক্লান্ত
প্রবৃত্তিবশে বেঁচে থাকা উদভ্রান্ত
কোনো পথিকের সাথে
সূর্যদীঘল দিনে অথবা
বুক হু হু করা সন্ধ্যা রাতে
দেখা হবে করুণার;
সে কী জানতো?
তাকে নিয়ে কতসব ছিনিমিনি খেলা হয়েছে
তারও জন্মের অনেক অনেক আগে?
তাকে নিয়ে রীতিমত মেলা হয়েছে
হয়েছে সভা-সেমিনার;
তারই জন্য গড়ে ওঠেছে ওই শহীদ মিনার
তারই জন্য অনেক অনেক রক্ত
লাল-কালির দোয়াত উল্টানোর মতো
অকস্মাৎ উল্টে পড়ে
কেবলই নষ্ট করেছে
অসংখ্য আসাদের সাদা সার্ট!
সে কি জানে--
এখনো তাকে নিয়েই
বাঘ-মহিষ-কুকুর-শুকরেরা
রাত জেগে স্বপ্ন দেখে আর
স্বপ্নদোষে দুষ্ট হয়ে বারবার
এক ঘাটে স্নান করে
পান করে আর
শেয়ালের রা-এর মতো
থেকে থেকে
ঐকতানের গান ধরে!
সে কি জানে? সে যে করুণা?
জানে বোধহয়!
না হয়, চারদিকে এতো ফুলপ্রার্থী থাকতে
অদ্বিতীয়াকে ভালোবাসার প্রথম ফুল তুলে দিয়ে
আমাকে কেন দিতে এলো দ্বিতীয় ফুল!
তাও আবার দ্বিতীয় প্রয়াসে
দ্বিধান্বিত দ্বিতীয় লিঙ্গে
একেবারে করুণার মতো
তাও আবার ভ্রমর-বিরাগী অহংকারী চাঁপা!
করুণা, বোন আমার, তুইও কী চিনে ফেলেছিস আমাকে?
তাই অমন, অব্যর্থ তীর ছুঁড়েছিস আমার দিকে?
দাঁড়া, তোর ওই তীর নিয়েই
আমি এবার যুদ্ধে যাবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



