somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয়নবের পাজামা

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্কলারশিপ নিয়ে ইতালি যাবে শরীফ। যাওয়ার আগে জানের টুকরা জয়নবকে দেখেশুনে রাখার একপ্রকার নির্দেশ দিয়ে গেলো কুৎসিত দর্শন, কুচকুচে কালো কিন্তু স্বাস্থ্য ভালো এরকম এক খুব কাছের বন্ধু- রাজীবকে। রাজীবের সঙ্গে জয়নব ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ায়। আমরা দেখি। কেউ কিছু মনে করি না। কারণ জানি, কাইল্যার সঙ্গে ঘুরলেও জয়নব আসলে কার! কিন্তু দুঃখের কথা হচ্ছে- এক সপ্তাও যেতে পারেনি, মহাকেলেঙ্কারি ঘটে গেলো। কানে গরম বাতাস লাগার মতো খবর এলো, ওরা কলা খাওয়া অবস্থায় কলা বিভাগের ক্লাসরুমে ধরা পড়েছে!
কলা বিভাগে দেড়টা দুইটার দিকেই ক্লাসরুম ফাঁকা হয়ে যেতো। প্রেমিকপ্রবর টাকা দিয়ে বিভাগের একজন গেটম্যানকে হাত করেছিলেন। ভেবেছিলেন, টাকা দিয়ে ‘পাক্কা পাহারাদার’ বসিয়েছেন। ফলে নো-চিন্তা-ডু-ফূর্তি-মুডে নিজের ঘর মনে করে নিরাপত্তা-নির্ভাবনায় নিশ্চিন্তে খেলাধূলায় মেতে উঠলেন। কিন্তু বিধি বাম ছিল অথবা কামদেব রুষ্ট ছিলেন, প্রেমিক শরীফ তার পূজা করতো কিনা কে জানে! কিন্তু আমরা জানতে পারলাম নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেহুলার বাসর ঘরের মতো একটুখানি ছিদ্র ছিল-
বিভাগের গেটম্যান ছিল দু’জন। একজনকে টাকা দিয়ে হাত করলেও অপরজনকে কার্যত করা হয়েছে আঘাত; খুব স্বাভাবিক কারণেই বঞ্চিতজন বঞ্চনার দ্রোহে বীরবিক্রমে নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান সব আক্ষরিক অর্থে ধূলায় লুণ্ঠিত হতে দেখে তিনি আর সইতে পারলেন না, কেয়ামতের আলামত দেখার আতঙ্ক নিয়ে জানিয়ে দিলেন বিভাগপ্রধানকে। বিভাগপ্রধান এরকম ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার লোভ এবং ক্ষোভ কোনো কিছুই সংবরণ করতে পারলেন না। এক মুহূর্তও দেরি না করে সোজা চলে গেলেন ক্লাসরুমের দরজায়। ধাক্কা মেরে ঢুকলেন।
- দরজাতেই দুজন একজন হয়ে দাঁড়ানো ছিল ওরা। আকস্মিক দানবীয় ধাক্কায় কিছু না বোঝার আগেই দু’জন দুদিকে ছিটকে পড়লো।
বিভাগপ্রধান কিছুক্ষণ কোনো থৈ পেলেন না। থরথর করে কাঁপলেন, পলকে চোরা চোখে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মাপলেন এবং কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ইংরেজিতে ‘গেট আউট’ বলে বাংলায় বললেন, ‘এক্ষুণি বের হয়ে যাও, বের হও, বদমাশ কোথাকার।’
ওরা ঠিকঠাক হয়ে মিনিট কয়েক পরে একসঙ্গে বের হয়ে দু’দজন দু দিকে চলে যেতে চাইলো। কিন্তু তাদের পথ আটকে বলা হলো, ‘তোমাদের থাকতে হবে। ভিসি স্যারকে জানানো হয়েছে। আরও লোকজন আসছেন। তোমাদের কথা বলে যেতে হবে। এই ক্যাম্পাস ছেড়ে একবারেই যেতে হবে।’
অবিশ্বাস্য দ্রুততায় জরুরি সভা বসে গেলো। যারা সাধারণত খুব দেরি করে আসে তারাও খুব তাড়াতাড়ি চলে এলো। সমবেত প্রায় সকলের চোখেই প্রায় সমান চঞ্চলতা। তবে প্রায় সকলেই কেউ কারু চোখের দিকে তাকানোর মতো করে তাকাচ্ছে না। কাঠগড়ার আসামির মতো এককোণে জড়সড়োভঙ্গিতে পাশাপাশি দাঁড়ানো জয়নব-রাজীব। বিব্রত নতচোখ।
উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে একপর্যায়ে একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কলা বিভাগের প্রধানকে স্বয়ং ভিসি জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলেন স্যার আপনি কি দেখলেন?’
প্রত্যক্ষদর্শী বললেন, ‘আমি আর কী বলবো! কী আর দেখলাম! দেখলাম- জয়নব এক জায়গায়, আর জয়নবের পাজামা আরেক জায়গায়। এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে আমার লজ্জা লাগছে।’
একথার পর আর কোনো কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ তারপরও যারা কোনো কিছুই দেখেনি, তারাও অনেকক্ষণ ধরে অনেক অনেক কথা বললো। এই ফাঁকে সমবেতজন একেকরকম রাগে ক্ষোভে লোভে মনে মনে এবং কেউ কেউ মুখে মুখে গর্জন করতে লাগলো। কেউ কেউ নারীজাতির গোষ্ঠি উদ্ধার করলো। শরীফের জন্য বুক চাপড়ালো। জয়নবের চরিত্রকে তুলোধুনো করলো। তার রুচির সঙ্গে নানারকম ইতরপ্রাণির রুচিকে মেলাতে লাগলো। নারীকে শরীর-সর্বস্ব এক ভয়ানক যৌনতা-তাড়িত জানোয়ার হিসেবে প্রমাণিত করলো। এমনকি নারী-শরীরে মনের অস্তিত্ব নিয়েও অনেকেই সন্দেহ পোষণ করলো। কে একজন ভুল করে করে নজরুলের কবিতা আওড়াতে লাগলো কানের কাছে, এরা দেবী, এর লোভী, এরা যত পায়, তত চায় আরো, ইহাদের অতি লোভী মন, এরা একা নাহি হতে চায় কারো। এরা শুধু চায় ধন আর ধন।
একজন ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কোন ধন? ধোন ধন?
অট্টহাসি শেষে কবিতাওয়ালা সশব্দে বললেন, দুটোই।
একইসঙ্গে আমরা অদূরে ভাষণের সুরে জয়নব-রাজীবের বহিষ্কারাদেশ শুনলাম।
১৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×