মোবাইল ফোনের এই যুগে শ্রীলঙ্কার সকল স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। শ্রীলঙ্কার এমন সিদ্ধান্তে কেউ কেউ অবাক হতে পারেন এবং ভাবতে পারেন দেশটি কি তাহলে রক্ষণশীলতার পথে পা বাড়িয়ে দিয়েছে? কিন্তু তথ্য-উপাত্তের নিরিখে শ্রীলঙ্কাকে এভাবে চিহ্নিত করা যায় না। দেশটি শিক্ষাদীক্ষায় অগ্রসর, শিক্ষার হার প্রায় শতভাগ। জনগণ কর্মোদ্যোগী, তাদের চোখ, কান খোলা। শ্রীলঙ্কার সরকারও এতটাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, তামিল গেরিলাদের পরাজিত করার মাধ্যমে তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নিশ্চিত করলো। বিদেশী ষড়যন্ত্রকেও পরাভূত করলো। শ্রীলঙ্কার জনগণের চোখে-মুখে এখন নতুন স্বপ্ন, আরো এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। এখন একটি দেশের কর্তৃপক্ষ রক্ষণশীল হতে যাবে কেন, প্রগতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে কেন? আসলে স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে সেখানকার কর্তৃপক্ষ প্রযুক্তি চর্চার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং প্রযুক্তি চর্চার ক্ষেত্রে শৃক্মখলা ও যথার্থবোধ আনার চেষ্টা করেছেন। যাতে উঠতি বয়সের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং তারা সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
অপচয় শব্দটি সব দেশের ভাষাতেই পাওয়া যায়, অবশ্য ভিন্ন বর্ণমালায়। অপচয়ের বিষয়টিকে কোন দেশেই প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখা হয় না। অপচয় আসলেই একটি নিন্দিত বিষয়। তবে অপচয় বিষয়টি শুধু অর্থ খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষ অর্থ অপচয়ের মত সময়ের অপচয় করতে পারে, শারীরিক শক্তির অপচয় করতে পারে, মানসিক সক্ষমতারও অপচয় করতে পারে, অপচয় করতে পারে প্রযুক্তি বিদ্যারও। এ প্রসঙ্গে আমরা মোবাইল ফোনের কথা উল্লেখ করতে পারি। শুধু শ্রীলঙ্কায় নয়, আমাদের দেশেও আমরা মোবাইল ফোনের ছত্রছায়ায় অর্থ, সময় ও বুদ্ধিবৃত্তির প্রচুর অপচয় হতে দেখেছি। এক্ষেত্রে মানুষের যা অপচয়, মোবাইল ফোন কোম্পানীর জন্য তা সঞ্চয়। আর অপচয়ের ক্ষেত্রে স্কুল পড়ুয়া টিনএইজের ছেলে-মেয়েরা বেশি অসচেতন বিধায় তারাই হয় মোবাইল কোম্পানীর প্রধান টার্গেট। বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে এদেরই আকৃষ্ট করার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের ‘ডিজুস' বিজ্ঞাপন তার বড় প্রমাণ। কিশোর -কিশোরীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিজ্ঞাপনের ভাষায় লাভের নানা ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। প্রেম-প্রীতিসহ রাত জাগার জন্যও প্রলুব্ধ করা হয়। মুনাফার লোভে বিভিন্ন মোবাইল ফোনের কোম্পানী স্বাভাবিক বিবেচনাবোধও যেন হারিয়ে ফেলেছে। এদের ফাঁদে পা দিয়ে কিশোর-কিশোরীরা বর্তমানে যে শুধু অর্থ ও সময়েরই অপচয় করছে তা নয়, বিপথেও পা বাড়াচ্ছে অনেকে। মোবাইল ফোনের যন্ত্রণায় অনেকে আত্মহত্যা করতেও বাধ্য হচ্ছে। হত্যার ঘটনাও ঘটছে। এ অবস্থাকে আর প্রশ্রয় না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্যেই তারা এখন শ্রীলঙ্কার স্কুলসমূহে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। শ্রীলঙ্কার এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্যও একটি ভাল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জানি না বিষয়টি আমাদের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হবে কি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


