আমি জানি ভাল কিছু করার মাঝে প্রকৃত আনন্দ ।আমি সব ভালদের সঙ্গী হতে চাই।

মোবাইল ফোনের ব্যবহারে শ্রীলঙ্কার উদাহরণ
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৩
শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ এক কিশোরীর আত্মহত্যার পর ছাত্র-ছাত্রীদের মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, গত সপ্তাহে স্কুল চলাকালে টেলিফোনে এক ছেলের তিরস্কারের পর ১৪ বছরের এক কিশোরী আত্মহত্যা করায় সকল স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। উল্লেখ্য যে, রাজধানী কলম্বোর একই স্কুলে টেলিফোনে একই রকম তিরস্কারের কারণে অপর এক ছাত্র আত্মহত্যার উদ্যোগ নিয়েছিল। স্মর্তব্য যে, শ্রীলঙ্কার ২ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে এবং বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বিশেষ প্যাকেজ বাজারে ছাড়ছে।
মোবাইল ফোনের এই যুগে শ্রীলঙ্কার সকল স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। শ্রীলঙ্কার এমন সিদ্ধান্তে কেউ কেউ অবাক হতে পারেন এবং ভাবতে পারেন দেশটি কি তাহলে রক্ষণশীলতার পথে পা বাড়িয়ে দিয়েছে? কিন্তু তথ্য-উপাত্তের নিরিখে শ্রীলঙ্কাকে এভাবে চিহ্নিত করা যায় না। দেশটি শিক্ষাদীক্ষায় অগ্রসর, শিক্ষার হার প্রায় শতভাগ। জনগণ কর্মোদ্যোগী, তাদের চোখ, কান খোলা। শ্রীলঙ্কার সরকারও এতটাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, তামিল গেরিলাদের পরাজিত করার মাধ্যমে তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নিশ্চিত করলো। বিদেশী ষড়যন্ত্রকেও পরাভূত করলো। শ্রীলঙ্কার জনগণের চোখে-মুখে এখন নতুন স্বপ্ন, আরো এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। এখন একটি দেশের কর্তৃপক্ষ রক্ষণশীল হতে যাবে কেন, প্রগতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে কেন? আসলে স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে সেখানকার কর্তৃপক্ষ প্রযুক্তি চর্চার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং প্রযুক্তি চর্চার ক্ষেত্রে শৃক্মখলা ও যথার্থবোধ আনার চেষ্টা করেছেন। যাতে উঠতি বয়সের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং তারা সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
অপচয় শব্দটি সব দেশের ভাষাতেই পাওয়া যায়, অবশ্য ভিন্ন বর্ণমালায়। অপচয়ের বিষয়টিকে কোন দেশেই প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখা হয় না। অপচয় আসলেই একটি নিন্দিত বিষয়। তবে অপচয় বিষয়টি শুধু অর্থ খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষ অর্থ অপচয়ের মত সময়ের অপচয় করতে পারে, শারীরিক শক্তির অপচয় করতে পারে, মানসিক সক্ষমতারও অপচয় করতে পারে, অপচয় করতে পারে প্রযুক্তি বিদ্যারও। এ প্রসঙ্গে আমরা মোবাইল ফোনের কথা উল্লেখ করতে পারি। শুধু শ্রীলঙ্কায় নয়, আমাদের দেশেও আমরা মোবাইল ফোনের ছত্রছায়ায় অর্থ, সময় ও বুদ্ধিবৃত্তির প্রচুর অপচয় হতে দেখেছি। এক্ষেত্রে মানুষের যা অপচয়, মোবাইল ফোন কোম্পানীর জন্য তা সঞ্চয়। আর অপচয়ের ক্ষেত্রে স্কুল পড়ুয়া টিনএইজের ছেলে-মেয়েরা বেশি অসচেতন বিধায় তারাই হয় মোবাইল কোম্পানীর প্রধান টার্গেট। বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে এদেরই আকৃষ্ট করার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের ‘ডিজুস' বিজ্ঞাপন তার বড় প্রমাণ। কিশোর -কিশোরীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিজ্ঞাপনের ভাষায় লাভের নানা ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। প্রেম-প্রীতিসহ রাত জাগার জন্যও প্রলুব্ধ করা হয়। মুনাফার লোভে বিভিন্ন মোবাইল ফোনের কোম্পানী স্বাভাবিক বিবেচনাবোধও যেন হারিয়ে ফেলেছে। এদের ফাঁদে পা দিয়ে কিশোর-কিশোরীরা বর্তমানে যে শুধু অর্থ ও সময়েরই অপচয় করছে তা নয়, বিপথেও পা বাড়াচ্ছে অনেকে। মোবাইল ফোনের যন্ত্রণায় অনেকে আত্মহত্যা করতেও বাধ্য হচ্ছে। হত্যার ঘটনাও ঘটছে। এ অবস্থাকে আর প্রশ্রয় না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্যেই তারা এখন শ্রীলঙ্কার স্কুলসমূহে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। শ্রীলঙ্কার এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্যও একটি ভাল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জানি না বিষয়টি আমাদের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হবে কি না।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অমিত০৯৭ বলেছেন:
মাইনাস। তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহে বাঁধা দেয়া যাবে না।
ইথাক বলেছেন:
বটি দিয়ে মাছ শাকশব্জির পাশাপাশি মানুষও কাটা যায়। তাই বলে বটির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে?
মাছিমারা কেরানি বলেছেন:
প্লাস দিলাম। মোবাইলের ব্যাবহার যেন অপব্যাবহার না হয় সে ব্যাপারে সরকার , অপারেটর আর সবার উপরে আমাদের কে সচেতন হতে হবে।
একলব্য১৯৭১ বলেছেন:
চমতকার লেখা
মুহাম্মদ মোহেব্বুর রহমান বলেছেন:
ইথাক বলেছেন: বটি দিয়ে মাছ শাকশব্জির পাশাপাশি মানুষও কাটা যায়। তাই বলে বটির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে? -------------------------------------------------------------------------
ঠিক আছে আপনার তিন, চার বা দশ বছর বয়সি বাচ্চাটার হাতে বটিটা তুলে দিন। (যদি বাচ্চা থাকে)
--------------------------------------------------------------------------
লেখককে প্লাসায়িত ধন্যবাদ।
লালসালু বলেছেন:
বাংলাদেশে অনেক স্কুল কলেজে (যেমন রাজউক উত্তরা হাই স্কুল) মোবাইল নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রবেশ নিষেধ। বাঙ্গালী নতুন কোন কিছু পেলে তার বাঁশ মেরে শেষ করে। তারা মোবাইলেরও বাঁশ দিতে যাচ্ছে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...













