ভদ্রলোক মুক্তিযুদ্ধে একটি পা হারিয়েছেন, বীরপ্রতিকে ভুষিত এবং প্রতিবছর দরবার হলে রাষ্ট্রপ্রধানকর্তৃক পুরষ্কিত হন।
কড়া আওয়ামীলীগার। ভদ্রলোকের দুই ছেলে। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্ধ সমর্থক, পাকিস্তান হারলে সারাদিন মন খারাপ করে থাকে। বাবার মত ছেলে দুজনও আওয়ামীলীগের ঘোর সমর্থক।
আমার একজন কলিগের বাবা মুজিবের কাছের বন্ধু ছিলেন। মুজিব বাকশাল গঠন করলে সটান মুজিবের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, আমি আর তোমার সাথে নাই।
বয়োবৃদ্ধ এই ভদ্রলোক পাকিস্তান পাকিস্তান ক্রিকেট দল হারলে অশ্রুপাত করেন।
এখনো ভারত পাকিস্তান ক্রিকেট খেলা হলে ৬০ থেকে ৭০% পাবলিক পাকিস্তান সাপোর্ট করে।
কারন কি ভেবে দেখেছেন কি?
আমার ছেলেবেলার বন্ধুদের বেশীর ভাগই ছিল হিন্দু ধর্মালম্বী।
এক ধোপার বাড়ি ছিল আমার বড় আড্ডাখানা। ঐ ধোপা ভদ্রলোকের রেডিওতে ক্রিকেট কমেন্ট্রি শুনতাম। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, ভারতের তিনি ছিলেন অন্ধ সমর্থক।
ধোপা ভদ্রলোক মারা গেছেন, ওনার বৌ অর্থাৎ বৌদি এখনও বেচে আছেন,ঈদে দেশে দেখা হলে এখনও সস্নেহে প্রশ্ন করেন, কেমন আছ?
যদি আপনি হিন্দু ভাইদের প্রশ্ন করেন আপনার স্বপ্নের দেশটি কোনটি?
সত্যিকারের উত্তর কি হবে জানেন তো?
কারন কি ভেবে দেখেছেন কি?
হিন্দুদের সাথে আমাদের সবসময়ই সৌহার্দ্যপুর্ন অবস্থান ছিল। আমার জানামতে সংখালঘুর বিড়ম্বনা তাদেরকে কখনো সইতে হয়নি। আমার সামনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা এরই প্রমান দেবে। ঐ ধোপা ভদ্রলোকের বাড়ি আর আমাদের মসজিদের মধ্যে দুরত্বটি একটি ক্ষুদ্র নালার অর্থাৎ হাত দুইয়ের।
একদিন বিকেল বেলায় ঐ ধোপা ভদ্রলোক অর্থাৎ দাদা আগরতলার হিন্দি গান উচু ভল্যিয়ুমে শুনছিলেন, ঐ সময় এক নামাজী জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বললেন অনীল একটু কম সাউন্ড দিয়া শুন। দাদা উত্তর বললেন, পারুম না তোমার জানালা লাগাইয়া লও।
এই আমরা গায়ের লোকজন যে হিন্দুদের সাথে সৌহার্দ্যপুর্ন, সহনশীল অবস্থানটি ধরে রাখতে পেরেছিলাম তার জন্য আমাদেরকে মোটা মোটা ইংরেজী বই পড়ে মহাপন্ডিত হতে হয়নি আবার নামাজ রোজা ছেড়ে সেক্যুলারও হতে হ্য়নি।
আমার উপরের প্রসংগগুলোর অবতারনার কারনটি এই যে কিছু মহাপন্ডিত ব্লগার আছেন যারা অন্যসব ব্লগারদের চরিত্রকে জাজ করেন যেসব ক্রাইটেরিয়া দিয়ে তা হল পাকিস্তানকে না ভারতকে সাপোর্ট করে, ধর্মসর্মপালন করে নাকি করেনা, দাড়ি টুপি পড়ে নাকি পড়ে না।
যে কথাটি দিয়ে আমি শেষ করতে চাই তাহল দুএকজন ধর্মব্যবসায়ী আমাদের দেশের বা সমাজের যতটা না ক্ষতি করেছে তার চেয়ে বেশি করেছে দেশের শিক্ষিত শ্রেনীর লোকেরা যারা কখনো ছিল আমলা কখনো ছিল রাজনীতিবিদ আবার কখনোবা ছিল তথাকথিত সুশীল সমাজের অংশ।
ধর্মব্যবসায়ীরা তাদের ছত্রছায়াতেই বেড়ে উঠেছিলেন।
(বন্যাদুর্গতদের সাথে সহানুভুতিশীল হয়ে আজকের লেখা শেষ করছি)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

