আমি একটি অফিসের ছাপোষা কেরানী টাইপের মানুষ। নুন আনতে পানতা ফোরায় মার্কা ফ্যমিলি আমার। জীবনে স্বাদ আহ্লাদ নেই বললেই চলে। ব্লগারদের বড় একটি অংশ যে মুটামুটি সম্পন্ন পরিবারের সন্তান এতে সন্দেহ নেই। অনেকের অর্থনৈতিক সমস্যা থাকাটাও যদিও অসম্ভব কিছু নয়।
জীবন যাপনে আপনারা কি ধরনের সমস্যায় ভোগেন জানিনা, তবে আমাদের দেশের ৪০ ভাগ মানুষ এখনো দুবেলা খেতে পায়না এটা হয়ত অনেকেই জানেন না।
গত একদুবছর আগের ঘটনা, ক্ষেতের কাচামরিচ খেয়ে ক্ষিদের যন্ত্রনায় মেটাতে গিয়ে একটি ছোট মেয়ে প্রান হারিয়েছিল তাও আবার ঈদের দিনে। মাত্র দুএকদিন আগের ঘটনা সিরাজগন্জে ত্রানের জন্য কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল। উত্তরবংগে মংগায় প্রতিবছর মানষদের চরম অর্থনৈতির দুর্বিপাকে পড়তে হয়, অনেকটা না খেয়ে মরার মত। গ্রামে গন্জের ইস্কুলগুলোতে ছেলেমেয়েরা দুএক ক্লাস পড়া শেষ করতে না করতেই ইস্কুল ছাড়ে জীবিকার তাগিদে, যদিও বই কিংবা মাইনের জন্য টাকা গুনতে হয় না। অথচ মোবাইল আর কিছু মাল্টি নেশনাল কোম্পানির এডগুলো দেখলে মনে হয় বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে ব্যঘ্রের গতিতে উন্নতির সোপান বেয়ে। ঠিকই এগিয়ে চলেছে তবে বাংলাদেশ নয় গোটা কিছু মানুষ এদেশের রাজনীতি, ব্যবসাবানিজ্য, মিডিয়া ইত্যাদি সবকিছুই তাদের নিয়ন্ত্রনে। এদের উন্নতির চাকাতলে পিষে মরছে সিংহভাহ খেটে খাওয়া মানুষেরা (গার্মেন্টসের মেয়েরা এর সবচেয়ে বড় উদাহরন)। আবার একটি বড় অংশের সরকারি আমলা কর্মচারিদের যোগসাজশে চলেছে দেশকে ছিলে ছোবড়ে খাওয়ার মহা উৎসব।
দেশের এই যখন অবস্থা কিছু কিছু মানুষ সমস্যা খুজে বেড়াচ্ছেন অন্যত্র, জেনে বা না জেনেই কাজটি করছেন ওনারা।
রাতজেগে বয় বা গারলফেরন্ডের সাথে মোবাইলে কথা বলা যৌক্তিক না অযৌক্তিক। মদের লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজতর করা উচিত না অনুচিত। পরকিয়া উপকারি না অপকারি? একটা মেয়ের দুটা ছেলের সাথে একসাথে প্রেম করাটা জায়েজ না নাজায়েজ। বাংগালি মেয়েদের বোরখা পড়া উচিত নাকি স্কার্ট পড়া উচিত।
একটি খেটে খাওয়া গার্মেন্টসের মেয়ের সমস্যাগুলো এক্ষেত্রে গৌণই বলতে হয়।
এদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলাটা অবান্তর কেননা এরা অতি সুবিধাভোগি সমাজের অংশ, এটের পেটের বা কাপড়ের চিন্তা নেই।
এখন আবার বল্গে শুরু হয়েছে বাকস্বাধিনতার রক্ষা কল্পে মহারণ, ধর্ম যার প্রধান উপজীব্য।
এক্ষেত্রে সেনসেটিভ ইস্যু হিসাবে ধর্মটা আবার সবারই পছন্দনীয়, এতে তথাকথিত সমাজের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা খোচাখোচি ইন্টেলেকচুয়ালদের পোয়া বারো আর ধর্ম
বানিজ্যে মত্ত ধর্মব্যবসায়ীদের পোয়া চৌদ্দ।
দুপক্ষের সুবিধাবাদিরাই দেশের আর সমাজের জন্য ক্ষতিকারক ।
আশাকরি আমাদের দেশের ইন্টেলেকচুয়ালরা আমাদের সত্যিকার অর্থের সমস্যাগুলোতে দৃষ্টি দিবেন যাতে করে দেশের দেশের মানুষের সত্যিকার অর্থে মুক্তি ঘটে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

