ধর্ম আর বিজ্ঞান নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন অনেকে। বাদানুবাদ ছাড়িয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় অনেক সময়। খড়গহস্ত হয়ে উঠেন অনেকে।
আজকে কোন বিতর্কের অবতারনা নয়। বহুবছর আগে পড়া একটি বাংলা ছোট গল্পে (ওপার বাংলার) কিভাবে দুই সহোদর ধর্ম আর বিজ্ঞান নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাই সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করব।
ঐ দুই সহোদর প্রায় ধর্ম আর বিজ্ঞান নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তেন। একজন আরেকজনকে কুপোকাৎ করার ফন্দি আটতেন সবসময়। স্বভাবতই একজনের বিস্বাস ছিল ধর্মীয় শাস্রে আরেকজনের বিজ্ঞানে।
তাদের ছিল এক ভাগ্নে। দুজনেই ভাগ্নেকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তারা উভয়েই চাইতেন ভাগ্নেকে নিজের চিন্তা ধারায় বড় করে তুলতে।
একজন চাইতেন ভাগ্নে ধার্মিক হোক, আরেকজন বিজ্ঞানী। প্রথমেই দুই সহোদরের মধ্যে দন্দ্ব বেধে গেল ভাগ্নে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে। ধর্মে বিস্বাসী মামা চাইলেন ভাগ্নে ধর্ম শিক্ষা করুক আর বিজ্ঞানে বিস্বাসী মামা চাইলেন বিজ্ঞান শিক্ষিত হয়ে উঠুক।
যাহোক এরি মধ্যে ভাগ্নে একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ল।
এক মামা চাইলেন চিকিৎসা চলুক পুরোপুরি বিজ্ঞান মতে আরেকজন গো ধরলেন ধর্মীয় জ্ঞানে। ভাগ্নের শরীর ধীরে ধীরে খারাপের দিকে এগিয়ে গেল। বিচলিত হয়ে পড়লেন দুই মামাই। শংকিত হলেন তাদের ভাগ্নের জীবনের কথা চিন্তা করে। উভয়েই চাইলেন যে করেই হোক ভাগ্নে সুস্থ হয়ে উঠুক। একসময় মৃত্যুমুখে পতিত হল ভাগ্নে। যায় যায় দশা। এবার পুরোপুরি ভেংগে পড়লেন দুই মামা। ভাগ্নের প্রতি তাদের ভালবাসা তাদের সব মতভেদ ভুলিয়ে দিল। ভাগ্নের জীবনটাই সবচাইতে মুখ্য হয়ে উঠল দুজনের কাছে।
শাস্রে বিস্বাসী মামা সব বিভেদ ভুলে বিজ্ঞানে বিস্বাসী মামার হাত জড়িয়ে আকুলভাবে জানতে চাইলেন বিজ্ঞানে আর কোন চিকিৎসা আছে নাকি যাতে করে ভাগ্নেকে বাচানো যায়। উল্টো বিজ্ঞানে বিস্বাসী মামা সহোদরকে জড়িয়ে ধরে আকুল আবেদন জানালেন
শাস্রের বিস্বাস আর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ভাগ্নেকে সারিয়ে তুলতে।
ভাগ্নের প্রতি মামাদের ভালবাসা পরষ্পরের বিস্বাসের প্রতি শুধু সহনশীল করে তুলেনি, অন্যের বিস্বাসকে গ্রহন করার মত উদারও করে তুলেছিল।
আমার মনে হয় এই সহজ সত্যটা আমরা সবাই জানি যে, শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসাই পারে মানুষকে সবধরনের মতপার্থক্য আর বিবাদ ভুলিয়ে পরষ্পরের কাছে নিয়ে আসতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

