somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম, বিজ্ঞান আর মানুষের ভালবাসার গল্প

৩১ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম আর বিজ্ঞান নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন অনেকে। বাদানুবাদ ছাড়িয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় অনেক সময়। খড়গহস্ত হয়ে উঠেন অনেকে।
আজকে কোন বিতর্কের অবতারনা নয়। বহুবছর আগে পড়া একটি বাংলা ছোট গল্পে (ওপার বাংলার) কিভাবে দুই সহোদর ধর্ম আর বিজ্ঞান নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাই সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করব।
ঐ দুই সহোদর প্রায় ধর্ম আর বিজ্ঞান নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তেন। একজন আরেকজনকে কুপোকাৎ করার ফন্দি আটতেন সবসময়। স্বভাবতই একজনের বিস্বাস ছিল ধর্মীয় শাস্রে আরেকজনের বিজ্ঞানে।
তাদের ছিল এক ভাগ্নে। দুজনেই ভাগ্নেকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তারা উভয়েই চাইতেন ভাগ্নেকে নিজের চিন্তা ধারায় বড় করে তুলতে।
একজন চাইতেন ভাগ্নে ধার্মিক হোক, আরেকজন বিজ্ঞানী। প্রথমেই দুই সহোদরের মধ্যে দন্দ্ব বেধে গেল ভাগ্নে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে। ধর্মে বিস্বাসী মামা চাইলেন ভাগ্নে ধর্ম শিক্ষা করুক আর বিজ্ঞানে বিস্বাসী মামা চাইলেন বিজ্ঞান শিক্ষিত হয়ে উঠুক।
যাহোক এরি মধ্যে ভাগ্নে একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ল।
এক মামা চাইলেন চিকিৎসা চলুক পুরোপুরি বিজ্ঞান মতে আরেকজন গো ধরলেন ধর্মীয় জ্ঞানে। ভাগ্নের শরীর ধীরে ধীরে খারাপের দিকে এগিয়ে গেল। বিচলিত হয়ে পড়লেন দুই মামাই। শংকিত হলেন তাদের ভাগ্নের জীবনের কথা চিন্তা করে। উভয়েই চাইলেন যে করেই হোক ভাগ্নে সুস্থ হয়ে উঠুক। একসময় মৃত্যুমুখে পতিত হল ভাগ্নে। যায় যায় দশা। এবার পুরোপুরি ভেংগে পড়লেন দুই মামা। ভাগ্নের প্রতি তাদের ভালবাসা তাদের সব মতভেদ ভুলিয়ে দিল। ভাগ্নের জীবনটাই সবচাইতে মুখ্য হয়ে উঠল দুজনের কাছে।
শাস্রে বিস্বাসী মামা সব বিভেদ ভুলে বিজ্ঞানে বিস্বাসী মামার হাত জড়িয়ে আকুলভাবে জানতে চাইলেন বিজ্ঞানে আর কোন চিকিৎসা আছে নাকি যাতে করে ভাগ্নেকে বাচানো যায়। উল্টো বিজ্ঞানে বিস্বাসী মামা সহোদরকে জড়িয়ে ধরে আকুল আবেদন জানালেন
শাস্রের বিস্বাস আর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ভাগ্নেকে সারিয়ে তুলতে।
ভাগ্নের প্রতি মামাদের ভালবাসা পরষ্পরের বিস্বাসের প্রতি শুধু সহনশীল করে তুলেনি, অন্যের বিস্বাসকে গ্রহন করার মত উদারও করে তুলেছিল।
আমার মনে হয় এই সহজ সত্যটা আমরা সবাই জানি যে, শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসাই পারে মানুষকে সবধরনের মতপার্থক্য আর বিবাদ ভুলিয়ে পরষ্পরের কাছে নিয়ে আসতে।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×