রিক্সাওয়ালা লোকটি কালাম সাহেবের সামনে বসে অঝোরে কাদতে লাগল।
কালাম সাহেবের খোয়া যাওয়া টাকার ব্যাগটি টেবিলের উপর রাখা। কিছুক্ষন আগে ফেরত পেয়েছেন তিনি। ব্যাগটি হারিয়েছিলেন তিনি দুদিন আগে। হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পড়ে গেলে রিক্সাওয়ালা তাকে একটা ঔষধের দোকানে শুইয়ে রেখে টাকা নিয়ে পালায়।
যে প্রয়োজনে টাকাগুলো নিয়ে পালিয়েছিল গরীব খেটেখাওয়া লোকটি, তা মিটে গেছে।
তার স্ত্রী ততক্ষনে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে জটীল এক রোগে। একটু দেরীতেই তার হাতে টাকাগুলো এসে পৌছেছিল। তাই টাকার ব্যাগ থেকে কামাল সাহেবের ঠিকানা উদ্ধার করতে পেরেই গরীব লোকটি ছুটে এসেছে টাকাগুলো ফেরত দিতে। টাকার প্রয়োজন ছিল বছরের পর বছর অনাহারে আর অসুখে ভোগতে থাকা স্ত্রীর জীবন বাচাতে, কোন প্রকার ভোগ বিলাশের জন্য নয়।
কামাল সাহেব রিক্সাওয়ালা লোকটিকে সান্তনা দিয়ে বিদায় করেন। তারপর এসে দাড়ান জানালার সামনে। তাকিয়ে থাকেন দুর আকাশের দিকে। অবৈধ উপার্জনের টাকাগুলো তিনি ব্যংকে জমিয়েছিলনে ঘুষ খেয়ে। ব্যংক থেকে টাকাগুলো উঠিয়েছিলেন তড়িঘড়ি করে মেয়েকে একটি ভাল জায়গায় পাত্রস্থ করার জন্য। তাও দেরি হয়ে গেছে। গতকালকে পাড়ার এক উঠতি মাস্তান গোছের ছেলের সাথে পালিয়েছে তার মেয়ে।
তার অন্যায়ভাবে উপার্জিত টাকাগুলো যেমন বাচাতে পারেনি একজন গরীব সৎ মানুষের জীবন, তেমনি তার বখে যাওয়া মেয়েকেও আনতে পারেনি সুপথে।
কামাল সাহেবের নিজেকে এবং তার উপার্জিত অবৈধ সম্পদগুলোকে অভিশপ্ত মনে হল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

