৭১ এর যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।
সাব্বিরের বাবা নাম না জানা একটি ফুলের গাছ নিয়ে এলেন একদিন। পুতে দিলেন তাদের ছোট্ট উঠোনটিতে। সাব্বিরের যত্ন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠল গাছটি। এরিমধ্যে যুদ্ধও গুরুতর রূপ ধারন করেছে। সাব্বিরের বয়স তখন ১০ বছর । পাকসেনা আর তার দোসর রাজাকারদের অত্যাচারে বাংলাদেশ তখন জ্বলছে দোজখের আগুনে । পাক হানাদাররা একদিন আক্রমন করল তাদের গ্রামটিকেও। সাব্বির আর তার মাকে আগেভাগেই তার মামারা নিয়ে গেলেন আরও ভেতরের দিকের একটি গ্রামে। বাবা রয়ে গিয়েছিলেন বাড়ি পাহারা দিতে।
মুক্তকামী মানুষেরা ধীরে ধীরে প্রতিরোধ গড়ে তুললে পাক সেনারা পিছু হঠতে শুরু করল। একসময় সাব্বিরেরা ফিরে এল নিজের গ্রামটিতে। যাবার আগে হানাদারেরা পুড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিল সব ঘড়বাড়ি। সাব্বিরদের বাড়ীটিও পুড়ে মাটিতে মিশে গেছে। তার বাবার পোড়া লাশটিকে ওরা মামারা খুজে পেল একটা খুটিতে বাধা অবস্থায়।
লাশটিকে গোড় দেয়া হল ফুল গাছের পাশে তাদের ছোট্ট সেই উঠোনটিতে।
আশ্চর্যজনকভাবে উঠোনের সেই ফুলের গাছটি তখনও অক্ষত অবস্থাতেই ছিল। এরপর থেকে সাব্বির যখনই তাকিয়েছে গাছটির দিকে মনে পড়েছে তার বাবার কথা।
একদিন ভোরবেলায় ঘুম থেকে জেগে উঠে সাব্বির অবাক চোখে তাকাল উঠোনের ফুলের গাছটির দিকে। ছোট্ট একটি লাল ফুল ফুটে আছে গাছটিতে। বাবা মরে গেলে একটিবারও কাদেনি সাব্বির। শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিল। এই প্রথম তার দুচোখ বেয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু বয়ে গেল। বাবার কথা মন করে।
কাকতালীয়ভাবে সেইদিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
--রিপোষ্ট--

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


