somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুমিকম্প

২৭ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার নাম লি পেং।
চীনের ক্রমবর্ধিষ্ণু একটিতে শহরে আমার বসবাস। যে শহরটিতে নতুন আনকোরা গাড়ীগুলো হাকিয়ে বেড়ালেও এখন আর কেউ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে না। বাবা মাকে নিয়ে শহরের উপকন্ঠে আমার বসবাস। একটু উচুতে আমাদের ছোট্ট বাড়ীটির আশেপাশে খোলামেলা, বড় বড় অট্টালিকার আড়ালে এখনও হারিয়ে যায়নি। প্রতিদিন সন্ধাবেলায় দুর পাহাড়ের গায়ে সূর্য যখন গা এলিয়ে দেয় আমি ঠায় বারান্দায় বসে তখন প্রকৃতির শোভা উপভোগ করি।
তরুন বয়সী এই আমার জীবনে সবকিছুই আনন্দময় ছিল।
কিন্তু হঠাৎ একদিন জ্বরে আক্রান্ত হলে আমার জীবনের সবকিছুই বদলাতে শুরু করে।
প্রথমে ভেবেছিলাম ভাইরাস জ্বর। সপ্তাহান্তেও জৃর যখন কমল না, আমার বাবা আমায় কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। হাসপাতালে লোকেরা কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা সেরে ঐদিনকার মত বিদায় দিল আমায়।এরদুদিন পর আমার জীবনের সবচাইতে বড় দু:সংবাদটি নিয়ে এলেন আমার বাবা। হাতে ডাক্তারী পরিক্ষার কাগজপত্র। আমার মার চোখ বেয়ে অনবরত জলের ধারা বয়ে চলেছিল। আমার বোন ক্যান্সার হয়েছে। শীঘ্রই সারিয়ে তোলার ব্যবস্থা না নিলে মারা পড়ব আমি। আমাদের পরিবারটি সচ্ছল ছিল কিন্তু এই জটীল রোগটি সারাবার মত অর্থসম্পদ আমার বাবার ছিল না। প্রথমেই মা গো ধরলেন বাড়ীটি বিক্রি করে দেবার। বাবা জানতেন এর থেকে যে কয়টি টাকা পাওয়া যাবে তা যৎসামান্য। আমায় সমবেদনা জানাতে পাড়াপড়শিরা এল, আত্মীয়রা এল, এল সহপাঠিরা। অনেকে আবার বাবাকে আশ্বাস দিল বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চালানোর।
জ্বর এবং রোগের অন্যান্য সব উপসর্গে আমার শরীরের ক্রমাবনতি ঘটছিল। ধীরে ধীরে আমি এগিয়ে যাচ্ছিলাম মৃত্যুর দিকে। অর্থ সংগ্রহের বিচ্ছিন্ন সব সংবাদে বাবা মা মাঝে মাঝে উৎফুল্ল হয়ে উঠতেন, কিন্তু তা খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হত না।
এতসবকিছুর পরও প্রতিদিন নিয়ম করে সন্ধাবেলায় মা আমাকে ধরে নিয়ে বারান্দায় বসাতেন। সূর্যটা যখন তার শেষ আলোটুকু ছড়িয়ে দিয়ে পাহারের ওপারে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেত, আমি আনমনে তাকিয়ে থাকতাম দুরপানে। একসময় বিষাদময় হয়ে উঠত পুরো পরিবেশটুকু। তারপরও কিছু একটা ভালোলাগার অনুভুতিতে মনটা হালকা হয়ে উঠত। আর এভাবেই আমার ভেতরে প্রস্তুতি ঘটছিল যেন সহজেই আমি মৃত্যুটাকে বরন করে নিতে পারি। আমি জানি আমার বাব মার জন্য সহজ ছিল না এই পরিস্থিতির মাঝে স্বাভাবিক থাকা। মাঝে মাঝে তার খুবই ভেংগে পড়তেন। তাদের জন্য এটা মেনে নেয়াটা খুবই কষ্টের ছিল তাদের একমাত্র সন্তানটি তাদেরই সামনে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। মা আমার সবসময় আমার কাছে কাছে থাকতেন। তাকে দেখলে মনে হত তিনি প্রানান্তকর চেষ্টায় রত মৃত্যুর কাছে থেকে তার সন্তানটিকে আগলে রাখতে

এক সন্ধায় মা আমার চোখের আড়াল হলেন আমার জন্য স্যুপ বানিয়ে আনবেন বলে।
যথারীতি আমি তাকিয়ে আছে দুরের পাহাড়গুলোর দিকে। এমনি সময়ে আমার শরীরটা হঠাৎ করেই যেন কেপে উঠল। আমার চেয়ারটাও যেন দুলতে থাকল। মৃত্যুভয়ে মন আচ্ছন্ন হল আমার। ভাবলাম মৃত্যুক্ষনে দাড়িয়ে হয়তবা আমি। মাকে আমি চেচিয়ে ডাকার চেষ্টায় সব শক্তি জড়ো করছিলাম যখন তার চিৎকার কানে এল আমার। মনে হল চেচিয়ে তিনি বারবার একটি শব্দই উচ্চারন করছিলেন। কাছে এলে বুঝলাম শব্দটি ছিল ভুমিকম্প। টের পেলাম শুধু আমি নেই পুরো শহরটা দুলছে। আমার মা দৃষ্টিগোচর হওয়ার আগেই ভারী কিছু একটা পতনের শব্দ হল। আমি জ্ঞান হারালাম।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×