somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সুখী হওয়ার জন্য সত্যিকারের সুন্দর একটা মন চাই। অনেকগুলা টাকা চাই? বাড়ি চাই, গাড়ি চাই, অনেককিছু খেতে চাই?
সুন্দর একটা বৌ বা জামাই চাই? ছোট্ট একটা সংসার চাই?
ভাল একটা চাকুরি চাই?

অনেকেরই টাকা থাকে, বাড়ি থাকে, গাড়ি থাকে, থাকে ঘরে সুন্দর মানুষও।
তারপরও মানুষ সুখী হয় না কেন?

সামাজিক পরিবেশ কিংবা দেশের অবস্থা কি এর জন্য দায়ী?
মনে হয় না? অনেককিছু থাকার পরও বিদেশিরা অসুখী হয়।

আমরা সবাই আসলে প্রতিনিয়ত আমাদের মনে ছবি আকি। আশেপাশের মানুষের ছবি, পৃথিবীর আর সবকিছুর ছবি।

আমরা সবাই তাই এক একজন চিত্রকার।

যার মন যত সুন্দর তার তুলিতে আশেপাশের সবকিছুর ছবিই সুন্দরভাবে ফুটে উঠে।

শিশুরা সবচাইতে ভাল চিত্রকর। তারা তাদের মনে যে ছবি আকে তা সবসময়ই সুন্দর ঝকঝকে হয়ে থাকে। তাদের রংয়ের তুলিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুও মনের ক্যানভাসে অপরূপ সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত হয়। তাই আশেপাশের সবকিছুই রংগীন হয়ে উঠে।

তাই মনটা যদি সুন্দর না হয়, অতি সুন্দর বাড়ি ঘর, অতি সুন্দর সংগিনী কিংবা নিজের সুন্দর অবস্থা মনে রং ধরাতে পারেনা। সবকিছুই পানসে হয়।


তাই বলা হয় মানুষের মনটা আয়নার মত। যারটা যত ঝকঝকে তাতে সবকিছুর প্রতিফলনও ঘটে তত উজ্জলভাবে।

তাই সুখী হওয়ার জন্য সত্যিকারের সুন্দর একটা মন চাই।

(অফিস থেকে ফিরলাম ক্লান্ত শরীর মনে, তারপরও লিখতে মন চাইল, তাই লিখে ফেললাম মনে যা আসল তাই}



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28868251 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28868251 2008-11-12 20:03:33
ব্যক্তি কিংবা মূর্তি পূজায় রবীন্দ্রনাথের অনীহা গান্ধী মুর্তি কিংবা মুর্তিপূজার পক্ষালম্বন করেন এবং তিনি বিস্বাস করতেন সাধারন জনগনের সেই মেধা নেই কিংবা নিজেদেরকে সে পর্যায়ে নিতে সক্ষম নয় যাতে করে তারা এবস্ট্রাক্ট চিন্তাধারাগুলো বুঝতে পারবে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের এটি সহ্য করতে পারতেন না সাধারন মানুষজন চিরকাল বাচ্চাদের মত আচরন করবে এবং তাদের সাথেও শিশুদের মত আচরন করা হবে। গান্ধী তখন উল্লেখ করেন ইউরোপের মহত সব অর্জনগুলো পতাকার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল, পতাকাগুলো ছিল জীবজন্তুর মুর্ত প্রতিকের মত।
রবীন্ধনাথ দ্বিমত পোষন করলে গান্ধী নিজের যুক্তি অটল থাকেন এবং বলেন ইউরোপীয় পতাকাগুলো যে ঈগল ইত্যাদির ছবি বহন করে তার বিপরীতে তিনি তার পতাকায় বেছে নিয়েছেন ঘুর্নায়মান চরকার ছবি।

পশ্চিম বাংলার এক ভদ্রলোকের একটি লেখাতে প্রাসংগিক আরো কিছু জানা যায়, যাতে করে এটি বুঝতে অসুবিধা হয় না রবি ঠাকুরের অন্ধভক্তিতে অনীহা ছিল, যাতে করে কিনা একজন মানুষ নিজের স্বকীয়তাকে ভুলতে বসে। শৈশবে তিনি রবীঠাকুরের একটি প্রবন্ধ পড়েছিলেন, যার নাম ছিল ভক্তিপুজা। রবীন্দ্রানাথ এই বলে দু:খ প্রকাশ করেছিলেন যে, ভারতীয়রা বিখ্যাত কোন মানুষ পেলেই তাকে বেদীতে চড়িয়ে তার পুজা অর্চনা করা শুরু করে। ভারতীয়দের এই মানসিকতা তাকে পীড়া দেয়।
দুর্ভাগ্যবশত: পশ্চিম বংগে ঠিক এই কাজটি করা হয়েছে, রবীন্দ্রনাথকে ঈশ্বর বানিয়ে তার পূজা অর্চনা চালিয়েছে বাংগালীরা। বিশ্বভারতী কিংবা শান্তি নিকেতন রবীন্দ্রনাথকে ঈশ্বর বানিয়ে ফেলেছে ক্ষুদ্রগন্ডিতে আকড়ে ফেলে।
(তাইত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রিজওয়ানা বন্যাকে একবার বলতে শুনেছিলাম, ওনি ওনার সন্তানকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চান যেখানে আকাশে বাতাসে, পাতায়, ডালে কেবলি রবীন্দ্রনাথই থাকবে)।
উক্ত পশ্চিম বংগীয় ভদ্রলোকের ধারনা এসব কারনেই রবীন্দ্রসাহিত্যের চর্চা এখন কষ্টসাধ্য, কেননা পশ্চিম বাংলা তার পুজাতেই ব্যস্ত, চর্চার সুযোগ কই।
শুনতে খারাপ লাগলেও এটিও সত্য বিস্বসাহিত্যের অংগনে রবীন্দ্রনাথ নামটি উচ্চারিত হয় না বললেই চলে। এমনকি খোদ ভারতে আরেক বাংগালী সত্যজিত রয় ভারতীয়দের কাছে রবীন্দ্রনাথের চাইতেও বেশি জনপ্রিয় একটি নাম।
বাংগালীরা যত না রবীঠাকুরকে বুঝতে চেয়েছে তার চাইতে বেশি রবীবন্দনায় ব্যস্ত থেকেছে।

এবার দুযোগের আগে পড়া আমাদের বাংলাদেশের এক কবির কবিতার কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তার কবিতায় তিনি রবীঠাকুরের বন্দনা করতে করতে আবেগাক্রান্ত হয়ে লিখেছিলেন তুমি আমার শিরায় শিরায়, তুমি আমার রক্ত কণিকায়, তুমি আমার ঈশ্বর।

ব্যক্তিপূজার এই রোগটি কিংবা হীনমন্যতাটি আমাদের বাংলাদেশীদের মধ্যেও চোখে পড়ে। কোন কোন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সাথে নিজের আবেগ উচ্ছাসকে অনেকে এত বেশিই জড়িয়ে ফেলেন যে, তা রীতিমত দৃষ্টিকটু হয়ে পড়ে।

আমরা সৃষ্টির সেরা জীব এইজন্যেই যে আমরা সকলেই নিজের মত, অন্যের মত নই, অন্যের অস্তিত্ব আমার অস্তিত্বের জন্য আবশ্যকীয় নয়। নিজের অস্তিত্বে সমুজ্জল।
রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, আমরা সবাই রাজা আমাদেরই রাজার রাজত্বে।

(লালন মুর্তি কিংবা ভাস্কর্যটি নিয়ে কুটতর্কের সাথে লেখাটির কোন যোগসূত্র খুজে পেলেও অনেকে পেতে পারেন)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28865989 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28865989 2008-11-07 19:15:23
ইসলাম ধর্ম আর বাংগালী সংষ্কৃতি আবার ২০০২ সালের পিও রিসার্চ সেন্টারের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে যে ৮৮% বাংলাদেশের মানুষ মনে করে ধর্ম তাদের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে।
উপরের কথাগুলো গুগুলের রিলিজিয়ন ইন বাংলাদেশ থেকে নেয়া।

আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিরা উপরোক্ত সত্যটি অনুধাবনে সবসমেয়ই উদাসীন থেকেছেন।
কারো কারো ক্ষেত্রে ধর্মের প্রতি তাদের এই অবজ্ঞা কর্মজীবনে কিংবা ব্যক্তিজীবনে সুফল বয়ে আনলেও আনতে পারে। ষ্পষ্টভাবে বললে বুঝে কিংবা না বুঝে ধর্মের বিরুদ্ধাচারন করাতে বিশেষ একটি গোষ্টিকে হয়তভাবে সন্তুষ্ট করা গেছে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে ধর্মব্যবসায়ীরা বাংগালীদের ধর্মপ্রীতিটাকে কাজে লাগিয়ে আখের গোছাতে যখন দারুনভাবে সফল তখন আক্রমনের লক্ষবস্তুতে পরিনত করা হচ্ছে স্বংয় ধর্মটাকে। যারফলে সহজ সরল বড় অংশের জনগনকে বিভ্রান্ত করাটা ধর্মব্যবসায়ীদের আরো সহজ কাজে পরিনত হয়েছে।

ধর্মের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীরা যেমন রসমালাই খাচ্ছেন ঠিক তেমনি প্রতিভাহীন বিশেষ গোষ্ঠীর এই বুদ্ধিজীবিরা বাংগালীত্ব আর বাংগালী সষ্কৃতির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে পোলাও কোরমা (একদিন শুধু পান্তাভাত) খেয়ে বেড়াচ্ছেন।
ধর্ম আর সংষ্কৃতিকে মুখোমুখি দাড় করাতে ধর্মান্ধদের যতনা উতসাহ তার চাইতে উতসাহ বেশি এই মেধাহীন বুদ্ধিজীবিদের।

দেশ এবং জাতিকে আন্তর্জাতিকভাবে ত দুরের কথা, দেশের মানুষের সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতেও এরা চরমভাবে ব্যর্থ।

বাংলা সংষ্কৃতির অবক্ষয় প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দিনকে দিন প্রকট হয়ে উঠেছে। আমাদের সেরা উপনাস্যিক এখন হুমায়ুন আহমেদ। আর বাংলাদেশের বিবেক এখন তসলিমা নাসরিন।

অথচ কঠোর ইসলামী শাসনের ছায়ায় থেকেও ইরানী ছবি সারা বিশ্বে একটি মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সিনেমাবোদ্ধাদের মতে ইটালীয়ান ছবিগুলোর মত ইরানী ছবিগুলিও একটি বিশেষ ধারার সৃষ্টিতে সমর্থ হয়েছে।
তাদের প্রতিভা স্ফুরনে ইসলামী অনুশাসন অন্তরায়ের কারন হয়ে দাড়ায়নি।

এদেশের নেতৃত্ব যেমন মেকি তেমনি মেকি এদেশের বুদ্ধিজীবিরা। এদেশ এবং জাতির আর একটি বড় দূর্ভাগ্য এই যে এদেশের সিংহভাগ মানুষের ধর্মের নেতৃত্ব এখন জামাতে ইসলামের হাতে। স্বাধিনতার যুদ্ধে যে দলটির অবস্থান ছিল স্বাধীনতার বিপক্ষে।
কিন্তু এদেশের মানুষ যেমনি সহনশীল, তেমনি ধৈর্যশীল আর আশার কথা ইদানিং তারা দিনকে দিন কর্মঠ আর সচেতন হয়ে উঠেছে। তাই মেকিদের সময় ঘনিয়ে এসেছে।

আমরা একসময় রাজনীতি এবং সাংষ্কৃতিক ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে প্রতিভাবান নেতৃত্ব খুজে পাব যারা বাংগালীত্ব আর বাংগালীর ধর্মকে পাশাপাশি সহনশীল অবস্থানে নিয়ে আসবেন, কোনরূপ সংঘাত ছাড়াই। বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাংখার কথাই ধ্বনিত হবে তাদের কন্ঠে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28857871 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28857871 2008-10-21 21:15:09
নেই কাজ ত খই ভাজ
লালনের মুর্তি বলেন আর ভাস্কর্য বলেন তা নিয়া বাংগালী (উভয় পক্ষই) যে মাতা মাতছে তাতে আর সব কিছু ভুলে যেতে হবে।

আমার জীবনের একটা খুব মজার পাশাপাশি দু:খজনক ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল এতে করে। তখন আমি মানিকনগরে থাকি। কাছেরই একটি বাসায় একটি ছেলে খুন হল। হত্যাকারি ছেলের বন্ধুটি ছেলেটি কাছ থেকে কিছু টাকা পেত। শেষে ছেলেটিকে ডেকে এনে খুন করে হত্যাকারি পরে পানির নীচে ডুবিয়ে রাখে। দুদিনপর লাশ যখন তোলা হল (ভাগ্যিস শীতকাল ছিল) তখন মানুষের ঢল নামল লাশ দেখতে ভীড় করে মানুষ লাশ দেখছে। আমায়ও আমার এক বন্ধু আমন্ত্রন জানাল লাশ দেখার। দেখতে চাইনি। বন্ধুর পীড়াপীড়িতে দেখতে গেলাম। খুব খারাপ লেগেছিল লাশ দেখে। ছেলেটির বয়স বিশ পেরোয়নি।
লাশ দেখে এসে নিজের দোতালার বারান্দায় দাড়িয়েছিলাম। বারান্দাটা আবার রাস্তার উপরে। একটু সামনে গিয়ে বামদিকে ঢালু রাস্তা নেমে গেছিল খালের মত একটি জায়গাতে, যেখান লাশটি রাখা ছিল। রাস্তা থেকে একটু দুরে ছিল বলে রাস্তা থেকে দেখা যাচ্ছিল না। হঠাৎ আমার বন্ধুটি একজনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করল। লোকটির এমনিতে সামান্য একটু পাগলাটে টাইপের ছিল যা পরে জানতে পেরেছিলাম।
লোকটির দিকে তাকাতেই দেখলাম ও রাস্তা যে কেউ অতিক্রম করছে, তাকেই সে লাশটির কোন জায়গায় রাখা আছে, তা স্বতোস্ফুর্তভাবে জানান দিচ্ছে। সবাই আগ্রহ ভরে তার নির্দেশিত পথে রওয়ানা দিচ্ছে লাশ দেখতে।
এমনি সময় দেখলাম বুড়ো একজন মানুষ ছাতি হাতে হন্তদন্ত হয়ে ঐ রাস্তা দিয়ে এগিয়ে আসছে। যথারীতি আমাদের সেই পাগলাটে ভদ্রলোক বুড়ো মানুষটিকে হাতের ইশারায় বলল ঐদিকে। বুড়ো ভদ্রলোক কর্নপাত না করে আগের মত সোজা পথে হাটতে থাকল, বোঝা যাচ্ছিল ভদ্রলোকের তাড়া ছিল। কিন্তু এইবার বুড়োর সামনে দাড়িয়ে তার পথরোধ করে পাগলাটে লোকটা চিৎকার করে বলল, লাশ তো ঐদিকে।
সবকিছু বুঝতে পেরে অগ্নিমুর্তি ধারন করলেন বুড়ো লোকটি, ছাতি ঝাকিয়ে বললেন, লাশ দেখার আমার সময় নাই। পরে রওয়ানা দিলেন নিজের গন্ত্যবে।

আমার কেন জানি মনে হয় আমরা যদি সবাই ব্যস্ত থাকতে পারতাম প্রয়োজনীয় সব মুল্যবান সব কাজে, তাতে করে আমাদের দেশের আর সমাজের খুবই উপকার হত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28856023 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28856023 2008-10-17 18:57:41
খাচা নিয়ে টানাটানি, পাখির দেখা নাই......।
আজকে এটিকে আমাদের সংষ্কৃতির প্রতি এটিকে আঘাত বলে মনে করছেন অনেক দেশপ্রেমি সংস্কৃতিমনা মানুষজন। সংষ্কৃতিতে এদের অনেক পদচারনাও আছে মনে হয়।
আজকের এই পোস্টটি মুলত তাদের উদ্ধেগ নিয়ে। লালনের যে মূর্তি বানানো হয়েছে তাতো ইট পাথরের, কিন্তু আজকে যে বিদেশী সংষ্কৃতি লালনসহ অন্যসব লোকজ সংষ্কৃতিকে ধুয়ে মুছে দিতে উদ্যত হচ্ছে সে ব্যপারে ওনাদের উন্নাসিকতা কেন। শিশুরা বড় হয় বিদেশী কার্টুন দেখতে দেখতে, কিশোর আর তরুনদের মনে স্থায়ী আসন গেড়ে নেয় চটুল হিন্দি ছবি আর গানগুলো। যারা একটু এগিয়ে তারা ঝুকে পড়ে হলিউডের দিকে। বিদেশী সংষ্কৃতির আগ্রাসনে এখন বাংলারও উচ্চারনও বিকৃত করা শুরু হয়ে গেছে। টিভিতে এড দেখলে মাঝে মাঝে দ্বিধা হয় হিন্দি চ্যানেল দেখছি না বাংলা।
আমি যদ্দুর জানি উন্নত বিশ্বের সরকার প্রধানগন জাতিসংঘ ভাষন দেবার সময় সবসময় নিজের দেশের ভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু তৃত্বীয় বিশ্বের নেতাদেরই কেবল দেখা যায় চোস্ত ইংরেজীতে ভাষন দিতে। আমাদের দেশের নেতারাও এর বাইরে নন। একবার মুজিব বোধহয় বাংলায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন। অথচ রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের জন্মমৃত্যু দিবসগুলো ঘটা করে পালন করা হয়। কিন্তু এখনো কি সম্ভব হয়েছে তাদের বানীকে জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া। একুশের সকালে যে বাবা সন্তানের হাত ধরে নিয়ে যান মিনারে ফুল দিতে, সেই বাবাই পরেরদিন সন্তানের হাত ধরে রওয়ানা দেন ইংরেজী মাধ্যমের স্কুলে। ভাল কিছু পড়াশুনা করতে চাইলে আমাদের নির্ভরশীল হতে হয় ইংরেজীতে লেখা বইগুলোর উপর। ইংরেজী না জানলে ভাল কোন চাকুরী মেলে না।

লোক দেখানে ব্যপারে আমরা অভ্যস্ত বলেই লোকজ সংষ্কৃতির ব্যপারে আমাদের আবেগটাও লোক দেখানো।

আমি জাপানে ছিলাম বহু বছর, কিন্তু রাস্তাঘাটে তো কোন মুর্তির চোখে পড়েছে বলে মনে হয় না। নিজের দেশের ভাষা কিংবা সষ্কৃতির প্রতি এদের ভালবাসা আমাদের চাইতে অনেক গুনে বেশি। সংষ্কৃতিকে মানুষ ধারন করে তার মননে, মুর্তিতে না। তাইত লেলিনের আদর্শে গঠিত সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেংগে যখন পড়ল তখন ভেংগে ফেলা হল তার অসংখ্য মুর্তিগুলোকেও। তার নামের শহরগুলোকেও আগের নামে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমি কোথায় যেন পড়েছি স্বংয় লেনিন এসব মুর্তি গঠনের বিপক্ষে ছিলেন। তিনি হয়ত তখনই টের পেয়েছিলেন যে তার মুর্তিগুলি একসময় ভেংগে ফেলা হবে।

আর আমাদের দেশের কিছু ধর্মীয় গুরু আছেন তারা মনে হয় সবসময় একপায়ে খাড়া আছেন মুর্তি দেখলেই তা ভেংগে গুড়িয়ে ফেলার জন্য।
কিন্তু তাদের মনে যে লোভের মুর্তি, খ্যাতির মুর্তি আর ক্ষমতার মুর্তির যে প্রতিনিয়ত পুজা চলে, তাকি তারা কখনো ভাংগতে পারবেন। এদেরকে দেখলে মনে হয় নবীজি সা: নিজেই লজ্জা পেতেন। অবশ্য প্রয়োজনীয় মানবিক গুনাবলীর অনেক কিছুই নেই এদের মাঝে।
এটাই সহজেই অনুমেয় যে এধরনের কিছু হাংগাম মাঝে মাঝে তারা তৈরি করে এইজন্য যে এরসাথে তাদের স্বার্থপরতা সংষ্লিষ্ট থাকে।

আজকে লালনের মুর্তি ভাংগা নিয়ে যারা খুব বেশি আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন, দেখা যাবে তাদের অনেকেই জীবনে একবারের জন্য হলেও লালনের একটি গানও শেষ পর্যন্ত শুনার আগ্রহ দেখাননি। লালনের এই মুর্তি ভাংগাতে তাই একদিকে ভালই হয়েছে, কিছুটা হলে লালন সম্পর্কে জানার আগ্রহ জন্মেছে অনেকের মধ্যে।

কিছুটা অপ্রাসংগিক হলেও একটা প্রসংগে বলার লোভ সংম্বরন করতে পারছি না।
লালনের মুর্তি ভাংগাতে অনেকে আজকে মিছিল নিয়ে ছুটে গেছেন ঘটনার স্থানটিতে।
অথচ কিছুদিন আগে ব্রাকের কর্মীরা যখন একজন জলজ্যান্ত মানুষ পিটিয়ে মারল আর লাশটিকে ঝুলিয়ে দিল গাছে। তখন তাদের কয়জন ছুটে গেছেন ব্র্যাকের অফিসের সামনে তার প্রতিবাদ করতে।

আরেকটি প্রশ্ন হল বেসামরিক বিমান সংস্থাটি ৪৫ লক্ষ টাকা খরচ করে এটি নির্মান করিয়েছিলেন কোন উদ্দ্যেশে, পর্যটন নাকি সংষ্কৃতির লালন। এটাকা গুলো খরচ করে লোকজ সংষ্কৃতির উন্নতিকল্পে অন্য কিছু করা সম্ভব ছিল নয়কি। গায়ে গন্জে অনেক লোকজ শিল্পী আছেন যাদের না খেয়ে মরার মত অবস্থা। তাদের জন্য কিছু খরচ করলে তা আমাদের লোকজ সংষ্কৃতির জন্য ভাল ফল বয়ে আনত নয় কি?

খাচার ভেতর অচিন পাখি, সে যে কেমনে আসে যায়......খাচাটা ভেংগে গেছে সে ত অনেক বছর আগে কিন্তু সে অচিন পাখি এখনো আসা যাওয়া করে আমাদের মনে। লালন নেই কিন্তু লালনের কথাগুলো এখনো অনুরনিত হয়ে আমাদের মনের মাঝে।
তাই পাখিটিকে ছেড়ে খাচা আগলে রাখার মধ্যে কোন যৌক্তিকতা আছে কি?

আমাদের চিন্তা চেতনাগুলো যদি কেবলিমাত্র ছবি আর মুর্তিগুলো মধ্যে পুন্জীভূত হতে থাকে তাহলে কয়দিন পরে দেখা যাবে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে দাড়িয়ে নিজামী আর মুজাহিদেরা স্বাধীনতার মন্ত্রপাঠ নিচ্ছেন কিংবা দিচ্ছেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28855961 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28855961 2008-10-17 15:15:06
জাবেদের অন্য রকম যুদ্ধ খুব আহামড়ি কিছু নয়। কিন্তু সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে জাবেদ ও তাঁর মায়ের জীবনসংগ্রামের কথা জানলে জাবেদের এ ফলাফলকে অসাধারণ কিছু মনে হবেই৷
সাড়ে তিন বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে অনিষ্চিত ভবিষৎতের দিকে যাত্রা শুরু।
মায়ের একটিই স্বপ্ন ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করা। কিন্তু দারিদ্র প্রধান বাধা হয়ে দাড়ায়। পাশাপাশি ছেলের পিঠে বাসা বাধে কঠিন একটি রোগ। কিন্তু মানুষের ইচ্ছার সামনে কঠিন বাধার পাহাড়ও মাথা নোয়াতে বাধ্য।
ঢাকা মডার্ন কলেজ থেকে বানিজ্য বিভাগে জিপি ৫ পেলেও তার সব সাফল্য ম্লান হতে চলেছে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে জাবেদের পিঠে ব্যথা অনুভূত হয়৷ একসময় কোমর বাঁকা হয়ে যায়, পিঠ ফুলে ওঠে, চলাফেরায় কষ্ট হয়৷ এ রোগের নাম কাইফোসিস বা কুজো হয়ে যাওয়া৷ দেশের বাইরে সাত-আট লাখ টাকা খরচে চিকিতসা করালেই সুস্থ্য হয়ে উঠবে। জাবেদ৷ মা কয়েকটি বাসায় আরবি পড়িয়ে যা আয় করেন তা দিয়ে খেয়ে পড়ে বেচে থাকাই দায়৷

জাবেদের বাবা কৄষি শ্রমিক মো: কদম আলী মারা গেলে জাবেদকে বুকে জড়িয়ে তার মা ঢাকা আসেন গৃহকাজের শর্তে। ঠাঁই হলো মোহাম্মদপুরে আসমা নামে এক বিহারির বাসায়৷ পরে একজন গৃহকর্তার সহায়তায় বিনা বেতনের স্কুলে ভর্তি হয় জাবে। ষষ্ঠ শ্রেনীতে উঠার পর এক ভদ্রলোকের বাসায় গৃহকাজের বিনিময়ে সন্তানসহ ঐ বাসার বারান্দায় থাকার সুযোগ ঘটে জাবেদের মার। পরে নিজেই কম টাকায় বাসা ভাড়া নেয় মা ছেলে। ছেলের পড়ালেখা আর চিকিতসার খরচ চালানোর জন্য তার মা আরবি পড়ানো, কাগজ কুড়ানো, এমনকি ঝিয়ের কাজও করেছেন। পিঠে কুজের কারনে টিউশনিতে কেউ নেয় না জাবেদকে।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের শল্যচচিকিতসক ডা: আবু বকর সিদ্দিকি বলেন, ‘জাবেদের অশ্রপচারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমাদের নেই৷ দেশের বাইরে নিয়ে যেতে হবে৷ ভারতের তামিলনাড়ুতে গংগা হাসপাতালে অধ্যাপক ডা: এস রাজেশকরণের অধীনে অশ্রপচার করা যেতে পারে৷ এতে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হবে৷

সিএ পড়তে চান জাবেদ৷ দারিদ্র এবং অসুখ তাঁকে করেছে দিশেহারা৷

দরিদ্র মা ও ছেলের স্বপ্নপুরনে আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি।

প্রথম আলো থেকে নেয়া।

লিংক Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28854331 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28854331 2008-10-13 21:51:04
দুই যুগও হয়নি পৃথিবীর অর্ধেকটাই শাসন করত নাস্তিক শাসকেরা কি দিয়েছেন তারা পৃথিবীকে? লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা পড়েছে এদের হাতে, মানবাধিকার হয়েছে লংঘিত। এদেশগুলোর অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল। দেশগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল বহির্বিশ্ব থেকে। ঠান্ডা স্নায়ু যুদ্ধে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল পৃথিবী।
একটি কাজ তারা ভালমতেই সেরেছেন, তা হল দেশগুলো থেকে ধর্মকে বিতাড়িত করা।

মংগোলিয়া লামাবাদ বা লামাইজমকে একেবারেই মুছে দেয়া হয়েছিল। বুদ্ধের সেক্যুলার ধর্মও তাদের মনপুত: হয়নি। স্তালিনের সাগরেদ মংগোলিয়া একনায়কের হাতে মারা পড়েছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ।
খোদ স্তালিনের হাতে কত লক্ষ মানুষ পড়েছে বা সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত হয়েছিল, পৃথিবী প্রথম জানতে পারে সদ্য প্রয়াত লেখক আলেক্সান্ডার সোলজনৎস্কি লেখা থেকে।
চীনের বিরুদ্ধে এখনো মানবাধিকার লংঘন কিংবা বাকস্বাধীনতা হরনের অভিযোগ করা হয়।
বল্গে প্রায়শ:ই তালেবানদের নিয়ে ব্যংগ বিদ্রুপ করেন, বলেন মানবাধিকার লংঘনের কথা। কিন্তু এর আগে নাস্তিক শাসকেরা আফগানিস্তানের কি হাল করেছিলেন তা ভুলে যান। মোহাম্মদ দাউদকে হত্যা করে যখন সেখানে কমিউন্যিজম প্রতিষ্ঠার আয়োজন চলে তখন প্রথম ধাক্কাতেই মেরে ফেলা হয় ১১ হাজার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।
একলক্ষ রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক নেতৃত্ব কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে সবক্ষেত্রেই শূন্যতার সৃষ্টি হয়। ধর্মকে মুছে ফেলার আয়োজন চলে। দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করা হয়, বোরখা পড়া নিষিদ্ধ করা হয়, মসজিদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। সর্বত্র সৃষ্টি করা হয় অরাজক পরিস্থিতির।
১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সালে আরো মারা হয় ২৭ হাজার মানুষকে, যার অধিকাংশ ছিলেন মোল্লা কিংবা গোত্র প্রধান। আমিরিকান রাষ্ট্রদুতকেও মারতে দ্বিধা করেনি এরা।

শুধুমাত্র তালেবানরাই কি বুদ্ধমুর্তি ধংস করেছিল, নাস্তিকেরাও তাদের শাসনামলে কম্বোডিয়ায় বুদ্ধমুর্তি ধংস করেছিল। প্রার্থনা করলে কিংবা ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করলে সাথে সাথে মেরে ফেলা হত। মুসলমানদেরকে বাধ্য করা হত শুয়োরের মাংস খেতে। এদের হাতে ৮০% খ্রিষ্টান মারা পড়ে। মারা পড়েন অনেক ইমাম, পাদ্রী।

উত্তর কোরিয়ার এখনো মুক্তি ঘটেনি অর্ধ উন্মাদ একনায়কের হাত থেকে।
জনগন যখন না খেয়ে মরছে, এ তখন জৌলুষময় জীবন যাপনে ব্যস্ত। এদেশটির রয়েছে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম মানবাধিকার লংঘনের ইতিহাস। এর বাবার বিরুদ্ধে রয়েছে অন্যদেশে বোমাবাজির মত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ।

শেষ করছি একটি জোক দিয়ে।

এক বিদেশী গেছে মস্কোতে বেড়াতে।
সবজায়গায় কড়াকড়িতে বেচারা ত্যক্ত বিরক্ত। সবকিছুতে নজরদাড়ি।
হোটেলে ফিরে মন হালকা করার জন্য বেচারা টিভি খুলে বসল।
টিভি খুলতেই লেলিনের বক্তৃতা। অন্য চ্যানেল টিপলে, ওখানে স্তালিনের স্তুতি।
একের পর এক চ্যানেলে একই যন্ত্রনা। শেষ একটি চ্যানেল টিপলে পর্দায় কেজিবির মুর্তি ভেসে উঠল, হাতে পিস্তল তাক করা। ভাংগা ইংরেজীতে বিদেশীর দিকে তাকিয়ে বলল, আরেকবার চ্যানেল বদলিয়েছ ত গুলি মেরে মাথার খুলি উড়িয়ে ফেলব।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28851649 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28851649 2008-10-06 21:35:01
পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশটি কেমন ছিল? পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশটির আয়ুস্কাল ছিল ১৯৬৭সাল থেকে ১৯৯১সাল পর্যন্ত। সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয় আনোয়ার হোজ্জা, আলবেনিয়াকে পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশ (এথ্যায়িস্ট স্ট্যাট) সরকারি ভাবে হিসাবে ঘোষনা দেন।
সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ দখল করে নেয়া হয়া, ধর্মীয় নেতাদের বিদেশি শক্তিগুলোর সাথে সহযোগীতা বন্ধ করে দেয়া হয়। বিভিন্নভাবে তাদেরকে আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। কাউকে পাঠানো হয় জেলে, কাউকে বাধ্য করা হয় কলকারখানায় কাজ করতে।
এসবকিছুর পরও ধর্মীয়গোস্টিকে দমনে ব্যর্থ হয়ে হোজ্জার পার্টি শিক্ষাপ্রতিস্ঠানে নাস্তিকীয় শিক্ষা প্রচারে মনোনিবশন করে।
রমজানের মত পবিত্রদিনগুলোতে তারা হারাম খাদ্য পরিবেশন করা শুরু করে কারখানা এবং শিক্ষা প্রতিস্ঠান গুলোতে। খাবার গ্রহনে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে লান্ছ্বিত করা হত। ১৯৬৭সালের ফেব্রুয়ারীতে আরো আক্রমনাত্বক পন্হা নেয় হয় নাস্তিকীয় শিক্ষা প্রচার করার জন্য।
যদিও হোজ্জা বলেন যে তিনি যে কোন সন্ত্রাসী পন্হা অবলম্বনের বিরোধী, তিনি চান বুঝিয়ে শুনিয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে যে কোন একশন গ্রহনের শক্ত ভিত গঠন করা হোক।
এক্ষেত্রে তরুনদেরকে বেছে নেয়া হয়।
২,১৮৯টি মসজিদ এবং চার্চ বন্ধ করে দেয়া হয়। নাস্তিকবাদ অফিসিয়াল পলিসিতে পরিনত হয়। ধর্মীয় নামের শহর, নগরগুলোকে নতুন নাম দেয়া হয়, ব্যক্তির নামও বদলে ফেলা হয়। ১৯৮২ মানুষের নামের ডিকশনারি বের করা হয়। যার মধ্যে ৩,০০০ সেক্যুলার নাম ছিল। এরা ক্ষমতায় আসার সময় ৩০০ প্রিষ্ট ছিলেন, যাদের মধ্যে মাত্র ৩০জন প্রানে বাচতে পেরেছিলেন।
সমস্ত ধর্মীয় আচার অনুস্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৬৭সাল থেকে ১৯৯১সাল পর্যন্ত এই নাস্তিক দেশটিতে যারা জন্ম নিয়েছিল তারা ধর্মের ব্যপারে কিছুই জানত না। তাই তাই তারা ছিল হয় নাস্তিক নয়ত এ্যাগোনস্টিক।
আনোয়ার হোজ্জাকে চিত্রায়িত করা হয় এমন একজন জিনিয়সা হিসাবে যিনি কিনা সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সামরিক ইত্যাদি জীবনের প্রতিটি নৈতিক উপদেশ দান করে গেছেন। প্রত্যেকটা স্কুলের বইতে সে যে বিষয়ের উপরই হোক না কেন তার উক্তি উদ্ধৃত করা হত। . এক আলবেনিয়ান তাই আক্ষেপ করে বলেছিলেন ফিজিক্সের ক্লাসে মধ্যাকর্ষ শক্তির সুত্রটির জন্য কৃতিত্বটা পেতেন হোজ্জা যা ছিল কিনা নিউটনের পাওনা। আলবেনিয়া সিক্রেট পুলিশ এজেন্সি কে জি মত সবধরনের দমনমুলক পন্হা অবলম্বন করত। আলবেনিয়ার প্রতি তিনজন নাগরিকের একজনকে হয়ত লেবার ক্যাম্পে কাটাতে হত কিংবা সম্মুখীন হতে হত আলবেনিয়া সিক্রেট পুলিশ অফিসারদের জেরার। ভিন্ন মতালম্বীদের দমনের জন্য সিস্টেমেটিক সব পন্হা অবলম্বন করা হত। চাকুরিচ্যুত করা, লেবার ক্যাম্পে আটকে এবং প্রায়শ:ই মৃত্যদন্ড দেয়া। সরকারী কর্মকর্তাদের সরকারি সফর ছাড়া কাউকে বিদেশ যেতে দেওয়া হত না। পশ্চিমা নাচ নিষিদ্ধ ছিল, আর্টকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল সোসালিস্ট রিয়ালিজমের মধ্যে।

১৯৮১সালে হোজ্জা অনেক পার্টির নেতা এবং সরকারী কর্মকর্তাকে শুলে চড়ান। প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শেহু এইসময় আত্মহত্যা করেন অন্তর্দলীয় কোন্দলের কারনে। এটি ব্যপকভাবে বিস্বাস করা হয় যে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

১৯৮৫সালে হোজ্জা যখন মারা যান আলবেনিয়া তখন সারা বিশ্বের কাছে একটি নিষিদ্ধ দেশ, যারা বহির্বিশ্বের কাছে থেকে বিচ্ছিন্ন। তার শাসনামলের প্রায় সবটুকু জুড়েই আলবেনিয়া ছিল ইউরোপের সবচাইতে গরীব দেশ।

১৯৯০ সালে হোজ্জার প্রতিষ্ঠিত একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৯২ সালে পরাজিত হয় সোসালিস্ট পার্টি।

আজ আলবেনিয়া হোজ্জা লিগ্যাসীর সামান্য কিছুই অবশিস্ট আছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা জনগনকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। আরও মজার ব্যপার আলবেনিয়া এখন ওআইসির সদস্য।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28851229 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28851229 2008-10-05 17:21:41
সাইনের জ্ঞানী মানুষরা কি সত্যিকার অর্থের জ্ঞানী মানুষ? একজন কৃষিবিজ্ঞানিকেও দেখানো হল ফুলটিকে।
তিনি শুরু করলেন প্রথমেই ফুলটির বৈজ্ঞানিক নাম দিয়ে। তার ফুল কিভাবে পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে বংশবিস্তার করে, কিভাবে ফলে পরিনত হয় ইত্যাদি ইত্যাদি বয়ান দেয়া শুরু করলেন।
তারপর প্রশ্ন করা হল একজন দার্শনিককে।
তিনি বললেন এরসাথে জড়িয়ে থাকা আবেগ অনুভুতির কথা, বললেন এর সৌন্দর্য্য মাধুরী কিভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করে সেই নিগূঢ় রহস্যের কথা।
সবশেষে জিজ্ঞেস করা হল সত্যিকার অর্থের জ্ঞানী এবং বিনয়ী একজন মানুষকে।
তিনি কোন উত্তর না দিয়ে অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলেন ফুলটির দিকে।
সাথে ডুব দিলেন চিন্তার সাগরে, কোন উত্তর পাওয়া গেল না।

একটি এবস্ট্রাক্ট চিত্র এনে রাখা হল আগের মানুষগুলোর সামনে।
তাদেরকে বলা হল তোমরা কি দেখছ?
প্রথমজনের কাছে সবই দুর্বোধ্য মনে হল, দিত্বীয়জন সক্ষম হল অন্তর্নিহিত ভাব উদ্ধারে।আশ্চর্য্যজনক উত্তর দিল তৃত্বীয়জন। চিত্রকার মানুষটির একটি চিত্র নিজেই সে একে ফেলল। তার মানসিকতা, জীবনযাত্রার ঢং এবং অনেককিছুই। যার অনেককিছুই মিলে গেল।
আর সেই শেষের মানুষটি কোন উত্তর না দিয়ে নিস্পলক তাকিয়ে রইল চিত্রকর্মটির দিকে। হারিয়ে গেল সেই ছবিটির জগতে।

আর্কিমিডিসকে যখন এক সৈন্য এল ধরে নিয়ে যেতে তখন তিনি গানিতিক একটি সমস্যা সমাধানে গভীর চিন্তায় মগ্ন। ক্রোধান্বিত সেই সৈন্য তার কথায় কর্নপাত না করায় শেষমেষ এই মহান লোকটিকে হত্যা করে বসে।

সক্রেটিসকে এথেন্সবাসী চেপে ধরল যে তাকে স্বীকার করতে হবে যে তিনি সবচাইতে বিদ্যান ব্যক্তি। শেষমেষ তিনি এই বলে রাজী হলেন যে আমি এই অর্থে সবচাইতে জ্ঞানী ব্যক্তি যে আমি আমার মুর্খতার কথা অন্যের চাইতে বেশি জানি।

আমরা মওলানা রুমীর সেই বিখ্যাত গল্পটি সবাই জানি পন্ডিতকে কিভাবে প্রান হারাতে হয়েছিল সাতার না জানার জন্য, যিনি কিনা মাঝির অশিক্ষা নিয়ে ব্যংগ বিদ্রুপ করছিলেন এই বলে তোমার অর্ধেক জীবন বৃথা।

পাবলো নেরুদা তার মৃত্যুর আগে মৃনাল সেনকে এক চিঠিতে দু:খ করে লিখেছিলেন আমি শেষ বয়সে যখন সবকিছু বুঝতে শুরু করেছি, তখন আমার জীবনে এর গুরুতৃ আর বাকী নেই, সবকিছুই দেরী হয়ে গেছে।

আইনস্টাইন মৃত্যুশয্যাতেও খুজে বেরিয়েছেন চতুর্থ একটি শক্তি ক্ষেত্রকে তার জ্ঞানকে পরিপুর্ন করার আশায়।

শেষপর্যন্ত সত্যিকার জ্ঞানী মানুষের যে চেহারাটা ফুটে তা হল, সবসময় জ্ঞানার্জনে ব্যস্ত আর যদি প্রশ্ন করা হয় আপনার জ্ঞান কদ্দুর তাহলে উত্তর আসে আমি কিছুই জানি না।

আর মুর্খের চেহারাতে সবসময় ফুটে থাকে আমি সব জানি আর আমার জানাটা তুই না জানলে তোর জান বৃথা।

প্রত্যেকেরই নিজস্ব দৃষ্টি ভংগি রয়েছে। রয়েছে আশেপাশে জিনিষগুলোকে নিজের মত করে দেখার এবং ব্যাখ্যা করার চিন্তাশক্তি। তাই ভুল কিংবা সঠিকের চাইতে এখানে প্রয়োজনীয় সত্য হল এই যে এটা মানুষের জন্মগত অধিকার সে তার জীবনকে নিজের মত করে পরিচালিত করবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28850922 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28850922 2008-10-04 18:50:33
ব্যান মানে তোমার সাথে আড়ি ? সাইনে যখন পরস্পর মন কষাকষি চলে তখন একজন আরেক জনরে ব্যান করে।
অনেকটা বাচ্চাদের মত জানিয়ে দেয় তোমার সাথে আমার মতের মিল ঘটল না।
অনেকে আবার অন্যান ব্লগারদেরও জানান দেয় যে আমায় ব্যান করা হইছে।
নিজের আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক জ্ঞানী লোকও বাচ্চাদের মত আচরন শুরু করে। অনেকেই এদের কাছ থেকে আরেকটু পরিপক্ক আচরন আশা করেন সংগত কারনেই। কিন্তু যেহেতু একটা ভার্চুয়াল জগত তাই কিছু সময়ের জন্য বাচ্চাদের মত আচরন করাটা বোধহয় দোষের কিছু নয়।
নগর জীবনের ক্লান্তি, দেনাপাওনার হিসাবে গড়মিল, আদর্শিক টানাপোড়নে মানুষ যখন হাপিয়ে উঠে, তখনই হয়ত পরিত্রানের সুযোগ খোজে।
অবশ্যই আমরা সাইনকে বেছে নিতে পারি এমন একটা ক্ষেত্র হিসাবে যেখানে আমাদের আবেগ অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ করতে পারবে নিজস্ব ঢংগে।
কিন্তু মাঝে মাঝে অন্যের আবেগ অনুভূতিগুলো পর্যুদস্তু করার অশালীনসব পন্হা বেছে নেয়া হয়, যাতে করে আমাদের হ্রদয়ে আরো বেশি রক্তক্ষরণ ঘটে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28850711 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28850711 2008-10-03 22:19:15
রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ
বাসাবোতে ঈদ করছি।

সবাইকে ঈদের দাওয়াত রইল।

ঈদ আমাদের সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনুক (বিশেষ করে দুখী মানুষদের জন্য)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28850317 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28850317 2008-10-02 09:14:46
যুদ্ধের ব্যপারে খ্রিষ্টানদের ধর্ম কি বলে? . ...Deut. 20:10-14

যখন তোমরা কোনো যুদ্ধে বের হও আর তোমাদের প্রভু তোমাদের শত্রুদেরকে তোমাদের হস্তগত করে দেন, তাহলে তাদেরকে বন্দী হিসাবে ধরে নিয়ে যাও, তাদের মধ্যি কোন সুন্দরী মহিলাকে দেখে যদি তোমার মধ্যে কামনার সৃষ্টি হয় তাহলে তাকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহন কর, ??????? ঘরে নিয়ে এসে মাথা কামিয়ে দাও এবং নখগুলো কেটে দাও। . ...Deut. 21:10-12

এখন ছোটদের মধ্যে সব পুরুষগুলোকে হত্যা কর, হত্যা কর সেই মেয়েদেরকেও যারা পুরুষদের সাথে সখ্যতা ছিল। কিন্তু যেসব মেয়েদের পুরুষদের সাথে সখ্যতা ছিলনা তাদেরকে রেখে দাও নিজেদের জন্য
...Numbers 31:17-18

এবং প্রভু যখন তাদেরকে তোমাদের সম্মুখে উপস্থিত করেন তাদেরকে পরাভূত কর এবং তাদেরকে ধংস করে দাও, তাদের সাথে কোনরূপ সমঝোতা কিংবা করুনা কর না। ...Deut. 7:2

And all the spoil of these cities and the cattle, the sons of
Israel took as their plunder; but they struck every man with
the edge of the sword, until they had destroyed them. They
left no one who breathed. Joshua 11:14

যদি তোমার মার পেটের ভাই কিংবা তোমরা ছেলে বা মেয়ে কিংবা তোমার আত্মাসম বন্ধু তোমার অগোচরে বলে " চল অন্য কোন প্রভুর প্রার্থনা করি" তাহলে তাদের কথা শুন না, তাদেরকে অব্যাহতিও দিয়োনা। বরন্চ নিশ্চিতভাবে তাদেরকে হত্যা কর। তাদেরকে হত্যা করার জন্য তোমার হাতটিই যেন প্রথম উত্তোলিত হয় তারপর যেন জনগনের হাত। Deut. 13:6-9
এখন কেউ কি কোরান শরিফের এমনি একটি আয়াত দেখাতে পারবেন যেখানে ধর্মান্তরের ব্যাপারে কোন একটি কথা বলা হয়েছে।
যদি তোমাদের কোন একটি শহরের ব্যপারে এমন কোন কথা শুন যে কোন শহরবাসী বলছে "চল আমরা অন্য কোন প্রভুর উপাসনা করি। তাহলে গিয়ে তদন্ত্র কর। সত্য হলে শহরবাসীদেরকে তলোয়ার দিয়ে ধংস করে দাও এবং তলোয়ারের আঘাতে শহরের সবকিছু ধংস করে দাও, ধংস করে দাও এর পশুপালগুলিকেও
is in it and its cattle with the edge of the sword.
Deut. 13:12-15

এখন যাও এবং আমলেকে আক্রমন চালাও এবং এর সবকিছু ধংস করে দাও, নারী এবং পুরুষদেরকে হত্যা কর। হত্যা কর শিশু এবং নবজাতকদেরকেও, ষাড় এবং ভেড়াগুলোকে, উট এবং গাধাগুলোকেও 1 Sam. 5:3

(KJV) Ps 58:10 সত্যের উচিত তার পাগুলোকে মন্দের রক্তে ধুয়ে সাফ করে ফেলা।

(KJV) Ps 68:23 তোমরা পাগুলোকে শত্রুর রক্তে চুবিয়ে দাও এবং কুকুরের জিহ্বাগুলোকেও একইভাবে।

এরজন্য কি আপনি খ্রিষ্ট সমাজকে তাদের ধর্মকে ত্যাগ করতে বলবেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28848612 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28848612 2008-09-27 18:59:37
ওনি আমার চাচা ছিলেন না ত? সামান্য বিরতি পেয়ে দুজনেই ট্রেন থেকে নেমেছিলেন জার্নির ক্লান্তি দুর করতে। একটি চায়ের দোকানে চা পান করতে করতে আমার সেই আত্মীয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয় চাচার দিকে। তারপর আলাপচারিতায় নিশ্চিত হন এটিই আমাদের সেই হারিয়ে যাওয়া চাচা।
ততক্ষনে একটি ট্রেন গন্তব্যে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আবার। চাচা তড়িঘড়ি করে তার মোবাইল নাম্বারটি শুধু দেয়ার সুযোগ পেলেন আমার সেই আত্মীয়কে।
আমার হাতে নাম্বারটি পৌছা মাত্রই যোগাযোগে করলাম চাচার সাথে। জেনে খুশি হলাম চাচা এই ঢাকা শহরেই থাকেন তবে আমার আবাসস্থল থেকে বেশ কিছুটা দুরে। চাচা বাসার ঠিকানাটা মনে করতে পারছিলেন না। ঠিক হল পরেরদিন আমি রওয়ানা দেব চাচার বাসার উদ্দ্যেশে। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চাচা আমার অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকবেন।
আমার এই সহজ সরল চাচাটিকে মিথ্যে একটি খুনের মামলায় জড়িয়ে গ্রাম ছাড়া করা হয়েছিল প্রায় ২৫ বছর আগে তার একটি জমি হাতিয়ে নেয়ার কুমতলবে। আর এই জঘন্য কাজটি করেছিল আমাদের আর এক কাছের আত্মীয়। বাপ চাচারা দুই ভাই ছিলেন। আমার বাবাও একসময় গায়ের সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে ঢাকায় নতুন জীবন শুরু করেন। বাবা মরে গেছেন পাচ বছর আগে, তাই চাচার সাথে পুনর্মিলনের সুযোগ পেয়ে আমি খুবই উল্লসিত হয়েছিলাম। কিছুটা হলেও বাবাকে চাচার মাঝে আবিস্কারের আশায়।
পরেরদিন বিকালে অফিসের কাজ শেষে সোজা রওয়ানা দিলাম চাচার নির্দেশিত জায়গাটির উদ্দ্যেশে। মাঝপথে একবার বাস বদলাতে হল। ২য় বাসটিতে যখন চেপে বসেছি মনে তখনও ফুরফুরে ভাবটি বজায় আছে। চাচার সাথে সাক্ষাতের উত্তেজনায় অফিসের ক্লান্তিটুকুও বেমালুম ভুলে বসে আছি। কিন্তু কিছুক্ষন পর ছোট্ট একটি অনাকাংখিত ঘটনায় মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। দুসারি সামনে বসা বয়স্ক ব্যক্তিটি এর কেন্দ্রবিন্দু। বাসের কন্ডাক্টর তার কাছে বাস ভাড়া চাইতে গেলে তিনি জানালের তার সব খোয়া গেছে, মানিব্যাগ এবং সাথের মোবাইলটিও। কন্ডাক্টর ছেলেটি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিল, তাহলে বাসে উঠছেন কেন?
বয়স্ক ভদ্রলোক এই বলে আর্তি জানালের তার খুব জরুরি একটা কাজ আছে। না হয় তিনি সম্মানহানির ঝুকি না নিয়ে হেটেই বাসায় ফিরতেন। সে যত ঘন্টাই লাগুক না কেন।

এরিমধ্যে পাশের জন কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলল, সব মিথ্যা কথা, বাস ভাড়া না দেওয়ার ফন্দি এটা। এরা দুটো পয়সা বাচাতে শুধু শুধু বাসের পরিবেশ নষ্ট করে।
আমি প্রথমে নিজের থেকে বাস ভাড়াটি দেওয়ার চিন্তাভাবন করছিলাম, ভদ্রলোকের কথায় চুপসে গেলাম। বাদানুবাদের একপর্যায়ে ভদ্রলোকটিকে একপ্রকার জোড় করেই বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল কন্ডাক্টর আর তার সহযোগী মিলে। ভদ্রলোক কোনভাবেই নামবেন না। ঠিক তখনই ঘটল অঘটনটা। চলন্ত বাসটি থেকে অনেকটা ছুড়ে ফেলা হল সেই অসহায় মানুষটিকে। তারপর বিকট শব্দে ব্রেক কষার শব্দ আর মানুষের হৈ চৈ। কি ঘটেছে আর বোঝার বাকি রইলনা। আমাদের গাড়িটিকেও একসময় থামতে বাধ্য করা হল। দেরি হয়ে যাওয়ার আশংকায় আমি তড়িঘড়ি করে বাস বদলালাম। অন্যবাসটিতে চড়ে কিছুটা হাফ ছেড়ে বাচলাম। এইধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আমি সাধারনত খুবই নার্ভাস হয়ে পড়ি।
গন্তব্যে যখন পৌছলাম তখন খুব একটা দেরি হয়নি বলে মনটা আবার হালকা হতে শুরু করল। চাচার নির্দেশিত বড় একটা মলের সামনের একটা টেলিফোন বুথের সামনে এসে দাড়ালাম। মনে হল এই বুঝি চাচা দৌড়ে এসে আমায় গলায় জড়িয়ে ধরবেন। কিছুটা আমি উত্তেজিতও বৈকি। তেমন কিছু ঘটলনা। আমি দমে না গিয়ে ঠায় দাড়িয়ে রইলাম সেই বুথের সামনে। কিছুক্ষন পর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টাটুকু বৃথা গেল। প্রতিবারই যন্ত্রটি থেকে আপাত মধুর কন্ঠে বলা হল "এই মুহুর্তে আপনার কাংখিত নম্বরটিতে সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না।"
দেখতে ঘন্টা অতিবাহিত হল। প্রতিটা মুহুর্তেই আশা করছিলাম চাচা আমায় চিনতে পেরে দৌড়ে ছুটে আসবেন। কিন্তু চাচার কোন দেখা নেই। মোবাইলের সংযোগটিকে পাওয়া গেল না আর। ভেতরে ভেতরে কিছুটা ঘাবড়ে যেতে শুরু করলাম আমি। তার আরও দুটো ঘন্টা অতিবাহিত হলে নিশ্চিত হলাম কোন একটা অঘটন ঘটেছে হয়ত।
এভাবে দাড়িয়ে থাকা বৃথা। ধৈর্যের সাথে আর কিছু সময় কাটিয়ে দিয়ে পাশের এক দোকানির দিকে এগুলাম। অনুরোধ করলাম আমার মোবাইল নাম্বারটি রেখে দেয়ার জন্য, যদি কখনো কেউ আমার মত একজনের খোজ করে যদি। দোকানি আশ্বস্ত করল এই বলে যে সে আশেপাশের অন্য দোকানিদেরকেও নাম্বারটি দিয়ে রাখবে।
তারপর বিধ্বস্ত শরীর আর ভগ্ন হ্রদয়ে ফেরার পথ ধরলাম।
ততক্ষনে রাতের ঝলমলে আলোতে শহরটি নতুন রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। চলন্ত বাসের জানালা থেকে আমি কেবলই তাকিয়ে রইলাম দুরের অন্ধকার আকাশের দিকে।
মনে কস্টের একটা কাটা খচখচ করছে তখন। কেন জানি আশংকা হল আমি ২৫ বছর পর আমার চাচাকে আরেকবার হারিয়ে ফেলেছি। আর হয়ত কোনদিনই তার দেখা মিলবে না। গুমোঢ় অব্যক্ত একব্যথায় আমার মনটা মোচড়াতে থাকল।
আমার চোখে কেবলই ভাসতে থাকল বাসে বসে থাকা বয়স্ক একজন সহজ সরল মানুষের অবয়ব। একসময় বাসায় যখন ফিরলাম তখন সেই ভয়ংকর আর অসহনীয় প্রশ্নটি আমার মাথায় ঠায় করে নিয়েছে আর আমায় অসহায় করে দিয়ে বার বার এই প্রশ্নবানে বিদ্ধ করছে "ওনি আমার চাচা ছিলেন না ত?"
কেননা এরপর আর কখনো আমি আমার চাচার কোন খোজখবর পাইনি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28848603 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28848603 2008-09-27 18:31:40
রোজা রাখলে আপনি আরো বেশি সুস্থ্য থাকতে পারবেন যেমন ক্যান্সারের ঝুকি কমে যাওয়া, বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটিকে মন্হর করে দেওয়া এবং জীবনচক্রটিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়িয়ে দেওয়া।
অর্গানিজমের জীবনচক্রটিকে (লাইফ স্পান) বাড়িয়ে দেওয়ার একমাত্র প্রমানিত পদ্ধতি হলে কম ক্যালরী গ্রহন করা।
ক্যালরী রেসট্রিকসন ডায়েটের মত রোজাও ক্যালরী গ্রহনকে কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এজিং এর নিউরোসাইন্সের যে ল্যাবরেটরি রয়েছে তার প্রধান প্যাটারসনের অভিমত।
ন্যাশনাল একাডেমি অব সাইন্সের মতে রোজা (ফাস্টিং) রাখার মধ্যে অন্যান্য উপকার হল গিয়ে স্ট্রেস রেজিস্ট্যান্স বা স্ট্রেস কমিয়ে দেয়া ইনস্যুলিন সেনসিটিভি বাড়িয়ে দেওয়া মরবিডিটি ( morbidity) কমিয়ে দেওয়া এবং আবার জীবনচক্র বা লাইফস্প্যান বাড়িয়ে দেওয়া।
একজন সুস্থ্য মানুষ রোজা রাখলে তা স্বাস্থ্যের জন্য সুফল বয়ে আনে।
এটি একটি কার্যকরী ডিটোক্সিফিকেশন থেরাপি। যার ফলে শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থগুলি ভেংগে পরে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে।

যাদের শরীরের ওজন বেশি এবং যাদের কম, উভয়ের জন্যই রোজার উপযোগীতা রয়েছে। এটা সহজেই অনুমেয় যে রোজা শরীরের ওজন কমায়। রোজা সময়টুকুতে শরীরে জমে থাকা চর্বীগুলো ব্যবহ্রত হয়, পুড়ে নি:ষেশিত হয় এবং এইভাবে শরীরের ওজন কমে যায়।

যাদের শরীরের ওজন কম রোজা রাখার ফলে তাদের হজমের প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক হয়ে আসে। রোজা রাখার ফলে তারা যে খাদ্য খায় তা হজম করতে ও তার থেকে পুষ্টিকে গ্রহন করার জন্য শরীর তৈরি হয়ে উঠে।

রোজা অনেক ধরনের চর্ম রোগের সমস্যা থেকে আমাদের মুক্তি দেয়। এটি হয়ে থাকে শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্যগুলো বেরিয়ে যাওয়ার ফলে এবং রক্ত পরিশুদ্ধ হওয়ার ফলে।

রোজা সিগারেট এবং মদের মত অনেক ধরনের আসক্তি থেকেও আমাদের মুক্তি দিতে পারে।

পুরোপুরি অভুক্ত থাকার প্রধান সমস্যার দুটি হল হাইপোকালেমিয়া এবং কার্ডিয়াক এরিথমিয়া। প্রথমটিতে রক্তে পটাসিয়ামের লেভেল অনেকটা নীচে নেমে যায় আর দ্বিতীয়টিতে হার্টবিট অস্বাভাবিক হয়ে পরে। কিন্তু রোজা টোটাল ফাস্টিং নয়, রোজাদাররা নিয়ম করে ইফতার এবং সেহেরীর সময় খাদ্য গ্রহন করে থাকেন।
রক্তে সুগারের যে ঘাটতি দেখা দেয় তাও পুরন হয়ে যায়।

অতএব এটাতে কোন মতভেদ নেই যে রোজা একজন সুস্থ্য মানুষের স্বাস্থের আরো উন্নতি ঘটায়। কিন্তু যারা অসুখ বিসুখে ভোগছেন তাদের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখা উচিত।


(উইকি)
(কেরালা আয়ুর্বেদীয় ডট কম)

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28842919 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28842919 2008-09-14 09:26:55
বিগ ব্যাং এবং নাস্তিকদের খোদা আমরা পৃথিবী সৃষ্টির সব রহস্য জানতে পারব আর জানতে পারব আমাদের আসল খোদাকে অর্থাৎ ইশ্বর কণাকে। পশ্চিমারা বস্তুবাদী তা জানতাম কিন্তু বস্তুকে যে খোদা বানাবোর পরিকল্পনা করছে তা জানতাম না। যার বাজার মুল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার।
এরিমধ্যে যারা নাস্তিক তারা রীতিমত নাচানাচি শুরু করেছেন এই বলে আস্তিকদের খোদার উপর তাদের খোদা জয়ী হতে যাচ্ছে। মানুষ বোকা হয় কিন্তু নাস্তিকেরা বোকা হয় তা জানতাম না। আমি জানতাম তারা মহাবিদ্যান হয়ে থাকে। তারা যে মহাবিদ্যান তা আবার জানান দেয় বাকীদেরকে আহাম্মক সাব্যস্ত করে।
কিছুদিন আগেও জ্বালানী তেলের দাম বেড়ে গিয়ে ভোগান্তি পড়েছিল দুনিয়োর ধনী গরীব সব মানুষই। বেশি কষ্ট হয়েছিল গরীবদেশগুলোর মানুষদের। গত কয়েক যুগ চেষ্টা চালিয়ে সারা দুনিয়ার বিজ্ঞানীরা যেমন তেলের বিকল্প আবিস্কারে ব্যর্থ হয়েছেন তেমনি ব্যর্থ হয়েছেন এমনি কিছু যানবাহন আবিস্কারে যা কিনা জ্বালানীর খরচ ধকল থেকে মানুষকে বাচিয়ে দিতে পারে। তাইত ব্যারেল প্রতি তেলের মুল্য বৃদ্ধি হলে আমেরিকানদের নাভিস্বাস উঠে। আমেরিকান তেলের উপর কর্তৃত্ব ফলাতে রাশিয়ারও বগল চুলকায়।
ছোটকাল থেকে শুনে এসেছি বিজ্ঞান প্রকৃতিকে জয় করে ফেলেছে। আর কোন চিন্তা নেই। অথচ কিছুদিন আগেও খোদ আমেরিকাতে হ্যারিকেনের ধাক্কায় মানুষকে কিনা ভোগান্তি পোহাতে হল। মানুষের লাশ পানিতে ভাসতে দেখা গেছে। গেল সপ্তাতেও একটার পর একটা ঝড়ের আঘাতে হাইতি, কিউবাসহ আমেরিকাও বিপর্যস্ত।
দেরিতে হলেও সবাই টের পেয়েছে প্রকৃতিকে বশে আনা নয় প্রকৃতির সাথে সমঝোতা করে চলা ছাড়া মানুষের উপায় নেই। তাইত পৃথিবীর সর্বত্রই ক্লাইমেট চ্যান্জের ধকল সামলাতে বিজ্ঞানীরা প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
গাছ কেটে বন উজাড় করা যাবে না, বাতাসে আবার বেশি বেশি সিওটু নির্গমন রোধ করতে হবে। প্রকৃতির সাথে ভাল ব্যবহার কর, নয়ত পৃথিবীর অস্তিত্ব বিলীন হবে।
মাঝে মাঝে পাগলামী চিন্তা আসে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু কি আবিস্কার করতে পারে না যার দ্বারা দুনিয়ার শিশুসহ লক্ষ কোটি মানুষের ক্ষুধা নিবারিত হয়। কেন জানি মনে হয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারাও অসহায়।
বোধহয় আজকেই বাংলাদেশে যুক্টরাষ্ট্রের সাথে যৌথ সম্মেলন করে ৫ বিলিয়ন ডলার চাইল নিজেকে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে।
অথচ আমাদের বিদ্যান কিছু নাস্তিক বল্গাররা দশ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিজেদের খোদাকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখছেন।
হকিং তাদের মত এত বিদ্যান ননত তাই তিনি এমন কিছু আশা না করার পক্ষে ১০০ ডলার বাজি ধরেছেন।
আমি আমার মত যারা বোকাসোকা আছেন তারা আশা করতে পারেন এই পরীক্ষার ফলে বিজ্ঞানের নতুন কিছু দিক উন্মোচিত হবে এবং তাতে করে মানুষের সামান্যতম কল্যান হলেও এর যুক্তিকতা খুজে পাওয়া যাবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28841313 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28841313 2008-09-10 20:09:01
ধর্মে এত এলার্জি কেন? দেশের সিংহভাগ মানুষ ধর্মভীরু, আর এটা চাপা না। ত আপনি এই সিংহভাগ মানুষের আবেগ অনুভুতিকে মোটেও তোয়াক্কা না করে যা ইচ্ছা করে যাবেন এটা কোন ধরনের সভ্যতা। দেশের রাজনীতিবিদ আর কিছু মোল্লারা সবসময় চেয়েছে ধর্মকে তাদের কাজে লাগিয়ে কিছু আয় রোজগার করতে। তাদের এই অপকর্মের সাথে সিংহভাগ ভালো মানুষের ধর্মানুভুতি নিয়ে খোচাখুচি করে রক্তাক্ত করাটা কতটা শোভনীয়। ধর্মের ব্যপারে তারাই বাড়াবাড়ি করে বেশি যারা ব্যক্তিগত জীবনে ধার্মিক না।অতএব ধর্মের ব্যপারে বাড়াবাড়িটা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
কিন্তু সমস্যা হল আরেকটি দল নিয়ে (এখানেও) যারা সংখ্যালঘু হাতেগুনা কয়জন বকধার্মিকদের আচরনকে অজুহাতে হিসাবে নিয়ে ধর্মের বিরুদ্ধাচারন করতে গিয়ে বাকসংযমসহ হারিয়ে বসে। অসহ্যরকম অশালীন এবং অসংযমী হয়ে উঠে।
এতে করে কিন্তু বাংলাদেশের সিংহভাগ ধর্মপ্রান বাংলাদেশীকেই আহত করা হয় বেশি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28839622 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28839622 2008-09-06 19:59:15
আওয়ামীলীগ আর বিএনপি মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ
আবার এদিকে বিএনপি প্রধান হাসিনার রোগ মুক্তিতে শরীক দল জামাতে ইসলামী দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে আজ। সংবাদে প্রকাশ এখন কানে তিনি ভালই শুনতে পান। নিজের কানে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শ্লোগান আবার শুনতে পেরে তিনি নাকি পুলকিত বোধ করছেন।

উপরের তথ্য প্রদানে নাম এবং দলের ক্ষেত্রে কিছু রদবদল করা হয়েছে তাতে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন সন্দেহ নেই।
কিন্তু ভালভাবে চিন্তা করলে এসব দল এবং নেতাদের চিন্তা চেতনায় খুব একটা তফাৎ আছে বলে মনে হয়কি।
তারপরও ব্লগে এক একটি দল আর এক একজন নেতার পক্ষালম্বন করে কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হন কিছু ব্লগার।
তাহলে মাঠে ময়দানে এদের সমর্থক আর নেতা কর্মীরা যে মাঝে মাঝে হিংস্র হয়ে উঠেন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তাতে অবাক হওয়ার কিছু আছে কি?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28838784 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28838784 2008-09-04 20:38:33
ডাক্তার আইজুদ্দিন আইজুদ্দিনের ডাক্তার উপাধিটি বস্তিবাসীদের দেওয়া। একসময় আইজুদ্দিন এক কবিরাজের সাগরেদি করত। বস্তিতে আসার পর সেই বিদ্যে দিয়ে সবার টুকটাক অসুখ সারাত, আবার অনেক ক্ষেত্রে হয়তবা বাড়াত। সেই থেকে আদর করে অনেকে হয়তবা বিদ্রুপ করেই তাকে ডাক্তার আইজুদ্দিন বলে ডাকতে শুরু করে।
এইবার আইজুদ্দিন নিজেই বড় অসুখ বাধিয়ে এসেছে, অনবরত কাশতে থাকে, একসময় দলা পাকিয়ে কফের সাথে রক্ত বেরিয়ে আসে।
রাহীমন বাড়ন করেছে সোহেলকে বাবার সাথে বেশি মেশতে, যদি বা রোগটি ছোয়াছে হয়।

সোহেল সকাল থেকে সন্ধ্যাতক পাশের একটি মার্কেটে কাটিয়ে দেয় দুএক দোকানীর ফুটফুরমাইশ খেটে। ধরাবাধা কোন মাইনে নেই যদিও।
সকালেই মন খারাপ করে সোহেল রওয়ানা দেয় পাশের মার্কেটে।
মার্কেটের বারান্দায় একটা টুলে বসে থাকে সে, চা, সিগারেট কিংবা বড় নোটের ভাংতি, কারো কিছু দরকার পড়লেই, ডাক পড়ে তার। দোকানি মজিদ মিয়া সোহেলকে একটু বেশিই আদর করেন, ভদ্রলোক নিঃসন্তান, যা একটা ছেলে হয়েছিল ভয়ানক এক অসুখে মারা গেছে।
দুপুরের দিকে মজিদ মিয়া টের পান ছেলেটার মন খারাপ।
"কিরে তোর মন খারাপ কে?" সস্নেহে জিজ্ঞেস করেন তিনি।
কোন উত্তর না দিয়ে চুপচাপ বসে থাকে সোহেল।
মজিদ মিয়া কথা না বাড়িয়ে দুপুরের খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দোকানের পিছনে ছোট্ট একটি জায়গায় কাজটি সারেন তিনি। কোনদিন ভুলেন না সোহেলের জন্য তার খাবারের কিছুটা অংশ ছেড়ে দিতে, বাসা থেকে খাবারের সরবরাহটাও থাকে একটু বেশি।
ঘরের মানুষ হয়ত ছেলেটির কথা জেনে গেছেন তাই খাবারের বরাদ্দটাও ঠিক ওভাবেই করা হয়।
আয়োজন শেষ হলে খেতে ডাকেন মজিদ মিয়া সোহেলকে। সোহেল জবাব দেয় ক্ষিদে নেই।
মজিদ মিয়া বুঝতে পারেন, কোন কারনে ছেলেটার মন খুব খারাপ।
ধমক মেরে ডেকে পাঠান সোহেলকে।
"খাবিনা কে? তোর কি অইছে কছেন।"
মজিদ মিয়াকে সব খুলে বলে সোহেল।
মজিদ মিয়ার চাপাচাপিতে অনিচ্ছা সত্তেও দুপুরের খাবারটা দুজনে মিলে সেরে ফেলে।
ফিরে টুলে বসে ঝিমুতে থাকে সোহেল। এই সময় দোকানিসহ পুরো মারকেট ঝিমুতে থাকে।
সন্ধের দিকে মজিদ মিয়া সোহেলকে নিয়ে যান মার্কেটের দোতালায়। দোতালার ডাক্তার সাহেবকে সোহেল চিনলেও খুব একটা খাতির নেই।
মজিদ মিয়া ডাক্তারকে বলে কয়ে সোহেলের বাবার জন্য একটা সাদা কাগজে কয়টা ঔষধের নাম লিখিয়ে নেন। ডাক্তার সাহেব রোগীর রোগের বর্ণনা ছেলের কাছ থেকে শুনে নেন। তারপর মজিদ মিয়া সোহেলকে নিয়ে মার্কেট ঘুরে ঘুরে ঔষধ কেনার টাকার জোগাড়ে নামেন। সব দোকানিই কিছু কিছু টাকা দেয়, যাদের ফুটফরমাইশ খাটে সোহেল, তারা দেয় একটু বেশি।
রাতে ঔষধপত্র নিয়ে ঘরে ফেরে সোহেল। ডাক্তার আইজুদ্দিন তখন জ্বরে বিছানায় কাতরাচ্ছে।
রাহীমন ক্লান্ত চেহারায় মাথায় পট্টি দিচ্ছে স্বামীর।
দেরি না করে ডাক্তারের নির্দেষমত ডাক্তার আইজুদ্দিনকে ঔষধ খাওয়ানো হয়।
তিন চারদিনে সেরে উঠে ডাক্তার আইজুদ্দিন।
সোহেলের মুখে আবার হাসি ফুটে উঠে যদিও রাহীমনের মনের কোন পরিবর্তন ঘটেনা।
এক বিকেলে বাবা ছেলে ঘুরতে বেরোয় পাশের এক খেলার মাঠে, সোহেল ছোটাছুটি করে বেরোয় আর সব ছেলেদের সাথে, ডাক্তার আইজুদ্দিন বসে থাকে মাঠের একপাশে।
ফেরার পথে এক টাকার একটা চকোলেট কিনে দেয় ডাক্তার আইজুদ্দিন ছেলেকে।
কথায় কথায় ছেলের কাছ থেকে শুনে নেয় চিকিতসার টাকা জোগাড়ের কাহিনী।
শুনে কি জানি চিন্তা করে আইজুদ্দিন, তারপর জিজ্ঞেস করে ছেলেকে ডাক্তারের লিখা কাগজটার কথা। তোষকের তলায় রাখা কাগজটা ঘরে ফিরে বাবাকে এনে দেয় সোহেল।
পরের দিন সকালে রাহীমন তাগাদা দেয় আইজুদ্দিনকে এবারকার মত বিদায় হওয়ার জন্য। আইজুদ্দিন গায়ে না মেখে তাড়া দেখিয়ে সোহেলকে সাথে করে বেরোয়, সকালের নাস্তা করতে ভুলে না যদিও।
"শিশু পারক, চিড়িয়াখানা এসব জায়গায় ঘুরতে ইচ্ছা করে না বাবা" ছেলেকে আদরমাখা সুরে শুধোয় ডাক্তার আইজুদ্দিন।
টাকা কই আর লইয়া যাইবডাই কে? সোহেল উত্তর দেয়।
"আমি লইয়া যামু, আর একটু চেষ্টা করলে টাকাটাও যোগাড় হইয়া যাইব"
সোহেল কিছু বুঝতে না পেরে বাবার দিকে তাকায়। পাঞ্জাবির পকেট থেকে ডাক্তারের কাগজটা বের করে আইজুদ্দিন।
"ডাক্তারের কাগজটা লইয়া চৌরাস্তার মোড়ে দাড়াইতে পারবিনা বাবা বড়লোকের গাড়ি দেইখ্যা ঔষধের কথা কইয়া ট্যাকা চাইবি, এতে ম্যালা টাকা পাইবি।"
সোহেলে বাবার কথা শুনে হা করে বাবার দিকে তাকিয়ে থাকে, কথাগুলো হজম করতে কষ্ট হয় ওর।
"কোন অসুবিধা নাই, এমন যায়গায় দাড়াবি যেখানে পরিচিত কেউ থাকব না। আর আমি ত থাকুমই।"
"মিছা কথা কইয়া ভিক্ষা করতে পারুম না আমি, কথাগুলো বলতে গিয়ে সোহেলের চোখ ছলছল করে উঠে।"
বাবার এই অসত প্রস্তাবে মনে কষ্ট পায় ও। "তুমি আমারে মানুষ ঠকাইতে কও"
"বড় লোকেরা ত আমগো মত হাজার হাজার মানুষ ঠকাইয়া বাড়ি গাড়ি বানায়, ওদের দুএকজন ঠকাইলেবা দোষ কি?" ডাক্তার আইজুদ্দিন যুক্তি দেখায়।
"আমি পারমু না" এবার জোর গলায় বলে সোহেল।
এবার ছেলের কথায় রাগ ধরে যায় আইজুদ্দিনের। "তয় ছ্যমরা আমার সামনেনতন দূর হ"
বাবার অযাচিত এই নিষ্ঠুর আচরনে, সোহেলের ছোট্ট হদয়টি দুমড়ে মুচড়ে যায়, বুক ভেঙ্গে কান্না আসতে চায়। বাবাকে ছেড়ে যেতে মন চায় না ওর। মাথানিচু করে বসে থাকে ও।
ছেলে একসময় ওর কথা মেনে নিবে এ আশায় সময় ক্ষেপন করতে থাকে আইজুদ্দিন। কিছুক্ষন নিশ্চুপ বসে থাকার পর আইজুদ্দিনকে নিরাশ করে মার্কেটের দিকে হাটা ধরে সোহেল। পেছনে বসা বাবা ছেলের মাথা নিচু করা ক্ষুদ্র অবয়বটাকে ধীরে ধীরে অপসৃত হতে দেখে কিন্তু দেখেনা ছেলের গাল বেয়ে অনবরত নামতে থাকা জলের উষ্ণ জলের ধারাকে।
কেন জানি আইজুদ্দিন মনটা হঠাত করে অন্ধকার হয়ে আসে। অপরাধবোধের প্রকট অনুভুতি খচখচ করতে থাকে মনের ভেতর।

একসময় আইজুদ্দিন হাটা ধরে উলটো পথে, বস্তির দিকে।
ঘরে পৌছে রাহীমনকে পেয়ে যায় আইজুদ্দিন, কাজে বেরোচ্ছিল সে তখন।
সবামীর চোখেমুখে ভাবান্তর লক্ষ করে শুধোয়, "ফিরা আইলেন যে?"
গম্ভীর চেহারায় খাটের কোনে বসে থেকে কি জানি চিন্তা করতে থাকে আইজুদ্দিন।
হঠাত করেই নাটকীয় ভংগীতে রাহীমনের হাতদুটো জড়িয়ে ধরে আইজুদ্দিন।
"সোহেলরে কইয় আমারে যেন মাফ কইরা দেয়" কথাগুলো বলতে গিয়ে গলা বুজে আসে আইজুদ্দিনের।
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে স্বামীর দিকে তাকিয়ে থাকে রাহীমন। ঘটনার আদ্যোপান্ত না জানা রাহীমন অবাক হয় স্বামীর এই অযাচিত আচরনে।
রাহীমনকে কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়েই ঝড়ো গতিতে ঘর থেকে বেরিয়া পরে আইজুদ্দিন।
রাহীমন কিংক্রতব্যবিমুঢ় হয়ে বসে থাকে।
বাসে ঝিম মেরে বসে থাকা আইজুদ্দিনের কেবলই ছেলে সোহেলের কথা ভাবতে থাকে।
ছেলে তাকে যে খুব পছন্দ করে এটা আইজুদ্দিন টের পেলেও নিজেকে ব্যাপারটি খুব একটা ভাবার সুযোগ দেয়নি। ভাবতে ভাবতে চোখ ভিজে আসে আইজুদ্দিনের।
"টিকেট দেন"
কন্ডাক্টরের কথায় সবম্ভিত ফিরে তার। টিকেট বের করতে গিয়ে সাথে একটা কাগজও বেরিয়ে আসে।
ডাক্তারের দেয়া পথ্যের নাম লেখা কাগজটি।
কাগজটি কিছুক্ষন নেড়েচেড়ে ছিড়ে ফেলতে উদ্যত হয় আইজুদ্দিন। ছিড়তে গিয়ে কাগজের উলটো পিঠে লেখা কাচা হাতের কয়টা লেখার দিকে নজর পরে তার।
কষ্ট করে পড়তে চেষ্টা করে সে। কিছুক্ষন চেষ্টা করেই শব্দ কয়টি পাঠোদ্ধার করতে সমরথ হয় সে। একই শব্দ বাবা কয়েকবার লেখা কাচা হাতে লেখা হয়েছে। আইজুদ্দিনের বুঝতে অসুবিধা হয় না ছেলে সোহেলের লেখা এটি। আবেগের বাধ ভেংগে পরে আইজুদ্দিনের ভেতর।
সবার অলক্ষে একজন মধ্যবয়সী লোক বাসের পেছনের সিটে বসে একটি কাগজ বুকে চেপে ধরে ঢুকড়ে কেদে উঠে।

রিপোষ্ট - আইজুদ্দিনেরে মনে পড়ায়]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28836918 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28836918 2008-08-31 07:45:20
মুসলিম শাসকেরা কেমন ছিলেন? ইনি সেই ব্যক্তি বাইবেলের ভবিষ্যত বানীতে যার সমন্ধে বলা হয়েছিল, দরিদ্র কিন্তু ন্যায়বান এবং পরাক্রমশালী এই ব্যক্তি জেরুজালেমের খ্রীষ্টানদের রক্ষাকর্তা আর বন্ধু হবেন।
"আর সব কোরাইশদের মতই জীবন ছিল তার কিন্তু ইসলাম ধর্ম গ্রহনের পর তিনি পরিনত হন হাতে গোনা সেইসব শ্রেষ্ট মানবদের একজনে যারা এ ধরনীতে তাদের পদচিন্হ রেখে গেছেন।"
উইকিত হজরত ওমর রা: এর মহাত্য বর্ননায় এভাষাটিই ব্যবহার করেছে।

খ্রীষ্টানদের সাথে চুক্তি সম্পাদনের জন্য তিনি জেরুজালেমের উদ্দ্যেশে রওয়ানা দেন।
জেরুজালেম তখন মুসলমানদের হস্তগত হয়েছে। সারা জেরুজালেম মানুষ অবাক হয় দেখল বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকর্তা ওমর রা: গাধার দড়ি হাতে পায়ে বিনয়ের সাথে হেটে শহরে প্রবেশ করছেন আর গাধার পিঠে সওয়ার তারই চাকর।

ওমর রা: জেরুজালেমের একটি বিখ্যাত চার্চ পরিদর্শনে ছিলেন। নামাজের সময় হলে তিনি অন্যত্র গিয়ে নামাজ আদায় করেন। তিনি শংকা করেছিলেন চার্চের ঐ জায়গাটিতে নামাজ আদায় করলে, তার স্বরণে পরবর্তীকালে চার্চটিকে মসজিদ বানিয়ে ফেলবে। একই কারনে মুসলমানের একত্রিত হয়ে যাতে জায়গাটিতে নামাজ আদায় না করতে পারে সেজন্য একটি ডিক্রিও জারি করেন।

অথচ ইসলামের কথা শুনে বদরাগী এই যুবক রওয়ানা দেন ইসলামের নবীকে হত্যার উদ্দ্যেশে।কিন্তু কে একজন বলল আগের নিজের ঘর সামলাও। তিনি বোনের ঘরে গেলে শুনতে পান বোন তার মধুর ভাষায় কোরান শরিফ পাঠ করছেন। ভাবান্তর ঘটে তার মধ্যে, ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন।

২য় খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় অর্ধেক পৃথিবী তার শাসনে চলে আসে।
খুব কম সংখ্যক মুসলিম যোদ্ধাদের নিয়ে তিনি লক্ষাধিক সৈন্যবাহিনির শক্তিতে বলীয়ান পারস্য সম্রাটকে পরাজিত করেন। এক পারস্য নেতা তার সাথে যুদ্ধ করতে এসে দেখেন তিনি যুদ্ধের ময়দানে অঘোরে ঘুমাচ্ছেন। পারস্য নেতা হুরমুজান তার সাধারন জীবন যাপন দেখে ঘোষনা দেন "আপনি একজন ন্যায়পরায়ন শাসক, আপনি শাসন করেন ন্যায়বিচারের মাধ্যমে, তাই আপনি সুরক্ষিত, তাই যুদ্ধের ময়দানে ঘুমাতেও আপনার অসুবিধা হয়না। পরে এই নেতা ইসলমা ধর্ম গ্রহন করেন।
তিনি মাদুরে বিছানা পাততেন, ফলে তার পিঠে দাগ পড়ে যেত। ইসলামের আবির্ভাবের সময় মুসলমানের যেরকম দরিদ্র এবং কষ্টের জীবন যাপন করত সেই একই জীবন যাপন করে গেছেন তিনি সাম্রাজ্যের অধিকর্তা হয়ে।

একবার তার ছেলের বিরুদ্ধে একশটি ধোররা মারার রায় দেয়া হয়। কাজী দোররা মারার সময় আস্তে আস্তে মারছিল, তখন তিনি তার হাত থেকে চাবুক ছিনিয়ে নিয়ে নিজেই সর্বশক্তিতে দোররা মারা শুরু করেন। একশটি মারা শেষ হলে তার সন্তান মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। তখন নিজের সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে কান্নায় ভেংগে পড়েন এই মহামানব।

আমরা সবাই জানি আমাদের এই খলিফা প্রায়শ:ই রাত জেগে ঘুরে বেড়াতেন প্রজাদের দু:খ দুর্দশা জানার জন্য।

ইসলামের পরশমনির ছোয়া না পেলে এই কোরাইশ যুবকের কথা কেউ জানতে পারত না। পৃথিবী হারাত তার সবচাইতে সেরা শাসনকর্তাদের একজনকে। মাইকেল জে হার্ট তার পৃথিবীর একশ জন সেরা মানবদের প্রথমজনকে বেছে নিয়ে ছিলেন নবীজি সা:কে। তার সেই একশ জনের লিষ্টে আর মাত্র একজন মুসলমান স্থান পেয়েছিলেন। তিনি হলেন। হজরত ওমর রা:।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28836401 http://www.somewhereinblog.net/blog/mahirahiblog/28836401 2008-08-29 19:41:36
একজন অমানুষের গল্প কটকটে এই দুপুর বেলায় বেরিয়েছে সে রাস্তার ওপার থেকে সিগারেট কিনবে বলে।
"বাবা একটু রাস্তাটা পার করে দিবে?'
পাশের বৃদ্ধ লোকটির দিকে ভাল করে তাকায় বগা মাহমুদ। হাতে সাদা ছড়ি।
অনীহা সত্তেও অন্ধ লোকটির দিকে সাহায্যের হাত বাড়ায় বগা মাহমুদ। সাধারন মানুষজনের সংষ্পর্শে আসার আগ্রহ তার একেবারেই নেই। বৃদ্ধের হাত ধরে সযত্নে রাস্তা পেরোয় সে।
"আমার নাতীটা অসুস্থ, সবসময় ওর হাত ধরেই রাস্তা পেরোই আমি।"
ধন্যবাদ জানিয়ে বৃদ্ধ কথা কয়টি ব