আমার প্রিয় পোস্ট
- ডায়েরীর পাতা থেকেঃ যুদ্ধশিশু এরিনা ও তার বীরাঙ্গনা মায়ের যন্ত্রণা গাঁথা - ড়ৎশড়
- যে দুটি গান পুরোটা জীবন জুড়ে - খলিল মাহ্মুদ
- আমার বান্দরবেলা.............৭ - তামিম ইরফান
- ২০ বছর পর খুঁজে পাওয়া একটা গান - শওকত হোসেন মাসুম
- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেম-১৮ - কৃষক
- চলে যাবার পংক্তিমালা - আমার আমি
- একটা দুর্বোধ্য গল্প অথবা সুবোধ্য কবিতা :: তুই লিখেছিলি বা আমি ভেবেছি; দিনলিপি - খলিল মাহমুদ
- আমার বান্দরবেলা............২ - তামিম ইরফান

ফলাফলে গড়মিল
- বিবর্তনবাদী
- স্মৃতি - কালপুরুষ
- একটা দুর্বোধ্য গল্প অথবা সুবোধ্য কবিতা, তুই লিখেছিলি বা আমি ভেবেছি; দিনলিপি - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
ডাকি যদি এমনি করে............
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:২৫
যদি,
একদিন খুব ইচ্ছে করে
ভীষন কাঁদি,
সত্যি তোকেই ডাকবো তখন-
কাঁদবো একা?
কক্ষনও না
তুই যে আমার ব্যথার কারণ।
হুম,
হারিয়ে সেতো যেতেই হবে
বাঁধবি কি আর-
কোন বাঁধনে?
বিনি সুতোর বাঁধনটুকু -
থাকুক এমন,
এমনি নাহয়- খুব যতনে।
বারণ??
সেতো শুনিই নেকো
কারো নিষেধ, কারো বারণ
সবকিছুতে তোরেই ডাকি
ডাকবো তখন এলেও মরণ।
সঙ্গী হবি?
চুপি চুপি
ডাকি যদি, ঐ পারের শেষে,
নিভার্বনায় থাকবো দুজন
বাঁধবো বাসা মেঘের দেশে।
প্রতিফলনের এই কবিতার জবাব ( তখন নাহয় আমায় ডাকিস)
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:২৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: তালিয়ার জন্য থ্যাংকস!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
কাঁদবো একা?কক্ষনও না
তুই যে আমার ব্যথার কারণ
অফটপিকঃ টিয়া পাখির কাহিনীটা কিতা?
লেখক বলেছেন: বুঝলাম না। প্রতিফলন ওকে এ্যাড করেছিলো ইয়াহূতে অনেক আগে। এ্যাড করার কারণ সেই যে চাঁদকন্যার আই ডি এর উপরে রাগ করে বরুণা হয়ে আমি ওকে বলিনি । সেইটার কারণে প্রতিফলন অনেক অনেক নতুন নিক দেখলেই সন্দেহ করে আমার নিক কিনা। হাহাহাহা তো টিয়ার কিছু কমেন্ট লেখার স্টাইলে প্রতিফলন ভেবেছিলো আমি কিনা। তাই টিয়াকে এ্যাড করেছিলো । দুদিন আগে টিয়া ইয়াহূতে অনলাইন হলে প্রতিফলন আমাকের ওখানে এ্যাড করে । তখন টিয়া বলে আমরা প্রলয়কে চিনি কিনা। কেমন ছেলে হেন তেন। আমরা তো প্রলয় ভাইয়াকে ভালোই জানি। আমরা ভালো ভালোই তো বললাম এখন আবার দেখি সেই কাহিনীও পোস্টে।
দূর নিজে বাঁচিনা নিজের দুঃখ কষ্ট ভালোবাসা ঝগড়া নিয়ে, আবার এসেছেন এরা নতুন ঝগড়া নিয়ে।
লেখক বলেছেন: হুম। ওকে শান্তিতে থাকতে দেবো নাকি?আহা কি আল্লাদ!
সহেলী বলেছেন:
ঝগড়াতেও আত্মসমর্পনের ইংগিত !
লেখক বলেছেন: হিহিহি
আপুনি!!!!!!!!!!!!!!!!!
কি আর করি বলো ?
"তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা"
লেখক বলেছেন: পরীর দেশের বন্ধ দূয়ার দেই হানা মনে মনে
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
তোমারে ব্যাপকই কালার বানায় ফেলছে...আরো কতো এরকম কমেন্ট পাবা! আমার কমেন্ট টা মুইছা দিও। এইটাও মুইছা দিও। পরে ভালো কইরা কমেন্টাইতাছি
লেখক বলেছেন: হাহাহাহাহা দূর দূর দূর ।
তুমি আমারে চিনলানা আজো ভাঙা পেনসিল।
আমি কি ডরাই সখী ভিখারী রাঘবে????
হাহাহাহাহা
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
কাঁদবো একা?কক্ষনও না
তুই যে আমার ব্যথার কারণ
কাঁদার জন্যও তো তোমাদের দুজনকে এক হইতে হবে দেখা যাইতাছে!
লেখক বলেছেন: হাহাহাহা আর মরার জন্যও । ওরে নিয়ে মরবো। হিহিহি
বীরবাহাদুর বলেছেন:
ভাই সত্যিই ডাকবেন.....
লেখক বলেছেন: ডাকবোতো!!!!!!!!!!!! একা একা মরতে ভয় লাগেনা বুঝি??????
কৃষক বলেছেন:
কাঁদার জন্য, ঝগড়ার জন্য, আর অবশেষে মরার জন্য ও যেন দুজন দুজনাকে পাশে পায়.....বরুণা, ভাঙ্গাচোরা পেন্সিল আমাকে নিষ্ঠুর বলেছে...
কিষাণী
লেখক বলেছেন: বরুণা বলেছেন: কিষাণী আপু এমনটাই চাই মানুষ। যদিও তা হয়না।
কি??????????? ভাঙা চোরা পেনসিলটা এমন পাজি???আমাকেও এমন এমন বলে, শুধু প্রতিফলনের দলে যায়।দাড়াও এইবার আসলে ওর পিঠ ভেঙে দেবো।
মানুষ বলেছেন:
আলহামদুলিল্লাহ। বসন্ত ফুরিয়েছে।
লেখক বলেছেন: কি গাধা !!!!!!!!! এইবার ঠিক পিকচার দিয়েছো নিক টাও চেন্জ করে বান্দর বা গাধা রাখো। কেনো বললাম জানো?? বসন্ত শুরুই হলোনা আর তুমি দেখো শেষ??????????
প্রতিফলন বলেছেন:
হা হা হা! মানুষের কমেন্টের উত্তরের অপেক্ষায় আছি এতো চাপা মারো তুমি আজকাল!! আমাকে সামনা সামনি ধমক ধামক দাও। আর এখানে জবাব কবিতা লিখো?!!!
মানি না, মানবো না!!
লেখক বলেছেন: ঐ চাপা মারি মানে কি ?????????????????
তো কি সামনা সামনি শুধু আদো কব্বো না????আদর দিলে তো মাথায় উঠ তুমি বাদর!
লেখক বলেছেন: হিহিহি আচ্ছা কবিতার জন্য থ্যাংকস!!!
কিন্তু বসন্তদিন ঘনিয়ে আসছে বলে তো মন খারাপ শামীমু!!!!!!!!!!!!!!!
লেখক বলেছেন: টেবলের নিচে লুকাও। যেদিন শেষ হবে সেদিন বের হইও। তবে বসন্তদিন যেদিন শেষ হবে সেদিন থেকে আমিও শেষ। তার পর থেকে শান্তিতে থেকো ।
অগ্নির বলেছেন:
বরুণা, তোমাদের ব্যাপারে যতটুকু জানা সম্ভব ব্লগ থেকে, জানবার চেষ্টা করেছি এই কদিন। খুব জরুরী কিছু কথা বলবার আছে তোমাকে, আর প্রতিফলনকেও। তবে সে তোমার ব্লগ পড়লেই জানতে পারবে, তাই লিখলাম এখানেই। বুঝতে পারছিনা তুমি ধৈর্য্য ধরে পুরোটা পড়বে কিনা ।তোমাদের বসন্তদিন পড়েছি আর ভেবেছি আদৌ কি তোমাদের কোনো সাহায্য করতে পারব? ব্যাপারটিতে আমার নাক গলানো কি উচিৎ হবে? তারপর ভেবেছি, যদি আমি এমন কিছু জেনে থাকি যা তোমাদের কাজে লাগতেও পারে, তাহলে তোমাদের সেটা জানানোই উচিৎ হবে।
ছোটবেলায় রূপকথায় পড়েছি, মানুষের সামনে সবসময় দুটো রাস্তা পড়ে। একটা খারাপ অন্যটা ভালো। মানুষকে তখন বেছে নিতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই ভালো রাস্তায় কষ্ট বেশী, আনন্দটা শেষে। আর খারাপ রাস্তায়, তার উল্টোটা।
বাস্তব আমাকে কিছু অদ্ভূত ও অবিশ্বাস্য জ্ঞান দিয়েছে। আসল ঘটনাটা হচ্ছে, মানুষের সামনে সবসময় দুটো রাস্তা পড়ে। একটা খারাপ, অন্যটা বেশী খারাপ। কোনো রাস্তাই আমাদের পছন্দ না। আর যা আমাদের পছন্দ, তেমন কোনো রাস্তাই নেই। বেছে নিতে হবে আমাদের এর মধ্য থেকেই। সমস্যা হচ্ছে, কোন্ রাস্তাটা শুধু "খারাপ" আর কোন্টা বেশী খারাপ--- এটা চিনতে পারা কঠিন। বেশীরভাগ সময়ই আমরা বিব্রত অবস্থায় দু'রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে অনেকখানি সময় নষ্ট করে ফেলি। তারপর শেষ মুহূর্তে চোখ বন্ধ করে পা বাড়াই। বেশীরভাগ সময়ই ভূল রাস্তায়। পথের শেষ প্রান্তে পৌছে ভাবি, অন্য রাস্তাটা বেছে নিলেই ভালো করতাম বোধহয়।
এই ধাঁধাঁয় শুধু আমরাই পড়ে নেই বরুণা। আমাদের আগেও বহু মানুষ ছিলো, এবং পরেও আসবে, যারা বারবার এইসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। যদি ভাবো, বেশীরভাগ মানুষ যা করে গেছে, এবং করে, তুমিও সেই পথই বেছে নেবে--- ভূলটা বোধহয় তাহলেই হবে। কারণ বেশীরভাগ মানুষ ভূল পথটাই বেছে নেয়, নিয়েছে। তুমি ১০০০ জনকে জিজ্ঞাসা কর--- বেশীরভাগ মানুষই বলবে, আমি জীবনে ভূল করেছি।
যে তোমার চাইতে বয়সে বড়, সে তোমার চাইতে বেশী সঠিক, এটা সবসময় সত্যি নয়। সে শুধু তোমার আগে পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু তার জীবনের ব্যাপ্তি তোমার চাইতে বড় নয়। তার অভিজ্ঞতা তোমার চাইতে ভিন্ন হতে পারে। আর তাই তোমার দৃষ্টিভঙ্গি, তোমার অনুভূতি, তার পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নাও হতে পারে। পাশাপাশি, মানুষ যতটা না সচেতন কারণে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখায়, তার থেকে বেশী দেখায় অবচেতন কারণে। অবচেতন কারণ বলতে বোঝাচ্ছি, পারিপার্শ্বিকতার কারণে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা ধ্যানধারণা--- তার perception, values । যা বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন রকম হয়। কখনো কখনো এটা স্রেফ কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু না।
কুসংস্কার যদি হয় ঘর থেকে বের হবার সময় ডান পা আগে দেয়া জাতীয়, তাতে তেমন কিছু আসে যায়না। কিন্তু কুসংস্কারের কারণে যদি কয়েকটি প্রজন্মের জীবন নষ্ট হবার মত অবস্থা ঘটে, তাহলে অবশ্যই শক্ত হাতে বাধা দিতে হবে। "ঝামেলা এড়িয়ে যাই" কিংবা "কি দরকার কারো কষ্ট বাড়িয়ে" ---- এ ধরনের কথা বলাটা সেই ক্ষেত্রে হবে চরম অন্যায়।
অন্যায়? হ্যাঁ এসো "অন্যায়" সম্পর্কে জানা কথাগুলো আবার নতুন করে জানি। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে--- দুজনেই সমান অপরাধী। অন্যায় সহ্য করে যে চুপচাপ বসে থাকে, তাকেও ধিক্কার। মজার ব্যাপার কি দেখেছি জানো ? বেশীরভাগ মানুষের জন্যই অন্যায়ের সংজ্ঞা নিজের ক্ষেত্রে আর অন্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন। নিয়ম সবার জন্য এক নয়। নিজের স্বার্থের জন্য নিয়ম শিথিল হয়। ভাবটা অনেকটা এমন, "মিথ্যা বলা ভয়ানক অন্যায়, কিন্তু আমি বললে ঠিক আছে" । আরও মজার ব্যাপার শোনো। অন্যায়ের সংজ্ঞা এই সমাজের মানুষের কাছেই যুগে যুগে যায় বদলে। কাল আমার মা যা করবার কথা চিন্তাও করেনি, আজ আমি খুব সহজেই তা নির্ভয়ে করি। অন্যায় ভেবে নয়, ন্যায় জেনেই করি। কারণ, বাস্তবে সেগুলো কোনোদিনই অন্যায় ছিলোনা। অন্যায় ছিলো মানুষের চোখে। মানুষ বদলেছে তাই পরিস্থিতিও বদলে গেছে ।
আমি তুমি বা অন্য কেউ কোনো কাজকে অন্যায় বলে ভাবলেই সেটা অন্যায় হবেনা। সেটা হবে ব্যক্তিগত মতামত। হয়তো মেজরিটির মতামত এখানে একরকম। কিন্তু সত্য মেজরিটি মাইনরিটি হিসেব করে পক্ষ নেয়না। বিদ্যাসাগর যখন সমাজ ও ধর্মের ঊর্ধে উঠে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন, সেদিন তার অনেক আপনজনও তার বিরোধিতা করেছিলো। মহানবী(সঃ) যখন সত্য প্রচার করতে শুরু করেন, তাকে প্রথমে এমনকি নিজের পরিবারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হয়েছে। ভালো কথা, নবীজি কিন্তু একজন বিধর্মি নারীকে বিয়ে করেছিলেন।
বরুণা, প্রতিফলন, সত্যের পক্ষে দাড়াও। কোনো বিশেষ মানুষের পক্ষে নয়।
যখনই মানুষ অন্য কাউকে খুশী করতে গিয়ে সত্যকে অস্বীকার করেছে, তখনই সে পুরো পৃথিবীর জন্য অমঙ্গল ডেকে এনেছে।
অন্যায় নিয়ে এত লেকচার দেবার কারণ হচ্ছে, বসন্তদিন পড়ে মনে হয়, তোমরা সম্ভবত ভেবে চিন্তে বের করেছো যে তোমাদের সম্পর্ক একটা "অন্যায়" হবে। সমাজের প্রতি, তোমাদের আপনজনদের প্রতি।তাই আলাদা হয়ে যাওয়াটাই সঠিক মনে করছো। কিন্তু কেন? এ কাজটা কেন অন্যায় হবে বলে তুমি মনে করছ? অন্যরা অন্যায় মনে করবে বলে? তারা ভূল করছেনা তুমি নিশ্চিত ?
তুমি কি নিশ্চিত তারা তোমার সুখ থেকে নিজেদের সুখকেই বেশী প্রাধান্য দেয়?
তারা কষ্ট পাবে সন্দেহ নেই। হয়তো তাদের কষ্ট দেয়াটাই খুব অন্যায় মনে হচ্ছে তোমার কাছে। আমাদের বাবা-মা আত্মীয়স্বজনরা নানাকিছু আমাদের কাছে আশা করে বসে থাকেন। নিঃসন্দেহে তাদের হক্ও আছে এটা করার। চাই আমাদের সাধ্য থাকুক বা না থাকুক। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় একনম্বর হবে, সবার মাঝে সেরা হবে, নাচ করবে, আবৃত্তি করবে, ক্ষুদে গানরাজ হবে। যে পেশা বাবা-মার পছন্দ শুধুমাত্র তাই হবার জন্য জীবন দিয়ে দেবে। তাতে জীবনটা নিজের মত করে উপভোগ করতে পারুক বা না পারুক। বাবা-মার স্বপ্ন তারা পূরণ করবে। নিজের স্বপ্ন পূরণ হোক বা না হোক।
এগুলো করা খারাপ আমি বলছিনা। আমিও আমার বাবা-মা কে সুখী করবার জন্য যা কিছু করা দরকার সবই করতে চাই। কিন্তু তোমার জন্য বরুণা, পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, তুমি যদি এ রাস্তাটি বেছে নাও(যেটা নিয়েছ), তাহলেও খুব বড় একটা অন্যায় করবে। তোমার বাবা-মাকেই শুধু সুখী করবে বরুণা? আর কারও সুখের কথা ভাববেনা? পৃথিবীতে কি তাদেরই একমাত্র সুখী হবার অধিকার?
না, আমি প্রতিফলনের কথা বলছিনা এখানে। আমি এমন কিছু মানুষের কথা বলছি, যাদের জীবন তোমার আজকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
এসো ভাবি, তোমরা যা করবে বলে ভেবেছো, তা করলে ভবিষ্যতে কি হবে। আত্মহত্যা নিশ্চয়ই করবেনা? তবে কি সারাজীবন একা থাকবে? ও না, তোমরা তো তোমাদের পরিবারের সুখের কথা চিন্তা করবে। তার মানে তোমরা দুজনেই বিয়ে করবে। অন্য কাউকে। তাদেরকে কি তোমরা সেই মর্যাদা বা অধিকার দিতে পারবে পুরোপুরিভাবে, যা দেয়া ন্যায্য ? ভালবাসাটাও তার মধ্যে পড়ে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সবচাইতে অন্যায্য হয় তখনই, যখন তাতে কোনো ভালবাসা থাকেনা। আর যে দম্পতির মাঝে ভালবাসার অভাব আছে, তাদের সন্তানদের জীবন হয় জাহান্নামের চাইতেও বেশী খারাপ। এরা বেড়ে ওঠে অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে, অসম্ভব কষ্ট নিয়ে। তোমার যদি এমন কিছু চোখে না দেখা থাকে তুমি বুঝবেনা বরুণা। বুঝবেনা ওদের কষ্ট। যেসব বাবা-মা সন্তানদের ভালোবাসাহীন একটা পরিবার দেয়া অন্যায় মনে করেনা তাদের ওপর অনন্তকাল অভিশাপ বর্ষিত হোক। এর চাইতে বড় পাপ আর কিছু হতে পারেনা। এসব ছেলেমেয়েরা নিজেরা অসুখী হবার কারণে পরবর্তী জীবনে অন্যদের জন্যও নানা সমস্যা তৈরী করে। ফলাফল--- তাদের পরের প্রজন্মও সুখী হয়না। ব্যাপারটা অনেকটা চক্রের মত,যার প্রভাব বিশাল এবং সুদূরপ্রসারী।
বেশীরভাগ সময়ই আমাদের চিন্তা সীমাবদ্ধ থাকে নিজেরা পর্যন্ত। আমি কি চাই, আমি কি করব ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমরা ভূলে যাই আজকের একটা কাজের প্রভাব দশ বছর পরও রয়ে যাবে। হয়তো বিষাক্ত করে তুলবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জীবন। আমরা সবার সুখের কথা চিন্তা করি। আমরা সমাজের কথা চিন্তা করি। আমরা বাবা-মার কথা চিন্তা করি। আমরা নিজেদের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করি। কিন্তু আমরা আমাদের সেই ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করিনা যারা এই সমস্ত কাজের ফল ভোগ করতে রয়ে যাবে। আমরা কেউ কিন্তু থাকবোনা।
তোমার ভূল পদক্ষেপে তোমার বাবা-মার জীবন নষ্ট হয়ে যাবেনা। হয়তো তারা খুব কষ্ট পাবেন। হয়তো পরিবারের অনেক সুখই তোমাকে জন্মের মত ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু তাতে কারো জীবন নষ্ট হবেনা। কিন্তু তোমার ভূল পদক্ষেপে তোমার ভবিষ্যত প্রজন্মের জীবন বরুণা, নষ্ট হয়ে যাবে। কোন্টা বেশী বড় অপরাধ বলে তোমার মনে হয় বরুণা?
তুমি ভাবতে পার, বাবা-মা দুটি ভিন্ন ধর্মের হলে সন্তানরা সমাজে গ্রহণযোগ্য হবেনা। ভূল ধারণা । আমাদের সমাজে এমন মানুষের প্রচুর উদাহরণ রয়েছে যাদের বাবা-মা ভিন্ন ধর্মের ছিলেন। আমার পরিচিতদের মধ্যেও আছে যারা খুবই সাধারন মানুষ। আমার জানামতে এই মানুষগুলি খুবই সুখী। At least they are happy with their family. এবং তারা যে সমাজছাড়া তাও নয়। সবাইকে নিয়েই তারা আছে।
আরও প্রমাণ, এই ব্লগের অনেকেই দেখলাম তোমাদের ভালবাসে। আমরাতো সমাজেরই একটা অংশ, নাকি ? দরকার হলে তোমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের পরিবারকে বোঝাতেও পারি। আমার ধারণা, ব্লগে এমন শুভাকাঙ্খী তুমি পেয়েছ। অন্য জায়গায়ও পাবে।
আমি জানিনা কথাগুলো তোমরা কিভাবে নেবে। সাধারনের দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে একটু অন্যভাবে চিন্তা করতে যথেষ্ট সাহস দরকার। ভালবাসা কি তোমাদের সেই সাহস দেয়নি ?
তবে হ্যাঁ, যদি নিশ্চিত না হতে পারো তোমাদের ভালবাসাটা খাঁটি কিনা, তবে আমার কথা না শোনাটাই ভালো। এসব কথা শুধু তখনই প্রজোয্য যদি ভালবাসাটা খাঁটি হয়। আর তা না হলে এসব ভূলতে তেমন সময় লাগবেনা। ভূললে তাতে কারও কোনো ক্ষতিও হবেনা। ভালমানুষের মত বাবা-মার কথা মেনে নেবে। ভাল একটা ছেলেকে বিয়ে করবে। সুখে ঘরসংসার করবে। এরকম ফালতু ইমোশনাল প্রেম সবার জীবনেই প্রচুর আসে। একটা সমীক্ষায় জানা যায় মানুষ জীবনে গড়ে ছয়বার প্রেমে পড়ে। কাজেই তোমাদের আরও বারপাঁচেক বাকি।
----------------------------------------------------------------------------------
পুনশ্চ ১: ভালো কথা, মানসিক ডাক্তারের দায়িত্ব যে কোনোভাবে তোমার মানসিক স্ট্রেস কমানো। তোমার সামাজিক সমস্যার সমাধান করা তার কাজ নয়। কোন পরিস্থিতিতে কেমন আচরণ করলে রোগী ভাল হবে তা সে ট্রেনিং নিয়ে শেখে।
পুনশ্চ ২: তুমি করে বললাম বলে রাগ কোরোনা যেন। ওটা লেখার সুবিধার্থে।
পুনশ্চ ৩: একবার ভেবেছিলাম লেখাটা মেইল করব।শেষ পর্যন্ত ব্লগে দিলাম এই ভেবে যে দেখি সমাজ (ব্লগের জনগন) এ ব্যাপারে কি বলে।
পুনশ্চ ৪: একটু কষ্ট করে লেখাটা প্রথম থেকে আবার পড়। তারপর ভাবো।
লেখক বলেছেন: ভাইয়া তোমার এ লেখার জবাব এক দু কথায় দেওয়া যাবেনা। জবাব লিখতে গেলে হয়তো এক মহাকাব্য হয়ে যাবে। তবুও আমি সেটাই লিখবো।
তোমার আর তোমাদের ভালোবাসা আমার এই জীবনে কখনও ভোলা হবেনা।
লেখক বলেছেন: ভাইয়া তোমার মন্তব্য পড়ে খুব অবাক হলাম । আমাদের জন্য এই পৃথিবীর কোনো আপন বড় ভাইয়াও এমন করে ভাবতো কিনা সন্দেহ আমার। তুমি কত ভাবেই, কত দিক দিয়েই না খতিয়ে দেখেছ। ভাইয়া তোমাকে আমার শুধু এটুকুই বলার আছে। তোমার মত একজন মানুষ কে কোনোদিন ভোলা হবেনা আমার।আমি তোমার দীর্ঘ মন্তব্যটা খুব মন দিয়ে পড়েছি।খুব অবাক হয়েছি , এত ভালো আর বড় মনের একটা মানুষ সারাজীবন অচেনাই থেকে যেত আমাদের কাছে যদি না এই ব্লগে আসতাম আমরা।
তুমি বলেছো ,"তুমি ১০০০ জনকে জিজ্ঞাসা কর--- বেশীরভাগ মানুষই বলবে, আমি জীবনে ভূল করেছি।" এই কথাটা একদম ঠিক। মানুষ এইভাবেই বলে। কিন্তু আমি কখনও এইভাবে বলবোনা। আমি হয়তোবা ভুল করিনি, করছিও না করবোও না। ভালোবাসা কি ভুল বলো? কখনওনা।অনেক ভেবে চিন্তেই চলেছি আমি । ভুল ঠিক জানিনা, শুধু এটুকুই জানি যা করছি জেনে বুঝেই করছি। হ্যা আমাদের আগেও মানুষেরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তারা যা করে গেছে আমি তাই করবোনা। তারা কি করেছেন না করেছেন সেটাও আমি ভাবিনি শুধুই আমি আমার কথাই ভেবেছি আর তারপরে ভেবেছি আমাদের কথা।
কিষানী আপুর জীবনের গল্পটা দেখো আমি তাকে কোনোভাবেই দোষ দিতে পারিনা আবার কিষান ভাইয়াটার জন্য কি ভীষন মায়া লাগে। জীবনের গল্পটা আসলেই হয়তো অমীমাংসিত থেকে যায় কখনও কখনও অথবা সব সময়ই । শুধু বিয়েই কি সব ভালোবাসার সফলতা? তুমিও কি তাই ভাবো বলোতো? পারবে শুধুই নিজের জন্য সবাইকে কষ্ট দিতে ? পারবে শুধুই নিজদের জন্য সবাইকে ছেড়ে শুধুই নিজেদের কথাই ভাবতে? এত বড় পৃথিবীটা কি শুধুই আমাদের দুজন নিয়েই চলবে?
আমি রুপকথা বুঝিনা অগ্নির ভাইয়া। আমি আমার জীবনের এক রুপকথা জানি। যেখানে এক স্বপ্নের রাজকুমারের সাথে আমার দেখা হয়েছিলো।যে রাজকুমাররে ভালোবাসা কোনো পার্থীব মানুষের সমতুল্য নয়। সে বড়ই অপার্থীব।
"কুসংস্কার যদি হয় ঘর থেকে বের হবার সময় ডান পা আগে দেয়া জাতীয়, তাতে তেমন কিছু আসে যায়না। কিন্তু কুসংস্কারের কারণে যদি কয়েকটি প্রজন্মের জীবন নষ্ট হবার মত অবস্থা ঘটে, তাহলে অবশ্যই শক্ত হাতে বাধা দিতে হবে।" অগ্নির ভাইয়া , তোমার এই উপরের কথাটার জবাবে যদি তোমাকে প্রশ্ন করা হয় ধর্মকেও কি তুমি কুসংস্কারে ফেলবে? পারবে উত্তর দিতে? পারবেনা। কোনোকোনো প্রশ্নের তো উত্তর হয়না।
"অন্যায় ছিলো মানুষের চোখে। মানুষ বদলেছে তাই পরিস্থিতিও বদলে গেছে ।আমি তুমি বা অন্য কেউ কোনো কাজকে অন্যায় বলে ভাবলেই সেটা অন্যায় হবেনা। সেটা হবে ব্যক্তিগত মতামত।"
তোমার এ প্রসংগে শুধু একটা কথাই বলতে ইচ্ছে করে মানুষ কি স্বেচ্ছায় ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম গোত্রের পরিবারে জন্ম নেয়?ভিন্ন ধর্মে, ভিন্ন গোত্রে জন্ম নেওয়াটা কি আমাদের অন্যায়????
হুম সবার কথা ভেবে আমাদের দু পরিবার পরিজন প্রিয়জনদের কথা চিন্তা করে সকল প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে না গিয়ে আমরা এমন সিদ্ধান্তটাই নিয়েছি।শুধুমাত্র তাদেরকে(মা বাবা আত্নীয়স্বজনদেরকেই) সুখী করার গুরু দায়িত্বই মাথায় তুলে নেয়নি। আরো একটা ব্যাপার ছিলো। সবার বিরুদ্ধে একটা লড়াই। সবাই যখন আমাদের বিপক্ষে চলে গেলো নিজেদের অজান্তেই একটা পরতিগ্গা করেছিলাম মনে মনে । পৃথিবীতে কোনো ধর্ম বর্ণ নিয়ম কানুন সমাজ সংসারের ই সাধ্য নেই ভালোবাসাটা কেড়ে নেবার। সব কিছুর উর্ধে সবাইকে পিছনে ফেলেও সবাইকে পরাজিত করা যায় একমাত্র ভালোবাসার কাছেই। সকলে হয়তো আমাদেরকে আটকে দিতে পারে, বাঁধা হয়েও দাড়াতে পারে কিন্তু মনটাকে কোন গারদে আটকাবে??
জানিনা ভবিষ্যতে কি করবো। কাউকে প্রবন্চিত করবো নাকি কাউকে ঠকাবো। তবে একটা কথা , জানিনা সে সঠিক কি ভুল। তবে প্রতিশোধ নেওয়া যেতে পারে এই সমাজ সংসার নিয়ম কানুন বাধ্যবাধকতার বিরুদধে। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ ক্রিশচিয়ান কখনও কাউকেই জীবনসঙিনী না করে বাকী জীবন টা কাটিয়ে দিলে।
তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আর কৃতগ্গতা ভাইয়া। এটলিস্ট তুমি একজন ছিলে যে সর্বান্তকরণে চেয়েছিলে যে কোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও আমাদের পরিবারের সাথে আলোচনায় বসতে।যদিও তুমি আমাদের বাস্তবটা কি সে সম্পর্কে হয়ত বিন্দুমাত্র ধারণাও করতে পারছোনা।
সবকিছুর পরেও তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আবারও তোমার আন্তরিকতা ও ভালোবাসার জন্য।
আর একটা কথা তুমি করে বলায় একটুও মাইন্ড করিনি।
অনেক অনেক ভালো থেকো।
এন এইচ আর বলেছেন:
মন ছুয়ে গেল।
লেখক বলেছেন: তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়ার জন্য। কোথায় ছিলে এ কদিন?????????? দেখিনি কেনো?????????????
কৃষক বলেছেন:
অগ্নির কে অভিনন্দন....এতটা গুছিয়ে বরুণা প্রতিফলন কে সাহস দেবার জন্য...।
লেখক বলেছেন: হুম আমিও তাই এত্ত অবাক হলাম!!!!!!!!!! তোমরা আমদেরকে এত্ত ভালোবেসেছো যা হয়তো এই জীবনে কখনও আমাদেরকে কেউ বাসবেনা।
অগ্নির ভাইয়া/ আপু কখনও আমার কোনো লেখা পড়ে এর আগে কিছু বলেনি। কিন্তু আজ আমাদের জন্য এত বড় করে এত সময় ধরে লিখেছে ।আরো এত ভালোবাসা ও শুভকামনা প্রয়োজনে সা হায্যের হাত ও বাড়াতে চেয়েছে এমনটা দেখে লেখা পড়বার সম য় আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি আপুনি।
সত্যি ই ভালোবাসা এক রহস্যময় ব্যাপার কত তার ধরণ ও প্রকৃতি।
নীরজন বলেছেন:
প্রিয় করে নিলাম।
লেখক বলেছেন: প্রিয় করবার জন্য এত্ত এত্ত ভালোবাসা ও থ্যাংকস আপুনি। আমার কবিতা কেউ প্রিয় করেনা সবাই ঐ শয়তান প্রতিফলন কবিতা লিখলেই প্রিয় প্রিয় করে।
আসলেই কিন্তু এই প্রতিফলন বান্দর এমন করে কবিতা লিখে আমার সব রাগ জল হয়ে যায়, খেপে আগুন হয়ে থাকলেও।
অনেক অনেক ভালো থেকো আপুনি!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
লেখক বলেছেন: ইশ!!!!!!!!!!! বমি আইতেসে না?? দেবো কানমলা।বমির ঔষদ!!!!!!!!!!!
অক্ষর বলেছেন:
জঘন্য জিনিস লেখবেন আর বমি আইলেই দোষ হৈয়া যায়
লেখক বলেছেন: দোষ কিসের? আমি ঔষধ দিতে চাইলাম না?????? হিহিহিহিহি
অক্ষর বলেছেন:
হুশশশশশশশ, আমি কানমলা খাই না
লেখক বলেছেন: খেয়ে দেখো। এর চাইতে বমির আর ভালো কোনো ঔষধ নাই।
নিহন বলেছেন:
জাক্কাচ ।
লেখক বলেছেন: থ্যাংক ইউ!!!!!!
সব যদি আজ বদলে যেত বলেছেন:
অগ্নির ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। জানি তবুও এদেরকে কেউ মিলাতে পারবে না।
এরা নিজেরাই নিজেদের মিল চায় না।
বরুনা আপনি কি মরিচ বেঁটে কবিতা লিখেন?
কবিতায় এতো ঝাল থাকে কেন?
লেখক বলেছেন: বরুণা বলেছেন: হায় হায় এই কবিতা তো মধু মধু । ভালোবাতাল কবিতা।
অগ্নির বলেছেন:
উত্তর দিতে দেরী হলো। খুব ক্লান্তিবোধ হচ্ছিল। হেরে যাবার পর এমন ক্লান্তিবোধ হয়। একটা ছোট ভূল করেছো সেটা শুধরে না দিলেও কিছু আসে যায়না। তবু দিচ্ছি। আমাকে ভাইয়া নয় আপু ডাকো। ভালোবাসার স্বার্থকতা আমি বিয়েকে মনে করিনা। ভালবাসতে পারাটাই সফলতা। একে স্বার্থক করার জন্য অন্য কিছুরই দরকার নেই। যাই হোক, ভালবাসা বিষয়ক জ্ঞান আমি কাউকে দিতে চাইনা। তোমাকেও লেখার উদ্দেশ্য ওটা ছিলোনা। এখানে প্রশ্নটা ভালবাসার নয়, নীতির। কোন সিদ্ধান্তটা নেয়া উচিৎ,এবং কেন নেয়া উচিৎ, তা বিশ্লেষণ করার একটা চেষ্টা। আমি জানি, তুমি এটা নিয়ে ভালোই ভেবেছো। কারণ, after all, জীবনটা তোমারই। আমি শুধু ঘটনার বাইরের একজন মানুষ হিসেবে পরিস্থিতির নিরপেক্ষ বিচারের চেষ্টা করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা অন্যায় হচ্ছে। ভীষন বড় একটা অন্যায়।
পারবে শুধুই নিজদের জন্য সবাইকে ছেড়ে শুধুই নিজেদের কথাই ভাবতে? এত বড় পৃথিবীটা কি শুধুই আমাদের দুজন নিয়েই চলবে?
আমি কি বলেছি খেয়াল করো: আমাদের সমাজে এমন মানুষের প্রচুর উদাহরণ রয়েছে যাদের বাবা-মা ভিন্ন ধর্মের ছিলেন। আমার পরিচিতদের মধ্যেও আছে যারা খুবই সাধারন মানুষ। আমার জানামতে এই মানুষগুলি খুবই সুখী। At least they are happy with their family. এবং তারা যে সমাজছাড়া তাও নয়। সবাইকে নিয়েই তারা আছে। আরও প্রমাণ, এই ব্লগের অনেকেই দেখলাম তোমাদের ভালবাসে। আমরাতো সমাজেরই একটা অংশ, নাকি ? দরকার হলে তোমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের পরিবারকে বোঝাতেও পারি। আমার ধারণা, ব্লগে এমন শুভাকাঙ্খী তুমি পেয়েছ। অন্য জায়গায়ও পাবে।
পুরো পৃথিবী বাদ দেবে কেন? একটু সময় লাগলেও সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রতিকূলতা তো আসবেই বরুণা। কিন্তু অসম্ভবও সম্ভব হয়। আমি তোমাকে এটাই বলার চেষ্টা করেছি যে জীবনটা রূপকথা নয়। বরং তার চাইতেও অদ্ভুত।
ধর্মকে কুসংস্কার বলছিনা আমি। কুসংস্কার ধর্মে নয়, আছে মানুষের মনে। দেখ একই ধর্ম নিয়ে কত মানুষের কত মতামত।
আমি মনে করি, তোমাদের সম্পর্কে ধর্মের কোনো বাধা নেই । বাধা হলো মানুষ। শুধুই মানুষ। নয়তো ভিন্ন গোত্রে জন্ম নিয়েছো তো কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়েছে ? জন্মের ওপর কি মানুষের হাত আছে?
( এইখানে আমি একট চিন্তায় পড়ে গেছি। ধর্মের বাধাটা তোমার মনেও নেইতো? ধরো যদি তোমরা দুজন ছাড়া আর কেউ এখানে fact না হতো, তবু কি তুমি ধর্ম টাকে বাধা মানতে? )
আরো একটা ব্যাপার ছিলো। সবার বিরুদ্ধে একটা লড়াই। সবাই যখন আমাদের বিপক্ষে চলে গেলো নিজেদের অজান্তেই একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম মনে মনে । পৃথিবীতে কোনো ধর্ম বর্ণ নিয়ম কানুন সমাজ সংসারের ই সাধ্য নেই ভালোবাসাটা কেড়ে নেবার। সব কিছুর উর্ধে সবাইকে পিছনে ফেলেও সবাইকে পরাজিত করা যায় একমাত্র ভালোবাসার কাছেই। সকলে হয়তো আমাদেরকে আটকে দিতে পারে, বাঁধা হয়েও দাড়াতে পারে কিন্তু মনটাকে কোন গারদে আটকাবে??
এই অংশটা বুঝলামনা। পরাজিত করবে শুধু মনে মনে ভালবেসে? আর বাইরে সবার মন জুগিয়ে চলবে? মুখে এক আর মনে আরেক, এমন কেন বরুণা?
প্রতিশোধ নেবার জন্য যে চিন্তা তুমি করেছো তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারবেনা শুধু এটুকুই বলতে পারি।
কৃষানী আপুর উদাহরণ দিয়েছো। উনিও কিন্তু পরে বিয়ে করেছিলেন। তার বাচ্চাটি কেমন আছে তাই আমার ভাবনা। প্রার্থনা করি জীবনের সব সুখ যেন সে পায়। কিন্তু বরুণা, নিজেকে ওই শিশুটির জায়গায় নিয়ে একবার ভেবো। আমি কাউকে এমন জীবন যাপন করতে দেখতে চাইনা।
আর তোমাদের বাস্তবটা সম্পর্কে যদি বিন্দুমাত্র ধারণাও না থাকত তবে তোমাকে লেখার সাহসই করতামনা।
বরুণা, আমার কোনো কথায় কষ্ট পেয়োনা। আমি তোমার কষ্ট দেখতে চাইনা। সে চমৎকার একটা পরিকল্পনা করেছে। আমি এর রহস্যটা বুঝতে চাই।
আর হ্যাঁ, আমি প্রতিফলনের কাছ থেকেও একটা জবাব আশা করছিলাম। তার মতামতটাও জরুরী।
ভালো থাকবে।
লেখক বলেছেন: আপুনি তোমাকে মেইলে জবাব দেবো। শুধুই একটু সময় করে। তুমি যা গুছিয়ে আর ভেবে চিনতে লিখতে পারো!!!!!!!!!!!!!!! আমি তো তার সিকিভাগও পারিনা।
অনেক ভালো থেকো আপুনি। অনেক অনেক ভালোবাসা তোমার জন্য। তুমি যে আমাদেরকে নিয়ে এত ভেবেছো, ভাবতেই অকারণ ভালোলাগায় , ভালোবাসায় মন ভরে যায়।
লেখক বলেছেন: মন কেমন করে দেওয়া বটে। তবে এটা আমারও প্রিয়তে।এই কবিতার চাইতে আর কোনো কবিতাই আমার নিজের লেখায় নেই।
লেখক বলেছেন:
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















