আমাদের দেশ তথা সমগ্র বিশ্বের সমাজ ব্যবস্থায়ই শেখ সাদীর উক্ত গল্পের বাস্তব প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত হয়। এই সমাজ ব্যবস্থায় তেলে মাথায় সবাই তেল দেয় কিন্তু তেলহীন মাথায় কেহই তেল দিতে চায়না বরং দুরদুর করিয়া তাড়াইয়া দেয়। আমাদের দেশে অর্থ থাকিলে বাঘের চক্ষুও পাওয়া যায় আর অর্থ না থাকিলে ক্ষুধায় ধুঁকিয়া ধুঁকিয়া মরিয়া যাইতে হইবে। আর তাই ক্ষুধায় ধুঁকিয়া ধুঁকিয়া মরিবার ভয়ে কিছু লোক অন্যায় করিতে বাধ্য হন। জনাব সূধী সাহেবগন, আপনারা একটি বারের জন্যও কি ভাবিয়া দেখিয়াছেন-কেনইবা একজন অভাবী চোর (মন্ত্রী-এমপি- অসৎব্যবসায়ী-দূর্নীতিবাজ অফিসাররা এই চোরদের অধিভূক্ত নন) চুরি করে । কেনইবা বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ টোকাইরা স্কুলে যাবার পরিবর্তে রাস্তায় রাস্তায় কাগজ কুড়িয়ে বেড়ায়? কেনইবা কাজের লোকেরা তাদের গৃহকর্তা-কর্ত্রীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়? অবশ্যই স্বীকার করিয়া লইতে বাধ্য হইবেন, এসব কিছুর মূল কিন্তু সেই কাগজের নোট (আমাদের দেশে যাহা পরিচিত টাকা নামে) ।
ঈদ লইয়া একটুখানি আলোচনা করা যাক। ঈদ মূলত আনন্দ ও খুশীর জন্য। এই ঈদকে ঘিরিয়া বিত্তশালীরা অনেক দামী-দামী বস্ত্র ক্রয় করেন। আর বাংলাদেশে অসংখ্য পরিবার আছে যাহাদের বাজারের সর্বনিকৃষ্ট বস্ত্রও ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। আমাদের দেশে সোয়া লাখ টাকা দামের বস্ত্রও পাওয়া যায় আবার চার-পাঁচ লাখ টাকার অধিক মূল্যে কোরবানীর পশুও বিক্রি হয়। সোয়া লাখ টাকা মূল্যের বস্ত্র গতরে চাপাইয়া আর চার-পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের পশু কোরবানী দিয়াই কি আমাদের ধর্মের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন সম্পাদিত নাকি মনূষ্য জীবনের স্বার্থকতা অর্জিত? বিত্তশালীরা গৃহপালিত বিদেশী জাতের কুত্তা (কুত্তা সম্বোধনে দুঃখিত) আর রুপচর্চার জন্য মাসে মাসে যে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করেন তাহা দ্বারা মাসে মাসে কমপক্ষে পাঁচ-ছয়টি পরিবার বেশ ভালোভাবেই বাঁচিয়া থাকিতে পারে। এমন কথা শুনিতে আপনাদের ভালো লাগিবেনা, কারন আপনাদের কাছে মানবিকতার চাইতে ‘প্রেস্টিজ’টাই বড়।
দেশের আইনের পাল্লাও সবসময় বিত্তশালীদের দিকে ঝুঁকিয়া থাকে। তাহারা অন্যায় করিলেও তাহাদের কোন বিচার হয়না, বিত্ত দ্বারা তাহারা পার পাইয়া যান। বিত্তহীনেরা অনেক সময় অন্যায় না করিলেও বিত্তশালী আর ক্ষমতাশালীদের রোষানলে পড়িয়া শাস্তি ভোগ করিতে বাধ্য হন। বর্তমান সমাজের আইন এখন বিত্তশালীদের অনুকূলে। দোষীরা আজ তাই নির্বিঘ্নে অন্যায়-অত্যাচার চালাচ্ছে আর নির্দোষেরাই বরং অন্ধ আইনের চোখে দোষী সাব্যস্ত হচ্ছেন। বিত্তশালীদের প্রতি বিদ্রোহ ঘোষনা করিলেও নিস্তার নাই, পাঠাইয়া দেয়া হইবে সোজা অসীম পরপারে। তাই মহাবীর আলেকজান্ডারের ভাষায়ই বলতে হয়- সত্যি সেলুকাস, কি বিচিত্র (বৈষম্যবাদে পরিপূর্ন) এই দেশ!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৩:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



