somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন ঐক্যবদ্ধ হই

০৯ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৭১’ এর মুক্তিযুদ্ধ শুধুমাত্র ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধই ছিলোনা, মুক্তিযুদ্ধ ছিলো কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র জনতার দীর্ঘদিনের মুক্তিকামী সংগ্রামের এক চুড়ান্ত রুপ। সাঁওতাল-গারো-হাজং প্রভৃতি আদিবাসীদের বিদ্রোহ, সন্নাসী ও ফকির বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ, মাষ্টারদা সূর্‌যসেন-প্রীতিলতা প্রমূখ বিপ্লবীর নেতৃত্বে সংঘটিত অগ্নিযুগের সশস্ত্র জাতীয় বিপ্লবী আন্দোলনসহ জনগনের বহুমাত্রিক সংগ্রাম ব্রিটিশ শাসনের ভিতকে কাঁপিয়ে তুলেছিলো।’৪৭-এ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটলেও সাম্প্রদায়িক ও দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের অর্ন্তভূক্ত হয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানি শাসকদের জাতিগত শোষ্ণ, দমন-পীড়ন ও প্রতিক্রিয়াশীল নীতির বিরুদ্ধে বাংলার জনগন তীব্র সংগ্রাম গড়ে তোলে। বাঙ্গালীর বীরত্বপূর্ন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আসে মহান মুক্তিযুদ্ধ।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জনগনের মধ্যে যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিলো, তা আজও পূরন হয়নি; উপরন্ত মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলো একে একে ধ্বংস হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে চলছে নির্লজ্জ্ দলীয়করন। মুক্তিযুদ্ধের লিখিত ইতিহাসে ন্যাপ-কমিউনিষ্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন তথা বামপন্থীদের বীরত্বপূর্ন সংগ্রামকে অনুপস্থিত রাখা হয়েছে সুকৌশলে। মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট কেনা-বেচা চলছে। ’৭২ এর সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙ্গালী জাতীয়বাদ ও সমাজতন্র গৃহীত হয়েছিলো। সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র ছেঁটে ফেলা হয়েছে অনেক আগেই। জাতীয়তাবাদের সাথে ধর্মের মিশ্রণ ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞাকেই বদলে ফেলা হয়েছে। আর গণতন্ত্রের বেহাল অবস্থাতো সহজেই অনুমেয়। ’৯০- এর গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা তৈরী হয়েছিলো, সে সম্ভাবনাকে ধ্বংস করতে এতটুকুও কার্পন্য করেনি আওয়ামীলীগ-বিএনপি সরকার।

আমাদের মনে রাখতে হবে- পাকিস্তানী হানাদারদের বা রাজাকারদের গালিগালাজ করলেই বা শুধু মুখে মুখে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন করলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক হওয়া যায়না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি (গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙ্গালী জাতীয়বাদ ও সমাজতন্র) পূনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংখ্যালঘু জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। সংখ্যালঘু জাতিসত্তার উপর সকল নির্‌্যাতন-বৈষম্য বন্ধ করতে হবে।

বর্তমান বাংলাদেশ এক সবর্গ্রাসী সংকটে নিমজ্জিত। বিশ্বব্যাংক-আই.এম.এফ’র প্রেশক্রিপশনে দেশ চলছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির হিংস্র থাবায় বিপন্ন আমাদের জাতীয় অর্থনীতি। সাম্রাজ্যবাদনির্ভর ধনবাদী ধারার বিকাশের ফলে অবাধ লুটপাট চলছে। ঋনখেলাপীরাই দেশের নিয়ন্ত্রক। দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে জাতীয় সম্পদ তেল-গ্যাস-বিদ্যুত-বন্দর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাতে তুলে দেবার পাঁয়তারা এখনও চলছে। বিশ্বব্যাংকের নির্দেশে কয়েক হাজার কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যাচ্ছে এবং অসংখ্য কারখানা বন্ধ হওয়ার অপেক্ষায়। কৃষকের মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাচ্ছে এনজিও’দের মহাজনী শোষণে। হাইব্রীড বীজের মাধ্যমে আমাদের কৃষিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে। রাজনীতিতে চলছে দুবৃত্তায়ন, বানিজ্যিকীকরন। আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বৈষম্যমূলক সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি। বাজারী সংস্কৃতি প্রতাপে আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি আজ হুমকির সম্মুখীন। জাতীয় গনমাধ্যম রেডিও-টিভি আজও স্বায়ত্তশাষনের মুখ দেখতে সমর্থ হয়নি। গণ আদালতের গণ রায় এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, সাজা হয়নি যুদ্ধাপরাধীদের। আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র ব্যর্থতা ও সুবিধাবাদী অবস্থানের কারণে স্বাধীনতাবিরোধী-মৌলবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। জাতির এই ক্রান্তিকালে জনগন বিকল্প পথের সন্ধান করছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্য, দেশের কৃষক-শ্রমিক তথা আপামর জনগনের স্বার্থ রক্ষা তথা একটি সমৃদ্ধশালী সমাজ গড়ার সুন্দর স্বপ্নপূরন করতে হলে এখনোই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর তা করতে পারলেই আমরা আমাদের ৭১’ এর শহীদদের স্বপ্নও বাস্তবায়ন করতে সমর্থ হবো। তাই আসুন আমরা শপথ নেই – ‘লাখো শহীদের রক্তের ঋণ আমরা শোধ করবোই এবং তাদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেবোনা।’
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×