স্বাতন্ত্র্য ও মৌলিকত্ব বজায় রাখায় সচেষ্ট। সর্ব সত্ব সংরক্ষিত।

বিতর্কিত বিষয়গুলিতে নীতিনিষ্ঠা ও আইননিষ্ঠা।

০১ লা মে, ২০১০ সকাল ৯:৫১

শেয়ারঃ
0 2 0

আইন কে ফাঁকি দেয়া অতিসহজ। নীতিবোধকে ফাঁকি দেয়া যায় না। যারা সুবিধাবাদী হয়, তারা নীতি বোধের ধার ধারেনা, কেবল আইনের ফাঁকফোঁকর বের করে সেই পথে যা করতে চায় তা করে ফেলে। আইন যদিও তৈরী হয় নীতিবোধের ভিত্তিতে, কিন্তু খানিক মাত্রার মুর্ত আইন মোটামুটি ধরনের বিমুর্ত নীতিবোধ কে কখনই পুরোপুরি ধারণ করতে পারে না। ফলে প্রায়শঃই আইনের ফাঁক বের হয়, আর সেই পথে আইননিষ্ঠরা অনৈতিক কাজ করে বের হয়ে যায়। আটকে যায় কেবল নীতিনিষ্ঠরা, তারা আটকে যায় নীতিবোধের জালে। আসুন সবাই আগে নীতিনিষ্ঠ হই, পরে হই আইননিষ্ঠ ।

আমি মুক্ত কোড ও বিনা মুল্যের সফটওয়্যারে উৎসাহী। যদিও পেশাজীবি হিসাবে কোডার যারা তাদের পেট কিভাবে চলবে সেটা নিয়ে আমি ভাবিত তবুও আমি বিনা পয়সায় মুক্ত সফটওয়্যার পেতেই আগ্রহী। আমি নিজে ব্যবহার করি বিনা পয়সার মুক্ত সফটওয়্যার -- লিনাক্স সহ অন্যসব, উৎসাহিত করি আমার ছাত্রদের। আমার এই সব বিচারে আমি বিজয়কে পছন্দ করি না। পছন্দ করি না অভ্রকে, পছন্দ করিনা শাব্দিককেও। এই সবের নির্মানকারীরা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তারা তাদের কিছু কিছু পন্য সাময়িক বা চিরস্থায়ী ভাবে বিনা পয়সায় দিলেও তাদের ব্যবসার "চুড়ান্ত হিসাবে" ব্যবসায়িক "সুনাম" শিরোনামে একটা বড় টাকার অংক লিখবে। এইটা স্পর্শনীয় সম্পদ না হলেও একটা স্বীকৃত অস্পর্শনীয় সম্পদ। আমি বুঝতে পারি আজকাল লোকজন বিনা পয়সায় সহজে পাওয়া যায় এমন সফটওয়্যার ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছে, যদিও অবৈধভাবে উইন্ডোজ বা ইত্যাদি সফটওয়্যার ব্যবহার এখনও চলছে।

শিক্ষক বা গবেষক হিসাবে আমি কখনও একটা সামান্য পরিবর্তনের কোন কিছু আইনগতভাবে আলাদা বলে গৃহীত হলেও সেটাকে উৎসাহিত করতে পারি না। এমন কোন কিছু আমার ক্লাশে কেউ নম্বর পাওয়ার জন্য জমা দিলে আমি তাকে নাম্বার দিব না। আমার কাছে এমন কোন গবেষনা প্রবন্ধ জমা হলে আমি রিভিউ করতে গিয়ে তাকে গ্রহন করব না। পরিশেষে আমাকে কোথাও কারিগরী মতামতের জন্য ডাকা হলেও আমি তাকে গ্রহন করব না। এইটি আমার নীতিবোধ। আমাকে বুঝতে হবে যে পরিবর্তন গুলো করা হয়েছে সেগুলোর পিছনে সুনির্দিষ্ট কারিগরী কারণ রয়েছে আর এর ফলে সত্যিকার অর্থে কোন কারিগরী সুবিধা পাওয়া গেছে। কারিগরী বিষয়ের বিতর্ক জনমত দিয়ে যাচাই হয় না। জনমত দিয়ে নির্ধারিত হয় রাজনৈতিক সত্যতা। আইনগত বিষয়ও জনমত দিয়ে নির্ধারিত হয় না।

 

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১০ রাত ৩:১৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা মে, ২০১০ সকাল ১০:২০
সিউল রায়হান বলেছেন: f দিয়ে ফ, k দিয়ে ক, m দিয়ে ম এগুলি তো ন্যাচারাল ইনটিউশন, এগুলি কি করে কারো উদ্ভাবন হতে পারে ??? অভ্র অবশ্যই কোনভাবে শাব্দিকের কোড নিতে পারেনাই কারণ শাব্দিক ক্লোজ সোর্স। ইনটিউশনাল জিনিস কি কপি করা সম্ভব ??? (আমি জিয়া ভাই কিংবা শাব্দিক টিমের এই ক্লেইমটা একদমই বুঝিনাই)

আমি অভ্র কোনদিনই ব্যবহার করিনাই, ব্রাউজারেই বাংলা লিখি আমার নিজের লিখা রোকেয়া কিবোর্ড লেআউট দিয়ে। আমিও চাই বাংলা নিয়ে গবেষণা হোক,আমি নিজেও করছি কিন্তু গবেষণার মাঝে সামান্যতম হলেও ভুল তথ্যের উপস্থিতি কাম্য নয়। জিয়া ভাইয়ের লিখায় আমরা অনেক কিছুই জানতে পেরেছি, এজন্যে ওনাকে ধন্যবাদও জানাই কিন্তু ইনটিউশনাল জিনিসকে কপি করে নিয়েছে ক্লেইমটার বিষয়টায় একমত না, কোনভাবেই না।

-মাশফিক
(cse-04, buet)
০১ লা মে, ২০১০ সকাল ১০:৪১

লেখক বলেছেন: হমম এগুলো অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেগুলো মীমাংসা করতে হবে। হয় কারিগরী ভাবে কাউকে দিয়ে অথবা আইনীভাবে। এগুলো নিয়ে জনগন বা অভিযোগকারীদের তেমন কিছু করার নেই।

অভ্র ভালো সফটওয়্যার -- এর ইউজার ফ্রেন্ডলীনেস আছে, নির্মাতারা এটাতে ভালই সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অভ্র ফোনেটিক (যেটির কারনে তারা জনপ্রিয় হয়েছেন বলে মেহেদী সাহেবও তার সচলায়তনের লেখাটিতে বলেছেন) সেটার কারিগরী অবদান অন্যান্যগুলোর চেয়ে ঠিক কোথায় সে বিষয়ে কোন সদুত্তোর এখনও আমি পাই নাই। কেউ যদি জানে যে কারিগরী বিষয়ে ঠিক এই এই পয়েন্টে সেটি উৎকর্ষ, সেটি তুলে ধরা দরকার অন্য সবার জানার জন্য। তাহলে আমি মনে করি শাব্দিকের কাছে থেকে যে অভিযোগ আসছে সেটার সঠিক ও যুৎসই জবাব দেয়া হবে।

২. ০১ লা মে, ২০১০ সকাল ১১:৩৪
সিউল রায়হান বলেছেন: স্যার, ওদের উৎকর্ষটা হল নতুন প্রজন্মের যারা ইংরেজী লেআউট মুখস্থ করে অভ্যস্থ ওদের জন্যে এটা অ্যাডপ্ট করা খুব সহজ একটা সফটওয়ার বের করাতে......... এছাড়া এটা ফ্রি থাকায় খুব সহজেই ছড়িয়ে গিয়েছে...... ছড়িয়ে যাওয়াটাকে ক্রেডিট বলব যেটা টেকনিক্যাল উৎকর্ষের কারণেও হতে পারে অথবা ওটা ছাড়াও হতে পারে...... শুধু গবেষণাই তো উৎকর্ষ নয়, সফটওয়ার ডিজাইনেও তো উৎকর্ষের পরিচয় দেয়া যেতে পারে

অভ্রের টেকনিক্যাল উৎকর্ষ হল এখানেই....... এর সফটওয়ার ডিজাইনে, সফটওয়ার ডেভেলপে, সবশেষে ব্যবহারকারীর কাছে গ্রহণযোগ্য একটা লেআউট নিয়ে যাওয়াতে......

আপনি এটার লেআউট অপটিম্যাল নাকি সে ব্যাপারে প্রুফ চেয়েছেন, অভ্র টিম এসংক্রান্ত কোন গবেষণা করেছে বলে আমার জানা নাই তবে করার প্রয়োজনও হয়নি তাদের...... কারণ তারা চেয়েছে বাংলা লিখা যায় সহজে এমন একটা সফটওয়ার বানাতে, সুতরাং করে ফেলেছে কাজটা......... আগে ঠিকটা বের করব, এরপর সেটা ইমপ্লিমেন্ট করবো এমন অবস্থা তখন ছিল না বলেই মনে হয়.......

সুতরাং IEEE-তে গেলে হয়তোবা ওরা পিছিয়ে থাকবে কিন্তু ম্যাস পিপল এর কাছে ওরাই এগিয়ে থাকবে (এবং ওদের লক্ষ্যটাও হল ম্যাস পিপল এর কাছে পৌছান)

শেষে ছোট্ট একটা কথা, আমিও ওপেন সোর্সের বিরাট ফ্যান...... কিবোর্ড নিয়ে আমরা যেই কাজটা করছি ওটা ওপেন সোর্স লাইসেন্সেই পাবলিশ করেছি :)
০১ লা মে, ২০১০ রাত ১১:০৬

লেখক বলেছেন: সিউল, আমি একটা শব্দ ব্যবহার করেছিলাম বাজারজাত করনে। অনেকে অবশ্য আপত্তি করেছেন। আপনার উপরের মন্তব্য খানিকটা আমার কথাকেই প্রতিধ্বনিত্ব করে।

একটা বাংলা লেখার সফটওয়্যার মানুষে হাতে তুলে দেয়ার বিষয়ে তাদের অান্তরিকতার অভাব নেই। এটি সত্যি কথা। আর লোকজন সেটি ব্যবহার করছে কাজেই এন্ড রেজাল্টটিও চমৎকার। কিন্তু তাদের সফটওয়্যার ডিজাইন, বা ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি না দেখে আমি বলতে পারব না। আধুনিক কোয়ালিটি কন্ট্রোল (আইএসও ৯০০০ ইত্যাদি) অনুযায়ী সবকিছু দেখে বলতে হবে।

যাহোক একটি ওপেন সোর্স প্রজেক্টের ক্ষেত্রে পরের যারা পরিবর্ধন করবে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, ডকুমেন্টেশন ইত্যাদি।

৩. ০১ লা মে, ২০১০ দুপুর ১২:৫৩
রাগিব বলেছেন: (কমেন্ট একটু বড় হয়ে গেলো। কিন্তু ঘুরে ফিরে একই কথা আসছে দেখে বলতে বাধ্য হলাম)

নিউটন ভাই, ঘুরে ফিরে একই অভিযোগ আপনি ও জিয়া ভাই করে চলেছেন -- অভ্র ফোনেটিক অংশটুকু শাব্দিক থেকে "কপি" করেছে (যদি আমার বোঝার ভুল না হয়ে থাকে)।

যখন প্রশ্ন করলাম, কোন অংশটি কপি, তখন জিয়া ভাইয়ের কাছ থেকে কিন্তু জবাব পেলাম ঘোলাটে। ফোনেটিক মোডে অর্থাৎ ইংরেজি হরফে বা অন্য হরফে উচ্চারণের ভিত্তিতে লেখার কৌশল জাপানি/চীনারা বহু বছর আগে থেকে চালু করেছে । কাজেই শুধু ফোনেটিক = কপি, এই যুক্তিতে শাব্দিকও চীনা পিনইন কীবোর্ডগুলোর কপি -- এটা বলা চলে তাই না?

এই প্রশ্নের জবাবে জিয়া ভাই এবং সম্ভবত আপনিও বলেছেন যে, বাংলায় ফোনেটিক আনাটা এখানে ইনোভেশন না, বরং ইনোভেশন হলো কীভাবে ফোনেটিক লেখা হবে সেটা নিয়ে গবেষণা করা। তা মানতে আমার সমস্যা নেই, আর শাব্দিকের গবেষণা যথাযথ হয়ে থাকলে তা মানতেও আপত্তি নেই (যদিও আইসিসিআইটির পেপারের বদলে মানসম্মত কোনো কনফারেন্সের রিভিউ পার হলে বোঝা যেতো এই বিশ্লেষণের যথার্থতা। পেপারটা পড়ে বিস্তারিত বলতে পারবো, যদি ফাইলটা কোথাও পাই)।

কিন্তু ঘটনা হলো, অভ্র ফোনেটিক তো শাব্দিকের ফোনেটিকের অনুরূপ না, তাই না? মানে কী-কম্বিনেশন তো এক না, সাজেশন ভিত্তিক লেখাও অভ্রতে নেই। তাহলে কী জিনিষটা "কপি" করেছে অভ্র? সুনির্দিষ্টভাবে না বলে গৎবাঁধা ভাবে অভ্র হলো কপি-পেস্ট -- এটা বলতে থাকলে কিন্তু ঘুরে ফিরে শাব্দিকও চীনা কীবোর্ডের কপিপেস্টের মতো দুর্বল যুক্তি হালে পানি পেয়ে যাবে। "শিফট চেপে সুইচিং", "এক লেয়ারে লেখা", "ফোনেটিকে লেখা" -- এই সবগুলো ২০ বছর আগের টেকনোলজি --- কাজেই শাব্দিক এগুলো ব্যবহার করে বিশাল ইনোভেশন করে ফেলেছে এই দাবিটা শাব্দিকের ডেভেলপারেরা করতে পারে, কিন্তু নিরপেক্ষ কারো করা উচিৎ নয়।

অভ্র ও শাব্দিক -- দুটোরই মূল ফিচারগুলো জাপানি ও চীনা ফোনেটিক কীবোর্ডের উপরে হালকা পরিবর্তন মাত্র। শাব্দিকের পদ্ধতির যথার্থতার ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যানালাইসিস দরকার। অভ্র নিজেকে ফোনেটিকের জনক বলেছে কি না, তাও দেখা দরকার, কারণ শাব্দিকের ডেভেলপারেরা সম্ভবত এই পয়েন্টেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, কিন্তু চিলে কান নিয়েছে বলে শোরগোল না করে আসলে সুস্পষ্টভাবে দেখা দরকার এই ব্যাপারগুলো --

১) অভ্র বাংলা ফোনেটিকের জনক --এই দাবীটি অভ্রের ডেভেলপারেরা কোথাও করেছেন কি না। (তারা বাদে আর কেউ করলে সেটার দায় তাদের উপরে পড়ে না)

২) অভ্র ফোনেটিক বাংলা লেখার শ্রেষ্ট পদ্ধতি -- এই দাবী অভ্রের ডেভেলপারেরা করেছেন কি না। যদি না করে থাকেন, তাহলে শাব্দিকের ডেভেলপারদের সমস্যাটা কোথায়? শাব্দিক ইউজার জোগাড় করার দিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা নিয়ে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু তাই বলে যে দাবী অভ্রের ডেভেলপারেরা করেননি, বারংবার সেটা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা স্থানীয় একটি কনফারেন্সের পেপারের কথা বলতে থাকার কারণটা কী? (আবারও বলছি, কনফারেন্স অখ্যাত হলেই পেপারটা ভ্রান্ত তা বলি নাই, বরং পেপারটা দেখতে চাই)। শাব্দিক অভ্রের চেয়ে অপটিমাইজড হতেই পারে, তা নয় এমন দাবী তো অভ্রের ডেভেলপারেরা করেননি।

৩) আর শাব্দিকে দিব্যি ইউনিজয় ব্যবহার করা জায়েজ, কিন্তু অভ্রে ইউনিবিজয় ব্যবহার করাটাই পাইরেসি হয়ে গেলো, এই দাবিটা চরম বিভ্রান্তিকর। এই ক্ষেত্রে যে জবাবটি পেয়েছি শাব্দিক টিমের কাছ থেকে, তাও দুর্বল জবাব। "আমরা ইউনিজয় বানাইনি, তাই আমরা পাইরেট না" -- এটা কি আদৌ নৈতিকভাবে যুক্তিযুক্ত? শাব্দিক তো রীতিমতো ইউনিজয় যুক্ত সফটওয়ার বাণিজ্যিক ভাবে বাজারজাত করেছে, যদিও তার ডেভেলপারেরাই মনে করেন ইউনিজয় বিজয়ের কপি মাত্র। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম, "লাইফজয়" সাবান নকল জেনেও এক দোকানী বিক্রি করছে, আর প্রতিবেশী দোকানী "লাইবফয়" সাবান মাগনা দিচ্ছে বলে তাকে ছি ছি করছে!! অভ্রতে ইউনিবিজয় এর সাপোর্ট থাকায় অভ্র যদি পাইরেট হয়, তাহলে বাণিজ্যিকভাবে পয়সা দিয়ে (একসময়) বিক্রি করা শাব্দিক হলো পাইরেটের বড়ো ভাই। অন্তত এই পয়েন্টে শাব্দিক টিমের কিছু বলাটা সাজে না একেবারেই। :)


--

সিউল যে কাজটা করছে, তাকে এই কারণেই উৎসাহ জানাই। বাণিজ্যিক প্রণোদনার বাইরে থেকে ওপেন সোর্সে লেআউট পাবলিশ করা এবং টাইপ করা ও লেআউট শেখা দুই দিকেরই সুবিধা বিশ্লেষণ করা -- এই কাজগুলো খুব দরকার।

এই গবেষণাটি সফল হোক। নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করা হোক বাংলা লেআউটের। সেই বিশ্লেষণে সাফল্য লাভ করা লেআউটকে সরকারী স্বীকৃতি দিয়ে উন্মুক্ত করে দেয়া হোক সবার জন্য। আর আসাদ ভাই ফেইসবুকে সম্প্রতি যে নোটটি দিয়েছেন, তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এই সুবিশাল কমেন্টটি শেষ করছি।
০১ লা মে, ২০১০ রাত ১০:৫৮

লেখক বলেছেন: আসলে আমার পোস্টে জিয়ার নোট পেস্ট করা ও লিংক দেয়া নিয়ে আমার অবস্থান ও জিয়া বা শাব্দিকের অবস্থান নিয়ে একটা গোলমাল তৈরী হচ্ছে বলে মনে হয়। আমার অবস্থানের নুন্যতম মাত্রা হল, বিতর্কটি হতে হবে প্রযুক্তিবিদদের ও আইনবিদদের মধ্যে। বিতর্কটি পুরোপুরি চলে এসেছিল ব্যবহারকারী ও (খানিকটা রাজনৈতিকভাবে) সমর্থকদের মধ্যে। আর এ বিষয়ক মাতামাতির প্রথম থেকেই আমি বিরোধী।

প্রথমেই বলে নেয়া দরকার (মানে অন্য পাঠকদের সুবিধার্থে) আমরা এখানে কোন ভাবেই কোড লেভেলে কপি নিয়ে কথা বলছি না। যা হোক জেনারিক টেকনোলজি বা এলগোরিদমকে কোন বিশেষ প্রবলেমের ক্ষেত্রে (এই ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায়, যার অনেক নিজস্ব ইস্যু রয়েছে) প্রয়োগ করাকে যদি আমরা কপি বলি সেই বিচারে বাংলায় ফোনেটিকের সব কাজই বিদেশী (চীনা বা জাপানী) কাজ গুলোর কপি। আর যদি না বলি তা হলে প্রত্যক প্রবলেমের জন্য প্রথম বিশেষায়িত করনই (যদি নন-অবভিয়াস হয়) একটি ইননোভেটিভ কাজ বলে গণ্য হবে। পরেরগুলোতে যদি শুধু ইনটুইশন ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয়ে থাকে আর তার ফলে যদি তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল দেখা না যায় তা হলে তাকে ইননোভেটিভ বলা যাবে না। অন্য কেউ যদি ভিন্ন ও স্বাধীন ভাবেও একই সমাধানে আসে তবুও সেটাকে ইননোভেটিভ কাজ বলা যাবে না, বলা যাবে যে আগের কাজটা যে ভাল পরেরটা তার আর একটা ভেরিফাইং টেকনিক। অভ্র ফোনেটিক যখন বাজারে আসে তখন ইতিমধ্যে কয়েকটি (অন্তত অক্ষর ও শাব্দিক) ফোনেটিক লে-আউট বিদ্যমান ছিল। শাব্দিকের টীম তাদের পেপার সহ দাবী করেছে (আমি জানিনা তাদের লে-আউট অক্ষর থেকে কতটা ভিন্ন, এই বিষয়ক কোন দাবী অবশ্য আমি দেখি নাই) যে তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে ফোনেটিক টাইপ টাচ টাইপের একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে অভ্র যখন ফোনেটিক লে-আউট করল সেটি বিদ্যমান অন্য ফোনেটিক লে-আউট থেকে কতটা আলাদা আর তার ফলে কি ফলাফল পাওয়া গেল, এই বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের জবাব নেই। আমরা যদি দেখি অভ্র-ফোনেটিক যে লে-আউট দিয়েছে তা অন্য লে-আউট গুলো থেকে বস্তুতান্ত্রিক মাপকাঠিতে শ্রেয়তর তা হলে হয়ে যায়। তা ছাড়া শুধু মাত্র ইনটুইশন ভিত্তিক কিছু পরিবর্তন গ্রহন যোগ্য হবে না। এখন এটি দেখাবে কে? কেউ না কেউ তা দেখাতে হবে। ঠিক এই পয়েন্টে জিয়া বলছে অভ্র তাদের ফোনেটিক লে-আউটে বিদ্যমান অন্য লে-আউট (বা শাব্দিক লে-আউট সম্ভবত) কিছু অনাবশ্যক পরিবর্তন করে ওভারলোড তৈরী করেছে, আর তার ফলে ফলাফলে কোন উন্নতি দেখা যায় নি (তার পেপারের এক্সপেরিমেন্ট) বরং অবনতি হয়েছে। আর তা ছাড়া সাজেশন সহ অন্যান্য ফিচারগুলি শাব্দিক কবে রিলিজ করেছে আমি তা জানিনা। তবে অভ্রতে তো তার চেয়ে কম ফিচার আছে, কাজেই সেটা আলাদা, এটা বলা কিন্তু অভ্রের পক্ষে যায় না।

বাজার (বা ব্যবহারকারী) মাত করার দিকে অভ্র যতটা সফল শাব্দিক ঠিক ততটাই ব্যর্থ এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। এর পিছনে কি কারন রয়েছে সেটা অনুসন্ধান সাপেক্ষ। ১ ও ২ এর দাবী আমি নিজে কোথাও সরাসরি দেখি নাই। এ সম্পর্কে যদি আমার মন্তব্যেও কোথাও বলা হয়ে থাকে তা ঠিক হয় নাই, তবে তারা এরকম দাবী করেছে বলে আমি কোথাও বলেছি এরকম মনে করতে পারছি না। আমি বলেছি আমার কাছে থাকা পেপারের কপির ভিত্তিতে অভ্র অন্যদের চেয়ে ভাল নয়। এখন এর বিপরীত কিছু বলে এরকম আরেকটি পেপার হাতে পেলে আমি তখন তার ভিত্তিতে কথা বলব। একটা পেপারের ফলাফল কে ভ্রান্ত প্রমান করে আরেকটি পেপার লেখা সম্ভব। ৩ নং এর বিষয়ে আমি মোটামুটি একমত। আমি যদি বলিই যে ঐটি নকল তাহলে নৈতিকভাবে আমিই আবার সেটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনা। তবে এখন পর্যন্ত জানা উপাত্তের ভিত্তিতে আমি ইউনিজয় বা ইউনিবিজয়কে বিজয় থেকে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আলাদা বলতে পারছি না। শাব্দিকের এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত। যদি কেউ দেখিয়ে দিতে পারে বিজয় থেকে ইউনিজয় বা ইউনিবিজয়ে পরিবর্তনে কপিরাইট বা প্যাটেন্ট আইন থেকে বাঁচার বাইরে কারিগরী ভাবে কোন লাভ হয়েছে তাহলে সেগুলো আলাদা বলে মেনে নিতে আমার কোন বাধা নেই। এখানে ব্যবহারকারীদের সহজে ব্যবহারের লাভ বা ব্যবসায়ীদের সুনাম লাভের বিষয় আমার কাছে বিবেচ্য নয়। পরিশেষে বানিজ্যের কথা বলতে গেলে আমি বাংলাদেশ সাপেক্ষে কর্পোরেট সেক্টরকে মাথায় রেখে কথা বলতে চাই। ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ব্যবসার বিষয় এনে খুব বেশী কিছু আমরা এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারব না।

হমম, সিউল ওপেন সোর্স ও বিনা মুল্যের যে সফটওয়্যার নাকি শুধু লে-আউট (আমি বোধ হয় এখনও পুরো জানিনা) করছে তা খুবই কাজের হবে বলে মনে করছি। আর সব কিছু মিলিয়ে একটা ভাল মত গবেষনা হওয়া দরকার। শেখার সময় বনাম পরের কাজের গতি অথবা দুটোর সমন্বয় করে গবেষনা ভিত্তিক ফলাফল প্রকাশ করা দরকার। এ বিষয়ে আমার অপরিসীম অাগ্রহ রয়েছে। আর আসাদের সর্বশেষ প্রস্তাবনায় আগেই একাত্নতা প্রকাশ করেছি।

তবে আইসিসিআইটি বিষয়ক কিছু কথা বলা দরকার। আমি আগেই কোথাও বলেছিলাম -- কোন কন্ফারেন্সে প্রকাশ করা হয়েছে আর সেখানকার রিভিউ কেমন তা নিয়ে প্রশ্ন করার অবকাশ রয়েছে। তবে প্রকাশিত গবেষনা পত্রের ধারা অনুযায়ী এগুলো কোন না কোন ভাবে একটা নুন্যতম মাত্রার গ্রহনযোগ্যতা পেয়ে যায়। যা হোক আইসিসিআইটি সম্পর্কে আমার নিজেরই মন্দ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কালে এটার মান কতটা বেড়েছে সে সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। বাংলাদেশে বসে বিদেশের কন্ফারেন্সে পাবলিশ করা যায় না, আর্থিক সাপোর্ট পাওয়া যায় না। আর তা ছাড়া বাংলার মত স্থানীয় বিষয়ে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের জড়িত করে কাজ করা দরকার। সেই বিচারে স্থানীয় কন্ফারেন্স নিয়ে আমার সমস্যা নেই। তবে সমস্যা হল এখান অনেক নামিদামী ব্যক্তিবর্গ থাকা সত্ত্বেও এটার গুনগত মানের খুব বেশী উন্নয়ন করা যাচ্ছে না।

৪. ০১ লা মে, ২০১০ দুপুর ১:২৮
নর্থপোল বলেছেন: নিউটন ভাই, আপনাকে কাছে/দূরে থেকে দেখছি প্রায় ১২ বছর হোল। যদিও আপনাকে আমি বেশ পছন্দ করি কিন্তু আপনার কিছু কিছু বিষয় খুবই পীড়াদায়ক।

আপনি শুধুমাত্র নিজেকে সবসময় ঠিক মনে করেন। অন্যের যুক্তি সহজে মানতে চাননা, তা সঠিক হলেও।

সব যায়গায় ভুল ধরতে বা জোর করে ভুল বানাতে আপনি ওস্তাদ। কদিন আগেই সি এস ই বুয়েটের ইউএস অ্যালামনাই নিয়ে যা বললেন তাতে আমি বেশ বিরক্ত। আমার ধারনা আরো অনেকেই, কিন্তু আপনার ঠোটকাটা এবং বিরক্তিকর ভাবে ঝগড়া করার স্বভাবের কারনে অনেকেই কিছু বলে না। সব জায়গায় আপনি ঝগড়া বা অন্যের ভুল ধরার জন্য মুখিয়ে থাকেন। নিজে যে একটু বেশি জানেন প্লাস বোঝেন এটা সবাইকে জানানোর আপনার সবসময় প্রানান্তকর চেস্টা।

এবার এই পোস্ট বিষয়ে বলি। সিএসি গ্রুপে আপনি অন্য কেউ নিজের ক্রেডেনশিয়াল নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভালই ঝাড়ি দেন। কিন্তু এই পোস্টে তো দেখি নিজের গুনগান ভালই গাইলেন। নিজে পিএইচ ডি করেছেন, বিনে পয়সায় দেশের উপকার করছেন। আবার বুয়েটের কোটা নিয়েও নাকি কি করেছেন। আয়নায় নিজের দিকে একটু তাকান।


আর আপনি কি বলেছেন, যে এইসব নির্মাঙ্কারীরা সব ব্যাবসায়ী, তাই এদের আপনি পছন্দ করেন না। যতদূর তো জানি আপনি বুয়েটের কম্পূর বিশেষ ছাত্র। তাহলে এইধরনের ফালতু কথা বলেন কেন? ভাব খানা এমন যেন সফটোয়ার নিয়ে ব্যাবসা করলেই তারা খারাপ।

আর প্লীজ, আপনার গা জ্বলছে শুধুওমাত্র এই কারনে অভ্রকে কপি বলবেন না। কি বোর্ডের কতটূকু পার্থক্য হলে তা আলাদা সেটুকু শুধুমাত্র আপনি বোঝেন এটা ভাবেন কেন? আপনার এই রকম জ্ঞানের বহর দেখে আপনার ভবিষ্যত ছাত্রদের জন্য আমার করুনা হচ্ছে। স্রেফ গায়ের ঝাল মেটানোর জন্য আপনি গলা ফাটাচ্ছেন।

আবার বলছি, আয়নার দিকে একটু তাকান আর মনে রাখবেন শুধু আপনিই একমাত্র কাবিল ব্যাক্তি নন।

"পরিশেষে আমাকে কোথাও কারিগরী মতামতের জন্য ডাকা হলেও আমি তাকে গ্রহন করব না। "

দোয়া করি তেমন পরিস্থিতিতে যেন কাউকে পরতে না হয় যে আপনার মত জ্ঞান পাপীর কাছে যেতে হয় কারিগড়ি পরামর্শের জন্য। আল্লা আমাগো আপনের জ্ঞ্যান থিকা সহি সালামতে দূরে রাখুক।
০১ লা মে, ২০১০ রাত ১১:১২

লেখক বলেছেন: আপনি কে আমি তা জানি না। নিক দেখে সেটি বুঝা যাবে না। যা হোক ক্রেডেনশিয়াল বিষয়ক পরামর্শটি আমার পছন্দ হয়েছে। এবং আপনার শুভাকাংখার উপদেশ মান্য করে তা সরিয়ে নিলাম।

যা হোক ঠোট কাঁটা যে আপনি আমার চেয়ে কম সেটা কিন্তু আপনার মন্তব্য দেখে বলা যায় না। আর একারনেই সিএসই বুয়েট অ্যালামনাই নিয়ে কিছু বলার থাকলে আপনি সেটা ওখানেই বলতে পারতেন। আর আমার সম্পর্কে আপনার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষনের কথা বলেছেন। আত্নসমালোচনার বিষয়ে আমি কিঞ্চিত অবগত থাকলেও কাছের লোক বলে পরিচয় দিয়েছেন বলে আপনার পর্যবেক্ষন সম্পর্কে গুরুত্বদিয়ে ভেবে দেখব। ধন্যবাদ এজন্যে।

ব্যবসায়ীদের খারাপ বলেছি নাকি! আমি বলেছি পছন্দ করি না। তবে একথা তো বলেছি যে তাহলে পেশাদার কম্পিউটার কৌশলী যারা তাহলে কি ভাবে পেট চালাবে এ নিয়ে আমি ভাবিত। মানে হচ্ছে এ দুটোর মাঝখানে কোথাও দাঁড়াতে হবে।

"স্রেফ গায়ের ঝাল মেটানোর জন্য আপনি গলা ফাটাচ্ছেন।" গায়ের ঝালটা আমার কার প্রতি এরকম কোন ব্যক্তি আমি খুজে পেলাম না। তবে মনে হল আমার উপরে আপনার জমে যাওয়া অনেকদিনের বিরক্তি আপনি আজ সুদে আসলে উসুল করলেন :)

পরিশেষে, খুবই ভাল কথা। আপনার মত কাবিল লোক আরও এগিয়ে আসুক সেটাই তো অামি চাই। আপনিও এগিয়ে আসুন। আপনার জ্ঞান থেকে আমরা সবাই উপকৃত হই। কাবিল লোকদের অভাবে আমাদের কম্পিউটিং সেক্টর অন্যান্য বিভিন্ন পেশার লোক দিয়ে ভরে গিয়েছে। তারাই নীতি নির্ধারন করছে, তারাই সফটওয়্যার বানাচ্ছে। আমি কম্পিউটার পেশাদার হিসাবে চাই আমাদের কাবিল লোকজন এই সব ক্ষেত্রে এগিয়ে আসুক। আমার কাবিলগিরি এখানে মুখ্য নয়, আপনার বা আপনাদের কাবিল গিরি দেখানোর সব রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্যই আমার প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে। আল্লাহ আমাগো আপনের জ্ঞান থিকা সহি সালামতে উপকৃত করুক।

যা হোক ভাল থাকুন। সহি সালামতে থাকুন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৪৯৩৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
তথ্য-উপাত্ত, জ্ঞান-বুদ্ধি, ও যুক্তি-বিশ্বাস বিষয়ে গণনা, গবেষনা ও শিক্ষকতা
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই